Home Blog Page 311

করদাতাদের হয়রানি না করার আহ্বান অর্থ উপদেষ্টার

আয়কর আইনজীবীদের উদ্দেশে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, করদাতাদের হয়রানি করবেন না, সঠিকভাবে সহযোগিতা করেন। তাহলে করদাতারা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন এবং সরকারও উপকৃত হবে। একইসঙ্গে করদাতার তথ্য গোপন করে সরকারকে অন্ধকারে না রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে ট্যাক্স রিপ্রেজেনটেটিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (টিআরএমএস) সফটওয়্যারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান অর্থ উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আপনারা লইয়ার, সরকারকে অন্ধকারে রাখবেন না, করদাতাকে সহায়তা করুন। করদাতাকে নানাভাবে ঘুরিয়ে অনেকদিন পরে টেবিলের নিচে দিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে যাওয়ার চেয়ে যদি আপনি যথাযথভাবে সেবা দেন, তখন কিন্তু খুব কঠিন হয় না। লোকজন তখন মাইন্ড করবে না। এই জিনিসটা একটু লক্ষ্য করবেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা বলছি না, আপনারা একেবারে টাকা-পয়সা না নিয়ে করে দেবেন, সেটা তো সম্ভব না। আপনারা লইয়ার, আপনারা চার্জ করতে পারবেন। যদি বেশি ভালো করে সার্ভিস দেন, কেউ মানা করবে না। সফটওয়্যার সম্পর্কে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এটা একটা মাইলফলক।
সফটওয়্যার তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের সফটওয়্যার সবার জন্য মঙ্গলজনক। যে ট্যাক্স দেবে, ব্যক্তি পর্যায়ে হোক, কোম্পানি পর্যায়ে হোক, ব্যবসা-বাণিজ্য সবার জন্য সুবিধাজনক। এছাড়া যিনি কর আদায় করবেন, তাদের জন্যও সুবিধা।
অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, প্রতি বছরই অডিট পড়ে। অনেক ট্যাক্স পেয়ার তার গোটা জীবনে কোনোদিন অডিট পড়ে নাই। তো এই জিনিসগুলো তো একটা বৈষম্য এবং আমরা রিস্ক বেসড অডিট সিলেকশন করতে পারি না। এই জায়গাটা একটা বড় যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে। আগামী বছর থেকে আমরা কর্পোরেট ট্যাক্সও অনলাইন সাব-মিশনে নিয়ে আসব। কর্পোরেট ট্যাক্স এবং ইনকাম ট্যাক্সের জন্যও অ্যাপ তৈরি করব। এতে ভবিষ্যতে করদাতাদের দৌড়াদৌড়ি কমে যাবে।

তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বাবরের আলোচনা

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর জানিয়েছেন, তারেক রহমানের ফেরার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত তিনি দেশে ফেরত আসবেন। আপনারা দোয়া করবেন।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন লুৎফুজ্জামান বাবর । দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলেন সাবেক এ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বৈঠকটি সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক। তবে কিছু রাজনৈতিক বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাবর বলেন, উনারা ভালো করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা ও পুলিশের নতুন  নিয়োগের ব্যাপারে কথা হয়েছে বলে জানান বাবর।
এসময় লুট হওয়া সব অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছে বলে জানান বাবর।
ভারতে বসে আওয়ামী লীগের নেতাদের বৈঠক নিয়ে বাবর বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার ভারতে বসে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সাথে বৈঠক করছে। নির্বাচন ভণ্ডুলেরও ষড়যন্ত্র করছে তারা। সে বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরছেন। সেক্ষেত্রে তার সার্বিক ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করতেই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে স্বাক্ষাৎ করেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।
লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিকবার আলোচনায় আসেন- কখনও প্রশংসিত আবার কখনও সমালোচিত হন। তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসা উপলক্ষ্যে সাংবাদিক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ভিড় করেছেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (অব) লে. জনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরী, সিনিয়র সচিব নাসিমূল গণি এবং পুলিশের (আইজি) বাহারুল আলম, সাবেক সিনিয়র সচিব কামরুজ্জামান এবং সাবেক এডিশনাল আইজি মাহবুবুর রহমান অংশ নিয়েছেন।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান তারেক রহমানের

গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি তুলে ধরে সবাইকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। তারেক রহমান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিএনপি নেতা গণতন্ত্রকে একটি সার্বজনীন মূল্যবোধ এবং জনগণের ইচ্ছার অবাধ প্রকাশের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র জীবনের সব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক-পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একদলীয় বাকশালের করালগ্রাস থেকে জাতিকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চিরন্তন দর্শন ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল প্রেরণা ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়েছেন এবং বারবার স্বৈরাচারী আক্রমণ সত্ত্বেও সেই সংগ্রামকে অব্যাহত রেখেছেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বারবার স্বৈরশাসনের আঘাত এসেছে-রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা হয়েছে, ভোট কারচুপি হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষমতালিপ্সু গোষ্ঠী অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে ভয়ভীতি ও কর্তৃত্ববাদী পরিবেশ তৈরি করেছে।
তিনি বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের গত দেড় দশকের গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত করার ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন।
এ বছরের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য ‘কর্মে লিঙ্গ সমতা অর্জন’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র সব লিঙ্গের জন্য সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করে, যা একটি মৌলিক মানবাধিকার। ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজে শক্তিশালী প্রতিবাদের পরিবেশ থাকে, যা লিঙ্গ বিভাজনকে গভীরতর হতে দেয় না এবং সমান অধিকারের পথে অগ্রগতি নিশ্চিত করে।’
জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, যা ভয়াবহ স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, তার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি সবাইকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করবে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার রাজনৈতিক পরিবেশ থাকবে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিনটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে গণতন্ত্রের সারমর্ম ও শক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পালিত হয়।

ভেঙে দেওয়া হলো নেপালের সংসদ, নতুন নির্বাচন মার্চে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির সুপারিশের ভিত্তিতে সংসদ ভেঙে দিয়েছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট। এছাড়া আগামী বছরের মার্চে নতুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নেপালের প্রেসিডেন্টের প্রেস উপদেষ্টা কিরণ পোখরেল বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি বলেছেন, গতকাল শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশক্রমে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্বাচনের তারিখ হলো ২০২৬ সালের ৫ মার্চ।

গতকাল রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। তার নেতৃত্বে ছোট মন্ত্রিসভার একটি সরকার গঠিত হয়েছে। এটির মেয়াদ থাকবে ৬ মাস। এই সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন নির্বাচন আয়োজনের ম্যান্ডেট দেওয়া হয়।

গতকাল স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে শপথ নেন সুশীলা। এরআগে নেপালের জেন-জির বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি, প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল এবং সেনাবাহিনীর প্রধান অশোক রাজ সিগদেলের মধ্যে আলোচনা হয়। এরপর সুশীলাকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সবাই একমত হয়। এরমাধ্যমে তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে আন্দোলনে নামে নেপালের জেন-জিরা। এরমধ্যে গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী নিহত হন। এরপর ক্ষোভে ফেনে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

মঙ্গলবার তাদের আন্দোলনের তীব্রতা বাড়লে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়েন কেপি শর্মা অলি। এরপর তিনি গা ঢাকা দেন। ওইদিন বিক্ষোভকারীরা সাবেক দুজন প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালান। এরমধ্যে অর্থমন্ত্রীকে রাস্তায় পেটানোর ঘটনাও ঘটে।

সুশীলা কার্কি ২০১৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত নেপালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তিনি দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হন। বিচারক থাকাকালীন তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এ কারণে জেন-জির কাছে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।

তিনি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। একবার ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুশীলা বলেছিলেন, ভারত নেপালকে অনেক সহায়তা করেছে।

লন্ডনে মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টা

লন্ডনে একটি সেমিনার থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। ত‌বে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইক‌মিশন জা‌নি‌য়ে‌ছে, উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের গাড়িতে নয়, লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের দুটি খালি গাড়িতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ডিম নিক্ষেপ করেছে।

হাইকমিশন জানায়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম শুক্রবার লন্ডনে দুটো অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উপদেষ্টার প্রথম অনুষ্ঠানটি ছিল বিকেল চারটায় ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এর স্কুল অব আফ্রিকান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ এ।

বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে স্কুল অব আফ্রিকান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন যৌথভাবে আয়োজন করে। উপদেষ্টা মাহফুজ আলম নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় আওয়ামী লীগের ১৮ জন কর্মী সোয়াসের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। অনুষ্ঠানে আসার সময় উপদেষ্টার গাড়ির কোনো সমস্যা হয়নি। সোয়াস অনুরোধে আগে থেকেই পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল।

উপদেষ্টা এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ভেতরে প্রবেশের পর পার্কিং এরিয়াতে থাকা অপেক্ষমাণ গাড়ির ওপর ডিম নিক্ষেপ করে দুষ্কৃতকারীরা। অনুষ্ঠান শেষে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তারা একাধিক গাড়িতে করে সোয়াস ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পরে সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের দুটি খালি গাড়ি বের হওয়ার সময় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী রাস্তায় শুয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং আরও কয়েকজন দুষ্কৃতকারী খালি গাড়ি দুটোতে ডিম নিক্ষেপ করে।

যারা রাস্তায় শুয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, ছাত্র এবং সাংবাদিকরা যোগ দিয়েছিলেন। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্বক্ষণিক বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে আশ্বাস দিয়েছে।

ফরিদা পারভীনের শেষ শ্রদ্ধা শহীদ মিনারে, দাফন কুষ্টিয়ায়

বরেণ্য লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীনের মরদেহ আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হবে। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এক ঘণ্টা সেখানে তার মরদেহ রাখা হবে।

ফরিদা পারভীনের পরিবারের সদস্যরা জানান, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মরদেহ কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বাবা-মায়ের কবরের পাশে কিংবদন্তি এই শিল্পীকে দাফন করা হবে।

এদিকে, বরেণ্য এই সংগীত শিল্পীর মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শোক জানিয়েছেন। এছাড়া সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক জানান।

প্রসঙ্গত, শিল্পী ফরিদা পারভীন গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

ফরিদা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। কিডনি বিকল হওয়ায় সপ্তাহে দুই দিন তাকে ডায়ালাইসিস করাতে হতো। গত ২ সেপ্টেম্বর ডায়ালাইসিসের জন্য তাকে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ডায়ালাইসিসের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সবশেষ গত বুধবার তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। এরপর তাকে ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না-ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে ১৪ বছর বয়সে তার পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। এরপর গানে গানে তিনি কাটিয়েছেন ৫৫ বছর। ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ কিংবা ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’-এর মতো লালন সাঁইয়ের জনপ্রিয় গান তার কণ্ঠে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। শ্রোতারা তাকে ‘লালনকন্যা’ উপাধি দিয়েছিল।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে মাহমুদুর রহমান

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ট্রাইব্যুনালে আসেন তিনি।

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেবেন তিনি। এছাড়া আলোচিত এ মামলায় মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সাক্ষ্য দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

প্রসিকিউশন বলছে, এ মামলায় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল মাহমুদুর রহমান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘নায়ক’ নাহিদ ইসলামের। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তারা গতদিনে আসতে না পারায় ট্রাইব্যুনালের কাছে সময় চাওয়া হয়। পরে আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ১৪তম দিনের মতো এ মামলায় ৬ জন সাক্ষ্য দেন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল মোট ৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গত বছরের জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর বীভৎস বর্ণনা উঠে এসেছে। এ হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী করে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন শহিদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা।

এছাড়াও আলোচিত এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তার জেরা শেষ হয় ৪ সেপ্টেম্বর। মামলার তদন্তে তিনি জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে জুলাই-আগস্টে গণহত্যা চালানো হয়েছে এবং ক্ষমা চেয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে অজানা অনেক তথ্যও উন্মোচন করেন।

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। মামলায় পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন। এছাড়া, ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

হাসিনা পতনের পর ১০ বিলিয়ন থেকে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন

হাসিনার পতনের পর ১০ বিলিয়ন থেকে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসনে ‘ব্যবসার ভবিষ্যৎ: উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন’ বিষয়ে দুদিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা গবেষণা ব্যুরো এ সম্মেলনের আয়োজন করে। চবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াইয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তৈয়ব চৌধুরী।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব পেলে বাংলাদেশ পাঁচ বছরে সোনার খনিতে রূপান্তর হবে। আমাদের দেশে পণ্য তৈরির কাঁচামালের অভাব আছে। তবে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে সে অভাব পূরণ করতে পারে। যে যত চেষ্টা করবে সে ততটা অর্জন করতে পারবে। এখানে কোনো সিন্ডিকেশন নেই। লেবার প্রোডাক্টিভিটি, ইউটিলিটি প্রোপরশন, লজিস্টিক এক্সিলেন্স, কষ্ট টু ফিন্যান্স, অ্যাকসেস টু ফিন্যান্স এবং অ্যাকসেস টু মার্কেট নিশ্চিত করতে পারলে কাঁচামালের অভাব পূরণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।
বাজার ব্যবস্থাপনায় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গত রমজানে সরকারের অর্থ বিভাগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সামগ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখায় নিত্যপণ্যের দাম কম ছিল। ৫ আগস্টের পর বাজারকে সঠিক পথে পরিচালিত করা চ্যালেঞ্জ ছিল। তথাকথিত সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তখন সাপ্লাই সাইড ঠিক রাখা ছিল খুবই জটিল। সরকারের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করি। এটি সম্ভব হয়েছে ব্যবসায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কারণে।
৫ আগস্টের পর দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর আমাদের রিজার্ভ ১০ বিলিয়নের মতো ছিল। বিভিন্ন দেশের কাছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আমাদের দায় ছিল ৬ বিলিয়ন। আমরা সকল দায় পরিশোধ করেছি।বর্তমানে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলার।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সরকারের কাছে গণতান্ত্রিক বাজার ব্যবস্থাপনা প্রত্যাশা করেন জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসকেরা ক্রোনিস তৈরি করেছিল। সম্পদের বণ্টন ছিল মারাত্মকভাবে সামঞ্জস্যহীন। যে ক্রোনিস তারা তৈরি করেছিল, দেশের অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা ছিল না বরং তারা বাজার ব্যবস্থাপনাকে অস্থিতিশীল করেছিল। ভবিষ্যতের সরকার যেন সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাজার পরিচালনা করে এবং নিরপেক্ষ রিফর্ম করে, তাহলে বাজার ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে।

ডিএসইতে প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন ২২১ কোটি টাকা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই সব মূল সূচকের দর বেড়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত এক্সচেঞ্জে ২২১ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইএক্স ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৫৪৮ পয়েন্টে, শরীয়াহ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১,২০৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২,১৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

প্রথম ঘণ্টায় লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১৯টির শেয়ার দর বেড়েছে, ৮৫টির কমেছে, আর ৮৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে শাইনপুকুর সিরামিক লিমিটেডের শেয়ারে, যার বাজার মূল্য এই সময়ে ৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথম ঘণ্টায় শীর্ষে ছিল সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড।

এই উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে, যা বাজারে ক্রমবর্ধমান আকর্ষণ দেখাচ্ছে।

পশুত্ব বর্জন ও মনুষ্যত্ব অর্জনই হোক অঙ্গীকার : তারেক রহমান

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ হিসেবে আমরা রাষ্ট্র এবং সমাজে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে, অন্য সব প্রাণীর অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারেও আমরা সতর্ক ও যত্নবান থাকব। সেই বিবেচনা থেকেই দেশের রাজনৈতিক ডামাডোলের বাইরে এসে পশুপাখী প্রেমী, প্রাণী প্রেমী কিছু মানুষের আয়োজনে আজকের প্রাণীবিষয়ক এই আলোচনাটি অবশ্যই অর্থবহ এবং অত্যন্ত ভালো একটি উদ্যোগ। সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য মনুষ্যত্ব অর্জন আর পশুত্ব বর্জনই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
রাজধানীর শেরেবাংলানগরে অবস্থিত চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাণী ও প্রাণের মিলন মেলা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এর আয়োজন করে।
তারেক রহমান বলেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে একজন মানুষ নাগরিক হিসেবে সব গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক অধিকার হারানোর কারণে অনেকের মনে হয়তো এক ধরনের অসহিষ্ণুতার জন্ম নিয়েছে। এই অসহিষ্ণুতা কাটিয়ে একজন মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার জন্য, মনুষ্যত্ব অর্জন আর পশুত্ব বর্জনই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সঙ্গে মানুষের অধিকারের সম্পর্কটা যেমন, বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে পশুপাখি এবং বন্যপ্রাণীর অধিকারের সম্পর্কটাও তেমন। সুতরাং রাষ্ট্র রাজনীতিতে গণতন্ত্র এবং শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠিত থাকলে, বাস্তবিকভাবেই বাস্তুতন্ত্র নিরাপদ থাকে।
তিনি বলেন, এই দেশে ১ হাজার ৬০০টির বেশি প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৯০টি প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে চলে গিয়েছে, এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের আরও অনেক দেশেই। মানুষের সৃষ্টি পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। বাংলাদেশের গর্ব, ঐতিহ্যের প্রতীক রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাঘও এখন মনে হয় বিলুপ্ত প্রজাতির তালিকায় খুব সম্ভব স্থান করে নিচ্ছে। যতটুকু মনে আছে, ৮০ দশকে বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল সম্ভবত ৫ শর কাছাকাছি। সর্বশেষ জরিপে সেই বাঘের সংখ্যা কমতে-কমতে এখন ১০০টির কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। হাতির সংখ্যাও এখন কমে ২০০টির নিচে চলে এসেছে বোধহয়।
দেশের প্রত্যেকটা নাগরিককে জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মানুষ যখন প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়, প্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করে, তখন এটা মানব সমাজের পরিপক্বতা এবং উন্নত নৈতিকতারই প্রতিফলন ঘটায়। সুতরাং মানুষ তার নিজের প্রয়োজনেই প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখা দরকার। প্রাণীদের আবাস অক্ষত রাখা দরকার।