Home Blog Page 314

গাজায় শান্তি ফেরাতে ট্রাম্প-সিসির সভাপতিত্বে বিশ্বনেতাদের বৈঠক

গাজায় দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আগামী সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিশরের পর্যটন শহর শারম আল-শেখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুপক্ষীয় একটি শান্তি সম্মেলন। সম্মেলনের যৌথ সভাপতিত্ব করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

মিশরের প্রেসিডেন্ট দফতর শনিবার (১২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ সম্মেলনে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের শীর্ষ নেতা অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং স্পেনের পেদ্রো সানচেজ।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গাজা উপত্যকার যুদ্ধ চূড়ান্তভাবে থামানো, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্থিতিশীল আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তোলা।

তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা হামাসের কোনো প্রতিনিধি এই সম্মেলনে থাকবেন কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

সম্মেলনের ঘোষণাটি এমন সময়ে এলো, যখন গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ঘরে ফেরার চেষ্টা করছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চালানো ইসরাইলি বোমাবর্ষণে অঞ্চলটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও যুদ্ধবিরতির পর অনেকেই তাদের পুরোনো বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি উপস্থাপন করেন একটি ২০ দফার শান্তি প্রস্তাব।

এই প্রস্তাবকে ঘিরেই গত সপ্তাহে শারম আল-শেখে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। তিনদিনের আলোচনা শেষে, বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে দুই পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের প্রথম ধাপে সম্মত হয়।

অবশেষে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ইসরাইলি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করে। সেই রাত থেকেই গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানিয়েছে আইডিএফ (ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী)।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সম্মেলন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে-যদিও এতে সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

ঝিনাইদহে বিএনপির উদ্যোগে পূজা পুনর্মিলনী

০

ঝিনাইদহে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা পরবর্তি পূজা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেন।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ পৌরসভা এলাকার গিলাবাড়িয়া আয়েশা কমিউনিটি সেন্টারে এ পূজা পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়।

ঝিনাইদহ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক মিলন কুমার ঘোষ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ।

ঝিনাইদহ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব সমীর কুমার হালদার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান লাকী, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শেখর, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক তপন বিশ্বাস, সদস্য সচিব প্রহ্লাদ সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক চন্দন বসু মুক্ত, সদস্য সচিব অরুণ কুমার ঘোষ, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক গণেশ চন্দ্র বিশ্বাস, সদস্য সচিব অচিন্ত কুমার রায়, পৌর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রহ্লাদ বিশ্বাস, সদস্য সচিব রাহুল দেব সাহা (পাপ্পু)।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। অতিতে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসররা সাম্প্রদায়িকতা কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্টের পতনের পরে দেশের সকল ধর্মের মানুষ মিলে মিশে একে অপরের ধর্মীয় উৎসব উপভোগ করছে। বাংলাদেশে এখন ভয়হীন এক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার মতো বড় উৎসব দেশে শান্তিপূর্ণ ভাবে উদযাপিত হয়েছে। সকল ধর্মের মানুষ পূজার উৎসব আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীলতার মধ্যদিয়ে আগামীতেও দেশে শান্তিপূর্ণ ভাবে সব ধর্মের মানুষ তাদের আচার-উৎসব পালন করবে।

 

ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত ১৫ কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়েছে সেনাসদর। তবে মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদকে পাওয়া যাচ্ছে না।
শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসের মেস আলফাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
তিনি জানান, ৩টি মামলায় ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে অবসরে আছেন ৯ জন, এলপিআরএ একজন, আর বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫ জন।
তিনি জানান, ৮ তারিখ চার্জশিট দাখিলের পর এলপিআর ও সার্ভিসে থাকা ১৬ জনকে সেনাসদরে সংযুক্ত করা হয়। তাদের ৯ অক্টোবরের মধ্যে সেনাসদরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়। মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া বাকি ১৫ জন রেসপন্স করেছেন। তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা ফ্যামিলি থেকে ডিটাচ আছেন।
কবীর আহাম্মদের বিষয়ে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, তিনি ৯ অক্টোবর সকালে বাসা থেকে বের হয়েছেন। এরপর থেকে তিনি মিসিং।

 

মেজর জেনারেল কবিরকে নিয়ে যা জানাল সেনা সদর!

মেজর জেনারেল কবির আহমেদকে ‘ইলিগ্যালি অ্যাবসেন্ট (অবৈধভাবে অনুপস্থিত)’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সেনাবাহিনী। তিনি যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য তাকে ধরতে সকল সীমান্তে সর্তকতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা সদর।
শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসের মেসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
মেজর জেনারেল কবিরের বিরুদ্ধে জয়েন্ট ইন্টেরোগেশন সেলে (জেআইসি) ভুক্তভোগীদের বন্দি রেখে নির্যাতনের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
তিনি বলেন, ‘মেজর জেনারেল কবির না জানিয়ে অবৈধভাবে ছুটিতে গেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’
মেজর জেনারেল কবির ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। গত বছর জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসের কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। সবশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে অভিযুক্তরা কোনো অন্যায় করেননি; তবে বিভিন্ন বাহিনীতে প্রেষণে গিয়ে কিছু ব্যক্তি অপরাধে জড়ান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘ওয়ারেন্ট ইস্যুর বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে তাদের হাজির করার বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

 

পুরান ঢাকার জীবনচিত্র নিয়ে ‘মহল্লা

০

পুরান ঢাকার বাহ্যিক আবরণ সময়ের সাথে সাথে বদলে যেতে থাকলেও এখনও পুরনো ঐতিহ্য স্পষ্ট রয়েছে পরতে পরতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আধিক্য থাকলেও বিভিন্ন কর্মসূত্রে বহিরাগতদের দীর্ঘদিন ধরে উপস্থিতি একদিকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে পুরান ঢাকাকে, ঠিক একইভাবে অস্তিত্ব সংকটেও ফেলেছে। সেসব গল্পই এবার পর্দায় তুলে আনছেন নাট্যনির্মাতা ফরিদুল হাসান।
পুরান ঢাকার গল্পে তার পরিচালনায় নির্মিত হচ্ছে তারকাবহুল ধারাবাহিক নাটক ‘মহল্লা’। এরই মধ্যে পুরান ঢাকা, সদরঘাট, উত্তরা ও ফার্মগেটের বিভিন্ন লোকেশনে ধারাবাহিকটির দৃশ্য ধারণ শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ রায়ের রচনায় এই দীর্ঘ ধারাবাহিকটি পহেলা নভেম্বর থেকে বেসরকারি টেলিভিশন বৈশাখী টিভিতে প্রচার শুরু হবে বলে নির্মাতা জানিয়েছেন।
ধারাবাহিকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন যাহের আলভী, ইফফাত আরা তিথি, আবদুল্লাহ রানা, রকি খান, রেশমি আহমেদ, সহীদ উন নবী, তন্ময় সোহেল, সিয়াম মৃধা, সিয়াম নাসির, আশরাফুল আলম সোহাগ, তানভীর রাহী, ইফতি, সাবা সুস্মিতা, অনন্যা ইসলাম, ইমরান হোসেন আজান, ওয়াহিদ ইকবাল মার্শাল, সাইকা আহমেদ, পলিন, উপমা আহমেদ, আঞ্জুমান মেহেজাবিন, জাবেদ গাজী, আয়েশা নাফিসা, অনুভব মাহবুব প্রমুখ।
নাটকটির বিশেষ একটি চরিত্রে রয়েছেন ঢালিউড সিনেমার দর্শকপ্রিয় চিত্রনায়িকা আইরিন সুলতানা। এতে তিনি নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
‘মহল্লা’ প্রসঙ্গে ফরিদুল হাসান বলেন, ‘এটি মহল্লার ভালো ও মন্দের গল্প। ব্যস্ত এই শহরে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মহল্লায় সমসাময়িক যেসব ঘটনা ঘটে তা হাস্যরসের মাধ্যমে পর্দায় তুলে ধরা হচ্ছে। এতে অনেক জনপ্রিয় শিল্পীরা অভিনয় করছেন। অস্থির সময়ে স্বস্তি দিবে মহল্লা। পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটি গল্প। আমরা প্রায়ই শুনে থাকি পরিবারের গল্প হয় না। তা অনেকটাই ভুল। কারণ, পরিবারের গল্প হয় তবে তুলনামূলক কম। তবে আমি বরাবরই পারিবারিক গল্পকে গুরুত্ব দেই। বর্তমান সময়ের দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখেই মহল্লা নির্মাণ করছি।’
ধারাবাহিকটি নিয়ে আইরিন বলেন, ‘এতে আমি মধু চরিত্রে অভিনয় করেছি। মধু জনপ্রিয় একজন চিত্রনায়িকা। তাকে পুরান ঢাকার একটি মহল্লায় ঘুড়ি উৎসবে পারফর্ম করার জন্য নেওয়া হয়। এরপর ঘটতে থাকে নানা নাটকীয় ঘটনা। আশা করছি, ধারাবাহিকটি প্রচারে এলে সবার পছন্দ হবে।’
গল্পের প্রয়োজনে ‘মহল্লা’ ধারাবাহিকে ‘তানপুরা’ শিরোনামের একটি আইটেম গান রয়েছে। এটি গেয়েছেন মুহিন, পাশাপাশি গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন এই গায়ক। গানের কথা লিখেছেন বিদ্যুৎ রায়। মাইকেল বাবুর কোরিওগ্রাফিতে আইটেম গানটিতে পারফর্ম করেছেন চিত্রনায়িকা আইরিন। সাজসজ্জায় টিটু শিকদার।

