Home Blog Page 4

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মৃত্যু ছাড়ালো ১১০০

০

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৪ জনে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫১৬ জন, রাজশাহীতে ২৯, সিলেটে ২০৬, চট্টগ্রামে ২৭৯, বরিশালে ১০৭, ময়মনসিংহে ৮৬, খুলনায় ৮৯ এবং রংপুরে ২৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

 

ফাঁস হলো নির্বাচনের আগেই নেতানিয়াহুর গোপন সফর

০

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। সফরকালে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। দীর্ঘদিন গুঞ্জনের পর অবশেষে এ সফরের সত্যতা স্বীকার করেছে আবুধাবি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আরব আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের কথা নিশ্চিত করে। মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার আগে নেতানিয়াহুকে আমিরাতি প্রেসিডেন্ট আগাম সতর্ক করেছিলেন কি না–তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পরই এই সফরের খবর প্রকাশ্যে এল।

আমিরাতের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং তা আরও জোরদার করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার ১০ দিন আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে তৎকালীন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের একটি হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। সিনওয়ার নাকি একটি ‘বড় ধরনের চমক’ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমনকি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এসব তথ্য শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে।

আইনসভা নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে নেতানিয়াহুর এই গোপনীয় সফর ইসরায়েলি রাজনীতিতেও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। আগামী নির্বাচনে আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা নেতানিয়াহু বর্তমানে জনমত জরিপে পিছিয়ে রয়েছেন, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ চুক্তির পর থেকে ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের সম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

অক্সফোর্ডে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাইমুরের সাফল্য

০

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএ অনার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাইমুর মুজিব রহমান। অনার্সে ৬৭ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রফেসর স্টিফেন টাকারের তত্ত্বাবধানে বিএ প্রজেক্ট ও বিএ গ্রুপ প্রজেক্টের জন্য অক্সফোর্ড থেকে দুটি স্বতন্ত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সেরেমনি অনুষ্ঠিত হয়।

এরই মধ্যেই লন্ডনে বৈশ্বিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠান Jefferies Financial Group Inc.-এ পেশাগত কর্মজীবন শুরু করেছেন সাইমুর। অক্সফোর্ডে পড়াকালীন তিনি একাধিক প্রফেশনাল ইন্টার্নশিপ করেছেন- যার মধ্যে জাপানের ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, স্টার্লিং টেক কোম্পানি ও জেফ্রিজ -এ একযোগে ডেটা সায়েন্স ও ইনফরমেশন সিকিউরিটি বিভাগে কাজ অন্যতম।

সাইমুর লন্ডনের ‘লন্ডন একাডেমি অব এক্সসেলেন্স’ থেকে পদার্থবিজ্ঞান, গণিত, উচ্চতর গণিত ও রসায়নে এ স্টার অর্জন করে এ লেভেল সম্পন্ন করেন। এ লেভেলে ইপিকিউতে তাঁর টপিক ছিল ‘টু হোয়াট এক্সটেন্ট ক্যান কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এফেক্ট দি ওয়ার্ল্ড, ইকোনোমিক্যালি, এনভারমেন্টালি অ্যান্ড সোস্যালি’।

নজরুল ইসলাম খান বললেন চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়

০

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারির সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়। এসব নিয়ে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে আমরা জড়িত নই। প্রকৃত নেতাকর্মীরা কেউ জড়িত নয়। যে আসলে শহীদ জিয়ার কর্মী সে কখনও চাঁদাবাজ, দখলবাজ হতে পারে না। চাঁদাবাজরা বিএনপির না।

তিনি বলেন, আমরা কারও কাছে হাত পাতি না। আমরা পরিশ্রমী মানুষ। নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই জনগণের শান্তি ও সরকারের উন্নয়ন প্রয়াসকে যারা নষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান বলেছিলেন আমি একজন শ্রমিক এবং এজন্য আমি গর্ববোধ করি। বিএনপি বরাবর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী জনগণের পক্ষের দল। আমাদের নেতাকর্মীরা জেল খেটেছেন। মনে রাখতে হবে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তির জন্য ১৯৭১ সালে মানুষ রক্ত দিয়েছে। এরপরও ১৭ বছর আমাদের লড়াইয়ের ময়দানে থাকতে হয়েছে। ২৪-এ সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।

বিক্ষোভ মিছিলে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ফরহাদ হালিম ডোনার বলেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভয় পাননি, তাই এখন কাউকে ভয় পাওয়ারও কারণ নেই।

তিনি বলেন, দেশ যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে চোখ-কান খোলা রেখে সতর্ক থাকতে হবে।
ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শেখ হাসিনার থেকে তো আপনারা বেশি স্বৈরাচার হতে পারবেন না। অর্থাৎ তাকে যখন আমরা ভয় পাইনি, আপনাদের ভয় পাওয়ার কিছু নাই।

বিদ্যুৎ ও পেট্রোলের সমস্যা নিয়ে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব সমস্যা বিএনপি সৃষ্টি করেনি তাহলে এসব সমস্যা নিয়ে আবার লংমার্চ কেন এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ডোনার বলেন, উনারা বলেন যে বিদ্যুতের সমস্যা, এটা পেট্রোলের সমস্যা। আবার উনাদের নেতা সংসদে দাঁড়িয়ে বলতেছেন, এই সমস্যা বিএনপির সৃষ্টি না, এই সমস্যা হয়েছে সরাসরি শেখ হাসিনার আমলের সরকারে। তিনি নিজেই যদি স্বীকার করেন, তাহলে আবার এই লংমার্চ কেন?

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর দেশে যেসব ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো ঠিক করাই এখন তাদের কাজ।

তিনি বলেন, আমরা ১৭ বছর আন্দোলন করছি। যেখানে যা ক্ষতি হয়েছে, সেটা আমরা ঠিক করব। এ সময় ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদাবাজদের পুনর্বাসনে ‘ভিক্ষার’ ‘দানবাক্স’ বসানোর আহ্বান হাসনাত, পাটওয়ারীর

০

চাঁদাবাজি ঠেকাতে ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ স্থাপনের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তারা বলেছেন, এই বাক্সে যে অর্থ উঠবে, সেখান থেকে চাঁদাবাজদের ‘ভিক্ষা’ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে চাঁদাবাজদের কর্মসংস্থান হবে। তখন চাঁদাবাজরা আর সাধারণ মানুষের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা–লুটপাট করতে যাবে না।

সোমবার রাজধানীর বাংলামোটর–হাতিরপুল এলাকায় হাসনাতের উদ্যোগে এই প্রতীকী কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে তিনি এবং পাটওয়ারী ‘চাঁদাবাজ পুনর্বাসন দানবাক্স’ প্রদর্শন করেন। বাক্সের গায়ে চাঁদাবাজদের কার্যক্রমের ছবি দিয়ে লেখা ছিল ‘চাঁদাবাজদের মবতন্ত্র!’, ‘চান্দা ভাইকে চাঁদা নয়, ভিক্ষা দিন’।

হাসনাত, পাটওয়ারীর সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, জনগণকে মুক্তি দে’, ‘বিএনপির চাঁদাবাজি, চলবে না চলবে না’, ‘চাঁদাবাজির বাংলাদেশ, ফিরবে না ফিরবে না’, ‘নো টেইক ব্যাক বাংলাদেশ, ফরওয়ার্ড বাংলাদেশ’ প্রভৃতি বলে স্লোগান দেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, চাঁদাবাজরা বাজার, হাসপাতাল, যানবাহনসহ পরিবহন খাত এবং সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের অতিষ্ঠ করে ফেলেছে। বিএনপি সরকার এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে, চরে গরুকে ঘাস খাওয়াতে হলেও চাঁদা দিতে হয়। বাড়িঘর, মাদ্রাসা দখল হচ্ছে। ঢাকা শহরে দিনদুপুরে চাঁদাবাজরা অস্ত্র নিয়ে দখল ও লুণ্ঠন করছে।

চাঁদাবাজি থেকে মুক্তির জন্য হাসনাত গণভিক্ষার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি মোড়ে চাঁদাবাজদের দানবাক্স রাখুন। ৫-১০ টাকা করে ভিক্ষা দিন। বিএনপির যেসব চাঁদাবাজ নেতা-কর্মী আছেন, তাদের চাঁদাবাজির দরকার নেই। ভিক্ষার টাকায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা অন্তত আমাদের জানটাকে নিরাপত্তা দিন। আপনাদের ভিক্ষা দেব, তবু বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করার দরকার নেই, সালমান মুক্তাদিরদের স্টুডিও ভাঙার দরকার নেই। এগুলো থেকে নিস্তার চাই।

পরে প্রতীকী ভিক্ষার বাক্স নিয়ে মিছিল হয়। বাংলামোটর ও হাতিরপুল এলাকায় ব্যবসায়ীদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন হাসনাত–পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতারা। হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার সামনে গিয়ে মিছিল শেষ হয়।

সেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সব ব্যবসায়ী ভাইদের বলব, দোকানে বাক্স রাখুন। মানুষকে বলবেন ভিক্ষা দিতে। যদি কোনো চাঁদাবাজ দোকানে আসে, তাদের ভিক্ষার বাক্স নিয়ে দেবেন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জ্বালানির দাম বাড়িয়ে কীভাবে সংকটের অবসান হলো, বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিটি

০

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং সংকটকালীন ও পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা একই থাকার পরও শুধু জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে কীভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

০

বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে নয়াদিল্লির সঙ্গে দূরদর্শী ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে ঢাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সাক্ষাতে ভারতীয় হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান। তারা দ্বিপক্ষীয় ইস্যু এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেন। নিউইয়র্কে সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পায়।

একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

০

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মঙ্গলবার মোট ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।

এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ১৮৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৮টি নতুন, ৩টি সংশোধিত এবং ২টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে।

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনএসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি এসব তথ্য জানান।

সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো-‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (১ম সংশোধিত)’।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)’ প্রকল্পও আজ অনুমোদন পেয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রামে হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো-‘মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)’ এবং ‘মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্প।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা ও ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো- ‘রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ এবং ‘মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)- এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।

এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প-‘ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ’ এবং ‘তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত অনুমোদিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় বিএএফ শাহীন কলেজের অবকাঠামো নির্মাণ, আলীকদম সেনানিবাসে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ১০ জেলায় বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন এবং রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প।

এছাড়া মিরপুর ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন, ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও তীর সংরক্ষণ, হবিগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর প্রতিরক্ষা, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পও রয়েছে।

এ তালিকায় ভূয়াপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্পও রয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

প্রতিদিন সূর্যমুখীর বীজ খেলে যেসব উপকার পাবেন

০

দেখতে খুব ছোট হলেও সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, অসম্পৃক্ত চর্বি, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম এবং সেলেনিয়ামের ভালো উৎস এ বীজ। অর্থাৎ প্রায় ৩০ গ্রাম বা এক মুঠো সূর্যমুখীর বীজে ৫ গ্রাম প্রোটিন, প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অসম্পৃক্ত চর্বি পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এটি রাখতে পারেন। পুষ্টিবিদরা বলেন, সূর্যমুখীর বীজে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমন্বয় হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

স্বাস্থ্য উপকারিতা

সূর্যমুখীর বীজে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবারের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় সূর্যমুখীর বীজ যুক্ত করা যেতে পারে।

সূর্যমুখীর বীজে ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে। এগুলো শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে সূর্যমুখীর বীজ খেতে পারেন। এতে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

সূর্যমুখীর বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ভিটামিন-ই ও সেলেনিয়াম, শরীরে তৈরি হওয়া ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। ফ্রি র‌্যাডিক্যাল কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় শরীরকে সহায়তা করা সম্ভব।

শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম অন্যতম। সূর্যমুখীর বীজ ম্যাগনেশিয়ামের দৈনিক চাহিদা পূরণে অবদান রাখে। আবার শরীরে শক্তি তৈরির প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেশিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি খাবার থেকে পাওয়া পুষ্টি উপাদানকে শক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। অবশ্য সূর্যমুখীর বীজ তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি বাড়িয়ে দেয় না। তবে এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়ামের সমন্বয় এটিকে পুষ্টিকর ও শক্তিসমৃদ্ধ খাবারের অংশ করে তোলে।

কাঁচা নাকি ভাজা, কোনটি বেশি উপকারী?
সূর্যমুখীর বীজের উপকারিতা পেতে কাঁচা খেতেই হবে, তা নয়। কাঁচা কিংবা হালকা ভাজা, দুই ভাবেই এ বীজ খেতে পারেন। তবে বীজ কেনার সময় অতিরিক্ত লবণযুক্ত, অপ্রয়োজনীয় তেল কিংবা অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভযুক্ত কিনা তা দেখে কিনুন।

উন্নয়ন দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক পতেঙ্গায়

০

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কের দুই পাশে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা ট্র্যাক থাকে। সেই ট্র্যাকে সাইকেলে প্যাডেল ঘুরিয়ে গন্তব্যে ফিরছে মানুষ– এমন চিত্র সেসব দেশে চিরচেনা। কিন্তু আমাদের দেশের চিত্র বিপরীত। যানজট, ধুলাবালি আর গাড়ির ভিড়ে আলাদা ট্র্যাক না থাকায় শহরগুলোতে সাইকেল নিয়ে বের হওয়া যায় না। তাই গড়ে ওঠেনি অভ্যাস। অথচ এক গবেষণা জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বে বেশি সাইকেল চালানোর তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে ১৫ নম্বরে।

তবে এবার সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাশে এমন একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যার দুই পাশে রাখা হয়েছে সাইকেল চালানোর দুটি ট্র্যাক। কিছুদিনের মধ্যেই সড়কটিতে সাইকেল চালানো যাবে। এর মধ্য দিয়ে সাইকেল চলাচলে নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে।

আধুনিক নগর পরিকল্পনায় নিরাপদ ফুটপাত, সাইকেলের লেন (ট্র্যাক), পথচারীবান্ধব অবকাঠামো ও সবুজায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিমানবন্দর সড়কের সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হচ্ছে। পতেঙ্গা সৈকতের পাশেই সড়কটির অবস্থান হওয়ায় এখানে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকও সাইকেলে চড়ে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। অদূর ভবিষ্যতে এটা সাইকেল-ট্যুরিজমের নতুন দুয়ারও খুলতে পারে।

পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে পৃথক সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ঘেঁষেই সড়কটির অবস্থান। এটির নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। প্রাথমিকভাবে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ বিমানবন্দর সড়কটির চার লেনের দুপাশে রাখা হয়েছে ফুটপাত। মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মিড আইল্যান্ড। সড়কের একপাশে ল্যান্ডস্কেপিং ও ওয়াকওয়ের সঙ্গে পাশাপাশি রাখা হয়েছে সাইকেল চলাচলের জন্য দুটি ট্র্যাক। সাইকেল ট্র্যাকের দুপাশে ইটের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পাথরের কার্পেটিং করেই চলাচলের জন্য সাইকেল ট্র্যাক খুলে দেওয়া হবে।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক গবেষণা জরিপে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে। গবেষকরা ১২১টি দেশের প্রায় ১১ হাজার ৫৮৭টি শহরের গুগল ম্যাপের তথ্য ঘেঁটে এই তালিকা তৈরি করেছেন। তাতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে সেরা ১৫ নম্বরে। সাইকেল চালানোর দিক দিয়ে বিশ্বসেরা শহর এখন নেদারল্যান্ডসের ওয়াজেনিনজেন। সেখানে বেশির ভাগ মানুষই সাইকেল চালান।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদত হোসেন সমকালকে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কে সাইকেলের জন্য আলাদা ট্র্যাক রাখা হয়। আমি নিজেই অনেক দেশে এটা দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি। তাই প্রথমবারের মতো আমি একটি সড়কের দুপাশে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করেছি। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগির সাইকেল চালানোর জন্য এই ট্র্যাক খুলে দেওয়া হবে।’