Home Blog Page 32

বাংলাদেশ ভ্রমণে উচ্চমাত্রার সতর্কতা কানাডার

বাংলাদেশে ভ্রমণ নিয়ে দেশের নাগরিকদের সতর্কতা হালনাগাদ করেছে কানাডা সরকার। রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিচারিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও জনঅস্থিরতার আশঙ্কায় দেশটি বাংলাদেশে ভ্রমণকারীদের উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। সোমবার সর্বশেষ এই সতর্কতা হালনাগাদ করা হয়।

কানাডা সরকার এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে বাংলাদেশ নিয়ে দুই দফা ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছিল। এবারের সতর্কতায়ও বাংলাদেশকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পর্যায়েই রাখা হয়েছে।

কানাডা সরকারের ভ্রমণ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যেকোনো সময় বিক্ষোভ ও সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশে ভ্রমণরত কানাডীয় নাগরিকদের বড় ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলে সতর্কতা আরও কঠোর
চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও কঠোর করেছে কানাডা। দেশটির নাগরিকদের ওই এলাকায় সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, অপহরণ ও সংঘর্ষের ঝুঁকির কথাও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে অবস্থানরত বা ভ্রমণরত কানাডীয় নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং ভ্রমণের আগে কানাডা সরকারের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

‘গলায় দা ধরে এমপির বাড়ি জমি লিখে নেন সৎ ভাইয়েরা’ আদালতে মামলার আরজিতে এমপি নাছির চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন আক্তার

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন আক্তার এবার এমপির তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে গলায় দা লাগিয়ে বাড়িসহ সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন সৎ ভাইরা।

পারভিন আক্তারের পক্ষে আদালতে মামলার আবেদন করেন আইনজীবী কাওছার আলম। আমল গ্রহণকারী দিরাই আদালতের বিচারক মো. জসিম এই মামলা গ্রহণ করে আদেশে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আরজিতে দিরাই উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকসহ নাছির চৌধুরীর তিন সৎ ভাইকে বিবাদী করা হয়েছে। বিবাদীরা হলেন– নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। অন্য বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপনের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম ও দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মোহরার মমতাজ বেগম।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বাদী পারভিন আক্তার নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে মারপিট ও শ্লীলতাহানির শিকার হন। এতে আরও বলা হয়, বিবাদীরা নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িসহ সম্পত্তি থেকে তাঁর দুই স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য আগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

আরজিতে আরও বলা হয়, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী শেলী চৌধুরী অসুস্থ হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন তখন। একই সময়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীও দিরাইয়ের বাড়িতে অসুস্থ ছিলেন। ওই সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দাতা সাজিয়ে বিবাদীরা গ্রহীতা হয়ে বাড়িসহ অন্য ভূমি থেকে বাদীর দুই কন্যা, অন্য স্ত্রী ও নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বোনকে বঞ্চিত করে দলিল তৈরি করার পরিকল্পনা নেয়।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই এসআরও অফিসের দুই কর্মচারীকে অফিসার সাজিয়ে অসুস্থ, অক্ষম নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দলিলে স্বাক্ষর করতে বললে তিনি অসম্মতি জানান। পরে তাঁরা গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে খুন করবে বলে ভয় দেখায়। কথাবার্তা শুনে তাঁর অন্য স্ত্রী শেলী চৌধুরী এসে বাধা দিলে আসামি মিজানুর রহমান চৌধুরী তাঁকেও খুন করার হুমকি দেয়। এ সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর টঙ্গর এলাকার সমর্থক ওয়াকিব হাসান তখন ওই বাড়িতে তাঁকে দেখতে আসেন এবং ঘটনাটি দেখেন। মঈন উদ্দিন চৌধুরীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওয়াকিবকে তাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে নাছির উদ্দিনের মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য আসামিরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করতে থাকে। পরে নাছির উদ্দিন চৌধুরী সুস্থ হয়ে এসব বিষয় জানিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।
মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, বিবাদীদের এমন আচরণের কথা জেনে এলাকায় জনরোষ তৈরি হলে তাঁরা ক্ষমা প্রার্থনা করে দলিল বাতিল করার অঙ্গিকার করেন। এ কারণে তাদের আদালতের আশ্রয় নিতে বিলম্ব হয়েছে।

পারভিন আক্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা জোর করে কিছু করতে চাই না। আইন হাতেও তুলতে চাই না। এ জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।’

বিবাদী মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক সমকালকে বলেন, ‘মামলা কী হয়েছে জানি না। জানার পর আইনিভাবেই জবাব দিব।’

