Home Blog Page 295

বিএনপির জন্ম হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোটে, মৃত্যু হবে ‘না’ ভোটের মধ্য দিয়ে: পাটওয়ারী

০
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিএনপির জন্ম হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মধ্য দিয়ে আর মৃত্যু হবে ‘না’ ভোটের মধ্য দিয়ে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে সংস্কার কমিশনকে ভিন্নখাতে পরিচালনা করতে চেয়েছে। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ছাড় নেই।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রস্তাবনার পথেই সরকারকে হাঁটতে হবে। জুলাই সনদে ‘বিবেচনা করবে’ বা ‘হবে’ টাইপ কথার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি। কাবিন নামায় সাইন করেছে বিএনপি, ‘হ্যাঁ’ বলেছে জুলাই সনদে, তাদের ‘না’ বলার সুযোগ নেই।
ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না দিতে পারলে এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপদেষ্টাদের অনেক সময় হয়েছে ফ্যামিলি টাইমিংয়ে, এখন কেবল সার্ভিস দিতে হবে। আইন উপদেষ্টার ওপরে আমাদের আস্থা নেই। প্রধান উপদেষ্টাকে শহীদ মিনারে মানুষের মাঝে গিয়ে সংস্কার আদেশ জারি করতে হবে।

বিএনপি গণভোটটাকে গলা টিপে হত্যা করতে চায় : জামায়াত

০
বিএনপি সংস্কার চায়নি, সংস্কারের পর্যায়ে গণভোটও চায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
জাতীয় নির্বাচন আর গণভোট কেন তারা একসঙ্গে চায়? এমন প্রশ্ন তুলে তাহের বলেন, তারা (বিএনপি) গণভোটটাকে গলা টিপে হত্যা করতে চায়। কারণ শুরু থেকে তারা তো গণভোট চায়নি। এখন বাধ্য হয়ে গণভোট নিয়েছে। আবার প্যাঁচ লাগিয়ে এটারে কেমনে মাইনাস করে দিতে চায় সে রাস্তায় গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টগুলো যদি সন্নিবেশিত হয় তাহলে তো এসব সংস্কারের প্রয়োজন নাই, এখন এসব ছুড়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিলেই তো হয়। তালবাহানা করার তো কোনো দরকার নাই, আপনি বলে দেন আমি কিছুই মানি না। যদিও আজকে তারা কিছুটা বলছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনের চতুর্থ তলায় আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলন একথা বলেন তিনি।
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, বিএনপি প্রথমে কোনো সংস্কারই চাচ্ছিল না। এরপরে জনগণের চাপে তারা সংস্কার কমিশনে অংশগ্রহণ করেছে। বিএনপিকে একমোডেট করার জন্য আমরা অনেক স্যাক্রিফাইস করেছি। অনেক পয়েন্টে মাইনাস করছি। পিএসসি থেকে শুরু করে অনেকগুলোর জন্য একটা সাংবিধানিক বডি করে দেওয়া, যেখানে প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্ট-সরকারি দল যেমন : চাকরি নিয়োগের ক্ষেত্রে, তারপর ইলেকশন কমিশনে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। এটা বিএনপি বিরোধিতা করেছে, কেন করেছে আল্লাহই ভালো জানে এটাতো ভালো জিনিস, নিরপেক্ষ থাকতে পারে তবুও তারা করেছে। করার পরে আমরা আলোচনার সুবিধার জন্য এবং আলোচনা কন্টিনিউ করার জন্য স্যাক্রিফাইস করেছি।
তিনি বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে ১০ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না। তখন পত্রিকা দেখলাম যে বিএনপি মেনে নিয়েছে। কিন্তু আবার নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। দিছেন তো দিয়েছেন, তাতে তো কোনো অসুবিধা নাই, রেজাল্ট যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আরেকটা ছিল দলীয় প্রধান আর প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে হতে পারবেন না। এটা তো বিএনপির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত না। এটা যদি জামায়াতে ইসলামীও ক্ষমতায় আসে তাহলে আমাদের আমির শফিক সাহেব আমির আর দলীয় প্রধান একসঙ্গে হতে পারবেন না। বাকিদেরও একই।
তিনি বলেন, আমরা আর ফ্যাসিবাদ চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি ক্ষমতার ডিস্ট্রিবিউশন। যেমন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে বিএনপির অনেক আপত্তি ছিল, আমরা সেখানেও কিছু পয়েন্টে স্যাক্রিফাইস করেছি। একজন দলের প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না।
