বিশ্বকাপ পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে ধাক্কা আর্জেন্টিনার, কোথায় ব্রাজিল-পর্তুগাল?

বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে এক রোমাঞ্চকর যুদ্ধক্ষেত্রে। টুর্নামেন্টের সমীকরণ এখন আরও কঠিন। ইতোমধ্যেই শেষ ষোলোর দুটি ম্যাচ শেষে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মরক্কো ও ফ্রান্স। তবে এর আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো ফুটবল পরাশক্তিদের।

পরাশক্তিদের এই বিদায় এবং দলগুলোর পারফরম্যান্স, সামর্থ্য ও প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে ফুটবল বিশ্লেষকরা প্রকাশ করেছেন নতুন ‘পাওয়ার র‍্যাংকিং’। যেখানে কেপ ভার্দের বিপক্ষে নড়বড়ে জয়ের কারণে অবনমন হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক শীর্ষ দলগুলোর পাওয়ার র‍্যাংকিং অবস্থান:

১. ফ্রান্স (অপরিবর্তিত): চলতি বিশ্বকাপে দেশমের ফ্রান্স এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অপরাজেয়। কিলিয়ান এমবাপ্পের একের পর এক গোল আর ক্ষুরধার ট্যাকটিক্সে ‘লে ব্লুরা’ যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। গ্রুপ পর্বে ১০ গোল করার পর শেষ বত্রিশের ম্যাচে তারা সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এক গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে আছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ১৯!

২. স্পেন (উন্নতি): টুর্নামেন্টের শুরুতে কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র করে হোঁচট খেলেও লামিন ইয়ামাল চোট কাটিয়ে ফিরতেই চেনা ছন্দে ফিরেছে ‘লা রোহা’। সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারানোর পর শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্পেন বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা এবার ট্রফিটা ঘরে তুলতেই এসেছে।

৩. আর্জেন্টিনা (অবনতি): বিশ্বকাপে এখনও লিওনেল মেসিই আর্জেন্টিনার মূল চালিকাশক্তি হলেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে জিততে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের নার্ভের চরম পরীক্ষা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে মেসির ২০তম বিশ্বকাপ গোলের পরও ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে ১১১ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে কোনোমতে ৩-২ ব্যবধানে জিতে বিপর্যয় এড়ায় আর্জেন্টিনা। র‍্যাংকিংয়ে পঞ্চাশের বাইরে থাকা দলটির বিপক্ষে এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্সের কারণে পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে এক ধাপ পিছিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

৪. পর্তুগাল (উন্নতি): গ্রুপ পর্বটা মোটেও ভালো কাটেনি পর্তুগালের। তবে শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে রবের্তো মার্তিনেজের দল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি এবং শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার গোল ভিএআরে বাতিল হওয়ার ভাগ্যের ছোঁয়ায় র‍্যাংকিংয়ে চারে উঠে এসেছে তারা।

৫. ব্রাজিল (অপরিবর্তিত): কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে শেষ বত্রিশে জাপানের বিপক্ষে বেশ ভুগতে হয়েছে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ক্যাসেমিরোর সমতাসূচক গোল এবং ইনজুরি টাইমের ৯৫ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির নাটকীয় গোলে কোনোমতে রক্ষা পায় সেলেসাওরা। জাপানকে হারালেও ব্রাজিল এখনও তাদের চেনা ছন্দের সেরাটা দেখাতে না পারায় র‍্যাংকিংয়ে পাঁচে অপরিবর্তিত রয়েছে।

৬. ইংল্যান্ড (অবনতি): থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডের অবস্থা ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। কঙ্গোর বিপক্ষে একপর্যায়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে ৬৮ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর ত্রাণকর্তা হয়ে আসেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। শেষ ১৫ মিনিটে তার জোড়া গোলে লজ্জা এড়ায় থ্রি লায়নসরা। তবে এই ছন্নছাড়া ফুটবল নিয়ে আজতেকার উচ্চতায় মেক্সিকোর বিরুদ্ধে তারা কতটা টিকবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ে পরের দলগুলোর অবস্থান যথাক্রমে মরক্কো (৭), মেক্সিকো (৮), নরওয়ে (৯), যুক্তরাষ্ট্র (১০), বেলজিয়াম (১১), কলম্বিয়া (১২), সুইজারল্যান্ড (১৩), মিসর (১৪)।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর