Home Blog Page 313

‘নো হাংকি পাংকি’ গণভোট লাগবেই, সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা হবে

সোজা আঙুলে যদি ঘি না উঠে তাহলে আঙুল বাঁকা করা হবে তবুও ঘি লাগবেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
তিনি বলেন, আমরা আপনাদের চালাকি বুঝি। আপনাদের চালাকির ভিত্তিতেই দাবি আদায়ের পন্থাও আমরা আবিষ্কার করবো। আমরা এখানো নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনে আছি। সোজা আঙুলে যদি ঘি না উঠে তাহলে আঙুল বাঁকা করবো। কিন্তু ঘি আমাদের লাগবেই। সুতরাং যা বোঝাতে চাই বুঝে নিন। নো হাংকি পাংকি। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট লাগবেই।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) পৌনে ১২ টায় পল্টন মোড়ে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের উপস্থিতিতে এসব কথা বলেন তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, নভেম্বরে গণভোটসহ ৫ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার নিকট স্মারক লিপি প্রদানে লক্ষ্যে মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে পথযাত্রা নিয়ে পল্টন মোড় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনার অভিমুখে যাত্রা শুরু করে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য আটটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই আগস্টের রক্তই হবে শেষ রক্তদান। এইসময়ের শাহাদাতই হবে শেষ শাহাদাত। আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই বিপ্লবের পরে দাবি আদায়ে আর রাজপথে নেমে আসতে হবে না। কিন্তু আমরা আশাহত হয়েছি। অল্প সময়ের ব্যবধানেই আমাদের রাজপথে আসতে হয়েছে।
তাহের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা রাজপথে এসেছি, প্রয়োজনে রক্ত দেব, প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু আমরা জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ হতে দেব না। ষড়যন্ত্রকারীদের পরাজয় হবে। জুলাই সনদ বাংলার মাটিতে হুবহু সেটাই আইনি ভিত্তি দিতে সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আপনারা চালাকি শুরু করেছেন। এই বলবো, সেই বলবো বলে জাতীয় নির্বাচনের সময় ফেব্রুয়ারির কাছাকাছি চলে আসছেন। আমরা আপনাদের চালাকি বুঝি। আপনাদের চালাকির ভিত্তিতেই দাবি আদায়ের পন্থাও আবিষ্কার করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা এখানো নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনে আছি। সোজা আঙুলে যদি ঘি না উঠে তাহলে আঙুল বাঁকা করবো। কিন্তু ঘি আমাদের লাগবেই।
তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত- কথা, সময়ক্ষেপণ! এই চালাকি আপনাদের বিপদে ফেলবে। গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগেই হতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও গণভোট আয়োজনে কোনো বাঁধা নাই। সুতরাং সময় আছে। আরও ১৫ দিন সময়ক্ষেপণ করবেন? করেন, গণভোটের সময় থাকবে। সুতরাং যা বোঝাতে চাই বুঝে নিন। নো হাংকি পাংকি।
তাহের বলেন, শুধুই বলেন- গণভোট আয়োজনে নাকি অনেক টাকা খরচা হবে। একদিনে যে পরিমাণ চাঁদাবাজি হয় তা দিয়ে একটা গণভোট আয়োজন করা যায়। প্রত্যেকদিন একটা করে গণভোট আয়োজন করলেও সমস্যা হবে না। তাই সরকারকে বলবো, আর যারা চাঁদাবাজিতে জড়িত তাদের বলবো, এসব বন্ধ করেন, তাহলে গণভোট আয়োজনে টাকার অভাব হবে না।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির বলেন, আমরা শান্তি চাই, সমাধান চাই, আমরা জাতীয় নির্বাচন চাই। আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই। যদি বুঝতে কষ্ট হয়, তাহলে আসেন বসি আলোচনা করি। সরকারও তো আলোচনা করতে বলেছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাহের বলেন, আলোচনার চাপটা তো সরকারকেই নিতে হবে। আলোচনার জন্য একটা রেফারির ভূমিকার দরকার আছে। সেই ভূমিকাটা সরকারকে নিতে হবে।
তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে আলোচনার জন্য দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। আপনারাও কমিটি ঘোষণা করুন। সময়ক্ষেপণের পলিসি বাদ দিয়ে আলোচনার পলিসি ঠিক করুন।
তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাননি বলে অভিযোগ করে বলেন, চেষ্টা করেছি, ফোনে পাই নাই। আজকের কর্মসূচির পর আমি আবারো চেষ্টা করবো। ওনাকে আমরা ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করবো, বিএনপিও যেন আলোচনার পরিবেশ তৈরি করেন। আর সময়ক্ষেপণ নয়, আর হিংসে, রাজনৈতিক বিদ্বেষ নয়, অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই নয়। জাতি মনে করে শুধু জুলাই সনদ নয়, সব ঠিক করা সম্ভব রাজনৈতিক সমঝোতায়।
জাতির কাছে ওয়াদা করতে হবে, শুধু জুলাই সনদ নয়, জাতীয় নির্বাচন কিভাবে হবে? আমার দল কোথাও ভোটকেন্দ্র দখল করবে না, যদি করে তাহলে সেই আসনের ভোট বাতিল হবে। সকল দলকে একথা বলতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে হবে, যেখানে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, সেরকম যদি একাধিক আসন হয় তাহলে নির্বাচনকে ভন্ডুল করে দিবো। নতুন নির্বাচন হবে। এইকথা জাতিকে বলতে হবে। কারণ ৫৪ বছরে সঠিক কোনো নির্বাচন আমরা পাই নাই। জাতি আর কোনো প্রহসনের নির্বাচনকে আর মেনে নেবে না। সুতরাং নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয় তাহলে দেশ আবার অন্ধকারে যাবে, শেখ হাসিনার যুগে চলে যাবে।
প্রশাসন একটি দলের আজ্ঞাবহ হয়ে নির্বাচনকে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। প্রভাবিত করা নির্বাচন জনগণ মেনে নিবে না। প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি নির্বাচনী লেভেল ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি তিনি।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আজকে স্মারকলিপি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে দেবার পরও যদি দাবি মানা না হয়, অবস্থার উন্নতি না হয় তাহলে আগামী ১১ তারিখ চলো চলো ঢাকা চলো কর্মসূচি। আগামী ১১ তারিখ হবে ঢাকা মহানগরী হবে জনতার নগরী, দাবি আদায়ের ১১ তারিখ। লড়াই হবে। লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই বলে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
এসময় মঞ্চে যুগপৎ আন্দোলনে শরিকদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মামদানিকে ‘অল্পস্বল্প’ সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন ট্রাম্প