তাহের বলেন, এটা বিএনপি কেন মনে করে যে তারাই ১০০ বছর আগামীতে ক্ষমতায় থাকবে? তাদের জন্য এই আইনটা হলে সমস্যা হবে? এটা তো জনগণের ভোটাধিকারের যে একটা ক্ষমতা আছে। এই ক্ষমতাকে অস্বীকার করা।
‘আমরা’ চিন্তা করে যদি সংস্কার হয় তাহলে তো আর দেশের সংস্কার হলো না। বিএনপির আচরণ হচ্ছে তারা কোথায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা কোথায় লাভবান হচ্ছে তাদের জন্য কী উপযোগী, সেই হিসাবে উনারা একটা সংস্কার চাচ্ছেন। এখন একটা দলের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে দেশের বিষয়ে সংস্কার করলে এটা তো আরও খারাপ সংস্কার হয়ে যায়। দেশ আরও রসাতলে যাবে।
আমরা খুব স্পষ্ট বক্তব্য দিতে চাই, ঐকমত্য কমিশন পরিশ্রম করে, রাজনৈতিক দলগুলো পরিশ্রম করে দেশের কল্যাণে আমরা সবাই ছাড় দিয়ে যে ঐকমত্য কমিশনের কন্সেনসাস হয়েছে, রিফর্মসের ব্যাপারে। যেটা জুলাই চার্টার হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। সেটা আমরা বাস্তবায়ন চাই পরিপূর্ণ। এখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে জনগণ সেটাকে গ্রহণ করবে না।
তিনি বিএনপিকে উগ্রবাদী আচরণ বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই পর্যায়ে এক্সট্রিমিজম বাদ দিতে হবে। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের ড্রাফট পেয়েছি। একটা জায়গায় উনারা লিখছেন যে আমরা কোনোভাবেই মানবো না। এখন তার বিপরীত লোকেরা যদি বলে যে, বিপরীত কিছু হলে আমরা কোনোভাবেই মানবো না। তাহলে কি দাঁড়াবে? কোনোভাবেই মানবো না, মানে, কোনোভাবেই মানবো না। পরিস্থিতিটা এদিকে চলে যাওয়াটা কি দেশের জন্য কল্যাণ হবে? এটা দেশের জন্য কল্যাণ হবে না বলে আমি মনে করি। সুতরাং সবাইকেই ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা একটা পরিবেশ তৈরি করা উচিত এবং ফেব্রুয়ারিতে আমাদের চার্টার গ্রহণ করার পরে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনে আমরা যাতে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারি সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
সেক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনতিবিলম্বে আদেশ জারি করে গণভোটের তারিখ ঘোষণা এবং ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাই।
তাহের বলেন, নির্বাচন কমিশন একটা আরপিও ফাইনাল করেছে এবং সে আরপিওটি মন্ত্রিপরিষদ বা উপদেষ্টা পরিষদ যেটাই বলেন সেখানেও গৃহীত হয়েছে। মানে সরকারও গ্রহণ করেছে, ইলেকশন কমিশন গ্রহণ করেছে। বিএনপি কিন্তু তখন আগে কোনো আপত্তি দেয় নাই। বরং এর আগে তারা যখন বলেছিল তারা পজিটিভ। প্রত্যেকটি দল তার নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এটা জোটভিত্তিক হোক বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট দলভিত্তিক হোক এবং এটার ভেতরে অনেক যুক্তি আছে। সেটা হচ্ছে প্রত্যেকটি দল করে নিজের একটা আদর্শ ভিত্তিতে। সে মার্কা নেয় নিজের একটা পরিচয়ের ভিত্তিতে আইডেন্টিটির ভিত্তিতে। একটি জাতীয় নির্বাচনে তো তার আদর্শ এবং তার আইডেন্টিটি টাই মানুষের কাছে যাবে। তাহলে তো তার দলকে মানুষ গ্রহণ করে কি করে না এটা প্রমাণিত হবে।
তিনি বলেন, আপনি জোটে যেতে পারেন, জোট আপনাকে সাহায্য করবে যে আপনি কি এটা জনগণ জানুক। তারপরে আপনার বন্ধু জোট আপনাকে ভোট দেবে, সাহায্য করবে। ইটস ন্যাচারাল। এটাই হতে হবে।
এখন কোনো একটি দল তার নিজস্ব অস্তিত্ব বিকিয়ে দিয়ে, তার প্রতীক বিকিয়ে দিয়ে, তার নাম বিকিয়ে দিয়ে আরেকটা দলের আশ্রয়ে যদি নির্বাচন করে তাহলে তো ওই দলে নির্বাচন হয় না। যে দলের মার্কা সেই দলের নির্বাচন হয়ে যায়। সেই দলের জন্য ৩০০ আসনে নির্বাচন করার সুযোগ আছে। সুতরাং আমরা এটা মনে করি আমরা জোটবদ্ধভাবে করি বা আন্ডারস্ট্যান্ডিং করি। কিন্তু যেহেতু প্রত্যেকটি দল এখানে আলাদা অস্তিত্ব বহন করে। সুতরাং সেই দলের নাম এবং প্রতীকে নির্বাচন হবে। বাকিরা তাকে সাহায্য করবে। যারা ভোট দিতে চায়, সাহায্য করতে চায় করবে। এতে কোনো আপত্তি নাই। এটা রেশনাল। কিন্তু বিএনপি এখানে এসে পরে বলতেছে যে এটাও আমরা মানি না।
