Home Blog Page 374

উত্তরা বিমান বিধ্বস্ত: ‘অনভিপ্রেত ঘটনা’র ব্যাখ্যা দিল আইএসপিআর

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে জনতার সঙ্গে সৃষ্ট ‘অনভিপ্রেত’ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানিয়েছে, উৎসুক জনতার ব্যাপক ভিড় উদ্ধার কার্যক্রমে বারবার ব্যাঘাত ঘটিয়েছে, যা একপর্যায়ে ভুল বোঝাবুঝি ও বাদানুবাদের সৃষ্টি করে।

আইএসপিআর’র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিরীহ নাগরিক হতাহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকটবর্তী ক্যাম্প থেকে সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা চালানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে দুর্ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ব্যাপক ভিড় দেখা দেয়, যা ইভাকুয়েশন ও রেসকিউ কার্যক্রমকে বারবার ব্যাহত করে। সেনাবাহিনীর সদস্য এবং মাইলস্টোন স্কুলের স্বেচ্ছাসেবক বারবার অনুরোধ করলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় সময়মতো আহতদের সরিয়ে নেওয়া অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে, প্রাণহানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। সেনাসদস্যরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। উল্লেখ্য, এই উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত ১৪ সেনাসদস্য শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আইএসপিআর জানায়, উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন বিকেলের দিকে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু উৎসুক জনতা ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় উদ্ধার কাজে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ফলে একদল উৎসুক জনতার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়, যা একপর্যায়ে একটি অনভিপ্রেত ঘটনার অবতারণা করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা জনগণের পাশে থেকে পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধের সঙ্গে কর্তব্য পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সচিবালয়ের সামনে সংঘর্ষে আ/হ/ত ৯১ শিক্ষার্থী

এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি রাত ৩টায় পরিবর্তনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সচিবালয়ের সামনে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৯১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনকে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তারা হলেন, নাফিসা (১৬) ও সামির (১৯)।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।

আহতরা হলেন হাসান (১৮), সেরাতুল (২২), সাকিব (১৯), তানভীর (১৯), রিফাত (১৯), রিজন (২০), সামিয়া (১৮), তামিম (১৯), ইমন (২০), সিয়াম (১৮), সাকিল (২০), মেহেদী (২০), সাদমান (১৮), মারুফ (২২), মাহিন (১৯), রোহান (২০), মুগ্ধ (১৯), মাহিম (২০), সায়েম (১৮), জিদান (২০), নিহার (২০), রায়হান (২০), রোমান (১৮), প্রান্ত (১৯), নাহিদ (২০), অন্তু (২০), বিশাল (২০), ইমরান (২০), আহনাদ (১৮), মাহি (২০), নাঈম (১৮), সামি (১৮), স্বাধীন (২০), তাসিন (১৮), ধ্রুব (১৯), শান্ত (২০), তানিম (২০), আজহারুল (২০), তন্ময় (১৯), জিসান (১৯), রাসেকুন (২০), পারভেজ (২০), বিজয় (১৭), আসাদ (২০), নাফিজ (১৮), সাহিন (২০), কিশোর (১৮), ফারদিন (১৯), শাহরিয়ার (২০), সাঞ্জু (১৯), রাইয়ান (১৯), কনা (২১), আব্দুল খালেক (৬৫), সিনান (১৮), তাসফি (২২), মামুন (২০), আসাদ (২১), আতিক (১৮), হাবিব হাসান (সাংবাদিক মানবজমিন), রাশেদ (১৮), আরাফাত (২০), আলামিন (২০), ফয়সাল (১৭), ফাহাদ (১৮), ইয়াসিন আরাফাত শান্ত (২০), শাকিল (২০) এবং বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় শিক্ষার্থী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক।

প্লেট হাতে কাঁদছেন শাকিব

হঠাৎ করেই আজ রায়হান রাফী পরিচালিত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার কয়েকটি স্থিরচিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক প্রোফাইল, সিনেমা–সংশ্লিষ্ট পেজ ও গ্রুপে শেয়ার হতে থাকে শাকিব খানের ছবিগুলো।

এর মধ্যে একটি স্যাড সিকোয়েন্সের, যেখানে শাকিব খানকে বন্দী অবস্থায় ভাত খেতে দেখা যায়। ক্লান্ত চেহারা, মুখে কষ্টের ছাপ ও চোখে পানি-ছবিটি শেয়ার করে অনেকেই তার অভিনয়ের প্রতি মনোযোগ ও পেশাদারত্বের প্রশংসা করছেন।

ঢালিউডের নির্মাতা ও বিনোদন অঙ্গনের বিভিন্ন পেশার মানুষ ছবিটি শেয়ার করে শাকিব খানের প্রশংসা করেছেন।

নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস ছবিটি শেয়ার করে তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আপনি বেঁচে থাকুন! শতবর্ষী হোন! আপনার মাধ্যমে বাংলাদেশি সিনেমা বেঁচে থাকুক।’

‘বরবাদ’খ্যাত নির্মাতা মেহেদী হাসান লিখেছেন, ‘যখন শাকিব খান পর্দায় থাকেন, তখন সেটা অভিনয় নয়, তা একপ্রকার আধিপত্য। তাঁর উপস্থিতিতে পর্দা নিজেই নতি স্বীকার করে। স্যালুট আমাদের মেগাস্টার শাকিব খানকে!’

ঈদে মাল্টিপ্লেক্সে ২৮টি শো দিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘তাণ্ডব’। এ ছাড়া শতাধিক সিঙ্গেল স্ক্রিনে সিনেমাটি মুক্তি পায়। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রায়হান রাফী

বাতিল হলো ভারত-পাকিস্তান লেজেন্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ

রাজনৈতিক বৈরিতার জেরে বাতিল হয়ে গেছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত লেজেন্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ। রোববার ইংল্যান্ডের এজবাস্টনে রাত সাড়ে ৯টায় দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকলেও, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

সম্প্রতি কাশ্মীরের পেহেলগাঁও এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রভাব পড়ে এই ম্যাচে। ঘটনার জেরে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক সমর্থক। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতার কথা জানিয়ে ম্যাচ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন ইরফান পাঠান, ইউসুফ পাঠান, সুরেশ রায়না, হরভজন সিং ও শিখর ধাওয়ান।

এছাড়া পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির টেলিভিশন মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক ছড়ায়। তিনি সামা টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কাশ্মীরে একটি পটকাও ফাটলে পাকিস্তানকে দায়ী করা হয়। অথচ সেখানে ভারতের আট লাখ সেনা নিয়োজিত। এরপরও যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে বোঝা যায় তাদের সেনাবাহিনী অকেজো।

এই মন্তব্যের জবাবে ভারতীয় সাবেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, কার্গিলেও তোমাদের হারিয়েছিলাম। আমাদের সেনাদের নিয়ে আমরা গর্বিত। উল্টোপাল্টা মন্তব্য না করে নিজের দেশের জন্য কিছু করো।

পরবর্তীতে আফ্রিদিও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি হাতে চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, ক্যাপশনে লেখেন, জয়-পরাজয় ভুলে যাও, আসো মাকে চা পরিবেশন করি।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস’ (ডব্লিউসিএল) কর্তৃপক্ষ সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে ম্যাচটি বাতিলের ঘোষণা দেয়। তারা জানায়, আমরা সবসময় ক্রিকেটকে ভালোবাসার চোখে দেখি। ক্রিকেটভক্তদের আনন্দ দেয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব নয়। আমরা কারও অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য দুঃখিত এবং প্রত্যাশা করি সবাই আমাদের সিদ্ধান্তের কারণ বুঝবেন।

উল্লেখ্য, ১৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলের নেতৃত্বে আছেন যুবরাজ সিং এবং পাকিস্তানের অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ইংল্যান্ডকে ৫ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে। ছয় জাতির এই আসরে অংশ নিচ্ছেন শুধুমাত্র সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা।

তবে এই ঘটনার পর লেজেন্ড চ্যাম্পিয়নশিপের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

৪০ বছরে রপ্তানি খাতে এমন সংকট দেখিনি: এ. কে. আজাদ

চল্লিশ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে রপ্তানি খাতে এমন সংকট কখনো দেখেননি বলে মন্তব্য করেছেন দেশের অন্যতম রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী নেতা ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ. কে. আজাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা এই খাতকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখন হতাশ ও ক্ষুব্ধ।’

আজ রোববার ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে হা-মীম গ্রুপের এমডি এ কে আজাদ এই কথা বলেন। প্রথম আলো রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ গোলটেবিলের আয়োজন করেছে। সেখানে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও গবেষকেরা অংশ নিয়েছেন।

সম্প্রতি এক ব্র্যান্ড অংশীদারের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হা-মীম গ্রুপের এমডি বলেন, ‘আমার এক বড় ব্র্যান্ড হেড অফিসে ডেকে জানায়, তারা নিজ দেশের সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেছে। তাদের ভাষ্য ছিল তোমাদের অবস্থান দুর্বল, ভালো ফল আশা করা যাচ্ছে না।’ এটা শুনে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন।

এই পরিস্থিতিতে এ. কে. আজাদ একাধিক উপদেষ্টাকে ফোন করেন। তিনি বলেন, সবাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। পরদিন বাণিজ্য উপদেষ্টা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ. কে. আজাদ আরও বলেন, উপদেষ্টা জানান, ৯৫ শতাংশ সমস্যা তারা সমাধান করেছেন। বাকি ৫ শতাংশ নিয়ে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ীরা কী করবেন। তার যুক্তি যদি ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব কমও আসে, কিন্তু ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত রপ্তানি হলে দেশের লাভই বেশি হবে। এই উদ্যোগে তিনি সফল হবেন বলে মনে করেন।

এই পরিস্থিতিতে এ. কে. আজাদ ক্রেতাদের অবস্থান তুলে ধরেন। বলেন, ‘আমার এক ক্রেতা ই–মেইলে জানান, ১ তারিখ থেকে বাংলাদেশের ওপর যে শুল্ক বসবে, তা সরানো না গেলে শুল্কের ৩৫ শতাংশ আমাকে বহন করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, আমি সেই শুল্ক কীভাবে বহন করব।’

বক্তব্যে ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এ. কে. আজাদ। তিনি বলেন, ‘আমার ইন্দোনেশিয়ায় এক যৌথ উদ্যোগ আছে। সেখানে সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। লবিস্ট নিয়োগ করেছেন, প্রতিটি স্তরে আলোচনা করেছেন। অথচ বাংলাদেশে আমরা এমন সুযোগ পাইনি।’

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলছেন, সাত-আট মাসের জন্য দায়িত্বে আছেন। এরপর চলে যাবেন। কিন্তু তখন আমরা যাব কোথায়? আমাদের কার কাছে ফেলে রাখছেন।’

এ. কে. আজাদ বলেন, ‘সবার ধারণা, আমাদের মাথার ওপর একজন আছেন। তিনি এটা ফুঁ দিয়ে দেবেন আর সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যার জন্য আমাদের কোনোরকম মূল্যায়ন করা হচ্ছে না; কোনো লবিস্ট নিয়োগের চিন্তা করা হচ্ছে না।’

গতকাল শনিবার সরকার থেকে জানানো হয়েছে, ইউএসটিআর বা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর শুল্ক নির্ধারণ করবে না, করবে ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারের উদ্দেশে এ. কে. আজাদ বলেন, ‘আপনারা যদি পারেন, ওই পর্যায়ে কিছু চেষ্টা করেন।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হবে ৭ লাখ টন গম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারিভাবে গম আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গম রপ্তানিকারক সমিতি বা ইউএস হুইট সমিতির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য অধিদপ্তর এই চুক্তি করেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমঝোতা চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে ৭ লাখ টন উচ্চমানের গম আমদানি করা হবে। রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর ও ইউএস হুইট সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ কে সওয়ার।

চুক্তি শেষে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আস্থা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সহযোগিতার আরও বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরি হবে। উভয় দেশের জনগণ এতে উপকৃত হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি থেকে আমদানি বাড়াতে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে গম আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এত দিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আসত সাহায্য হিসেবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দাম দিয়ে হলেও গম আমদানি করা হবে। তারই অংশ হিসেবে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা চুক্তি করা হয়।

ভারতে ২৮ বাংলাদেশির দুই বছরের কারাদণ্ড

ভারতে অনুপ্রবেশ ও অবৈধ বসবাসের অভিযোগে ২৮ বাংলাদেশিকে দুবছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাইয়ের স্থানীয় তিরুপুরের অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালত-২ বৃহস্পতিবার এই সাজা ঘোষণা করেন।

