Home Blog Page 27

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের পর গ্যাস-বিদ্যুতের পরিকল্পনা দিল বিরোধী দল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চ্যালেঞ্জের পর গ্যাস বিদ্যুতের সংকট নিরসনে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে বলেছে, বিদ্যমান কূপগুলো ওভারওয়ার্ক (সংস্কার) করে দ্রুত গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির সুপারিশসহ যেসব পরিকল্পনা বিরোধী দল সংসদীয় কমিটিতে দিয়েছিল, তিন মাসে এর অগ্রগতি কী তা সরকার প্রকাশ করুক।

আজ রোববার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গত শনিবার রাজধানীতে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের যদি এমন কোনো পরিকল্পনা থাকে, যা দিয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যাবে, তাহলে সেটা দেন। আমরা অবশ্যই তা গ্রহণ করব। আমি আপনাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম।’

পরেরদিন বিরোধী দলের পরিকল্পনা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ১০ বছরের অজুহাত দেখাবেন না। জনগণের দুর্ভোগ দূরে সরকার চাইলে জরুরি পদক্ষেপ নিতে পারে। গ্যাস, বিদ্যুতের অবৈধ লাইন বন্ধ করতে পারে, ভুতুড়ে বিল বন্ধ করতে পারে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্যাপাসিটি চার্জে যে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে, এগুলো বন্ধ করুন। সিন্ডিকেট ও লুটপাটের মার্কেট করে রেখেছে সরকার। এগুলো বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকা বাঁচানো যায়, সেদিকে সরকারের নজর নেই। তাদের নজর বিরোধী দলের আন্দোলনের দিকে। গণভোটের গণরায় কার্যকর না করে তো উপায় নেই। তাই  সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, কেউ বলেন সমস্যা সমাধানে ১০ বছর লাগবে, কেউ বলেন দুই বছর। তাঁদের কথার মিল নেই। আগে নিজেদের মধ্যে সালিশটা মিটিয়ে নিক। জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে প্রস্তাবনা দিয়েছে। সরকারের সক্ষমতা থাকলে বাস্তবায়ন করে জাতিকে বলুক।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গোলাম পরওয়ার লিখিত বক্তব্যে জ্বালানি খাতের সংকট নিয়ে জামায়াতের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২১ মে জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল ১০ দফা সুপারিশ জমা দিয়েছিল। ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী সেই প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন। বিরোধী দলের প্রস্তাবনা ছিল, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিদ্যমান কূপ ওয়ার্কওভার করা, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাসকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা, স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদার, স্থাপিত এসপিএম দ্রুত চালু, ডিপো থেকে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল মনিটরিং, কার্যকর নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা নিরূপণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা।

এইসব পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে? নাকি কাগজেই পড়ে আছে? এসব প্রশ্ন তুলে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার করতে হবে। সংকট সমাধানে বিরোধীদলীয় নেতা সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানে চিঠি দিলেও সরকার সাড়া দেয়নি।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে আয়োজিত জনসভার মঞ্চে সামনে হারিকেন ও পেছনে ফ্যান চালানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের মানদণ্ড হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।

বিরোধী দল সংকট নিয়ে হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি করছে- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একজন মানুষ যখন গ্যাস চান, তিনি অরাজকতা চান না। একজন শ্রমিক যখন কারখানা চালু রাখার দাবি করেন, তিনি ষড়যন্ত্র করেন না। একজন উদ্যোক্তা যখন নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চান, তিনি সরকারের শত্রু নন। মানুষ চুলায় গ্যাস চায়, কারখানায় উৎপাদন চায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায়। এ দাবির জবাব রাজনৈতিক ব্যঙ্গ দিয়ে নয়, কার্যকর সমাধান দিয়ে দেওয়া উচিত।

সরকার গ্যাস আমদানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাগরে তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, এর বিরোধিতা করছি না। আমদানি করা এলএনজি গ্রহণের সক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি করতে হবে, তেমন জনগণকে সত্য বলতে হবে। টার্মিনাল থেকে তো গ্যাস উৎপাদন হয় না। টার্মিনাল সচল রাখতে আমদানি করা গ্যাস কিনতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন। এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে পাঠাতে পর্যাপ্ত পাইপলাইন প্রয়োজন। গত অর্থবছর এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরকারি ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেছেন, টার্মিনাল নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে বলতে হবে এলএনজি কোথা থেকে কত দামে আমদানি করেছে। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি কী হবে, পাইপলাইন কখন হবে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কত বাড়বে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া একটি টার্মিনাল নির্মাণ সমাধান নয়।