তাহের বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা যদি কিছুই না মানেন ওটা তো একটা সমস্যা। আমরা আশা করবো প্রতীকের বিষয়ে কোনো দল চাপ দিয়ে ইলেকশন কমিশনকে যেন বিতর্কিত না করেন। কারণ ইলেকশন কমিশন যদি এখন বিএনপির কথা এটা চেঞ্জ করে দেয় আইন, তাহলে তো এটা পরিষ্কার হবে যে ইলেকশন কমিশন একটি দলের পক্ষে ভূমিকা দিচ্ছে। তাহলে ইলেকশন কমিশন আবার বিতর্কিত হবে।
সরকার যদি আবার মন্ত্রিপরিষদে বসে বিএনপির কথায় চেঞ্জ করে তাহলে বুঝা যাবে যে সরকার বিএনপির পক্ষে কাজ করছে। তাহলে সরকারেরও সমস্যা। আমরা যে বলছি একটা অবাধ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক, হাসিখুশিতে ভরা একটি নির্বাচন হবে এবং এই সরকার ইলেকশন কমিশন নিরপেক্ষ, সরকার নিরপেক্ষ। তাহলে এ কথার তো যথা (দাম) থাকছে না।
৫৪ বছর বাংলাদেশ সঠিক নির্বাচন থেকে বঞ্চিত উল্লেখ করে তাহের বলেন, বিগত ১৫ বছর এরকম একটি অর্থহীন নির্বাচনের আজকের স্বৈরশাসন, আজকের ফ্যাসিবাদ। সেটাকে তো দৌড়িয়েছি আমরা জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে। কিন্তু আবার সেই নির্বাচন, আবার সেই ষড়যন্ত্র। আবার সেই ইলেকশন কমিশনের নির্বাচন ঘোষণা দেওয়ার, সেসব বাংলাদেশ আর এক্সসেপ্ট করবে না। এটা আমরা পরিষ্কার বলছি।
সব শ্রেণির পেশা মানুষ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডারস সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাহের বলেন, বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য আসুন আমরা সবাই কাজ করি, যে যার জায়গা থেকে এবং কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র এবং অপচেষ্টাকে আমরা রুখে দেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, নির্বাচন কমিশন কিছু কাজ না করলেও হতো। যেমন ইলেকশন কমিশন একটা প্রস্তাব করলে ভালো হতো। গণভোটের সাবজেক্ট ডিফারেন্ট।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ নির্বাচন কমিশন বা কোনো দল বা সরকারের সম্পদ না, পুরো জাতির সম্পদ।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, বিশেষজ্ঞরা রাত দিন এরকম বহু মিটিং করেছি। আমরা আমাদের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসেছি। আমাদের বিশেষজ্ঞরা কমিশনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসেছে। সব বিশেষ একসঙ্গে বসছে। তারা সবাই বসেই এই আদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমি যেটা বলছি এখন এটাই বিশেষজ্ঞদের মত এবং এটাই তারা সাবমিট করেছে।
দুই নম্বর কথা হচ্ছে- আমরা এগুলো আদায় করতে পারি, এটা পারবো কিনা? নির্বাচন কি হয়েছে? আমরা কি করতে পারবো না পারবো ওয়েট আপ ইলেকশন। আমাদের আন্দোলন চলছে। আজকেও তো আটটা মিছিল গেছে ইলেকশন কমিশনে।
বিএনপি সংস্কার চায়নি, সংস্কারের পর্যায়ে বিএনপি গণভোট চায়নি উল্লেখ করে তাহের বলেন, গণভোট কেন তারা একসঙ্গে চায়! তারা গণভোটকে গলা টিপে হত্যা করতে চায়। কারণ শুরু থেকে তারা তো গণভোট চায়নি। এখন বাধ্য হয়ে গণভোট নিছে। আবার প্যাঁচ লাগিয়ে এটাকে কীভাবে মাইনাস করে দিতে চায় সে রাস্তায় গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় এ নেতা বলেন, আপনি দেখেন একইদিন যদি গণভোট হয়, গণভোটে কোনো ভোট পড়বে না। কেন? আমি সিরিয়াস থাকবো ধানের শীষ নিয়ে, আমার এখন গণভোট মনে থাকবে। আমার তো ধানের শীষে একটা ভোট বাড়ালে আমার জন্য সেখানে ভালো। বিএনপি ধানের শীষের জন্য। আমি পাল্লার জন্য আরেকজন আরেকজন জান বের হয়ে যায় ইলেকশনের দিন। ভোটের দিন মানুষের হুঁশ থাকে নাকি? সুতরাং সেদিন গণভোট যে একটা হবে এটা আর মাথায় থাকবে না।
কায়দাকানুন করে একটা বস্তার উপরে আরেকটা বস্তা চাপা দিয়া ওটা রে মেরে ফেলার একটা চেষ্টা করা। যদিও বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট বলছে, এগুলো যদি সন্নিবেশিত হয়, পাস না হয় তাহলে তো সংস্কারের প্রয়োজন নাই, এখন এসব ছুড়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিলেই তো হয়। তালবাহানা করার তো কোনো দরকার নাই, আপনি বলে দেন আমি কিছুই মানি না। যদিও আজকে তারা কিছুটা বলছে।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. এইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ।