কুমারখালী দোকানে সার সংকট, বাড়তি টাকা দিলে মেলে

৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কৃষক সামছুল আলম। তাঁর বাড়ি উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বড় ভালুকা গ্রামে। এ ইউনিয়নে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলারের কাছে কিছুদিন আগে যান সার কিনতে। কিন্তু ডিলারের থেকে সরকার নির্ধারিত দরে ১০ কেজির বেশি সার পাননি। বাধ্য হয়ে একই ইউনিয়নের বেলতলী এলাকার সাবডিলার আব্দুল কুদ্দুসের দোকান থেকে বাড়তি দামে সার কেনেন। সেখানে প্রতি কেজি ইউরিয়ার দাম ৩২ টাকা, ডিএপি সারের দাম ৩৭ টাকা ও টিএসপি সারের দাম ৩৮ টাকা রাখা হয়। অথচ সারগুলোর সরকারি দাম যথাক্রমে ২৭, ২১ ও ২৭ টাকা।

গত শনিবার সামছুলের সঙ্গে কথা হয় সমকালের। একই দিন বড় ভালুকা গ্রামের মাঠে দাঁড়িয়ে আক্ষেপের অপর কৃষক জনি মোল্লা বলছিলেন, ‘উপজেলা হয়ে যে সার আমাদের সোবাহান সাহেবের (ইউনিয়নের ডিলারের বাবা) কাছে আসে, সেই সার আমরা ঠিকমতো পাই না। ১৫-২০ কেজি করে সার দেয়। বস্তা ধরে নিতে হলে ৪-৫ জন করে ভাগে নিতে হয়। আমার ছয় বিঘা ভুই ধান। বলেন, আমার কি সম্ভব প্রত্যেক দিন যায়া যায়া ২০ কেজি করে সার নিয়ে আসা?’ সরকারি দামে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি কালোবাজার থেকে ইউরিয়া কিনেছেন ৩২ টাকা কেজিতে, টিএসপি ৪০ টাকায় আর ডিএপি ৩২ টাকায়।

সামছুল-জনির মতো কুমারখালীর হাজারো আমন চাষির কণ্ঠে একই হাহাকার। ডিলার সিন্ডিকেটের তৈরি কৃত্রিম সংকটে এসব কৃষকের পকেট থেকে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গচ্চা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য ও কৃষকদের অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) কুমারখালীতে প্রায় ১৬ কোটি টাকা লুটেছে সার সিন্ডিকেট।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১১ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত কুমারখালী উপজেলায় বিসিআইসির ডিলার ১৩ জন আর বিএডিসির ডিলার ১৭ জন। তাদের অধীরে আছেন ১০৮ জন সাবডিলার।

বছরে ১৬ কোটি টাকা লুট
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরে কুমারখালীতে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে (২০২৫-২৬) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ইউরিয়ার সারের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৮৩৮ মেট্রিকটন। এ ছাড়া টিএসপি দুই হাজার ৭৩৮ মেট্রিকটন, ডিএপি চার হাজার ৯৮৫ মেট্রিকটন ও এমওপি তিন হাজার ১৫৪ মেট্রিকটন বরাদ্দ হয়।

কৃষি কার্যালয়ের তথ্য ও কৃষকের করা অভিযোগ অনুযায়ী বাড়তি টাকার হিসাব করলে চিত্রটি ভয়াবহ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিকেজিতে ১৩ টাকা বাড়তি হিসাবে টিএসপি সার থেকেই তিন কোটি ৫৫ লাখ টাকা বাড়তি নিয়েছে সিন্ডিকেট। প্রতি কেজি ১১ টাকা হিসাবে ডিএপি সার থেকে পাঁচ কোটি ৪৮ লাখ টাকা; প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকা হিসাবে এমওপি সার থেকে এক কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং প্রতি কেজি পাঁচ টাকা হিসাবে ইউরিয়া সার বিক্রি করে পাঁচ কোটি ৪১ লাখ টাকা লুটেছে চক্র।

সারের জন্য হাহাকার
চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, বাগুলাট, চাঁদপুর, সদকী, শিলাইদহ ও চাপড়া ইউনিয়নের মাঠে মাঠে চলছে জমি চাষ ও চারা রোপণের কাজ। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সারের চাহিদা। চাষিরা বলছেন, এই সুযোগেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে ডিলার-সাব ডিলারদের সিন্ডিকেট।

গত এক সপ্তাহ সরেজমিন দেখা গেছে, ন্যায্যমূল্যের ডিলার পয়েন্টে গিয়ে চাহিদামতো সার মিলছে না। বাধ্য হয়ে কৃষক ছুটছেন সাবডিলারের কাছে। কেউ কালোবাজারেও ছুটছেন। সেখানে সরকার নির্ধারিত দামে কোনো সারই বিক্রি হচ্ছে না।

পান্টি ইউনিয়নের জোতভালুকা গ্রামের মোহাম্মদ শাহাদত শেখের ছেলে মজনু শেখ বলেন, ‘সরকারি দামে সার পাচ্ছি না। সাব ডিলারের কাছ থেকে ৩২ টাকা কেজি ইউরিয়া, ৪২ টাকা কেজি টিএসপি কিনেছি। চাষ করতি হলে সার কেনাই লাগবে। কোনো উপায় নেই।’

বাজারের চিত্রও একই। প্রতি কেজি টিএসপি ২৭ টাকার জায়গায় ৩৮-৪২ টাকা, ২৭ টাকার ইউরিয়া ৩০-৩২ টাকায়, ডিএপি ২১ টাকার বদলে ৩২-৩৫ টাকায় ও এমওপি ২০ টাকার পরিবর্তে ২৫-২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য কৃষকেরা সরাসরি ডিলারদের দায়ী করছেন। তারা বলছেন, চাহিদামতো সার না দিয়ে অল্প অল্প করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বারবার ডিলারের কাছে যেতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি বাড়তি ভোগান্তি। কম সার দেওয়ার কথা স্বীকার করেন পান্টি ইউনিয়নের বিসিআইসির ডিলার মেসার্স পলাশ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জাবিউল্লাহ পলাশ। তাঁর ভাষ্য, কৃষকের সার ব্যবহার দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। সেজন্য কৃষকদের বুঝাতে ও সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিত করতে কম সার দেওয়া হচ্ছে।

একই ইউনিয়নের বেলতলার সাব ডিলার আবদুল কুদ্দুসের মেসার্স ওয়াকিল এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক তাঁর ছেলে ওয়াকিল আহমেদ। তিনি বেশি দাম নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তবে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা বেশি নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘চাহিদামতো সার কিনতে কৃষকদের অন্য এলাকার ডিলারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। অন্য ডিলারের কৃষক আসলে বেশি টাকা নেওয়া হতেই পারে। কিন্তু তাঁর অভিযোগ আমলে নেওয়া যাবে না। কারণ, বাইরে থেকে সে কেন আসবে?’

কালোবাজারে বিক্রি
যদুবয়রা ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম। দুই বিঘা জমির জন্য গত ২ আগস্ট সার কিনতে তিনি গিয়েছিলেন ভবানীপুরের বড় ভাই মোড়ের দোকানি আবিদ হাসানের কাছে। আবিদ তাঁর কাছে প্রতিকেজি ইউরিয়ার দাম ৩২ টাকা, এমওপি প্রতিকেজি ২৫ টাকা ও ডিএপি সারের দাম প্রতিকেজি ৪৫ টাকা রাখেন। রবিউল বলেন, সরকারি দামে সার মিলছে না। অতিরিক্ত টাকা দিলেই বেশি বেশি সার পাওয়া যায়।

আবিদ হাসানের সার বিক্রির লাইসেন্স নেই। তবু বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। একইভাবে লাইসেন্স ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সারের ব্যবসা করছেন পান্টি ইউনিয়নের পান্টির গোদের বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেনও। জাকির এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। আবিদ হাসান দাবি করেন, ‘আমার সার বিক্রির লাইসেন্স নেই। নিজের জমির জন্যে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন এলাকার ডিলারের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ বস্তা করে সার কিনে দোকানে রাখি। কিন্তু আমি কোনো কৃষকের কাছে বিক্রি করি না।’
চাপড়া ইউনিয়ন বোর্ড অফিস এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুল ইসলামের দাবি অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। তিনি বলেন, সাবডিলারদের ওপর নজরদারি চালাতে হবে। কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

আলাউদ্দিন নগর বাহার কৃষি কলেজের অধ্যক্ষ নুর-ই-আলম বলেন, আমন মৌসুমের শুরুতেই সারের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায়।
কুমারখালী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবীব চৌহান বলেন, সার নিয়ে কারসাজি দীর্ঘদিনের। ডিলাররা কালোবাজারে সার বিক্রি করছেন বলেই কৃষক পাচ্ছেন না। কোটি কোটি টাকা লুটছে সিন্ডিকেট।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেনের ভাষ্য, কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কয়েকটি ডিলার পয়েন্টে অবস্থান করে সার দেবেন। সিন্ডিকেট ও অসাধু ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, সারের কৃত্রিম সংকট ও বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ মৌখিকভাবে পেয়েছেন, লিখিত পাননি। কৃষক যেন সরকারি দামে সার পায় সেটি নিশ্চিতে কাজ করছেন। দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার  আশ্বাস দেন।

