Home Blog Page 4

কীটনাশক মেশানো সবজি চেনার উপায়

আজকাল প্রায় সব ধরনের খাবারে ফরমানিন, কীটনাশক মেশানো হচ্ছে। কীটনাশকযুক্ত সবজি প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাজারের চকচকে সবজির আড়ালে বিষযুক্ত সবজি চেনার কিছু সহজ উপায় রয়েছে। ‘নিউজ নাইনে’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এমনই কিছু কৌশলের কথা।

অধিকাংশ মানুষই বাজারে গিয়ে একটু খুঁত থাকা বা পোকায় খাওয়া সবজি কিনতে চান না। অথচ কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সবজিতেই রাসায়নিক প্রয়োগ সবচেয়ে কম হয়। এ কারণে খুব বেশি নিখুঁত সবজি না কিনে সাধারণ চেহারার সবজি কেনাই ভালো।

যারা নিয়মিত বাজার করেন লক্ষ্য করলে দেখবেন, অনেক পটল বা কাঁচা মরিচের রং অস্বাভাবিক রকমের সবুজ। এই ধরনের সবজিতে ম্যালাকাইট গ্রিন নামের মারাত্মক এক ধরনের রাসায়নিক মেশানো হয় যা শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এ কারণে অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা গাঢ় রঙের সবজি না কেনাই ভালো।

সবজিতে কীটনাশকের উপস্থিতি বোঝার আরও একটি সহজ উপায় হচ্ছে গন্ধ। যদি কোনও সবজি থেকে স্বাভাবিক গন্ধের বদলে ওষুধের মতো গন্ধ বেরোয়, তবে তা এড়িয়ে চলুন। কারণ অতিরিক্ত স্প্রে করার ফলেই সবজির থেকে এ ধরনের গন্ধ বের হয়।

আজকাল অসময়েও বাজারে ফুলকপিসহ অন্যান্য সবজি মেলে। এ ধরনের সবজিতে কৃষকরা বাধ্য হয়ে প্রচুর রাসায়নিক ব্যবহার করেন। তাই সুস্থ থাকতে সব সময় মৌসুমি সবজি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।

যেভাবে সবজি পরিষ্কার করবেন-

শুধু পানি দিয়ে ধুলে সবজির থেকে বিষ দূর হবে না। এক গামলা পানিতে ১ চা চামচ বেকিং সোডা দিয়ে সবজিগুলো ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, তারপর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন।
বেকিং সোডা না থাকল হালকা গরম পানিতে ভিনেগার বা লবণ মিশিয়ে ধুলেও কীটনাশকের প্রভাব অনেকটা কমে যায়।

সবজি খোসা ছাড়িয়ে খেলেও পরিষ্কার করাটা জরুরি। মনে রাখবেন, দেখতে খারাপ হলেও প্রাকৃতিক সবজিই শরীরের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। তাই বাইরের চকচকে ভাব দেখে ভুল সবজি না কিনে  সঠিক সবজি চেনার কৌশল অনুসরণ করুন।

ওজন কমাতে ট্রেডমিল নাকি বাইরে হাঁটা

ওজন কমানো ও শরীর সুস্থ রাখতে হাঁটা সহজ ও কার্যকর ব্যায়াম। তবে ট্রেডমিলে হাঁটা ভালো, নাকি বাইরে হাঁটা, এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। আসলে দুটির কোনোটিকেই সরাসরি সেরা বলা যায় না। ক্যালোরি খরচের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো হাঁটার গতি, সময়, শরীরের ওজন ও কতটা পরিশ্রম করছেন।

ট্রেডমিলে হাঁটা সুবিধা

ট্রেডমিলে হাঁটার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ। বৃষ্টি, অতিরিক্ত গরম বা খারাপ আবহাওয়া থাকলেও ঘরে থেকেই হাঁটা যায়। সময় ও গতি নিজের মতো করে ঠিক করা যায়। ট্রেডমিলের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ঢাল বা ইনক্লাইন বাড়িয়ে হাঁটলে শরীরে বেশি চাপ পড়ে এবং ক্যালোরিও বেশি খরচ হয়। এতে পায়ের পাশাপাশি নিতম্বের পেশিও বেশি কাজ করে। ব্যস্ত মানুষ বা নিয়মিত ব্যায়ামের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখতে চান, তাদের জন্য ট্রেডমিল সুবিধাজনক।আধুনিক ট্রেডমিলে সাধারণত কতক্ষণ হাঁটছেন, কত দূরত্ব অতিক্রম করছেন, গতি কত এবং আনুমানিক কত ক্যালোরি খরচ হচ্ছে, সেসব তথ্য দেখা যায়। ফলে নিজের অগ্রগতি বোঝাও সহজ।

বাইরে হাঁটার সুবিধা

বাইরে হাঁটার সময় রাস্তার অসমতল অংশ, ঘাস, ফুটপাত বা ঢালু পথের সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে হয়। এতে পা, গোড়ালি, কোমর ও শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখার পেশিগুলো বেশি সক্রিয় হয়। এ ছাড়া বাইরে হাঁটার সময় বাতাসের বাধা ও রাস্তার ওঠানামার কারণে সমতল ট্রেডমিলের তুলনায় কিছুটা বেশি ক্যালোরি খরচ হতে পারে। তবে এই পার্থক্য সাধারণত খুব বেশি নয়। বাইরে হাঁটার আরেকটি বড় সুবিধা হলো মানসিক প্রশান্তি। পার্ক, খোলা জায়গা বা গাছপালার মধ্যে হাঁটলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমতে এবং মেজাজ ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে হাঁটা অনেকের কাছে ব্যায়ামের চেয়ে আনন্দদায়ক অভ্যাস হয়ে ওঠে।

কোনটিতে বেশি ক্যালোরি খরচ হয়?

ক্যালোরি খরচের ক্ষেত্রে জায়গার চেয়ে হাঁটার গতি, সময়, শরীরের ওজন ও পরিশ্রমের মাত্রা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই গতি ও একই সময় ধরে ট্রেডমিল ও বাইরে হাঁটলে ক্যালোরি খরচের পার্থক্য সাধারণত খুব সামান্য। তবে ট্রেডমিলে ইনক্লাইন বাড়িয়ে হাঁটা বা বাইরে উঁচু-নিচু পথে হাঁটলে পরিশ্রম বাড়ে। ফলে ক্যালোরিও বেশি খরচ হয়।

ওজন কমাতে কোনটি ভালো?

ওজন কমানোর জন্য ট্রেডমিল বা বাইরে হাঁটা, দুটিই কার্যকর। সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো যেটি নিয়মিত করা সম্ভব, সেটিই বেছে নেওয়া। বৃষ্টির দিনে বা ব্যস্ততার কারণে বাইরে হাঁটা সম্ভব না হলে ট্রেডমিল ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার ভালো আবহাওয়ায় বাইরে হাঁটলে শারীরিক ব্যায়ামের পাশাপাশি প্রকৃতির পরিবেশও উপভোগ করা যায়। চাইলে দুটিই পালা করে করা যায়।

তবে শুধু হাঁটলেই ওজন কমবে এমন নয়। হাঁটার পাশাপাশি সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করলে ওজন কমানোর ফল আরও ভালো হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, হাঁটার অভ্যাসে নিয়মিত থাকা।

থাইল্যান্ডে দুর্ঘটনায় আহত খায়রুল বাসার

থাইল্যান্ডে নাটকের শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অভিনেতা খায়রুল বাসার। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন নাটকের চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনিও। বর্তমানে দুজনই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রয়েছেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টার পর থাইল্যান্ডের কোলান দ্বীপে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, একটি নাটকের দৃশ্য ধারণ শেষে পাহাড়ি এলাকা থেকে স্কুটিতে করে নিচে নামার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান তারা। দুর্ঘটনার সময় স্কুটিটি চালাচ্ছিলেন চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনি। দুর্ঘটনার পর শুটিং দলের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পরে আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খায়রুল বাসার জানান, নাটকের শুটিংয়ের জন্য তারা থাইল্যান্ডে গেছেন। কাজও পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছিল। কোলান দ্বীপে একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের অংশ হিসেবে পাহাড়ের ওপর অবস্থান করছিলেন তারা। শুটিং শেষ করে ফেরার পথেই ঘটে বিপত্তি।

4414 1786457274

দুর্ঘটনায় নিজের আঘাতের বিষয়ে অভিনেতা জানান, তাঁর বুকে ও হাঁটুতে আঘাত লেগেছে। হাঁটাচলাতেও বেশ সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য বর্তমানে পাতায়ায় অবস্থান করছেন তিনি। দুর্ঘটনার পর নাটকের শুটিং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। মেহেদী রনির আঘাত তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর বলে জানিয়েছেন খায়রুল বাসার। দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ছিঁড়ে গেছে।

জানা গেছে, থাইল্যান্ডে একাধিক নাটকের শুটিংয়ের পরিকল্পনা নিয়ে গিয়েছিলেন খায়রুল বাসার। ঈদের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে বিদেশের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

দুর্ঘটনার কারণে আপাতত সব কাজ স্থগিত রাখতে হয়েছে। চিকিৎসা শেষে বিশ্রাম নিয়ে শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। এরপরই থাইল্যান্ডের বাকি শুটিং কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ইরানের হামলার হুমকিতে তুরস্ক থেকে গোপনে বিমান বদলের কথা নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত মাসে ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ছাড়ার সময় সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় তিনি গোপনে বিমান বদলেছিলেন। মার্কিন নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের পরামর্শেই তাকে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার ওহাইওতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী আমাকে অন্য ফ্লাইট, অন্য বিমানে যেতে বলেছিল। আমাকে তাদের কথাই মানতে হয়।’ তবে কোন ধরনের হুমকি ছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে চাননি বলে জানান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনেই তাঁকে বিমানে উঠতে দেখা যায়। কিন্তু পরে জানা যায়, এটি ছিল একটি বিভ্রান্তিমূলক ব্যবস্থা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে গোপনে বিমান থেকে বের করে ছোট একটি সামরিক বিমান সি৩২-এ-তে নেওয়া হয়। ওই বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। ট্রাম্পের প্রকৃত বিমানটি কলসাইন ব্যবহার করে উড্ডয়ন করে। অন্যদিকে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীকে নিয়ে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান এএফ১ কলসাইন ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশ্বাসযোগ্য ইরানি হুমকি শনাক্ত করেছিল। এ কারণে প্রেসিডেন্টকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, শেষ পর্যন্ত তিনি যে সামরিক বিমানে উঠেছিলেন, সেটিই সম্ভবত ‘আরও বেশি ঝুঁকির’ মধ্যে ছিল। তার ভাষায়, ‘আমি অনেক হুমকি পাই, যেগুলো আপনারা জানেন না।’

এদিকে পুরো ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়ার পর যে বিমানে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মীরা ছিলেন, সেটিকে কেন বিভ্রান্তিমূলক বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হলো। তাঁদের অনেকেই জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট আর ওই বিমানে নেই।

বিমানটিতে থাকা সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল, তারা যেন জানালার পর্দা নামিয়ে রাখেন। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নির্দেশ সাংবাদিকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিল। একজন ফটোগ্রাফার অল্প সময়ের জন্য জানালার পর্দা তুললে তাকে দ্রুত তা নামিয়ে দিতে বলা হয়।

এর আগে তুরস্ক ছাড়ার সময় সাংবাদিকেরা ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখেছিলেন। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘পুরোনো দিনের কথা মনে করতেই’ তিনি ওই বিমানে যাচ্ছেন। পরে জানা যায়, সেটিও ছিল নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছিল, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা তীব্র ছিল। ট্রাম্প আগেও বলেছিলেন, ইরানের কাছে তিনি ‘এক নম্বর লক্ষ্য’। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি থাকলে সাংবাদিকদের তা জানানো উচিত, যাতে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪০, নিখোঁজ অন্তত ৩ হাজার

কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে মঙ্গলবারও নিরলস অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাদের ভাষায়, ‘প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।’

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে পশ্চিম কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালি ও পেরেইরা শহর। বহু ভবন ধসে পড়েছে, হাজারো বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ও জরুরি সেবা ব্যাহত হয়েছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি কালি। সেখানে মঙ্গলবার ভোরে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করেন দমকলকর্মীরা। ভূমিকম্পের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলা হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেছে-‘প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।’

ভূমিকম্পের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দ্রুত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। গত শুক্রবারই তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সোমবার রাতে তিনি কালিতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আশপাশের ভালে দেল কাওকা বিভাগে প্রায় ৫ হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ১৮৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

পেরেইরা শহরেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। কালির প্রায় ১৩০ মাইল উত্তরে অবস্থিত শহরটিতে ৫৮টি ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনের কয়েকটিতে অন্তত ৫৩ জন আটকা পড়ে আছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। সেখানে অন্তত ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। শহরটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

১৯৯৯ সালের পর এটিই কলম্বিয়ায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। ওই বছরের জানুয়ারিতে দেশটির একই পশ্চিমাঞ্চলের কফি উৎপাদনকারী এলাকায় ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এদিকে লুটপাট ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এক হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধারকর্মীরা অবশ্য এখনো ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। একের পর এক জীবিত মানুষকে উদ্ধারের ঘটনা তাদের আশাবাদী করে তুলেছে। উদ্ধারকারীদের বার্তা-ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সামান্যতম সম্ভাবনা থাকলেও অভিযান চালিয়ে যেতে হবে, কারণ ‘প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ’।

খাদ্য ব্যবসায় লাগবে নিবন্ধন, হয়রানির শঙ্কা ব্যবসায়ীদের

দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সব খাবার দোকানকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের খাদ্য ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন নিতে হবে। নির্দিষ্ট ও বিশেষ ধরনের খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে নিতে হবে লাইসেন্স। এভাবে রাস্তার পাশের দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান– সবাই সরকারের নির্ধারিত আইনি কাঠামোর আওতায় আসবে।
সম্প্রতি জারি করা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) এক নতুন প্রবিধানমালায় এসব কথা বলা হয়েছে। এ নিয়ে ব্য়বসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরের লাইসেন্স ও নিরাপত্তার ছাড়পত্র নিতে গিয়ে নানা জটিলতায় পড়তে হয়। বর্তমানে ১২টি সরকারি সংস্থা আলাদাভাবে তদারকি ও অভিযান চালানোর নামে তাদের নিয়মিত হয়রানি করে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি, পুরো খাতটি একটি কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার অধীনে পরিচালিত হোক। কিন্তু তা না করে নতুন করে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা মানে আরেকটি বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া। এতে ‘লাইসেন্স বাণিজ্যের’ সুযোগ তৈরি হবে। ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন। তাদের মতে, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছাড়া শুধু একটি বিধিমালা দিয়ে বিপুলসংখ্যক ব্যবসাকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনা তথা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

লাখ লাখ ব্যবসায়ীকে লাইসেন্সের আওতায় আনার মতো সক্ষমতা রয়েছে কিনা সেই প্রশ্নও তুলছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বিদ্যমান অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়হীনতা এবং অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়বে। এতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার চেয়ে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও জটিল হবে। যদিও বিএফএসএর দাবি, খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব এবং সে জন্য এই উদ্যোগ। নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে হবে। অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকবে না।

কী আছে আইনে
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর আওতায় নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে সরকার; গত ১৬ জুলাই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাদ্য ব্যবসায়ীদের শুধু নিবন্ধন নিতে হবে। যেমন– রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ এবং ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং আমদানিকারকদেরও (কাঁচা ও তাজা খাবার বাদে) বিএফএসএ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। এমনকি রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবারের ব্যবসায়ীদেরও নিবন্ধন করতে হবে।

অন্যদিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ বা বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ব্যবসা, যেমন– শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি খাবার, ফর্টিফায়েড খাবার, অর্গানিক পণ্য, জিনগত পরিবর্তন করা খাবার এবং বিকিরণের মাধ্যমে সংরক্ষিত খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। বেসরকারি খাদ্যের গুদাম ও হিমাগারও লাইসেন্সের আওতায় আসবে। ভোজ্যতেলের পাইকারি বা বাণিজ্যিক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত, আমদানি এবং বাজারজাতকরণে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও এই বিধিমালার আওতাভুক্ত হবেন।

বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং এরপর এটি নবায়ন করতে হবে। নিবন্ধনের ফি এক হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা এবং নবায়নের খরচ হবে ৫০০ টাকা। খাবারের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হবে ফ্লোরের আকারের ওপর ভিত্তি করে। ছোট দোকানের জন্য এই ফি এক হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গফুটের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য পাঁচ হাজার টাকা। খাদ্য মজুত করার ক্ষেত্রে ২০ হাজার বর্গফুটের চেয়ে বড় গুদামের লাইসেন্স নিতে দিতে হবে ৪০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশে খাদ্য পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে চার লাখ। এর মধ্যে হোটেল রেস্তোরাঁ ও চা-স্টলও আছে। ফাস্টফুডের দোকান আছে প্রায় ৬৭ হাজার। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে জানান খাত-সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার রেস্তোরাঁ আছে।

হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
রাস্তার পাশের বিভিন্ন খাবারের দোকানগুলো ভাসমান, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষুধা নিবারণের ভরসাস্থল। নিবন্ধন না নিলে এসব দোকান বন্ধ হয়ে যাবে কিনা, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে দুই দশক ধরে পরোটা বিক্রি করে সংসার চালান মাসুদ মিয়া। সমকালকে তিনি বলেন, কম পুঁজির ব্যবসা। এর মধ্যে নিবন্ধন নিতে হলে সীমিত লাভের ওপর হয়রানি ও বাড়তি চাঁদা বসবে। তাঁর মতে, কীভাবে নিবন্ধন নিতে হবে, কার কাছে যেতে হবে– এসবের কিছুই ছোট ব্যবসায়ীরা বুঝবে না। কারণ তাদের বেশির ভাগই কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত। নিবন্ধন না নিলে যদি দোকান বন্ধ হয়, তাহলে গরিব মানুষ কোথায় খাবে সেই প্রশ্ন তোলেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁগুলো বাজার থেকে যে কাঁচামাল কিনে আনে, তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কে দেবে তা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু জরিমানা করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা ঝুঁকি দূর করা সম্ভব নয়।

লাইসেন্স নেওয়া বা না নেওয়া– উভয় ক্ষেত্রেই বিপদে পড়বেন ব্যবসায়ীরা এমন মন্তব্য করে ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁগুলোকে কমপ্লায়েন্সের (সব নিয়ম মেনে চলা) আওতায় আনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।

ইমরান হাসান বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর বিজিএমইএ নিজেদের উদ্যোগে কারখানাগুলোকে কমপ্লায়েন্স করেছে। সরকার সহযোগিতা করলে পোশাক খাতের আদলে সমিতির নিজস্ব তদারকির মাধ্যমে রেস্তোরাঁ খাতকেও কমপ্লায়েন্সের আওতায় আনা সম্ভব। সমিতির পক্ষ থেকে ছাড়পত্র প্রদান এবং প্রাথমিক পর্যায়ের তদারকি করা হলে খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে বিএফএসএ এবং রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি যৌথভাবে কাজ করতে পারে।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে ইমরান হাসান এই প্রক্রিয়ায় শুধু আমলাদের ওপর নির্ভর না করে ফুড কন্টামিনেশন, হাইজিন ও হ্যাজার্ড বোঝেন– এমন খাদ্য বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানান।
স্বয়ংক্রিয় কিংবা হাতে তৈরি– সব ধরনের বেকারিও এই নীতিমালার আওতায় আসবে এবং তাদের লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রুটি, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া যদি সুশৃঙ্খল হয় এবং এর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটে, তবে ব্যবসায়ীরা একে স্বাগত জানাবেন। কিন্তু লাইসেন্স করতে গিয়ে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হলে অর্থাৎ এক টাকার লাইসেন্সে ২৫ টাকা ব্যয় হলে সেটি হবে ব্যবসায়ীদের জন্য বড় বোঝা।

জালাল উদ্দিনের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে সাত হাজারের বেশি ছোট-বড় বেকারি রয়েছে, যেগুলোতে রুটি-পাউরুটি হাতে বানানো হয়। বড় কোম্পানিগুলোর আধিপত্যের কারণে এরা অনেকটা কোণঠাসা। এমন পরিস্থিতিতে লাইসেন্সিং ব্যবসায়ীদের জন্য হয়রানির কারণ হলে তারা আরও বিপদে পড়বেন। এতে সরকারের ভালো উদ্দেশ্যের চেয়ে নেতিবাচক প্রভাবই বেশি দেখা দেবে।

এ ব্যাপারে টি.কে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার বলেন, একই ব্যবসার জন্য একাধিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বিধান কোনোভাবেই কাম্য নয়। এমনিতেই বিএসটিআইর লাইসেন্স বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তার ওপর একই কাজের জন্য দুই-তিনটি অনুমোদন নেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
লাখো খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁ তদারকির আওতায় আনার সক্ষমতা বিএফএসএর আছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। তাঁর মতে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি-রপ্তানি নীতি রয়েছে। খাবারের মান নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশে বিএসটিআই রয়েছে। বিএফএসএ খাদ্যপণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে নিতে চাচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের নতুন করে জটিলতা বাড়াবে।

ক্যাব সভাপতি বলেন, কর্তৃপক্ষের দাবি, লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে হবে বলে কোনো হয়রানি হবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পাসপোর্ট বা বিআরটিএর মতো সেবাগুলো অনলাইন হওয়ার পরেও মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে।

দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না দাবি বিএফএসএর
বিএফএসএর কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সবার জন্য সরাসরি লাইসেন্স নয়। প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে এবং পরবর্তী ধাপে লাইসেন্স দেওয়া হবে। বিএসটিআইর সনদ যাদের রয়েছে তাদের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করার পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে আমদানি করা খাদ্যপণ্য ঠিক আছে কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য বন্দরগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

হয়রানি ও ঘুষ-বাণিজ্যের আশঙ্কার বিষয়ে বিএফএসএর চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, হয়রানি কমাতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করার মেকানিজম করা হচ্ছে। এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। নিবন্ধনের জন্য ফি অনেক কম হবে। তিনি বলেন, খাবার ব্যবসায়ীদের তালিকা বা ডেটাবেজ না থাকলে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার ধারের খাবারকেও নজরদারিতে আনা জরুরি, যাতে কেউ খাবারের সাথে ক্ষতিকর কিছু মিশিয়ে দিতে না পারে।

কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, অনলাইন সিস্টেম চালু হলে প্রক্রিয়াটি সহজ হবে। সারাদেশে প্রায় ১০ লাখ ১৩ হাজার খাদ্য ব্যবসায়ীর ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী ছয় মাসের মধ্যে শেষ হতে পারে। এই তালিকায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় সব ধরনের ব্যবসায়ী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ভাসমান বা সিজনাল স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের শনাক্ত করা কিছুটা কঠিন হলেও তাদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে।

রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন মির্জা ফখরুল ইসলামই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী ২০ আগস্ট সংসদ কক্ষে ভোট নেবেন সিইসি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষের দিকে। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনও প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করলেও দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৭ আগস্ট এ অধিবেশন বসবে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। জুলাই জাতীয় সনদে এই নির্বাচন গোপন ব্যালটে হওয়ার কথা ছিল। তবে বিদ্যমান আইনে নির্বাচন প্রকাশ্যে হওয়ার কথা বলা আছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মধ্যে যৌথ সভা হয়। বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি। সুতরাং কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল হবে। ভোট হবে প্রকাশ্য ব্যালটে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গতকাল জানিয়েছেন, আগামী ২০ আগস্ট বিরতিহীনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ ভোট হবে।

প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও ঘোষণা করেনি বিএনপি
নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে ক্ষমতাসীন বিএনপিতে। শুরুতে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই সবাই এগিয়ে রাখছেন। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি নন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য সমকালকে বলেন, দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষতা এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন এমন একজনকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করবে বিএনপি। সেই হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই যোগ্য ও আস্থাভাজন হিসেবে সবাই মনে করছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান অংশ নেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে।

তিনি বলেন, (ভারপ্রাপ্ত) রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং (ভারপ্রাপ্ত) স্পিকারের ভোট দেওয়ার সময়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোট শেষের পর গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।

সংসদ সদস্যদের বৈঠক ডেকেছে ইসি
আগামী ২০ আগস্ট হতে যাচ্ছে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এ উপলক্ষে ওই দিন সংসদ সদস্যদের (এমপি) বৈঠক ডেকেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেদিন দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ বৈঠক হবে। গতকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনী কর্তা’ সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের পক্ষে এ-সংক্রান্ত নোটিশ জারি করেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

মন্ত্রিসভা ও বিএনপিতে পরিবর্তনের হাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষের দিকে। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে। সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জোটের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এখনও প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করলেও দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ডেকেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২৭ আগস্ট এ অধিবেশন বসবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তাঁকে দলের মহাসচিবের পদ এবং মন্ত্রিসভা; উভয় স্থান থেকেই পদত্যাগ করতে হবে। ফলে বিএনপি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পদে দেখা যেতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন।

এমন অবস্থায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছে বিএনপি। ফলে কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রিজভী। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে ক্ষমতাসীন বিএনপিতে। শুরুতে অনেকের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই সবাই এগিয়ে রাখছেন। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি নন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য সমকালকে বলেন, দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষতা এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন এমন একজনকেই রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করবে বিএনপি। সেই হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই যোগ্য ও আস্থাভাজন হিসেবে সবাই মনে করছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কার, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের লক্ষ্যে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও গবেষণা উদ্যোগ ‘সেন্টার ফর সোসাইটি অ্যান্ড কালচার’ (সিএসসি) আত্মপ্রকাশ করেছে।

গত ৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে ‘৩৬ জুলাই: ইগনিটেড ইন রেসিলিয়েন্স, ইউনাইটেড ফর দ্য ফিউচার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির প্রথম প্রকাশ্য কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও সাংস্কৃতিক জাগরণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সিএসসির উদ্যোগে জুলাই হাউস, BAND, SAVE Bangladesh, সোচ্চার ও দ্য বেঙ্গল কাউন্সিলের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে আলোচনা ও প্যানেল আলোচনা এবং দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

আলোচনা পর্বে অংশ নেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ‘জুলাই রেকর্ডস’-এর চেয়ারম্যান কাজী ওয়ালি উল্লাহ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ রাব্বির বোন মিম আক্তার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব এবং ‘ডেইলি ওয়াদা’র সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাংলাদেশপন্থি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কাজী ওয়ালি উল্লাহ আন্দোলনের মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। শহীদ রাব্বির বোন মিম আক্তার ভাইয়ের মরদেহ বহনের আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন এবং তৎকালীন সরকারের আমলে সংঘটিত নৃশংসতার দ্রুত বিচার দাবি করেন।

শফিকুল আলম জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাংবাদিকদের জীবনঝুঁকি এবং তৎকালীন মূলধারার গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে নানা বাধার কথা তুলে ধরেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়ব প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেধা ও দক্ষতাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নে তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের যাত্রায় তাঁর সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান। ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় প্রবাসীদের আন্দোলন সংগঠনে নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকে শহীদদের নামসংবলিত বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূতের পক্ষে তাঁর স্ত্রী তামান্না তাহসিন সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এ ছাড়া ড. নুসরত রহমান, মুনিবা ফখরুল ও শাফকাত রাব্বির অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, জনমত গঠন এবং দাবি আদায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বক্তব্য দেন সিএসসির বোর্ড ডিরেক্টর মুনা হাফসা এবং প্রধান সদস্য রেদওয়ান হোসেন তালুকদার। তারা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ সাংস্কৃতিক উদ্যোগের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। দেশের রাজধানীর বাইরের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে শুরু করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও সাংস্কৃতিক জাগরণ ছড়িয়ে দেওয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন গান, কবিতা ও নাটক পরিবেশন করা হয়। কনসার্টের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন রক সংগীতশিল্পী জন কবির। তাঁর পরিবেশনায় মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকেরা সম্মিলিতভাবে গানে অংশ নেন।

ওহাইওভিত্তিক ব্যান্ড ‘কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড রক’ (সিএফআর) এর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়। এতে সিএসসির সদস্য শেখ আহমেদ সাকিব কিবোর্ড ও ভোকালিস্ট হিসেবে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ‘মুক্তির মন্দির’, ‘৩৬ জুলাই’, জেমসের ‘বাংলাদেশ’ এবং ‘কাকতালের ওই মা তোর পোলা মরে নাই’সহ বিভিন্ন গান পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কবিতা আবৃত্তি ও একটি সংক্ষিপ্ত নাটক মঞ্চস্থ করা হয়।

অনুষ্ঠানস্থলে মূল আয়োজনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক প্রদর্শনী ও মেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ থেকে আনা জুলাই আন্দোলনবিষয়ক বিভিন্ন বই প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। শিল্পী দেবাশীষ চক্রবর্তীর অনুমতি নিয়ে তাঁর আঁকা জুলাই আন্দোলনের নির্বাচিত কিছু পোস্টার পুনর্মুদ্রণ করে বিক্রিরও ব্যবস্থা করা হয়।

আয়োজকদের ভাষ্য, প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও বিস্তৃত করাই সিএসসির অন্যতম লক্ষ্য।

সারাদেশে লোডশেডিং পোলট্রি, মৎস্য ও কৃষি খাত ধুঁকছে মরছে মুরগি, চিংড়ি ঘেরে অক্সিজেন সংকট