তিন মাসের পরিকল্পনা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিরোধী দল জনগণকে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিতে চায় না। গোলাম পরওয়ার বলেন, ৯০ দিনে সাগরে অনুসন্ধান, নতুন পাইপলাইন নির্মাণ, তেলের পরিশোধনাগার নির্মাণ সম্ভব নয়। কিন্তু ৯০ দিনে পুরনো গ্যাসকূপে ওয়ার্কওভারসহ ছয়টি কাজ সম্ভব।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রথম ১৫ দিনে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স ওয়ার্কওভারযোগ্য কূপের অগ্রাধিকার তালিকা প্রকাশ করুক। ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষ করুক। ৯০ দিনের কাজ শুরু করে জনগণকে জানানো হোক— কত মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ করে কোনটি কী কারণে বন্ধ এবং কী ধরনের সংস্কার করলে আবার উৎপাদন সম্ভব হবে, তা ৩০ দিনে প্রকাশ করা হোক।

ভোলার গ্যাস ব্যবহারে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পাইপলাইন তিন মাসে হবে না। কিন্তু সিএনজি বা এলএনজিতে রূপান্তর করে তা আপাতত আনা যায়।

সিস্টেম লস ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন,  ৯০ দিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রতি সপ্তাহে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হোক।

গ্যাস বণ্টনের প্রকাশ্য সময়সূচি প্রকাশের প্রস্তাব করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘাটতি না লুকিয়ে কোন সময়ে কোন খাত গ্যাস পাবে, এর সময়সূচি প্রকাশ করা হোক। এতে একজন গৃহিণী জানবেন কখন চুলা জ্বলবে। শিল্পোদ্যোক্তা জানতে পারবেন, কখন উৎপাদন করতে পারবেন। যে অবকাঠামো ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, তা ফেলে রেখে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে লাভ নেই। সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

চারটি প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সব অংশীজনকে নিয়ে জাতীয় জরুরি জ্বালানি সেল গঠন করা হোক। নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদন ক্ষমতা পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে দেওয়া হোক। রূপপুর কেন্দ্র কবে উৎপাদনে আসবে এবং বিদ্যুতের দাম কী হবে, তা জানানো হোক। জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা হোক। খুলনার খালিশপুরে ৮০০ মেগাওয়াটের রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন উৎপাদনে যাচ্ছে না-এই প্রশ্নও তুলেছে জামায়াত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি প্রমুখ।

সরকারের ৬ মাস ব্যক্তির বৃত্ত থেকে জনগণের আঙিনায় ফিরছে সরকার

বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার। ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসে। গণতান্ত্রিক দেশ গঠনে দলটির পক্ষ থেকে আগে থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়েছিল; এর সঙ্গে নির্বাচনের আগে দেওয়া হয় নানা প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতায় আসার পর এখন কিছু অর্জনের সঙ্গে সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে বিএনপিকে।

বিগত দিনের জঞ্জাল পরিষ্কার করে নতুন উদ্যমে শুরু করতে হয়েছে সরকারকে। এসব বিষয় নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে গত ছয় মাসের অর্জন তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের ১৮০ দিন পার হয়েছে। এই সময়ে কৃষি থেকে অর্থনীতি, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা থেকে পররাষ্ট্রনীতি– বিভিন্ন খাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি করছে সরকার। কোথাও বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, কোথাও চলছে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা।

সরকার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম ছয় মাসকে শুধু সময়ের হিসাবে দেখছেন না তারা। এই সময়কে রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহি এবং জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি তৈরির সময় হিসেবে দেখানো হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ছাড়াও অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, কর্মসংস্থান বাড়ানো, কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে মিতব্যয়িতা– এসব বিষয়কে দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষার সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণ এবং বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তবে ভিন্নতাও রয়েছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই জ্বালানি খাতে এক ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। যদিও জ্বালানি সরবরাহে বাধার জন্য মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ছাড়াও গত সরকারের আমলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট, অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান এবং ভুল নীতির কারণকে দায়ী করছে সরকার। নির্বিচারে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও জবাবদিহিতা না থাকায় বর্তমান জ্বালানি ব্যবস্থাপনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছয় মাসে বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগও দেখা যায়নি। বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সম্প্রতি নিত্যপণ্যের বাজারে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী সমকালকে বলেন, ছয় মাসে বিএনপি সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। ছয় মাসের যে লক্ষ্য, সে লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সবই পূরণ হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিতে সময় লেগেছে। পরবর্তী ছয় মাসে সরকারের কর্মসূচি আরও জোরালো ও দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন হবে।

ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রকে সামনে আনার চেষ্টা

সরকারের ছয় মাসের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ব্যক্তিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি টানানোর প্রচলন বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভিআইপি সংস্কৃতি কমানো, প্রটোকল সরল করা এবং সরকারি ব্যয়ে সংযমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং জ্বালানি, চালক ও বাসভবনের কর্মীদের ব্যয় নিজেই বহন করছেন। তাঁর মাসিক মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