গাজায় ১০০ জনকে হত্যার পর পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণা ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে ব্যাপক হামলা চালিয়ে প্রায় ১০০ জনকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েল। এরপর আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) থেকে তারা যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।
মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশনার পর সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরায় কার্যকর করেছে।
বিবৃতিতে দখলদাররা বলেছে, তারা গাজার প্রায় ৩০ জায়গায় হামলা চালিয়েছে। এতে হামাসের অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করা হয়েছিল বলেও জানায় তারা।
এরআগে গতকাল রাতে গাজায় ‘তাৎক্ষণিক’ ও ‘শক্তিশালী’ হামলা চালানোর নির্দেশ দেন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ওইদিন বিকালে রাফাতে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়। তবে তার ওপর কে বা কারা হামলা চালিয়েছিল সেটি নিশ্চিত নয়।
ওই সেনার মৃত্যুর পর ইসরায়েল দাবি করে হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া মৃত জিম্মিদের মরদেহ সময়মতো ফেরত না দিয়ে হামাস চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলেও দাবি করে তারা। এরপরই রাতে গাজায় ব্যাপক হামলার নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু।
তার নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজায় এসে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে।
এতে এক পরিবারের ১৮ জনসহ প্রায় ১০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর ঘোষণা করলেও হামাস এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। গতকাল নেতানিয়াহু হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর স্বাধীনতাকামী এ সশস্ত্র গোষ্ঠী জানায়, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন করায় তারা জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তর স্থগিত করেছে।