মানসিক চাপেও বাড়তে পারে কোলেস্টেরল

কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার কথা শুনলেই অনেকে শুধু তেল-চর্বিযুক্ত খাবারকে দায়ী করেন। তবে শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপও শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা, ঘুমের সমস্যা, অনিয়মিত খাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস না থাকলে কোলেস্টেরলসহ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে শরীরে কিছু হরমোনের পরিবর্তন হয়। একই সঙ্গে অনেকের মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও বেশি ক্যালরির খাবারের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। ফলে সরাসরি ও পরোক্ষ—দুইভাবেই কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

মানসিক চাপ কীভাবে কোলেস্টেরল বাড়ায়

মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এগুলো শরীরকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে। স্বল্প সময়ের জন্য এই প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ থাকলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফরিদাবাদের ফোর্টিস হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. সঞ্জয় কুমারের মতে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মানসিক চাপের সময় শরীর কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন ছাড়ে। এগুলো শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহের ব্যবস্থা করে। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে লিভারে গ্লুকোজ, কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরির পরিমাণ বাড়তে পারে।

মানসিক চাপ বদলে দেয় খাওয়ার অভ্যাসও

মানসিক চাপের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে খাবারের ওপর। দুশ্চিন্তায় অনেকেই না বুঝে বেশি খেয়ে ফেলেন। বিশেষ করে মিষ্টি, ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া, চিপস, কোমল পানীয়সহ উচ্চ ক্যালরির খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে। এ ধরনের খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত ক্যালরি থাকতে পারে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে ওজন বাড়ার পাশাপাশি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, মানসিক চাপের কারণে অনেকে খাবারের সময় ঠিক রাখেন না। দিনের বেশির ভাগ সময় না খেয়ে থেকে রাতে বেশি খাওয়া, বারবার স্ন্যাকস খাওয়া বা গভীর রাতে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাসও শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

শুধু মানসিক চাপ নয়, খাবারও গুরুত্বপূর্ণ

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দিতে হবে। নিয়মিত অতিরিক্ত তেল, চর্বিযুক্ত মাংস, ভাজাপোড়া, বেকারি খাবার, ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি বেশি। তাই খাবারের তালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, ওটস, বার্লি, বাদাম, বীজ এবং মাছের মতো পুষ্টিকর খাবার রাখা ভালো। বিশেষ করে আঁশযুক্ত খাবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। চর্বিযুক্ত মাছেও উপকারী ফ্যাট থাকে, যা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কোন খাবার বেশি রাখবেন

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনের খাবারে রাখতে পারেন—ওটস ও বার্লি, ডাল, ছোলা ও বিভিন্ন ধরনের শিম, শাকসবজি, পেয়ারা, আপেলসহ আঁশযুক্ত ফল, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ, মাছ ও পরিমিত অলিভ অয়েল বা স্বাস্থ্যকর তেল। তবে কোনো একটি খাবার খেলেই কোলেস্টেরল কমে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। পুরো খাদ্যাভ্যাসটাই স্বাস্থ্যকর করতে হবে।

ঘুম কম হলেও বাড়তে পারে ঝুঁকি

মানসিক চাপের সঙ্গে ঘুমের সমস্যারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত কম ঘুম বা অনিয়মিত ঘুম শরীরের হরমোন ও বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ক্লান্তি বাড়ায় এবং ব্যায়াম বা শরীরচর্চার আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করা জরুরি। রাত জেগে কাজ বা মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস থাকলে তা ধীরে ধীরে কমিয়ে নিয়মিত ঘুমের সময় ঠিক করা ভালো।

ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ

নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শরীরচর্চা করা যেতে পারে। ব্যায়াম শুধু কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেই নয়, মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে। ফলে এটি একই সঙ্গে দুই দিকেই উপকার করতে পারে।

ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন

ধূমপান হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির জন্য ক্ষতিকর। একইভাবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তাই কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে এসব অভ্যাস এড়িয়ে চলা জরুরি।

কী লক্ষণে সতর্ক হবেন

কোলেস্টেরল বেড়ে গেলেও অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। এ কারণেই একে অনেক সময় নীরব সমস্যা বলা হয়। তবে দীর্ঘদিন মানসিক চাপ, ওজন বেড়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো থাকলে সতর্ক হওয়া দরকার—

  • নিয়মিত অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা
  • ঘুমের সমস্যা
  • মানসিক চাপের কারণে বেশি খাওয়া
  • ওজন বা কোমরের মেদ বেড়ে যাওয়া
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস
  • পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস
  • পরীক্ষায় বারবার বেশি কোলেস্টেরল পাওয়া

কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো জীবনযাপনে কয়েকটি পরিবর্তন আনা। নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। দুশ্চিন্তা বেশি হলে ধ্যান, নামাজ বা প্রার্থনা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পছন্দের কাজে সময় দেওয়াও উপকারী হতে পারে। তবে শুধু মানসিক চাপ কমালেই কোলেস্টেরল স্বাভাবিক হবে—এমন নয়। আবার শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেও সব ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান হবে না। বয়স, ওজন, বংশগত কারণ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, শারীরিক পরিশ্রম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ও কোলেস্টেরলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

রক্ত পরীক্ষায় বারবার কোলেস্টেরল বেশি পাওয়া গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে এলডিএল বেশি থাকলে, পরিবারের কারও হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছায় কোলেস্টেরলের ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক রক্তের লিপিড প্রোফাইলসহ অন্যান্য পরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারেন।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একসঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নজর দেওয়া— স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, সুবিধা হারাচ্ছেন আরও হাজারো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতির অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। একই সময়ে আরও হাজারো মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।

সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক তথ্যবিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়।

তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি-ভিসা বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ঠেকাতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। এর অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের অনেকের কাছেই বৈধ ভিসা ছিল। এবার বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতির আরেকটি দিক সামনে এসেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভিসাধারীরা ভিসার শর্ত মেনে চলছেন কি না এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য কোনো হুমকি হয়ে উঠছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধও ভিসা বাতিলের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে দপ্তর।

পররাষ্ট্র দপ্তর কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানব পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য একজনের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার এক ডজনের বেশি অভিযোগ রয়েছে।

দপ্তর আরও জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ ট্যুরিস্ট’ হিসেবে আসা ১০০টির বেশি বাবা-মায়ের ভিসা বাতিল করেছে। এসব ব্যক্তি সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তাদের সন্তান যেন জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়, সেটিই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

এ ছাড়া জনপ্রিয় রক্ষণশীল অধিকারকর্মী চার্লি কার্ককে হত্যার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। তাদের একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘ফ্যাসিস্টরা মারা গেলে গণতন্ত্রপন্থীরা অভিযোগ করে না।’ আরেকজন মন্তব্য করেছিলেন, ‘তিনি দেরিতে মারা গেছেন।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তাদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

দপ্তর আরও বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি সুযোগ, অধিকার নয়।’ ভিসার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ভিসা বাতিলসহ বিদ্যমান সব ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তারা এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। তখন এটিকে রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা বলা হয়েছিল। নতুন হিসাব অনুযায়ী, সেই সংখ্যা এখন ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর নীতি নিয়েছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাইয়ের আওতা বাড়ানো হয়েছে।

অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি ও তাঁদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

ইরানের হত্যার হুমকি, খাবার বহনের ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

ইরানের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকির পর গত মাসে তুরস্ক থেকে গোপনে সামরিক বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ট্রাম্প পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই ফিরছেন। তবে বাস্তবে তাকে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি ছোট সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সোমবার ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ সফরে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক যাত্রায় ব্যবহার করা হয় কাতারের উপহার দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটি। তবে আঙ্কারা ছাড়ার সময় আকস্মিকভাবে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। এতে নতুন উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ট্রাম্পের তুরস্ক সফর অনুষ্ঠিত হয়। তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে।

আঙ্কারা ছাড়ার আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছিলেন, তিনি ‘পুরোনো দিনের কথা মনে করে’ পুরোনো নীল রঙের এয়ারফোর্স ওয়ানে করে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মাইল্ডেনহলে যাবেন। একই সময়ে কাতারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটিও সেখানে যাবে, যাতে ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনারা সেটি ঘুরে দেখতে পারেন। তবে পরে জানা যায়, এটি ছিল নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ।

আঙ্কারায় ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন ট্রাম্প। এরপর তাকে গোপনে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অপেক্ষমাণ ছোট একটি সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানটি ছিল মার্কিন বিমানবাহিনীর সি৩২-এ। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পকে হত্যার একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়ার পর এই গোপন অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানকে কার্যত ট্রাম্পের ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ট্রাম্পের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন বলে ধারণা করা সাংবাদিকেরা পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানেই ছিলেন। হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীও মনে করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ওই বিমানেই রয়েছেন। সাংবাদিকদের বিমানের প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।

পরে সাংবাদিকেরা জানতে চান, কেন তাদের জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত আমরা একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলাম।’ এরপর তিনি বলেন, ‘তবে আমি গেলে আপনারাও যাবেন, তাই না?’

ট্রাম্পকে বহনকারী সি৩২-এ যুক্তরাজ্যে গিয়ে রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে অবতরণ করে। কয়েক মিনিট পর পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানও সেখানে পৌঁছায়। তবে ট্রাম্প কখন এবং কীভাবে সি৩২-এ থেকে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ফিরে যান, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের সফরসঙ্গী সাংবাদিকেরা জানান, যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে তিনি পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামেন। সাংবাদিকদের দিকে তিনি শান্তির প্রতীক হিসেবে দুই আঙুল তুলে ইশারা করেন, তবে তাদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যাননি। পরে কিছু সময় মার্কিন সেনাসদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে তিনি কাতারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটির দিকে যান।

ট্রাম্পের গোপন তৃতীয় বিমানে যাত্রার বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভ চেউং বলেন, কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটিতে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমন বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু তাকে লক্ষ্য করছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা ব্যবহার করি।’

ওয়াশিংটন পোস্টকেও একই বক্তব্য দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

কাতারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটি একটি বোয়িং ৭৪৭। ট্রাম্পের পছন্দ অনুযায়ী এতে লাল, সাদা, গাঢ় নীল ও সোনালি রঙের নকশা করা হয়েছে। গত বছর কাতার যুক্তরাষ্ট্রকে বিমানটি উপহার দেয়। পরে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলথ্রি হ্যারিস টেকনোলজিস বিমানটি সংস্কার করে।

বোয়িংয়ের নতুন প্রজন্মের এয়ারফোর্স ওয়ান সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা চলায় অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য এই বিমানটি নেওয়া হয়েছিল। তবে বিমানটির দ্রুত সংস্কারের খরচ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল।

এর আগে ২০০০ সালেও একই ধরনের নিরাপত্তা কৌশল নেওয়া হয়েছিল। সে সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পাকিস্তানে যাওয়ার সময় পরিচয়বিহীন একটি নির্বাহী উড়োজাহাজ ব্যবহার করেছিলেন। একই সময়ে তার আনুষ্ঠানিক এয়ারফোর্স ওয়ানকে ডিকয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৯৩৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৭০০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

স্বর্ণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রূপা ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ৩ হাজার ১৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনসিপির হুঁশিয়ারি মাফিয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত মেনে নেওয়া হবে না

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত জরুরি খাতকে কোনো অবস্থাতেই মাফিয়া বা লুটেরা ব্যবসায়ীদের মুনাফা লোটার হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল সোমবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেন।

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, ‘মাফিয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাতের অন্ধকারে আঁতাত কিংবা জনগণের সম্পদ নিয়ে যে কোনো গোপন রফা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে এই আত্মঘাতী বেসরকারীকরণ নীতি ও অপপ্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হাতেই এই খাতের পূর্ণ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ জ্বালানি খাতকে চিহ্নিত মাফিয়া ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণকে জিম্মি করার এক গভীর দেশবিরোধী অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে, কীভাবে আইনি বাধ্যবাধকতা ও রাষ্ট্রীয় নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে, ঋণ জালিয়াতি, ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত একটি বিতর্কিত মাফিয়া ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে জাতীয় পেট্রোলিয়াম বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণের চাবি তুলে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। দেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিয়ে যে কোনো চক্রান্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে।

মাফিয়াদের হাতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা তুলে দেওয়ার এই ষড়যন্ত্র ফ্যাসিবাদী শাসনের সেই পুরোনো এবং অন্ধকার মডেলেরই পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেন নেতারা। তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বিশেষ সুবিধাভোগী মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়ে দেশকে দেউলিয়া এবং লুটেরাদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল, আজও সেই একই বিপজ্জনক প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। বিগত দিনে কুইক রেন্টালের নামে ও ‘দায়মুক্তি আইনের’ সুযোগ নিয়ে ইচ্ছামতো বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ এবং ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে বিদেশে পাচারের মচ্ছব চালানো হয়েছে। এখন আবার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত জ্বালানি খাতকেও একই মাফিয়াতন্ত্রের শিকারে পরিণত করার নীলনকশা আঁকা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মাত্র দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন, বিপিসির চেয়ারম্যানকে অপসারণ এবং মাত্র চার দিনে নীতিমালার খসড়া তৈরি করার মতো নজিরবিহীন তাড়াহুড়া প্রমাণ করে এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং মাফিয়া ব্যবসায়ী তোষণের নগ্ন চক্রান্ত। আমদানিনির্ভর ও চরম কৌশলগত এই জ্বালানি খাতে বিপিসি নিজস্ব শোধন, সংরক্ষণ ও বিপণন সক্ষমতা বৃদ্ধি না করে, উল্টো গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত মাফিয়া গোষ্ঠীর হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া চরম জনস্বার্থবিরোধী।

এনসিপি বলেছে, এলপিজি খাতকে বেসরকারি আমদানিকারকদের হাতে তুলে দিয়ে মাফিয়া সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ জনগণকে যেভাবে জিম্মি করা হয়েছিল, ঠিক একই কৌশলে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মতো জরুরি জ্বালানির সরবরাহ ও দর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মাফিয়াদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দিয়ে লুটপাটের যে সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছিল, সেখান থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বের করে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান নেতারা।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর সুসম্পর্ক রেখে দাবি আদায় করতে চায় হেফাজত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের চট্টগ্রামে প্রথম সফর নিয়ে বেশ ইতিবাচক আলোচনা চলছে। তাঁর এই সফরে কোনো ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা কিংবা উদ্বোধনের মাধ্যমে শেষ করার কোনো কর্মসূচি ছিল না। এরপরও সফরটি ঘিরে চট্টগ্রামে উজ্জীবিত বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহারে ‘মুগ্ধ’ হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরাও।

ফটিকছড়িতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের আমির শাহ আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এটি ছিল তাঁর এই সফরের বড় একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এটিকে হেফাজতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন হিসেবে দেখছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। দাবি-দাওয়া আদায়ে এই সম্পর্ককে কাজে লাগাতে চান তারা।

হেফাজতে ইসলাম সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার আমলেই হেফাজতের নেতাকর্মীরা মূলত দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। মামলা-মোকদ্দমা ও ধরপাকড় থেকে রেহাই পেতে সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভিড়েছিলেন। বড় অংশটি নীরব অবস্থানে ছিলেন। একপর্যায়ে তারাই প্রকাশ্যে বিএনপিকে সমর্থন দেন। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে কোণঠাসা নেতাকর্মীরা ঘুরে দাঁড়ান। বিপরীতে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেওয়া হেফাজতের নেতাকর্মীরা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এসব নেতাকর্মীকে ফেরানোর কথা ভাবছেন সংগঠনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

এ ব্যাপারে হেফাজতে ইসলামের নায়েব আমির মুফতি লোকমান হাকিম অবশ্য সমকালকে বলেন, হেফাজতের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই। সারাদেশের হেফাজতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনায় সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। হেফাজত যেহেতু একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, যেহেতু বর্তমান সরকারের সঙ্গে সংগঠনের আমিরের একটা সুসম্পর্ক থাকাটাই স্বাভাবিক। হেফাজতের নেতাকর্মীরা এটিকে সংগঠনের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। হেফাজতের যারা নিস্ক্রিয় তাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা হবে।

এদিকে বিএনপি সরকারের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও দাবি-দাওয়া আদায় করতে চাইছেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। এজন্য সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে একটি টিমও গঠন করা হচ্ছে। হেফাজতের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯টি দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে নৃশংস গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। ক্রমান্বয়ে এসব দাবি আদায়ে পরিকল্পনা করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে। হেফাজত আশা করে, সরকারপ্রধান এসব দাবিকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করবেন।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের শীর্ষ আলেমদের এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামবিদ্বেষী কোনো শক্তি যাতে অনৈক্য সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও সরকার নিশ্চয় পদক্ষেপ নেবে বলে হেফাজতের নেতাকর্মীরা আশা করেন।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের আলেম-ওলামাদের বৈঠকের পর সারাদেশের হেফাজতে ইসলামের নেতারা খুবই উচ্ছ্বসিত। সরকারের এই সমর্থন কাজে লাগিয়ে হেফাজতের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে এবং দাবি-দাওয়াগুলো আলোচনার মাধ্যমে আদায়ের চেষ্টা করা হবে।

গত রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ব্যস্ততম সময় পার করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে প্রথমেই ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে কক্সবাজারের মহেশখালী গিয়ে মাতাবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারেই চট্টগ্রামের বাঁশখালী যান। সেখানে বন্যায় গৃহহারা ১০০ পরিবারকে ঘর উপহার দেন এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সেখান থেকে আবার হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে গিয়ে হেফাজতের আমির শাহ আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর গাড়িতে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন। রাতে নগরীতে হোটেল র‍্যাডিসনে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাদের নিয়ে দলীয় বৈঠক করেন।

দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবেশ চায় ঢাকা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক

দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে ভারতকে তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার যে কোনো সমস্যা সমাধানে সংলাপ এবং গঠনমূলক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে ভারত। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে দুই পক্ষ আলাদাভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছে। তাতে প্রতিবেশী দুই দেশের এমন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

আপত্তি জানানোর পরও ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দেওয়ায় আবারও ক্ষোভ জানিয়েছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত শেখ হাসিনার দ্রুত প্রত্যর্পণ চেয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত প্রত্যর্পণের কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে অগ্রগতির আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত নয় বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ভারতের হাইকমিশনারকে অস্বস্তি তৈরির কারণগুলো বন্ধ করার তাগিদ দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে সহায়ক পরিবেশ দরকার, তা সৃষ্টির ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করতে দিল্লিকে অনুরোধ করেছে ঢাকা। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছে।

হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের ভারতে ধরা পড়ার কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, ‘ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল সবকিছু তাদের দিয়েছি। আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আমরা বলেছি অভিযুক্তদের যত দ্রুত আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্য।’

সাক্ষাতে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে আলোচনা প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো নিয়ে খুব সংক্ষেপে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার বিষয় নয়। ৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে ভারতকে চিঠি পাঠিয়ে অসন্তোষ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লির দূতের সাক্ষাতে তা এসেছে কিনা– এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। ভারত গত রোববারই তা জানিয়েছে। আজকেও (সোমবার) তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছে।’

ভারত দুঃখ প্রকাশ করেছে কিনা– এমন প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, এখানে দুঃখ প্রকাশের ব্যাপার নেই। রাষ্ট্রের তিনটা স্তম্ভ থাকে– নির্বাহী, আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগ। শেখ হাসিনা বিচার বিভাগ থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি ৫ আগস্ট বাংলাদেশের বিচার বিভাগ তথা রাষ্ট্রের একটি স্তম্ভের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গতকালও (রোববার) বলেছি, রাষ্ট্রের কাঠামোর প্রতি সব দেশ শ্রদ্ধাশীল হোক। আশা করব, বিষয়টি ভারত সরকার অনুধাবন করতে পারবে। ধারণা হচ্ছে, তারা এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আশা করব, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে আন্ডারমাইন (খাটো) করার কিছু তারা আর করবে না। তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে; আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত– এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিশ্চিত নয়
নয়াদিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া দুই দফা আমন্ত্রণ বাংলাদেশ কি গ্রহণ করবে– এ প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত আমি গণক নই। পরের জিনিসটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিমসটেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে। এই পার্থক্যটা বোঝার চেষ্টা করবেন। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠিটা সরকার গঠনের দিন হস্তান্তর করা হয়েছিল। সেখানে তিনি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রণ একটা আছে।’

ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা– এমন প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’

আলোচনাকে সমাধান বললেন ভারতের হাইকমিশনার
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার যে কোনো সমস্যা সমাধানে সংলাপ এবং গঠনমূলক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘আমার পূর্ণ আস্থা আছে– দুই দেশ একসঙ্গে বসলে এমন কোনো সমস্যা নেই যা সমাধান করা যায় না। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাধান খুঁজে বের করা, যা ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্য লাভজনক হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন বিনয়ী নেতা। তিনি জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত থাকেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শুধু একটি অভিন্ন সীমান্তই নয়’ আরও অনেক কিছু রয়েছে। আমরা শুধু সীমান্তই ভাগ করি না; আমরা স্বপ্নও ভাগ করি।’

হাইকমিশনার বলেন, দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ও সমস্যা থাকাটা স্বাভাবিক। এ ধরনের মতপার্থক্যকে কূটনীতি বা সম্পর্কের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং খোলামেলা ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করা যেতে পারে।

হাইকমিশনার বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ‘ভালোবাসা, সম্মান ও স্নেহের’ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অব্যাহত সংলাপ, সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশ তাদের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে তাঁর বিশ্বাস।

সম্পর্কের অবনতি যেখান থেকে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অবনতি হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত থেকে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার, বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনে হামলা, দেশটির রাজনীতিকদের বাংলাদেশ বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য, সীমান্তে হত্যা, পুশব্যাকের মতো ঘটনায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভিসা বন্ধ, সড়ক-রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। গত ডিসেম্বরে হত্যার শিকার হাদির খুনিরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সম্পর্কের আরও অবনতি হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির সরকার গঠনের পর ধারণা করা হচ্ছিল, সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেওয়া এবং সীমান্তে ভারতের পুশইন চেষ্টার কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি পাঠানো, তাঁকে ভারত সফরে আমন্ত্রণ জানানো, ভিসা সেবা চালুর মতো পদক্ষেপে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে কিছু এগোলেও দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন আবার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করেছে।