Home Blog Page 384

বিএনপির শোডাউনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩

নরসিংদীর পলাশে শোডাউনকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কবির জুয়েল সমর্থক ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইসমাইল হোসেন (২৬) নামের এক ছাত্রদল কর্মী গুলিবিদ্ধসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় পলাশ সদরের বিএডিসি মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ছাত্রদলের কর্মী ইসমাইল হোসেন (২৬) ঘোড়াশাল পৌর এলাকার খানেপুর মহল্লার আব্দুর রহিমের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকালে উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিট  পলাশ বাসস্ট্যান্ড এলাকা হতে শোডাউনের উদ্দেশ্যে ছাত্রদলের একটি মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি বিএডিসি মোড় এলাকায় গেলে বিপরীত দিক হতে জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কবির জুয়েল এর নেতৃত্বে তাঁর সমর্থকদের একটি শোডাউনের মুখোমুখী হয়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী ইসমাইল হোসেন ও  বিএনপি নেতা ফজলুল কবির জুয়েলসহ আরও একজন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে ছাত্রদল কর্মী ইসমাইলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বিএনপি নেতা ফজলুল কবির জুয়েলকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেন জানান, জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কবির জুয়েল রোববার নরসিংদী-২ (পলাশ) নির্বাচনী এলাকায় শোডাউন করতে আসেন।

এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষ হলে ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নাটোরের লালপুরে বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনীতে জনতার ঢল

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ঈদ পুনর্মিলনী এক মহাসমাবেশে রূপ নেয়। জনসভার মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদ গুলোতেও লোকসমাগম দেখা যায়।

রবিবার (১৫ জুন) বিকেলে লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল সহকারে যোগ দেন। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত এই পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-১ (লালপুর -বাগাতিপাড়া) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী, সাবেক মন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের কন্যা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সদস্য, মিডিয়া সেলের সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফারজানা শারমিন পুতুল। পুতুল তার বক্তব্যে বলেন, তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্ন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন  লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হারুনার রশিদ পাপ্পু।

এর আগে সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের সহধর্মিণী অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার শিরিন। তিনি বলেন, আমার পরিবারের সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমার মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুলকে দেখতে চায়। আমার দলের সকল নেতাকর্মীদের পুতুলের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটল যেমন আমৃত্যু আপনাদের সাথে থেকেছেন। আমি বিশ্বাস করি উনার মেয়েও আমৃত্যু আপনাদের সাথে থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের ছোট ভাই মিজানুর রহমান সোনা, বড় জামাতা নাজমুল ইসলাম সুমন, ছোট ছেলে ইফতেখার আরশাদ প্রতিক, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সিদ্দিক আলী মিষ্টু, হামিদুর রহমান বাবু, বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রন্জু, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুস সালাম, লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হায়দার আলী, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাষ্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ওলিউর রহমান কিরন, ডা: রফিকুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা তুহিন, উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম, কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক আশিকুর রহমান মুক্তি,  ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবু রায়হান, আশিকুর রহমান আশিক প্রমুখ।

হারুনর রশীদ পাপ্পু  তার বক্তব্যে বলেন, “আজকের এই বিশাল জমায়েত প্রমাণ করে, লালপুরের মানুষ বিএনপির পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ। যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে এই অনুষ্ঠান সফল করেছেন, তারাই বিএনপির প্রকৃত শক্তি।” বিএনপি এখন আরও ঐক্যবদ্ধ, আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও গণমানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ, যা লালপুরের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দেয় বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

চলতি বছরেই চালু হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট

চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন। রোববার রাশিয়া দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ বছর রাশিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ৮০ বছর উদযাপন করছে। একইসঙ্গে সোভিয়েত পারমাণবিক শিল্প প্রতিষ্ঠারও ৮০ বছর। এই গৌরবময় সময়ে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।’ তিনি জানান, রুশ ও বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং প্রথম ইউনিট উদ্বোধনের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু প্রযুক্তিগত নয়, রাশিয়া-বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে একটি নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’ এর সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং বর্তমানে প্রকল্পের প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলক চালুর প্রস্তুতিতে রয়েছে।

কাল সচিবালয়ে সরকারি কর্মচারীদের গণজমায়েত

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামছেন কর্মচারীরা। আগামীকাল সোমবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে গণজমায়েত করবেন তারা। এরপর তিনজন উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দেবেন।

রবিবার (১৫ জুন) বাংলাদেশে সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-মহাসচিব মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে আগামীকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ের বাদামতলায় জড়ো হবেন কর্মচারীরা। গণজমায়েতের পর স্বরাষ্ট্র, সমাজকল্যাণ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টাদের স্মারকলিপি দেওয়া হবে। তারপর ঐক্য ফোরামের নেতারা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

