Home Blog Page 291

আবরার ফাহাদের শাহাদত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বড় অনুপ্রেরণা’

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, আবরার ফাহাদের শাহাদত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তার আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। এই শাহাদতের মধ্য দিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিন্ন মত প্রকাশের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীরা কাজে লাগিয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী’র উদ্বোধনী পর্বে এসব কথা বলেন তিনি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

বিগত সরকারের ১৬ বছরের দুঃশাসনের সমালোচনা করে মাহফুজ আলম বলেন, ওই সময়ে আবরার ফাহাদের মতো হাজারো শিক্ষার্থী নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেকে মৃতপ্রায় অবস্থায় বেঁচে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু সদস্য নিজেই শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কারাগারে ভিন্ন মতাবলম্বী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। হলগুলো থেকে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর করে বের করে দেওয়া হতো।

তিনি বলেন, “আবরার ফাহাদের শাহাদতের গভীর তাৎপর্য রয়েছে, যা অনুধাবন করা জরুরি। শেখ হাসিনা যে ভুল করেছেন, আমরা সেই ভুল করতে চাই না। ফ্যাসিজম যে প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়, আমরা সেই পথে যেতে চাই না।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে বিভাজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই বিভাজন অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক। নাগরিকদের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

নিজেকে ‘রাষ্ট্র গড়ার পক্ষের লোক’ উল্লেখ করে মাহফুজ আলম বলেন, “ফ্যাসিবাদী সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার বিপরীতে জনগণের সামনে একটি ভালো বিকল্প উপস্থাপন করতে হবে। তা না হলে জনগণ আবার পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাবে। বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি ও বহু ঐতিহ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “২০১৯ সালে বুয়েটে ছাত্রলীগের গুণ্ডারা আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছিল। তারা ভেবেছিল, তাঁকে হত্যা করে আধিপত্যবিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে। কিন্তু ইতিহাস বলে, এমন কণ্ঠ কখনো স্তব্ধ হয় না।”

তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকে আবরার ফাহাদের হৃদস্পন্দন ধারণ করেছেন। জুলাইয়ের ন্যারেটিভ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি, পাশাপাশি বিগত সরকারের ১৬ বছরের দুঃশাসনের ন্যারেটিভও তুলে ধরতে হবে।”

সাংস্কৃতিক বৈষম্যকে ফ্যাসিবাদের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে ফারুকী বলেন, “ধর্ম ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে কাউকে আলাদা করা যাবে না। সকল জাতিগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। উদ্বোধনী পর্ব শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। সন্ধ্যায় একই স্থানে ‘চলচ্চিত্রে জুলাই’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত ও নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের নির্মাতা ও কলাকুশলীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ দপ্তর–সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুহি লোরেন গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায়