নিউইয়র্ক সিটির নতুন নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে ‘অল্পস্বল্প’ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্রধান শহর মিয়ামিতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এই আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তবে মামদানির বিজয়ের জেরে নিউইয়র্কবাসী তাদের সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি তাকে পরোক্ষভাবে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এ ব্যাপারে ‘সতর্ক থাকার’ আহ্বানও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মিয়ামির অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের সদ্য সমাপ্ত মেয়র নির্বাচনের প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বলেন, “নিউইয়র্কের জনগন তাদের সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে। আমরা এ ব্যাপারটির যত্ন নেবো। দেখা যাক, মামদানি নিউইয়র্ক কেমন চালায়। সম্ভবত তাকে আমরা অল্পস্বল্প সহযোগিতা করব।”
“তবে আশঙ্কার কথা হলো, আমাদের সবচেয়ে বড় শহরটি হয়তো শিগগিরই কমিউনিস্ট হয়ে যাবে এবং ষেখান থেকে দলে দলে লোকজন ফ্লোরিডায় আসা শুরু করবে। আমাদের সামনে এখন পরিষ্কারভাবে দু’টি বিকল্প উপস্থিত হয়েছে— কমিউনিজম অথবা কাণ্ডজ্ঞান।”
গতকাল বুধবার ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিশেষ একটি দিন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার এক বছর পূর্তির দিন। এই দিনই নিজের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসকে হারিয়ে নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।
মিয়ামিতে দেওয়া ভাষণে গত বছরের নির্বাচনের ফলাফলের দিনও স্মরণ করেছে ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “আমরা ইতোমধ্যে আমাদের অর্থনীতিকে উদ্ধার করেছি, আমাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছি এবং সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশকে রক্ষা করেছি। আমাদের এই সাফল্যপূর্ণ অগ্রযাত্রার এক বছর পূর্ণ হলো আজ।”
অভিবাসী অধ্যুষিত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং সরকারি দল রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই মামদানির বিরুদ্ধে ছিলেন।
নিউইয়র্কের এবারের মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন মোট ৩ জন—ডেমোক্রেটিক পার্টির জোহরান মামদানি, রিপাবলিকান পার্টির কার্টিস স্লিওয়া এবং নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা অ্যান্ড্রু কুওমো। কুওমো স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
মেয়র নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মামদানি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুয়োমো পেয়েছেন ৪২ শতাংশ ভোট এবং কার্টিস স্লিওয়া পেয়েছেন ৮ শতাংশ ভোট।