গণজমায়েতে অংশ নিতে ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের অর্ডিন্যান্সের অনুরূপ অমানবিক, অসাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং হাস্যকর সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অবিলম্বে বাতিলের লক্ষ্যে ঈদ-পরবর্তী গণজমায়েতে অংশ নিন।

চার ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধের জন্য বিভাগীয় মামলা ছাড়াই শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের চাকরিচ্যুত করার বিধান রেখে গত ২৫ মে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। তার আগ থেকে এই অধ্যাদেশের খসড়া বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। চাকরি অধ্যাদেশ জারির পর তারা সচিবালয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ-সমাবেশ এবং এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের পর উপদেষ্টাদের স্মারকলিপি দেন।

মার্করামের মহাকাব্যিক ইনিংসে অবশেষে ট্রফি জিতলো দক্ষিণ আফ্রিকা

এইডেন মার্করামের এক মহাকাব্যিক ইনিংসের ওপর ভর করে অবশেষে ক্রিকেটের কাঙ্ক্ষিত শিরোপার দেখা পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো আইসিসি ট্রফি জিতলো প্রোটিয়ারা।

লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ২৮২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন চাপে, তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন মার্করাম। অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে তিনি খেলেন ১৩৬ রানের এক অবিস্মরণীয় ইনিংস, যা প্রোটিয়াদের জয় নিশ্চিত করতে মূল ভূমিকা রাখে। এটি কেবল একটি সেঞ্চুরি ছিল না, এটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানোর এক ঐতিহাসিক পথনির্দেশক ইনিংস।

যদিও মার্করাম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকতে পারেননি, তবে তার ইনিংসই দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয় এবং সব বিপদ থেকে দলকে মুক্ত করে। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের বন্দরে পৌঁছায়। এই জয় শুধুমাত্র একটি ট্রফি নয়, এটি প্রোটিয়াদের জন্য দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছেন প্রথম বাংলাদেশি রুতবা

প্রথম বাংলাদেশি ও নারী হিসেবে চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছেন রুতবা ইয়াসমিন। ‘স্পেস নেশন’-এর মুন পাইওনিয়ার মিশনের প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে চাঁদে পা রাখার দৌড়ে সামনের সারিতে আছেন। গত ১৬ এপ্রিল স্পেস নেশন জানায়, তাদের মিশনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ সদস্যই নারী এবং রুতবা তাঁদের একজন।

রুতবা ঢাকার স্কলাসটিকা স্কুল থেকে ম্যাসাচুসেটসের মাউন্ট হোলিওক কলেজে যান। ২০১৪ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি এবং গণিতে মাইনর শেষ করেন। পরে কোভিডের সময় বাংলাদেশে ফিরে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডেটা সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি এবং ২০২৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামা থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

মহাকাশ আবহাওয়া নিয়ে রুতবার গবেষণা; বিশেষ করে ‘ভূচৌম্বকীয় ঝড়’ তাঁর আগ্রহকে আরও গভীর করে। রুতবার অনুপ্রেরণা ছিলেন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস। রুতবা মনে করেন, মহাকাশে নারীর অংশগ্রহণ এখনো সীমিত, তবে এটি পরিবর্তনের সময় এসেছে। তিনি বলেন, ‘মহাকাশশিল্পে মাত্র ১১ শতাংশ মহাকাশচারী নারী। এ চিত্র বদলানো জরুরি।’

‘মুন পাইওনিয়ার মিশনে’ তাঁর প্রশিক্ষণ ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। স্পেসস্যুট পরা, ইভিএ বা মহাকাশের বাইরে কাজ এবং মিশন কন্ট্রোলে যোগাযোগ রক্ষা করার কৌশল শেখা ছিল মূল বিষয়। সিমুলেশনে একটি বিপজ্জনক ত্রুটির সময়, রুতবা জরুরি ইভিএ করে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে তিনি মিশন কন্ট্রোলের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দলের সদস্যদের আইএসআরইউ (স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার) মডিউলের দিকনির্দেশনা দেন।

রুতবার মতে, এই মিশন দলগত কাজ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও চাপের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দারুণ এক পরীক্ষা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাফল্য ছিল প্রস্তুতি, সমন্বয় ও নেতৃত্বের ফল।’ তাঁর দল ‘ম্যাগ৭’ এই মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

মানসিক সুস্থতা ও শারীরিক প্রস্তুতিও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মহাকাশে সুস্থ থাকতে ভালো ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্নতার বিকল্প ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।

রুতবা ভবিষ্যতে চাঁদের ওপর গবেষণা, নমুনা সংগ্রহ এবং আর্টেমিস মিশনের মতো বড় প্রকল্পে কাজ করতে চান। তাঁর লক্ষ্য, শুধু চাঁদে পা রাখা নয়, ইতিহাস গড়ে নারীদের সামনে পথ খুলে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমি মহাকাশ অনুসন্ধানে ঐতিহাসিক অবদান রাখতে চাই’।

বিয়ে করলেই ইউরোপ-আমেরিকাসহ যেসব দেশের নাগরিকত্ব পাবেন

আধুনিক বিশ্বে সম্ভাবনার এই যুগে এমন অনেকেই রয়েছেন, যারা জন্মভূমির পাশাপাশি সেকেন্ড সিটিজেনশিপ বা দ্বিতীয় নাগরিকত্ব চান। অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টাও চালান। নাগরিকত্বের জন্য অনেকেই আবার ভিনদেশি মানুষকে বিয়ে করেন। বিশ্বের এমন কিছু দেশ রয়েছে, যেসব দেশের নাগরিককে বিয়ে করলে বৈধ উপায়ে সেই দেশের নাগরিকত্ব লাভ করা যায়। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নোম্যাড ক্যাপিটালিস্ট। এ বিষয়ে তাহলে জেনে নেয়া যাক।

কেপ ভার্ড: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্ড। দেশটির নাগরিককে বিয়ে করলে সেই দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশটির নাগরিককে বৈধভাবে বিয়ে করতে হবে। নাগরিকত্ব লাভের জন্য কেপ ভার্ডে বসবাসের কোনো পূর্বশর্ত নেই। ফলে এ দেশের নাগরিকদের বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভ সহজ ও সময় সাশ্রয়ী।

স্পেন: দক্ষিণ ইউরোপের  বৃহৎ দেশ স্পেন। দেশটির আইনে বলা আছে, কেউ স্প্যানিশ নাগরিক বিয়ে করার পর একসঙ্গে এক বছর বসবাস করলেই স্পেনের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দেশটির নাগরিকত্ব একবার পেলে পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা, পর্তুগাল, ফিলিপাইন ইত্যাদি দেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধা পাওয়া যায়। এ জন্য স্প্যানিশ নাগরিককে বিয়ের বৈধ সনদ ও একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণাদি লাগে। কখনো কখনো স্প্যানিশ ভাষায় প্রাথমিক দক্ষতা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্যক ধারণা কাজে লাগে।

কলম্বিয়া: লাতিন আমেরিকার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ কলম্বিয়া। দেশটিতে অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে। অনেকেরই বিশ্বাস, কলম্বিয়া হচ্ছে আমেরিকার লুকানো রত্ন। সাধারণত দেশটিতে নাগরিকত্বের জন্য পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেশটির নাগরিক বিয়ে করলে এই সময় মাত্র দুই বছরে এসে দাঁড়ায়। এ জন্য স্প্যানিশ ভাষায় অনুষ্ঠিত নাগরিকত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া আপনি অন্য কোনো লাতিন দেশের হলে মাত্র এক বছরে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আর্জেন্টিনা: ফুটবলপ্রেমী মানুষদের কাছে খুবই পরিচিত এক নাম আর্জেন্টিনা। দেশটির কোনো নাগরিককে বিয়ে করলে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি মিলে। বিয়ের দুই বছর পরই আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব অর্জনের আবেদন করা যায়। এ জন্য বিয়ের বৈধ কাগজপত্র এবং কোনো ধরনের অপরাধ না করার প্রমাণাদির প্রয়োজন হয়। অনেক সময় স্প্যানিশ ভাষার জ্ঞানও লাগে।

মেক্সিকো: আপনি যদি মেক্সিকান কোনো নাগরিককে বিয়ে করে তার সঙ্গে দুই বছর বসবাস করেন, তাহলে দেশটির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে উল্লেখ রয়েছে মেক্সিকোর আইনে। এ জন্য আপনার স্প্যানিশ ভাষার দক্ষতা, বিয়ের বৈধ কাগজপত্র ও একসঙ্গে থাকার প্রমাণাদি লাগবে। এখানে ভালো সুবিধা হচ্ছে, আপনি মেক্সিকোর নাগরিকত্ব পেলেও আগের দেশের পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে পারবেন।

তুরস্ক: অনেকের কাছেই তুরস্ক হচ্ছে স্বপ্নের দেশ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ঘেরা তুরস্কে বিয়ের পর তিন বছর একসঙ্গে থাকলে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। লাতিন আমেরিকা বা ইউরোপের তুলনায় তুরস্কের নাগরিকত্ব অর্জন অনেকটাই সহজ। এ দেশের নাগরিকত্বের জন্য ভাষা বা সংস্কৃতি জানার প্রয়োজন নেই। কেবল তিন বছর একসঙ্গে বসবাস করতে পারলেই দেশটির নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। নাগরিকত্ব পেলে দেশটির পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশে ভিসা ফ্রি বা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন।

সুইজারল্যান্ড: কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ খানিকটা জটিল। তবে দেশটির নাগরিককে বিয়ের মাধ্যমে বৈধভাবে নাগরিকত্ব লাভ করা যায়। আপনি যাকে বিয়ে করবেন তিনি যদি সুইস নাগরিক হয়ে থাকেন এবং আপনারা একসঙ্গে তিন বছর থাকলে, তাহলে পাঁচ বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবার দেশের বাইরে থাকলেও দাম্পত্যজীবনের ছয় বছর অতিক্রম হলে সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করলে ইউরোপে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এ জন্য সুইস সমাজে মিশে যাওয়ার প্রমাণ যেমন- সুইজারল্যান্ডের ভাষা, সংস্কৃতিক সম্পর্কে জানা-শোনা, কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজে না জড়ানোর রেকর্ড ও বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের সনদ হলেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বিজিএমইএর নতুন সভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ২০২৫-২৭ মেয়াদের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাইজিং ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান (বাবু)। শনিবার (১৪ জুন) নির্বাচনী বোর্ড বিজিএমইএ পর্ষদ ২০২৫-২৭ সেশনের জন্য কার্যনির্বাহী পদ বণ্টন সম্পন্ন করেছে। আগামী ১৬ জুন নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

গত ৩১ মে পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় এই সংগঠনটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচিত পরিচালকরা সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের জন্য ভোট দেন।

সেলিম রহমান সহ-সভাপতি (প্রথম) এবং ইনামুল হক খান সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. রেজওয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান (অর্থ), ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী।

এর আগে, বিজিএমইএ ২০২৫-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে ‘ফোরাম’ জোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। ঢাকার ২৬টি পরিচালক পদের মধ্যে তারা ২৫টিতে এবং চট্টগ্রামের ৯টি পদের মধ্যে ছয়টিতে জয়ী হয়। অর্থাৎ, নির্বাচিত ৩৫ জন পরিচালকের মধ্যে ৩১ জনই ‘ফোরাম’ জোটের, যেখানে ‘সম্মিলিত পরিষদ’ থেকে মাত্র চারজন জয় লাভ করেন।

এবারের বিজিএমইএ নির্বাচনে মোট ৭৬ জন প্রার্থী অংশ নেন। ‘ফোরাম’ ও ‘সম্মিলিত পরিষদ’ উভয় জোটই ৩৫টি পরিচালক পদের জন্য প্রার্থী দিয়েছিল। এছাড়া ‘ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে আরও ছয়জন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

লক্ষীপুর রায়পুরে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১-এর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নুর আহাম্মদ মিলন, লক্ষীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১-এর আয়োজনে ৩নং চরমোহনা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যৌথ কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মেলনটি ১৩ জুন (শুক্রবার) বিকেলে উত্তর রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় গোটা মাঠ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,

> “বর্তমান সময় হচ্ছে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার সময়। প্রজন্ম ৭১-এর তরুণ কর্মীরাই আগামী দিনের পরিবর্তনের অগ্রদূত।”

তিনি দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, প্রজন্ম ৭১-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত পরিবেশে শেষ হয়, যেখানে কর্মীরা নতুন উদ্যমে সংগঠনের কাজকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নওগাঁর বদলগাছীতে জামায়াতের ওলামা বিভাগের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী।

মোঃ ফেরদৌস হোসেন,  উপজেলা প্রতিনিধি, বদলগাছী, নওগাঁ। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওলামা বিভাগ, বদলগাছী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১২ টায় বদলগাছী উপজেলার গোবরচাপা হাট এলাকায় ইলিয়াছ মৌলানার বাড়ীর সামনে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নওগাঁ জেলা শাখার আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য খ. ম. আব্দুর বাকিব। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ নাসির উদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদলগাছী উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইয়াসিন আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বদলগাছী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এবং উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মোঃ ইলিয়াস হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা আনিছুর রহমান ও মাওলানা রেজাউল করিম।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটিতে পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে সমাজ সংস্কার, ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, ঈদের শিক্ষা আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে। সেই সঙ্গে দেশের চলমান নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন ওলামা সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ওলামা বিভাগের নেতৃবৃন্দ, সদস্যবৃন্দ ও কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঈদের আনন্দঘন পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়।