Home Blog Page 378

৪৪তম বিসিএসের ফল ঘিরে নতুন আন্দোলনের আভাস

৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে দেশে আরেকটি বড় ধরনের আন্দোলনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সাবেক সহ-মুখপাত্র ও অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান, যা এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অনেকেই শেয়ার করেছেন।

মিরাজ মিয়ার অভিযোগ, ৪৪তম বিসিএসের প্রায় ১২ হাজার পরীক্ষার্থীর সঙ্গে রাষ্ট্র বড় ধরনের প্রতারণা করতে যাচ্ছে। তার মতে, নিয়োগযোগ্য অসংখ্য পদ খালি থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে সেগুলো পূরণ করা হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ৪০তম, ৪১তম এবং ৪৩তম বিসিএসের ফল প্রকাশের আগে পদসংখ্যা বাড়ানো হলেও, বর্তমান সরকার আমলে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি সরাসরি প্রধান উপদেষ্টাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে বলেন, জনপ্রশাসন সচিবের কাছ থেকে পদসংখ্যা বৃদ্ধির চিঠি তার কার্যালয়ে পৌঁছালেও তাতে স্বাক্ষর করা হয়নি। মিরাজ মিয়া আরও বলেন, চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, সবকিছু আবার দলীয়করণ হতে যাচ্ছে। জেনারেল ক্যাডার ও শিক্ষা ক্যাডারে পর্যাপ্ত পদ খালি থাকা সত্ত্বেও সেগুলো পূরণ না করার পেছনে কোনো যুক্তি নেই বলে তিনি মনে করেন।

৪৬ মাসের বেশি সময় ধরে চলা ৪৪তম বিসিএসকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিসিএস উল্লেখ করে মিরাজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রিলি, লিখিত ও ভাইভায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও পরীক্ষার্থীদের সদিচ্ছার অভাবে খালি হাতে ফিরতে হতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাদের আন্দোলনের কারণে বর্তমান সরকার ক্ষমতায়, তাদের কথা কেন শোনা হচ্ছে না।

মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই বার্তা পৌঁছানোর আহ্বান জানান যে, “খালি পদ থাকা সত্ত্বেও ড. ইউনূস পদ বাড়াচ্ছেন না”—শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগের বিষয়ে তার জানা উচিত। এই পরিস্থিতি নতুন করে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

গাজা যুদ্ধে ৮৮০ ইসরায়েলি সেনা নিহত

গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে ৮৮০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিহত সেনাদের নামের তালিকা প্রকাশ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। টাইমস অব ইসরায়েলের বরাত দিয়ে এই খবর জানা গেছে।

আইডিএফের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহত সেনাদের মধ্যে ৩২৯ জন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা সীমান্তে হামাসের আক্রমণের সময় মারা যান। এছাড়া, হামাস-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে স্থল আক্রমণ ও সীমান্ত অভিযানে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৩৬ জন সেনা।

এদিকে, ইসরায়েল পুলিশ গাজায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫৮ জন সদস্য নিহত হওয়ার তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের অনেকেই অফিসার পদমর্যাদার ছিলেন।

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে ৮০ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আইডিএফ। একইসঙ্গে পশ্চিম তীর এবং ইসরায়েলে সংঘর্ষে ১৭ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। ইরাক থেকে ড্রোন হামলায় দুইজন এবং ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন সেনা নিহতের তথ্যও নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।

আইডিএফের তালিকায় যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয় এমন কয়েকটি মারাত্মক ঘটনাতেও নিহতের তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিম তীরে গুলিতে একজন, লেবানন সীমান্তে গোলাবারুদের ত্রুটির কারণে একজন এবং উত্তর ইসরায়েলে ট্যাঙ্ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহতের ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা-ইসরায়েল সংঘাতে প্রায় ১,২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, গাজা উপত্যকাজুড়ে দখলদার বাহিনীর ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক হামলায় এ পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৩৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৩২ জন ফিলিস্তিনি। নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।

প্রধান উপদেষ্টার সাথে ফোনালাপ, যা বলল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই ফোনালাপের বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে এক বার্তায় প্রকাশ করেছে। সোমবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এই বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা এই সংলাপকে তিনি “উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেন, যা দুই দেশের চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রমাণ বহন করে।

