Home Blog Page 357

বন্দুকযুদ্ধে’ ২ ভারতীয় সেনা নিহত

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগামে ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে’ দুই সেনা নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলাকালে এ দুইজন নিহত হয় বলে শনিবার ভারতীয় সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও দুই সেনা আহত হওয়ারও খবর দিয়েছে তারা। ১ অগাস্ট থেকে ওই অঞ্চলে চলা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এখন পর্যন্ত এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

যে দুই সেনার মৃত্যু হয়েছে, তারা হলেন- ল্যান্স নায়েক প্রীতপল সিং ও সিপাহি হারমিন্দর সিং; ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিনার কর্পস এক্সে দেওয়া পোস্টে এ দু’জনের নাম পরিচয় জানায় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অভিযান শেষ হতে সময় লাগছে।

সন্ত্রাসীদের অবস্থানের খবর পেয়ে দক্ষিণ কাশ্মীরের অখলের বনাঞ্চলে ১ অগাস্ট থেকে অভিযানে নামে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী। লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের খুঁজতে এ অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুলিশের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি বলছে, অন্তত তিন বিদেশিসহ ‘৫ জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে’ খবর পেয়ে ওই এলাকায় অভিযান শুরু হয়। এ সন্ত্রাসীরা জঙ্গল যুদ্ধে খুবই দক্ষ বলেই ধারণা করছে নিরাপত্তা বাহিনী।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক ১৫ আগস্ট, ভূখণ্ড বিনিময়ের ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ১৫ আগস্ট আলাস্কায় শীর্ষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দিয়েছেন, যা পরে ক্রেমলিন থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

ট্রাম্প শুক্রবার হোয়াইট হাউসে বলেন, “এই যুদ্ধে সাড়ে তিন বছর ধরে লড়াই চলছে। অনেক রুশ ও ইউক্রেনীয় প্রাণ হারিয়েছে। এটি জটিল, তবে আমরা কিছু ভূখণ্ড ফিরিয়ে আনব, কিছু অদলবদল করব। উভয় পক্ষের জন্যই এটি ভালো হবে।” তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বৈঠকে ভূখণ্ড বিনিময়ের মাধ্যমে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

সিবিএস নিউজের বরাতে জানা গেছে, হোয়াইট হাউস ইউরোপীয় নেতাদের একটি সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টা করছে। এতে রাশিয়া দনবাস অঞ্চল ও ক্রাইমিয়ার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তবে খেরসন ও ঝাপোরিঝিয়া অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুতিন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে মস্কোতে একই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তবে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ভূখণ্ড বিনিময়ের যেকোনো শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তিনি এবং ইউরোপীয় নেতারা এই প্রস্তাবে সম্মত হবেন কিনা, তা এখনও অস্পষ্ট। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকে জেলেনস্কিকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে, যাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। ইস্তানবুলে তিন দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই বৈঠক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আলাস্কা বৈঠকের জন্য ‘যৌক্তিক’ স্থান এবং ট্রাম্পকে দ্বিতীয় বৈঠকের জন্য রাশিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে, পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এটি স্বীকার করে না, যা এই বৈঠক সম্ভব করছে।

ট্রাম্প আশাবাদী যে, ত্রিপক্ষীয় শান্তিচুক্তির মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, “ইউরোপীয় নেতারা, পুতিন ও জেলেনস্কি সবাই শান্তি চান। আমরা জেলেনস্কিকে তার প্রয়োজনীয় সবকিছু দেব, যাতে তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।”

ঢাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা

আজ ঢাকায় তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে গরমের অনুভূতিও বাড়বে। আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দিনের তাপমাত্রা আজ প্রায় ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, ফলে গরমের অনুভূতিও বেড়ে যাবে। সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।

পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আর গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে মহাপরিকল্পনা চূড়ান্তের পথে

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয়দের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের  এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দ্বীপের প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারের জন্য সেখানে পর্যটন নিয়ন্ত্রণসহ নানা পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত এক বছরে পরিবেশ সুরক্ষা, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সারা দেশের শপিংমলে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ, অবৈধ ইটভাটা ভাঙা, সীসা কারখানা বন্ধ, শব্দদূষণ রোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ সরবরাহে যৌথ প্রকল্প চালু। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করা হয়েছে। ঢাকার সাভার ও আশুলিয়াকে ‘দূষিত বায়ুমণ্ডল’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা প্রক্রিয়াধীন। গাজীপুরের গাছা খাল দূষণকারী নয়টি কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কক্সবাজার ও সোনাদিয়ায় ১০ হাজার ৩২২ একর বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং পূর্বাচলের ১৪৪ একরকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা উৎপাদন ও রোপণ নিষিদ্ধ হয়েছে। মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধার এবং হাতির চলাচলের পথ তৈরির কাজ চলছে।

বন্যপ্রাণী রক্ষায় ১৫৯টি ‘এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম’ গঠন, দেশীয় ময়ূর ফিরিয়ে আনা, বিপন্ন প্রজাতি সুরক্ষা ও জলাভূমিকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। ২৯৩টি অভিযানে ৫ হাজার ৬৮৪টি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় উদ্যান ও ইকোপার্কে প্লাস্টিক ও পিকনিক নিষিদ্ধ হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ৩৫১ কোটি টাকার ৪১টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ’ ও চূড়ান্ত হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং জলবায়ু সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে।

ইসরায়েলি হামলায় নিহত ‘ফিলিস্তিনি পেলে’ সুলেইমান

গাজার রাফাহ অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ফিলিস্তিন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা সুলেইমান আল-ওবেইদ। অসাধারণ ফুটবল দক্ষতার কারণে যিনি পরিচিত ছিলেন ‘ফিলিস্তিনি পেলে’ নামে। মানবিক সহায়তার জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় বুধবার তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪১ বছর।

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আল-ওবেইদ ছিলেন গাজার অন্যতম সেরা ফুটবল প্রতিভা। তিনি পাঁচ সন্তানের জনক ছিলেন। ক্লাব পর্যায়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন খাদামাত আল-শাতি থেকে। এরপর খেলেছেন আল-আমারি ইয়ুথ সেন্টার ও গাজা স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে গাজার শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেন তিনি। ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে খেলেছেন, ক্যারিয়ারে করেছেন শতাধিক গোল।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেছিলেন ২০১০ সালে ইয়েমেনের বিপক্ষে। এরপর খেলেছেন ২০১২ সালের এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে ও ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে।

চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২১ জন খেলাধুলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তাদের মধ্যে আছেন খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি, কর্মকর্তা ও সংগঠকরা।

আল-ওবেইদের মৃত্যু বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও শোকের ছায়া ফেলেছে। ফুটবল কিংবদন্তি এরিক ক্যান্টোনা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘’আর কত দিন চলবে এই গণহত্যা?

জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলবেন তামিম-মুশফিক-রিয়াদ

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) আসন্ন টি-টোয়েন্টি সংস্করণে মাঠে ফিরতে যাচ্ছেন তামিম ইকবাল। পাঁচ মাস পর মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। এনসিএল টি-টোয়েন্টি খেলবেন মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও।

টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান নিশ্চিত করেছেন, তামিম খেলবেন এবারের আসরে। গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) খেলার সময় মাঠেই হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তামিম। এরপর একাধিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়েছেন তিনি। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার পর সিঙ্গাপুরেও চিকিৎসা নিয়েছেন ২০২৩ সালে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা তামিম।

তামিমের মাঠে ফেরার কথা জানিয়ে আকরাম বলেন, ‘তামিমের সঙ্গে কথা হয়েছে, ও খেলবে।’

এদিকে এনসিএলে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মুশফিকুর রহিমও। ইতোমধ্যেই সিলেট বিভাগের হয়ে খেলতে অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মাঠে অনুশীলন শুরু করলেও তার খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে আকরামের বিশ্বাস, এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে তাকেও দেখা যাবে।

আকরাম বলেন, ‘মুশফিক সম্ভবত সিলেটের হয়ে খেলতে চায়। রিয়াদ এখনও নির্বাচকদের কিছু বলেনি। তবে আমার ধারণা ও খেলবে, খেলা উচিত।’

অশ্লীল অভিনয়, অভিনেত্রী শ্বেতা মেননের বিরুদ্ধে মামলা

খ্যাতনামা মালয়ালম অভিনেত্রী শ্বেতা মেননের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে এর্নাকুলাম সেন্ট্রাল থানা। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বিষয়বস্তুযুক্ত চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন। আদালতের নির্দেশে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে, মামলাটি দায়ের করা হয়েছে অসামাজিক কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন, ১৯৫৬-এর ৩ ও ৫ নম্বর ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৭(এ) ধারা অনুযায়ী।

সামনেই অ্যাসোসিয়েশন অব মালায়ালাম মুভি আর্টিস্টের নির্বাচন যেখানে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শ্বেতা। এমন সময় এই মামলা অভিনেত্রীকে বেশ বিপাকেই ফেলতে যাচ্ছে।

গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে হেমা কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর অ্যাসোসিয়েশন অব মালায়ালাম মুভি আর্টিস্টের (এএমএমএ) প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেন বরেণ্য অভিনেতা মোহনলাল। এক বছর পর আগামী ১৫ আগস্ট সংগঠনটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শ্বেতা মেনন। অভিনেত্রীর সমর্থন সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধরেই নেওয়া হয়েছে, প্রথমবারের মতো সংগঠনটি নারী সভাপতি পেতে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক দিন আগে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, শ্বেতা অভিনীত সিনেমা ও বিজ্ঞাপনগুলো সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে জনপ্রিয়তা ও আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত চলছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তারা মামলাটি রুজু করেছে। পুলিশ এই বিষয়ে তদন্ত করে দেখবে অভিযোগগুলি আদৌ প্রমাণিত হয় কি না।

১৯৯৪ সালে ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া এশিয়া প্যাসিফিক’ খেতাব অর্জন করেন শ্বেতা মেনন।

দুইবার কেরালা স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন এ অভিনেত্রী। মূলত, মালায়ালাম ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন শ্বেতা। বলিউডে কাজ করেছেন সালমান খান, আমির খান, অজয় দেবগনের সঙ্গেও।

বিচ্ছেদের পথে সাইফ-কারিনার সম্পর্ক!

২০১২ সালে বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুরকে বিয়ে করেন পতৌদি পরিবারের নবাব অভিনেতা সাইফ আলি খান। এর আগে প্রথম স্ত্রী অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দীর্ঘদিন চুটিয়ে প্রেম করেন এ তারকা জুটি। বিয়ের পর দুই সন্তান- তৈমুর ও জেহর জন্ম হয়। ক্যারিয়ার ও সংসার একসঙ্গে সামলে আসছিলেন কারিনা কাপুর। এর মধ্যে শোনা গেল তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন।

সম্প্রতি জনপ্রিয় এ দম্পতি নাকি বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন।-এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন পাকিস্তানি সাংবাদিক মুবাসের লুকম্যান। এ মন্তব্য ঘিরেই ইতোমধ্যে বলিপাড়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

পাকিস্তানি সাংবাদিক মুবাসের দাবি-সাইফ ও কারিনার দাম্পত্যে নাকি ক্রমেই জটিলতা বাড়ছে। তিনি জানান, এক ভারতীয় সূত্রেই এ তথ্য পেয়েছেন তিনি। যদিও কোনো সংবাদমাধ্যম কিংবা নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ তিনি প্রকাশ করতে পারেননি।

মুবাসের আরও দাবি করেন, কারিনা নাকি সাইফকে হাতেনাতে ধরেন অন্য এক নারীর সঙ্গে। সেখান থেকেই দাম্পত্য সম্পর্কে চিড় ধরেছে। শুধু তাই নয়, সাইফ নাকি কাতারে গিয়ে পাকাপাকিভাবে থাকতে চাইছেন। কিন্তু কারিনা দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়ে বসবাস করতে রাজি নন। এ বিষয় নিয়েও তাদের মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য তৈরি হয়েছে।

এর মাঝেই আরও বিস্ফোরক দাবি করেন পাক সাংবাদিক। তিনি বলেন, সাইফ আলি খানের ওপর যে হামলা হয়েছিল, তার নেপথ্যেও নাকি কারিনা কাপুর জড়িত ছিলেন।

দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে যেতে পারে: শামীম হায়দার পাটোয়ারী

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, দেশে এখনও জাতীয় নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি। সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে যেতে পারে।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলের জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম হায়দার বলেন, নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনও অনুপস্থিত। সরকার যদি সদিচ্ছা দেখায় ও সক্ষমতা প্রমাণ করে, তাহলে আগামী ছয় মাসেই নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। জাতীয় পার্টি সরকারের ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করছে, সেই অনুযায়ী আমরা নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন এখন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা সংলাপে বসছে, অথচ নিবন্ধিত দলের অধিকার রক্ষা নিয়ে তাদের আগ্রহ নেই। সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে দেশ গৃহযুদ্ধের পথে এগোতে পারে।

দলীয় বিরোধ নিয়ে শামীম হায়দার বলেন, যেসব ব্যক্তিকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, আদালতের রায় অনুযায়ী তারা এখনো বহিষ্কৃতই আছেন। তারা কাউন্সিল ডাকতে বা কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে না। কেউ কেউ আদালতের রায়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের নেতা দাবি করছে, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

কলকাতায় ‘পার্টি অফিস’ খুলে চলছে আ. লীগের কার্যক্রম

কলকাতা লাগোয়া এক উপনগরীতে শয়ে শয়ে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, রাত-দিন লাখ লাখ মানুষের ভিড়। এই ব্যস্ত এলাকায় একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে যাতায়াত করছেন এমন কিছু মানুষ, যাদের কয়েক মাস আগেও সেখানে দেখা যেত না। এই নবাগতদের অধিকাংশকেই চেনেন না আশেপাশের লোকজন চেনার কথাও নয়। অথচ তাদের অনেকে মাত্র এক বছর আগেও বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। তারা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ ও মধ্যম স্তরের নেতা।

তারা যে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটিতে কয়েক মাস ধরে যাতায়াত করছেন, সেখানেই ‘দলীয় দপ্তর’ খুলেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই ‘পার্টি অফিস’টি নতুন। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়ার পর কয়েক মাস ধরে ভারতে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা নিজেদের বাসায় ছোটখাটো বৈঠক বা দপ্তরের কাজ চালাতেন। বড় বৈঠক করতে হতো রেস্তোরাঁ বা ব্যাংকোয়েট হল ভাড়া করে। সে কারণেই একটি নির্দিষ্ট ‘পার্টি অফিস’এর দরকার ছিল বলে জানান নেতারা।

বাণিজ্যিক পরিসরটির পেছনের দিকের ভবনটির আট তলায় লিফট দিয়ে উঠে বাঁদিকে গেলেই সারিবদ্ধ বাণিজ্যিক সংস্থার দপ্তর। করিডোরের দুদিকে হাল্কা বাদামী রঙের একের পর এক দরজা। তারমধ্যেই একটিতে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস। শুধু বাইরে কেন, পাঁচশো বা ছয়শো স্কোয়ার ফুটের ঘরটিতে উঁকি মারলেও কেউ বুঝতে পারবেন না যে এই ঘরটির সঙ্গে কোনোভাবে আওয়ামী লীগ জড়িত আছে।

কোনো সাইন বোর্ড, শেখ হাসিনা অথবা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি কোথাও নেই ঘরটির বাইরে বা ভেতরে।

এক নেতা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বা নেত্রীর কোনো ছবি, সাইনবোর্ড কিছুই আমরা রাখিনি খুব সচেতনভাবে। আমরা চাইনি যে এই ঘরটার পরিচিতি প্রকাশ পাক। এমনকি দলীয় দপ্তরের মতো ফাইল ইত্যাদিও এখানে রাখা হয় না। শুধু নিয়মিত বৈঠকের জন্য ঘর দরকার ছিল, এটিকে আমরা পার্টি অফিস বলি, যদিও এটি একটি বাণিজ্যিক অফিস। আগের সংস্থার ফেলে যাওয়া চেয়ার-টেবিলই ব্যবহার করি।’