মানুষের দোরগোড়ায় জনকল্যাণ

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে এসেছে নতুন মাত্রা। কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ, প্রবাসী, প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্ড ও সহায়তা কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের সহজ ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, কৃষকদের সহায়তা এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

গ্যাস অনুসন্ধানে উদ্যোগ বৃদ্ধি 

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের বড় কর্মসূচি নিয়েছে। এর আগে পরিকল্পনা থাকলেও অনুসন্ধান কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি বন্ধ ছিল। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানি গ্যাস অনুসন্ধান চালাচ্ছে না। তবে বর্তমান সরকারের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি অনুযায়ী আবারও ২৬টি ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি

বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রমে অধিকতর সমন্বয়, নীতিগত সামঞ্জস্য এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ ও একীভূত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রথম ধাপে বিডা, বেজা ও পিপিপিএকে একীভূত করে একটি একক শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

কৃষিতে স্বস্তির বার্তা

কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষক ঋণমুক্ত হয়েছেন বলে সরকারের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তায়ও বড় মজুতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি গুদামে ২৪ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত থাকার দাবি করা হয়েছে।

বাজেটে বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি

সরকারের প্রথম ছয় মাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দলিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। আয়করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাচার করে বিদেশে নেওয়া অর্থ ফেরাতে বিভিন্ন দেশে আনুষ্ঠানিক আইনি সহায়তার আবেদনের কথা জানানো হয়েছে।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা 

সরকার দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বন্যা ও মরূকরণ প্রতিরোধ নিশ্চিতকল্পে পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করে। প্রকল্পের আওতায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি অপসারণ, নদীতীর সংরক্ষণে বাঁধ নির্মাণ এবং প্রায় ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভারতের ওপর একক নির্ভরতার পরিবর্তে চীনের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতা, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বিজয়ের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে গণভবনকে রূপান্তরিত করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’।

শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তর

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর কথা বলা হয়েছে। ডিজিটাল ক্লাসরুম, ফ্রি ওয়াই-ফাই, শিক্ষক উপস্থিতি ট্র্যাকিং এবং স্কুল পর্যায়ে ইন্টারনেট সুবিধা বাড়ানোর কাজও এগিয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া হয়েছে ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ প্রকল্প।

স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরানোর চেষ্টা

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বড় লক্ষ্য মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ এবং এর ৮০ শতাংশ নারী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা, ডায়ালাইসিস ইউনিট ও আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে টিকার মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। অপুষ্টি দূরীকরণে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।

আইনশৃঙ্খলায় কঠোর অবস্থান

সরকারের প্রথম ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে নেওয়া হয়েছে পুলিশ সংস্কার, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ। চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানকে সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’– এই নীতির পাশাপাশি কৌশলগত ভারসাম্যকে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও অবকাঠামো সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ। চীন ও মালয়েশিয়া সফরকে সরকারের অন্যতম কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গুরুত্ব পাচ্ছে নতুন শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি 

প্রায় চার দশক পর আবারও জাতিসংঘের প্রধান নীতিনির্ধারণী সংস্থা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে আসছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের ২ জুন নির্বাচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও নৈতিক কূটনীতির নতুন অগ্রাধিকারকে তুলে ধরে। তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারকেও অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার নতুন দায়িত্বের মুখোমুখি করবে।

আরও কিছু উদ্যোগ

এসবের বাইরে সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান, কারাগার ও আটককেন্দ্রে মানবাধিকার তদারকিতে নতুন বিভাগ গঠনের উদ্যোগ, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক (সম্মান) পর্যায় পর্যন্ত বিনা টিউশন ফি সুবিধা সম্প্রসারণ করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর করপোরেট কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া; ক্যাডেট কলেজের আদলে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ, শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা উন্নয়নের উদ্যোগ, পুঁজিবাজার সংস্কার ও আস্থা ফেরাতে বহুমুখী উদ্যোগ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন উদ্যোগ, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সম্মানী ভাতা বাড়ানো, একযোগে ৬৪টি জেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’; বিচারপ্রাপ্তি সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে সরকার আইনগত সহায়তা, ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা, বিচারিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির আদর্শকে সামনে রেখে সরকার নদী-খাল পুনঃখনন শুরু করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে সরকার।

সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা

এই ছয় মাসে সরকারের অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। কিন্তু অধিকাংশ উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে বাস্তব সুবিধাভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়নের গতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব দিয়ে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী সমকালকে বলেন, এই ছয় মাস ছিল ভিত্তি তৈরির সময়। এখন সেই ভিত্তির ওপর দৃশ্যমান ফল দেখানোর পালা। কৃষকের আয় বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা সহজ করা, শিক্ষার মান বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা– সব মিলিয়ে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, সরকারের প্রতি জনগণের অনেক প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সেটিকে ধারণ করেই একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ​আমরা চাই এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এবং ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল– মানবাধিকার, বাক্‌স্বাধীনতা ও আইনের শাসন, তা প্রতিষ্ঠা করা। যে কারণে গত ছয় মাসে দেশে রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। বরং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ সর্বোচ্চ স্বাধীনতা উপভোগ করেছেন এবং সরকারের প্রতি আস্থা, ভালোবাসা, জনসমর্থন আমরা দেখতে পেয়েছি।

​তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা দেখছি, যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত রয়েছে। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য অশেষ কাজ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি ভিআইপি সংস্কৃতিকে ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন।

তড়িঘড়ি পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

নিয়োগ বিধিমালায় পরীক্ষার পদ্ধতি ও ধরন স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এর পরও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ৯টি পদে ১৯৭ জনকে নিয়োগ দিতে তড়িঘড়ি চলছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় সর্বনিম্ন পাস নম্বর কত, তাও প্রকাশ করা হয়নি। এতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ৭০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। এক হাজার ৮৪২ প্রার্থীর পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। নিয়োগ কমিটির পাঁচ সদস্য এত অল্প সময়ে কীভাবে বিপুলসংখ্যক খাতা মূল্যায়ন করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্টরা। এর পর ৪ আগস্ট ইঞ্জিন ড্রাইভার ও নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট এবং ৬ আগস্ট ড্রাইভার পদে ৩০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার নাম, বিষয়, নম্বর, সময় ও সর্বনিম্ন পাস নম্বর পরীক্ষার আগেই প্রকাশ করতে হয়।

ফায়ার ফাইটার পদেও একইভাবে দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। আজ সোমবার মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ২০৬ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের ফল প্রকাশ করা হতে পারে। অথচ চলমান এই নিয়োগকে ঘিরে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন কর্মীকে অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে একটি প্রতারক চক্র প্রার্থীদের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থায় দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ সম্পন্ন করার যৌক্তিকতা থাকলেও বিধিমালা পাশ কাটিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ আছে কিনা, সেটি বড় প্রশ্ন। কারণ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৯৯৯ সালের নিয়োগ বিধিমালা কয়েক দফা সংশোধন হলেও পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি সেখানে যুক্ত করা হয়নি।

এমসিকিউ কি লিখিত পরীক্ষার বিকল্প

নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিতর্কের বড় জায়গা পরীক্ষার ধরন। ফায়ার সার্ভিসের স্থায়ী রাজস্ব খাতের শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এমসিকিউ (বহু নির্বাচনী প্রশ্ন) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া যাবে কিনা, সে বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জবাবে জনপ্রশাসন জানায়, এমসিকিউ কেবল প্রাথমিক বাছাইয়ের মাধ্যম; এটি লিখিত পরীক্ষার বিকল্প নয়। কোনো পদে আবেদনকারীর সংখ্যা এক হাজার এক বা তার বেশি হলে প্রাথমিক বাছাইয়ের জন্য এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। অথচ ফায়ার সার্ভিসের চলমান নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা এমসিকিউর আদলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এটি প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা, নাকি বিধি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা?

বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষাটি এমসিকিউর মতোই নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করতে পেরেছি।’

তবে নিয়োগ কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ওয়ালীউল হাসান বলেন, ‘মনে হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করছে। তবে এর আইনি ব্যাখ্যা নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবই দিতে পারবেন।’

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য

নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক মো. শহীদ আতাহার হোসেন বলেন, অতীতে ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগ নিয়ে অনেক বদনাম ছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে দ্রুত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বিধি সংশোধন করে পরীক্ষা নিতে গেলে দীর্ঘ সময় লাগবে। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অগ্নি অনুবিভাগ) মোহাম্মাদ মফিজুর রহমান বলেন, যেভাবে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে, সেটা নিয়োগ বিধিতে বলা থাকতে হবে। সে অনুযায়ী পরীক্ষা হবে। এখানে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি দেওয়ার কিছু নেই।

পাঁচ ঘণ্টায় ১,৮৪২ খাতা মূল্যায়ন! 

গত ২৪ জুলাই এক হাজার ৮৪২ প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। পাঁচ সদস্যের নিয়োগ কমিটি কীভাবে এত কম সময়ে সব উত্তরপত্র মূল্যায়ন করল– এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদেরও জানানো হয়নি কে কত নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, বিধিমালা সংশোধন না করে অন্যভাবে পরীক্ষা নিলে তা নিয়োগ বিধির পরিপন্থি হবে। কেউ আদালতের শরণাপন্ন হলে নিয়োগ বাতিল হতে পারে। তিনি বলেন, স্বচ্ছতার দোহাই দিয়ে বিধি ভঙ্গের সুযোগ নেই।

২৫ হাজার প্রার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় মাত্র ৭,৯৯৭

এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে ফায়ার সার্ভিসের শারীরিক যোগ্যতার পরীক্ষা হয়। এ কারণে ২৫ হাজার আবেদনকারীর বিপরীতে প্রায় ১৭ হাজার প্রার্থী বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় ফায়ার ফাইটার পদে এক হাজার ৬৯৮, নার্সিং অ্যাটেনডেন্টে সাত, ড্রাইভার পদে ১৩১ এবং ইঞ্জিন ড্রাইভার পদে ছয়জন উত্তীর্ণ হন। পরে লিখিত পরীক্ষায় ফায়ার ফাইটার পদে ৪১৫, নার্সিং অ্যাটেনডেন্টে তিন, ড্রাইভার পদে ৭৬ এবং ইঞ্জিন ড্রাইভার পদে চারজন উত্তীর্ণ হন। এর পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট পদে দুজন, ড্রাইভার পদে ২২ এবং ইঞ্জিন ড্রাইভার পদে একজনকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির পরও পাঁচ পদে পরীক্ষা হয়নি

শুধু পরীক্ষা ও দ্রুত ফল প্রকাশ নয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালায় সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং অফিস সহায়ক পদ নেই। ফলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও এসব পদে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ধর্মীয় শিক্ষক (ইসলাম) ও সহকারী হোজ রিপেয়ারার পদেও বিজ্ঞপ্তির পরও পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিধিমালা সংশোধন না করেই বিভিন্ন সময় নিয়োগ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এবারও একই ধরনের অস্পষ্টতা রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করায় শেষ পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরির বৈধতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে 

নিয়োগের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় প্রতারক চক্র পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রার্থীদের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক শহীদ আতাহার হোসেনও প্রতারক চক্রের তৎপরতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিয়োগ-সংক্রান্ত একটি প্রতারক চক্র আছে। এ জন্য আমরা কঠোর নজরদারির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

লঘুচাপের প্রভাবে বাড়তে পারে বৃষ্টি

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়েছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি নদনদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

গতকাল রোববার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপটির প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বাড়তে পারে। এতে নদনদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী দুই দিন চট্টগ্রাম বিভাগ ও তৎসংলগ্ন উজান এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী এক দিন দেশের অভ্যন্তর ও তৎসংলগ্ন উজান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের হালদা নদীর পানি এরই মধ্যে বাড়ছে। তবে গোমতী, মুহুরী, সিলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি কমেছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে দুই দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। পাউবো জানিয়েছে, আজ সোমবার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বান্দরবান ও কক্সবাজারের কিছু এলাকায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‘টক্সিক’ বিতর্ক ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ও অশালীনতার বিষয় পরিষ্কার করলেন ইয়াশ

দক্ষিণ ভারতীয় তারকা ইয়াশ অভিনীত ছবি ‘টক্সিক’ মুক্তির আগেই আলোচনায় এসেছে। সিনেমাটিতে কিয়ারা আদভানি ও তারা সুতারিয়ার সঙ্গে তার একাধিক ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

এসব বিতর্কের জবাব দিয়েছেন অভিনেতা। তার দাবি, সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের অশালীনতা রাখা হয়নি।

সম্প্রতি ‘টক্সিক’-এর বিভিন্ন দৃশ্য নিয়ে কথা বলেন ইয়াশ। সিনেমার একটি দৃশ্যে তাকে পোশাকহীন অবস্থায় দেখা যায়। এ নিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘অশালীনতা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আপনারা ভালোভাবে দেখলে বুঝতে পারবেন, সিনেমায় আমি চুম্বন পর্যন্ত করিনি। সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট সীমা থাকে, আমরা সেটি মেনেই কাজ করেছি।’

ইয়াশ ও কিয়ারা আদভানি

ইয়াশ ও কিয়ারা আদভানি

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলো পর্দায় কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ইয়াশ । তার মতে, কোনো দৃশ্যকে নান্দনিক ও গ্রহণযোগ্যভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব নির্মাতার।

এদিকে সিনেমাটির ‘তাবাহি’ গান প্রকাশের পর কিয়ারা আদভানিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সহশিল্পীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ইয়াশ। তার ভাষ্য, গানটিতে দর্শকরা কিয়ারার চরিত্রের খুব সামান্য অংশ দেখেছেন। পুরো সিনেমায় তার অভিনয় আরও বেশি নজর কাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমালোচনা প্রসঙ্গে ইয়াশ বলেন, ‘একজন অভিনেতা হিসেবে অনেক সময় নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে তা নিয়ে না ভেবে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে যেতে হয়। শেষ পর্যন্ত মানুষ কাজেরই মূল্যায়ন করে। হয়তো আমরা সময়ের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছি।’

ইয়াশ ও কিয়ারা আদভানি

ইয়াশ ও কিয়ারা আদভানি

নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কথা মাথায় রেখে ‘টক্সিক’ নির্মিত হয়েছে বলে জানান ইয়াশ। সিনেমাটিকে উদার মন নিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করার অনুরোধ করেছেন এই কন্নড় তারকা।

এক সিনেমার সম্মানী দিয়েই পাকিস্তানে বাড়ি কিনেছিলেন শবনম

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু ঢাকার সিনেমাতেই নয়, তৎকালীন পাকিস্তানের চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। অভিনয়ের দ্যুতিতে হয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলার পাশাপাশি পাকিস্তানেরও জনপ্রিয় তারকা। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) এই নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া শবনম পা রাখলেন জীবনের ৮১তম বছরে।

ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয় করেছেন শবনম। তার অভিনীত শেষ সিনেমা কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকের কাছে তিনি ‘আম্মাজান’ নামেই আরও বেশি পরিচিতি পান।

1723893710179 1786944413

ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পাকিস্তানের সিনেমাতেও ছিল তার দারুণ জনপ্রিয়তা। ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন শবনম। পরের বছর উর্দু ভাষার সিনেমা ‘চান্দা’-তে অভিনয় করে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে তারকাখ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের স্মৃতিচারণ করেছিলেন শবনম। জানান, ১৯৭০ সালে ঢাকা ছেড়ে লাহোরে পাড়ি জমান তিনি। এরপর নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে। সেখানকার প্রথম সিনেমার সম্মানী দিয়ে যে কাজটি করেছিলেন, সেটিও বেশ স্মরণীয়।

পাকিস্তানে প্রথম সিনেমার সম্মানী কত ছিল-এমন প্রশ্নের জবাবে শবনম বলেছিলেন, ‘সম্মানী কত ছিল তার সঠিক হিসাবটা মনে নেই। তবে এটুকু মনে আছে, ওই সম্মানী দিয়ে আমি ছোটখাটো একটা বাড়ি কিনেছিলাম। দুই বেডরুমের বাড়ি, করাচিতে। মা–বাবা ও ছেলে রনি তখন ঢাকায় ছিল। বাড়ি কেনার পর ছেলে এবং মা–বাবাকেও নিয়ে গেলাম।’

1628785659 6620f9d84bb4d 1786944504

অর্থাৎ পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে প্রথম দিকের একটি সিনেমার সম্মানী দিয়েই করাচিতে দুই বেডরুমের বাড়ি কিনেছিলেন শবনম। শুধু তাই নয়, পরবর্তী সময়ে সেই বাড়িতে মা–বাবা ও ছেলে রনিকে নিয়ে বসবাসও শুরু করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ঢাকার সিনেমায় নিজের শুরুর দিকের সম্মানীর কথাও জানিয়েছিলেন শবনম। ‘হারানো দিন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ টাকা। সেই পুরো অর্থই মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে জানান অভিনেত্রী। তবে ‘এ দেশ তোমার আমার’ ও ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য কোনো সম্মানী পাননি তিনি।

অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলায় শবনম বাংলা ও উর্দু-দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। তার অভিনয়, সৌন্দর্য ও জনপ্রিয়তা তাকে উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় তারকায় পরিণত করেছে। জন্মদিনে তাই ফের আলোচনায় এসেছে তার বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্রজীবনের নানা অধ্যায়।

মাকে মৃত দেখিয়ে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ

জীবিত মাকে মৃত এবং বোনকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় হালুয়াঘাট দলিল লেখক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং আকনপাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম জড়িত বলে জানা গেছে।

বণ্টননামা দলিল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৫ মে হালুয়াঘাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বণ্টননামা দলিলটি রেজিস্ট্রি করা হয়। হস্তান্তরিত জমির পরিমাণ ২ একর ৩৬ শতাংশ। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয় এক কোটি ২৪ লাখ টাকা। দলিলে আকনপাড়া ও মরাগাংকান্দা মৌজার নাম উল্লেখ আছে।

সরেজমিন জানা গেছে, হালুয়াঘাট উপজেলা সদরের আকনপাড়া এলাকার রমজান আলী মৃত্যুর সময় স্ত্রী, ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে যান। কিন্তু তাঁর বড় ছেলে নুরুল ইসলাম জীবিত মা মোছা. নেজবুন্নেসাকে মৃত দেখিয়ে ও ছোট বোন ইয়াসমিন খাতুনকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দিয়ে বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, দলিল লেখক গোলাম মোস্তফা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বণ্টননামা দলিল করেন। দলিলে পাঁচ ভাই, মৃত ভাইয়ের স্ত্রী সালমা খাতুন, তাঁর দুই ছেলে সাব্বির হাসান, মেহেদী হাসান ও এক বোনের নাম রয়েছে।

 