এনবিআরের চাকরিকে অত্যাবশ্যক সেবা করে প্রজ্ঞাপন জারি

সরকারের রাজস্ব আহরণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা গতিশীল রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন সকল কাস্টমস হাউস, আইসিডি, বন্ড কমিশনারেট এবং শুল্ক স্টেশনসমূহের সব শ্রেণির চাকরিকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার রোববার এই সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে, আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এনবিআরের আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত কার্যক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ নেই। তিনি যোগ করেন, পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করলে কারও কোনো সমস্যা হবে না এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে মানুষের সেবা করলে সেখানে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

গেজেটে বলা হয়েছে, জনস্বার্থ রক্ষায় এনবিআরের এসব কার্যক্রম অত্যাবশ্যক। এসেনশিয়াল সার্ভিসেস (সেকেন্ড) অর্ডিন্যান্স, ১৯৫৮ এর সেকশন ৩ এর ক্ষমতাবলে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, জনকল্যাণমূলক সেবা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জননিরাপত্তা বা জনগণের জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জনগণের জন্য অসহনীয় কষ্টের কারণ হলে এবং দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ধরনের ঘোষণা দেওয়া যায়।

এই ঘোষণা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, তবে প্রয়োজনে তা বাড়ানো যাবে। অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ঘোষিত চাকরির ক্ষেত্রে সরকার কর্মীদের কর্মস্থল ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিতে পারবে এবং ধর্মঘট নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে গেলে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর জন্য ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থারও সুযোগ আছে আইনে। বর্তমানে ১৮ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার সঙ্গে এখন এনবিআরের উল্লিখিত সব শ্রেণির চাকরি যুক্ত হলো।

কমল ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি : সরকারিতে ৫০, বেসরকারি ৩০০ টাকা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করেছে। এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর মূল পরীক্ষা (এনএসওয়ান, আইজিজি ও আইজিএম) করানোর জন্য ৫০ টাকা রাখা হবে, যা গত বছরের অর্ধেকেরও কম। বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই পরীক্ষার সর্বোচ্চ ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক অফিসিয়াল নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই ফি নীতিমালা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গু শনাক্তের প্রধান পরীক্ষা এনএসওয়ান, আইজিজি ও আইজিএমের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি নিতে পারবে, এর বেশি নয়। এছাড়া, সিবিসি পরীক্ষার সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা।

সরকারি হাসপাতালে এনএসওয়ান, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করায়, ডেঙ্গু পরীক্ষা আগের ১০০ টাকার চেয়ে অর্ধেক কম মূল্যে করানো যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৫ সালে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা এখন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলো।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত মূল্যের বেশি ফি নেওয়া যাবে না। যদি কোথাও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একইসঙ্গে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সময় যেকোনো জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানোর আহ্বান জানিয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ রোগীদের আর্থিক বোঝা কমানো এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাহরাইনের জালে ৭ গোল দিল বাংলাদেশের মেয়েরা

ইয়াংগুনে এএফসি উইমেন’স এশিয়া কাপের বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ ‘সি’তে ২ জুলাই স্বাগিতক মিয়ানমারের মুখোমুখি হবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বাহরাইন বেশ এগিয়ে। তাদের বিরুদ্ধে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে ঋতুপর্না চাকমা-শামসুন্নাহাররা। ১২৮ নাম্বারে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো বিভাগেই পেরে ওঠেনি ৯২তম স্থানে থাকা বাহরাইন।

ম্যাচের ১০ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়র দলকে প্রথম এগিয়ে নেন। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের লম্বা ক্রস দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রনে নিয়ে চোখে লেগে থাকার মতো গোল করেন তিনি। বাঁ পায়ের চিপ শটে জালে পাঠান বল।

এরপর ১৬ মিনিটে ঋতুপর্না চাকমার গোলটিও দেখার মতো ছিল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে করা সেই গোলটির রিপ্লে দেখান তিনি। ৪০ মিনিটে লিড ৩-০ করে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তহুরার জোড়া গোলে ৫-০ গোলে শেষ করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে বাহরাইন কিছুটা গোছানো ফুটবল খেলতে শুরু করলেও ৬০ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে দলটি। ৭৪ মিনিটে দুর্দান্ত গতিতে বল নিয়ে বাহরাইনের বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন মুনকি আক্তার। শেষ দিকে অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে ৮-০ ব্যবধানের জয় হতে পারতো।

মহররম মাসের ফজিলত ও আমল

হিজরি নববর্ষের প্রথম মাস মহররম মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামী শরিয়তে এই মাসকে বিশেষভাবে সম্মানিত ও বরকতময় মাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এর অসাধারণ ফজিলত বর্ণিত আছে। মহররম মাস শুধু একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং এটি ইবাদত, তওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনার এক সুবর্ণ সুযোগ। এই মাসে নফল রোজা ও ইস্তিগফারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যা মুমিনদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য পথ খুলে দেয়। আসুন, এই সম্মানিত মাসের বিশেষ কিছু ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

পবিত্র কোরআনে মহররমকে ‘আরবাআতুন হুরুম’ বা সম্মানিত চার মাসের অন্যতম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল, যা এর পবিত্রতা ও গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহররম মাসের রোজাকে রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হচ্ছে- আল্লাহর মাস ‘মুহররম’-এর রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হচ্ছে- রাত্রিকালীন নামাজ।” (সহিহ মুসলিম, ১১৬৩)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহররম মাসকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা আল্লাহর মাস বলেও অভিহিত করেছেন। যদিও সকল মাসই আল্লাহর, তবে এই নামকরণ মহররমের বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। যেমনভাবে পৃথিবীর সব ঘর আল্লাহর হওয়া সত্ত্বেও কেবল কা’বাকে ‘বাইতুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর বলা হয়। এই বিশেষ সম্পর্ক মহররম মাসে অধিক রোজা রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।

মহররম মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত হলো, এই মাসের সঙ্গে তওবা কবুলের ইতিহাস জড়িত। একটি হাদিসে এসেছে, আলী (রা.)-কে এক ব্যক্তি রমজানের পর রোজা রাখার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, “রমজানের পর যদি তুমি রোজা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।” (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১/১৫৭)

মহররমের রোজার মধ্যে আশুরার (১০ই মহররম) রোজার ফজিলত আরও বেশি। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।” (সহিহ বুখারি: ১/২১৮)

এই মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদত-বন্দেগি, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অসাধারণ সুযোগ। এই সময়ে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা এবং কৃত গুনাহের জন্য তওবা-ইস্তিগফার করা উচিত।

অজান্তেই শরীরে ঢুকছে ডায়াবেটিস, লক্ষণগুলো দেখা দেয় ঘুমের মধ্যেই

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ—এই চারটি বিষয় সরাসরি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে অনেক সময় দিনের বেলা যেসব লক্ষণ প্রকাশ পায়, তার কিছু নিঃশব্দ বার্তা আমাদের ঘুমের মধ্যেও দেখা দিতে পারে।

ঘুমের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে পারে, সেগুলো হলো:

১. ঘুমিয়ে উঠেও ক্লান্তিভাব: পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি শরীর চাঙ্গা না লাগে এবং দুর্বলতা অনুভব করেন, তাহলে তা শরীরে ইনসুলিন কার্যকারিতার ব্যাঘাতের লক্ষণ হতে পারে। ডায়াবেটিসে শরীর সঠিকভাবে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না, ফলে ঘুমের পরও সতেজ অনুভব হয় না।

২. ঘুমের সময় অতিরিক্ত ঘাম: রাতে ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত ঘাম হলে বা ঘামিয়ে ঘুম ভেঙে গেলে সেটি হাইপোগ্লাইসেমিয়ার (রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া) লক্ষণ হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘাম স্বাভাবিক ঘটনা নয় এবং অবহেলা করা উচিত নয়।

৩. ঘন ঘন প্রস্রাব পেয়ে ঘুম ভাঙা: রাতের বেলা বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা টাইপ-টু ডায়াবেটিসের একটি প্রচলিত লক্ষণ। উচ্চমাত্রার রক্তশর্করা শরীরকে প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করে দিতে বাধ্য করে, যার ফলে ঘুম বারবার ভেঙে যেতে পারে।

৪. ঘুমের মধ্যে তীব্র পিপাসা অনুভব: ঘন ঘন প্রস্রাবের ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে, যা ঘুমের মাঝেই তীব্র পিপাসা বা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

৫. হাত-পায়ে ঝিমঝিম বা অসাড়তা: ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ু ক্ষতির (ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি) কারণে রাতে ঘুমানোর সময় হাত-পায়ে ঝিমুনি, অস্বস্তি বা অসাড়ভাব অনুভূত হতে পারে।

এই ধরনের লক্ষণ বারবার দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ না করলে তা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

সুস্থ জীবনধারা মেনে চলা—যেমন: নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রতিদিন কিছু সময় ব্যায়াম করার অভ্যাস—টাইপ-টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হিলি স্থলবন্দরে কমপ্লিট শাটডাউন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে কমপ্লিট শাটডাউন চলছে। রোববার (২৯ জুন) সকাল থেকে বন্দর দিয়ে কোনো ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্বিতীয় দিনের মত রোববার সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করন। কার্যালয় খোলা থাকলেও কর্মকর্তা কর্মচারীরা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রয়েছেন। এতে আমদানি পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু পরীক্ষণ শুল্কায়ন আউটপাশ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এক শ্রমিক জানান, দুদিন হলো স্যারদের আন্দোলন চলছে। এখনো সমাধান হয়নি। ফলে গতকাল থেকে আমরা কোনো কাজ পাচ্ছি না।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও ক্লিয়ারিং না পাওয়ায় ট্রাকগুলো আটকা পড়ে আছে।

একজন উপদেষ্টা আওয়ামী এমপির মতো এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত : মির্জা ফখরুল

মুরাদনগরের বাসিন্দা উপদেষ্টা হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী এমপিদের মতো এলাকায় আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

কুমিল্লা জেলাধীন মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতন করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক নারীকে শ্লীলতাহানী ও নির্যাতনের এক নির্মম কলঙ্কজনক ঘৃণ্য ঘটনা।

এই বর্বরোচিত ঘটনা দেশের মানুষকে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে। অথচ একটি কুচক্রী মহল এই কাপুরোষিত ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলের মতো নিজেরাই সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ী দখল ও নির্যাতন করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর ধারাবাহিকতা এখনও চলছে।

তিনি বলেন, ওই এলাকার একজন উপদেষ্টা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মুরাদনগরে ক্রমাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন।

দুস্কৃতিকারিরা আশকারা পেয়ে সমাজবিরোধী নানা অপকর্মে মেতে উঠেছে। আর এ ক্ষেত্রে তারা দেশ-বিদেশ থেকে অবিরাম মদত পাচ্ছে। উপদেষ্টা যদি জনসেবার চেয়ে আত্মসেবাতেই ব্যস্ত থাকেন তাহলে এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত হবে। মুরাদনগরের বাসিন্দা উপদেষ্টা হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী এমপিদের মতো এলাকায় আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, মুরাদনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীর শ্লীলতাহানী ও সহিংসতা মনুষ্যত্বহীন, অমানবিক, পাশবিক ও মহল বিশেষের রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের অভিসন্ধি। আবারও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার আওয়ামী নোংরা কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। হাসিনার পতনের পরেও আমাদের চিরচেনা সেই সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে না এনে বরং বিনষ্ট করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য। এদিকে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা অর্থবিত্তে সজ্জিত।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নারী নির্যাতনসহ সহিংস সন্ত্রাসের গোপন অভিযান চালিয়ে উদোরপিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার জন্য তারা বিপজ্জনক গোপন অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে।

শক্তিশালী পক্ষের আশির্বাদ আছে বলেই দুর্বৃত্তরা সহিংস কার্যাবলী চালাতে উৎসাহিত হচ্ছে। তবে সত্যের জন্য, সম্মানের জন্য ও আত্মমর্যাদার জন্য ধর্ম, জাতি, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলকে দুস্কৃতিকারি পাষণ্ডদের প্রতিহত করতে হবে সুস্থ সমাজ ও নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য।

তিনি আরো বলেন, নারী নির্যাতনকারী অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। তারা মানবসভ্যতার শত্রু, আমি অবিলম্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনকারী দুস্কৃতিকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর আহ্বান জানাচ্ছি।