Home Blog Page 3

জামালপুর গ্যাসের জন্য রাতভর অপেক্ষা, অটোরিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ

গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ।

বিক্ষোভকারী চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না তাঁরা। এতে অটোরিকশা চালাতে না পারায় আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অটোরিকশাচালক আশরাফুল বলেন, ‘রাতভর অপেক্ষা করেও গ্যাস পাইনি। গ্যাস না থাকায় গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গাড়ির জমার টাকা জোগাড় করাসহ পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

আরেক চালক সুরুজ আলী বলেন, গ্যাস সরবরাহে অনিয়মের কারণে অনেক চালক প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অবরোধের কারণে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইল, রাজধানী ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে আটকা পড়েছে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। অনেক যাত্রীকে যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, ‘অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’

বাবার ইচ্ছাতেই বিশ্বকাপটা খেলেছিলেন মেসি

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ক্ষত কাটিয়ে ফের খেলায় ফিরেছিলেন। ইন্টার মায়ামির জার্সি গায়ে জড়িয়ে গোলও করেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু কয়েক দিন পরই আর্জেন্টাইন জাদুকর হারান তাঁর প্রিয় বাবা হোর্হে মেসিকে। বাবাকে হারানোর পর বুধবার প্রথম মুখ খোলেন মেসি। বাবাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ আবেগঘন বার্তা লিখেছেন মেসি। যেখানে শুরুতেই লিখেছেন, ‘বাবা, আমি এখনও বিশ্বাসই করতে পারছি না যে তুমি নেই। আর কোনোদিন তোমাকে দেখতে পাব না, তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারব না– এটা ভাবতেই পারছি না। আমি জানি, তুমি অনেক কষ্টে ছিলে আর মুক্তি পাওয়াটাই তোমার জন্য ভালো হয়েছে; কিন্তু তুমি বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের তো একসঙ্গে আরও অনেক কিছু উপভোগ করার বাকি ছিল।’

বয়স বাড়লেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে খেলার জন্য বাবার ইচ্ছা ছিল বলেও জানান মেসি, ‘তুমি সব সময় আমাকে এই শেষ বিশ্বকাপটা খেলতে বলতে; কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই তোমার শরীরটা বেশি খারাপ হয়ে গেল। এই প্রথমবার এমন হলো যে তুমি কোনো টুর্নামেন্টে থাকতে পারলে না। তবে মা আমাকে বলেছিল, তুমি সুস্থ হয়ে যাবে আর ট্রাভেল করার মতো অবস্থায় আসবে। আমি তোমাকে বলেছিলাম, আমরা ফাইনালে উঠব আর তুমি এসে অন্তত একটা ম্যাচ দেখতে পারবে।’

অসুস্থতার কারণে মেসির বাবা বিশ্বকাপটা উপভোগ করতে পারেননি। সেটিও ফুটে উঠেছে মেসির বার্তায়, ‘যা যা ঘটেছিল, সেসব নিয়ে তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি বলেই আমি তোমার কাছে ছুটে এসেছিলাম। তুমি তো কিছুই এনজয় করতে পারোনি। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি; কিন্তু প্রতিটি ম্যাচ আমরা কতটা উপভোগ করেছি, সেটি তুমি জানতেও পারলে না। আবারও তুমিই ঠিক প্রমাণিত হলে– তোমার সেখানে থাকা আর খেলাটাই দরকার ছিল। আমি তোমাকে এগুলো বলছি কারণ, একমাত্র এই বিষয়টা নিয়েই আমরা কথা বলতে পারিনি, কারণ বাকি সব তো তুমি আগেই জানতে। আমাদের প্রতিদিন কথা হতো, আর আমার ব্যস্ততার মধ্যেও সুযোগ পেলেই আমরা দেখা করতাম।’

যে বাবার কারণে ফুটবলার হয়েছেন, সেই বাবা চলে যাওয়ায় ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত মেসি, ‘তোমাকে ছাড়া আমি কী করব, বুঝতে পারছি না! কীভাবে সামনে এগিয়ে যাব, সেটিও জানি না। আমি তো শুধু ফুটবলই খেলেছি। এখন আমার খুব সন্দেহ হচ্ছে যে আমি আর বেশিদিন এটি চালিয়ে যেতে পারব কিনা। একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তুমি আমার পাশে ছিলে। আর একটুখানি সময় নিজেকে ধরে রাখতে পারলে না কেন, তাহলে তো আমরা একসঙ্গেই শেষ করতে পারতাম? আমি জানি, তোমার আসল আনন্দ ছিল তোমার পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের দেখতে পাওয়া… আর সবার অজান্তে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতে আমাকে খেলতে দেখে।’