শরণার্থী ও দুস্থদের মাঝে খাদ্য-ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে মানবিক সহায়তার কাজ চালাচ্ছেন রুহি লরেন আখতার। তার সংস্থাটির পূর্ণ নাম ‘রিফিউজি বিরিয়ানি অ্যান্ড ব্যানানাস’ (আরবিবি)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ মানবাধিকারকর্মী বর্তমানে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার একজন সহযাত্রী। এই যাত্রা নিয়ে তিনি ভিডিও পোস্ট করেছেন এবং তাদের অবস্থান ও গাজা নিয়ে কথা বলেছেন।
সারা বিশ্বের মানুষের নজর এখন এই নৌবহরের দিকে। ফিলিস্তিনের গাজার মানুষের জন্য ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৪০টির মধ্যে অন্তত ২৪টি নৌযান এখনো গাজার উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবার ফ্লোটিলার লাইভ ট্র্যাকার থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ট্র্যাকার অনুসারে, এসব নৌযান এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই অগ্রসর হচ্ছে।
এসব এর মধ্যে ‘মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে। রুহি এবং তার সহযাত্রীরা ভয়কে পাশ কাটিয়ে মানবতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অটল।
রুহি আখতারের পিতার নাম কাপ্তান মিয়া। তিনি বিলাত প্রবাসী বাংলাদেশি।
রুহি যুক্তরাজ্যের মরপেথে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে এলসউইক ওয়ার্ডে বসবাস করছেন। তিনি একজন মানবিক সহায়তা কর্মী এবং অধিকারকর্মী। গাজার মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চলমান ইসরায়েলি অবরোধের প্রতিবাদ জানাতে তিনি গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, তিনি তিউনিসিয়ার গামার্থ বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেন। তার নৌকায় ১২ জন রয়েছেন। তারা তিউনিসিয়া, স্পেন, গ্রিস ও ইতালি থেকে রওনা হওয়া ৪০টিরও বেশি নৌকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। রুহি ২০২৪ সালে তার অসাধারণ বৈশ্বিক মানবিক কাজের জন্য যুক্তরাজ্যের নর্থ ইস্ট বাংলাদেশি অ্যাওয়ার্ডসে ‘বাংলাদেশি পার্সন অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে ভূষিত হন।
তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি গাজার উদ্দেশ্যে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছি, কারণ অন্যায়ের মুখে নীরব থাকা কোনো সমাধান নয়। বহুদিন ধরে ফিলিস্তিনিরা খাদ্য, পানি, জমি, মৌলিক নিরাপত্তা এবং চলাচলের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। একজন মানবিক কর্মী হিসেবে আমি দেখেছি, এক টুকরো রুটি বা সামান্য বিশুদ্ধ পানি কীভাবে সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে আশা ফিরিয়ে আনতে পারে। এই নৌবহর হলো সংহতির প্রতীক, যা মনে করিয়ে দেয় বিশ্ব তাকিয়ে আছে, এবং আমরা গাজার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকব যতদিন না তারা মুক্ত হয়। কারণ আমাদের কেউই মুক্ত নই, যতদিন না ফিলিস্তিন মুক্ত।’
রুহি ও তার সংস্থা আগে গ্রীস, গাজা এবং অন্যান্য এলাকায় বাস্তুচ্যুত ও যুদ্ধপীড়িত মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য ও সহায়তা বিতরণ করেছে। সংস্থার অনেক সদস্যই নিজে বাস্তুচ্যুত বা সংঘাত-প্ররীত এলাকার মানুষ, অর্থাৎ শরণার্থী। রুহি ন্যায়বিচারের পক্ষে দৃঢ় কণ্ঠস্বর। গাজার উদ্দেশ্যে নৌবহরে যোগ দেওয়ার আগে তিনি এবং তার সাথীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ত্রাণের প্যাকেজ প্রস্তুত করেছেন।
এদিকে ফ্লোটিলার মুখপাত্র সাইফ আবুকেশেক ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আটক হওয়া নৌযানগুলোতে অন্তত ২০১ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে শুধু স্পেন থেকেই ছিলেন ৩০ জন, ইতালির ২২ জন, তুরস্কের ২১ জন ও মালয়েশিয়ার ১২ জন। গাজা থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে অবস্থানকালে ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লোটিলায় বাধা দেয়।
তাদের অন্তত আটটি নৌযান থামানো হয়—দেইর ইয়াসিন, হিউগা, স্পেক্টার, আদারা, আলমা, সিরিয়াস, আরোরা ও গ্রান্ডি ব্লু। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১৩টি নৌযান আটকানো হয়েছে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ গাজার মানুষের জন্য সমুদ্রপথে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। বহরে প্রায় ৪৪ দেশের ৫০০ মানুষ রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামের নাগরিকসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।

সোনার দামে রেকর্ড, ভরি ছাড়াল ২ লাখ

দেশের বাজারে ফের সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ তিন হাজার ১৪৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম।
ফলে নতুন দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৭২৬ টাকা। যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ দাম। আজ প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচনের অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে গেছে, নির্বাচন হবে: মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে আগে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও অনিশ্চয়তা ছিল, এখন তা কাটিয়ে ওঠে গেছে। নির্বাচনের অনিশ্চয়তার সেই মেঘ কেটে গেছে। নির্বাচন যেন গ্রহণযোগ্য হয়, সে লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চলছে। দেশের সামনে এখন নির্বাচনের পথ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক যুব ঐক্য আয়োজিত ‘আগামী নির্বাচন গুণমানসম্পন্ন ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার, সংস্কার কমিশন ও পরে গঠিত ঐক্যবদ্ধ কমিশনকে ধৈর্য ধরে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যে তীব্র দ্বন্দ্ব ছিল, তা কিছুটা কমেছে। নেতাদের মধ্যে ধীরে ধীরে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। পারস্পরিক আস্থার ব্যবধানও কিছুটা কমেছে। এখন আর দলগুলোর মধ্যে একঘরে মনোভাব নেই।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও পিআর প্রসঙ্গটি এখন আর আলোচনার কেন্দ্রে নেই। একই দিনে গণভোট ও নির্বাচন— এতে কোনো বাধা নেই। কেবল ভোটের সংখ্যা নয়, প্রার্থীদের কর্মসূচি, দৃষ্টি ও প্রস্তাবনাই নির্বাচনের গুণমান নির্ধারণ করবে। এখন ভোটাররা শুধু ‘মার্কা’ দেখে নয়, মানুষ দেখে ভোট দেবেন।
পুলিশ প্রশাসন প্রসঙ্গে মান্না বলেন, পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের তৎপরতা ছিল না। শুরু থেকেই পুলিশকে যত্নসহকারে উদ্বুদ্ধ করা গেলে ১৩–১৪ মাসের মধ্যেই তাদের আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় হতে পারত।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উত্তপ্ত আবহ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে উসকে দেওয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠুভাবে না হয়, তবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তা বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি
হাসনাত কাইয়ুমসহ প্রমুখ।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি সভাপতি বুলবুল, সহসভাপতি ফারুক-সাখাওয়াত

পরিচালকদের ভোটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সভাপতি পদে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ।

বিসিবি সভাপতির দায়িত্বে সবশেষ মেয়াদে (এখনো) বুলবুলই আছেন। এনএসসি থেকে মনোনয়ন পেয়ে অন্তর্বতী সময়ের জন্য দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। এবার প্রথমবার বিসিবি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাবেক এই ক্রিকেটার। এখন নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি।

আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে সকাল দশটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত বিসিবি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এনএসসি কোটায় ২ জন এবং অন্য ৩টি ক্যাটাগরি থেকে ২৩ জন পরিচালক সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন।

ক্যাটাগরি-১ অর্থাৎ জেলা ও বিভাগ কোটায় নির্বাচিত হয়েছেন ১০ জন, ক্যাটাগরি-২ বা ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১২ জন। ক্যাটাগরি-৩ অর্থাৎ সাবেক ক্রিকেটার এবং বিভিন্ন সরকারি এবং স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোটা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১ জন।

নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে নির্বাচিত করা হয় বিসিবি সভাপতি। তবে পরিচালকদের মধ্য থেকে বুলবুল ছাড়া আর কেউই সভাপতি পদের জন্য আগ্রহ না দেখানোয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হয়েছেন তিনি।

ক্যাটাগরি-১ অর্থাৎ জেলা ও বিভাগ কোটা থেকে যারা পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে আহসান ইকবাল চৌধুরি ও আসিফ আকবর, খুলনা বিভাগ থেকে আব্দুর রাজ্জাক রাজ ও জুলফিকার আলি খান, ঢাকা বিভাগ থেকে নাজমুল আবেদিন ফাহিম ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বরিশাল বিভাগ থেকে সাখাওয়াত হোসেন, সিলেট বিভাগ থেকে রাহাত শামস, রাজশাহী বিভাগ থেকে মোখলেসুর রহমান ও রংপুর বিভাগ থেকে হাসানুজ্জামান।

ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ঢাকার ক্লাব কোটা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ইশতিয়াক সাদেক, শানিয়ান তানিম, মেহরাব আলম চৌধুরী, ফারুক আহমেদ, আমজাদ হোসেন, মোকসেদুল কামাল, মঞ্জুরুল আলম, আদনান রহমান দিপন, আবুল বাশার শিপলু , ইফতেখার রহমান মিঠু, ফয়জুর রহমান ও নাজমুল ইসলাম।

ক্যাটাগরি-৩ অর্থাৎ সাবেক ক্রিকেটার এবং বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোটা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন খালেদ মাসুদ পাইলট।

এনএসসি কোটায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন এম ইসফাক আহসান ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক।

ইনশাআল্লাহ দ্রুতই দেশে ফিরে আসব : তারেক রহমান

দীর্ঘ দুই দশক পর গণমাধ্যমে মুখোমুখি হয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশে ফেরাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির ও বিবিসি বাংলার সিনিয়র সাংবাদিক কাদির কল্লোলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান দ্রতই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।

কেন আপনি এখনো দেশে ফেরেননি– সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিছু সংগত কারণে হয়তো ফেরাটা হয়ে উঠেনি এখনো। তবে সময় তো চলে এসেছে মনে হয়। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই ফিরে আসব।’

সেটা কবে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘দ্রুতই মনে হয়। দ্রুতই ইনশাআল্লাহ।’

নির্বাচনের আগে আপনি দেশে আসবেন এমন সম্ভাবনা বলা যায়? জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘রাজনীতি যখন করি, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে স্বাভাবিক, নির্বাচনের সাথে রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক কর্মীর একটি ওতপ্রোত সম্পর্ক। কাজেই যেখানে একটি প্রত্যাশিত, জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনের সময় কেমন করে দূরে থাকব? আমি তো আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, ইচ্ছা থাকবে, আগ্রহ থাকবে সেই প্রত্যাশিত যে প্রত্যাশিত নির্বাচন জনগণ চাইছে। সেই প্রত্যাশিত নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হবে জনগণের সাথে জনগণের মাঝেই থাকব ইনশাআল্লাহ।’

দেশে আসার বিষয়ে নিরাপত্তার শঙ্কার কথা বলছেন কেউ কেউ। আপনি কি কোনো ধরনের শঙ্কা বোধ করেছেন এর মধ্যে– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রকম শঙ্কার কথা তো আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তো শুনেছি। সরকারেরও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও তো অনেক সময় অনেক শঙ্কার কথা বিভিন্ন মাধ্যমে, বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’

সাক্ষাৎকারের শুরুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘সময় তো স্বাভাবিকভাবে ব্যস্তই যাচ্ছে। ফিজিক্যালি হয়তো আমি এই দেশে আছি, বাট মন-মানসিকতা সবকিছু মিলিয়ে তো আমি গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশেই রয়ে গিয়েছি।’

গণমাধ্যমের সঙ্গে দীর্ঘদিন কথা না বলার বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যাপারটা বোধ হয় এরকম না, ব্যাপারটা বোধ হয় একটু ভিন্ন। আসলে আমি কথা ঠিকই বলেছি। আমি দীর্ঘ ১৭ বছর এখানে আছি এই দেশে, প্রবাস জীবনে, তবে আমার উপরে যখন দলের দায়িত্ব এসে পড়েছে তারপর থেকে আমি গ্রামে-গঞ্জে আমার নেতাকর্মীসহ তাদের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষ যখন যেভাবে অংশগ্রহণ করেছে, আমি সকলের সাথে কথা বলেছি।’

‘আপনারা নিশ্চয়ই জানেন বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় কোর্ট থেকে রীতিমতো একটা আদেশ দিয়ে আমার কথা বলার অধিকারকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমি যদি গণমাধ্যমে কিছু বলতে চাইতাম, হয়তো গণমাধ্যমের ইচ্ছা ছিল ছাপানোর, গণমাধ্যম সেটি ছাপাতে পারত না।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি একবার প্রেস ক্লাবে কথা বলেছিলাম। পরের দিন দেখলাম যে তখনকার প্রেস ক্লাবের যারা সদস্য ছিলেন বা কমিটি ছিল, তারা একটি মিটিং ডেকে একটি সভা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা তখন আমাকে আইনের দৃষ্টিতে ফেরারি বলা হয়েছিল যে, সেরকম কোনো ব্যক্তিকে তারা প্রেস ক্লাবে কথা বলতে দেবে না। এভাবে তারা চেষ্টা করেছিল আমার কথা বন্ধ করে রাখতে।’

তিনি বলেন, ‘আমি কথা বলেছি, সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন পন্থায় আমি পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি, আমি ইনশাআল্লাহ পৌঁছেছি মানুষের কাছে। কাজেই গণমাধ্যমে যে কথা বলিনি তা না। আমি কথা বলেছি হয়তো আপনারা তখন কথা নিতে পারেননি অথবা শুনতে পারেননি। ইচ্ছা থাকলেও ছাপাতে পারেননি, হয়তো প্রচার করতে পারেননি। কিন্তু আমি বলেছি, আমি থেমে থাকিনি।’

চিকিৎসায় নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

চিকিৎসাবিদ্যায় অনবদ্য অবদান রাখায় চলতি বছর যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের তিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় সুইডেনের স্টকহোম থেকে ২০২৫ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট।

চিকিৎসায় এ বছরের নোবেল বিজয়ীরা হলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক মেরি ই. ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের শিমন সাকাগুচি। পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স নিয়ে গবেষণার জন্য চলতি বছর তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট বলেছে, মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমের কাজ হলো শরীরকে জীবাণু ও ভাইরাসের মতো বাইরের হুমকি থেকে রক্ষা করা। তবে কখনও কখনও এই ব্যবস্থা ভুলবশত শরীরের নিজস্ব টিস্যুকেই আক্রমণ করে বসে; যার ফলে দেখা দেয় অটোইমিউন রোগ।

দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মানবদেহের ‘সেন্ট্রাল টলারেন্স’ বা কেন্দ্রীয় সহনশীলতার ধারণার ওপর গবেষণা করে আসছিলেন। এতে টি-সেল নামের এক ধরনের প্রতিরোধক কোষ থাইমাসে গঠিত হওয়ার সময়ই শরীরের নিজস্ব উপাদানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালেও পরে তা ধ্বংস হয়ে যায়।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ওলে কাম্পে বলেছেন, মানবদেহের সব সেলফ-রিঅ্যাক্টিভ টি-সেল থাইমাসে ধ্বংস হয় না; কিছু কোষ রক্তে থেকে যায়। এই কোষগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শরীরের বাইরে (থাইমাসের বাইরের অংশে) আরও একটি প্রক্রিয়া কাজ করে; সেটিকে পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স বলা হয়।

চলতি বছরের নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানী এই প্রক্রিয়ার মূল রহস্য উদঘাটন করেছেন। গবেষণায় তারা দেখেছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখে বিশেষ এক ধরনের কোষ; যাকে রেগুলেটরি টি-সেল (Treg) বলা হয়। এসব কোষের বিকাশ ও কার্যক্রম নির্ভর করে ফক্সপিথ্রি (FOXP3) নামের একটি জিনের ওপর।

শিমন সাকাগুচি ১৯৯০-এর দশকে প্রথম প্রমাণ করেন, মানবদেহে এমন একটি রেগুলেটরি টি-সেল আছে, যা শরীরের নিজস্ব টিস্যুর বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় আক্রমণ রোধ করে। পরে মেরি ই. ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড র‍্যামসডেল ইঁদুর ও মানুষের শরীরে ফক্সপিথ্রি (FOXP3) জিনের ত্রুটি শনাক্ত করেন; যা এই টি-সেলের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।

গবেষণায় তারা দেখান, ফক্সপিথ্রি (FOXP3) জিনই এসব কোষের বিকাশের মূল নিয়ন্ত্রক এবং এটি পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্সের ভিত্তি তৈরি করে। এই আবিষ্কারের ফলে এখন বিজ্ঞানীরা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, কীভাবে মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, কেন এই প্রক্রিয়া ভেঙে গেলে অটোইমিউন রোগ দেখা দেয় এবং কীভাবে ক্যানসার কোষ কখনও কখনও এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ইমিউন সিস্টেমের আক্রমণ থেকে বেঁচে যায়।

চিকিৎসাশাস্ত্রের এই নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীরা ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে একটি মেডেল, সনদপত্র এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা পাবেন।

এর আগে, গত বছর চিকিৎসাশাস্ত্রে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের দুই চিকিৎসাবিজ্ঞানী ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রাভকুনকে। মাইক্রো আরএনএ আবিষ্কার এবং পোস্ট ট্রান্সক্রিপশন জিন নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখায় তাদের ওই পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রতিবছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণা করে সুইডেনের স্টোকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট। আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় পদার্থবিজ্ঞানের নোবেলবিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স।

১৯০১ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল। এ পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নাম অনুসারে। ঊনবিংশ শতকের এই বিজ্ঞানী শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কার করে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছিলেন।

তিনি উইল করে গিয়েছিলেন যে তার যাবতীয় অর্থ থেকে যেন প্রতি বছর পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্য—এই ৫টি খাতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারের নামকরণ হবে তার নামে। ১৯৬৯ সাল থেকে এই ৫ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনীতিও।

ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত : চট্টগ্রামে পরিদর্শন করবেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ প্রকল্প

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করতে পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন।

রোববার (৫ অক্টোবর) ব্যারোনেস উইন্টারটনের ঢাকায় পৌঁছানোর তথ‌্য জানিয়েছে ব্রিটিশ হাইকমিশন।

ব্রিটিশ হাইকমিশন জানায়, সফরকালে ব্যারোনেস উইন্টারটনের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংস্কার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিরা। এসব বৈঠকে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশন আরও জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থানকালে বাণিজ্য দূত বিমান চলাচল, উচ্চশিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

চট্টগ্রামে তিনি যুক্তরাজ্য সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন, যেখানে এসব বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ এবং উভয় দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আনছে।

এ সফরে যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের গুরুত্বও তুলে ধরা হবে। এই বাণিজ্য সুবিধা কর্মসূচির আওতায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যা এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।

এ ছাড়া, তিনি ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট, যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ও তাদের স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে সবুজ অর্থায়ন ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা গুরুত্ব পাবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশন বলছে, বাণিজ্য দূতের এই সফরের লক্ষ্য বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে সহায়তা করা এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করা।

এ সফর নিয়ে ব্যারোনেস উইন্টারটন বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি গতিশীল ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বিদ্যমান। বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়ন যাত্রাকে সহায়তা করার এবং দুই দেশের জন্য উপকারী নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুযোগ অন্বেষণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করতেই আমি এখানে এসেছি।

তি‌নি বলেন, আমি যুক্তরাজ্য-সমর্থিত বিনিয়োগগুলো সরাসরি দেখতে উদগ্রীব, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, সরবরাহ শৃঙ্খলকে মজবুত করছে এবং উভয় দেশের অর্থনীতিতে বাস্তব মূল্য যোগ করছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সফরটি যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ বাণিজ্য অংশীদারত্ব দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং আমরা পারস্পরিক সমৃদ্ধির জন্য এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী।

চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হচ্ছেন ৬ জন

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নির্বাচনে ছয় পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। রোববার (৫ অক্টোবর) নির্বাচন বোর্ড থেকে প্রকাশিত বৈধ প্রার্থীর তালিকায় এই তথ্য জানা গেছে।

তালিকা অনুযায়ী, ট্রেড গ্রুপ থেকে মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, মোহাম্মদ আমিরুল হক ও এস এম সাইফুল আলম এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে আবসার হাসান চৌধুরী, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ও মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে বাকি ১৮ পরিচালক পদে ৫৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে অর্ডিনারি গ্রুপের ১২ পদে ৪১ জন এবং অ্যাসোসিয়েট মেম্বার গ্রুপের ৬ পদে ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তালিকা অনুযায়ী অর্ডিনারি গ্রুপের বৈধ প্রার্থীরা হলেন— এএসএম ইসমাইল খান, এটিএম রেজাউল করিম, আবু হায়দার চৌধুরী, আহমেদ রশিদ আমু, আহমেদ-উল আলম চৌধুরী (রাসেল), মো. সালামত আলী, আমানুল্লাহ আল-সগীর, আসাদ ইফতেখার, এমাদ এরশাদ, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জাভেদ সিদ্দিকী, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, কাজী ইমরান এফ রহমান, মাসুদ আহমেদ, মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মো. আবদুল কাদের, মো. আবসার হোসাইন, মো. আবু হেননা ফারুকী, মো. আরিফ হোসাইন, মো. আশিক ইবনে সাফা, মো. দেলোয়ার হোসাইন, মো. গোলাম সরওয়ার, মো. হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী, মো. জামাল উদ্দিন, মো. নাজমুল হুদা, মো. শওকত আলী, মো. ওয়াহিদ মুরাদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আজিজুল হক, মোহাম্মদ রাশেদ আলী, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ মুসা, মোহাম্মদ শফিউল আলম, রাকিবুল আলম চৌধুরী, রিয়াজ ওয়েজ, সালাউদ্দিন আহমেদ, সরতাজ মোহাম্মদ ইমরান, শহিদুল আলম, শাহজাদা মোহাম্মদ ফওজুল আলিফ খান ও তাওসিফ আহমেদ।

অ্যাসোসিয়েট সদস্য গ্রুপের প্রার্থীরা হলেন— মো. কামরুল হুদা, মো. নেজাম উদ্দিন, মো. পারভেজ ইকবাল শরীফ, মো. সেলিম নূর, মো. শওকত আলী, মোহাম্মদ মশিহুল আলম, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ আইয়ুব, মো. নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, এসএম কামাল উদ্দিন, এসএম নুরুল হক, সরওয়ার আলম খান, সৈয়দ খুরশিদ আলম ও সৈয়দ মোস্তফা কামাল পাশা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত নির্বাচন বোর্ড গত ১১ আগস্ট ২০২৫–২৬ এবং ২০২৬–২৭ মেয়াদের পরিচালকমণ্ডলীর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ১ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চেম্বারের ২৪ পরিচালক পদে ভোট গ্রহণ হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রাথমিক বাছাইয়ে ৩৫টি মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে অনেকে প্রার্থিতা ফিরে পান।

চেম্বারের সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ সদস্য ৪ হাজার ১ জন, সহযোগী সদস্য ২ হাজার ৭৬৪ জন, টাউন অ্যাসোসিয়েশন সদস্য ৫ জন এবং ট্রেড গ্রুপের সদস্য ১০ জন।

বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হানিফের, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

জুলাই-আগস্টে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আগামী ১৪ অক্টোবর হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। বাকি দুই সদস্য হলেন— অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, মঈনুল করিম, সহিদুল ইসলাম।

শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একইসঙ্গে ১৪ অক্টোবর হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গ রোববার হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউশন। এতে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা। পরে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

তিন আসামি হলেন— কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। তবে চারজনই পলাতক রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ছয়জন। একইসঙ্গে আহত হন বেশ কয়েকজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসানুল হক ইনু ও মাহবুবউল আলম হানিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। পরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।