Home Blog Page 386

ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৪, নিখোঁজ ৫০

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উত্তরকাশী জেলার ধারালি গ্রামে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ৫০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রবল বর্ষণের ফলে খির গঙ্গা নদীর উজানে এই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উত্তরকাশীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত আর্য চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, আকস্মিক বন্যার এক বিশাল ঢেউ এলাকাটি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমানে জীবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেট থেকে ছেড়ে আসা বিশেষ ট্রেনে ছিল ৬০ যাত্রী

জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বিশেষ ট্রেনে যাত্রী ছিলেন ৫০ থেকে ৬০ জন। এ ছাড়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যও ট্রেনে ছিলেন।

মঙ্গলবার (৫ অগস্ট) সকাল পৌনে ৬টার দিকে ৫৪৮ আসনের ট্রেনটি সিলেট স্টেশন ছেড়ে যায়। পরে দুপুর ১টার দিকে ট্রেনটি ঢাকা পৌঁছে।

সিলেট রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিলেট স্টেশন ছাড়ার সময় ট্রেনটির বিভিন্ন বগিতে ৫০ থেকে ৬০ যাত্রী ছিলেন। এর বাইরে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন। সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর ট্রেনটির মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ তিনটি স্টেশনে যাত্রী উঠানোর কথা। ওই ট্রেনটি যাত্রীদের নিয়ে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছেছে। পরে রাত ৯টার দিকে আবার বিশেষ ট্রেনটি কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে রাত সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জুলাই ঘোষণাপত্রে কী আছে, জেনে নিন বিস্তারিত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘৩৬ জুলাই উদযাপন’ অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেছেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পাঠ করা এই ঘোষণাপত্রে ২৮টি দফার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। পাঠকের জন্য ঘোষণাপত্রের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

জুলাই ঘোষণাপত্র

১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল।

২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে।

৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জন আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছিল।

৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়।

৫। যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

৬। যেহেতু দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১ / ১১-এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়।

৭। যেহেতু গত দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

৮। যেহেতু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে।

৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে।

১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোলো বছর যাবৎ নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাঁবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে।

১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এ দেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে।

১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারি চাকরিতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকরি প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়।

১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়।

১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে।

১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণি, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসংগত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।

২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়।

২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোলো বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

২৬। সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।

২৭। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

২৮। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।

সিরাজের বীরত্বে ওভালে নাটকীয় জয় ভারতের, সিরিজে সমতা

এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ওভাল টেস্টে ৬ রানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ভারত, যার ফলে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-২ সমতায় শেষ হয়েছে। নতুন অধিনায়ক শুভমন গিলের ভারত যখন সিরিজ হারের দ্বারপ্রান্তে, তখন ত্রাতা হয়ে এলেন পেসার মোহাম্মদ সিরাজ। তার জাদুকরী বোলিংয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় এবং ইংল্যান্ডের হাত থেকে জয় কেড়ে নেয় টিম ইন্ডিয়া।

চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ডের জয় প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। তাদের দরকার ছিল মাত্র ৩৫ রান, হাতে ছিল ৪ উইকেট এবং ক্রিজে ছিলেন ইন ফর্ম ব্যাটার জেমি স্মিথ। কিন্তু পঞ্চম দিনের শুরু থেকেই সিরাজের আগ্রাসী বোলিংয়ের সামনে ভেঙে পড়ে ইংলিশদের প্রতিরোধ। দ্বিতীয় ইনিংসে একাই ৫টি উইকেট শিকার করে তিনি ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।

এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ভারতের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরাও। ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত ১১৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। এছাড়া নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নেমে আকাশ দীপের ৬৬ রান এবং রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দরের কার্যকরী ব্যাটিং ভারতকে ৩৭৪ রানের লক্ষ্য দিতে সাহায্য করে।

তবে ইংল্যান্ডও সহজে হাল ছাড়েনি। জো রুট এবং হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরিতে একসময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটি তাদের দখলেই চলে যাবে। কিন্তু শেষ বেলায় সিরাজের এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার গুরুত্বপূর্ণ উইকেটগুলো ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। শেষ পর্যন্ত সিরাজ তার বোলিং জাদুতে ইংল্যান্ডের শেষ উইকেটটি তুলে নিয়ে ভারতকে এক স্মরণীয় জয় এনে দেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ভারত আবারও প্রমাণ করলো, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হার না মানার মানসিকতা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

প্রায় দুই বছর পর জোড়া গোল করে দলকে জেতালেন নেইমার

ইনজুরি আর অফফর্মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত হওয়া নেইমার অবশেষে স্বরূপে ফিরলেন। প্রায় দুই বছর পর এক ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি শুধু নিজের পারফরম্যান্সের ধারই ফেরাননি, বরং তাঁর ক্লাব সান্তোসকেও এনে দিয়েছেন এক দুর্দান্ত জয়।

দীর্ঘদিন ধরে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার ফলে নেইমারের খেলায় অনেকটাই ছন্দপতন ঘটেছিল। এর ফলস্বরূপ, সমর্থকদের কাছ থেকে তাঁকে শুনতে হয়েছে দুয়ো, যা নিয়ে বেশ আলোচনাও হয়েছিল। তবে সব হতাশা আর সমালোচনাকে পেছনে ফেলে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার যেন নতুন করে নিজেকে খুঁজে পেলেন। ২০২২ সালের পর এই প্রথম তিনি টানা পাঁচটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেলেন।

সোমবার রাতের (৪ আগস্ট) ব্রাজিলিয়ান সিরিআর-এর ম্যাচে জুভেন্টুদের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে সান্তোস। এই জয়ের মূল কারিগর ছিলেন নেইমার। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তিনি সান্তোসকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধেই আলভারো ব্যারেলের গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

তবে দ্বিতীয়য়ার্ধে জুভেন্টুড চাপ বাড়ালে খেলা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু ম্যাচের ৮০তম মিনিটে একটি পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে নেইমার দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলটির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর এক ম্যাচে জোড়া গোল করার স্বাদ পেলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২২ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বলিভিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তিনি দুটি গোল করেছিলেন।

এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর নেইমারের ভক্তরা আশা করছেন, তাঁদের প্রিয় তারকা আবারও তাঁর পুরোনো ছন্দে ফিরবেন এবং ফুটবল মাঠের জাদুকর হিসেবে পরিচিতি ফিরে পাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে শাকিব-বুবলীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত, নীরব অপু বিশ্বাসের নতুন পথ

ঢালিউডের শীর্ষ তারকা শাকিব খান এবং চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর যুক্তরাষ্ট্রে একান্ত সময় কাটানোর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাদের সন্তান শেহজাদ খান বীরের সঙ্গে নিউইয়র্কের রুজভেল্ট আইল্যান্ডে হাসিখুশি মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করেছেন বুবলী, যা নেটিজেনদের মাঝে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ছবিতে শাকিব ও বুবলীকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গেছে, যা তাদের বিচ্ছেদের পর এমন দৃশ্যে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, শাকিবের প্রাক্তন স্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস এই ঘটনায় নীরব রয়েছেন। গত ৩ আগস্ট, রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার বনানীর একটি রেস্তোরাঁয় লেখক সিফাত নুসরাতের বই ‘অগ্নিকন্যা’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অপু। সেখানে শাকিব-বুবলীর যুক্তরাষ্ট্রে সময় কাটানোর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার ১৫ জুনের ফেসবুক পোস্টের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি সেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেই। আমি শুধু নিজের কাজ, নিজের ছেলে, নিজের ভক্তদের সময় দিতে চাই।”

অপুর এই পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, তিনি আর কোনো ভার্চ্যুয়াল লড়াইয়ে অংশ নিতে চান না। তিনি লিখেছিলেন, “আমার কোনো সাধারণ পারিবারিক পোস্টের পরেই যেন কিছু ‘কাউন্টার প্রচেষ্টা’ শুরু হয়। সম্মান নিজে অর্জন করতে হয়, অন্যকে ছোট করে নয়।” এই পোস্টের পরও ভক্তদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ অপুকে সমর্থন করে বলেছেন, তিনি সঠিক সময়ে বুদ্ধিদীপ্ত পথ বেছে নিয়েছেন। তাবাসসুম আক্তার নামে একজন ভক্ত লিখেছেন, “এই সুযোগে আপনি আপনার বিজনেস প্রচারটা করে নিলেন, এই প্রথম আপনাকে বুদ্ধিমানের মতো কাজ করতে দেখলাম।”

