Home Blog Page 296

আমাজনের পার্সেল কমায় ৪৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই ইউপিএসের

০

যুক্তরাষ্ট্রের শিপিং জায়ান্ট ইউনাইটেড পার্সেল সার্ভিস (ইউপিএস) ঘোষণা করেছে, তারা কমপক্ষে ৪৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে। এটি কোম্পানির বড় পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ এবং আমাজনের পার্সেল ডেলিভারি কমানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইউপিএসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ব্রায়ান ডাইকস জানান, কোম্পানির ড্রাইভার কর্মীর সংখ্যা গত এক বছরে প্রায় ৩৪ হাজার কমানো হয়েছে। যার এক-তৃতীয়াংশই গত সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। সেসময় ‘স্বেচ্ছা অবসর কর্মসূচি’র আওতায় এটি করা হয়।

ইউপিএস আরও জানায়, তারা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আরও ১৪ হাজার পদ বাতিল করেছে। এর লক্ষ্য ‘আরও কার্যকর অপারেটিং মডেল’ তৈরি, যা বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারবে।

২০২৪ সালের শেষে বিশ্বব্যাপী ইউপিএসের মোট কর্মী ছিল ৪ লাখ ৯০ হাজার।

গত জানুয়ারিতে কোম্পানিটি জানায়, তারা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ আমাজনের পার্সেল পরিবহন অর্ধেকের বেশি কমিয়ে আনবে।

ইউপিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যারল টোমে বলেছেন, এ পদক্ষেপ কোম্পানির অলাভজনক কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করতে সাহায্য করবে।

তিনি আরও জানান, আমাজনের চুক্তি কমার কারণে ইউপিএস যুক্তরাষ্ট্রে আরও ১৯টি ভবনের কার্যক্রম বন্ধ করেছে। এ নিয়ে এ বছরই মোট ৯৩টি ভবন বন্ধ করা হলো।

তবে, ৩৫টি স্থাপনায় নতুন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি (অটোমেশন) চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপিএস কর্মকর্তারা।

কোম্পানিটি চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ১ দশমিক ৩ লাখ বিলিয়ন ডলার লাভ করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ কম। রাজস্বও ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২১ দশমিক ৪শ’ কোটি বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

তবে এ ঘোষণা পর ইউপিএসের শেয়ারমূল্য ৮ শতাংশ বেড়েছে।

নতুন বাংলাদেশে লাগবে শিক্ষা, বড় বড় ব্রিজ-দালান নয়: আমীর খসরু

০

বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমাদের পেছনে তাকানোর সময় নেই, সামনের দিকে এগোতে হবে। নতুন বাংলাদেশে লাগবে শিক্ষা, বড় বড় ব্রিজ-দালান নয়। সুশিক্ষিত জাতি থাকলে দাঁড়াতে পারবে দেশ।’

বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে রাবেয়া বসরি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হবে শিক্ষা খাতে। আগামীর নতুন বাংলাদেশ হবে শিক্ষানির্ভর, শিক্ষিত না হলে জাতি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে না। আগামীর বাংলাদেশের যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তার জন্য বেশি জোর দিতে হবে শিক্ষায়।’

নারী ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশ এগিয়ে যেতে পারে না উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘নারীদের সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে হবে।

মেয়েদের শিক্ষা বেশি প্রয়োজন। মেয়ে দর শিক্ষার ব্যাপারে বেশি জোর দিতে হবে, যাতে স্বামীর মুখাপেক্ষী হতে না হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বে প্রযুক্তিতে যে পরিবর্তন আসছে সেই প্রযুক্তির সঙ্গে আমাদের মেয়েরা যদি সংযুক্তি হতে না পারে, তাহলে তারা পিছিয়ে পড়বে, পড়ালেখা করেও কোনো লাভ হবে না। মেয়েদের কম্পিউটার শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

সর্বক্ষেত্রে আমরা মেয়েদের দেখতে চাই। চাকরিতে দেখতে চাই, ক্রীড়াঙ্গনে দেখতে চাই, রাজনীতিতে দেখতে চাই।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীশিক্ষার জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। আগামীতেও নারীশিক্ষার অগ্রগতি নিয়ে তারেক রহমান নানা পদক্ষেপ নেবেন।’

আমীর খসরু আরো বলেন, ‘খেলাধুলা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, এগুলোও শিক্ষার অংশ।

এগুলো একসঙ্গে চালাতে হবে। বিগত দিনে আমরা অনেক স্কুলে দালান করে দিয়েছি, ভবিষ্যতে আমরা এ ব্যাপারে আরো বেশি খেয়াল রাখব, ইনশাআল্লাহ।’

বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি মো. শফিউল্লাহ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুর রহমান স্বপন, মঞ্জুর আলম, সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাসেম, সাবেক কাউন্সিলর জেসমিন খানম, প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য দ্বন্দ্ব মেটাতে বৈঠক করেন ট্রাম্প-শি

২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। দক্ষিণ কোরিয়ার গিওংজুতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার এই বৈঠক হবে। বুধবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যদিও ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়েই সম্পর্কের উত্তাপ কমানোর চেষ্টা করছে, তবু বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই পরাশক্তির বিরোধপূর্ণ নানা ইস্যুর সমাধান এখনই সম্ভব নয়।

এই বৈঠককে ঘিরে আগেই আলোচনায় এসেছে সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া। এতে বলা হয়েছে, চীন বিরল খনিজ উপাদানের ওপর কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ স্থগিত করতে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্কারোপের হুমকি থেকে সরে আসতে পারে। একই সঙ্গে দুদেশ সয়াবিন বাণিজ্য, ফেন্টানাইল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও টিকটক-সংক্রান্ত ইস্যুতেও সহযোগিতার সম্ভাবনা খুঁজছে।

তবে বাণিজ্য যুদ্ধের বড় অংশ এখনো অক্ষুণ্ণ থাকবে। বর্তমানে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্ক ৫৫ শতাংশেরও বেশি, আর মার্কিন পণ্যের ওপর চীনের শুল্ক প্রায় ৩২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র শত শত চীনা কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে এবং উন্নতমানের এআই চিপ ও সরঞ্জাম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও বেশ কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে ‘অবিশ্বস্ত সত্তা’ তালিকায় যুক্ত করেছে।

বাণিজ্যিক উত্তেজনার কারণে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রবাহও দ্রুত কমছে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি কমেছে ২৭ শতাংশ, আর মার্কিন পণ্যের আমদানি ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।

রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়াং ওয়েন বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাঠামোগত দ্বন্দ্ব এখনো অমীমাংসিত। ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে সাংহাইয়ের হুটং রিসার্চের বিশ্লেষক শান গুও মনে করেন, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে উত্তেজনা এড়ানো, কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেনিস ওয়াইল্ডার আশা প্রকাশ করেছেন, এই আলোচনায় কৌশলগত ইতিবাচক ফলাফল আসতে পারে, তবে বাণিজ্য যুদ্ধ এখানেই শেষ হবে না।

ট্রাম্প যেখানে চীনকে আমেরিকার অর্থনীতি ‘ধ্বংসের’ দায়ে অভিযুক্ত করেন। অপরদিকে শি চিন পিং সেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে চলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুদেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। তবে উভয়পক্ষই বুঝতে পারছে, লড়াই নয়, কথোপকথনই এখন একমাত্র পথ।

গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা, শতাধিক নিহত

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজায় হামলা চালিয়ে শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে গাজার সিভিল ডিফেন্স মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজার কেন্দ্র, উত্তারাঞ্চল ও রাফার দক্ষিণ অংশে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাসাল বলেছেন, ১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দখলদার বাহিনী গাজার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রোমহর্ষক গণহত্যামূলক হামলা চালিয়েছে। তারা শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে ৩৫ শিশু এবং বেশ কয়েকজন নারী ও বৃদ্ধ রয়েছেন। তাদের মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো রেকর্ড করা হচ্ছে।
যেসব হাসপাতালে নিহত ও আহতদের নেওয়া হয়েছে, এ রকম পাঁচটি হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি এই সংখ্যা নিশ্চিত হয়েছে।
ইসরায়েল গাজা সিটি, খান ইউনিস ও মধ্যাঞ্চলীয় শরণার্থী শিবির,ঘরবাড়ি, তাঁবু ও হাসপাতালে বিমান হামলা চালিয়েছে। চিকিৎসাকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় আছেন। কেউ কেউ আবার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন। ১২ ঘণ্টা বোমা হামলা চালানোর পরও ইসরায়েল দাবি করছে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে দ্রুতই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সাথে তারা ত্রাণ সরবরাহের জন্য মানবিক করিডোর চালু করার আহ্বানও জানিয়েছে। মেডিকেল দল পাঠানোর পাশাপাশি গাজা পুনর্গঠনে কাজ শুরু করার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণ রাফাহ এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় এক ইসরায়েলি সেনা আহত হওয়ার পর জোরালো হামলা চালানোর নির্দেশ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এসব হামলাকে এই উপত্যকায় সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেড ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভাঙার অভিযোগ এনে বলেছে, নিখোঁজ এক ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করার পরিকল্পনা তারা আপাতত স্থগিত রাখবে।
এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি সতর্ক করে আরও বলেছে, ইসরায়েলের নতুন হামলা জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারে শুরু করা তল্লাশি ও খনন কার্যক্রম ব্যাহত করবে। এ কারণে গাজায় থাকা আরও ১৩ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারে বিলম্ব হবে।
ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল হিলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, উভয় পক্ষের লঙ্ঘনের অভিযোগ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে।
‘ছোটখাটো সংঘর্ষ হতেই পারে,’ সাংবাদিকদের বলেন জেডি ভ্যান্স। ‘আমরা জানি, হামাস বা গাজার ভেতরে অন্য কেউ একজন ইসরায়েলি সেনাকে আক্রমণ করেছে। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া আশা করাই যায়। তবু প্রেসিডেন্টের (ডোনাল্ড ট্রাম্প) শান্তিচুক্তি টিকে থাকবে বলে আমি মনে করি।’
হামাস অবশ্য রাফাহর ওই হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।
গাজার চিকিৎসা সূত্রগুলো সাংবাদিকদের জানায়, গত মঙ্গলবারের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তর গাজা সিটির সাবরা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের চারজন ও দক্ষিণের খান ইউনিসের পাঁচজন ছিলেন।
আল–জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ গাজা সিটি থেকে জানান, আল–শিফা হাসপাতালের পেছনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে। গাজার আকাশজুড়ে ইসরায়েলি ড্রোনের তৎপরতা ছিল ব্যাপক।
হানি মাহমুদ আরও বলেন, ‘ওই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বড় বিস্ফোরণ হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আমরা এখান থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে ছিলাম। তবু শব্দ শোনা যাচ্ছিল। হামলায় হাসপাতালের রোগী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।’
আর হামলার পর পার্শ্ববর্তী সাবরা এলাকায় ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ফিলিস্তিনিদের উদ্ধারে সারা রাত চলেছে তল্লাশি ও খোঁড়াখুঁড়ি। উদ্ধারকর্মীরা খালি হাতে ধ্বংসাবশেষ সরানোর চেষ্টা করেন।
চিকিৎসকেরা জানান, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা সিভিল ডিফেন্সের কর্মী ইব্রাহিম আবু রিশ বলেন, ‘এটি যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা হতাহত কয়েকজনকে পেয়েছি। যতজনকে সম্ভব উদ্ধার করার জন্য আমরা হাসপাতাল ভবন তল্লাশি করছি।’
হামলার আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়, সেনাবাহিনীকে গাজায় ‘শক্তিশালী হামলা চালানোর’ নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি এ দপ্তর।
তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ পরে এক বিবৃতিতে বলেন, হামাস রাফাহয় সেনাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ী এবং এর ‘চড়া মাশুল’ দিতে হবে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, ইসরায়েল হামলার আগে ওয়াশিংটনকে এ বিষয়ে জানিয়েছিল।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ উপত্যকায় অন্তত ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ত্রাণ সহায়তাও কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।
হামাস অবিলম্বে ইসরায়েলের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে তারা বলেছে, গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে শারম আল–শেখে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রকাশ্য লঙ্ঘন।’
হামাস আরও জানায়, তারা চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে এবং ইসরায়েলের মিথ্যা অভিযোগ বন্ধ করা উচিত।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য সুহাইল আল–হিন্দি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। ইসরায়েলকে বুঝতে হবে। তারা আমাদের অসত্যভাবে অভিযুক্ত করা বন্ধ করুক।’ জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারে তাদের সংগঠন বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে বলেও জানান তিনি।
সুহাইল বলেন, ‘আমরা যতটা সম্ভব চেষ্টা করছি, জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য। অবশিষ্ট জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারে যে দেরি হচ্ছে, তার পুরো দায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর।’
গত মঙ্গলবার কাসাম ব্রিগেড জানায়, তারা দুই ইসরায়েলি জিম্মি- আমিরাম কুপার ও সাহার বারুচের মরদেহ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে তারা এদিন মরদেহ হস্তান্তরের পূর্বনির্ধারিত প্রক্রিয়া স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

ঐকমত্য কমিশন জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে: মির্জা ফখরুল

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাদ দিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অবিলম্বে ওই সুপারিশ সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদের ‘বিচার সংস্কার নির্বাচন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ কথাগুলো বলেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, এত বড় একটা অভ্যুত্থান, এত ত্যাগের বিনিময়ে, এত প্রাণের বিনিময়ে সেটাকে ঠিকভাবে জাতির কল্যাণে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, যতই দিন যাচ্ছে, ততই বিভক্ত বাড়ছে। বিভক্ত হয়ে পড়াটা, এটা কারা করছেন, কেন করছেন, এটাও উপলব্ধি করতে হবে। মিডিয়াতে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে কতগুলো পক্ষ নিয়ে একেবারে নেমে যাওয়া হয়। প্রতিপক্ষকে একেবারে পুরোপুরি ঘায়েল করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গত মঙ্গলবার সুপারিশ জমা দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, যে বিষয়গুলোতে তারা একমত ছিলেন না, সেখানে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন। সেই নোট অব ডিসেন্ট সুপারিশে লিপিবদ্ধ করার একটা প্রতিশ্রুতি ছিল কমিশনের। কিন্তু অবাক হয়ে তারা লক্ষ্য করলেন, সুপারিশে সেই বিষয়গুলো নেই। নোট অব ডিসেন্টগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। ইগনোর করা হয়েছে। এটা তো ঐক্য হতে পারে না। তাহলে ঐকমত্য কমিশনটা করা হয়েছিল কেন?
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এটা আমি বলব, জনগণের সঙ্গে এটা একটা প্রতারণা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এটা প্রতারণা।’
এ মুহূর্তে, এই অন্তর্বর্তীকালের সময়টা ঐক্যের সময় বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এখানে ন্যূনতম বিষয়গুলোয় একমত হয়ে একটা রাস্তা ধরা, একটা ট্র্যাক ধরা- সেই জায়গাটাকে বিভক্ত করে ফেলা হচ্ছে। কারা করছেন, কেন করছেন, এটা নিশ্চয়ই সবাই উপলব্ধি করতে পারছেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, একটি কথা তারা খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চান, যা তারা এর আগেও বলেছেন। তারা মনে করেন, সব সংকটের মূলে যে বিষয়টা আছে, তা হলো, সত্যিকার একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের যে পার্লামেন্ট তৈরি হবে, সেই পার্লামেন্টে এই সব সমস্যাকে সংবিধানের মধ্যে নিয়ে আসবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। সেভাবে দেশ চলবে। তারা সে কারণেই ৫ আগস্টের বিপ্লবের পরেই নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। তখন অনেকে বলেছিল, তারা ক্ষমতা চান, সে জন্য অতি দ্রুত নির্বাচন চাচ্ছেন। আজ প্রমাণিত হচ্ছে, এই নির্বাচনটা যত দেরি হচ্ছে, তত বেশি সেই শক্তিগুলো শক্তিশালী হচ্ছে, ফ্যাসিস্ট শক্তিশালী হচ্ছে। যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল দেখতে চায়, এখানে একটা অরাজকতা তৈরি করতে চায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দৃষ্টি আকর্ষণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি কিন্তু এইবার জনগণের সামনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ওয়াদাবদ্ধ। আপনি এখানে সত্যিকার অর্থেই যেটুকু সংস্কার দরকার, সেই সংস্কারগুলো করে আপনি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন দেবেন। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে পার্লামেন্ট আসবে, সেই পার্লামেন্ট এই দেশের সংকটগুলো সমাধান করবে। সুতরাং আজকে যদি এর থেকে কোনো ব্যত্যয় ঘটে, এর থেকে বাইরে যদি যান, তার দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনাকেই বহন করতে হবে। এ কথাটা আমি খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই।’
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘হঠাৎ করে তারা সুপারিশে দেখলেন, নোট অব ডিসেন্টের উল্লেখ নেই। এটা তো কোনো ঐকমত্য হয়নি। এ প্রশ্নের ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই কমিশন দেবে। তারা জুলাই সনদ সই করেছেন। সনদে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) লেখা আছে। এটা দলগুলো নিজ নিজ ইশতেহারে দেবে। যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, ম্যান্ডেট পাবে, সেই দল নিজস্ব প্রস্তাব অনুযায়ী আপত্তির অংশগুলোর মীমাংসা করবে।’
জুলাই সনদের আদেশ জারি প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘অনেকে দাবি তুলছেন যে আদেশ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা আদেশ দেবেন কোনো ক্ষমতাবলে? সরকার আদেশ দেয়, সেটা রাষ্ট্রপতির নামে যায়, এটা যেকোনো রাষ্ট্রের নিয়ম। রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রতীক। যদি প্রধান উপদেষ্টা নিজে এটা জারি করেন, তার মানে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করছেন এবং কার্যত সংবিধানকে স্থগিত করছেন।’
জোনায়েদ সাকি সতর্ক করে বলেন, ‘ঐকমত্য ছাড়া কেউ কারও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তা কার্যকর হবে না। এটা সবার উপলব্ধি করা দরকার।’
প্রকাশনা উৎসবে আরও বক্তব্য দেন চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, লেখক ও সাংবাদিক শাহ্‌নাজ মুন্নী।

ইডিসিএলের এমডি সামাদ মৃধার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা।

সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আঃ সামাদ মৃধার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এ দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এক নারী ইডিসিএলের এমডির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন ও চাকরির আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি অমান্য করেন।

মামলাটি গত ১৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮, ঢাকায় দায়ের করা হয়। মামলার নং ১০২/২০২৫।
অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার সময়কাল ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটি জানাতে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর পদক্ষেপ পাননি।
এ বিষয়ে ইডিসিএলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এমডির ব্যাক্তিগত নাম্বারে  কয়েকবার কল করলে ও রিসিভ করেননি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তারা মন্তব্য করতে রাজি নন।
তবে অভিযোগটি যাচাই করে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

‘স্ত্রী নয়, নিজেকে জাহিরের বান্ধবী ভাবি’

০

২০১০ সালে ‘দাবাং’ ছবি দিয়ে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন সোনাক্ষী সিনহা। সালমান খানের বিপরীতে ‘রাজ্জো’ চরিত্রে আত্মপ্রকাশেই জয় করে নেন তরুণ দর্শকের হৃদয়। এরপর ‘আকিরা’, ‘নুর’, ‘ডাবল এক্সএল, ‘লুটেরা, ‘দহাড়’, ‘হীরামান্ডি’র মতো বৈচিত্র্যময় সিনেমায় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন শত্রুঘ্ন সিনহার কন্যা। এবার তার নতুন অভিযান ‘জটাধারা’—এ ছবির মাধ্যমে প্রথমবার তাকে তেলেগু ছবিতে দেখা যাবে।

১৫ বছরের অভিনয়জীবন পেরিয়ে দক্ষিণের ছবিতে আত্মপ্রকাশ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত সোনাক্ষী। ভেঙ্কট কল্যাণ ও অভিষেক জয়সোয়াল পরিচালিত জটাধারাকে তার জীবনের ‘বিশেষ অধ্যায়’ বলে মনে করছেন তিনি। ডেকান ক্রনিকল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘১৫ বছর পর নতুন করে আত্মপ্রকাশ করছি, তা–ও তেলেগু ছবিতে, আমার কাছে এটা বিশেষ অনুভূতি। ‘দাবাং’ মুক্তির সময় যেমন উত্তেজনা আর টান অনুভব করেছিলাম, এখন ঠিক তেমনই লাগছে। ‘জটাধারা’ যেন আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে সেই প্রথম দিনের অনুভূতিতে। নিজেকে আবার নবাগত মনে হচ্ছে।’

‘স্ত্রী’ নয়, এখনো ‘বান্ধবী’

২০২৪ সালের ২৩ জুন প্রেমিক জাহির ইকবালকে বিয়ে করেন সোনাক্ষী। বিয়ের পরের জীবনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিয়ে আমার জীবন খুব একটা বদলায়নি। এখনো নিজেকে জাহিরের বান্ধবী বলেই ভাবি, স্ত্রী নয়; আর সেটা দারুণ লাগে। একটাই পার্থক্য, মা–বাবার বাসার বদলে এখন ওর সঙ্গে থাকি। বিয়ের আগে যেমন কাজ করতাম, এখনো তেমনই করছি। বরং জীবন আরও সুন্দর হয়ে উঠেছে। এমন একজন সঙ্গী পেয়েছি, যার সঙ্গে জীবনের খুঁটিনাটি ভাগ করতে পারি। জাহির আমার সবচেয়ে বড় সমর্থন আর শক্তি। ছোট ছোট বিষয়েও ওর পরামর্শ নিই, যদিও কখনো কখনো মনে হয়, একটু স্বাধীনচেতা হওয়াও দরকার।’

এমন চরিত্রে প্রথমবার

‘জটাধারা’-তে সোনাক্ষীকে এক ব্যতিক্রমী চরিত্রে দেখা যাবে। পুরাণ, আধিভৌতিক আর থ্রিলারের মিশ্রণে নির্মিত ছবিটিতে তিনি অভিনয় করছেন ‘ধন পিশাচিনী’ চরিত্রে। এই ভূমিকাকে জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। ‘এমন চরিত্রে আগে কখনো কাজ করিনি,’ বলেন সোনাক্ষী। ‘নির্মাতারা আমাকে এই চরিত্রে ভেবেছেন, এটা আমার জন্য গর্বের। জানতাম, আমার মধ্যে এমন শক্তিশালী, ভয়ংকর চরিত্রে অভিনয়ের সামর্থ্য আছে। আশা করি, এবার দর্শকদের সত্যিই ভয় দেখাতে পারব।’

মাত্র ১৫ দিনের প্রস্তুতি

চরিত্রে ঢোকার জন্য হাতে সময় ছিল মাত্র ১৫ দিন। সেটাই তার কাছে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ‘তবে আমি এমন অভিনেত্রী, যত কম সময় পাই, তত মনোযোগী হই। সেটে পা রাখার পরই চরিত্রটা যেন নিজের ভেতর ঢুকে যেত। ভেঙ্কট স্যার আমাকে খুব সহজভাবে সব ব্যাখ্যা করেছেন, তাই অন্য ভাষার ছবিতেও কাজটা সহজ মনে হয়েছে,’ বললেন শত্রুঘ্ন–কন্যা।

বিশ্ব রেকর্ড গড়তে বাবরের চাই ৯ রান

০

প্রায় ১ বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মঙ্গলবার মাঠে নেমেছে বাবর আজম। পাকিস্তানের হয়ে তিনি সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।

সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডিতে বাবরের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেও প্রতিপক্ষ সেই দক্ষিণ আফ্রিকাই। ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়।

পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক দেশের হয়ে এই সংস্করণে তার ফেরার ম্যাচটি রাঙাতে পারেন বিশ্ব রেকর্ড গড়ে। মাত্র ৯ রান করলেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের মালিক হবেন বাবর। ভাঙবেন রোহিত শর্মার রেকর্ড।

ভারতের সাবেক অধিনায়ক রোহিত ১৫১ ইনিংসে রান করেছেন ৪২৩১। বাবরের রান ৪২২৩। রোহিতের চেয়ে অবশ্য ৩০ ইনিংস কম খেলেছেন বাবর (১২১ ইনিংস)। মঙ্গলবার রেকর্ডটি গড়তে পারলে রোহিতের তুলনায় ২৯ ইনিংস কম খেলেই তাকে ছাড়িয়ে যাবেন বাবর।

রোহিতের চেয়ে বাবরের গড়ও বেশ ভালো। ভারতীয় ওপেনারের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং গড় ৩২.০৫, বাবরের প্রায় ৪০ ছুঁই ছুঁই- ৩৯.৮৩। স্ট্রাইক রেটে আবার রোহিত অনেক এগিয়ে। রোহিতের স্ট্রাইক রেট ১৪০.৮৯, বাবরের ১২৯.২২।

সেঞ্চুরিও বাবরের চেয়ে রোহিতের বেশি। রোহিতের ৫টি সেঞ্চুরির বিপরীতে বাবরের সেঞ্চুরি ৩টি। তবে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংসে রোহিতের চেয়ে এগিয়ে বাবর। রোহিতের ৫টি সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি ৩২টি, বাবরের ৩টি সেঞ্চুরি ও ৩৬টি ফিফটি।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যানদের এ তালিকায় তৃতীয় বিরাট কোহলি। ১১৭ ইনিংসে কোহলির রানসংখ্যা ৪১৮৮। কোহলির ব্যাটিং গড় শীর্ষ পাঁচে থাকা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি- ৪৮.৬৯। স্ট্রাইক রেট- ১৩৭.০৪।