গ্যাস সংকটের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং। শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষকে এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বেশি। জেলা শহরে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও কোনো কোনো গ্রামাঞ্চলে দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যুতের এই অনিয়মিত সরবরাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, পোলট্রি ও মৎস্য খাত। ব্যাহত হচ্ছে সেচ, বরফ উৎপাদন ও চিংড়ি ঘেরের এয়ারেটর চালানো। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় মারা যাচ্ছে মুরগি। বিদ্যুৎনির্ভর হিমাগারে আলু, বীজ ও পেঁয়াজ সংরক্ষণেও দেখা দিয়েছে নতুন ঝুঁকি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। ছোট খামারি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের অনেকেই সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ইলিশ মৌসুমে বরফের সংকট
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কক্সবাজার, চাঁদপুর, নোয়াখালী, বরিশাল ও পটুয়াখালীর মৎস্য খাত। এখন ইলিশ ধরার মৌসুম। সাগর থেকে ধরা মাছ সংরক্ষণে এ সময়ে বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন হয়। একটি ব্লক বরফ তৈরি করতে টানা ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বরফ কলগুলো স্বাভাবিক উৎপাদনে যেতে পারছে না। ফলে বরফ তৈরি করতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। কোথাও কোথাও অর্ডারও বাতিল করতে হচ্ছে।

বরিশালের কেডিসি এলাকার একটি বরফকলের শ্রমিক মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রতিদিন তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে বরফকলগুলোতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ১৫০ টাকার একটি বরফের ক্যান এখন ৩০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, আবার ট্রলার ও বরফকলের মালিকদেরও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দরে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৩৬টি বরফকল রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটে এসব বরফকলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে। কোনো কোনো বরফকল দিনে মাত্র ২০ থেকে ২৫ ক্যান বরফ উৎপাদন করতে পারছে। কোনোটি সর্বোচ্চ ২০০ ক্যান পর্যন্ত উৎপাদন করছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় বর্তমানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ উৎপাদন হচ্ছে।

পটুয়াখালীর মৎস্য ব্যবসায়ী রহিম খান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে বরফের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। চাহিদামতো বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে খুলনা, বাগেরহাট ও বরিশাল থেকে ট্রাকে করে বরফ আনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ার মৎস্য ব্যবসায়ী সেলিম হাওলাদার বলেন, ইলিশ মৌসুমে প্রতিদিন শত শত ট্রলার সাগরে যায়। মাছ সংরক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ বরফ প্রয়োজন। বরফের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব পড়বে মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণে।

চিংড়ি ঘেরে অক্সিজেনের সংকট
দেশে মোট ১০৫টি হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত হয় খুলনার বিভিন্ন কারখানায়। খুলনার উপকূলীয় এলাকায়ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে চিংড়ি চাষে। পাইকগাছা ও কয়রার চাষিরা বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরের এয়ারেটর চালানো যাচ্ছে না। এতে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে চিংড়ি মারা যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার হোগলবুনিয়া গ্রামের গৌতম মণ্ডল বাড়ির পাশে দেড় বিঘা জমিতে সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করছেন। তাঁর ঘেরে প্রায় ৪০ হাজার রেণু পোনা রয়েছে। তিনি বলেন, তীব্র গরমে প্রতি ঘণ্টায় এয়ারেটর চালাতে হয়। তা না হলে মাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সন্ধ্যার পর প্রায় নিয়ম করে এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। এক দিন ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না। এখন ঋণ করে হলেও জেনারেটর কেনার কথা ভাবতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) পরিচালক এস. হুমায়ুন কবীর বলেন, চিংড়ি পচনশীল পণ্য। সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপেই বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।

তিনি বলেন, ঘেরের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে সারাক্ষণ বিদ্যুৎচালিত এয়ারেটর ব্যবহার করতে হয়। লোডশেডিং হলে উৎপাদন কমে যায়, কখনও কখনও সব মাছও মারা যেতে পারে। এখন চিংড়ি চাষের ভরা মৌসুম হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

তাপে মরছে মুরগি
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে পোলট্রি খাত। তীব্র গরমে মুরগির ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল ও শীতলীকরণ ব্যবস্থা চালু রাখা যাচ্ছে না। ফলে বাড়ছে মুরগির মৃত্যু ও কমছে ডিম উৎপাদন।

জয়পুরহাটে ৬৫০টির বেশি লেয়ার খামারে বছরে প্রায় ৩১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। খামারিরা বলছেন, দিনে দু-তিনবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাপজনিত চাপ বাড়ছে। খামারি আহমেদ রানা বলেন, যেসব এলাকায় বেশি পোলট্রি খামার রয়েছে, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ দেওয়া উচিত। কারণ, অল্প সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটেও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

যশোরের অভয়নগরেও বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে একটি পোলট্রি খামারের চার শতাধিক মুরগি মারা গেছে। ৮ আগস্ট সকালে উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার বুইকরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খামারের দুই তরুণ উদ্যোক্তা মো. হাসান ও মো. হোসেন যমজ ভাই। বেকারত্ব ঘোচাতে ২০২৩ সালে একটি এনজিও থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তারা খামারটি শুরু করেছিলেন। পরিবারের সবাই এই খামারে শ্রম দেন।

হাসান বলেন, গত শুক্রবার পর্যন্ত খামারে নানা বয়সী প্রায় আড়াই হাজার মুরগি ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি বিক্রির উপযোগী হয়েছিল। রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। এ সময় বিক্রির উপযোগী চার শতাধিক মুরগি মারা যায়।

তিনি বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমরা ধারদেনা করে দুই ভাই খামারটি করেছি। ভেবেছিলাম মুরগি বিক্রি করে সব দেনা পরিশোধ করব। কিন্তু বিদ্যুতের কারণে সব শেষ হয়ে গেল। হাসান জানান, মুরগির খাবার ও ওষুধের দোকানে বাকিসহ তাদের প্রায় সোয়া লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি হয়েছে তিন লাখ টাকার বেশি।

খামারিদের ওপর লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি চাপও তৈরি হয়েছে। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের খামারি আবদুল মালেকের তিনটি খামারে জুন ও জুলাই– এ দুই মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বিদ্যুতের দাম বাড়ার আগে তাঁর মাসিক বিল ছিল গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। অর্থাৎ, একদিকে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ঘাটতি পূরণে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খামারিদের উৎপাদন ব্যয়ে দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়েও প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। উপজেলায় ৩১টি লেয়ার ও এক হাজারের বেশি ব্রয়লার খামার রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ধরে রাখতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে খামারিদের। বাড়তি এই ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরও পড়ছে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) দাবি, ফিড, বাচ্চা, ওষুধ, ভ্যাকসিন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহনসহ প্রায় প্রতিটি উৎপাদন উপকরণের দাম বেড়েছে। এতে খামারিদের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও মুরগি ও ডিমের খামার পর্যায়ের বাজার দামের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নেই। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের আগে দেশে প্রায় দুই লাখ পোলট্রি খামারি ছিলেন। ধারাবাহিক লোকসান, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারমূল্যের অস্থিতিশীলতা, সহজ শর্তে অর্থায়নের অভাবসহ নানা সমস্যায় বর্তমানে খামারির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ৩৬ হাজারে। অর্থাৎ, পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রায় ৬৪ হাজার খামারি এ খাত থেকে ঝরে পড়েছেন।

বিপিআইএর যুগ্ম মহাসচিব আলমগীর হোসেন বলেন, ডিম উৎপাদনকারী খামারিরা টানা দুই বছর ধরে লোকসানে আছেন। লোডশেডিং তাদের ব্যয়ের তালিকা আরও বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, আগে কোনো খামারির মাসে জেনারেটরের পেছনে দুই হাজার টাকা খরচ হলে, এখন তা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। গ্রামে একেবারেই বিদ্যুৎ থাকে না। এর ফলে খামারিরা শুধু আর্থিক নয়, সামাজিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হিমাগারে আলু, বীজ, পেঁয়াজ নষ্ট 
অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে কৃষিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে সেচ নিয়ে। বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে সেচ দেওয়া কৃষকদের বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে হচ্ছে। ফলে সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রাজশাহীর বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কৃষক মহাসিন আলী বলেন, বিদ্যুৎ কখন আসবে তার কোনো ঠিক নেই। মোটর চালানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সময়মতো পানি দিতে না পারলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে হিমাগারগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। আবার জ্বালানি তেলের দামও বেশি। কুমিল্লা সদর উপজেলার আমতলী এলাকার হক অ্যান্ড সন্স কোল্ডস্টোরেজের কম্প্রেশার মেশিনের অপারেটর মো. বাবুল সরকার বলেন, জেলায় ২০টির বেশি হিমাগার রয়েছে। এসবের অধিকাংশই আলু ও বীজে পূর্ণ। গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে গড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আলু ও বীজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আলু নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখতে হয়। বীজ আলুর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা নিয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হয়। তাপমাত্রার সামান্য হেরফের হলেই বীজ নষ্ট হতে পারে।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আর বি কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থাপক সেলিম হোসেন বলেন, দিনে গড়ে ছয় ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১৫ লাখ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হিমাগারগুলো ইতিহাসের সর্বোচ্চ ক্ষতির মুখে পড়বে।

দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনায়ও বিদ্যুৎ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার সংকটের মধ্যে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। এবার জেলায় পেঁয়াজের ফলন ভালো হলেও ভরা বর্ষার শুরুতেই সংরক্ষিত পেঁয়াজে ব্যাপক পচন দেখা দিয়েছে।

সনাতন পদ্ধতির চাতাল থেকে শুরু করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তৈরি আধুনিক সংরক্ষণাগারসহ কোথাও পচন পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। এরই মধ্যে সংরক্ষিত দেশি ও হাইব্রিড পেঁয়াজের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পচন ধরেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সুজানগরের মানিকহাট এলাকার পেঁয়াজ চাষি মাসুদ রানা ভালো দামের আশায় ৪০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছিলেন। এর মধ্যে ১০০ মণের বেশি পেঁয়াজে পচন ধরেছে। বাধ্য হয়ে নামমাত্র দামে বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি মণে প্রায় এক হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে তাঁর।

চলমান সংকট প্রসঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেছেন, আমরা সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছি। কৃষি খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে কাজ করছি। কৃষকদের সেচ খরচ কমাতে ধাপে ধাপে সোলার সিস্টেমে রূপান্তর করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা সৌরচালিত মিনি কোল্ডস্টোরেজ বিতরণ শুরু করে দিয়েছি। পেঁয়াজ সংরক্ষণের এয়ার ফ্লোতে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার খবর শুনে আমরা ওই মেশিনকে সোলারে রূপান্তরের কাজ করছি। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিনির্ভরতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও লাভজনক হবে।