Home Blog Page 38

বিশ্ববাজারে বিস্তার বাড়াতে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি উন্মোচন করল টিপসই

নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি উন্মোচন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ‘টিপসই’। আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিজেদের নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছে ইনোভেস টেকনোলজিসের এই প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে তৈরি এই প্রযুক্তি এখন পর্যন্ত পৌঁছে গেছে বিশ্বের ১১টি দেশে।

টিপসই এর নতুন পরিচিতি উন্মোচনের আওতায় পরিবর্তন আনা হয়েছে লোগোসহ পূর্ণাঙ্গ ব্র্যান্ড ব্যবস্থায়। নতুন লোগোটি বাংলা ও ইংরেজি দুটি সংস্করণেই প্রকাশ করা হয়েছে। দৃশ্যমান সব ডিজাইন ও ভাষার ধারাতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে নিয়মিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা দেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল প্রকৌশলীর হাতে প্রতিষ্ঠিত টিপসই বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি সক্রিয় ডিভাইসের মাধ্যমে ১২০০ এর বেশি প্রতিষ্ঠান ও ২ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা প্রদান করছে। বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের মোট ১১ টি দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে টিপসই এর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উপস্থিতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৫ সালে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় তিন গুণ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরপরই নতুন রূপে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় টিপসই। ২০২৬ সালেও একই ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমশ বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টিপসই এর বিপণন বিভাগের প্রধান অর্ণব সিকদার বলেন, “ব্র্যান্ড সবসময় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলায়। আমাদের প্রযুক্তি এগিয়েছে, প্ল্যাটফর্ম বড় হয়েছে, স্বপ্নও বেড়েছে। তাই ব্র্যান্ডকেও সেই অগ্রগতির ছবি তুলে ধরতে হবে। নতুন এই পরিচিতি আমাদের সামনের পথের উপযোগী একটি ব্র্যান্ড দিয়েছে। নতুন বাজারে যাওয়া, নতুন পণ্য আনা এবং বাংলাদেশে তৈরি প্রযুক্তিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার গল্পটা এখন আরও স্পষ্টভাবে বলতে পারব আমরা।”

বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিক বাজারে টিপসইয়ের এই সম্প্রসারণে সহায়তা করছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিনিয়োগকারী ও অ্যাক্সিলারেটর প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিলারেটিং এশিয়া এবং অরবিট ভেঞ্চারস। অত্যন্ত বাছাইমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এশিয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করে আসছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টিপসইয়ের সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, বায়োমেট্রিক ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ডিভাইস, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং গ্রাহক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে ধাপে ধাপে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি চালু করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বিশ্ববাজারে বন্ড ছেড়ে ঋণ নিতে চায় সরকার

সরকার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে সভরেন বা সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করে ঋণ নিতে চায়। সরকারি অর্থায়নের বিকল্প উৎস হিসেবে ‘সভরেন বন্ড’ ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর প্রস্তুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হবে। কোন ধরনের বন্ড, কী পরিমাণ অর্থের এবং সুনির্দিষ্ট কোন বাজারে ইস্যু করা হবে– এসব বিষয়ে সুপারিশ করবে ওই কমিটি।

এ পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার দেশের ব্যাংক খাত থেকে ঋণ কম নিতে চায়। অন্যদিকে, উন্নয়ন সহযোগীদের থেকে প্রত্যাশিত ঋণ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর মতো বিকল্প অর্থায়নের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল ২০২৯ সালের দিকে। তবে আইএমএফের ঋণের কিস্তি ছাড়ে বিলম্বসহ নানা কারণে চলতি অর্থবছরেই বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস, মুডিস এবং ফিচ প্রতিবছর বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং করে। আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর আগে অন্তত দুটি সংস্থার মাধ্যমে নতুন করে রেটিং করাতে হবে। গত মে মাসে ফিচ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘ঋণাত্মক’ করেছে। যদিও দেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণমান ‘বি প্লাস’ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে অর্থ বিভাগের এক উপস্থাপনায় বিকল্প অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা, আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর পটভূমি, সম্ভাব্য সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, বন্ডের মাধ্যমে নেওয়া ঋণ থেকে অর্জিত অর্থনৈতিক সুফল বন্ডের কুপন, স্প্রেড, ফিসহ মোট ব্যয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। টেকসই অর্থায়নের জন্য এটিই মৌলিক শর্ত।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার ছিদ্দিকী বলেন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করেছে। তাই আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ প্রক্রিয়ায় আইএমএফের কিছু উদ্বেগ থাকতে পারে, বিশেষ করে তাদের কাছ থেকে রেয়াতি ঋণ যোগ্যতা বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তিনি জানান, বাংলাদেশ যদি চীনা মুদ্রায় ‘পান্ডা বন্ড’ ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে চীন সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অতীতে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অর্থ বিভাগ সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়ে আগ্রহী ছিল না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনুকূল সুদে বন্ড ইস্যুর জন্য আগে বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড হবে বিধায় বন্ডের কাঠামো, ইস্যুর সময়, মুদ্রা, পরিমাণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যালোচনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সভায় বলেন, প্রচলিত ডলারভিত্তিক ইউরো বন্ডের পাশাপাশি চীনের মুদ্রা রেনমিনবিতে ‘পান্ডা বন্ড’ ইস্যুর সম্ভাবনাও যাচাই করা যেতে পারে। প্রথম ইস্যু তুলনামূলক ছোট হওয়া উচিত। পাঁচ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বন্ড ইস্যু করলে বাজারের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে এবং ঝুঁকিও সীমিত থাকবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বলেন, আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি জানান দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে দেখা হয় না। ফলে বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ‘স্প্রেড’ দিতে হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ করলে রেটিং সংস্থাগুলোর কাছেও ইতিবাচক বার্তা যাবে, যা দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রথম বন্ডটি ডলারে ইস্যু করাই সমীচীন হবে। কারণ, অন্য মুদ্রার বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুলনামূলক কম।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, মধ্যমেয়াদি ঋণ কৌশল, বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা এবং ঋণ ধারণক্ষমতা মূল্যায়নের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বাজার ও বিনিয়োগকারীদের আগাম বার্তা দিতে সরকারি বিভিন্ন প্রকাশনায় এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত রাখারও সুপারিশ করা হয়।

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। হংকংভিত্তিক বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গঠনের উদ্যোগ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে ইক্যুইটি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। সেই উদ্যোগের পাশাপাশি সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা যেতে পারে। সভার শেষে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও সুপারিশ দিতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

দেশে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর আলোচনা প্রথম জোরালোভাবে শুরু হয় ২০১২ সালের শুরুতে। তবে সে সময় গ্রিসের সার্বভৌম ঋণ সংকট এবং ২০২২ সালে অতিরিক্ত সার্বভৌম ঋণের চাপে শ্রীলঙ্কার ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এ উদ্যোগ থেকে সরে আসে। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) লন্ডনের বাজারে বাংলাদেশি মুদ্রাভিত্তিক ‘বাংলা বন্ড’ ইস্যু করে, যা ছিল বেসরকারি খাতের জন্য প্রথম বাংলাদেশি টাকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক বন্ড।

বিশেষজ্ঞ মত 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, সরকার যদি অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি অর্থায়নের উৎস কীভাবে আরও বহুমুখী করা যায়, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা প্রয়োজন।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধে কতটা চাপ সৃষ্টি করবে, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত প্রাক্কলন থাকতে হবে। একই সঙ্গে সুদের হার, বন্ডের শর্ত, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত মুনাফা এবং অর্থায়নের সামগ্রিক ব্যয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এমন একসময়ে সামনে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের ঋণ ঝুঁকির মূল্যায়ন নিম্ন ঝুঁকি থেকে মধ্যম ঝুঁকিতে উন্নীত করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ সংকট দেখা দিতে পারে। তবে বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শ্রীলঙ্কার উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, দেশটি ব্যাপক হারে বিদেশ থেকে ঋণ নিয়েছিল। পরে সেই ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। তাই বাংলাদেশকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও বিচক্ষণ হতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক সমকালকে বলেন, আন্তর্জাতিক বন্ডের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে এর কাঠামো ও কার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে, তার ওপর। তাঁর মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারভিত্তিক বন্ড ইস্যু করলে বিনিময় হার ও সুদ পরিশোধের ঝুঁকি থাকে। ইন্দোনেশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার আর্থিক সংকটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রায় উচ্চ সুদের বন্ড অনেক সময় অর্থনীতির জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এই অর্থনীতিবিদের পরামর্শ, বন্ডটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে ইস্যু করা হলে তা দেশের জন্য বেশি উপকারী হবে। এতে প্রবাসীদের পাঠানো ডলার দেশে থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সুদ ও আসল টাকায় পরিশোধ করা গেলে বিনিময় হারজনিত ঝুঁকিও কমবে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের বন্ড সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে প্রবাসীদের জন্য বিশেষভাবে চালু করাই হবে অধিক কার্যকর কৌশল।

সরকারের ঋণ পরিস্থিতি 

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারকে ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিতে হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ঋণ বুলেটিনে উল্লেখ রয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশ ও বিদেশ থেকে সরকারের নেওয়া মোট ঋণের স্থিতি ২২ লাখ ছয় হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুন শেষে যার পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে সরকারের মোট ঋণ বেড়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।

কাঁদো ব্রাজিল কাঁদো

বিশ্বকাপের এখনো অর্ধেকটা বাকি। টুর্নামেন্টের আসল রোমাঞ্চ, আসল জৌলুস তো সবে মাত্র শুরু হওয়ার কথা। অথচ ফুটবল মহাযজ্ঞের সেই মূল মঞ্চেই কিনা আজ থেকে আর থাকবে না হলুদ-নীল জার্সির কোনো ম্যাজিক! এটা ভাবতেই যাদের চোখের কোনা বিষাদে ভিজে আসে, ফুটবল রোমান্টিকতার সেই চিরন্তন উপাসকদেরই আজ এক চরম, নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলো। চোখের সামনে দেখতে হলো এক রূপকথার অপমৃত্যু। আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের সেই অবিশ্বাস্য বিপর্যয়ের পর মাঠের মাঝখানে যখন নেইমারের কান্নার বাঁধ ভাঙল, তখন মনে হচ্ছিল ওই এক একটা অশ্রুবিন্দু যেন ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্নকে চিরতরে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

নেইমারের চোখের ওই জল আসলে ম্যাচ শেষের বাঁশিতে আচমকা নেমে আসেনি। ওই নোনা জল তো তখনই জমা হয়েছিল, যখন ম্যাচের ঠিক ১৩ মিনিটের মাথায় ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি মিসের সেই ট্র্যাজিক মুহূর্তটি আছড়ে পড়েছিল। যে কিকটি নেওয়ার জন্য ভিনিসিয়ুস বলটি হাতেও নিয়েছিলেন, সেটাই কিনা পরে তুলে নেন। ঠিক সেখানটাতেই ম্যাচটি নয় শুধু পুরো বিশ্বকাপটিই যেন হারিয়ে ফেলে ব্রাজিল। স্পট কিক থেকে গোল করার সেই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়া মাত্রই যেন সেলেসাওদের ভাগ্যলিপি বিষাদে লেখা হয়ে গিয়েছিল। প্রথমার্ধের ওই একটা মুহূর্তেই ব্রাজিলের ফুটবলারদের মনের সবটুকু আত্মবিশ্বাস আর জোর কর্পূরের মতো উড়ে যায়। এরপর ভিনিরই বাড়িয়ে দেওয়া একটা পাসে গোল করার আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন অ্যান্ড্রিক। জোড়া এই ভুলের পর ফুটবল বিধাতা ক্ষমা করেনি ব্রাজিলকে।

739782165 1712145303318430 4084253863847744762 n%20(1) 1783296915

তাদের ডিফেন্ডাররাও যেন ভুলেই গিয়েছিলেন যে হালান্ডকে সামান্যতম জায়গা দেওয়া মানেই নিশ্চিত ধ্বংস। রক্ষণভাগের কোনো ফুটবলারই হালান্ডকে প্রপার ‘ম্যান-মার্কিং’ করতে পারেননি। জোয়াল লাইক স্পেস পেয়ে নরওয়েজিয়ান এই দানব যখন ব্রাজিলের পেনাল্টি বক্সে একের পর এক থাবা বসাচ্ছিলেন, তখন ব্রাজিলের সেন্ট্রাল ডিফেন্স কেবলই নীরব দর্শক। কোচের ভুল রণকৌশল আর ডিফেন্ডারদের এই ক্ষমার অযোগ্য মার্কিংয়ের ব্যর্থতাই মূলত ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকে চিরতরে ছিটকে দিল।

আর নেইমার? ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজিক নায়কের নাম বোধহয় নেইমার জুনিয়র। যাকে ঘিরে এত আশা, এত কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন, তাকে পুরো সুযোগ কেন কাজে লাগানো হলো না, সেই প্রশ্নটা আজ বাতাসের মতো হাহাকার করে ফিরছে। যখন ম্যাচটা হাত থেকে ফস্কে যাচ্ছিল, তখন নেইমারের মতো একজন জিনিয়াসকে কোচের খামখেয়ালিপনায় পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বা ম্যাচের মোক্ষম সময়ে খণ্ড খণ্ড টুকরোয় ব্যবহার করাটা অপরাধের শামিল। তাঁর পায়ের সেই ড্রিবলিং, সেই ফাইনাল পাস—যা অনায়াসে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করে দিতে পারত, তাকে মাঠের বাইরে বসিয়ে রেখে কার স্বার্থরক্ষা হলো? নেইমারকে পুরোপুরি ব্যবহার না করার এই খামখেয়ালি মাশুল আজ ব্রাজিলকে দিতে হচ্ছে রক্তাশ্রু ঝরিয়ে।

NEYMAR%20(3) 1783296953

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর মাঠের ঠিক মাঝখানে হাঁটু গেড়ে বসে যখন হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন নেইমার জুনিয়র, তখন ফুটবল বিশ্ব বুঝতে পেরেছিল, এই কান্না কেবল একটি ম্যাচ হারের নয়, এ হলো এক অধ্যায়ের শেষ সূর্যাস্ত। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনের মঞ্চ থেকে এমন নির্মম বিদায়—এ যেন এক শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের এমন করুণ পতন আর দেখেনি ফুটবল বিশ্ব। ফুটবল যদি শুধু একটা খেলা হতো, তবে হয়তো আজ রিও ডি জেনেরিওর রাস্তায় কোনো কান্নার রোল উঠত না। কিন্তু ব্রাজিল তো ফুটবল খেলে না, তারা ফুটবল যাপন করে। আর সেই যাপনের ক্যানভাসে যখন এমন এক নির্মম ট্র্যাজেডি আর চিরবিদায়ের সুর নেমে আসে, তখন কলম সচল রাখা দায় হয়ে পড়ে। মাঠের সবুজ ঘাস পেরিয়ে প্রতিটি ব্রাজিল সমর্থকদের চোখে কান্নার নোনা জল। কাঁদো ব্রাজিল কাঁদো, আজ তোমাদের কাঁদারই দিন!

মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে ১০ জনের ইংল্যান্ড

বজ্রপাত আর ভারী বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শুরু হতে দেরি হলো এক ঘণ্টা। কিন্তু অপেক্ষার সেই সময়টুকু যেন উসুল করে দিল আজতেকা স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দুই মিনিটে জুড বেলিংহামের জোড়া গোল, লাল কার্ডের ধাক্কা, দুই দলের দুটি পেনাল্টি। সব মিলিয়ে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। শেষ আটে থমাস টুখেলের দলের প্রতিপক্ষ নরওয়ে।

শুরু থেকেই স্বাগতিক সমর্থকদের গর্জনে উজ্জীবিত মেক্সিকো ইংল্যান্ডকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। তবে প্রথম আঘাত হানে টুখেলের দলই। ৩৬তম মিনিটে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কাছ থেকে শুরু হওয়া দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ডেকলান রাইস বল বাড়ান বুকায়ো সাকার কাছে। ডান প্রান্ত থেকে সাকার নিখুঁত ক্রসে ডাইভিং হেডে জাল খুঁজে নেন জুড বেলিংহাম।

আজতেকার গ্যালারি তখনও প্রথম গোলের ধাক্কা সামলাতে পারেনি। এরই মধ্যে মাত্র দুই মিনিট পর আবারও আঘাত হানে ইংল্যান্ড। এলিয়ট অ্যান্ডারসন মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে হ্যারি কেইনের কাছে দেন। ইংলিশ অধিনায়কের নিখুঁত পাস থেকে এবার ডান পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন বেলিংহাম।

দুই গোলে পিছিয়েও হাল ছাড়েনি মেক্সিকো। ৪২তম মিনিটে হুলিয়ান কুইনোনেসের দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করে স্বাগতিকরা। বিরতির আগে সমতায় ফেরার আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে ম্যাচে আসে বড় অঘটন। হেসুস গাইয়ার্দোকে বিপজ্জনক ট্যাকল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার জারেল কনসাহ। একজন কমে যাওয়ার পরপরই অবশ্য পেনাল্টি পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। বক্সে অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করেন গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেল। স্পটকিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ গোলটি করেন হ্যারি কেইন। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

একজন কম নিয়ে শেষ আধঘণ্টা রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে টুখেলের দল। ৮৩তম মিনিটে আবারও নাটক। এবার বক্সের ভেতর ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে ফাউল করেন হ্যারি কেইন। ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি রাউল হিমেনেজ। ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-২।

শেষ কয়েক মিনিটে আজতেকা স্টেডিয়ামে একের পর এক আক্রমণ চালায় মেক্সিকো। কিন্তু ১০ জনের ইংল্যান্ড অসাধারণ দৃঢ়তায় রক্ষণ সামলে জয় নিশ্চিত করে। ৫ গোলের এই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা।

এবার শেষ আটে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে নরওয়ে, যারা আগের ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে চমক দেখিয়েছে।

তারেক রহমানের সঙ্গে নেতাদের বৈঠক, চলতি সপ্তাহে হতে পারে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঢাকা জেলা ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৃথকভাবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একইসঙ্গে কয়েকটি সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণার ইঙ্গিত দেন বিএনপি হাইকমান্ড।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকগুলোতে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চান তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা নিজ নিজ ইউনিটের সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দলকে আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আবু আশফাক এবং সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী অংশ নেন।

রফিকুল আলম মজনু জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান সবার খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং নেতারা নিয়মিত পার্টি অফিসে যাচ্ছেন কিনা, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন।

সূত্র জানায়, এদিন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সঙ্গেও এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে উত্তর বিএনপির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।

চলতি সপ্তাহে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি  
একই দিনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও একটি পৃথক বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে সংগঠনের সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান। বৈঠকে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে জোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান বৈঠককালে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা সম্পকে বিস্তারিত জানতে চান। পরে তিনি বর্তমান কমিটির নেতাদের বিদায় দেন। নেতারা আশা করছেন শিগগিরিই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

যা–ই ঘটুক, আজ ওয়াশিংটনে ভাষণ দেব: ট্রাম্প

প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে পূর্বনির্ধারিত ভাষণ দেবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘যা–ই ঘটুক, আমি ভাষণ দেবই।’

সম্ভাব্য বজ্রঝড়ের কারণে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মল থেকে কয়েক হাজার মানুষকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হলেও অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়নি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রিডম ২৫০’ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে ট্রাম্প তার বহুল আলোচিত ভাষণ দেবেন। পরে থাকবে প্রায় ৪০ মিনিটের আতশবাজির প্রদর্শনী।

ট্রাম্পের ভাষণকে ঘিরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ন্যাশনাল মলে হাজারো সমর্থক জড়ো হন। তবে বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় তাদের সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হলে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কেউ দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন, আবার কেউ সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। অনেককে ‘ট্রাম্প, ট্রাম্প’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশি সহায়তায় উপস্থিত জনতাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্পের এ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে কয়েক ঘণ্টার সামরিক বিমান মহড়া, নির্বাচনী প্রচারণার আদলে একটি রাজনৈতিক সমাবেশ এবং বর্ণাঢ্য আতশবাজির আয়োজন। আয়োজকেরা এটিকে স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজনগুলোর একটি বলে প্রচার করছেন।

এর আগে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ওয়াশিংটনে মানুষের উপস্থিতি ‘অবিশ্বাস্য’। শুক্রবার রাজধানীর তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা ৬২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা র্যান্ডি কোল বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য মানুষের আত্মত্যাগের তুলনায় এই গরম সহ্য করা খুবই সামান্য বিষয়।

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, গরম তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘আমি খুব দীর্ঘ একটি বক্তৃতা দেব, শুধু এটা দেখানোর জন্য যে আমি সবকিছুই করতে পারি।’

এর এক দিন আগে ট্রাম্প দক্ষিণ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোর স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক চার প্রেসিডেন্ট-জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, আব্রাহাম লিংকন এবং থিওডোর রুজভেল্টের পাথুরে ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ভাষণ দেন।

এনসিপির মাসব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কাল শুরু

‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় পর্যায়ক্রমে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। এ সময় দলের যুগ্ম সদস্য সচিব আলী আহসান জুনায়েদ, আতাউল্লাহ, মাহিন সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম বলেন, ২০২৫ সালে দলের আত্মপ্রকাশের পর ২৫ জুলাই দেশের ৬৪ জেলা শহরে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে।
এনসিপির এই নেতা জানান, আগামীকাল গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদযাত্রার উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনী কর্মসূচিতে দলের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, মুখ্য সংগঠকসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। ৭ জুলাই কক্সবাজারের উখিয়া থেকে দক্ষিণাঞ্চলের পদযাত্রা শুরু হবে। উত্তরাঞ্চলের কর্মসূচি পরিচালনা করবেন সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। দক্ষিণাঞ্চলে নেতৃত্ব দেবেন মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সারজিস আলম বলেন, এই পদযাত্রার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে এনসিপির প্রার্থীদের পরিচিতি বাড়বে, সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই হবে এবং উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। এসব এলাকাতেই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সমস্যা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে তাদের মতামত জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।
তিনি জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ জুলাই কুড়িগ্রামে কৃষক সমাবেশ থেকেই এনসিপির সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় কৃষক শক্তি’র আত্মপ্রকাশ হবে। এছাড়া ১৬ জুলাই রংপুরে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেবেন দলের নেতারা।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আ.লীগের বিচার শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশে আর কোনো দিন রাজনীতি করতে পারবে না। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, তাদের দাফন হয়েছে দিল্লিতে। তারা আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আওয়ামী লীগকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেছি আমরা, আপনারাও করেছেন। তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৪৭ আর্টিকেল অনুসারে আইন সংশোধন করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আছে, আইসিটি অ্যাক্টে আছে রাজনৈতিক দলের সংগঠনের বিচার করা যাবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যেন আমরা কেউ ব্যবসা না করি। যারা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সংগঠন করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য চেতনা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি কিন্তু ভবিষ্যতে দেখা যাবে।’

জুলাই গণহত্যার বিচারের সর্বশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে ছয়টি গণহত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় হয়েছে। বিচারাধীন মামলা আছে ২৭টি, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে ৭২টি। শহীদ আবু সাঈদের মামলায় প্রথম দুজনের ফাঁসি হয়েছে, ভাইস চ্যান্সেলরসহ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়েছে। প্রথম মামলার রায় হয়েছে গণহত্যার।’

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। তৎকালীন আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হওয়ার কারণে তাঁর সাজা কম হয়েছে, তবে সাজা হয়েছে। আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসি হয়েছে। সেখানে স্বৈরাচারের দোসর সাবেক এমপি আছে, ওসি আছে; ডিআইজিসহ অন্যান্যদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘চানখাঁরপুলে হত্যা মামলায় ফাঁসির আদেশ হয়েছে তৎকালীন স্বৈরাচারের দোসর পুলিশ কমিশনার হাবিব এবং জয়েন্ট কমিশনার সুদীপ্তর। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। রামপুরা টিভি সেন্টারের ওখানে একটা ছেলে লুকিয়েছিল, তাকে গুলি করা হয়েছিল। আমি শুনলাম, সেই ছেলেটি কোন রকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে। চিকিৎসার মাধ্যমে আল্লাহ তার জীবন বাড়িয়ে দিক, হায়াত বাড়িয়ে দিক। সেই ঘটনায় শিশুসহ আরও দুয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে, সেই মামলায় রায় হয়েছে। ফাঁসির আদেশ হয়েছে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হাবিব, ওসির এবং অন্যান্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সর্বশেষ হাসানুল হক ইনু নামের একজন স্বৈরাচারের দোসর আছে তাঁর বিচারের রায় বেরিয়েছে। তাঁকে কেবল ১০ বছরের সাজা দেওয়াতে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট নয়, সে জন্য সেটা আপিল করা হবে মর্মে শুনেছি। তাঁর অন্তত যাতে সর্বোচ্চ সাজা হয়, সে রকম বিচার আরও আছে, সে মামলাগুলোতে আশা করা যায়।’

তদন্ত অব্যাহত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যাসহ বিভিন্ন নৃশংস অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তদন্ত শুরু হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষ হলেই প্রসিকিউশন বিভাগে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। ইতিমধ্যে তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে।

এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে গতকাল রাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সমকালকে জানিয়েছেন, এখনই কিছু বললেন না। তদন্তের বিষয়টি জেনে পরে তিনি জানাবেন।

আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম)সহ আরও কয়েকটি দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে আওয়ামী লীগকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধের জন্য পৃথকভাবে লিখিত আবেদন করে, যা তদন্ত সংস্থায় তদন্তাধীন।

২০২৪ সালের ২ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ (বর্তমানে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী) জুলাই গণহত্যার সরাসরি হুকুমদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের শরিক দলগুলোর নামে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলনে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো গণহত্যা চালাতে সরাসরি হুকুম দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ওই অভিযোগে আরও বলা হয়, সরাসরি হুকুমদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের শরিক রাজনৈতিক দল– সাম্যবাদী দল, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, জাসদ (ইনু), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, তরিকত ফেডারেশন, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), গণআজাদী লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, বাসদ ও জাতীয় পার্টি-জেপির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তদন্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য আইনগত প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সেদিন অভিযোগ গ্রহণ করে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শরিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে।

এরপর গত বছরের ৭ অক্টোবর তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার চেয়ে অন্য একটি দলের করা অভিযোগের তদন্ত করতে এরই মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং তিনি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘এনডিএম নামে একটি দল অভিযোগ দিয়েছে। আমরা সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছি। সুতরাং বলা যেতে পারে, এ মুহূর্তে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপরাধী সংগঠন হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।’

এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহত ও শহীদ পরিবারের বেশ কিছু সদস্য আওয়ামী লীগ এবং এর দোসরদের বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে বেশ কয়েক দফা মানববন্ধন করেন।

এদিকে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। কেননা তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দলগতভাবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ যে ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, আমরা মনে করি দল হিসেবে তাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। দেড় সহস্রাধিক মৃত্যু ও প্রায় ৩০ হাজার মানুষের আহত হওয়ার পর কোনোভাবেই দায়ী দলকে আবার পুনর্বাসন করতে দেবে না জনগণ।’

আইসিটি আইনে যা বলা আছে
২০২৫ সালের ১০ মে রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে ১৯৯৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার।

রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (দ্বিতীয় সংশোধনী) সংশোধিত গেজেটে বলা হয়েছে, কোনো সংগঠন, অর্থাৎ কোনো রাজনৈতিক দল অথবা সেই দলের অধীন, সংশ্লিষ্ট বা সহযোগী কোনো সত্তা অথবা এমন কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে বোঝায়, যা ট্রাইব্যুনালের অভিমত অনুযায়ী, ওই দল বা সত্তার কার্যকলাপ প্রচার, সমর্থন, অনুমোদন, সহায়তা বা সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জড়িত থাকে।

সংগঠনের জন্য শাস্তির ক্ষেত্রে বলা হয়, এ আইনে বা তৎকালীন প্রযোজ্য অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক, যদি ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতীয়মান হয়, কোনো সংগঠন এই আইনের ৩ ধারার উপধারা (২) অনুযায়ী উল্লিখিত অপরাধগুলো করেছে, নির্দেশ দিয়েছে, চেষ্টা করেছে, সহায়তা করেছে, প্ররোচিত করেছে, উস্কানি দিয়েছে, ষড়যন্ত্র করেছে, সহজতর করেছে বা সহযোগিতা করেছে, তাহলে ট্রাইব্যুনাল সেই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করার, সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার, তার নিবন্ধন বা লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার এবং তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা রাখবে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

বিশ্বকাপ পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে ধাক্কা আর্জেন্টিনার, কোথায় ব্রাজিল-পর্তুগাল?

বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে এক রোমাঞ্চকর যুদ্ধক্ষেত্রে। টুর্নামেন্টের সমীকরণ এখন আরও কঠিন। ইতোমধ্যেই শেষ ষোলোর দুটি ম্যাচ শেষে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মরক্কো ও ফ্রান্স। তবে এর আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো ফুটবল পরাশক্তিদের।

পরাশক্তিদের এই বিদায় এবং দলগুলোর পারফরম্যান্স, সামর্থ্য ও প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে ফুটবল বিশ্লেষকরা প্রকাশ করেছেন নতুন ‘পাওয়ার র‍্যাংকিং’। যেখানে কেপ ভার্দের বিপক্ষে নড়বড়ে জয়ের কারণে অবনমন হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক শীর্ষ দলগুলোর পাওয়ার র‍্যাংকিং অবস্থান:

১. ফ্রান্স (অপরিবর্তিত): চলতি বিশ্বকাপে দেশমের ফ্রান্স এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অপরাজেয়। কিলিয়ান এমবাপ্পের একের পর এক গোল আর ক্ষুরধার ট্যাকটিক্সে ‘লে ব্লুরা’ যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। গ্রুপ পর্বে ১০ গোল করার পর শেষ বত্রিশের ম্যাচে তারা সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এক গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে আছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ১৯!

২. স্পেন (উন্নতি): টুর্নামেন্টের শুরুতে কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র করে হোঁচট খেলেও লামিন ইয়ামাল চোট কাটিয়ে ফিরতেই চেনা ছন্দে ফিরেছে ‘লা রোহা’। সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারানোর পর শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্পেন বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা এবার ট্রফিটা ঘরে তুলতেই এসেছে।

৩. আর্জেন্টিনা (অবনতি): বিশ্বকাপে এখনও লিওনেল মেসিই আর্জেন্টিনার মূল চালিকাশক্তি হলেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে জিততে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের নার্ভের চরম পরীক্ষা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে মেসির ২০তম বিশ্বকাপ গোলের পরও ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ১১১ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে কোনোমতে ৩-২ ব্যবধানে জিতে বিপর্যয় এড়ায় আর্জেন্টিনা। র‍্যাংকিংয়ে পঞ্চাশের বাইরে থাকা দলটির বিপক্ষে এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্সের কারণে পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে এক ধাপ পিছিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

৪. পর্তুগাল (উন্নতি): গ্রুপ পর্বটা মোটেও ভালো কাটেনি পর্তুগালের। তবে শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে রবের্তো মার্তিনেজের দল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি এবং শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার গোল ভিএআরে বাতিল হওয়ার ভাগ্যের ছোঁয়ায় র‍্যাংকিংয়ে চারে উঠে এসেছে তারা।

৫. ব্রাজিল (অপরিবর্তিত): কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে শেষ বত্রিশে জাপানের বিপক্ষে বেশ ভুগতে হয়েছে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ক্যাসেমিরোর সমতাসূচক গোল এবং ইনজুরি টাইমের ৯৫ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির নাটকীয় গোলে কোনোমতে রক্ষা পায় সেলেসাওরা। জাপানকে হারালেও ব্রাজিল এখনও তাদের চেনা ছন্দের সেরাটা দেখাতে না পারায় র‍্যাংকিংয়ে পাঁচে অপরিবর্তিত রয়েছে।

৬. ইংল্যান্ড (অবনতি): থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডের অবস্থা ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। কঙ্গোর বিপক্ষে একপর্যায়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে ৬৮ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর ত্রাণকর্তা হয়ে আসেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। শেষ ১৫ মিনিটে তার জোড়া গোলে লজ্জা এড়ায় থ্রি লায়নসরা। তবে এই ছন্নছাড়া ফুটবল নিয়ে আজতেকার উচ্চতায় মেক্সিকোর বিরুদ্ধে তারা কতটা টিকবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে পরের দলগুলোর অবস্থান যথাক্রমে মরক্কো (৭), মেক্সিকো (৮), নরওয়ে (৯), যুক্তরাষ্ট্র (১০), বেলজিয়াম (১১), কলম্বিয়া (১২), সুইজারল্যান্ড (১৩), মিসর (১৪)।

রোগ নির্ণয়ে দেশ এখনও অনেক পিছিয়ে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে রোগ নির্ণয়ব্যবস্থা এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক রোগী এখনো যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করেছে।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার প্রসার অপরিহার্য। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের কিছু হাসপাতালে এক কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ডেঙ্গু ও হাম মোকাবিলায় দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের ধৈর্য, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশীয় চিকিৎসা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রতি সরকারের সমর্থনের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিমেডিসিন কর্মসূচির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ১২-লিড ইসিজি ও ইলেকট্রনিক স্টেথোস্কোপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। সরকারের নতুন গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সঙ্গে এসব প্রযুক্তির সমন্বয় করা গেলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বাইবিট লিমিটেড এবং রিলেভেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি যৌথভাবে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলনের সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী দেশে ১৯৭৮ সাল থেকে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের অগ্রগতি তুলে ধরেন। সহসভাপতি অধ্যাপক তৌফিক হাসান বুয়েটে উদ্ভাবিত বিভিন্ন বায়োমেডিকেল প্রযুক্তি এবং এ খাতে উদ্যোক্তা উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ, ওরাল রিহাইড্রেশন কর্মসূচি, শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশ, ড্রাই আই চিকিৎসা, ডায়াবেটিক ফুট আলসার প্রতিরোধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রিক্যাল বায়ো-ইম্পিডেন্স এবং স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চিকিৎসা প্রযুক্তিতে বৈষম্য কমাতে ‘গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর ম্যানকাইন্ড’ এবং ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইকুয়ালাইজিং অ্যাক্সেস টু হেলথকেয়ার টেকনোলজি’ নামে দুটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাবও সম্মেলনে উত্থাপন করা হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ক্যানসার চিকিৎসা, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, হাসপাতালজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ, কম খরচের চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।