Home Blog Page 26

অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতি আনতে চায় বাংলাদেশ-ভারত সফররত ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক

ভৌগোলিক নৈকট্যকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, ভিসা সহজ করা এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক বাস্তবতা পারস্পরিক সহযোগিতার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতি বড় হলেও আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য তুলনামূলক কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো গেলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যকে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

বৈঠকে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ভিসা জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য কয়েক মাস পরপর নতুন ভিসার আবেদন বাস্তবসম্মত নয়। দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ব্যবস্থার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।

এদিকে সিআইআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে একটি অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) উন্নয়নে এবং অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্যাটারি স্টোরেজ ও ডাটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যৎমুখী শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করবে।

সিআইআই জানায়, ভারতে গত বছর অবকাঠামো খাতে প্রায় ২৫ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগ হয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে বেসরকারি খাত থেকে। ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে বলে মত দেন তারা।

বৈঠকে স্থানীয় উৎপাদনকারী শিল্পের সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, অনেক স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়বে।

এনার্জিপ্যাকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের উদাহরণ দিয়ে এক প্রতিনিধি জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক পণ্য আমদানি করতে হয়। স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আনতে ৪০-৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমবে।

এফএমসিজি খাতেও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিআইআই। ঢাকার আশপাশে সাবান, হোম কেয়ার ইনসেক্টিসাইড ও ফ্র্যাগ্রেন্সসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে একটি অত্যাধুনিক সমন্বিত কারখানা স্থাপনের আগ্রহ জানানো হয়। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

শিল্পে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারে শুল্ক কাঠামো সমন্বয়ের আহ্বানও জানানো হয়। সিআইআই প্রতিনিধিরা জানান, তাদের স্টিম-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহারে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও খাদ্য শিল্পে ১০-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব। তবে শুল্ক বৈষম্যের কারণে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের তরুণদের ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং বাংলাদেশী প্রকৌশলীদের তৃতীয় দেশে কাজের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা নিরসনে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে সিআইআই।

বৈঠকে উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ, ব্যবসায়ী পর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্ব দেয়।

তাপমাত্রা বৃদ্ধি বছরে ৩ মাস মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকবেন বাংলাদেশের প্রবীণরা বয়স ভেদে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

ভিন্ন বয়সী তিন ধরনের মানুষের ওপর ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। ফলাফলে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আগামীতে বিশ্বের তাপমাত্রা যদি ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দক্ষিণ এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রবীণরা।

দক্ষিণ এশিয়ায় ঝুঁকির মুখে থাকা দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারকে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সেখানে দারিদ্র্যের হার বেশি এবং শীতলীকরণ ব্যবস্থার সুযোগ সীমিত।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শিল্প-বিপ্লবের আগের সময়ের চেয়ে বিশ্বের তাপমাত্রা যদি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তাহলে ৬০ বছরের বেশি বয়সী ২২ শতাংশ মানুষ বছরে অন্তত এক মাস অসহনীয় দাবদাহের মুখোমুখি হবেন। ১ দশমিক পাঁচের পরের প্রত্যেক ডিগ্রি সেলসিয়াসের কারণে আরও ১০০ কোটি মানুষ শরীরের সহ্যক্ষমতার বাইরে তাপ ও আদ্রতা অনুভব করবেন।

তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে দক্ষিণ এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রবীণরা বছরে টানা তিন মাস (দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা) মারাত্মক ঝুঁকির মুখে থাকবেন। তাপের মাত্রা ও বয়স বিবেচনায় এই মডেলটি তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। ‘দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ’ জার্নালে এটি প্রকাশ হয়েছে সোমবার। বয়সভেদে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে আগেও তারা গবেষণা করেছিলেন। কিন্তু সেগুলো ছিল মূলত তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তিদের ওপর।

