‘মশার উৎপাতে’ বন্ধ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল
‘ইয়া আলি’ গানের গায়ক জুবিন গার্গ মারা গেছেন
শাপলা প্রতীক না পেলে কী করবে এনসিপি?
আগামীর বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজি থাকবে না: বিএনপি নেতা
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণের ভরি
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আমি স্বস্তিতে আছি: অর্থ উপদেষ্টা
আটকের পর শহিদুল আলম কোথায় আছে, জানাল ইসরায়েল
গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহরের ‘কনশানস’ নামের একটি জাহাজে ছিলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রি ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম। সেই জাহাজ থেকে শহিদুল আলমসহ আটক করা হয়েছে অধিকারকর্মীদের। বর্তমানে আটক অবস্থায় অন্যান্য অধিকারকর্মীদের সঙ্গে ইসরায়েলে আছেন তিনি।
দখলদার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নেয়া হয়েছে শহিদুল আলমসহ গাজাগামী জাহাজবহর থেকে আটক অধিকারকর্মীদের।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।
বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার গাজা উপকূলে পৌঁছানোর আগেই আন্তর্জাতিক জলসীমাতে আটকে দেওয়া হয় ফ্লোটিলার ৮টি জাহাজ। সেইসঙ্গে দেড়শো স্বেচ্ছাসেবীকে আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। বর্তমানে তারা সবাই সুস্থ আছেন। দ্রুত তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এই নৌবহরের ‘কনশানস’ নামের একটি জাহাজে ছিলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রি ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম। বর্তমানে আটক অবস্থায় অন্যান্য অধিকারকর্মীদের সঙ্গে ইসরায়েলে আছেন তিনি।
ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) আয়োজিত ৯ জাহাজের বহরটি দুই সপ্তাহ আগে ইতালি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। একটি বড় জাহাজে প্রায় ১০০ জন এবং বাকি আটটি ছোট নৌযানে আরও ৫০ জন কর্মী ছিলেন। আয়োজকদের দাবি, অন্তত দুইজন ইসরায়েলি নাগরিকও ছিলেন এই নৌবহরে।
বুধবার ভোরে গাজা উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর বিশেষ ইউনিট শায়েতেত ১৩ এবং অন্যান্য বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে নয়টি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ‘কনশানস’ নামের ৬৮ মিটার দীর্ঘ যাত্রীবাহী জাহাজে নামার জন্য কমান্ডোরা হেলিকপ্টার থেকে রশি বেয়ে নামেন।
ফ্লোটিলা সংগঠকরা এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, জাহাজে ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয়েছে এবং আটটি নৌযানও অবৈধভাবে আটক ও ছিনতাই করা হয়েছে।
এফএফসি তখন জানায়, তাদের অভিযানে অংশ নেওয়া মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের আটক করে অজানা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, নৌবহরটি ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের ওষুধ, রেসপিরেটরি সরঞ্জাম ও পুষ্টি সহায়তা বহন করছিল, যা গাজার হাসপাতালগুলোর জন্য পাঠানো হচ্ছিল।
এদিকে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই হামলা ও ছিনতাইকে ‘সমুদ্র ডাকাতির শামিল এবং আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেয়।
তুরস্ক জানায়, নৌবহরে তুর্কি নাগরিক ও সংসদ সদস্যরাও ছিলেন। দেশটি বলেছে, গণহত্যাকারী ইসরায়েলি সরকার শান্তিপূর্ণ উদ্যোগগুলোকেও আক্রমণ করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিস্যেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, গত দুই বছরে হিটলারের চেয়েও ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এর আগের সপ্তাহে গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ৪০টিরও বেশি নৌকা আটক করে ইসরায়েল, যাতে ৪৫০ জনেরও বেশি অধিকারকর্মী ছিলেন।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জেহাদ অবিস্মরণীয় নাম: তারেক রহমান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদ একটি অবিস্মরণীয় নাম।’
তিনি আরও বলেন, নব্বইয়ে রক্তমাখা ওই আন্দোলন ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই।
বৃহস্পতিবার ‘শহীদ জেহাদ দিবস’ উপলক্ষে এক বাণীতে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।
তিনি বলেন, নব্বইয়ের গণআন্দোলনে পুলিশের বুলেট নিজের বুকে নিয়ে শাহাদাত বরণ করেন এই অকুতোভয় ছাত্রনেতা। তার রক্তস্রোতের ধারা বেয়ে সেই বছর সংঘটিত হয় গণঅভ্যুত্থান, পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘স্বৈরশাসক এরশাদ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই জেহাদ নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে না পারলে তার আত্মা কষ্ট পাবে।’
গণতন্ত্রের ধারা বহমান রাখতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে বলেও উল্লেখ করে তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন নয়; গণতন্ত্র মানে মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।’
শহীদ জেহাদের আত্মত্যাগের প্রেরণাকে ধারণ করে দেশি-বিদেশি অপশক্তির চক্রান্ত প্রতিহত, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহবান জানান তিনি।
গুম কমিশনের সাথে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস সভাপতির বৈঠক
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাথে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ) সভাপতি অ্যালিস মগউয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) গুলশানে কমিশনের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এফআইডিএইচ সভাপতিকে স্বাগত জানান এবং কমিশনের চলমান কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সার সংক্ষেপ তুলে ধরেন।
বৈঠকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্যতম উদ্বেগজনক দিক ‘গুম’ বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। এতে গুম সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত, তথ্য সংগ্রহ, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনসহ ভবিষ্যৎ কার্যক্রম বিষয়ে নানা দিক উঠে আসে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের গাজাসহ বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতিও নিয়েও আলোচনায় হয়।
এফআইডিএইচ সভাপতি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কমিশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, গুম একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং এ বিষয়ে কমিশনের ভূমিকা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে উভয় পক্ষ গুম প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কমিশনের সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং ড. নাবিলা ইদ্রিস উপস্থিত ছিলেন।


