Home Blog Page 396

তাজউদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হয় কীভাবে প্রশ্ন সারজিসের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাজউদ্দিন আহমদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বুধবার (৪ জুন) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাজউদ্দিন আহমদ মাঠে থেকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হয় কীভাবে?”

সারজিস আলম তার পোস্টে মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল “মুক্তিযোদ্ধার নামে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য আওয়ামী আমলে যারা নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তাদেরকে খুঁজে বের করে তাদের মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে বন্দি হয়ে বিজয়ের পর পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের জেলে বন্দি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি সরাসরি মাঠে ছিলেন না।”

সারজিস আলমের মতে, ” মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মাঠে থেকে যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সরাসরি অবদান রেখেছেন তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাতিল করার মতো অপ্রয়োজনীয় কাজ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

তিনি ইতিহাসের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ইতিহাস যেন কখনো ক্ষমতাসীনদের পক্ষের না হয়। ইতিহাসকে ইতিহাসের মতো করেই চলতে দেওয়া উচিত।”

বঙ্গবন্ধুসহ ৪ শতাধিক নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী চার শতাধিক রাজনীতিবিদ, যাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দীন আহমদের মতো নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরাও রয়েছেন, তাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে তারা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে পরিচিত হবেন। মঙ্গলবার (৩ মে) রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ থেকে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

নতুন এই অধ্যাদেশ শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারই নয়, আরও চার শ্রেণির স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়কে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এই চারটি শ্রেণি হলো:

প্রথমত, যেসব বাংলাদেশি পেশাজীবী বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রেখেছেন এবং বিশ্ব জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

দ্বিতীয়ত, যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা দূতসহ অন্যান্য সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তৃতীয়ত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সব শিল্পী ও কলাকুশলী এবং দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সব বাংলাদেশি সাংবাদিক।

চতুর্থত, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।

বাতিল হওয়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুসহ প্রবাসী সরকারের এমএনএ বা এমপিএ এবং উল্লেখিত চার শ্রেণির সবাই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। নতুন অধ্যাদেশে তাদের মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী করার ফলে তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচিতি বাতিল হয়ে গেল।

নতুন অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের প্রণীত খসড়া থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী ধারায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আলোকে খসড়াটি অনুমোদনের পরও দ্বিতীয় দফায় তাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “বীর মুক্তিযোদ্ধা অর্থ যারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে গ্রামে-গঞ্জে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এছাড়া যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের এ দেশে সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন, এই রূপ সবাই বেসামরিক নাগরিক ওই সময়ে যাদের বয়স সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সর্বনিম্ন বয়সের মধ্যে ছিল এবং সশস্ত্র বাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), পুলিশ বাহিনী, মুক্তিবাহিনী, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ও ওই সরকার কর্তৃক স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স, আনসার সদস্য এবং বাংলাদেশের নিম্নবর্ণিত নাগরিকরাও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন, যথা (ক) হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী কর্তৃক নির্যাতিত সব নারী (বীরাঙ্গনা) এবং (খ) মুক্তিযুদ্ধকালে আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ফিল্ড হাসপাতালের সব ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সহকারী।”

অধ্যাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পরিবর্তিত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “‘মুক্তিযুদ্ধ’ অর্থ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় হানাদার ও দখলদার পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে রাইফেলস, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ।”

এই অধ্যাদেশ দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৭ দিন পর সীমিত পরিসরে চালু হলো জাতীয় চক্ষু হাসপাতাল

দীর্ঘ সাত দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে  জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। বুধবার (৪ জুন) সকাল পৌনে ৯টা থেকে সীমিত পরিসরে সেবা চালু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জানে আলম। এর আগে গত ২৯ মে থেকে ‘নিরাপত্তা শঙ্কায়’  হাসপাতালটিতে সেবাদান বন্ধ রেখেছিলেন চিকিৎসক-কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক সেবা প্রত্যাশীকে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নতুন রোগী। বাকিরা আগে থেকেই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জানে আলম সেবাদান কার্যক্রম চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে শুধু জরুরি বিভাগের সেবা চালু করা হয়েছে। তবে জরুরি চিকিৎসার পর যদি কারো বাড়তি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাহলে আপাতত তা দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সবেমাত্র হাসপাতাল খুলেছে এবং প্রাথমিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক-কর্মচারীদের হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে চিকিৎসক-কর্মচারীরা নিরাপত্তা শঙ্কায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছিলেন। চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের এই অচলাবস্থা নিরসনে গত ৩১ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালটিতে প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা জানিয়েছিল।

আমেরিকার সাথে বাণিজ্য সংলাপ: বাজেটে ৬২৬ পণ্যে শুল্ক ছাড়

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আসন্ন বাণিজ্য সংলাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার ৬২৬টি পণ্যের ওপর শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।  সোমবার (২ জুন) অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ তাঁর বাজেট বক্তৃতায় এ তথ্য জানান।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, আমদানি পণ্যের শুল্ক-কর হার পর্যায়ক্রমে কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায়, ১১০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে, ৬৫টি পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হবে, ৯টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হবে এবং ৪৪২টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই শুল্ক ছাড়ের ফলে জনগণের ওপর করের বোঝা কিছুটা কমবে এবং পণ্য রপ্তানিতে ‘অ্যান্টি এক্সপোর্ট বায়াস’ (রপ্তানি বিরোধী প্রবণতা) হ্রাস পাবে।

নারী বিশ্বকাপও হাইব্রিড মডেলে! পাকিস্তান খেলবে শ্রীলঙ্কায়

পুরুষদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর এবার নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপও হাইব্রিড মডেলে আয়োজিত হতে চলেছে। ভারতের মাটিতে পাকিস্তানের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে জটিলতা এড়াতে আইসিসি এবার শ্রীলঙ্কাকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে। পাকিস্তানের কোনো ম্যাচই ভারতের মাটিতে হবে না; বরং শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামেই তাদের ম্যাচগুলো গড়াবে। এমনকি পাকিস্তান সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচগুলো ভারতে হবে না, অনুষ্ঠিত হবে কলম্বোতেই।

সোমবার আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ভেন্যু ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছে। এতে পরিষ্কার হয়েছে, মূল আয়োজক ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামকেও একটি ভেন্যু হিসেবে রাখা হয়েছে।

এবারের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো মোট পাঁচটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চারটি ভারতের বিভিন্ন শহরে এবং অন্যটি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয়। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই টুর্নামেন্ট। এতে আটটি দল অংশ নেবে এবং রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে ২৮টি লিগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

যদিও এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের জন্য বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামকে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, পাকিস্তান দল যদি ফাইনালে ওঠে, তাহলে ফাইনাল ম্যাচ শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে আসরের প্রথম সেমিফাইনাল ২৯ অক্টোবর গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হবে। তবে, পাকিস্তান গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারলে সেই খেলাও কলম্বোতে স্থানান্তরিত হবে। দ্বিতীয় সেমিফাইনাল পরদিন বেঙ্গালুরুতে।

এফডিসিতে রামদা হাতে যুবক, খুঁজছিলেন শাকিব খানকে!

গত শনিবার (৩১ মে) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো। রামদা হাতে একজন যুবক সেখানে ঢুকে পড়েন এবং অভিনেতা শাকিব খানকে খুঁজতে থাকেন, যার কাছে তিনি টাকা পান বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় মানিক মিয়া নামের ওই যুবককে আটক করেছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ।

জানা গেছে, যুবকটি ‘গলুই’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় কাজ করেছিলেন এবং সেই কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে শাকিব খানের কাছে টাকা পান বলে দাবি করছিলেন।

নির্মাতা গাজী মাহবুব গণমাধ্যমকে জানান, “হঠাৎ হৈচৈ শুনে আমরা বেরিয়ে দেখি এক যুবক চাপাতি হাতে ভাঙচুর করছে আর চিৎকার করে শাকিব খানের নাম ধরে ডাকছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, শাকিব খানের কাছে তার পাওনা টাকা আছে এবং সে শাকিব খানকে খুঁজতে এফডিসিতে এসেছে।”

গাজী মাহবুব আরও বলেন, যুবকটি নিজেকে জামালপুরের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় এফডিসি কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে এবং আটককৃত যুবককে রবিবার (১ জুন) আদালতে পাঠানো হয়েছে। যদিও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ওই যুবককে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

আইসিইউতে চিত্রনায়িকা তানিন সুবহা

হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা তানিন সুবহা। বর্তমানে তাকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সোমবার (২ জুন) দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে তানিনকে প্রথমে আফতাবনগরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরলেও সন্ধ্যায় আবারও অবস্থার অবনতি হয়। এরপর তাকে বনশ্রীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে দ্রুত তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, যেখানে তাকে সরাসরি আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

তানিন সুবহার মা তাসলিমা গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার তার মেয়ের বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং কয়েকবার বমি হয়, যার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে তানিনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

মেয়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তানিন সুবহার মা। অভিনেত্রীর অসুস্থতার খবরে শোবিজ অঙ্গনেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে আজাদ কালামের পরিচালনায় ‘জমজ’ নাটকে মোশাররফ করিমের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে তানিন সুবহার শোবিজ অঙ্গনে অভিষেক হয়। এরপর তিনি মীর সাব্বিরের ‘আলাল দুলাল’, সেলিম রেজার ‘সেয়ানা জামাই’, নাহিদ হাসানের ‘ম্যারেজ মিডিয়া ডটকম’ সহ বেশ কিছু খণ্ড নাটকে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অবাস্তব ভালোবাসা’, ‘মাটির পরী’, ‘স্বপ্নের সাথী’, ‘দেমাগ’ এবং ‘তুই আমার’।

মালির সেনাঘাঁটিতে দুই দফা হামলা, নিহত ৩০

মালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর তিমবুকতুতে একটি সেনাঘাঁটিতে চালানো দুই দফা হামলায় কমপক্ষে ৩০ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্র ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংঘাতে ডজনখানেক হামলাকারীও নিহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিমবুকতু শহরের বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখান থেকে তীব্র গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে।

সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিমবুকতু ক্যাম্পে সন্ত্রাসীরা হামলা চালালে সেনা সদস্যরা পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। এতে ১৪ জন সন্ত্রাসী নিহত এবং ২১ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে নিহত সেনা সদস্যের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।

পরবর্তীতে জানা গেছে যে, এই হামলায় কমপক্ষে ৩০ সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। বামাকোর একটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, তাদের ইউনিটের রিপোর্টে ৩০ জন সেনার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, সেনারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পায়নি। বেশ কয়েকজন সেনা সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই হামলায় কমপক্ষে ৬০ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। অপর একটি নিরাপত্তা সূত্রও নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬০ বলে উল্লেখ করেছে। তবে এই সংখ্যায় নিহত, নিখোঁজ এবং জিম্মি হিসেবে অপহৃত সেনা সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সব দলই ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়- সালাহউদ্দিন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে সব রাজনৈতিক দল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার(২ জুন) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করা সম্ভব। আজ সব রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য মতামত দিয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, সংবিধান ছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত এমন কোনো সংস্কার নেই যা ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

ইসলামাবাদে জনপ্রিয় টিকটকারকে গুলি করে হত্যা

 

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সানা ইউসুফ (১৭) নামে এক জনপ্রিয় টিকটকারকে গুলি করে হত্যা করেছে এক দুর্বৃত্ত। সোমবার (২ জুন) সুম্বল থানার জি-১৩ সেক্টরে এই ঘটনা ঘটে বলে খবর দিয়েছে দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সানার নিজ বাড়িতে প্রবেশ করে খুব কাছ থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সানাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস)-এ রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের ধারণা, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যাকারী হয়তো সানার বাড়িতে অতিথি সেজে প্রবেশ করেছিল।

সানা ইউসুফ ইসলামাবাদের চিত্রাল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং অল্প বয়সেই টিকটকে প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তার কনটেন্ট মূলত ফ্যাশন, লিপ-সিঙ্ক, জীবনধারা ও সামাজিক বার্তা নিয়ে তৈরি হতো। তরুণ প্রজন্মের মাঝে তার জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি এবং হত্যার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট মোটিভও উদঘাটন করা যায়নি।

এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সানার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তার প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং অপরাধীর দ্রুত গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি জানাচ্ছেন।

এদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো নারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি অনলাইন ব্যক্তিত্বদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।