শনিবার দেশে ফিরবেন শহিদুল আলম

বাংলাদেশি আলোকচিত্রী এবং মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম আগামীকাল (শনিবার) ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে শহিদুল আলম স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। যেখানে তাকে ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাগত জানান।

তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আমানুর রহমান জানান, শহিদুল আলমের ঢাকায় ফেরার ফ্লাইট শুক্রবার তুর্কি সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইসরায়েল থেকে শহীদুল আলমের মুক্তি এবং নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শহিদুল আলমকে আটকের পর জর্ডান, মিশর এবং তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং তার মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে।

এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার টাকার মধ্যে হওয়া উচিত : জ্বালানি উপদেষ্টা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফওজুল কাবির খান বলেছেন, দেশের স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সিলিন্ডারের বাজার মূল্য ১২০০ টাকার বেশি হওয়ায় শিল্প ও গৃহস্থালি ব্যবহারকারীরা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না। অথচ এর দাম ১ হাজার টাকা মধ্যে হওয়া উচিত।

উপদেষ্টা বলেন, এলপিজির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো দাম। বর্তমানে ১২০০ টাকা দামের সিলিন্ডার কিছু ক্ষেত্রে বাজারে ১৪০০–১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই দামের নিয়ন্ত্রণ, লজিস্টিক উন্নয়ন এবং প্রাইভেট সেক্টরের কার্যকারিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মনোভাব ছাড়া দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি কোনো স্বাভাবিক সংকট নয়। এটি একটি পরিকল্পিত অবস্থার ফল, যা ক্ষমতাসীন কিছু রাজনীতিবিদ ও তাদের সহযোগী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর কারণে তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্যাস লাইনের পরিকল্পনায় গ্যাস সরবরাহের চাহিদা উপেক্ষা করা হয়েছে, ফলে শিল্প ও গৃহস্থালিতে বিপুলসংখ্যক অবৈধ সংযোগও হয়েছে।

তিনি বলেন, এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তাই স্বল্পমেয়াদে ঘাটতি মোকাবিলায় এলপিজি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

জাকেরের সমস্যা কোথায় জানালেন সাবেক অধিনায়ক

০
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হার দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়ের ১০১ রানের জুটি ভাঙার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি টাইগার ব্যাটাররা। দৃষ্টিকটু শট খেলে ১৬ বলে ১০ রান করে ফিরে যান জাকের আলি অনিক। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দল সাফল্য পেলেও তেমন রান পাননি জাকের।
তারপরও জাকেরের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। সংবাদ সম্মেলনে সেদিন এমনটাই জানিয়েছিলেন ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। তবে হঠাৎ করে জাকেরের কি হলো প্রশ্ন জেগেছে সবার মনে। আজ (শুক্রবার) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন কিছুটা খোলাসা করলেন।
জাকেরকে নিয়ে বাশার বলেন, ‘জাকের আলী অবশ্যই আমাদের সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ খেলছিলেন। কিন্তু এই সিরিজে তার ব্যাটিং টেকনিকে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, কোনো এক কারণে। কারণ সে যা-ই করছে, সব কিছুই লেগ সাইডে খেলতে যাচ্ছে। আগে সে লং অন দিয়ে মারত, এখন তার শটগুলো বেশিরভাগই ফাইন লেগ আর স্কয়ার লেগ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু স্পিনের বিপক্ষে এটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অপশন। তাই এই জায়গাটায় সে একটু মিস করছে বলে মনে হয়।’
সবশেষ দুই সিরিজের আগে জাকেরকে দেখা গেছে স্পিনারদের বিপক্ষে ভালো খেলতে। তবে বর্তমানে স্পিনারদের বিপক্ষেই উইকেট দিয়ে আসতে হচ্ছে তাকে। রশিদ খানের বল একেবারেই যেন খেলতে পারছেন না জাকের। যে কারণে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন বাশার।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, জাকের আলী আগে যেমন ব্যাটিং করতেন, সে মূলত মিড অফ, লং অফ আর লং অনের দিকে শট খেলতেন। এতে স্পিনারদের বল পড়তে সুবিধা হতো। কিন্তু যখন একজন বোলার, যেমন রশিদ খান—ওর বোলিং তো অনেক দ্রুত আসে—সেই সময়টা ব্যাটসম্যানের পাওয়া যায় না। তাই সবসময় লেগ সাইডে খেলা একটা ঝুঁকিপূর্ণ, ডেঞ্জারাস অপশন হয়ে যায়।’

ব্রেইনে টিউমার, এখন কেমন আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন?

০
ভালো নেই ঢাকাই সিনেমার সোনালি যুগের জনপ্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত এই অভিনেতা এখন লন্ডনে চিকিৎসাধীন; নিচ্ছেন রেডিওথেরাপি।
সম্প্রতি নায়কের জামাতা আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমে জানান, ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে লন্ডনে তাদের বাসায় আছেন। বলেন, ‘আব্বুর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। সপ্তাহে পাঁচ দিন রেডিওথেরাপি নিতে হচ্ছে, যাকে টার্গেট থেরাপি বলা হয়। পাশাপাশি তিনি ওরাল কেমোথেরাপিও নিচ্ছেন। এই চিকিৎসা চলবে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।’
তিনি আরও জানান, রেডিওথেরাপি শেষ হওয়ার এক মাস পরই তার শারীরিক অবস্থা বোঝা যাবে। আপাতত চিকিৎসা নিয়মিতভাবে চলছে; তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ এখনও ঢালিউডের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। শুধু অভিনয় নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রেখেছেন বিশেষ ভূমিকা।

মাছ-মাংসের বাজারে অদৃশ্য সিন্ডিকেট, মধ্যবিত্তের হাঁসফাঁস

০
রাজধানীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। কোনো এক পণ্যের দাম কিছুটা কমলেই, সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে যায় অন্যটির। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাছ-মুরগির বাজার হয়ে ওঠে একেবারে লাগামহীন। এই অস্থির বাজারে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজকের বাজারে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, যা গত এক মাস আগেও ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে। দেশি মুরগির দাম ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকার নিচে নেই। জনপ্রিয় মাছ যেমন রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও চিংড়ির দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪০–৫০ টাকা পর্যন্ত।
বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বলছেন, অদৃশ্য এক সিন্ডিকেট নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে দামের বিশাল ব্যবধান তৈরি করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছে।
রামপুরা বাজারের ক্রেতা আজিজুর রহমান বলেন, আগে মাসে কয়েকবার দেশি মুরগি কিনতাম, এখন সেটা স্বপ্ন হয়ে গেছে। মাছ কিনতে গেলেও গুনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দাম। বাজারের সঙ্গে আয়-রোজগারের কোনো মিল নেই। অসাধু চক্রের সদস্যরা অদৃশ্য থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
আরেক ক্রেতা মশিউর রহমান বলেন, বাজারে আসলে দেখি কোন জিনিসের দাম একটু কম, সেটাই কেনার চেষ্টা করি। কখন যে কোনটার দাম বাড়ে, বলা যায় না। টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু পণ্য আনতে হয়। সরকারের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি নেই।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের বাজার মনিটরিং দুর্বল হয়ে পড়ায় এই ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’ দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধান কমাতে না পারলে নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।
বাজারে এসে ক্রেতারা—বলছেন গরু-খাসির মাংস অনেক আগেই নাগালের বাইরে গেছে; এখন মুরগি ও মাছও বিলাসী খাবারের তালিকায় ঢুকছে। বেসরকারি চাকরিজীবী ফারজানা হক বলেন, আগে সপ্তাহে একদিন বাজারে যেতাম, এখন দুই দিনে যাই। কারণ প্রতিদিন দাম বাড়ে। সংসার চালাতে এখন বুদ্ধি খাটিয়ে বাজার করতে হয়।
ব্যাংক কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামের লাগাম টানার মতো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। সরকারের নিয়মিত নজরদারি ও সিন্ডিকেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে অস্থিরতা এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারাও দাম বৃদ্ধির দায় নিচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, পাইকারি পর্যায়েই প্রতিদিন দাম ওঠানামা করছে। খামারিরা ফিড, পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ানোর অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে খুচরা বিক্রেতাদেরও বাধ্য হয়ে সেই দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া বলেন, আগে ১৪০–১৫০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন ১৮০–২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতারা এক কেজির বদলে আধা কেজি নিচ্ছেন। আমরা পাইকারি দামে বেশি কিনে বেশি দামে বিক্রি না করলে লোকসান গুনতে হয়।
বনশ্রী এ ব্লকের মাছ বিক্রেতা মোদাসসের আলী বলেন, ঘাট থেকে সরাসরি মাছ কিনতে পারি না, আড়তের মাধ্যমে কিনতে হয়। ফলে দাম বেড়ে যায়। বাজারে এসে ক্রেতারা আমাদের ওপর ক্ষোভ দেখান, কিন্তু আসলে দামের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই।