Home Blog Page 39

রাজনৈতিক দল হিসেবে আ.লীগের বিচার শুরু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশে আর কোনো দিন রাজনীতি করতে পারবে না। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, তাদের দাফন হয়েছে দিল্লিতে। তারা আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু হবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আওয়ামী লীগকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেছি আমরা, আপনারাও করেছেন। তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৪৭ আর্টিকেল অনুসারে আইন সংশোধন করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আছে, আইসিটি অ্যাক্টে আছে রাজনৈতিক দলের সংগঠনের বিচার করা যাবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যেন আমরা কেউ ব্যবসা না করি। যারা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সংগঠন করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য চেতনা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি কিন্তু ভবিষ্যতে দেখা যাবে।’

জুলাই গণহত্যার বিচারের সর্বশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে ছয়টি গণহত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় হয়েছে। বিচারাধীন মামলা আছে ২৭টি, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে ৭২টি। শহীদ আবু সাঈদের মামলায় প্রথম দুজনের ফাঁসি হয়েছে, ভাইস চ্যান্সেলরসহ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়েছে। প্রথম মামলার রায় হয়েছে গণহত্যার।’

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। তৎকালীন আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হওয়ার কারণে তাঁর সাজা কম হয়েছে, তবে সাজা হয়েছে। আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসি হয়েছে। সেখানে স্বৈরাচারের দোসর সাবেক এমপি আছে, ওসি আছে; ডিআইজিসহ অন্যান্যদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘চানখাঁরপুলে হত্যা মামলায় ফাঁসির আদেশ হয়েছে তৎকালীন স্বৈরাচারের দোসর পুলিশ কমিশনার হাবিব এবং জয়েন্ট কমিশনার সুদীপ্তর। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। রামপুরা টিভি সেন্টারের ওখানে একটা ছেলে লুকিয়েছিল, তাকে গুলি করা হয়েছিল। আমি শুনলাম, সেই ছেলেটি কোন রকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে। চিকিৎসার মাধ্যমে আল্লাহ তার জীবন বাড়িয়ে দিক, হায়াত বাড়িয়ে দিক। সেই ঘটনায় শিশুসহ আরও দুয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে, সেই মামলায় রায় হয়েছে। ফাঁসির আদেশ হয়েছে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হাবিব, ওসির এবং অন্যান্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সর্বশেষ হাসানুল হক ইনু নামের একজন স্বৈরাচারের দোসর আছে তাঁর বিচারের রায় বেরিয়েছে। তাঁকে কেবল ১০ বছরের সাজা দেওয়াতে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট নয়, সে জন্য সেটা আপিল করা হবে মর্মে শুনেছি। তাঁর অন্তত যাতে সর্বোচ্চ সাজা হয়, সে রকম বিচার আরও আছে, সে মামলাগুলোতে আশা করা যায়।’

তদন্ত অব্যাহত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যাসহ বিভিন্ন নৃশংস অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তদন্ত শুরু হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষ হলেই প্রসিকিউশন বিভাগে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। ইতিমধ্যে তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে।

এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে গতকাল রাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সমকালকে জানিয়েছেন, এখনই কিছু বললেন না। তদন্তের বিষয়টি জেনে পরে তিনি জানাবেন।

আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম)সহ আরও কয়েকটি দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে আওয়ামী লীগকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধের জন্য পৃথকভাবে লিখিত আবেদন করে, যা তদন্ত সংস্থায় তদন্তাধীন।

২০২৪ সালের ২ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ (বর্তমানে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী) জুলাই গণহত্যার সরাসরি হুকুমদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের শরিক দলগুলোর নামে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলনে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো গণহত্যা চালাতে সরাসরি হুকুম দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ওই অভিযোগে আরও বলা হয়, সরাসরি হুকুমদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের শরিক রাজনৈতিক দল– সাম্যবাদী দল, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, জাসদ (ইনু), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, তরিকত ফেডারেশন, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), গণআজাদী লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, বাসদ ও জাতীয় পার্টি-জেপির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তদন্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য আইনগত প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সেদিন অভিযোগ গ্রহণ করে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শরিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে।

এরপর গত বছরের ৭ অক্টোবর তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার চেয়ে অন্য একটি দলের করা অভিযোগের তদন্ত করতে এরই মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং তিনি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘এনডিএম নামে একটি দল অভিযোগ দিয়েছে। আমরা সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছি। সুতরাং বলা যেতে পারে, এ মুহূর্তে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপরাধী সংগঠন হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।’

এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহত ও শহীদ পরিবারের বেশ কিছু সদস্য আওয়ামী লীগ এবং এর দোসরদের বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে বেশ কয়েক দফা মানববন্ধন করেন।

এদিকে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। কেননা তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দলগতভাবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

এরপর ওই বছরের ৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ যে ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, আমরা মনে করি দল হিসেবে তাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। দেড় সহস্রাধিক মৃত্যু ও প্রায় ৩০ হাজার মানুষের আহত হওয়ার পর কোনোভাবেই দায়ী দলকে আবার পুনর্বাসন করতে দেবে না জনগণ।’

আইসিটি আইনে যা বলা আছে
২০২৫ সালের ১০ মে রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে ১৯৯৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার।

রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (দ্বিতীয় সংশোধনী) সংশোধিত গেজেটে বলা হয়েছে, কোনো সংগঠন, অর্থাৎ কোনো রাজনৈতিক দল অথবা সেই দলের অধীন, সংশ্লিষ্ট বা সহযোগী কোনো সত্তা অথবা এমন কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে বোঝায়, যা ট্রাইব্যুনালের অভিমত অনুযায়ী, ওই দল বা সত্তার কার্যকলাপ প্রচার, সমর্থন, অনুমোদন, সহায়তা বা সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জড়িত থাকে।

সংগঠনের জন্য শাস্তির ক্ষেত্রে বলা হয়, এ আইনে বা তৎকালীন প্রযোজ্য অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক, যদি ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রতীয়মান হয়, কোনো সংগঠন এই আইনের ৩ ধারার উপধারা (২) অনুযায়ী উল্লিখিত অপরাধগুলো করেছে, নির্দেশ দিয়েছে, চেষ্টা করেছে, সহায়তা করেছে, প্ররোচিত করেছে, উস্কানি দিয়েছে, ষড়যন্ত্র করেছে, সহজতর করেছে বা সহযোগিতা করেছে, তাহলে ট্রাইব্যুনাল সেই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করার, সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার, তার নিবন্ধন বা লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার এবং তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা রাখবে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

বিশ্বকাপ পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে ধাক্কা আর্জেন্টিনার, কোথায় ব্রাজিল-পর্তুগাল?

বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে এক রোমাঞ্চকর যুদ্ধক্ষেত্রে। টুর্নামেন্টের সমীকরণ এখন আরও কঠিন। ইতোমধ্যেই শেষ ষোলোর দুটি ম্যাচ শেষে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মরক্কো ও ফ্রান্স। তবে এর আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো ফুটবল পরাশক্তিদের।

পরাশক্তিদের এই বিদায় এবং দলগুলোর পারফরম্যান্স, সামর্থ্য ও প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে ফুটবল বিশ্লেষকরা প্রকাশ করেছেন নতুন ‘পাওয়ার র‍্যাংকিং’। যেখানে কেপ ভার্দের বিপক্ষে নড়বড়ে জয়ের কারণে অবনমন হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক শীর্ষ দলগুলোর পাওয়ার র‍্যাংকিং অবস্থান:

১. ফ্রান্স (অপরিবর্তিত): চলতি বিশ্বকাপে দেশমের ফ্রান্স এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অপরাজেয়। কিলিয়ান এমবাপ্পের একের পর এক গোল আর ক্ষুরধার ট্যাকটিক্সে ‘লে ব্লুরা’ যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। গ্রুপ পর্বে ১০ গোল করার পর শেষ বত্রিশের ম্যাচে তারা সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এক গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে আছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ১৯!

২. স্পেন (উন্নতি): টুর্নামেন্টের শুরুতে কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র করে হোঁচট খেলেও লামিন ইয়ামাল চোট কাটিয়ে ফিরতেই চেনা ছন্দে ফিরেছে ‘লা রোহা’। সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারানোর পর শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্পেন বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা এবার ট্রফিটা ঘরে তুলতেই এসেছে।

৩. আর্জেন্টিনা (অবনতি): বিশ্বকাপে এখনও লিওনেল মেসিই আর্জেন্টিনার মূল চালিকাশক্তি হলেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে জিততে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের নার্ভের চরম পরীক্ষা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে মেসির ২০তম বিশ্বকাপ গোলের পরও ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ১১১ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে কোনোমতে ৩-২ ব্যবধানে জিতে বিপর্যয় এড়ায় আর্জেন্টিনা। র‍্যাংকিংয়ে পঞ্চাশের বাইরে থাকা দলটির বিপক্ষে এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্সের কারণে পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে এক ধাপ পিছিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

৪. পর্তুগাল (উন্নতি): গ্রুপ পর্বটা মোটেও ভালো কাটেনি পর্তুগালের। তবে শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে রবের্তো মার্তিনেজের দল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি এবং শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার গোল ভিএআরে বাতিল হওয়ার ভাগ্যের ছোঁয়ায় র‍্যাংকিংয়ে চারে উঠে এসেছে তারা।

৫. ব্রাজিল (অপরিবর্তিত): কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে শেষ বত্রিশে জাপানের বিপক্ষে বেশ ভুগতে হয়েছে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ক্যাসেমিরোর সমতাসূচক গোল এবং ইনজুরি টাইমের ৯৫ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির নাটকীয় গোলে কোনোমতে রক্ষা পায় সেলেসাওরা। জাপানকে হারালেও ব্রাজিল এখনও তাদের চেনা ছন্দের সেরাটা দেখাতে না পারায় র‍্যাংকিংয়ে পাঁচে অপরিবর্তিত রয়েছে।

৬. ইংল্যান্ড (অবনতি): থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডের অবস্থা ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। কঙ্গোর বিপক্ষে একপর্যায়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে ৬৮ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর ত্রাণকর্তা হয়ে আসেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। শেষ ১৫ মিনিটে তার জোড়া গোলে লজ্জা এড়ায় থ্রি লায়নসরা। তবে এই ছন্নছাড়া ফুটবল নিয়ে আজতেকার উচ্চতায় মেক্সিকোর বিরুদ্ধে তারা কতটা টিকবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে পরের দলগুলোর অবস্থান যথাক্রমে মরক্কো (৭), মেক্সিকো (৮), নরওয়ে (৯), যুক্তরাষ্ট্র (১০), বেলজিয়াম (১১), কলম্বিয়া (১২), সুইজারল্যান্ড (১৩), মিসর (১৪)।

রোগ নির্ণয়ে দেশ এখনও অনেক পিছিয়ে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে রোগ নির্ণয়ব্যবস্থা এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক রোগী এখনো যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করেছে।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার প্রসার অপরিহার্য। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের কিছু হাসপাতালে এক কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ডেঙ্গু ও হাম মোকাবিলায় দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের ধৈর্য, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশীয় চিকিৎসা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রতি সরকারের সমর্থনের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিমেডিসিন কর্মসূচির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ১২-লিড ইসিজি ও ইলেকট্রনিক স্টেথোস্কোপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। সরকারের নতুন গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সঙ্গে এসব প্রযুক্তির সমন্বয় করা গেলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বাইবিট লিমিটেড এবং রিলেভেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি যৌথভাবে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলনের সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী দেশে ১৯৭৮ সাল থেকে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের অগ্রগতি তুলে ধরেন। সহসভাপতি অধ্যাপক তৌফিক হাসান বুয়েটে উদ্ভাবিত বিভিন্ন বায়োমেডিকেল প্রযুক্তি এবং এ খাতে উদ্যোক্তা উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ, ওরাল রিহাইড্রেশন কর্মসূচি, শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশ, ড্রাই আই চিকিৎসা, ডায়াবেটিক ফুট আলসার প্রতিরোধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রিক্যাল বায়ো-ইম্পিডেন্স এবং স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য চিকিৎসা প্রযুক্তিতে বৈষম্য কমাতে ‘গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর ম্যানকাইন্ড’ এবং ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইকুয়ালাইজিং অ্যাক্সেস টু হেলথকেয়ার টেকনোলজি’ নামে দুটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাবও সম্মেলনে উত্থাপন করা হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ক্যানসার চিকিৎসা, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, হাসপাতালজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ, কম খরচের চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