তবে, অপুর নীরবতা সবাই মেনে নেননি। সোনিয়া নামে একজন ভক্ত মন্তব্য করেছেন, “এ রকম বাবা থাকার চাইতে সন্তানের বাবা না থাকাই ভালো। আপনি সম্মান নিয়ে বাঁচুন, এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন।” জান্নাত নামে আরেকজন লিখেছেন, “বুবলী ছড়াচ্ছে, সে নাকি শাকিবের সঙ্গে আমেরিকা যাচ্ছে। কতটা সত্য, আপনার জায়গা থেকে ক্লিয়ার করেন।”

অপু বিশ্বাস সাক্ষাৎকারে বুবলীকে একজন প্রফেশনাল আর্টিস্ট হিসেবে সম্মান প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত সম্পর্কের বাইরেও আমাদের পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। আমরা সবাই প্রফেশনাল আর্টিস্ট, তাই সে হিসেবে আমি সবাইকেই সম্মান করি।” তিনি আরও জানান, তার জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা হবে তার ছেলে আব্রাম খান জয়কে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

এদিকে, শাকিব ও বুবলীর সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা থামছে না। ২০২২ সালে তাদের পুত্রসন্তান শেহজাদ খান বীরের কথা প্রকাশ্যে আনার পর থেকে তাদের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও শাকিব এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অপু ও বুবলী উভয়েই তার জীবনে অতীত, তবে তিনি তার দুই সন্তানের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

অপু বিশ্বাসের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে দেখা যায়, তিনি নিজের ব্যবসা ও ক্যারিয়ারে মনোযোগী। সোমবার তিনি তার ফেসবুকে ‘সিগনেচার বাই এবি জেন্ট সেলুন’-এর একটি প্রচারণামূলক লিংক শেয়ার করেছেন, যা তার ব্যবসায়িক উদ্যোগের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পোস্টে তিনি শাকিব-বুবলীর প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন, যা ভক্তদের একাংশের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ঢালিউডের এই ত্রয়ীকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। তবে অপুর নীরবতা ও নিজের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা একটি নতুন বার্তা দিচ্ছে—তিনি আর অতীতের বিতর্কে জড়াতে চান না, বরং নিজের কাজ ও সন্তানকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান।

‘সেই মুহূর্তটাই আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি’

গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এই আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। কখনো সামাজিক মাধ্যমে, আবার কখনো শিল্পী সমাজের ব্যানারে তিনি রাজপথে আন্দোলনকারীদের পাশে ছিলেন।

এই ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বাঁধন আগস্টের শুরু থেকেই তার সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি এই দিনটি চিরকাল মনে রাখব। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর সকাল—ভয় আর আশায় ভরা, কিন্তু সাহস আর অটল দৃঢ়তায় পূর্ণ ছিল। কী এক মুহূর্ত ছিল! কী এক অভিজ্ঞতা! এই দিনটা চিরদিনের জন্য আমার স্মৃতিতে খোদাই হয়ে গেছে।”

কয়েক ঘণ্টা পর আরেকটি পোস্টে তিনি সেই দিন দুপুরে ঘটা ঘটনাগুলোকে তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেন।

বাঁধন বলেন, “যখন খবর ছড়িয়ে পড়ে, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন—জনতার গর্জনে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, তখন যে উল্লাস, যে বিস্ফোরণ জনতার মাঝে দেখা গিয়েছিল, তা আমি জীবনে কখনো দেখিনি। এটা বুঝতে হলে আপনাকে সেখানে থাকতে হতো।”

তিনি আরও বলেন, “পুরো জাতি একসঙ্গে জেগে উঠেছিল। কেউ কেঁদেছে, কেউ হেসেছে, কেউ নেচেছে, কেউ স্লোগান দিচ্ছিল। বাতাসে ছিল স্বাধীনতার বিদ্যুৎ। সেই মুহূর্তটাই আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি। আমি বাংলাদেশের মানুষদের নিয়ে গর্বিত। কী এক বিজয়! কী এক অসাধারণ সাফল্য!”

উল্লেখ্য, আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে নানা সময়ে রাজপথ ও অনলাইন মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। সেই স্মৃতিই এখন তার মনে গর্বের অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।

পলাতক ফ্যাসিস্টদের এখনও অনুশোচনা নেই: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন যে গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও “পলাতক ফ্যাসিস্টদের” এখনও কোনো অনুশোচনা নেই। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, গত বছরের জুলাই মাসটি ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন রূপ নেয় এক গণঅভ্যুত্থানে, যার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হয়।

তিনি বলেন, “ভোটাধিকার হরণ, গুম, খুন, দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক লুটপাট, কণ্ঠরোধ আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি মানুষের মনে যে ক্ষতের জন্ম দিয়েছে, তারই প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় এই গণবিস্ফোরণ।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই দিনে ইতিহাস সৃষ্টি হয়—যেখানে ফ্যাসিস্ট সরকার, সংসদ, আদালত, মন্ত্রিসভা ও ধর্মীয় নেতৃত্ব কেউ-ই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। সবাই পালিয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, তাদের মনে আজও অনুশোচনা নেই।

রিজভী জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে সবাইকে সংযত থাকতে এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি নারীর প্রতি সহিংস আচরণ না করা এবং অন্যের স্বাধীনতাকে সম্মান জানানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

রিজভী বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে সব মত ও পথের মানুষ নিরাপদে থাকবে। তিনি ৫ আগস্টকে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবিকতার শপথের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। এই যাত্রায় বিএনপি দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষের সমর্থন কামনা করছে বলেও তিনি জানান।

৫ আগস্ট হয়ে উঠুক ‘মানবিক মানুষ’ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, আজকের এবং আগামী দিনের প্রতিটি ৫ আগস্ট হোক গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ‘মানবিক মানুষ’ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে তিনি এই বার্তা দেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি এবং ভবিষ্যতের আহ্বান: তারেক রহমান বলেন, গত বছর ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি বিজয়ী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নেন এবং ‘মব ভায়োলেন্স’ বা জনরোষকে উৎসাহিত না করেন। তিনি সবাইকে নারীর প্রতি সহিংসতা থেকে দূরে থাকতে এবং অন্যের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে বলেন।

তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গত দেড় দশকে দেশে গুম, খুন, অপহরণ, এবং নির্যাতনের এক বিভীষিকাময় শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ‘আয়নাঘরের’ মতো গোপন বন্দিখানা তৈরি করে মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং অনেককে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের নিখোঁজ হওয়ার কথা তুলে ধরেন।

অর্থনীতি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার: তারেক রহমান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সালে ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদদের মতো ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ ভুলবে না।

তিনি মনে করেন, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম উদ্যোগ হলো জনগণের সরাসরি ভোটে একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই লক্ষ্যে কাজ করছে। তার মতে, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে না।

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ: তারেক রহমান দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আর কখনোই ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে না। তিনি বলেন, বিভিন্ন দলের মধ্যে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, তবে সেই ভিন্নমত যেন ফ্যাসিবাদ বা উগ্রবাদের উত্থানের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উচিত তাদের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের আদালতে যাওয়া এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে জনগণ নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারলেই রাষ্ট্র ও সরকারের ওপর জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

ব্রাজিলের ট্রাম্পকে গৃহবন্দির নির্দেশ, নিন্দা জানালো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘ব্রাজিলের ট্রাম্প’ নামে পরিচিত দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনেরোকে গৃহবন্দি করার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দার ডি মোরেস এই রায় ঘোষণা করেন। এদিকে, ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।

ব্রাজিলের কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদ ও লিবারেল পার্টির শীর্ষ নেতা জাইর বলসোনেরো ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, ২০২২ সালের নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দিতে তিনি সেনা অভ্যুত্থান ঘটানোর চক্রান্ত করেছিলেন। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বী লুলা দা সিলভাকে গুপ্তহত্যার পরিকল্পনার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বলসোনেরোকে এই শর্তে জামিন দিয়েছিলেন যে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বক্তব্য বা ভিডিও পোস্ট করতে পারবেন না এবং তার পাসপোর্টও জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি বলসোনেরো সেই শর্ত ভঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওবার্তা পোস্ট করেন। মূলত এ কারণেই সোমবার তার জামিন বাতিল করে গৃহবন্দিত্বের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি আলেক্সান্দার ডি মোরেস।

বলসোনেরোকে গৃহবন্দিত্বের আদেশ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে এই রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিচারপতি ডি মোরেসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।