তিনি আরও জানান, এই দপ্তরে ৩০-৩৫ জনের বৈঠক হয়, যদিও একটু গাদাগাদি করে বসতে হয়। ছোট বৈঠক এখনও হয় নেতাদের বাসায়। কিন্তু যেসব বৈঠকে শতাধিক নেতা-কর্মী থাকেন, সেসব হয় রেস্তোরাঁ বা ব্যাংকোয়েট হল ভাড়া নিয়ে।

গত বছরের পাঁচই অগাস্টের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলির অনেক শীর্ষ নেতা এবং প্রাক্তন মন্ত্রীই কলকাতা বা তার আশপাশের অঞ্চলে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন।

এর বাইরে বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি কর্মচারী, পুলিশ কর্মকর্তা এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারাও চলে এসেছেন ভারতে। মাস ছয়েক আগে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলি জানিয়েছিল যে অন্তত ৭০ জন সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জেলার সভাপতি-সম্পাদক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মেয়র সহ শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় দুশো জন কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে থাকছেন।

এদের কেউ সপরিবারে থাকেন, আবার কোথাও একসঙ্গে কয়েকজন মিলেও একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন। কারও পরিবার মাঝে মাঝে বাংলাদেশ থেকে এসেও কিছুদিন কাটিয়ে যান।

এক নেতা বলেন, ‘এখন সংখ্যা খুব বেশি বেড়েছে তা নয়। দ্বাদশ সংসদের প্রায় ৮০ জন সদস্য এবং আরও ১০-১২ জন সাবেক সাংসদ এখন ভারতে আছেন। কেউ কেউ এখানে এসে আমেরিকা, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়া চলে গেছেন।’

সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারাও আছেন কলকাতার আশেপাশে। তারা প্রায় সবাই এই পার্টি অফিসে যাতায়াত করেন। নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, প্রয়োজন অনুযায়ী নেতারা আসেন। প্রতিদিন সবাই আসেন না। মূলত একটি নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজনেই এই পার্টি অফিস।

এই পার্টি অফিসের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ কিছু জানে না, সেটাই স্বাভাবিক। এমনকি দলের কোন স্তরের নেতা-কর্মীরা এর বিষয়ে জানেন, তাও স্পষ্ট নয়। তবে এটা নিশ্চিত যে ভারতীয় গোয়েন্দারা এ বিষয়ে জানেন এবং ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া এখানে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড সম্ভব নয়।

গত এক বছরের কিছুটা কম সময় ধরে আওয়ামী লীগ কার্যত ভারত থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। দলের নেত্রী শেখ হাসিনা থাকেন দিল্লির কাছে কোথাও, অন্য নেতারা কলকাতার আশেপাশে। তবে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেইন বলেন, ‘এই ধারণাটা ঠিক নয় যে ভারত থেকে দল চলছে। বেশিরভাগ নেতা এখনও বাংলাদেশেই আছেন।’

তবুও যেহেতু দলীয় নেত্রী ও শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ ভারতে, সেখান থেকেই রাজনৈতিক নির্দেশনা আসাটাই স্বাভাবিক। যদিও দুই সপ্তাহ আগেও নেত্রীর সঙ্গে শীর্ষ নেতাদের সরাসরি দেখা হয়নি। ৩১ জুলাই দিল্লিতে শেখ হাসিনা কিছু শীর্ষ নেতাকে বৈঠকে ডাকেন। নেতারা বৈঠকের বিষয় বিবিসিকে নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত বলেননি।

এই বৈঠক ছাড়া বাকি সব দলীয় কর্মকাণ্ড চলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম গ্রুপ, লাইভ অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে। মাঝে মধ্যে শেখ হাসিনা নিজেও এতে যুক্ত হন। আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের করণীয় নিয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।