শীর্ষ পাঁচে থাকা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট জস বাটলারের। ১৪৮.৯৭ স্ট্রাইক রেটে ৩৮৬৯ রান করে এ তালিকার চারে বাটলার। পঞ্চম আয়ারল্যান্ডের ওপেনার পল স্টার্লিংয়ের রান ৩৭১০। কোহলি, বাটলার ও স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরি একটি করে।

সহজে বহনযোগ্য বিশুদ্ধ মধু – ‘হ্যানি স্যাচেট’ বাজারে আনলো ‘কৃষি’

০

বাংলাদেশের উদীয়মান নিরাপদ খাদ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ‘কৃষি’ মধু খাওয়ার চিরাচরিত ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করল। সম্প্রতি একটি আকর্ষণীয় আয়োজনের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দিল ‘হ্যানি স্যাচেট’—একটি অভিনব মধু প্যাকেজিং যা মধু উপভোগকে করবে আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত।

অনুষ্ঠানে ‘কৃষি’ তাদের মিশন ও দীর্ঘ যাত্রার গল্প তুলে ধরে। কয়েক বছর ধরে তারা দেশের গ্রামীণ মানুষ, কৃষক ও মাটিকে শহরবাসীর নিকট পৌঁছে দিতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন করে আসছে। তাদের লক্ষ্য—শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, একজন মানুষ যেন প্রতিটি মুহূর্তে গ্রামবাংলার নিরাপদ কৃষি পণ্যের স্বাদ উপভোগ করতে পারে। এজন্য তারা গ্রামীণ উপকরণ দিয়ে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করছে, যা আধুনিক মানুষের প্রয়োজন ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে সাজানো।

এই উদ্ভাবনী যাত্রায় নতুন সংযোজন ‘হ্যানি স্যাচেট’। বোতল বা জটিল প্যাকেজিংয়ের প্রয়োজন নেই—ছোট্ট এই স্যাচেট সহজে ব্যাগে বা টিফিনবক্সে রাখা যায়, যা যে কোনো সময়ে নিরাপদ মধু খাওয়ার সুযোগ করে দেয়। নতুন এই প্রোডাক্টের ফলে মধু হবে দৈনন্দিন খাদ্যের অংশ, সব বয়সের মানুষের জন্য উপকারী ও স্বাস্থ্যকর।

আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইসমাইল, অতীশ দিপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মিহির লাল সাহা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এমডি. কাইয়ুম হোসেনসহ দেশসেরা কয়েকজন অধ্যাপক, ডাক্তার ও পুষ্টিবিদ। তাঁরা হ্যানি স্যাচেটের সম্ভাবনা ও এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের মধু বিশেষজ্ঞ হিসেবে আরোও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ মোহাম্মদ মইনুল আনোয়ার। তার বক্তব্যে তিনি বলেন আমাদের সকলের নিয়মিত মধু খেতে হবে। কিন্তু সেটা যেন ভেজাল না হয়। তিনি আরোও উল্লেখ করেন ভেজাল মধু পরিক্ষার জন্য সমাজে প্রচলিত আগুন পরীক্ষা, পানি পরীক্ষা কিংবা পিপড়া পরীক্ষা বিজ্ঞানসম্মত নয়, সম্পূর্ণ ভুয়া।

ইভেন্টের সমাপ্তি ঘোষণা করতে গিয়েই কৃষি জানিয়েছে—‘হ্যানি স্যাচেট’ শুধু একটি পণ্য নয়, এটি আমাদের খাওয়ার অভ্যাসে এক নতুন জীবনধারা নিয়ে আসবে। এই নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষি তার মিশন অব্যাহত রেখেছে—সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়া। প্রোডাক্ট ও মিশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্রেতাদের কৃষি’র ওয়েবসাইটে ভিজিট করার আহ্বান জানানো হয়।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো ১০ হাজারেরও বেশি

০

দেশের বাজারে বড় অংকে কমেছে স্বর্ণের দাম। এক লাফে প্রতি ভরিতে ভালো মানের স্বর্ণের (২২ ক্যারেট) দাম কমেছে ১০ হাজার ৪৭৪ টাকা। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে এক লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকায়।

মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম কমার এ তথ্য জানায়। আগামীকাল বুধবার থেকে সারা দেশে স্বর্ণের নতুন এ দর কার্যকর হবে।

এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের মূল্য কমেছে। যে কারণে স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমে এক লাখ ৮৫ হাজার ৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৫৮ হাজার ৫৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৩১ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি ৪ হাজার ২৪৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি ৪ হাজার ৪৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি তিন হাজার ৪৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।