ছোটবেলায় হোর্হে নিজের সন্তানকে ট্রেনিংয়ে নিয়ে যেতেন। শৈশবের সেই কথাও বার্তায় লিখেছেন মেসি, ‘আমি যখন একদম ছোট ছিলাম, তখন থেকেই সবকিছু এমন ছিল। কাজ থেকে বাড়ি ফিরেই তুমি আমাকে সব ট্রেনিং সেশনে নিয়ে যেতে। আর তুমি কাজে ব্যস্ত থাকতে বলে অনেক কিছু আমাকেই মায়ের কাছে নিয়ে যেতে হতো। স্বভাবতই, তুমি আমার একটা ম্যাচও মিস করতে না। আমাকে খেলতে দেখে তুমি যেমন টেনশনে কষ্ট পেতে, তেমনই উপভোগও করতে– যদিও মুখে কখনও খুব একটা প্রশংসা করতে না। তুমি একাধারে বাবা, বন্ধু আর রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলে। প্রতিটি মুহূর্তে তোমার যে রোলে থাকা দরকার ছিল, তুমি ঠিক সেটাই করেছ আর কখনও কোনো ভুল করোনি। কিছুটা রাগারাগি বা ঝগড়াঝাঁটি বাদ দিলে দিনশেষে তুমিই সব সময় ঠিক ছিলে। শেষ পর্যন্ত সবকিছু তোমার কথামতোই হতো।’

বাকি জীবনে বাবাকে মিস করবেন বলে জানান মেসি, ‘তোমাকে খুব মিস করব, তবে তুমি সব সময় আমাদের মাঝে থাকবে, বিশেষ করে আমার বাচ্চাদের মানুষ করার ক্ষেত্রে। কারণ, তুমি আমাকে যেভাবে শিক্ষা দিয়েছ, আমিও আমার সন্তানদের সেভাবেই গাইড করছি। ওপারে শান্তিতে থেকো বাবা, আর এখান থেকে যেভাবে আমাদের আগলে রাখতে, ওপর থেকেও সেভাবেই খেয়াল রেখো। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। তোমাকে অনেক ভালোবাসি, বাবা।’ সামাজিক মাধ্যমে বাবাকে নিয়ে মেসির আবেগঘন বার্তায় মন্তব্য করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, “এই কঠিন সময়ে তোমাকে এবং তোমার পরিবারকে অনেক বড় একটা আলিঙ্গন। শক্ত থাকো ‘লিও’।”

স্টার্ককে ফিরিয়ে হাসানের ৪ উইকেট, ৮ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার

আবারও আঘাত হেনেছেন হাসান মাহমুদ। মিচেল স্টার্ককে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার।

৪৬.৫ ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরে বল করেন হাসান। পিচে পড়ে বল কিছুটা বাইরে সিম করায় শরীর থেকে দূরে ব্যাট চালান স্টার্ক। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। সহজ ক্যাচটি তালুবন্দী করেন লিটন দাস।

১১ বলে ১ রান করে ফিরেছেন স্টার্ক। ৪৭ ওভার শেষে ১৭৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ব্যাট করছে অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের শিকার এখন ৪ উইকেট। এক প্রান্তে অবশ্য এখনো দলকে টেনে নিচ্ছেন স্টিভেন স্মিথ।

হাসানের তৃতীয় শিকার কামিন্স, ৭ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে আবারও আঘাত হেনেছেন হাসান মাহমুদ। এবার প্যাট কামিন্সকে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরালেন ডানহাতি এই পেসার। এটি তার তৃতীয় উইকেট। ৪৪.৩ ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরেবল পেয়ে কাট করতে চেয়েছিলেন কামিন্স। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। সেখানে সহজ ক্যাচ নেন লিটন দাস।

১৯ বলে ৯ রান করে ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। কামিন্সের বিদায়ে ১৭২ রানে সপ্তম উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া। এক প্রান্তে অবশ্য এখনো ব্যাট হাতে দলকে টেনে নিচ্ছেন স্টিভেন স্মিথ। ৪৫.২ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানে ব্যাট করছে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিজে আছে স্মিথ ও স্টার্ক।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

এবার তাসকিনের আঘাত, ষষ্ঠ উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া

এবার অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে আঘাত হানলেন তাসকিন আহমেদ। ৩৮.৩ ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে ফেরালেন বিউ ওয়েবস্টারকে। ১০ বলে ১২ রান করে ফিরেছেন এই অজি ব্যাটার। অফ স্টাম্পের ওপর করা বলটি ভুল লাইনে ডিফেন্ড করতে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান ওয়েবস্টার। তাসকিনের ইন সুইং বলে রীতিমতো উড়ে গেছে ওয়েবস্টারের অফ স্টাম্প। ফলে ষষ্ঠ উইকেট হারায় অজিরা। ৩৯ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রানে ব্যাট করছে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিজে আছে স্মিথ ও কামিন্স।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

ক্যারিকে বোল্ড করে জুটি ভাঙলেন এবাদত

প্রথম সেশনে চার উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় সেশনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটে ৫০ পেরিয়ে যায় তাদের জুটি। তবে শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন। শর্ট লেন্থের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে ইনসাইড এজ হয় ক্যারির ব্যাটে। বল সরাসরি গিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। অস্ট্রেলিয়া হারায় পঞ্চম উইকেট।

এর আগে দ্বিতীয় সেশনে স্মিথের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে যোগ দেন ক্যারি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন দুজন। ক্যারি কিছুটা রয়েসয়ে খেললেও অন্য প্রান্তে রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন স্মিথ। পেসারদের দিয়ে শুরু করার পর ইনিংসের ৩০তম ওভারে স্পিনার আক্রমণে আনেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

ছবি- এএফপি

ছবি- এএফপি

প্রথম সেশনেই চার উইকেট

ডারউইন টেস্টের প্রথম সেশনটা বেশ ঘটনাবহুলই কাটল বাংলাদেশের। হাসান মাহমুদের জোড়া আঘাতের সঙ্গে এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের একটি করে উইকেটে লাঞ্চে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৪ রান।

হাসান মাহমুদ ২৫ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। তাসকিন ২৬ ও ইবাদত ১৭ রানে নিয়েছেন একটি করে উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭ রানে অপরাজিত আছেন স্টিভেন স্মিথ।

১২তম ওভারে জ্যাক ওয়েদারেল্ডকে ২৩ রানে ফেরান হাসান। দুই ওভার পর তার বলে বোল্ড হন ট্র্যাভিস হেড, করেন ২২ রান। সেশনের শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে চতুর্থ সাফল্য এনে দেন তাসকিন। এর আগে এবাদতের বলে জীবন পেয়েছিলেন স্মিথ, স্লিপে তার ক্যাচ মিস করেন তানজিদ হাসান তামিম।

প্রথম সেশনেই দুটি রিভিউ নষ্ট করেছে বাংলাদেশ। হেডের বিপক্ষে এবাদতের বলে নেওয়া প্রথম রিভিউয়ে বল অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল। পরে স্মিথকে কট বিহাইন্ডের ফাঁদে ফেলতে নেওয়া রিভিউতেও আল্ট্রা এজে বল ব্যাটে লাগার প্রমাণ মেলেনি। ক্যাচ মিস ও দুটি রিভিউ নষ্ট হলেও চার উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম সেশন শেষে স্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ।

দায়িত্ব ছাড়ছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ট্রাম্প প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলতি আগস্ট মাসের শেষে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন। দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী লেভিট।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি জানানোর পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেভিট সিদ্ধান্তটিকে ‘মিশ্র অনুভূতির’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তান ভিভিয়ানা জন্মের পর হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনে ফিরে এসে তিনি বুঝতে পারেন, একই সঙ্গে দুই ছোট সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে।

লেভিট বলেন, ‘প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনে যে পরিমাণ সময়, শক্তি ও মনোযোগ প্রয়োজন, তা দেওয়ার পাশাপাশি দুই সন্তানের জন্য ভালো মা হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই হোয়াইট হাউস ছেড়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লেভিটের দুই বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে।’

লেভিটের পদে কে দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি ট্রাম্প। তবে লেভিটের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও তাঁর সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, লেভিট তাঁর অন্যতম প্রধান বাহ্যিক উপদেষ্টা এবং রিপাবলিকান পার্টির একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবেন। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিজয়ের লক্ষ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন লেভিট। এর আগে তিনি ট্রাম্প-সমর্থক সুপার প্যাক ‘মাগা ইনক’-এর মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করেন।

২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন লেভিট। রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক বাছাইয়ে জয় পেলেও মূল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাসের কাছে পরাজিত হন তিনি।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে কাজ করেছেন লেভিট। পরে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলিস স্টেফানিকের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক প্রেস সেক্রেটারিদের তুলনায় লেভিট সংবাদ সম্মেলন করেছেন তুলনামূলক কম। তবে ট্রাম্পের নীতি ও কর্মসূচির পক্ষে প্রচার এবং ডেমোক্র্যাট ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সমালোচনায় তাঁকে নিয়মিত ব্যবহার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

চাঁদের আড়ালে হারিয়ে গেল সূর্য, কোটি মানুষের চোখে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রজন্মের অন্যতম সেরা ও নাটকীয় সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হয়েছেন। প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এ সূর্যগ্রহণে যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা থেকে সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়তে দেখা যায়। তবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু এলাকায় দেখা গেছে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে শুরু হওয়া এ সূর্যগ্রহণ দেখতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে মানুষের ভিড় জমে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের অনেক মানুষ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চাঁদের ধীরে ধীরে সূর্যকে ঢেকে দেওয়ার দৃশ্য উপভোগ করেন। উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকলেও সূর্যগ্রহণ দেখতে মানুষের আগ্রহে কমতি ছিল না।

যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে উত্তর স্কটল্যান্ড থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে তা দক্ষিণের দিকে এগিয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে দেশটির বেশিরভাগ এলাকা থেকে সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়ে। কর্নওয়ালে সূর্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত ঢাকা পড়ে। ১৯৯৯ সালের পর যুক্তরাজ্য থেকে দেখা এটিই ছিল সবচেয়ে নাটকীয় সূর্যগ্রহণ।

তবে আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু এলাকায় দৃশ্য ছিল আরও অসাধারণ। সেখানে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী প্রায় সরলরেখায় অবস্থান করায় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো অনেকটাই কমে গিয়ে চারপাশে অন্ধকার নেমে আসে। পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদের আড়াল থেকে সূর্যের করোনা বা বাইরের উত্তপ্ত বায়ুমণ্ডল দৃশ্যমান হয়।

চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন কাত্রিচিও এ দৃশ্য দেখতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আ কোরুনিয়ায় যান। পূর্ণগ্রাসের মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সবাই উল্লাস করছিলেন এবং অসাধারণ দৃশ্যের উত্তেজনা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলেন। সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে এবং সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আটকে দেয়। এবারের গ্রহণে যুক্তরাজ্যের মানুষ আংশিক গ্রহণ দেখলেও স্পেনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পূর্ণগ্রাস দেখা গেছে।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সাধারণ ঘটনা নয়। পৃথিবীর কোনো না কোনো স্থানে গড়ে প্রতি ১৮ মাসে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গেলেও নির্দিষ্ট কোনো স্থান থেকে এমন দৃশ্য দেখার সুযোগ খুবই বিরল। একই এলাকায় গড়ে প্রায় ৪০০ বছর পর পর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।

২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার এক বিশেষ সময় আসছে। এ সময়ে সূর্যগ্রহণপ্রেমীরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে একাধিক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন।

তবে যুক্তরাজ্য থেকে শিগগির পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ নেই। ২০২৭ সালে দেশটির কিছু এলাকা থেকে একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে, যেখানে সূর্যের প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে।

এরপর আরও বড় সূর্যগ্রহণ দেখতে যুক্তরাজ্যবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে ২০৮১ সাল পর্যন্ত। ওই বছর দেশটির কিছু এলাকা থেকে সূর্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ ঢাকা পড়ার দৃশ্য দেখা যেতে পারে। আর যুক্তরাজ্য থেকে পরবর্তী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০৯০ সালে।

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬০ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে সর্বশেষ ১১ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম।

স্বর্ণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ৫ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও কারিগরি সমস্যার কারণে মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এর সঙ্গে কয়লা সংকটে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ভারত থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি কমেছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের ঘাটতি বড় আকার নিয়েছে এবং উৎপাদনে ধস নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে। ফলে এখনই বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতির আশা কম।

গত কিছুদিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একদিকে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে চাহিদা বেড়েছে। লাইনের গ্যাস না পেয়ে বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সেটিও বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এ ছাড়া গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানায় নিজস্ব

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তারাও গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। এর সঙ্গে গরমে ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছেন গ্রামের মানুষ। কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে; কোথাও কোথাও ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তবে গ্রামের লোডশেডিং কমাতে এরই মধ্যে রাজধানীসহ শহরগুলোতেও লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজেদের অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দিয়েছে।

তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি
জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ঘণ্টাতেই দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি ছিল। বিকেল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ২৩৭ মেগাওয়াট। উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।

রাতে সংকট আরও বেশি। মঙ্গলবার রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৩০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ১১৬ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৫৬ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় দুই হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল রাত ১২টায় তিন হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট।

এর আগের দিনগুলোতেও পরিস্থিতি ছিল একই রকম। সোমবার সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল রাত ১২টায়, লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াট। রোববার রাত ১টায় এযাবৎকালের রেকর্ড লোডশেডিং হয়েছিল, তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।

পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, গত বছর একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এবার তা বেড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াটে উঠেছে। গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। বাসাবাড়িতেও লাইনের গ্যাস না থাকায় বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সর্বোচ্চ উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা চলছে।

গ্যাসে বড় ধাক্কা
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায়। মহেশখালীর সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। এতে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালও বয়লার-সংক্রান্ত সমস্যায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। সেখান থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২০ থেকে ২২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এ টার্মিনাল থেকে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়।

দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ এখন প্রায় ৪১ কোটি ঘনফুট। আগামী ১৫ আগস্ট নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম। এর পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেওয়া হয় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সংকটের মধ্যে তা ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছিল। গতকাল তা বাড়িয়ে প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব। তবে পরে তা কমে ৭৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে।

দেশে গাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। তবে গ্যাস সংকটের কারণে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার থেকে চার হাজার মেগাওয়াট।

সিএনজি স্টেশনে চাপ
পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনেও চাপ পড়েছে। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৩৩টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে ৩০টিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকা চালক ও ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, কয়েক দিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছেন তারা।

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর সামান্য টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে কোথাও কোথাও।

কয়লা ও আমদানিতে টান
গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা সরবরাহেও সংকট তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

পটুয়াখালীর নোরিংকো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াট কমে এখন মিলছে এক হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রেও ৫০০-৬০০ মেগাওয়াট কমে উৎপাদন হচ্ছে ৮০০-৯০০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ আমদানির ঘাটতি। জাতীয় গ্রিডের কারিগরি ও কয়লা সরবরাহ সমস্যার কারণে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট কমে আমদানি হচ্ছে ৮০০-৯০০ মেগাওয়াট।

পল্লি এলাকায় দুর্ভোগ বেশি
দেশের প্রায় পাঁচ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় চার কোটি গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায়। মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশই এসব সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পান। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও এসব এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে সমিতিগুলো।

শহর-গ্রাম সর্বত্র একই চিত্র
জাতীয় গ্রিডের ঘাটতির চাপ পড়েছে রাজধানী ও আশপাশ এলাকাতেও। কেরানীগঞ্জে সকাল থেকে দফায় দফায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। গতকাল বেলা ১১টায় যাওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যুৎ আসে। দুপুর ২টায় আবার গিয়ে ফেরে বিকেল ৪টায়। সন্ধ্যায় গিয়ে আসে রাত সাড়ে ৮টায়।

ঢাকার উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগে গতকাল সকাল ৮টায় বিদ্যুৎ যাওয়ার পর ফিরেছে দুপুর ১২টার পর। পান্থপথেও দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দিনরাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। আড়াইহাজারে তা ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা। নরসিংদীর রায়পুরায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং সাভারে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

উত্তরের জেলাগুলোতেও সংকট তীব্র। রংপুরের গ্রামাঞ্চলে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদ্যুৎনির্ভর একটি কারখানার উৎপাদন এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রায় ১০ ঘণ্টা এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির গ্রামাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। বরিশালের গ্রামাঞ্চলে প্রায় আট ঘণ্টা, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। ঝালকাঠিতে মঙ্গলবার ১১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল সাত মেগাওয়াট।

শরীয়তপুরের জাজিরার পালেরচরে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কোনো কোনো দিন ৯ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় লোডশেডিং হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা।

গোপালগঞ্জে পরিস্থিতি আরও খারাপ। জেলা শহরে প্রায় ১৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরা। সেখানে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট।

নেত্রকোনায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ১৫৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন সময়ে সরবরাহ মিলেছে প্রায় অর্ধেক।

ক্ষোভে হামলা, নিরাপত্তা চায় ৮০ সমিতি
দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ এখন শুধু অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। টাঙ্গাইল, দিনাজপুর ও পাবনায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জামুর্কি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাবস্টেশনে হামলা হয়। এতে লাইনম্যান আব্দুল লতিফ মারধরের শিকার হন।

মঙ্গলবার দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করেন। গতকাল পাবনার ঈশ্বরদীতে অতিরিক্ত লোডশেডিং ও বেশি বিলের অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। লোডশেডিংয়ে অভিযোগে গতকাল মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের অফিস ঘেরাও করেন কয়েক শ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

নেত্রকোনায় কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে গালাগাল, অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা চেয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল আইজিপির কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রতিটি অফিস, গ্রিড, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ
সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গতকাল বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। ১২ আগস্ট থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এর আগে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ ছিল। নতুন নির্দেশনায় সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আলোকসজ্জাও পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।

সমাধান কোন পথে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা কৌশল নিয়েছি। আশা করছি বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে। গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। মালয়েশিয়া থেকে অন্তত এক এলএনজি কার্গো আনার চেষ্টা চলছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে সংকট কমাতে আমাদের চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো কোনো মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে নেয়নি। তারা তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে গেছে। ফলে যে সংকট একদিন না একদিন তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটিই এখন সামনে এসেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি করতে হবে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে যুক্ত করে গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দিতে হবে।