ভারতকে কোণঠাসা করে পাকিস্তানের সুরেই কথা বলছেন ট্রাম্প

দক্ষিণ কোরিয়ায় দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তানের অবস্থানকে যেন আরও জোরালো করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় ‘সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে’— এমন দাবি তুলে তিনি কার্যত ইসলামাবাদের বক্তব্যকেই মজবুত করেছেন।
আর তার প্রশংসা, হুমকি আর রাজনৈতিক ভঙ্গিমায় নয়াদিল্লি কার্যত পড়েছে বিব্রত অবস্থায়। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক মাসে অন্তত ২৫ বার প্রকাশ্যে বলেছেন যে, চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তান-ভারত সংঘাতে পাঁচ থেকে সাতটি “নতুন, ঝকঝকে যুদ্ধবিমান” গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল।
যদিও টানা চানদিনের ওই সংঘাতে দুই দেশের যুদ্ধবিমান হারানোর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে, তবুও ট্রাম্পের মন্তব্য পাকিস্তানের অবস্থানকেই কূটনৈতিকভাবে শক্ত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সর্বশেষ দক্ষিণ কোরিয়ায় এক আঞ্চলিক বৈঠকে বুধবার ট্রাম্প আবারও বলেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছিল, কিন্তু তিনি দুই দেশকেই ২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়ে তা ঠেকিয়েছেন। যা কোনো দেশের জন্য তার দেওয়া সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক শাস্তির হুঁশিয়ারি।
ট্রাম্প বলেন, “আপনি যদি ভারত ও পাকিস্তানের দিকে তাকান… তারা তখন লড়াইয়ে লিপ্ত ছিল। সাতটা বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল। যুদ্ধ প্রায় শুরু হয়ে যাচ্ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আছে। আমাদের সম্পর্ক চমৎকার।”
একই সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “তিনি দুর্দান্ত যোদ্ধা, একজন অসাধারণ মানুষ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও দারুণ মানুষ।”
এর একদিন আগে জাপানে ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে একই ভাষায় ট্রাম্প বলেছিলেন, “দুই বড় পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ যুদ্ধের মুখে ছিল, আমি সেটি থামিয়েছি।”
তবে ভারত সরকার এখনো দাবি করে যাচ্ছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে তাদের কোনো যুদ্ধবিমান হারায়নি, আর ট্রাম্পের মধ্যস্থতার কথাও “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত দুই দেশ পারস্পরিকভাবে নিয়েছিল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ওয়াশিংটনের বক্তব্যে একটি নতুন মোড় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উইলসন সেন্টারের বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি বলেছেন, “আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর সুযোগ দেখছি।”
কুগেলম্যানের মতে, “হোয়াইট হাউস মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে, তবে প্রশাসনের সামগ্রিক বার্তা এখন আরও এগিয়ে গেছে”। এমনকি রুবিও পাকিস্তানকে “মিত্র” বলেও আখ্যা দিয়েছেন, যা সাম্প্রতিক মার্কিন নীতিতে খুবই বিরল।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রভাব পড়েছে কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও। মার্কিন ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্পের পাকিস্তানপ্রশংসা এড়াতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি সদ্য অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে অনলাইনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস একে “কূটনৈতিক পিছু হটা” বলে আখ্যা দিয়েছে। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, “বিব্রত হওয়ার ভয়ে মোদি আরেকটি বৈশ্বিক মঞ্চে যাওয়া থেকে এড়িয়ে গেলেন।”
এছাড়া পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংঘাত নিয়েও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি এই সংঘাতকে “আমার জন্য সহজে সমাধানযোগ্য” সমস্যা বলে দাবি করেন এবং পাকিস্তানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “ওরা দারুণ মানুষ।”
তবে পাকিস্তানের প্রতি এই ঝোঁক দেখালেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে পাকিস্তানের দাবিকে কিছুটা সমর্থন দিলেও, তার অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এখনো ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মধ্যেই রয়েছে।

 

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক হলেন চার কর্মকর্তা

পুলিশ ক্যাডারের চার কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে সই করেছেন উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার মো. শাহরিয়ার, এসবির পুলিশ সুপার ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মাসুম বিল্লাহ তালুকদার, পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) মো. জান্নাতুল হাসান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্ণিত কর্মকর্তাগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে যোগদানপত্র প্রেরণ করবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ যোগদানের তারিখ হতে কার্যকর হবে।

 

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।
তথ্য অধিদপ্তরের এক বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সরকারের এক বিবৃতির বরাতে জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করা পর্যন্ত নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাবে এবং উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে।
তবে এর আগে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছিলেন।

আকবরের নেতৃত্বে হংকং সিক্সেসে খেলবে বাংলাদেশ

০

২০২৫ সালের হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ৭ থেকে ৯ নভেম্বর হংকংয়ের টিন কং রোড রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি। বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আকবর আলী। বাংলাদেশ এখনও পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে পারেনি।

তবে ২০২৪ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর পর এবার দলের লক্ষ্য আরও ভালো করা। দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ বোলিং অলরাউন্ডার আবু হায়দার রনি, ওপেনার জিশান আলমও তার স্থান ধরে রেখেছেন। এছাড়া দলে থাকছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল হাসান এবং পেস-বোলিং অলরাউন্ডার তোফায়েল আহমেদ রায়হান।

নায়িকা থেকে গায়িকার পথে

০

অভিনয়ের পাশাপাশি গান নিয়েও সরব থাকেন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। ২০১৮ সালে প্রকাশ পেয়েছে তার প্রথম গান ‘পটাকা’। এখন পর্যন্ত চারটি গান প্রকাশ পেয়েছে এই অভিনেত্রীর। গত বছরের শুরুতে ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সংগীতায়োজনে রেকর্ড করেছিলেন নতুন গান। সেসময় জানিয়েছিলেন, দ্রুতই গানটি শুনতে পারবেন শ্রোতারা। দেড় বছর পার হয়ে গেলেও এখনো প্রকাশ পায়নি সেই গান।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গান প্রকাশের দেরি হওয়ার কারণ, সেই সঙ্গে গান নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানান ফারিয়া। গান প্রকাশের বিলম্ব হওয়ার কারণ জানিয়ে ফারিয়া বলেন, ‘আসলে অনেকগুলো মানুষের সমন্বয়ে একটি ভালো কাজ হয়। তাই একটু সময়ে লেগে যায় গান প্রকাশের ক্ষেত্রে। আর আমি তো শুধু গান প্রকাশ করি না, একটা মিউজিক ভিডিও তৈরি করি। দর্শকের কাছে যেন একটু ভিন্ন রকম লাগে। এ কারণেই দেরি হচ্ছে। নতুন বেশ কয়েকটি গান রেডি করা আছে। ফুয়াদ আল মুক্তাদির, সঞ্জয়সহ বেশ কয়েকজন সংগীত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিজের পছন্দের শিল্পীদের সঙ্গে কোলাবরেশন করার ইচ্ছা আছে। পরিকল্পনা করছি, দেখা যাক কতদূর কী হয়।’

গানের পাশাপাশি সিনেমা নিয়েও ব্যস্ততা বাড়ছে এই অভিনেত্রীর। এ মাসের শেষ দিকে নতুন সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ফারিয়ার। শিগগির আসবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

ঢালিউডের পাশাপাশি টালিউডের অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন ফারিয়া। তবে কয়েক বছর ধরে সেই ইন্ডাস্ট্রির কোনো কাজে দেখা যায়নি তাকে। এ প্রসঙ্গে ফারিয়া বলেন, ‘ওপার বাংলায় কাজ করছি না, বেশ কয়েক বছর হয়ে গেছে। বিশেষ কোনো কারণ নেই। ভিসা জটিলতা, ট্রাভেল সব কিছু মিলিয়েই এখন ওখানে কাজ করা কঠিন।’

মেহজাবীনের নতুন সিনেমার গুঞ্জন

০

নাটকে বিরতি দিয়ে ওটিটিতে নিয়মিত হয়েছিলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তারপর থেকেই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। ছোটপর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী এবার পুরোপুরি চলচ্চিত্রে মনোনিবেশ করেছেন। তার অভিনীত প্রথম নির্মিত সিনেমা ‘সাবা’ মুক্তি পায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর। মাকসুদ হোসাইন পরিচালিত ছবিটি মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচক– দুই মহল থেকেই প্রশংসা কুড়ায়। যদিও এটি ছিল তার প্রথম শুটিং করা সিনেমা, তবে মুক্তির দিক থেকে ‘প্রিয় মালতি’- দর্শকের সামনে আসে আগে, গত বছরের শেষ দিকে। সেই ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় নতুন যাত্রা শুরু হয় মেহজাবীনের।

এই দুই সিনেমা নিয়ে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলেছেন তিনি। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ‘সাবা’ ও ‘প্রিয় মালতি’। দুটি ছবিই তাকে এনে দিয়েছে সম্মাননা ও স্বীকৃতি। তবে এই দুই সিনেমার পর নতুন কোনো প্রজেক্টে যুক্ত হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে ছিল রহস্য। অবশেষে ভক্তদের জন্য এলো নতুন সুখবর–মেহজাবীন চৌধুরী এবার যুক্ত হয়েছেন আলোচিত সিনেমা ‘দম’-এ।

সিনেমাটির পরিচালনায় রয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা রেদওয়ান রনি। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর তিনি নতুন সিনেমা নির্মাণে ফিরছেন। জানা গেছে, ‘দম’ একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে, যেখানে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করবেন দুই তারকা চঞ্চল চৌধুরী ও আফরান নিশো। ক্যামেরার সামনে ও পেছনে এই দুই অভিনেতার মেলবন্ধন নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে।

রেদওয়ান রনি জানিয়েছেন, ‘দম’ একজন সাধারণ মানুষের জ্বলে ওঠার গল্প। আমি এমন একটি চরিত্র খুঁজছিলাম, যার ভেতরের শক্তি দর্শককেও নাড়া দেবে। এই সিনেমায় সেই অনুপ্রেরণার গল্প বলব।

গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনেমাটির শুটিং। শুধু বাংলাদেশে নয়, সৌদি-আরব, জর্ডান এবং কাজাখস্তানের নানা লোকেশনে চলছে দৃশ্যধারণ। নির্মাতা কিছুদিন আগে নিজের সামাজিক মাধ্যমে কিছু ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন–‘দম এর দম পরীক্ষা।’ এরপর থেকে জল্পনা শুরু হয়, কাজাখস্তানেই চলছে ছবির কাজ।

এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল, সিনেমাটিতে নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে পূজা চেরিকে। গণমাধ্যমেও সে খবর ছড়িয়ে পড়ে, তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। পূজা চেরি থাকলেও এবার সামনে এসেছে নতুন নাম–মেহজাবীন চৌধুরী। যদিও নির্মাতা রেদওয়ান রনি এখনই বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে নারাজ। সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে–মেহজাবীন অভিনয় করছেন এই সিনেমায়।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দম’-এর আনুষ্ঠানিক মহরত। প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ, আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট ও চরকি যৌথভাবে সিনেমাটি নির্মাণ করছে। এর আগে এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে বানিয়েছে, সুড়ঙ্গ, দাগী ও তুফান। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দম।

রেদওয়ান রনির এটি তৃতীয় চলচ্চিত্র। তার প্রথম সিনেমা ‘চোরাবালি’-তে তিনি জয় করেছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর নির্মাণ করেন ‘আইসক্রিম’। প্রায় ১০ বছর পর ‘দম’-এর মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় ফিরছেন তিনি। সেই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গী হচ্ছেন সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা আধুনিকায়নে ৪,২০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

০

দেশের রেলওয়ে খাতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) একটি প্রতিনিধিদল গত মঙ্গলবার কারখানার বিভিন্ন কার্যক্রম ও অবকাঠামো পরিদর্শন করেন।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর এডিবি উইং চিফ এস এম জাকারিয়া হক এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হুই ইউন জিওং।

কারখানা পরিদর্শনে এসে প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ, কর্মব্যবস্থাপক (ডাব্লিউএম) মমতাজুল হকসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন এডিবির প্রিন্সিপাল ফিনান্সিয়াল সেক্টর অফিসার মারুফ হোসাইন, সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার (আরবান) অমিত দত্ত রায়, অ্যাসোসিয়েট ওয়াটার রিসোর্স অফিসার সোহেল রানা, অ্যাসোসিয়েট প্রজেক্ট অফিসার (এনার্জি) মশিউর রহমান, সিনিয়র অপারেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট নাশিয়াত আল সাফওয়ানা চৌধুরী এবং অপারেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট দিপা হেমব্রোম।

পরিদর্শনকালে দলটি কারখানার বগি ও ওয়াগন শপ, ক্যারেজ কনস্ট্রাকশন শপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরে বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা।

সভায় ডিএস শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ ও ডাব্লিউএম মমতাজুল হক কারখানার সার্বিক কর্মকাণ্ড, চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

ডিএস শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, কারখানার দুটি উপকারখানা সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এডিবি প্রতিনিধিদল সেই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এসেছে। তারা আমাদের প্রস্তাবনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ও অবকাঠামোতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। স্থানীয়ভাবে রেল কোচ, বগি ও ওয়াগন উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন রেলওয়ে ওয়ার্কশপ। বর্তমানে কারখানাটি পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে রেল কোচ ও বগির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রেল ইঞ্জিনিয়ারিং হাবে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।