বিশ্বের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যার বিষয়টি মাথায় রেখে, গবেষকরা ২১০০ সালের মধ্যে তিনটি ভিন্ন বয়সী গোষ্ঠীর স্বাস্থ্যের ওপর তাপমাত্রার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মডেলটি তৈরি করেন। এ ধরনের গবেষণার জন্য ‘ওয়েট-বাল্ব টেম্পারেচার’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। একজন মানুষের শরীর কতটা তাপ সহ্য করতে পারে সে হিসাব এই পদ্ধতির মাধ্যমে বের করা হয়েছে। মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কোন পর্যায়ে গেলে, প্রবীণদের সহ্যক্ষমতার বাইরে যেতে পারে- সেটি বোঝাই ছিল এ গবেষণার উদ্দেশ্য।

সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ কম ঘামে। হৃদযন্ত্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। এমন মানুষের ওপর তাপমাত্রার প্রভাব বুঝতে গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ওপর ‘ওয়েট-বাল্ব’ পরীক্ষা চালান। প্রবীণদের শরীর উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটি পরীক্ষা করা হয়।

ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হলো। বৈরী আবহাওয়ার করণে এই অঞ্চলে কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, অঞ্চলটি ইতিহাসের উষ্ণতম গ্রীষ্ম পার করছে। আগামী বছর তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় রাজস্ব সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, যার যা কাজ সেটি ঠিকভাবে করলেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সৎ, দক্ষ, তাদের আমরা আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দিতে চাই। এ সময় রাজস্ব কর্মকর্তাদের দণ্ডের বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সকালে এই সম্মেলনে যোগ দেন সরকারপ্রধান। সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, কর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং দেশের অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া থাকছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়েরও সুযোগ।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন

শেখ হাসিনা ভাষণ দিয়েছেন। গুরত্বপূর্ন ভাষণ। তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। ভুলে গেলে চলবে না যে, তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি জোর করেই দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। এবার কি তিনি মৃত্যুদন্ড মাথায় নিয়ে দেশে ফিরে যাবেন? তাঁর রাজনৈতিক চরিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে তিনি যা বলেন তা করেন। তাই স্পষ্টত: বোঝা যাচ্ছে তিনি দেশে ফেরত যাবেন। মৃত্যুদন্ড? শেখ হাসিনা’র মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে এমন আদালত, সরকার বাংলাদেশে নেই! তিনি দেশে ফিরে যাবেন, বিজয়ীর বেশেই যাবেন। দেশ ও জনগণকে রক্ষায় নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও তিনি যাবেন। তিনি দেশে যাবেন, দেশ বাঁচাবেন, জনগণকে বাঁচাবেন, দল বাঁচাবেন, কর্মীদের বাঁচাবেন, এবং নিজের জন্যে, বঙ্গবন্ধু পরিবারের জন্যে গৌরবজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করবেন। প্রমান করবেন তিনি দেশপ্রেমিক, দেশের জন্যে উৎসর্গিত প্রাণ। জয়বাংলা।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা অসুস্থ

বাংলাদেশে হিন্দু আন্দোলনের পথিকৃৎ শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু দীর্ঘদিন জেলে, কবে তিনি মুক্তি পাবেন তা কেউ জানেনা। কারণ তিনি রাজনৈতিক রোষানলে জেল খাটছেন। তিনি এডভোকেট আলিফ হত্যা মামলার আসামী। এডভোকেট আলিফ যখন জামাতীদের হাতে নিহত হন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস তখন জেলে। তবু তিনি আসামী। এক শুনানিতে প্রভু বলেছেন, ‘মহামান্য আদালত, জীব হত্যা না করার জন্যে আমি মাছ-মাংস খাইনা, অথচ আমার বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা দেয়া হলো’। বিচারক অবশ্য সবই বুঝেন, শুধু বলেছেন, ‘আমি সরকারি চাকুরী করি’। এমুহুর্তে শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস’র প্রসঙ্গ টানার কারণ হচ্ছে, চিন্ময় প্রভু জেলে, তাঁর মা অসুস্থ। মাস খানেক ধরে ভদ্রমহিলা একবার হাসপাতাল, আর একবার বাসায় যাচ্ছেন-আসছেন। একদিকে তিনি ছেলের চিন্তায় অস্থির, তদুপরি তাঁর ‘ল্যাং-ক্যান্সার’ ধরা পড়েছে। প্রাথমিক ষ্টেজ, ডাক্তার তাকে একটি ‘কেমো’ দিয়েছেন। এতে তিনি আরো কাহিল হয়ে পড়েছেন। এই কেমো দেয়া নিয়েও কথা উঠেছে, অন্য এক ডাক্তার প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এ কেমো’র প্রয়োজন ছিলো কি? আমরা অধম সন্তান, এই মায়ের জন্যে কি আমাদের কিছুই করার নেই?

image

তসলিমা কলকাতায়: ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে গেছেন!

‘তসলিমা কলকাতায়, তাঁকে যথেষ্ট উষ্ণ সম্বর্ধনা দেয়া হয়েছে। এটিই পশ্চিমবঙ্গ, এটিই ধর্মনিরপেক্ষতা, কলকাতা সবার। হাস্যোজ্জ্বল তসলিমাকে দেখে মনে হলো যেন, ‘ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে গেছেন’। তসলিমা প্রায় তিন দশক দেশছাড়া, যে দেশ তিনি ফেলে এসেছেন, সেই বাংলাদেশ এখন মৌলবাদের আখড়া, তসলিমা সেখানে অবাঞ্চিত। তাঁর অপরাধ তিনি মৌলবাদের বিরুদ্ধে লিখেন, তিনি ধর্মের বিরুদ্ধে লেখেন, তিনি নাস্তিক। তসলিমা নুতন ঘর বেঁধেছিলেন কলকাতায়। বাম আমলে যেখানে তসলিমাকে আলগে রাখার কথা, অথচ ইসলামী মৌলবাদকে খুশি রাখতে এক নারীবাদী লেখিকা তসলিমাকে ওঁরা কলকাতা ছাড়া করে? এরপর ক্ষমতায় এলেন চটিপিসি মমতা ব্যানার্জী, মোল্লা তোষণে তিনি সকল সীমানা ছাড়িয়ে যান, তসলিমাকে তিনি পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে দেননি! পশ্চিমবাংলা থেকে বাম ও তৃণমূল অপশক্তি বিদায় হয়েছে, কলকাতা ফিরছে এর গৌরবজ্জ্বল ভূমিকায়। অনেকদিন আগে প্রায়ত কলামিষ্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী লিখেছিলেন, ‘ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া দরকার’। ঘর না হোক, তসলিমা অন্তত: নিকটতম প্রতিবেশীর ঘরে ফিরছেন, এতেই বা আনন্দ কম কি!

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক যেসব পানীয়

কোষ্ঠকাঠিন্য হজমের একটি সাধারণ সমস্যা। অনিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, খাবারে আঁশের ঘাটতি এবং শারীরিক পরিশ্রম কম হলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় খাবার ও পানীয়ের ধরনে কিছু পরিবর্তন আনলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি কিছু সহজলভ্য ফলের রস ও আঁশযুক্ত পানীয় হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার রাখা জরুরি।

উষ্ণ পানি

দিনের শুরুতে এক গ্লাস হালকা উষ্ণ পানি পান করার অভ্যাস শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে খুব গরম পানি পান করার প্রয়োজন নেই। দিনের অন্যান্য সময়েও পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

পাকা পেঁপের শরবত

পাকা পেঁপেতে পানি ও আঁশ রয়েছে। এ কারণে হজমের জন্য ফলটি বেশ উপকারী। নিয়মিত পাকা পেঁপে খেলে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ে, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পাকা পেঁপে দিয়ে শরবত তৈরি করেও খাওয়া যায়। এতে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো। সম্ভব হলে শরবত ছেঁকে না খেয়ে ফলের আঁশসহ পান করা ভালো।

কমলার রস

কমলায় পানি ও ভিটামিন সি রয়েছে। তবে জুসের তুলনায় পুরো কমলা খেলে বেশি আঁশ পাওয়া যায়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে ফল হিসেবে কমলা খাওয়াই বেশি উপকারী। রস পান করতে চাইলে তাজা কমলার রস তৈরি করে খেতে পারেন। এতে বাড়তি চিনি না দেওয়াই ভালো।

পেয়ারার শরবত

পেয়ারা আঁশসমৃদ্ধ একটি সহজলভ্য ফল। নিয়মিত পেয়ারা খেলে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ে, যা হজম ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পেয়ারার শরবত তৈরি করা গেলেও ছেঁকে ফেললে আঁশের পরিমাণ কমে যায়। তাই শরবত করলে ফলের পাল্পসহ পান করা ভালো। চাইলে পেয়ারা সরাসরি খাওয়াই সবচেয়ে সহজ উপায়।

লেবু পানি

লেবু পানি নিজে কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা নয়। তবে পানি শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। চিনি ছাড়া হালকা লেবু পানি প্রতিদিনের পানীয়ের তালিকায় রাখা যেতে পারে। সকালে কিংবা দিনের যেকোনো সময় এটি পান করা যায়। তবে লেবু খেলে যাদের অ্যাসিডিটি বা পেটে অস্বস্তি বাড়ে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত।

ইসবগুলের ভুসি মেশানো পানি

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ইসবগুলের ভুসি বহুল ব্যবহৃত একটি আঁশের উৎস। পানির সঙ্গে মিশে এটি ফুলে ওঠে এবং অন্ত্রে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে পেট পরিষ্কার হতে সুবিধা হতে পারে। ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে না খেয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করা ভালো। নিয়মিত ইসবগুল খাওয়ার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ভেজানো চিয়া সিড

চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে রাখলে জেলির মতো হয়ে যায়। এতে আঁশ ও তরল দুটিই পাওয়া যায়। এক টেবিল চামচ চিয়া সিড পানিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পান করা যেতে পারে। তবে হঠাৎ বেশি পরিমাণে চিয়া সিড খাওয়া ঠিক নয়। এতে কারও কারও গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। তাই অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো।

আদা চা

হালকা গরম আদা চা হজমে স্বস্তি দিতে পারে। বিশেষ করে ভারী খাবারের পর আদা চা অনেকের কাছে আরামদায়ক পানীয় হিসেবে কাজ করে। আদার কিছু উপাদান হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। তবে চায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। একই সঙ্গে দিনে অতিরিক্ত চা পান করার অভ্যাসও এড়িয়ে চলা উচিত।

কফি

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কফি পান করার পর মলত্যাগের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। কফি অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়াকে উদ্দীপ্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর জন্য অতিরিক্ত কফি পান করা উচিত নয়। পরিমিত পরিমাণে পান করাই ভালো।

পানীয়ের পাশাপাশি খাবারেও নজর দিন

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে শুধু একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ডাল, ছোলা, পেঁপে, পেয়ারা, কমলা, আপেলসহ আঁশযুক্ত খাবার রাখা দরকার। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা হালকা শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাসও হজমের জন্য উপকারী। খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ালে ধীরে ধীরে বাড়ানো ভালো।

দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ

মাঝেমধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হলে খাবার ও জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে উপকার পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে তীব্র পেটের অস্বস্তি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, বারবার বমি কিংবা হজমের অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার পেছনে অন্য কোনো শারীরিক কারণও থাকতে পারে।

নরসিংদীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

নরসিংদীর শিবপুর ও আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা এলাকায়। এটি ঢাকার আগারগাঁও সিসমিক সেন্টার থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।

শিবপুরের ইটাখোলা এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া বলেন, ভোরে সামান্য ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

রাশিয়ায় ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, নিহত ৭

রাশিয়ায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার রাতের এ হামলায় দেশটির অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। রুশ কর্মকর্তারা হামলাটিকে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রুশ আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ৮২২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০০টি মস্কোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। হামলায় রাজধানীর কাছে অনলাইন পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি বড় গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর জানান, রাতের হামলায় সেখানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বাসে হামলায় এক নারী নিহত হন। মস্কো অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ৮৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিয়ভ।

মস্কোর কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে কোলেদিনো এলাকায় ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলার পর আগুন ধরে যায়। এতে তিনজন আহত হয়েছেন। হামলার পর গুদাম থেকে ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওয়াইল্ডবেরিজের ১০টি বড় লজিস্টিক কেন্দ্রের মধ্যে সাতটিই এখন অকার্যকর। কিয়েভের ভাষ্য, এসব কেন্দ্রের কয়েকটি রুশ সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

তবে রাশিয়ার হামলা থেকে রেহাই পায়নি ইউক্রেনও। দেশটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রুশ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ৩৯ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়েছে।

জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি বাড়িতে রুশ বোমা হামলায় এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। তাদের বয়স যথাক্রমে ৬৬ ও ৬৪ বছর। এ ছাড়া নিপ্রোপেত্রোভস্কের ক্রিভি রিহ, সুমি, দোনেৎস্ক ও খেরসন অঞ্চলেও হামলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

কিয়েভেও রাতভর কয়েক দফা বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, হামলায় শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। শহরের পোচায়না এলাকার একটি বইয়ের বাজারে আগুন লাগে। এতে বহু বই ও ভিনাইল রেকর্ড পুড়ে যায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, চলতি সপ্তাহে দেশটির ১৩টি অঞ্চল রুশ হামলার শিকার হয়েছে। তাঁর দাবি, এ সময়ে রাশিয়া ১ হাজার ৫৫০টির বেশি ড্রোন, প্রায় ১ হাজার ৫৬০টি গাইডেড বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

রাশিয়া বলেছে, কিয়েভে তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির সঙ্গে যুক্ত স্থাপনা। দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ করে আসছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশের আকাশপথে হামলাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। জবাবে ইউক্রেনের শহর, সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া।

অ্যামচ্যামের সভায় অর্থমন্ত্রী মূলধনের জন্য ব্যাংকের পরিবর্তে শেয়ারবাজারমুখী হওয়ার পরামর্শ

ব্যবসায় মূলধন জোগানে উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ব্যবস্থার পরিবর্তে শেয়ারবাজারমুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), বন্ড ইস্যু কিংবা রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করা যেতে পারে। এতে ব্যাংক ঋণের উচ্চহারের সুদের চাপ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব, যা ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় অনেক কমিয়ে দেবে।

গতকাল রোববার ‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন: নীতি সংস্কার থেকে কার্যকর বাস্তবায়ন’ শিরোনামের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের সংগঠন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল।

দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, গবেষকসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসা পরিচালনায় জ্বালানি সংকট, দুর্নীতি, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, কাস্টমসে হয়রানিসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন তারা। সহজে ব্যবসা পরিচালনা ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে নতুন করে সংস্কার-নীতি নেওয়ার আগে বিদ্যমান সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়ন চেয়েছেন তারা।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের পর ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছে। আরও ভালো কিছু আশা করছে সরকার।

শিল্পকারখানা পরিচালনায় বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সমস্যার সমাধানে আরও অন্তত দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে।  উত্তরাধিকার সূত্রে  জ্বালানির যে সংকট সরকার পেয়েছে, তা ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে সমাধানযোগ্য নয়। এ জন্য আরও অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী ব্যবসা ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার মাধ্যমে আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি চলমান নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরতে পারেন, সে জন্য নেওয়া ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

করব্যবস্থা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও অটোমেশনের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ম মেনে পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ, কর পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং করব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি করব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেসব মৌলিক বিষয় বিবেচনা করেন, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশে রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দিতে নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।

আলোচনায় এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য মূলধনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার ভিত্তি হলো একটি স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ। বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য আরও সহজ করা গেলে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।

কয়েকজন উদ্যোক্তা অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম রাজস্ব আহরণের মধ্যে কীভাবে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশে উন্নীত করা ও মূল্যস্ফীত সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা যাবে।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার করে আওতা বাড়াচ্ছে। কর ফাঁকি রোধে বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হচ্ছে। কর ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অটোমেটেড করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে করব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা আসবে। রাজস্ব আহরণ বাড়বে।