সচিব কমিটির বৈঠক শেষ সরকারি বেতন ১০০% বাড়ানোর সুপারিশ

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না, কিছুটা কমবেশি হতে পারে। এ ছাড়া দুই ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ এসেছে। এর মধ্যে প্রথম বছর শুধু মূল বেতন, পরের বছর বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা দেওয়া হতে পারে। গতকাল বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির গতকালের শেষ বৈঠকে বেতন বাড়ানোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সব সদস্যই সই করেছেন। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। তবে আগামী দুই বছরে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে এটা পরিবর্তন করতে পারবে। এখন অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি উপস্থাপন করবে।

জানা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এর পর থেকে প্রতিবছর তাদের মূল বেতনের নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন পে স্কেলের আর আসেনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বেতনের বিষয়টি আরও পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করা হয়। এর মধ্যে পে কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে নানা আলোচনা সামনে আসে।

মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির কারণে দেরি হতে পারে 
বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি দীর্ঘ চার মাস পর্যালোচনা শেষে গতকাল চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। ফলে সচিব কমিটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করলেও মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির কারণে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে আরও দেরি হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে সচিব কমিটির এক সদস্য বলেন, সচিব কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা। আমরা জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ সবার বিষয়ে সুপারিশ করেছি। তিনি বলেন, এর পরও কেন নতুন আরেকটি কমিটি করা হয়েছে, বুঝতে পারছি না।

সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী সমকালকে বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। প্রথম বছরে বেতন, পরের বছর দেওয়া হয় ভাতা। সার্বিক বিবেচনায় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নই বাস্তবসম্মত। সচিব কমিটি দুই ধরনের প্রস্তাবই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে পারে। এর পর মন্ত্রিসভা যা ভালো মনে করবে, সেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বাজেটের ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্ত করবে না কমিশন

মানবাধিকার কমিশনের নতুন আইনের যে খসড়া মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে, তাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা নেই। বাহিনী ও সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এলে কমিশন তা তদন্ত করতে পারবে না। বরং যে বাহিনী বা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের কাছেই প্রতিবেদন চাইবে। তাতে যদি কমিশন সন্তুষ্ট না হয় বা কমিশনের সুপারিশ কার্যকরের বিষয়ে না জানায়, তবেই কমিশন তদন্ত করতে পারবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়ায় এসব বিধান রাখা হয়েছে। ২০০৯ সালের আইনে মানবাধিকার কমিশনের বাহিনী বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই। শুধু প্রতিবেদন চাইতে পারে। এই আইন বাতিল করে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে কমিশনকে তদন্ত এবং ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি সরকার অধ্যাদেশটি পাস করায়নি। পুনর্বহাল করেছে ২০০৯ সালের আইন।

বিরোধী দলের আপত্তির মুখে গত এপ্রিলে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, অধ্যাদেশটি বাতিল করলেও সরকার যুগোপযোগী মানবাধিকার কমিশন আইন করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি সরকারের গঠিত কমিটি আপত্তি তুলেছিল মানবাধিকার কমিশনের গঠন পদ্ধতি ও তদন্ত ক্ষমতা নিয়ে। সংস্থাটিতে চেয়ারম্যান, কমিশনার নিয়োগে বাছাই কমিটিতে সরকারের প্রতিনিধি কম থাকা, কমিশন কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থাকায় আপত্তি করা হয়। নতুন আইনের খসড়ায় নিয়োগ কমিটিতে সরকারের প্রতিনিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সংসদে পাস হলে তা আইনে পরিণত হবে।

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস সমকালকে বলেন, খসড়াটি আইনে পরিণত হলে মানবাধিকার কমিশন একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। শুরুতেই স্বাধীন তদন্তের পথ বন্ধ করায় অভিযুক্ত বাহিনী প্রতিবেদনে সত্য নাকি মিথ্যা বলছে– কমিশনের হাতে এমন কোনো তদন্তলব্ধ তথ্য-প্রমাণ থাকবে না, যার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা যাবে। আর চিঠি চালাচালি করতে করতেই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণাদি লোপাট হবে।

নিয়োগে সরকারের ভূমিকা বাড়ছে
বিদ্যমান আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, বাছাই কমিটির সুপারিশে রাষ্ট্রপতি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেবেন। ৭ ধারায় বলা হয়েছে, সংসদের স্পিকারের সভাপতিত্বে বাছাই কমিটির সদস্য হবেন আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্পিকারের মনোনীত সরকারি এবং বিরোধী দলের একজন করে সংসদ সদস্য (এমপি)। এ কমিটিতে বিরোধী দলের একজন এমপি বাদে সবাই সরকারের প্রতিনিধি।

২০২৫ সালের অধ্যাদেশে বিধান করা হয়, প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক হবেন বাছাই কমিটির সভাপতি। সদস্য হবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সরকারি ও বিরোধী দল মনোনীত একজন করে এমপি, মানবাধিকার বিষয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন অধ্যাপক, রাষ্ট্রপতি মনোনীত মানবাধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাগরিক প্রতিনিধি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বা তাঁর মনোনীত মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাংবাদিক এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত একজন প্রতিনিধি। তাদের সুপারিশে চেয়ারপারসন ও চার কমিশনার নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

অধ্যাদেশের মতো কমিশনের পদকে চেয়ারপারসন এবং কমিশনার নাম দেওয়া হলেও নতুন আইনের খসড়ায় স্পিকারের সভাপতিত্বে বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সদস্য হবেন আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সরকারি ও বিরোধী দল মনোনীত একজন করে এমপি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন মনোনীত একজন অধ্যাপক, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রপতি মনোনীত একজন নাগরিক প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর একজন প্রতিনিধি।

মন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তির ফলে সরকারের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে বাছাই কমিটিতে। ৯ সদস্যের কমিটির পাঁচজন সরাসরি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ফলে সরকারের পছন্দের বাইরে কারও চেয়ারপারসন, কমিশনার নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

নতুন আইনের খসড়ায় সাক্ষাৎকারের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। চেয়ারপারসন বা কমিশনারের প্রতিটি পদের বিপরীতে দুজন প্রার্থীর নামসহ একটি তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এসব নিয়োগ দেবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। একই পদে একাধিক নাম পাঠানোর কারণে সরকারের পছন্দের সুযোগ থাকছে।

অজুহাত দেখানোর সুযোগ 
বিদ্যমান আইনে বলা নেই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কী হবে। অধ্যাদেশে বিধান ছিল, মানবাধিকার লঙ্ঘনে কোনো অজুহাত দিয়ে রেহাই পাওয়া যাবে না। ল্যাপস (অকার্যকর) হওয়া অধ্যাদেশের ১৫ ধারায় বলা হয়েছিল, সংবিধান বা বলবৎ কোনো আইনে স্পষ্টভাবে সমর্থিত না হলে, কেবল সরকারি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বা নির্দেশে করা হয়েছে– এমন অজুহাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না।

নতুন আইনের খসড়ায় এই বিধান নেই। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সরকার উল্টো যাত্রা করছে। কারণ, সরকারি বাহিনীগুলোর সদস্যরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ওপর মহলের আদেশের কথা বলে। এর মাধ্যমে রেহাই পায়। আবারও সেই সুযোগ রাখা হচ্ছে।

‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে অনুমতি লাগবে
অধ্যাদেশে কমিশনকে কারাগার ও হাজতখানাসহ যে কোনো আটককেন্দ্র, নিরাপত্তা হেফাজত, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কিংবা চিকিৎসা বা যেখানে মানুষকে অন্তরীণ রাখা হয়, তা পরিদর্শন এবং অবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারকে সুপারিশ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু খসড়া আইনের ১৩ ধরায় বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তকালীন বা পরবর্তী সময়ে যে কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে যে কোনো স্থান, অফিস-আদালত, হাজতখানা বা আটককেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারবে কমিশন।

শেখ হাসিনার শাসনামলে বিভিন্ন বাহিনী আয়নাঘরখ্যাত গোপন বন্দিশালা পরিচালনা করে। যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটক রাখা হতো। আইনের খসড়া অনুযায়ী এমন বন্দিশালা পরিদর্শনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে। যদিও অতীতে কর্তৃপক্ষ কখনোই এমন বন্দিশালার অস্তিত্ব স্বীকার করেনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত নয়
২০০৯ আইনের সবচেয়ে বড় সমালোচনা ছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা না থাকা। বিদ্যমান এ আইনের ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা বাহিনীর বা এর সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে, সরকার তা দেবে। প্রতিবেদনে কমিশন সন্তুষ্ট না হলে করণীয় সম্পর্কে সরকারের কাছে সুপারিশ করতে পারে। সুপারিশ পাওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে সরকার গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে কমিশনকে জানাবে।

২০২৫ সালের অধ্যাদেশে কমিশনকে বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের তিন মাসের প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

তবে কমিশনের ক্ষমতা অধ্যাদেশের তুলনায় একেবাবেই কমে যাচ্ছে খসড়া আইনের ১৯ ধারায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুমের অনুসন্ধানে গঠিত কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাবিলা ইদ্রিস বলেন, মানবাধিকার কমিশন দেশজুড়ে নিজস্ব তদন্ত কর্মকর্তা ও দল দিয়ে তদন্ত করতে পারলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে না। উল্টো কমিশনকে অভিযুক্ত বাহিনীর কাছ প্রতিবেদন চাইতে হবে। মানে, বাহিনী নিজেই নিজেকে তদন্ত করবে। এতে কমিশন সন্তুষ্ট না হলে করণীয় সুপারিশ করবে। কিন্তু খসড়ায় বলা হয়নি, বাহিনী কত দিনের মধ্যে কমিশনকে প্রতিবেদন দেবে। এতে ফাঁক রাখা হয়েছে। চাইলে তো বাহিনী অনন্তকাল সময় নিতে পারবে বা বিলম্ব করতে পারবে।

গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬০ টাকা চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি, আটা-ময়দায় নতুন চাপ ডিটারজেন্ট পাউডার কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে

এবার মৌসুমেও চালের দাম ছিল বেশ চড়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চালের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। তবে নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে আটা-ময়দা। গত এক মাসে আটা ও ময়দার দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিটারজেন্ট পাউডার ও গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে। তবে সবজির বাজার কিছুটা স্থির রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাসখানেক ধরে আটা-ময়দার দাম বাড়তি। কিছু কোম্পানি ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম বাড়িয়েছে। তবে এসব পণ্যের সরবরাহে তেমন কোনো ঘাটতি নেই। এ ছাড়া আমদানির কারণে কাঁচামরিচের দাম আগের অবস্থানে ফিরেছে। সবজির সরবরাহ কিছুটা বাড়ার কারণে দাম স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও কলোনি বাজার, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বছর ভরা মৌসুমেও চালের দাম ছিল বেশ চড়া। সপ্তাহ দুয়েক ধরে দাম কমতে থাকে। বর্তমানে সরু বা মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা মাসখানেক আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। মাঝারি, অর্থাৎ পাইজাম ও বিআর-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়। ২০-২৫ দিন আগে এ জাতের চালের কেজি ছিল ৫৫ থেকে ৬৮ টাকা। মোটা চালের দামও কমেছে। এক মাস আগে স্বর্ণা বা চায়না ইরি জাতের মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেনা যাচ্ছে ৫০ থেকে ৫৪ টাকা করে।

চালের দামের এই স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে আটা-ময়দা। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটা ৪৫ থেকে ৫০ ও মোড়কজাত ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ২০-২৫ দিন আগে এ দুই ধরনের আটা কেনা গেছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৬০ থেকে ৬৫ এবং মোড়কজাত ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা মাসখানেক আগে কেনা গেছে যথাক্রমে ৫৫ থেকে ৬০ ও ৬০ থেকে ৭৫ টাকা দরে। অর্থাৎ, গত প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে আটা ও ময়দার কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে।

আটার মতো সুগন্ধি চালের বাজারেও অস্বস্তি রয়েছে। খোলা প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ২০০ আর প্যাকেটজাত চাল ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান সমকালকে বলেন, এক মাস ধরে আটার দাম বাড়তি। আগে দুই কেজির আটার প্যাকেটে সর্বোচ্চ খুচরা দাম ছিল ১২০ টাকা, দাম বাড়িয়ে কোম্পানিগুলো নতুন দর লিখেছে ১৩০ টাকা। একইভাবে দুই কেজির ময়দার প্যাকেটের খুচরা দর ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে নির্ধারণ করেছে ১৬০ টাকা। তিনি বলেন, কোম্পানি দাম বাড়ানোর কারণে খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে।

একই বাজারের হাবিব জেনারেল স্টোরের বিক্রয়কর্মী রাতুল হাসান বলেন, কাপড় ধোয়ার হুইল পাউডার কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়েছে কোম্পানি। আগে এক কেজির দাম ছিল ১৪৬ টাকা, এখন ১৬৫ টাকা। একইভাবে ৯০ গ্রাম ওজনের লাক্স সাবান প্রতিটির দাম ৬০ টাকা থেকে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হয়েছে।

বাজারে গুঁড়া দুধের দামও বাড়তি দেখা গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি প্যাকেট গুঁড়া দুধের দাম ছিল ৪৫০ টাকা, এখন ৪৮০ টাকা। অর্থাৎ, কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। একইভাবে ডিপ্লোমাসহ অন্য ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে।

তবে গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির বাজার কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষ করে ১০ দিন আগে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের কেজি নেমেছে ১৩০ থেকে ১৮০ টাকায়। অন্য সবজিগুলোর দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকার মতো কম দেখা গেছে। গেল সপ্তাহে প্রতি কেজি গোল বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০, করলা, বরবটি ও কাঁকরোল ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল এসব সবজি বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে কমবেশি ১০০, ৮০ ও ৭০ টাকায়। ধুন্দল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। পেঁপে কেজিতে পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। তবে এলাকাভিত্তিক ছোট বাজারগুলোর তুলনায় কারওয়ান বাজারে কিছুটা কম দামে সবজি পাওয়া যায়।

গত সপ্তাহের মতোই চড়া দেখা গেছে ডিমের বাজার। ফার্মের সাদা রঙের প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ এবং বাদামি রঙের ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। ব্রয়লার কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। এ ছাড়া সোনালি জাতের মুরগিও কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়।