তামিলনাড়ু পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ বাংলাদেশিদের খোঁজে গত ১২ জানুয়ারি আরুলপুরম এলাকার একটি বেসরকারি টেক্সটাইল সংস্থার হোস্টেলে অভিযান চালায় পাল্লাদাম পুলিশ। সেখান থেকে ২৮ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তারা কেউই ভারতে প্রবেশের বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে সবাই স্বীকার করেন অবৈধভাবে তারা ভারতে প্রবেশ করেছেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বিভিন্ন সময়ে এসব বাংলাদেশিরা ভারতে প্রবেশ করে বৈধ কাগজপত্র ও অনুমতি ছাড়াই ৬ মাস থেকে ১০ বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করছিল। আলাদাভাবে ভারতে প্রবেশ করলেও প্রথমে চেন্নাই এবং সেখান থেকে তিরুপুরে আশ্রয় নেন। এরপর মুরুগামপালায়াম, ছেত্তিপালায়াম ত্রিপুরের বিভিন্ন টেক্সটাইল কোম্পানিতে কাজ করতে শুরু করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদেরকে থানায় নেয় পুলিশ। এরপর তাদের বিরুদ্ধে ১৪-ফরেনারস আইনের ৩(২)(সি) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

বৃহস্পতিবার আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সি শ্রীধর এই ২৮ জন বাংলাদেশিকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং সবাইকে ১০ হাজার রুপি করে আর্থিক জরিমানা করেন। কারাভোগ শেষে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রসঙ্গত চলতি সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কড়া বার্তা দেন তিনি। সম্প্রতি ভারতজুড়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের আটক ও পুশব্যাক ইস্যুতে বিরোধীদের সমালোচনার মধ্যেই মোদির এমন বার্তা ও তামিলনাড়ুর আদালতের রায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

চিকিৎসার নামে নিজের মূত্রপান করাতেন মহারাষ্ট্রের স্বঘোষিত বাবা

আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির নামে মানুষকে লাঠিপেটা করা, চক্রাকারে দৌড়ানো, গাছের পাতা খাওয়ানো, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে মূত্রপানে বাধ্য করতো স্বঘোষিত ‘বাবা’ সঞ্জয় পাগারে। মানুষের অসহায়ত্ব এবং অন্ধবিশ্বাসের সুযোগে প্রায় দুই বছর ধরে চলেছে তার এসব নির্মম কর্মকাণ্ড। কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা কিছু ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

ভারতের মহারাষ্ট্র অঙ্গরাজ্যের ভাইজাপুরের তেশিল শহরের শিউর গ্রামের একটি উপাসনালয়কে নিজের কর্মস্থল বানিয়েছিল পাগারে। নিজেকে অলৌকিক শক্তির অধিকারী দাবি করে সে ভূত তাড়ানো থেকে শুরু করে অবিবাহিতদের বিয়ে এবং নিঃসন্তানদের জন্য সন্তানলাভের তথাকথিত ‘অঘোরী’ আচারানুষ্ঠান সম্পাদন করতো।

তার এসব নির্মম আচার অনুষ্ঠানের খবর পেয়ে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ছদ্মবেশী অভিযানের (স্টিং অপারেশন) আয়োজন করে স্থানীয় একটি কুসংস্কারবিরোধী সংগঠন। তাদের লুকানো ক্যামেরায় যেসব ফুটেজ এনডিটিভি যাচাই করেছে, তা অনেক ক্ষেত্রে বিবমিষার উদ্রেক করে।

ভিডিওর শেষে দেখা যায়, লোকটি অন্যদের সহায়তায় উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তার নিজের ওপর খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ ছিল বলে মনে হচ্ছিল না।

অন্যান্য ভিডিওতে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে নির্মমভাবে লাঠিপেটা করছে পাগারে। তার ভাষায় এটা হচ্ছে আত্মিক পরিশুদ্ধির অংশ, যা তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা সবার জন্য ছিল প্রায় বাধ্যতামূলক দাওয়াই।

ভিডিও ধারণকারী মানবাধিকার কর্মীরা পাগারের বিরুদ্ধে ভারতীয় পেনাল কোডের অধীনে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণা, লাঞ্ছনা এবং কুসংস্কার প্রচারের দায়ে সঞ্জয় পাগারের বিরুদ্ধে এফআইআর ফাইল করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মহারাষ্ট্র কুসংস্কার ও কালোজাদুবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

স্বামী-স্ত্রীর স্থায়ী ঠিকানায় প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির আবেদন শুরু

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এবার স্বামী বা স্ত্রীর স্থায়ী ঠিকানায় বদলির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। রোববার (২০ জুলাই) শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব ড. ফাহিম ইকবাল জাগিরদারের সই করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, শিক্ষকরা অনলাইনে সর্বোচ্চ তিনটি বিদ্যালয় পছন্দক্রমে উল্লেখ করতে পারবেন। পছন্দ অনুযায়ী বদলির আদেশ চূড়ান্ত হলে তা পরে বাতিলের কোনো সুযোগ থাকবে না।

এতে আরও বলা হয়েছে, বদলি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে অংশ নেবেন প্রধান শিক্ষক, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় উপপরিচালক এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। অনলাইন আবেদন যাচাই ও অনুমোদনসহ পুরো কার্যক্রম শেষ হবে ৩১ আগস্টের মধ্যে।

এ ছাড়া এবারের বদলি কার্যক্রমে আন্তঃউপজেলা (একই জেলার মধ্যে), আন্তঃজেলা (একই বিভাগের মধ্যে) এবং আন্তঃবিভাগে বদলির সুযোগ থাকছে। তবে সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত বিদ্যালয়গুলো এ প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে।

যৌথ মহড়ার মাধ্যমে সামরিক অংশীদারত্বগভীর করবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্য জোরদারের লক্ষ্যে কয়েক দফা যৌথ সামরিক মহড়ার এবং একটি নতুন সক্ষমতা প্রবর্তনের মাধ্যমে এই গ্রীষ্মে তাদের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করবে।

রোববার মার্কিন দূতাবাস গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী এবং অঞ্চলটিকে আরও নিরাপদ করতে সহায়তা করা।’

মিডিয়া নোটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং মার্কিন সেনা প্যাসিফিক টানা চতুর্থ বছরের মতো টাইগার লাইটনিং মহড়া পরিচালনা করবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের সৈন্যরা সন্ত্রাসবাদ দমন, শান্তিরক্ষা, জঙ্গল অভিযান, চিকিৎসা উদ্ধার অভিযান এবং ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি গড়ে তুলবে।’

মহড়া টাইগার শার্ক ২০২৫: মিডিয়া নোটে বলা হয়েছে, ‘টাইগার শার্ক (ফ্ল্যাশ বেঙ্গল সিরিজের অংশ) একটি যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া, যেখানে আমাদের দুই দেশের বিশেষ বাহিনী যুদ্ধের অনুশীলন করে।’

২০০৯ সাল থেকে চলমান এই মহড়ায় টহল নৌকা পরিচালনা এবং ছোট অস্ত্রের ব্যবহার থাকবে, যা বাংলাদেশের বিশেষ যুদ্ধক্ষেত্রে ডাইভিং ও উদ্ধার এবং সংকট মোকাবিলায় প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডের সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে। এই সম্মিলিত মহড়ার অন্যতম আকর্ষণ হলো উভয় দেশের দ্বারা মার্কিন সরঞ্জামের ব্যবহার।

মহড়া প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল: মার্কিন মিডিয়া নোটে বলা হয়েছে, ‘এটি হবে বাংলাদেশের সাথে প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেলের চতুর্থ অনুরূপ মহড়া। এটি আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সি-১৩০ নৌবহরের কর্মকাণ্ড তুলে ধরবে, যা দুর্যোগকালীন সাড়া প্রদানে বিমান থেকে সামগ্রী ড্রপ করা এবং বিমান চলাচল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ।’

এই মহড়ায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার (এসএআর) এবং অ্যারোমেডিকেল অপারেশনের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হবে, যা বাংলাদেশের মানবিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার ক্ষমতাকে আরও উন্নত করবে।

আরকিউ-২১ প্রোগ্রামের সূচনা: বাংলাদেশের জন্য মানববিহীন বিমানব্যবস্থা (ইউএএস) সক্ষমতা তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাংলাদেশ রেজিমেন্ট নতুন আরইকউ-২১ ব্ল্যাকজ্যাক সিস্টেম পরিচালনা করবে।

মিডিয়া নোট অনুসারে, এই যৌথ প্রচেষ্টা বাংলাদেশকে তার সামুদ্রিক অঞ্চল পর্যবেক্ষণ, সীমান্ত সুরক্ষা এবং শান্তিরক্ষা মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম করবে।