Home Blog Page 359

ইসলামী দলের জোট কতদূর

০

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতির মাঠে চলছে নানা সমীকরণ। নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্যে কিংবা আড়ালে বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছে প্রতিটি রাজনৈতিক দল। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না—এমনটি ধরে নিয়েই এগোচ্ছে সবাই। দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ না থাকলে ভোটের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে বিএনপির। কিন্তু চিরাচরিত সেই হিসাব পাল্টে দিতে কয়েক মাস ধরে নানা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দল দুটির নেতৃত্বে বিএনপিকে ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইসলামভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর নির্বাচনী মোর্চা বা জোট গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলছে দৌড়ঝাঁপ। এই জোট গঠনের মূল লক্ষ্য—সমানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) নির্বাচন আদায় এবং আগামী সংসদে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলা। এজন্য ইসলামী দলগুলো সম্মিলিতভাবে প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী দাঁড় করাতে চায়। এ নিয়ে সমঝোতার জন্য ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। নির্বাচনী জোট এবং সমঝোতার বিষয়টিকে প্রতিটি দলই গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান দায়িত্বশীল নেতারা। তবে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কবে আসবে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারছেন না কেউ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নির্বাচনী জোট গঠনের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত এবং ভোটের মাঠে অবস্থান রয়েছে এমন দলগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে এ প্রক্রিয়ায় রয়েছে সব মিলিয়ে অন্তত আটটি ইসলামভিত্তিক দল। এ ছাড়া এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) এ আলোচনার মধ্যে রয়েছে। জোট গঠনের ক্ষেত্রে নির্বাচনী সমঝোতা বিষয়ক আলোচনার জন্য এসব দলের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা নীতিনির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি দেশের চলমান পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। বিশেষ করে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন-পরবর্তী প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রতিটি দল। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হলেও জোট বা সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

দায়িত্বশীল নেতারা বলছে, জোট গঠনের প্রক্রিয়া মূলত নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর দৃশ্যমান হবে।

এদিকে রাজনৈতিক দল না হয়েও ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ভোটের মাঠেও এ সংগঠনটির বিশেষ আধিপত্য রয়েছে বলে মনে করা হয়। ইসলামী দলগুলোর জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত হেফাজতের সম্পৃক্ততার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে হেফাজতের প্রবীণ ও অধিকাংশ তরুণ নেতারা ইসলামী জোটে সম্পৃক্ত হওয়ার পক্ষে। তবে হেফাজতের আমিরসহ প্রবীণ নেতাদের একটি অংশ বিএনপির সঙ্গে জোট করার পক্ষে বলে কালবেলাকে জানিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী দলগুলো বহুদিন ধরেই একটি ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে লড়তে চায়। তবে ইসলামী দলগুলোর অতীত ঐক্যের ইতিহাস মোটেও সুখকর নয়, তাই তারা এ নির্বাচন ঘিরে ঐক্য গড়তে চাইলে আদতে তা কতটা সফল হবে, নাকি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। অন্যদিকে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের জোট গঠনের তৎপরতাকে টেক্কা দিতে বিএনপিও সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। বিএনপির এ উদ্যোগের ফলে ইসলামী দলের জোট গঠনের উদ্যোগ চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকবে।

জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম গতকাল বৃহস্পতিবার কালবেলাকে বলেন, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ইসলামী দলগুলোর জোট গঠনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কেননা, বর্তমানে ডাকসু, জাকসুসহ দেশের বিভিন্ন বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চলছে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ইসলামী জোট গঠনের লক্ষ্যে লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা আলোচনা, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছেন। যথা সময়েই নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এই জোটে কারা কারা থাকছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রধানত ইসলামী দলগুলোকে নিয়েই নতুন জোট হওয়ার কথা। তারপরও আলোচনার মাধ্যমে সমমনা দলগুলোও জোটে থাকতে পারে। সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হলে এ বিষয়টি দৃশ্যমান হবে বলে মনে করেন মাওলানা হালিম।

এ বিষয়ে কালবেলার কথা হয় আরও কয়েকটি ইসলামী দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে। তারা জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে বেশিরভাগ ইসলামী দল নানাভাবে জুলুম-নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এখন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশকে বিবেচনায় নিয়ে আদর্শিক দ্বন্দ্ব ভুলে বৃহত্তর স্বার্থে এক হওয়ার জন্য ঐক্যের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন তারা। জামায়াতকে নিয়েই এই ইসলামী জোটের সমীকরণ এগোচ্ছে। মূলত গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই ইসলামী দলগুলোকে অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার আলোচনা শুরু করে জামায়াত। এরপর এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয় ইসলামী আন্দোলন। এরই মধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। তবে আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত প্রতিটি দল নিজস্ব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। তবে সামগ্রিক ঐক্যের ব্যাপারেও তারা আশাবাদী।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা হলে তাতে অন্তত ৮টি ইসলামী দল থাকতে পারে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত আন্দোলন। ঐক্য গড়তে দলগুলোর লিয়াজোঁ কমিটিও কাজ করছে। এর মধ্যে প্রথম ছয়টি দলের ভেতরে চলছে জোরালো আলোচনা। এ ছাড়াও এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ এবং এনসিপিও সমঝোতায় আসার ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে। এই দলগুলোর দায়িত্বশীল পর্যায়ের নেতারা পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তবে এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের দাবি, ইসলামী দলগুলোর সমঝোতা প্রক্রিয়ায় তাদের থাকা না থাকা নিয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান কালবেলাকে বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে আমরা ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা করছি। ইসলামী দলগুলো সমন্বিতভাবে একক প্রার্থী দিতে পারলে জয়ের সম্ভাবনা বেশি। নির্বাচনী সমঝোতা হলে যেসব দল নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে তারা নিজ দলের প্রার্থীদের প্রত্যাহার করবেন। নির্বাচনের রোডম্যাপ বা তপশিল ঘোষণা হলে বিষয়টি দৃশ্যমান হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা একাধিক বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে খেলাফত মজলিসের কার্যালয়ে লিয়াজো কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন। তবে সেখানে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক গতকাল কালবেলাকে বলেন, আমরা এখন সবাই একসঙ্গেই চলছি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা মাঝে-মধ্যে হচ্ছে। তবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি তথা তপশিল ঘোষণা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, ইসলামী দলগুলোর নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলমান আছে। আমাদের ৫টি দলের লিয়াজোঁ কমিটি আছে। একাধিক সভা হয়েছে, আরও হবে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নীতিগত কথা হয়েছে। সবাই একমত যে, জোটবদ্ধ হওয়া দরকার। নির্বাচনের তপশিল হলে নির্বাচনী সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

ইসলামী দলগুলোর সম্ভাব্য জোট নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ইসলামী দলগুলো বিএনপির বিপক্ষে একটি স্বতন্ত্র জোট গঠনের চেষ্টা করছে, যা রাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দেয়। যদি তারা সংহত ও শক্তিশালী জোট গঠনে সক্ষম হয়, তবে তারা ঐতিহ্যবাহী ভোট ব্যাংক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করতে পারবে এবং সংসদে ভালোসংখ্যক প্রতিনিধি পেতে পারে। তবে এই জোটের সাফল্য নির্ভর করবে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য, আদর্শিক স্পষ্টতা ও জনসমর্থনের ওপর। এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

ভোট গণনাকালীন শিক্ষিকার মৃত্যু নিয়ে জামায়াত আমিরের বার্তা

০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বপালনকালে জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। তিনি নির্বাচনের পোলিং অফিসারের দায়িত্বপালন করছিলেন। এ নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় দেওয়া ওই পোস্টে শফিকুর রহমান লিখেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোট গণনাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতা আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। তার পরিবার, সহকর্মী, প্রিয়জন ও আপনজনকে আল্লাহ তায়ালা ধৈর্য ধরার তাওফিক দান করুন। আমিন।’

শুক্রবার সকালে ওই শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আর্কিওলজি বিভাগের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসাইন। তিনি বলেন, ‘সকালে দায়িত্ব পালনের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয় যান। কিন্তু কার্যালয়ে প্রবেশের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাকে গাড়িতে করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান হাসপাতালে আনার আগে তিনি মারা গেছেন।’

প্রথমবার প্লে-অফে সাকিবের অ্যান্টিগা

০

ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) গত আসরে অভিষেকে লিগপর্বেই যাত্রা থেমেছিল অ্যান্টিগা ও বারবুডা ফ্যালকন্সের। তবে নিজেদের দ্বিতীয় আসরে ঠিকই প্লে-অফে নাম লিখিয়েছে দলটি। গতকাল প্রভিডেন্সে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে সাকিব আল হাসানের অ্যান্টিগা। তবে জয়টা খুব সহজ ছিল না। গায়ানাকে মাত্র ৯৯ রানেই গুটিয়ে দিয়েছিল অ্যান্টিগা। কিন্তু ১০০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে তাদের খেলতে হয়েছে ১৯.১ ওভার পর্যন্ত, উইকেট হারিয়েছে ৬টি।
প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নিয়েছিল অ্যান্টিগা। স্লো পিচে ব্যাটিংয়ে নেমে ধুঁকতে থাকে গায়ানা। ২৬ রানে ৩টি আর ৫৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে লড়াকু সংগ্রহ গড়ার স্বপ্ন ভাঙে তাদের। শাই হোপ ১৪ বলে ২৬ আর শেষদিকে কুইন্টিন স্যাম্পসন ১৫ বলে ১৯ রান ছাড়া টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংটা কেউ করতে পারেননি। ১৮.১ ওভারে ৯৯ রানে অলআউট হয় গায়ানা। জেডেন সিলস মাত্র ১৫ রানে শিকার করেন ৪ উইকেট, উসামা মির ১৭ রানে পান ৩ উইকেট। সাকিব আল হাসান ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৮ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় অ্যান্টিগায় ধুঁকেছে। ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারায় তারা। সাকিব আল হাসান পাঁচ নম্বরে নেমে করেন ২ বলে ১ রান। তবে একটা প্রান্ত ধরে ছিলেন ওপেনার আমির জাঙ্গো। ৫৭ বলে ৫১ রানের হার না মানা ইনিংসে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

প্রকৃতিকে ধ্বংস করে আমরা কোথায় দাঁড়াব?

০

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছিলেন তিনি। এরপর তিন বছরের বিরতি নিয়ে ২০২০ সালে অভিনয়ে নাম লেখান।
নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সরব চমক। যেখানে অভিনেত্রী বিভিন্ন বিষয়ে আপডেট দিয়ে থাকেন।
এবার এক পোস্টে দেশের কৃষক ও কৃষি নিয়ে কথা বলেছেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ‘কৃষকের শরীরে ঢুকছে বিষ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য হচ্ছে অরক্ষিত।’
পোস্ট দিয়ে রুকাইয়া জাহান চমক লিখেছেন, ‘আমরা শুধু ব্যবসাটাই দেখি অথচ পুরো দেশটার ভেতরে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে তা কেউ দেখি না। কখনো নদী, খাল, বিল আর মাঠে ভরা বাংলার জীবন ছিল প্রকৃতির সাথে একাত্ম।’
তার কথায়, ‘আজ সেই মাটি, পানি, বাতাস প্রতিদিন বিষাক্ত হয়ে উঠছে হাজার হাজার টন কীটনাশকে! ভাবুন তো, অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে মৌমাছি, পাখি, মাছ আমাদের জীবনের নীরব সহযোদ্ধারা।’
শেষে লিখেছেন, ‘কৃষকের শরীরে ঢুকছে বিষ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য হচ্ছে অরক্ষিত। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে আমরা কোথায় দাঁড়াব? এখনই সময় মাটি বাঁচানো, নদী রক্ষা করা, বাতাস শুদ্ধ রাখার। প্রকৃতি বাঁচলে তবেই টিকে থাকবে মানুষ।’

শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

০

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএএ) আসন্ন দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে ফের উত্তেজনা সৃস্টি  হয়েছে। এবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে অনেক প্রার্থী ও সমিতির সদস্য তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেন নি বলে অভিযোগ করেছেন।

গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। আগামী ৯ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রার্থীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়,  রোববার সকাল থেকেই স্থানীয় একদল যুবক নগরের আগ্রাবাদের  মক্কা-মদিনা টাওয়ারে বিএসএএ অফিসের প্রবেশপথে অবস্থান  নেয় এবং কিছু প্রার্থীর প্রতিনিধিদের আটকে দেয়। ফলে এসব বহিরাগতদের প্রতিরোধের মুখে তারা মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন।

এ বিষয়ে কন্টিনেন্টাল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আহসান ইকবাল চৌধুরী গতকাল (৯ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার বিএসএএ চট্টগ্রাম নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান কমোডোর (অব.) এ. জেড. এম জালাল উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পত্রে তিনি গত রোববার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘বিএসএম-এর অনেক ভোটারদের কাছ থেকে আমার কাছে খবর এসেছে যে, তাঁরা তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং বহিরাগতদের তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছেন। এদিন সকাল থেকেই স্থানীয় কিছু সংখ্যক যুবক আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার মক্কা মদিনা টাওয়ারে বিএসএএ অফিসের প্রবেশদ্বারে ব্যানার ঝুলিয়ে এবং কিছু প্রার্থীর প্রতিনিধিদের অবরুদ্ধ করে অবস্থান নিয়েছিলেন, যা এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসাবে আমার জন্য সম্পূর্ণ বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।’

আহসান ইকবাল চৌধুরী তার অভিযোগপত্রে এই অনাকাংখিত পরিস্থিতি তদন্তের অনুরোধ জানান। তিনি তাঁর জোটের অন্তত ২৭ জন সমমনা সদস্য নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ১০ থেকে ১২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরেছিলেন বলে অভিযোগ করেন। বাকিদের প্রতিরোধ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সিকম শিপিংয়ের পরিচালক এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জহুর আহমেদও একই অভিযোগের কথা জানান।

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী একই ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে দাবি করেন।

এদিকে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বহিরাগতদের উপস্থিতির বিষয়ে অফিসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেন নির্বাচন বোর্ডের সদস্য ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

দেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের যাত্রায় রয়েছে তখন এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,  মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে (রোববার, ৭ সেপ্টেম্বর)  ‘বৈষম্যের শিকার ব্যবসায়ী ফোরামে’র নামে বহিরাগতরা ব্যানার ঝুলিযে নির্বাচনে  ‘স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সহযোগীদের’ প্রতিহত করার আহ্বান জানায়।

অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করেছিলেন বিএসএএ সদস্য ও প্রার্থী মশিউল আলম স্বপন, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাথে জড়িত।

অভিযোগ অস্বীকার করে মশিউল আলম স্বপন বলেন, বিএসএএ সদস্যদের সাথে বিরোধ ছিল এমন কিছু স্থানীয়  লোকজন ব্যানার ঝুলিয়ে থাকতে পারে। তিনি  কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন।

বিএসএএ সূত্র জানায়, গত ১৩ এপ্রিল ২৪ সদস্যের বিএসএএ বোর্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একদল ব্যবসায়ীর বিক্ষোভের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায় । এ গ্রুপে মশিউল আলম স্বপনও ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মার্চ মাসে, তারা নির্বাচন বাতিল এবং একটি মনোনীত কমিটি গঠনের দাবি জানান। প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসাবে চিহ্নিত করেন।

১৪ জুলাই নবগঠিত নির্বাচনী বোর্ড ৯ অক্টোবর নির্বাচনের তারিখ পুননির্ধারণ করে। যদিও নির্বাচনকে ঘিরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্যানেল ঘোষণা করা হয়নি। দুটি গ্রুপ প্রতিযোগিতার জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে শোনা যায়।

জাহাজ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন

০

সমুদ্রগামী জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে আরোপণীয় সমুদয় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ন্যূনতম ৫ হাজার ডেড ওয়েট টন ধারণক্ষমতার সমুদ্রগামী জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে আরোপণীয় সমুদয় মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব অনুমোদন করা হলো

ফিনান্সিয়াল টাইমসের ডকুমেন্টারি : হাসিনার আমলে শত শত বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ

০

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে শত শত বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার এখন সেই অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নিলেও কাজটি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক নতুন ডকুমেন্টারিতে এই অভিযোগ করা হয়েছে। “বাংলাদেশ’স মিসিং বিলিয়নস, স্টোলেন ইন প্লেইন সাইট” ডকুমেন্টারিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) ওই ডকুমেন্টারিটি প্রকাশ করে ফিনান্সিয়াল টাইমস।

ডকুমেন্টারিতে আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা অংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—এত বিপুল অর্থ কীভাবে বিদেশে চলে গেল এবং আদৌ তা ফেরত আনা সম্ভব হবে কি না।

ডকুমেন্টারিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে শেখ হাসিনার সরকার সরকারি চাকরিতে বিতর্কিত কোটা প্রস্তাব আনে। আর এতে আওয়ামী লীগ নেতাদের আত্মীয়দের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে ছাত্র-জনতার ক্ষোভ চরমে পৌঁছে। তখনই শুরু হয় ছাত্রদের নেতৃত্বে তীব্র বিক্ষোভ, আর বিরোধীদের ওপর দমন–পীড়ন বাড়াতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঢাকার রাস্তায় এখনও বিদ্রোহী গ্রাফিতি ও প্রতিবাদী দেয়ালচিত্র দেখা যায়— যা হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনের সাক্ষ্য বহন করে।

আন্দোলনের সমন্বয়ক রাফিয়া রেহনুমা হৃদি বলেন, প্রথম দিকে পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ হয়নি। তবে ১৪ জুলাই পুলিশ ব্যারিকেড বসায় ও প্রতিবাদ দমন শুরু করে। আরেক সমন্বয়ক রিজওয়ান আহমেদ রিফাত জানান, পুলিশ ও সরকারি সন্ত্রাসীরা গুলি, স্নাইপার শট এমনকি হেলিকপ্টার থেকে শেল নিক্ষেপ করে।

পরিস্থিতির মোড় ঘোরে ৫ আগস্ট। ওই দিন নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায়। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

জাতিসংঘের হিসাবে, আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়। তবে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। হাজারো মানুষ নিখোঁজ বা আহত হন। হাসিনার সমর্থকেরা এখনো এসব সহিংসতায় তার ভূমিকা অস্বীকার করে।

দুর্নীতি ও অর্থ পাচার

হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ ছিল। ধারণা করা হয়, এসব অর্থের বড় অংশই যুক্তরাজ্যে গেছে।

আন্তর্জাতিক দুর্নীতি নজরদারি সংস্থাগুলো বলছে, যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী আর্থিক খাত ও রিয়েল এস্টেট বাজার দুর্নীতিবাজদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য। ফলে যুক্তরাজ্য হয়ে ওঠে বাংলাদেশের অর্থপাচারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার পরিবারও বিতর্কে জড়ায়। রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি ছিলেন এবং সম্প্রতি মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় অভিযোগ উঠেছে, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পরিবারের সদস্যরা বড় অবকাঠামো প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। টিউলিপ সিদ্দিকও তদন্তের মুখে পড়েন এবং পরে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হন।

ফিনান্সিয়াল টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাজ্যে ৩০০টিরও বেশি সম্পত্তি রয়েছে। ব্রিটিশ অপরাধ দমন সংস্থা (এসসিএ) ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫০ সম্পত্তি জব্দ করেছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অনুমান করছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে (২০০৯–২০২৩) প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে।

ব্যাংক দখল ও লুটপাট

শেখ হাসিনার সাবেক শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠরা সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর সহায়তায় বিভিন্ন ব্যাংক দখল করে। অনেক ব্যাংক পরিচালককে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।

এরপর ওই ব্যাংক থেকে নিজেদের স্বার্থে হাজার কোটি টাকার ভুয়া ঋণ দেওয়া হয়। এসব অর্থের বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয় হুন্ডির মাধ্যমে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় লুটতরাজ। এক অনুমান অনুযায়ী, ব্যাংক ও ব্যবসা খাত থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে।

ফিনান্সিয়াল টাইমসের ডকুমেন্টারিতে শেখ হাসিনার পরিবারের কথিত বিদেশি সম্পদ ও অফশোর অ্যাকাউন্ট নিয়েও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, এসব লুট হওয়া অর্থ মূলত অতিরিক্ত বা কম ইনভয়েস দেখানো, হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল এবং যুক্তরাজ্যে সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে পাচার হয়েছে।

পরিবর্তনের হাওয়া

হাসিনার পতনের পর ক্ষমতার শূন্যতা পূরণে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করা হয়। তিনি সাবেক আইএমএফ কর্মকর্তা আহসান মনসুরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেন এবং লুট হওয়া অর্থ ফেরত আনার জন্য টাস্কফোর্স গঠন করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অন্তত ১১টি ব্যাংকের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এগুলোতে নতুন বিনিয়োগকারীর খোঁজ চলছে। সরকার ইতোমধ্যে ২৯০ বিলিয়ন টাকা ঢেলে দিয়েছে ব্যাংক ব্যবস্থাকে সচল রাখতে।

ডকুমেন্টারিতে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা, যেমন লন্ডনের এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোশতাক খান ও সাবেক বিচারপতিরা মনে করেন, লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারে “বছরের পর বছর” সময় লাগবে।

ডকুমেন্টারিতে আরও দেখানো হয়েছে, দুর্নীতি, জবাবদিহির অভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি কীভাবে ২০২৪ সালে জনঅসন্তোষের জন্ম দিয়েছে—বিশেষত ছাত্রদের মধ্যে। এতে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান পুঁজি পাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতার অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে ইউনূস সরকারের ওপর দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার চাপ বাড়ছে। তিনি বলছেন, আগে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান সংস্কার করতে হবে। আগামী নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে।

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল আকাশচুম্বী, তবে মৌলিক সংস্কার না হলে দেশ আবারও ক্ষমতার একচেটিয়া দখলে ফিরতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি খুন

০

দক্ষিণ আফ্রিকার উইটব্যাংকে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন কাজী মহিউদ্দিন পলাশ (৩৬) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ী। নিখোঁজের তিন দিন পর তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ফ্রিজ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় প্রবাসীরা।

দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ জানায়, পলাশকে তার মালাউই (দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার একটি দেশ) নাগরিক এক কর্মচারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে মরদেহ ফ্রিজে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। হত্যার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

নিহত কাজী মহিউদ্দিন পলাশ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাবুয়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম কাজী আমিনুল উল্যাহর ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক।

পলাশের ভাই পল্লী চিকিৎসক কাজী আলমগীর বলেন, পলাশ প্রায় ১৪ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তার মালাউই কর্মচারী তাকে নির্মমভাবে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে এবং মরদেহ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখে। আমরা তিন দিন তার কোনো খোঁজ পাইনি, ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরে পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ঘটনা উদঘাটন করে। তবে অভিযুক্ত এখনো পলাতক।

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান  বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ১৪ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি দেন কাজী মহিউদ্দিন পলাশ। তার স্ত্রী ও দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবারসহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আশঙ্কা

০

উত্তর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে আগামী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ (শুক্রবার) এবং শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে এসব বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার ও মঙ্গলবার (১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর) দেশের আটটি বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে।

পুলিশের ১৪ কর্মকর্তার বদলি

০
পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পদ মর্যাদার ১৪ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান এ প্রজ্ঞাপনে সই করেন।
‎বদলির আদেশ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার সুলতানা নাজমা হোসেনকে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. সালেহ উদ্দিনকে র‌্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিরকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ রিয়াজুল হককে পুলিশ টেলিকম ইউনিট, পিবিআই পুলিশ সুপার ও সুপারনিউমারির অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নিতি প্রাপ্ত মোহাম্মদ আনোয়ারুল হককে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে, বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শামীম হোসেনকে রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি, বরিশাল জেলা পিবিআই পুলিশ সুপার সুপারনিউমারির অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নিতি মো. হুমায়ুন কবিরকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) ও বর্তমানে রংপুর পিটিসিতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে সংযুক্ত আসমা সিদ্দিকা মিলিকে ঢাকার টিডিএসে সংযুক্ত,  ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) গৌতম কুমার বিশ্বাসকে চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার গোলাম মওলাকে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি, রেলওয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) শাকিলা সোলতানাকে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে, পিবিআই পুলিশ সুপার মোমতাজুল এহসান আহম্মদ হুমায়ুনকে হাইওয়ে পুলিশ সুপার, পিবিআই পুলিশ সুপার আবু তোরাব মো. শামছুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশ সুপার ও পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) পুলিশ সুপার মো. আমীর খসরুকে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।