ব্যয়সাশ্রয়ী নীতি থেকে সরে আসছে সরকার

গত জুন পর্যন্ত মেয়াদে জারি করা ব্যয়সাশ্রয়ী নীতির মেয়াদ বাড়ায়নি সরকার। সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর, নতুন গাড়ি কেনা, আমলাদের জন্য সুদমুক্ত গাড়ি ঋণসহ বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটার ওপর থাকা বিধিনিষেধ উঠে যেতে পারে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গত অর্থবছরের শুরুতেই প্রজ্ঞাপন জারি করে বিভিন্ন খাতে সরকারি ব্যয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এবার এ ধরনের নতুন বিধিনিষেধ জারির সম্ভাবনা কম। জারি হলেও আগের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, গত ৫ এপ্রিল জারি করা সংশোধিত প্রজ্ঞাপন ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত কার্যকর ছিল, যার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হয়েছে। ব্যয় সংযম ব্যবস্থা পুনরায় জারি করার বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের
কাছ থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স একটি বড় ক্রয়চুক্তিকেও ব্যয় সংযম নীতির সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত বছরের ৮ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপনে সরকারি খরচে বিদেশে কর্মশালা ও সেমিনারে অংশগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে গাড়ি, জাহাজ ও উড়োজাহাজ কেনা বন্ধ রাখা হয়। পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় এবং সব ধরনের থোক বরাদ্দ থেকেও অর্থ ছাড় স্থগিত রাখা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় এবং পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে গত ৫ এপ্রিল অর্থ বিভাগ ব্যয় সাশ্রয়ী নীতির সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ নীতির আওতায় বিদেশ সফর, সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ এবং যানবাহন, জলযান, উড়োজাহাজ ও জমি কেনার ব্যয়ের ওপর বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়। একই সঙ্গে সংশোধিত ব্যয়সংযম ব্যবস্থার আওতায় বিদ্যুৎ ও পেট্রোলিয়াম জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানো হয়। কম্পিউটার ও কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থ ছাড়ও স্থগিত করা হয়।

২০২০ সালে শুরু হওয়া বৈশ্বিক মহামারি করোনা, ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতাসহ দেশে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও ব্যাংকে অর্থ বেহাত হওয়ার মতো ঘটনায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হয়। এ কারণে কয়েক বছর ব্যয় সাশ্রয়ী নানা পদক্ষেপ নেয় সরকার।

অর্থ বিভাগের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েই ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে। প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে সরকারি ব্যয়ও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

তারা আরও বলেন, সাশ্রয়ী ব্যয়ের নীতি অনুসরণ করা হলেও পরিচালন বাজেটের আওতায় ব্যয় খুব বেশি কমানোর সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নের গতিও ধীর। এ পরিস্থিতিতে সরকার আপাতত আগের মতো সরকারি ব্যয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপে আগ্রহী নয়। বিষয়টি নিয়ে চলতি সপ্তাহে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। ওই বৈঠক থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চড়া মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে খরা, সরকারি ব্যয়ে ধীরগতি, বিদেশি ঋণে দুরবস্থা আর রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপের মধ্যে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে; যা সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাক্কলিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে ২ দশমিক ৩৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা ইতিবাচক। এদিকে সরকার ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চায়।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় বাড়ানোর সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যয় সাশ্রয়ী ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তাদের মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায়ে সম্ভাব্য ঘাটতি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে চাপে ফেলতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে সৃষ্ট বহিরাগত ধাক্কার ঝুঁকিও এখনও কাটেনি।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি সমকালকে বলেন, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় বাড়ানোর সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বেসরকারি খাতের কর্মকাণ্ডে গতি আনতে হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক চাপ বিবেচনায় এখনই ব্যয় সাশ্রয়ী নীতি থেকে সরে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং এ নীতিকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ব্যয় যথাযথভাবে বাড়ানো গেলে তা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বা এর প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সামনে রেখে অযৌক্তিকভাবে ব্যয় বাড়ানো হলে সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই মুদ্রানীতির সঙ্গে রাজস্বনীতির কার্যকর সমন্বয় না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে। তাই সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয়, অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে কিনা, তা কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এয়ার-ফ্লো মেশিন ভুল পরিকল্পনা, পেঁয়াজ চাষির বিপদ পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই প্রযুক্তি বিতরণ

পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার গত দেড় বছরে পেঁয়াজ সংরক্ষণে নতুন প্রযুক্তি হিসেবে ‘এয়ার-ফ্লো মেশিন’ ব্যবহার শুরু করে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করায় সংরক্ষিত পেঁয়াজ দ্রুত পচে যাচ্ছে। অনেক মেশিন নষ্ট হয়ে পড়েছে। আবার কোথাও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মেশিন চালানোই যাচ্ছে না। এতে কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগের সুফল পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

তাদের অভিযোগ, এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণের আগে দেশের দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অপরিকল্পিত প্রকল্প এবং ভুল নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতির বোঝা বহন করতে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকায় ৮ হাজার আধুনিক এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে আরও ৩ হাজার ৭০০টি মেশিন বিতরণ করা হয়। দুটি কর্মসূচিতেই একটি করে মেশিন ও সংরক্ষণ অবকাঠামো তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২৭ হাজার টাকা এবং কৃষকদের দিতে হয়েছে ১৩ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ১১ হাজার ৭০০টি মেশিন বিতরণে সরকারি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। কৃষকদের অংশ যোগ করলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৪৭ কোটি টাকা।

এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণের আগে প্রশিক্ষণে কৃষকদের জানানো হয়েছিল, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ৯ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রতিটি মেশিন ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলেও দাবি করা হয়। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করায় সংরক্ষিত পেঁয়াজ দ্রুত পচে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলে দিনে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে পেঁয়াজে পচন ধরছে।

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বেশ জোরেশোরে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, ঘর নির্মাণ করা হয় এবং ভর্তুকিতে মেশিন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সংরক্ষিত পেঁয়াজে পচন ধরতে শুরু করে।

মুজিবনগরের ভবেরপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আউয়াল পাঁচ বিঘা জমির পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য একটি মেশিন নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ভালো দামে বিক্রির আশায় পেঁয়াজ রেখেছিলাম। এখন প্রতিদিন পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে।

রামনগর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রশিক্ষণে শেখানো নিয়ম মেনেও তাঁর কয়েকশ মণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। কৃষি অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর সমাধান পাননি।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, নতুন প্রযুক্তি হওয়ায় এর কার্যকারিতা অনেকটাই ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। বিদ্যুৎ সমস্যা, তাপমাত্রা ও রোগাক্রান্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণের কারণেও পচন হতে পারে।

ফরিদপুরে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। চলতি অর্থবছরে জেলায় ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৩৫ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষিদের ১ হাজার ৪৩০টি এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। চলতি বছর আরও ৭০০টি মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু সংরক্ষণে দেখা দিয়েছে বড় সংকট।

জেলার সালথা উপজেলার কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, সরকারি এয়ার-ফ্লো মেশিন ব্যবহারের পর পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না হওয়ায় প্রতিদিন সংরক্ষণ করা পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যায়।

কৃষকদের অভিযোগ, রাত-দিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। এই বিদ্যুৎ দিয়ে কোনোভাবেই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব নয়।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, এয়ার-ফ্লো মেশিন কার্যকর রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ জরুরি। বিদ্যুৎ না থাকলে মেশিনের কার্যকারিতা বজায় রাখা সম্ভব নয়।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষকের হাতে প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার আগে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। দেশের গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং চলাকালে বিদ্যুৎনির্ভর সংরক্ষণ প্রযুক্তি বিতরণ করা ছিল বড় ধরনের পরিকল্পনাগত দুর্বলতা। প্রতিটি মেশিনের সঙ্গে যদি সোলার প্যানেল সংযুক্ত করা হতো, তাহলে বিদ্যুৎ না থাকলেও বাতাস চলাচল অব্যাহত থাকত এবং পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যেত।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব রায়হান কাওছার বলেন, মেশিনগুলোর সঙ্গে সোলার ব্যবস্থা যুক্ত করা প্রয়োজন ছিল। প্রকল্পটি সংশোধন করে সোলার সংযুক্ত করার সুযোগ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র ঝুঁকি নিয়ে চালু হচ্ছে রূপপুর, কয়েকটি চুক্তি নিষ্পন্ন হয়নি বিদ্যুতের দাম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অমীমাংসিত

জ্বালানি সংকটের এই সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সরকারের প্রত্যাশা, আসছে আগস্ট মাসের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। তবে উৎপাদন শুরুর আগমুহূর্তেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। এখনও হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ স্পেন্ট ফুয়েল অপসারণের চূড়ান্ত চুক্তি। নির্ধারিত হয়নি বিদ্যুতের দাম। বাকি রয়েছে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সমঝোতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে শুধু রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি লোড বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করাই একমাত্র সফলতা নয়; বরং এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উপযোগিতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই আসল চ্যালেঞ্জ।

আর্থিক বিবেচনায় দেশের একক বৃহত্তম এই প্রকল্প নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করছে রাশিয়া। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। রুশ প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই নির্মাণকাজ চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বেশ কিছু অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাচ্ছে। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি (স্পেন্ট ফুয়েল) মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ। এই ক্ষতিকর বর্জ্য রাশিয়া পুনর্ব্যবহারের জন্য ফেরত নিয়ে যাবে, নাকি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করবে–সে বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়ার ব্যয়ভার কেমন হবে– তাও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) চূড়ান্ত না হওয়ায় বিদ্যুতের দাম নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

কেন্দ্রটির পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তাবিত ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠনের প্রক্রিয়াটি এখনও অমীমাংসিত।
এই নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞের মতে, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে এই চুক্তিগুলো অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এখন তাড়াহুড়ো করে এগুলো করলে দীর্ঘ মেয়াদে ইতিবাচক ফল নাও আসতে পারে। তাই বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগেই চুক্তিগুলো সম্পাদন করে এর শর্তাবলি জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা জরুরি। গ্রিড ফ্রিকোয়েন্সি ওঠানামার ঝুঁকি এড়াতে রূপপুর কর্তৃপক্ষ ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম সমন্বয় প্রয়োজন।

তবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান বলেন, ‘আমাদের মূল ফোকাস এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন। দক্ষ জনবলের অভাব থাকায় সব কিছু একসঙ্গে করতে গেলে কোনোটিই মানসম্মত হবে না। তবে ফুয়েল নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তি আছে এবং ব্যবস্থাপনা চুক্তির কাজও অনেক দূর এগিয়েছে।’ রাষ্ট্রীয় দুই কোম্পানির বিষয় হওয়ায় পিপিএ নিয়েও তিনি চিন্তিত নন।

তিনি জানান, কোনো ঘাটতি থাকলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়, তাই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী মাসের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে।

বিদ্যুতের দাম এখনও অজানা
দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগেই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে পিপিএ সম্পন্ন হতে হয়, যার ভিত্তিতে পাইকারি দাম বা ট্যারিফ নির্ধারিত হয়। তবে রূপপুরের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক উৎপাদন ঘনিয়ে এলেও এই চুক্তি সই হয়নি। পিডিবি প্রকল্পের মোট নির্মাণ ব্যয় ও পরিচালন খরচ চেয়ে বারবার চিঠি পাঠালেও রূপপুর কর্তৃপক্ষের সাড়া মেলেনি।

পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, পারমাণবিক কেন্দ্রের ট্যারিফ নির্ধারণ প্রক্রিয়া সাধারণ গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের চেয়ে জটিল, কারণ এখানে ঋণের কিস্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডিকমিশনিং ব্যয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদি খাত যুক্ত থাকে।

ট্যারিফ চুক্তি না হওয়ায় বিদ্যুতের সম্ভাব্য দাম নিয়ে একেক সময় একেক তথ্য এসেছে। ২০২০ সালে প্রতি ইউনিটের দাম চার থেকে সাড়ে চার টাকা দাবি করা হলেও ২০২৩ সালে সাত থেকে আট টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়। বর্তমানে শুধু উৎপাদন খরচই ধরা হচ্ছে চার টাকা ৩১ পয়সা। এর সঙ্গে যখন রাশিয়ার ঋণের সুদ, বিদেশি জনবলের পরিচালন ব্যয় এবং উচ্চ তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ যুক্ত হবে, তখন প্রকৃত দাম জানা যাবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘আমার কাছে যতটুকু তথ্য-উপাত্ত এসেছে, তাতে রূপপুরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১১-১২ টাকা হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ঝুঁকি বিবেচনায় রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। পরিবেশবিদরা শুরু থেকেই এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছেন। এর মধ্যেও এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে রয়েছে নানান প্রশ্ন। তাই দেশের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিলে রূপপুরের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে জাতীয় ঐকমত্য জরুরি।

স্পেন্ট ফুয়েল নিয়ে ধোঁয়াশা
প্রকল্পের সবচেয়ে সংবেদনশীল দিক হলো স্পেন্ট ফুয়েল বা ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা। দেড় থেকে দুই বছর চলার পর রিঅ্যাক্টরের কার্যকারিতা ধরে রাখতে প্রতিবার এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পরিবর্তন করতে হয়, যা প্রচণ্ড উত্তপ্ত ও উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়াসম্পন্ন। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এটি স্থায়ী সংরক্ষণের অবকাঠামো না থাকায় শুরুতে পরিকল্পনা ছিল এই বর্জ্য রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্মতিপত্র সই হলেও স্পেন্ট ফুয়েল রাশিয়ায় ফেরত নেওয়ার কোনো চূড়ান্ত বা বাধ্যতামূলক চুক্তি এখনও সম্পাদিত হয়নি। রাশিয়া এই বর্জ্য তাদের দেশে নিয়ে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করবে, নাকি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে এবং এর বিশাল ব্যয়ভার কে বহন করবে, তার আর্থিক রূপরেখা এখনও অস্পষ্ট।

জাতীয় গ্রিডের ঝুঁকি
রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন সক্ষমতা। পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে অপরিবর্তনীয় মাত্রায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, কিন্তু দেশের গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা দিন ও রাতের ভেদে ব্যাপক ওঠানামা করে। হঠাৎ চাহিদা কমে গেলে বা ঝড়বৃষ্টির সময় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সঞ্চালনের ফ্রিকোয়েন্সি ৪৯ হার্টজের নিচে নেমে গেলে দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট হতে পারে। তবে পিজিসিবি সঞ্চালন ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি সম্পন্ন করার দাবি করেছে।

ড. জাহেদুল হাছান জানান, রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ পিজিসিবিকে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন অনেক আগেই সরবরাহ করেছে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

বাকি আরও চুক্তি
দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণসহ (ওঅ্যান্ডএম) একাধিক জরুরি দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও চূড়ান্ত হয়নি। কেন্দ্রের পরবর্তী ৬০ থেকে ৯০ বছরের জীবনকালে নিরবচ্ছিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও কারিগরি জ্ঞান নিশ্চিত করা জরুরি। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রথম তিন বছর জ্বালানি সরবরাহ করবে, তবে এর পরের দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম আমদানির কোনো চুক্তি সই হয়নি। রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং আপৎকালীন প্রযুক্তিগত সহায়তা চুক্তিগুলোর বেশির ভাগই ঝুলে আছে। কর্মকর্তারা প্রথম ইউনিট চালুর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকায় এগুলো নিয়ে তেমন আলোচনা হচ্ছে না। তবে কেন্দ্র চালু হওয়ার পর দরকষাকষি করতে গেলে পরিচালনার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পরোক্ষভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেবে।

ঋণ পরিশোধে জটিলতা
১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের রূপপুর প্রকল্প দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক ঋণনির্ভর প্রকল্প, যার প্রায় ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারই এসেছে রাশিয়ার এক্সিম ব্যাংকের মাধ্যমে। তবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে মস্কোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা জটিল হয়ে পড়ায় রাশিয়ার ঋণের অর্থ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকল্প পদ্ধতিতে পাওনা পরিশোধের আলোচনা হলেও কার্যকর কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এর আগে প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য নেওয়া প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ঋণ পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নিষেধাজ্ঞাজনিত কারণে তাও আটকে আছে। বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের একটি বিশেষ হিসাবে রাশিয়ার পাওনা অর্থ জমা রাখা হচ্ছে। সুইফট ব্যবস্থায় রাশিয়ার অংশগ্রহণ সীমিত থাকায় সেই অর্থ রাশিয়ায় পাঠানোর পথ বন্ধ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সমস্যা বাংলাদেশের অনিচ্ছার কারণে নয়, বরং নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার ব্যাংকগুলো অর্থ গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলেও ঋণ পরিশোধ কাঠামোর এই জটিলতা প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন সংকট সৃষ্টি করছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, ‘সব প্রক্রিয়াই সময়সূচি অনুযায়ী এগোচ্ছে। চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের পর রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এবং আইএইএর তত্ত্বাবধানে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এ বছরের মধ্যেই প্রথম ইউনিট চালুর বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’

নরওয়েকে হারাতে পারবে ব্রাজিল? কী বলছে সুপারকম্পিউটার

ব্রাজিলের জন্য শেষ ষোলোতে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ ডার্ক হর্স নরওয়ে। যে দলের বিপক্ষে ইতিহাসের পাতায় আজ পর্যন্ত একবারও জয়ের মুখ দেখেনি সেলেসাওরা। আজ দিবাগত রাত ২টায় নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। একদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, ব্রুনো গিমারায়েসদের ব্রাজিল। অন্যদিকে আর্লিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের নরওয়ে। লাতিন সাম্বা আর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান শক্তির এই লড়াই ঘিরে তাই বাড়ছে উত্তেজনা।

কাগজে-কলমে অবশ্য এগিয়ে ব্রাজিলই। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে সেলেসাওরা রয়েছে পঞ্চম স্থানে, নরওয়ের অবস্থান ২১। সাম্প্রতিক ফর্মও কথা বলছে ব্রাজিলের পক্ষেই। শেষ পাঁচ ম্যাচে চারটি জয় ও একটি ড্র করেছে আনচেলত্তির দল। অন্যদিকে নরওয়ের ঝুলিতে রয়েছে তিন জয়, একটি ড্র ও একটি হার।

মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস সেলেসাওদের জন্য অস্বস্তির হলেও, জনপ্রিয় পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান ওপ্টা সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ২৫ হাজারবার ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল সিমুলেশন করে ওপ্টা জানিয়েছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬%।

বিপরীতে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ২২.৪%, আর ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৪%। সব মিলিয়ে শেষ আটে ওঠার দৌড়ে ব্রাজিল ৬৫.৬% ও নরওয়ে ৩৪.৫% সম্ভাবনা নিয়ে মাঠে নামবে। এই ম্যাচের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে।

কুড়িগ্রাম ট্রাক-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫

কুড়িগ্রামের রাজারহাট-তিস্তা সড়কের মন্ডলের বাজার এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সুধী কানন পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এরশাদ আলী (৪০) নামে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। তিনি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনায় আহত পাঁচজনের মধ্যে একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকি চারজনকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রংপুরে চিকিৎসাধীন ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুর্নীতি-অবহেলায় বদলি নয়, চাকরিচ্যুত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অবহেলার ক্ষেত্রে বদলি নয়, সরাসরি চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।

শনিবার দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে অবহেলা-দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুত। ট্রান্সফার বা বদলিতে আমি বিশ্বাস করি না। সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এগুলোকে কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’ তিনি জানান, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সংস্কার করে নতুনভাবে সাজানো হবে এবং সেখানে আরও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোরও উন্নয়ন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে চলতি বছরই একটি বিপ্লবের সূচনা করতে চাই। জনগণের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এবারের বাজেট টাকার বাজেট নয়, আদর্শের বাজেট। প্রতিটি কর্মসূচি দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।’

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনসহ অন্যান্য অতিথি ও নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সদস্যরা।

বিদায়ী অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৪৮ বিলিয়ন ডলার

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি খাত ছিল অনেকটা গতিহীন। অর্থবছরটির দ্বিতীয় মাস আগস্ট থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত টানা ৮ মাস রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কম ছিল। মাঝখানে এপ্রিল মাসে রপ্তানি বাড়ে ৩৩ শতাংশ। সেটি আসলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ছিল না। আগের বছরের একই মাসের দুর্বল ভিত্তির কারণে মাসটিতে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি বেশি দেখা গেছে। মে মাসে আবার পতনের ধারায় ফেরা তা প্রমাণ করে। অবশ্য অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ শতাংশ। তবে ১২ মাসের মধ্যে ৯ মাসই কমে যাওয়ার কারণে রপ্তানিতে পতনের ধারা নিয়েই শেষ হলো বিদায়ী অর্থবছর। কাঁটায় কাঁটায় ৪৮ বিলিয়ন বা ৪ হজার ৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চেয়ে ২০ কোটি ডলার এবং শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। ইপিবির তথ্যউপাত্ত ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৪৪৭ কোটি ডলার। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয় ৪ হাজার ৬৪৩ কোটি ডলার। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ হাজার ২০৮ কোটি ডলার রপ্তানি থেকে আয় এসেছিল। অবশ্য ওই বছর পর্যন্ত রপ্তানি আয়ে গোজামিলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ইপিবির সংশোধিত হিসাবমতে, গত ১০ অর্থবছরে রপ্তানি বেশি দেখানো হয়েছে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের রপ্তানি প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি বেড়েছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। সে অবস্থা থেকে হঠাৎ পরিস্থিতি নেতিবাচক হওয়ার পেছনে কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কহার নিয়ে অনিশ্চয়তা। এতে অস্বস্তি তৈরি হয় রপ্তানি খাতে। ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে। পরের মাসে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক নেমে আসে। তবে চীন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের পণ্যে মার্কিন শুল্ক আরও বেশি হারে আরোপ থাকায় এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইউরোপসহ অন্যান্য বাজারে আগ্রাসী রপ্তানি শুরু করে। এতে ওই সব বাজারে রপ্তানি কমে বাংলাদেশের।
ইপিবির প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে একক পণ্য হিসেবে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেই আয় এসেছে তিন হাজার ৮৭০ কোটি ডলার। বাকি সব পণ্য থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ৯৩০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছর তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে গেছে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই কারণেই গত অর্থবছর রপ্তানি কমেছে। আন্তর্জাতিক কারণের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, মার্কিন পাল্টা শুল্ক ও এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য বাজারগুলোতে চীন বেশি মনোযোগ দিয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। অভ্যন্তরীণ কারণের মধ্যে জ্বালানি সংকট, বন্দর, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস ও পশ্চাৎসংযোগ শিল্পের দুর্বলতা প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। এসব দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ এবং আধুনিক উৎপাদন ও বিপণন কৌশল আয়ত্ত করতে না পারলে এগোনোর সুযোগ খুব কম।
গত অর্থবছরে তৈরি পোশাক ছাড়া অন্য পণ্যের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১২৩ কোটি ডলারের। কৃষিপণ্যের রপ্তানি ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি হয়েছে ৯৮ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য। হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি বেড়েছে ৭ শতাংশের মতো, রপ্তানি হয়েছে ৯৩ কোটি ডলারের। পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। এ খাতে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি ডলার। প্রায় ২২ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এসেছে প্রকৌশল পণ্যে। এ খাতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি ডলার।