চূড়ান্ত নিবন্ধন পেল ৬৬ দেশি নির্বাচক পর্যবেক্ষক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া ১৬টি সংস্থাকে প্রাথমিক নিবন্ধন দিয়েছে। তবে দাবি-আপত্তি জানতে চেয়ে ১৫ কার্যদিবস সময় দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এসব তথ্য জানিয়েছে ইসি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ৭৩টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাথমিক তালিকা নির্ধারণ করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশন জানায়, বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নিবন্ধিত ৯৬টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫-এর ধারা ১৬ মোতাবেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫ অনুসারে পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধনে আগ্রহী যোগ্যতা সম্পন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করে।
নিবন্ধনে আগ্রহী সংস্থাগুলোকে আগামী ১০ আগস্ট (রোববার) বিকাল ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিবন্ধনের আবেদন ফরম (EO-1) এ আবেদন দাখিল করতে হবে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং আবেদন ফরম (EO-1) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় (কক্ষ নং-১০৫) এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট www.ecs.gov.bd -তে পাওয়া যাবে।
এর আগে নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩ সালের নীতিমালা বাতিল ও তৎকালীন ৯৬টি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করে নতুন নীতিমালা জারি করে নাসির উদ্দিন কমিশন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৯৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধন বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

যে কারণে স্ত্রীকে ক্ষমা করে দিতে বলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ

০
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যেন মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখা হয়ে গিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। দেশে এখন মহামারি ডেঙ্গুতে প্রতিদিনই শোনা যাচ্ছে মৃত্যুর খবর। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি তুলে ধরেছেন মাহমুদউল্লাহর স্ত্রী জান্নাতুল কাওসার মিষ্টি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের এক স্ট্যাটাসে মিষ্টি কার্ডিওথোরাসিক হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটের (সিএইচডিউ) একটি ছবি লিখেছেন গত সপ্তাহের সেই দুঃসহ সময়ের কথা।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের স্ত্রী নিজের সেই স্ট্যাটাসে লেখেন, এই দরজার সামনে আল্লাহ আর কখনো দাঁড় না করাক। এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন আর ভয়ংকর সময় (২৭/১০/২০২৫)। এই দরজার ভেতরে ঢুকার আগে সে যখন আমাকে বললো আমি যেন তাকে ক্ষমা করে দেই, সেটা শুনেও আমি এমন ভান করলাম যেন কিছুই হয়নি, হবেও না ইনশাআল্লাহ। ওই সময় নিজেকে খুব শক্ত করে সামলালাম এখন সেটা ভেবে নিজের কাছেই খুব অবাক লাগছে সেই আমি কিভাবে এতো শক্ত ছিলাম।
মাহমুদউল্লাহর স্ত্রী জান্নাতুল কাওসার মিষ্টি আরও বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী ছিলাম যে আমার আল্লাহ আমাকে সবরের পরীক্ষা করছিলেন, এই পরীক্ষায় আমি উত্তীর্ণ হবোই হব ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যতক্ষণ তার পাশে ছিলাম মনে মনে ভয় পাচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম তার হায়াত কতটুকু সেটা তো একমাত্র আল্লাহই জানেন। সর্বক্ষণ দোয়া আর জিকিরে কিভাবে যেন সেই কঠিন সময়টুকু পার হয়ে গেল আলহামদুলিল্লাহ, মাশাআল্লাহ। আল্লাহ মহান, পরম দয়ালু। তার দয়ার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যা কখনো ভোলা যায় না। সেই কঠিন সময়টুকু এখনো বার বার মনে পড়ছে, হয়তো এই ট্রমা কাটতেও সময় লাগবে।