ডারউইনে ইতিহাসের হাতছানি

মেহেদী হাসান মিরাজের একটি বাক্য মনে গেঁথে নেওয়ার মতো। ডারউইন টেস্ট জয়ের ব্যাপারে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে দেখি এই কন্ডিশনে জিততে পারি কিনা। বিশ্বাস ছিল বলে না; নিউজিল্যান্ডে জিতেছিলাম।’ সিরিজের প্রথম টেস্টে টানা তিন দিন দাপুটে ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার ম্যাচের তৃতীয় দিনের শেষ সেশনটা বাদ দিলে স্বপ্নের মতো ছিল সবকিছু।

অনেক দিন দেখা হয়নি এমন নিখুঁত ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং। যে মেহেদী হাসান মিরাজের পারফরম্যান্স নিয়ে ছিল ফিসফাস, তিনিই পারফরম্যান্সের বিবর্তন ঘটিয়েছেন ডারউইনে। তিনি দারুণ ব্যাটিং করেছেন টেলএন্ডারদের নিয়ে। ১৫৪ বলে খেলেছেন ৬৫ রানের মহামূল্যবান ইনিংস। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করতে পেরেছে বাংলাদেশ। ২২৮ রানের লিড পাওয়ায় উঁকি দিচ্ছে জয়ের স্বপ্ন। তাই তো অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট তুলে নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তরা কোরাস গাইছেন– ‘স্বপ্ন-স্বপ্ন-স্বপ্ন দেখে মন’। এই স্বপ্ন ইতিহাস গড়ার। ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে মুমিনুল হকরা যেমন করে স্বপ্ন সত্যি করেছিলেন।

ডারউইন টেস্টে দ্বিতীয় দিন থেকেই জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে মিলছে ইতিহাসের হাতছানি। প্রথমবার টেস্ট জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। তিন বিভাগে অপ্রত্যাশিত ভালো ক্রিকেট খেলায় আশার পালে হাওয়া লাগে। বিদেশের মাটিতে ৭৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৯টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। ওই জয়ের ম্যাচগুলোতেও ছিল উত্থান-পতন। কলম্বো, মাউন্ট মঙ্গানুই, রাওয়ালপিন্ডিতে লড়াই হয়েছে সমানতালে। সেখানে ডারউইন টেস্টের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। বাংলাদেশের দাপটের সামনে অস্ট্রেলিয়াকে দেখাচ্ছে মিনোস। ম্যাচে টানা তিন দিন এগিয়ে থেকে শেষ করেছে টাইগার বাহিনী। কিছুতেই এই পারফরম্যান্স মেনে নিতে পারছে না উন্নাসিক অস্ট্রেলিয়ানরা। রিকি পন্টিং ধারাভাষ্যে বলেছেন, ‘বুড়োদের দল নিয়ে খেলছে অস্ট্রেলিয়া।’ স্কোয়াড পরিবর্তনের ডাক দেন তিনি। আসলে পন্টিং অস্ট্রেলিয়ার দুর্বলতা খোঁজার চেয়ে বাংলাদেশের ভালো খেলার প্রতি সম্মান দেখাতে কষ্টটা কম হতো তাঁর।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল ৬ উইকেটে ৩৫১ রানে। মেহেদী মিরাজ ৩২ আর হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত থাকলেও গতকাল ইনিংস বড় করতে পারেননি। এক রান যোগ করে জশ হ্যাজেলউডের বলে এলবিডব্লিউ হন হাসান। ১৭০ বলে ৪৬ রানের জুটি তাদের। মিরাজের সঙ্গে হাসানের বোঝাপড়া ছিল দারুণ। ৯২টি বল মোকাবিলা করে ১৪ রান করেন তিনি। দিনের শুরুতে উইকেট হারালেও হার মানেননি মিরাজ। টেলএন্ডারদের নিয়ে ছোট ছোট জুটিতে বড় করেন ইনিংস। তাইজুল ইসলামের ২৩ বলে ৭ রানের ক্যামিও, তাসকিনের টিকে থাকার দৃঢ়তা সাহস জুগিয়েছে মিরাজকে। তিনি আগের দিনের ৩২ রানের সঙ্গে যোগ করেন ৩৩ রান।

তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রান ছাপিয়ে ৬৫ রানের মিরাজই হয়ে ওঠেন ব্যাটিংয়ের নায়ক। এই রান করা কতটা কঠিন ছিল– সংবাদ সম্মেলনে তা প্রকাশ করেছেন টাইগার অলরাউন্ডার। শেষ জুটিতে তাসকিন-এবাদত মিলেও জোগান দেন মূল্যবান ৮টি রান। বাংলাদেশের নজরকাড়া দিনে অসি পেসার হ্যাজেলউডের একটি দারুণ অর্জন আছে। ১৩ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার তাঁর। টেস্টে ১৪তম বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন তিনি। পাঁচ উইকেট নেওয়ার পরই মাইলফলক ছুঁয়েছেন হ্যাজেলউড। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে ৩০০ টেস্ট উইকেটের মালিক হন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে হোঁচট খায় শুরুতে। পেসার হাসান বল হাতে নিয়েই ব্রেক থ্রু দেন ওপেনিং জুটি ভেঙে। জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ডআউট করেন শূন্য রানে। অফ-সাইডের বাইরের বলে খেলতে গেলে ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। একদশ ওভারে বোল্ড করেন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডকে। ৩৭ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চিন্তায় পড়ে স্বাগতিকরা। মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ ইনিংস মেরামত করে কিছু পথ এগিয়ে নেন। ৩৬ রানের জুটি করেন দুজনে। স্মিথ ও গ্রিনের জুটি ৪৯ রানের।

তাইজুল আর মিরাজ গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে তৃতীয় দিনটিও নিজেদের করে নেন। সবচেয়ে দামি স্মিথের উইকেটটি নিয়েছেন মিরাজ। লাবুশেন ৩১ আর স্মিথ ৪৪ রান করেছেন। ক্যারি ও গ্রিন জুটি ৩৯ রানে অপরাজিত। গ্রিন ৪৩ আর ক্যারি ১৯ রানে নতুন করে জুটি বাঁধবেন চতুর্থ দিন। এই জুটির ওপরই ভরসা স্বাগতিকদের। তেমনি তাদের আউট করাও সফরকারীদের লক্ষ্য। তৃতীয় দিনের সেরা মিরাজের মতে, ম্যাচ জয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আজকের প্রথম সেশন। কারণ, ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে অস্ট্রেলিয়াকে আরও ৬৭ রান করতে হবে। কে জানে, মিরাজরা হয়তো ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।

সকালের সেশন বাংলাদেশের, ১৫ রানের লিড অস্ট্রেলিয়ার

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনটিও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছে সফরকারীরা। তবে ক্যামেরন গ্রিনের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকরা লিডও নিয়ে নিয়েছে।

সকালের ৩১ ওভারে ৮২ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া, হারিয়েছে তিন উইকেট। মিরাজ একাই শিকার করেছেন অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে। ফলে ৮৪ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ২৪৩ রান নিয়ে লাঞ্চে গেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড পেরিয়ে স্বাগতিকদের লিড এখন ১৫ রান।

দিনের শুরুতেই অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন মিরাজ। ৩০ রানে থাকা ক্যারি অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত হন। এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি গড়তে আসা বিউ ওয়েবস্টারকে ৫ রানে বোল্ড করেন এই অফ স্পিনার।

প্যাট কামিন্সের সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন গ্রিন। দলীয় ২০০ রান পেরিয়ে যাওয়ার পর কামিন্সকে অবশ্য বেশি দূর যেতে দেননি মিরাজ। ৮ রান করা অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ককে শর্ট লেগে সাদমান ইসলামকে ক্যাচ দিয়ে ফেরান তিনি। তাতেই ৭ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন। ১০৯ বলে ফিফটি পূরণ করা এই অলরাউন্ডার লাঞ্চে যাওয়ার সময় ৮৫ রানে অপরাজিত। তার সঙ্গে ১৪ রানে অপরাজিত মিচেল স্টার্ক। দুজন মিলে গড়েছেন ৩৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।

সকালের সেশনে তিন উইকেট তুলে বাংলাদেশ চাপ ধরে রাখলেও গ্রিনের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়া এখন ম্যাচে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে। স্বাগতিকদের লিড আরও বড় হওয়ার আগেই শেষ তিন উইকেট তুলে নেওয়াই এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য।

ডারউইনে ইতিহাসের হাতছানি

ছেলের স্ত্রীর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিলেন ব্রুনেইয়ের সুলতান

ব্রুনেইয়ের সুলতান তার এক পুত্রবধূর সব রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে তার আচরণ ‘অশোভন’। চলতি মাসের শুরুতে ব্রুনেই দারুসসালামের গ্র্যান্ড চেম্বারলেইনের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ খবর নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, সুলতান হাসানাল বলকিয়াহর এক আদেশের পর তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয় এবং তাঁর (পুত্রবধূ) রাজকীয় উপাধিগুলো বাতিল করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন এবং রাজপরিবারের একজন সদস্যের স্ত্রী হিসেবে অনুপযুক্ত আচরণের কারণে পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহর উপাধি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর কর্মকাণ্ড রাজপরিবারের সুনামও ক্ষুণ্ন করেছে।

৩৩ বছর বয়সী পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহ ব্রুনাইয়ের প্রিন্স আবদুল মালিকের (৪৩) স্ত্রী। আবদুল মালিক সিংহাসনের উত্তরাধিকার ক্রমে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন।