Home Blog Page 282

গণভোটের আড়ালে স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে

০

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল ফ্যাসিবাদের নিষ্ঠুরতা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে গিয়ে ফ্যাসিবাদের ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়েছিল। বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সেই দলের ছাতার নিচে পরাজিত পলাতক স্বৈরাচার আশ্রয় নিয়েছে কি না, এটি ভাবার সময় এসেছে। গণভোটের আড়ালে পতিত, পরাজিত ও পলাতক অপশক্তিকে রাষ্ট্র রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সভার সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েকটি রাজনৈতিক দল বর্তমানে বিভিন্ন শর্ত দিয়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। নির্বাচনের জটিলতা সৃষ্টি মানে একদিকে রাষ্ট্রের খবরদারির সুযোগ নেওয়া, অন্যদিকে পতিত স্বৈরাচারের পুনরাগমনের পথ সুগম করা। এই স্বৈরাচারীর সহযোগিতায় আমরা সম্প্রতি রাজধানীতে আগুন-সন্ত্রাস দেখেছি।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গণতান্ত্রিক জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোকে হুমকিধমকি না দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জনগণের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানান।’

তারেক রহমান বলেন, ‘জুলাই সনদে যা অঙ্গীকার করা হয়েছে, বিএনপি সেই অঙ্গীকার রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কিন্তু কেউ যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্বল ভেবে অপকৌশলের আশ্রয় নেয় বা বিএনপির বিজয় ঠেকাতে ষড়যন্ত্র করে, তবে সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের বলছি—অযথা পরিস্থিতি ঘোলাটে করবেন না।’

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বলেন, ‘এ বছর আলু চাষিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রতি কেজি আলুর খরচ যেখানে ২৫-২৭ টাকা, সেখানে তারা অর্ধেক দামে বিক্রি করতে পারছে না। ফলে কৃষকরা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন। গণভোটে এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার চেয়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এখন অনেক বেশি জরুরি।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যায় বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে শতাধিক আলোচনার পরও সড়ক নিরাপত্তা ইস্যুটি গুরুত্ব পায়নি।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া রহমানের সংস্কার শুরু করেছিল; কিন্তু তিনি সম্পন্ন করতে পারে নাই। তারেক রহমানকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনার আব্বা-আম্মা যেখানে শেষ করেছেন, আপনি সেখান থেকে শুরু করে সামনের দিকে এগিয়ে যান। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সাহায্য করব।’

আলোচনা সভায় সভাপত্বিতের বক্তব্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশের একটা সংকট তৈরি হয়েছে, সেটা অপ্রয়োজনীয় সংকট । এটার কোনো প্রয়োজন ছিল না । অতএব সংকটটা তৈরি করা হয়েছে আমি মনে করি- অত্যন্ত উদ্দেশ্যমূলকভাবে।

জাতীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই যে একটা সংকট তৈরি হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় সংকট। এটার কোনো প্রয়োজন ছিল না। অতএব সংকটটা তৈরি করা হয়েছে আমি মনে করি- অত্যন্ত উদ্দেশ্যমূলকভাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের যে গণতান্ত্রিক উত্তরণ; সে পথকে বাধাগ্রস্ত করা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে সংস্কারের জন্য যে নির্বাচন হওয়া দরকার সে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা জনগণের ভবিষ্যৎকে একটা অনিশ্চিত অবস্থায় ফেলা।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সঞ্চালনা করেন বিএনপি প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাত্তার পাটোয়ারী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, এবি পার্টি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণ-অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং লেবার পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

০

ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে জুলাইসহ সকল গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও আওয়ামী লীগের নাশকতা সৃষ্টির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে মিছিলটি ঢাকা কলেজ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রেজাউল করিম শাকিল ও ঢাকা মহানগর পূর্বে সভাপতি এবং ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক নতুন সূর্যোদয়ের স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশ আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত, সমৃদ্ধ নতুন দেশ গড়ার জন্য প্রজন্মের এক জাগরণ তৈরি করেছে। শহীদ পরিবারের কান্না, আহত ও পঙ্গুদের রক্ত এখনো কথা বলছে; অথচ জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে টালবাহানা চলছে। দেড় বছর পার হলেও অসংখ্য চাক্ষুষ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত একটি রায়ও দিতে পারেনি সরকার।

তিনি বলেন, যারা জুলাইকে ধারণ করতে পারবেন না, তারা দেশের দায়িত্ব নেওয়ার যোগ্য নন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে আওয়ামী পুনর্বাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। তারা ক্ষমতায় আসার পূর্বেই আওয়ামী লীগের সকল মামলা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন—এই অধিকার জনগণ আপনাদের দেয়নি। এরকম চলতে থাকলে যে প্রজন্ম হাসিনাকে লাল কার্ড দেখিয়েছে, তারা আপনাদেরকেও ‘ডাবল লাল কার্ড’ দেখাবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তারা ইতোমধ্যে সারাদেশে আগুন সন্ত্রাস চালিয়েছে; ময়মনসিংহে গাড়িচালককে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আগামীতে কোনো আগুন সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদের রাজনীতি এ দেশে চলবে না।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যা, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যাসহ সকল গণহত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই সনদ এ জাতির অন্যতম আকাঙ্ক্ষা, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হবে। কিন্তু একটি দল এক্ষেত্রে সচেতনভাবে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অবিলম্বে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল সেক্টরকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করে গণভোট আয়োজন করতে হবে—যার মাধ্যমে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। গণভোটের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

ছাত্রশিবির সভাপতি সকলকে ছাত্রশিবির ঘোষিত রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ও সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও ডাকসু জিএস এস. এম. ফরহাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হেলাল উদ্দিন, মহানগর পশ্চিম সভাপতি হাফেজ আবু তাহের এবং মেডিকেল জোন সভাপতি ডা. যায়েদ আহমেদ।

আফগানিস্তানে হাসপাতালে প্রবেশে পড়তে হবে বোরকা

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরে নারী রোগী, সেবীকা ও কর্মীদের হাসপাতালে প্রবেশে বোরকা পরার নির্দেশ দিয়েছে তালেবান সরকার। গেল ৫ নভেম্বর থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স।

সংস্থাটি জানায়, তালেবানের জারি করা এমন নির্দেশনার পর আঞ্চলিক হাসপাতালে নারী রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণ কমেছে ২৮ শতাংশ। এই বিধি-নিষেধ নারীদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এমনকি হাসপাতালে প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে বোরকা না পরা নারীদের ভেতরে যেতে দিচ্ছে না তালেবান সদস্যরা।

হেরাত শহরে হাসপাতাল ছাড়াও স্কুল, সরকারি অফিস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রবেশেও নারীদের বোরকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার প্রশাসন নারীদের হিজাব পরার নির্দেশনা দিয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের পর কিছু এলাকায় বিধি-নিষেধ আংশিক শিথিল করেছে তালেবান।

দুর্নীতির অভিযোগে ইউক্রেনের বিচারমন্ত্রী বরখাস্ত

ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে দুর্নীতি কেলেঙ্কারির মধ্যেই বিচারমন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কোকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কোর বরাত দিয়ে বুধবার কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।

এই সিদ্ধান্ত আসে অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটরদের অভিযোগের এক দিন পর, যেখানে সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গালুশচেঙ্কোর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়।

প্রধানমন্ত্রী সিভিরিদেঙ্কো এক বিবৃতিতে বলেন, জার্মান গালুশচেঙ্কোকে বিচারমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গালুশচেঙ্কোর দায়িত্ব আপাতত পালন করবেন উপমন্ত্রী লিউদমিলা সুগাক।

স্পেশালাইজড অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটরস অফিস (এসএপিও) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ সহযোগী তিমুর মিন্ডিচ জ্বালানি খাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, গালুশচেঙ্কো চার বছর ধরে জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অর্থ প্রবাহ নিশ্চিত করার বিনিময়ে মিন্ডিচের কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন।

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সময় এই দুর্নীতির তদন্ত প্রকাশ্যে আসে, যা সরকারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

শেখ হাসিনার মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায় ঘোষণা শেখ হাসিনার রায় ঘোষণা ১৭ নভেম্বর।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটি বর্তমানে রায়ের অপেক্ষার তালিকায় ১ নম্বরে ছিল । রায়ের দিন নির্ধারণ ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

 

‘নতুন কুঁড়ি’ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: প্রধান উপদেষ্টা

‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে শাপলা হলে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি-২০২৫’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে আনন্দঘন পরিবেশে শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘শিশুরা শুধু নাচ-গানে সীমাবদ্ধ থাকবে কেন?’—এই প্রশ্ন রেখে ড. ইউনূস শিশুদের রচনা, প্রযুক্তি, খেলাধুলা ও উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

দীর্ঘদিন পর আবারও ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজন করায় মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নতুন কুঁড়ির মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানের আগে প্রতিযোগিতার দুটি বিভাগের দুই বিজয়ীর হাতে ৩ লাখ টাকার চেক ও ট্রফি তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা এবং সব অংশগ্রহণকারীকে অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা।

এর আগে নতুন কুঁড়ি-২০২৫ আসরের সবগুলো পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক, গল্প বলা, অভিনয়সহ ১২টি বিষয়ে প্রতিভাবান শিশু-কিশোররা অংশ নেয়।

আঞ্চলিক বাছাই, বিভাগীয় বাছাই, চূড়ান্ত বাছাই, সেরা দশ এবং ফাইনাল রাউন্ড শেষে বিজয়ীদের সম্মাননা জানাতেই অনুষ্ঠিত হলো পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চৈতী

০

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাঁধা নয় এ সত্যের জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কিশোরী চৈতী রানী দেব। সমস্ত প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে ১৩ বছরের এই দৌড়বিদ। আগামী ৭ থেকে ১৪ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমস ২০২৫-এ অংশ নেবে চৈতী।

উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের সাধারণ কৃষক সত্য দেব ও গৃহিণী পূর্ণিমা রানী দেবের চার মেয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট চৈতী। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় তাকে এগিয়ে যেতে সাহস যুগিয়েছে। বর্তমানে সে উপজেলার ভুনবীর দশরথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট ৭ ইঞ্চি, কিন্তু স্বপ্নের উচ্চতা অনেক বড়।

বাংলাদেশ জাতীয় প্যারালিম্পিক কমিটি (এনপিসি বাংলাদেশ)-এর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ইভেন্টে লড়বে চৈতী। সে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করছে।

শ্রীমঙ্গলের স্পোর্টস ফর হোপ অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্স (এসএইচআই) এর প্রশিক্ষক দেব প্রসাদ শীল দৈনিক বাংলাকে বলেন, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির ফল এটি। জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করে চৈতী আন্তর্জাতিক সুযোগ পেয়েছে। সামনে সে ঢাকায় ক্যাম্পে অনুশীলন করবে। রাষ্ট্র ও সমাজ পাশে দাঁড়ালে চৈতী আরও বড় অর্জন এনে দিতে পারবে।

এসএইচআই প্রতিষ্ঠাতা শারমিন ফারহানা চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, শুরুতে চৈতী ও তার পরিবার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। পরবর্তীতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও উৎসাহে আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে সে। এটি শুধু চৈতীর অর্জন নয়, এই অঞ্চলের মেয়েদের জন্য এটি বড় অনুপ্রেরণা।

তিনি আরও বলেন, চৈতী জিতুক বা না জিতুক এই অংশগ্রহণই তার জীবনের বড় সাফল্য। সে প্রমাণ করে দেবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে তারাও দেশকে গর্বিত করতে পারে।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে চৈতী দৈনিক বাংলাকে বলেন, এশিয়ার ৪৫টি দেশের দেড় হাজারের মতো ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন এই প্রতিযোগিতায়। সেখানে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারায় আমি গর্বিত। আমি দেশকে সবার সামনে মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরতে চাই।

তুরস্ক ফুটবলে জুয়া কেলেঙ্কারি: গ্রেপ্তার ৮, নিষিদ্ধ ১,০২৪ ফুটবলার

০

তুরস্কের ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে নজিরবিহীন জুয়ার কেলেঙ্কারির ঝড়। গত সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে আটজনকে, তাদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ লিগ ক্লাব এইউপস্পোরের চেয়ারম্যান মুরাত ওজকায়া।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে এইউপস্পোর চেয়ারম্যানসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ) কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে- দেশের সব স্তরের লিগ থেকে ১,০২৪ ফুটবলারকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

টিএফএফ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘১,০২৪ খেলোয়াড়কে তদন্তাধীন হিসেবে শৃঙ্খলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। ক্লাবগুলোর স্কোয়াড পূরণের সুবিধার জন্য আমরা ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছি, যাতে ২০২৫-২৬ মৌসুমের শীতকালীন দলবদলের সঙ্গে অতিরিক্ত ১৫ দিনের সময় বাড়ানো যায়।’

এই তালিকায় সুপার লিগের ২৭ জন খেলোয়াড় রয়েছেন, যাদের মধ্যে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন গালাতাসারাই এবং ঐতিহ্যবাহী বেসিকতাস ক্লাবের খেলোয়াড়ও আছেন।

ঘটনার পর টিএফএফ দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের লিগের ম্যাচ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে। ফেডারেশনের বোর্ড গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

ফেডারেশন সভাপতি ইব্রাহিম হাজি ওসমানোউগ্লু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি তুর্কি ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৈতিক সংকট। এর শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে।’

ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে- ৫৭১ জন সক্রিয় রেফারির মধ্যে ৩৭১ জনেরই অনলাইন বেটিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৫২ জন নিয়মিতভাবে জুয়া খেলতেন।

একজন রেফারি একাই ১৮,২২৭-বার বাজি ধরেছেন, আর ৪২ জন রেফারি এক হাজারেরও বেশি ম্যাচে জুয়া খেলেছেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

রমজান উপলক্ষে ১০ পণ্যের এলসিতে নগদ মার্জিন সর্বনিম্ন রাখার নির্দেশ

০

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১০টি পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার সময় নগদ মার্জিন ন্যূনতম রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকার–গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর—এই ১০টি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নগদ মার্জিন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে হবে। এ নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রমজান মাসে এসব পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই আমদানি সহজীকরণের মাধ্যমে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে রমজান মৌসুমে কিছু ভোগ্যপণ্যের আমদানিতে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণের নির্দেশনা ছিল। পরে আমদানি পরিস্থিতি ও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় ব্যাংকার–গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সেই হার ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়, যা সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট আমদানি ঋণপত্র স্থাপনে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নবীন-প্রবীণে অনন্য উজ্জীবিত তৃণমূল

০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে এবার প্রার্থী মনোনয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রার্থী তালিকায় নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে এবারের প্রার্থী মনোনয়ন দলটির বর্তমান নেতৃত্বকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত এই মনোনয়ন দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিতও বহন করছে।
দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াটি এবার কয়েকটি সুসংগঠিত স্তরে পরিচালিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে পাঁচ স্তরের সতর্ক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, সামাজিক অবস্থান, নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রত্যেক প্রার্থীর বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সামনে উপস্থাপন করেছেন। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য দলের পক্ষ থেকে পাঁচটি ভিন্ন ধরনের জরিপ চালানো হয়েছে। এই জরিপগুলো আন্তর্জাতিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে এবং প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে ভোটারদের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হয়েছে।
জরিপের তথ্য জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে প্রতিটি প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে জনমত অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
জরিপের পাশাপাশি তারেক রহমান সরাসরি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, নির্বাচনী এলাকার ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ভূমিকা এবং দলের প্রতি তার ত্যাগের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল প্রার্থী বাছাইকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং দলের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা।
এদিকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রার্থী তালিকায় নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয় প্রমাণ করে যে, দল কেবল রাজনৈতিক দাপট বা প্রভাব নয়, বরং যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। তারা বলছেন, তিন-চারটি আসন ছাড়া বাকি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তেমন নেই বললেই চলে, যা দলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে।
নেতাকর্মীরাও বেশ উজ্জীবিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে প্রচারণা শুরু করেছেন। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকায় শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন এবং নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দু-তিনটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রার্থী ঘোষণার পর বড় কোনো বিতর্ক বা অসন্তোষ দেখা যায়নি, যা তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি দলের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
এবার ৫ স্তরের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭ সম্ভাব্য প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা। এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তারেক রহমান ছিলেন অত্যন্ত কঠোর ভূমিকায়। ঘোষিত প্রার্থী তালিকা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে দলীয় নিয়ম, প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, নির্বাচনী এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তার আত্মত্যাগমূলক অবদানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। অতীতে দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মহলের তদবির বা পারিবারিক প্রভাবের যে অভিযোগ উঠত, তারেক রহমানের কঠোর অবস্থানের কারণে এবার তার কোনো অবকাশ রাখা হয়নি।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী ৬৩টি আসন এখনও ফাঁকা রাখা হয়েছে। এসব ফাঁকা আসন কৌশলগত কারণে এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মিত্র দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা এবং সামগ্রিক নির্বাচনী কৌশল অনুযায়ী পরবর্তীতে এসব আসনের প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। এই ফাঁকা আসনগুলো ভবিষ্যৎ দর কষাকষির জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের ১৫টি আসনের মধ্যে নয়টিতে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। অবশিষ্ট ছয়টি আসনের মধ্যে ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৭ উল্লেখযোগ্য। এই আসনগুলোতে এনডিএম (জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন), জাতীয় পার্টি, এলডিপি (লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি), গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য এবং গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী দিতে পারে বলেও জানা যায়।
আসন নিয়ে আলোচনা চলছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গেও। দলটি অন্তত ২০টি আসনে বিএনপির সঙ্গে জোট বা সমঝোতা করতে আগ্রহী বলে রাজনৈতিক মহলে খবর পাওয়া গেছে। দলটি অনানুষ্ঠানিকভাবে এমনই আলোচনা চালাচ্ছে, পাশাপাশি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়েও আগ্রহী। জানা গেছে, এনসিপির নেতারা চাইছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মন্ত্রিসভায় তাদের অন্তত তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
এনসিপির সঙ্গে চলমান এই আলোচনাগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক নয়। কার সঙ্গে জোট হবে বা কোন আসনে সমঝোতা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এখন পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে আলোচনা অনুযায়ী, ঢাকার চারটি আসনসহ মোট অন্তত ২০টি আসনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা চায় এনসিপি। এই আসনগুলোর মধ্যে অনেক স্থানে বিএনপি ইতোমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তবে প্রাথমিক সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও রয়েছে, যা চূড়ান্ত জোটের রূপরেখা নির্ধারণ করবে। বিএনপি সূত্র জানায়, আসন ভাগাভাগি ছাড়াও তারা চাইছে, এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো নির্বাচনী সমঝোতায় না যায়, যা জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নির্দেশ করে। যদিও এনসিপি ২০টি আসনের দাবি তুলেছে, বিএনপি এখন পর্যন্ত তাদের জন্য ৮টি আসন ছাড়ার কথা বলছে।
শরিকদের মধ্যে প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করা হলেও ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ইতোমধ্যেই বিএনপির ‘গ্রিন সিগনাল’ নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন, যা একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার ইঙ্গিত। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলনের হয়ে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। বগুড়া-২, পিরোজপুর-১, লক্ষ্মীপুর-১, কিশোরগঞ্জ-৫ ও ঝালকাঠি-১ আসনেও মিত্র দলের প্রার্থীদের সম্ভাবনা রয়েছে।