জাতীয় দলের কোচের পদ ছাড়ছেন সালাউদ্দিন

০
গেল বছরের শেষ দিকে অর্থাৎ ৫ নভেম্বর জাতীয় ক্রিকেট দলের সহকারী কোচের পদে যোগ দেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এরপর নতুন করে নিজের প্রথম সিরিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ব্যাটিং ইউনিটের দেখভালের দায়িত্বটাও পেয়ে যান সিনিয়র এই কোচ।
তবে তার অধীনে খুব একটা ভালো সময় যাচ্ছে না বাংলাদেশ দলের। ব্যাটিংয়ে ক্রিকেটারদের অধারাবাহিকতার ছাপ স্পষ্ট। গেল সোমবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে আসন্ন আয়ারল্যান্ড সিরিজে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে।
এর একদিন পার না হতেই আবারও আলোচনায় এসেছেন সালাউদ্দিন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পরই সহকারী কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষেই দায়িত্ব ছাড়ছেন তিনি। যদিও ঢাকা পোস্টকে বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন এখনো পদত্যাগপত্র পাননি তারা।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, সালাউদ্দিনের সঙ্গে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার আগেই পদত্যাগ করছেন তিনি।
এর আগে গত সোমবার বিসিবির সভা শেষে সালাউদ্দিন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক। তার প্রতি অনাস্থার কারণেই আশরাফুলকে নিয়োগ দেওয়া দেয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে রাজ্জাকের জবাব, ‘সালাউদ্দিন ভাই কিন্তু সিনিয়র সহকারী কোচ। আসলে কারও ব্যর্থতার জন্য না। ওইখান থেকে সরানো হয়নি কাউকে, আশরাফুলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোচিং প্যানেলে আরও একজনকে যুক্ত করা হলো।’

মুখ খুললেন ভাবনা

০
দেশের জনপ্রিয় আবেদনময়ী অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা, যিনি প্রায়শই তার ব্যক্তিগত জীবন ও সাহসী লাইফস্টাইলের কারণে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। এবার তিনি সমালোচনার মোকাবিলা নিয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, নেটিজেনদের প্রশংসা বা সমালোচনা তাকে কোনোভাবে প্রভাবিত করতে পারে না।
এক সাক্ষাৎকারে নেটিজেনদের সমালোচনামূলক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিনেত্রী ভাবনা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। নামহীন ও ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে আসা সমালোচনার বিষয়ে
ভাবনা বলেন, ‘একজন লুকিয়ে লুকিয়ে লিখছে যার নামহীন একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, কোনো নামও নাই। প্রোফাইলে ঢুকে আপনি তখন দেখবেন ফেক অ্যাকাউন্ট, রাইট? এখন সে কোথায় বসে কী লিখছে, তাতে আমাদের কী যায় আসে? মানে আমার কিছু যায় আসে না।’
তার কথায়, যারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে মন্তব্য করে, তাদের মতামত তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
তিনি জানান, নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাই তার মূল নীতি। সমালোচনা বা প্রশংসা, দুটোরই তার জীবনে প্রভাব সীমিত।

শাহরুখ ছাড়াও ‘কিং’-এর রাজসভার সদস্য যারা

০
বলিউডের বাদশাহ যখন নতুন সিনেমার ঘোষণা দেন, তখন সেটি আর শুধুমাত্র খবর থাকে না; যেন হয়ে ওঠে এক রাজকীয় আয়োজন! বর্তমানে ঠিক এমনটাই ঘটছে শাহরুখ খানের নতুন ছবি ‘কিং’ নিয়ে। সম্প্রতি ছবিটির টিজার প্রকাশ পেতেই ভক্তদের উচ্ছ্বাস তুঙ্গে।
এই সিনেমা নিয়েই বলিউডে এখন রীতিমতো চলছে আলোচনা। সিনেপ্রেমীদের একাংশের মত, পর্দায় শাহরুখ নিজেই যেন এক রাজসভাই গড়ে তুলতে যাচ্ছেন এবার; যেখানে ‘কিং’ অর্থাৎ পর্দায় রাজা হিসেবে থাকবেন শাহরুখ! আর বলিউড বাদশাহর সঙ্গে এই রাজসভায় কারা থাকছেন- অর্থাৎ এই সিনেমার কাস্টিং লিস্ট, তা নিয়েও কিন্তু আলোচনা কম নয়।
ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন শাহরুখ খান নিজে। ‘জওয়ান’ ও ‘পাঠান’-এর পর আবারও তাকে দেখা যাবে অ্যাকশন ও ড্রামার সংমিশ্রণে। আর তার বিপরীতে আছেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন; যার সঙ্গে শাহরুখের জুটি মানেই হিট!
সবচেয়ে বড় চমক হলো, শাহরুখ কন্যা সুহানা খান এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার বড় পর্দায় পা রাখছেন। ‘দ্য আর্চিস’-এ ডিজিটাল অভিষেকের পর প্রথমবারের মতো প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে তাকে, তাও বাবার ছবিতে।
শুধু এই তিনজনই নন, ‘কিং’-এর দরবারে আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় মুখ যুক্ত হচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিষেক বচ্চন, রানি মুখার্জি, অনিল কাপুর, জ্যাকি শ্রফ, আরশাদ ওয়ারসির মতো বলিউডের তাবড় তারকারা।
এছাড়াও রয়েছেন ওটিটিতে বর্তমানে আলোচনায় থাকা জয়দীপ আহলাওয়াত ও সৌরভ শুক্লা। রয়েছেন নতুন প্রজন্মের তারকা রাঘব জুয়েল, অভয় ভার্মা ও কারানভির মালহোত্রাও এই রাজকীয় অভিযানের অংশ হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
তবে এই নামগুলোই যথেষ্ট ইঙ্গিত দেয়, শাহরুখের এই রাজত্ব হবে মহা আয়োজনে ভরপুর।
উল্লেখ্য, ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট ও মারফ্লিক্স পিকচার্স। পরিচালনায় আছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ, যিনি শাহরুখের ব্লকবাস্টার ‘পাঠান’-এরও পরিচালক ছিলেন। তাই প্রত্যাশা, ‘কিং’ হবে অ্যাকশন, আবেগ ও রাজকীয় জাঁকজমকের এমনই এক দুর্দান্ত মিশ্রণ যা বলিউডে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

অস্থিতিশীল পেঁয়াজের বাজার, কেজিপ্রতি দাম ছাড়াল ১০০ টাকা

ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ঘর ছাড়িয়েছে। গত দুদিনেই প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। এখন খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা তিনদিন আগেও ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
পাইকারি বাজারেও একই চিত্র। মানভেদে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকা কেজিতে, যা গত শুক্র-শনিবারও বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।
রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারের আড়তদাররা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লা আড়তের আড়তদার আবুল কালাম গণমাধ্যমে বলেন, ‘পাবনা ও ফরিদপুরের আড়তে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সারাদেশের পাইকারি বাজারে। আগের চেয়ে মোকামে দাম প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আসছে, তা যথেষ্ট নয়।’
চট্টগ্রামেও একই চিত্র
চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারেও তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। সোমবার (৩ নভেম্বর) দেখা যায়, মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০৫ টাকায়, যা গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্রি হয়েছিল ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।
খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া গণমাধ্যমে বলেন, ‘ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।’
মৌসুমি প্রভাব ও আমদানি সংকট
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দেশে রবি মৌসুমের রোপণ শুরু হয়েছে দেরিতে, ফলে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে সময় লাগবে। পাবনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো রোপণ শেষ হয়নি। সময়মতো আমদানি অনুমোদন না পেলে বাজার আরও অস্থিতিশীল হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে কৃষি অধিদপ্তর বলছে, দেশে এখনো পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকের হাতে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুত আছে। এ মুহূর্তে আমদানির অনুমতি দিলে কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জামাল উদ্দীন বলেন, ‘এই মুহূর্তে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। এটি নিঃসন্দেহে একটি ব্যবসায়ী কারসাজি। কৃষকের হাতে এখনো পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ আছে, তাই আগামী দুই মাস কোনো সংকট হবে না।’
তিনি জানান, ‘গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ নভেম্বরেই বাজারে আসবে, আর ডিসেম্বরের মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজও উঠতে শুরু করবে। ফলে দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
কারসাজি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ
বাজারে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা বলছেন। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের গণমাধ্যমে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। আমরা এখন ৭৭-৮০ টাকায় কিনে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করছি। গত বছরের এই সময়ে দাম ছিল ১৩০-১৫০ টাকা। সে তুলনায় এবার অনেক কম দামেই বিক্রি হচ্ছে।’
ক্যাবের সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমদানির পাঁয়তারা চলছে। আড়তদার, কমিশন এজেন্ট ও দাদন ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই দাম বাড়ানো হচ্ছে।’
আমদানি অনুমতির জট
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৫ লাখ টন, আর গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টন। তারপরও ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে আমদানির জন্য মরিয়া।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ে জমা পড়েছে দুই হাজার ৮০০-এর বেশি আমদানি অনুমতির (আইপি) আবেদন। তবে এখনো অনুমতি মেলেনি।
অতিরিক্ত উপপরিচালক (আমদানি) বনি আমিন খান গণমাধ্যমে বলেন, ‘পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় অনুমতি না দিলে আমরা আইপি দিতে পারি না। সব আবেদন ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ নভেম্বরেই বাজারে আসবে। এখন আমদানির অনুমতি দিলে কৃষক বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।’
তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মৌসুমে কৃষকরা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেকে আগেই বিক্রি করে ফেলেছেন। ফলে এখন মজুতদারদের হাতে থাকা পেঁয়াজ নিয়েই বাজার সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে দাম বাড়াচ্ছে।
দেশে এখন চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হলেও আমদানি স্থগিত ও মৌসুমি প্রভাবের কারণে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলেও ততদিন পর্যন্ত দামের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজের শেষ নির্বাচন নিয়ে ফখরুলের আবেগঘন পোস্ট

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে তার রাজনৈতিক যাত্রার শেষ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে বলেন, মহান আল্লাহর রহমতে বিএনপি আমাকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মনোনীত করেছে। আমি বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং দলের সব নেতা ও নেত্রীকে আমার কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাই। দলের সব কর্মীকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ, আজীবন আমার সঙ্গে থাকার জন্য।
তিনি আরও ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতিকথা তুলে ধরে বলেন, আমরা যারা সারাজীবন রাজনীতি করেছি, জেলে গেছি, আমাদের নিজেদের একটা গল্প থাকে, অনেকেই তা জানে না। আমি যখন ১৯৮৭ তে সিদ্ধান্ত নেই, আবার রাজনীতিতে ফিরব, আমার মেয়ে দুটো একদমই ছোট ছিল, ঢাকায় পড়ত। আমার স্ত্রীর বয়স অনেক কম ছিল, সে প্রথমে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল, বুঝতে পারছিল কী ভয়াবহ অনিশ্চিত জীবনে পা দিতে যাচ্ছি। আমার মেয়ে দুটোর হাত ধরে সে নিয়ে গেছে স্কুলে, ডাক্তারের কাছে। মনে পরে আমার বড় মেয়ের একটা অপারেশন হবে, আমি সারা রাত গাড়িতে ছিলাম ঢাকার পথে, যাতে মেয়ের পাশে থাকতে পারি। এত কষ্ট হচ্ছিল, আমি ছিলাম মসজিদে যখন তার অপারেশন হচ্ছিল। গল্পগুলো অন্য কোনো দিন বলব যদি আল্লাহ চান। এরকম গল্প আমাদের হাজার নেতাকর্মীর আছে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন। যারা মনোনয়ন পাননি, বিশ্বাস রাখুন, ইনশাআল্লাহ দল আপনাদের যথাযথ দায়িত্ব ও সম্মান দিবে।
আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমাদের দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য দোয়া করবেন। আমরা সবাই মিলে আপনাদের পাশে থাকব এবং কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ নিলেন মীর মুগ্ধর ভাই স্নিগ্ধ

বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ সংগ্রহ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্নিগ্ধর প্রাথমিক সদস্যপদ নেয়ার সময় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু, নজরুল ইসলাম খান ও স্নিগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
গুঞ্জন রয়েছে, ঢাকা-১৮ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে পারেন স্নিগ্ধ। এই আসনটি উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১,১৭,৪৩,৪৪,৪৫, ৪৬, ৪৭,৪৮,৪৯,৫০,৫১,৫২,৫৩,৫৪ ও বিমানবন্দর এলাকা (বৃহত্তর উত্তরা ৬টি থানা) নিয়ে গঠিত।
গতকাল সোমবার ২৩৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিএনপি। তবে ৬৩টি আসন ফাঁকা রাখে দলটি। এরমধ্যে ঢাকা-১৮ আসনটি রয়েছে।