Home Blog Page 3

মাথা ঠাণ্ডা রাখা ও চুল পড়া কমানো, এখন একসাথে

০

সকালে চুল আঁচড়াতে গিয়ে চিরুনিতে একগোছা চুল দেখলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। আর বাইরে বের হলেই ফেইস করতে হয় রোদ আর গরম। এই দুই সমস্যার কথা ভেবেই ইমামী বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে হিমানী নবরত্ন প্লাস হেয়ারফল কন্ট্রোল কুলিং হেয়ার অয়েল। এই তেল মাথা ঠান্ডা রাখে, সঙ্গে চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো হেয়ার অয়েলে এই দুইটি বেনেফিট একসঙ্গে দিচ্ছে।

দুই সমস্যা, একই দিনে
চুল পড়া আর গরম; সমস্যা দুটো আলাদা মনে হলেও আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এরা একসঙ্গেই আসে। চুল পড়ার দুশ্চিন্তা শুরু হয় সকালেই! ঠিক বের হওয়ার আগে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। “সিঁথিটা কি আগের চেয়ে চওড়া লাগছে?” “চুল বাঁধতে গিয়ে আগের মতো ঘন মনে হচ্ছে না?” এরপর দিনভর রোদ, ঘাম আর ব্যস্ততা। আমাদের দেশে বছরের বেশির ভাগ সময়ই থাকে গরম আর আর্দ্রতা। বাসে, রিকশায় কিংবা হেলমেট পরে বাইকে যাতায়াতের সময় মাথা ঘেমে যায়। তখন ক্লান্তি বোধ হয়, মেজাজ ও মাথা দুইটিই গরম থাকে। কোন কাজই তখন ঠাণ্ডা মাথায়, ঠিকমতো করা যায় না। ক্লাস, অফিস বা সংসার, এত কিছুর মাঝে, দিনশেষে সবাইই একটু শান্তি খোঁজেন।

তাই দরকার এমন একটি তেল, যা মাথা ঠান্ডা রাখবে, আবার চুল পড়াও রোধ করবে। এত দিন এর জন্য খুঁজতে হতো দুটি আলাদা তেল। ফলে প্রায়ই একটি বাদ পড়ে যায়। হিমানী নবরত্ন প্লাস হেয়ারফল কন্ট্রোল কুলিং হেয়ার অয়েল সেই সমস্যারই সমাধান। এক তেলেই দুই রকম যত্ন; সময়ও বাঁচে, সাথে সাশ্রয়ীও।

২১টিরও বেশি ভেষজ উপাদানের গুণ
২১টিরও বেশি ভেষজ উপাদান এক তেলে থাকার কারণে মাথা ঠান্ডা রাখা ও চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। অশ্বগন্ধা, রোজমেরি, ভৃঙ্গরাজ, ব্রাহ্মী, কারি পাতা, তুলসী, জটামানসি, আমলা ও জবা। প্রতিটি উপাদানের কাজ আলাদা, কিন্তু সব উপাদান মিলে চুলের পূর্ণাঙ্গ যত্নের একটি মিশ্রণ তৈরি হয়েছে।

কুলিং ফর্মুলা মাথা ঠাণ্ডা রাখে। তেল অ্যাপ্লাই করার সাথে সাথে যে ঠান্ডা অনুভূতিটি পাবেন, তা এই কুলিং ফর্মুলার জন্য। বাকি প্রায় সব উপাদানই চুলের যত্নে কাজ করে। রোজমেরি চুলের গোড়া ও ফলিকলের যত্ন নেয়। কারি পাতা, আমলা আর জবা চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সাহায্য করে। ব্রাহ্মী চুলের রুক্ষতা কমিয়ে চুল সফট রাখে। আর ভৃঙ্গরাজ, তুলসী ও জটামানসিসহ এইসব উপাদান একসঙ্গে কাজ করে বলে আলাদা করে আর কোন কিছুর দরকার পড়ে না।

নিয়মিত চুলের যত্ন
উপাদান যত ভালোই হোক, নিয়মিত তেল ব্যবহার না করলে পরিপূর্ণ যত্ন হয় না। আসল সমস্যাটা এখানেই। ব্যস্ততার ভিড়ে আমাদের অনেকেরই নিয়মিত তেল ব্যবহার করা হয়ে ওঠে না। ব্যস্ত দিনে প্রায়ই এটা বাদ পড়ে যায়। কেউ ভাবেন পরে দেবেন, কিন্তু সেই ‘পরে’ অনেক সময়ই আর আসে না।

হিমানী নবরত্ন প্লাস হেয়ারফল কন্ট্রোল কুলিং হেয়ার অয়েল ঠিক এখানেই আলাদা। মাথায় অ্যাপ্লাই করার সাথে সাথে স্ট্রেস দূর করে আপনাকে ঠান্ডা অনুভূতি দিবে আর আপনার নিজেকে ফ্রেশ লাগবে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাইরে থেকে ফিরে এই শীতলতা বাড়তি স্বস্তি দেয়। আর যে কাজে আরাম পাওয়া যায়, সেটা নিয়মিত করতেও ইচ্ছা করে। তেল দেওয়া তখন আর ঝামেলা থাকে না, দিনের একটি আরামের মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

সহজ ব্যবহার, সময়ও কম লাগে
এই তেল ব্যবহারের নিয়মও সহজ। হাতে পরিমাণমতো তেল নিন। আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে আলতো করে গোল গোল করে ম্যাসাজ করুন। পুরো মাথায় সমানভাবে ছড়িয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

এ জন্য আর আলাদা কোনো সময় বের করতে হবে না। গোসলের আগে হাতে যেটুকু সময় থাকে, সেটুকুই যথেষ্ট। সকালে চা খেতে খেতে তেল ব্যবহার করে নিন, কিংবা রাতে টিভি দেখার ফাঁকে। ছুটির দিনে পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে তেল দেওয়ার পুরোনো আনন্দটাও ফিরিয়ে আনতে পারেন। শুধু খেয়াল রাখুন, যত্নটা যেন নিয়মিত হয়; দু-এক দিন পরে থেমে গেলে চলবে না।

সাথে ছোট কিছু অভ্যাসও চুলের যত্নে বড় ভূমিকা রাখে। ম্যাসাজের সময় জোরে ঘষাঘষি বা টানাটানির দরকার নেই; আলতো ছোঁয়াই যথেষ্ট। ভেজা চুলে জোরে চিরুনি চালাবেন না, তোয়ালে দিয়েও জোরে ঘষবেন না। বার বার হিট দেওয়া এড়িয়ে চলুন। চুল খুব শক্ত করে বাঁধার অভ্যাস থাকলে, সেটাও একটু আলগা করুন। নিয়মিত তেল দেওয়ার পাশাপাশি এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে চুলের যত্ন আরও সহজ হবে।

পরিবারের সবার এক তেল ব্যবহার করা 
হিমানী নবরত্ন প্লাস হেয়ারফল কন্ট্রোল কুলিং হেয়ার অয়েল মূলত নারীদের জন্য হলেও, পুরুষরাও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। চুল লম্বা হোক বা ছোট হোক, ব্যবহার করতে পারবেন সবাই। কেউ মূলত চুল পড়া নিয়ে ভাবেন, কেউ ভাবেন রুক্ষ চুল নিয়ে, কেউ আবার গরমে শুধু একটু আরাম চান; এই তেল পূরণ করে সবার চাওয়াই। সবারই আছে রোদ আর ব্যস্ততা। তাই পরিবারের সবাই এই তেল ব্যাবহার করে নিজের যত্ন নিতে পারবেন।

নিয়মিত যত্নে চুল ভালো থাকলে সকালে আয়নার সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতিও বদলে যায়। চিরুনির দিকে তাকাতে তখন আর ভয় লাগে না। অনুষ্ঠান, বিয়ের দাওয়াত কিংবা অফিসের মিটিং, সাজতেও ভালো লাগে।  আসল কথা, এই তেল ব্যবহারে দিনভর রোদ-গরমের পর আপনি পাচ্ছেন কুলিং রিফ্রেশিং মুড। তাই ব্যস্ত দিনের মাঝে নিজের চুলের যত্নে একটু সময় বের করে চুলের যত্ন নিন এবং চুল পড়া বন্ধ করুন। তাই আপনি আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য বেছে নিন হিমানী নবরত্ন প্লাস হেয়ারফল কন্ট্রোল কুলিং হেয়ার অয়েল।

প্রতিদিন হাততালি দিলে যে ৫ উপকার পাবেন

০

প্রতিদিন হাততালি দিলেই বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। কারণ হাতে রয়েছে অসংখ্য স্নায়ু এবং রক্তনালীর প্রান্ত, যেগুলোকে বলা হয় আকুপ্রেশার পয়েন্ট। হাততালি দিলে সেই অংশগুলোতে ঘষা লাগে, চাপ পড়ে। তার ফলে স্নায়ু সক্রিয় হয়।

যেসব উপকার পাবেন

রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে: ছন্দ মেনে তালি বাজালে সারা শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। এর ফলে দেহের প্রতিটি অংশ ও কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায়, যা হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

মনমেজাজ ভালো থাকে: এই অনুশীলনে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। তালি বাজালে শরীরে ‘এন্ডরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা মন ভালো করে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখতেও হাততালি দিতে পারেন।

শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি: হাতের তালুর নিয়মিত সঞ্চালন অস্থিসন্ধির জড়তা কাটায় এবং পেশি শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে অস্থিসন্ধি সচল থাকে, শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায় এবং পেশির আঘাতের আশঙ্কা কমে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: তালি বাজানোর শারীরচর্চাতে অল্প হলেও ক্যালোরি ক্ষয় হয়। সহজ অভ্যাসটি মেদ ঝরাতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষে সাহায্য করে।

শরীর ঝরঝরে রাখে: তালি দেওয়ার অভ্যাস লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ বা শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। দূষিত পদার্থ বের হলে শরীর তো ভালো থাকবেই।

হাততালি দিতে হবে সঠিক নিয়ম মেনে 
আনন্দবাজার পত্রিকায় বলা হয়েছে, সকালের দিকেই হাততালির অভ্যাস করা ভালো। হাতে নারকেল তেল বা পছন্দের যেকোনো তেল হালকা মালিশ করে নিন। শিরদাঁড়া সোজা করে পদ্মাসন বা বজ্রাসনে বসে হাততালি দেওয়া অভ্যাস করুন। প্রথমে ২-৩ মিনিট। পরের সপ্তাহে ৫ মিনিট। এই ভাবে ১০-১৫ মিনিট হাততালির অভ্যাস করুন।

উপগ্রহ চিত্রে গাজা ধূসর বালুকারাশি ইসরায়েলের গণহত্যার ৩ বছর

০

যেখানে একসময় শৈশবের দুরন্ত কোলাহল আর জীবনের ব্যস্ততা ছিল, আজ সেখানে কেবলই ধূসর বালুকারাশি। গাজার আঁকাবাঁকা গলি, হাজার বছরের প্রাচীন মসজিদ, সবুজ ফসলের ক্ষেত কিংবা ভূমধ্যসাগরের তীরে মাছ ধরার ব্যস্ত চত্বর– সব যেন এখন নিছক ইতিহাসের ধূসর পাতা।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, তিন বছর ধরে চলা ইসরায়েলের গণহত্যার পর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এখন কেবলই এক বিশাল ধ্বংসস্তূপ। গুগল ম্যাপসের নতুন উপগ্রহ চিত্রে ফুটে উঠেছে এমন এক নিদারুণ দৃশ্য, যেখানে দূর থেকে গাজার এক প্রান্তের সঙ্গে অন্য প্রান্তের পার্থক্য করাও অসম্ভব।

ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পুরো অঞ্চলের বসতিগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধান সড়কগুলোর অস্পষ্ট রেখা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। জাতিসংঘের উপগ্রহ কেন্দ্রের (ইউনোস্যাট) সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এক বছর আগে নামমাত্র ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পরও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা থামেনি। বরং তা আরও ৯ শতাংশ বেড়েছে। ফিলিস্তিন শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

তাল আস-সুলতান ও আল-মাওয়াসির চিত্র
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফা একসময় লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ছিল। কিন্তু রাফার পশ্চিমাঞ্চলের জনবহুল তাল আস-সুলতান এলাকাটি আজ বিলুপ্ত। উপগ্রহের ছবিতে ঘরবাড়ির বদলে কেবল বালুর স্তূপ দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, রাফা ও খান ইউনিসের উপকূলীয় বালুময় অঞ্চল আল-মাওয়াসিকে ইসরায়েল তথাকথিত ‘মানবিক এলাকা’ ঘোষণা করলেও সেখানে দফায় দফায় বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা যায়, জনশূন্য অঞ্চলটি এখন প্লাস্টিক ও কাপড়ের তাঁবুতে ঠাসা। সেখানে ঠাঁই নিয়েছে লাখো গৃহহীন ফিলিস্তিনি পরিবার।

ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদ ও গাজা বন্দর 
একসময় গাজার প্রধান কৃষিকেন্দ্র খান ইউনিসে ৫০ হাজারেরও বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলের হামলার মাত্র দুই বছর আগে পুনর্নির্মিত হওয়া ঐতিহ্যবাহী ইন্দোনেশীয় ইস্তিকলাল মসজিদটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে গাজা সিটির ঐতিহাসিক বন্দরটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অথচ এই বন্দরটি প্রায় এক লাখ ১০ হাজার মানুষের জীবিকার কেন্দ্র ছিল।

জাবালিয়া শরণার্থী শিবির
উত্তর গাজার অবস্থা আরও ভয়াবহ। মানবিক সহায়তাবিষয়ক জাতিসংঘ কার্যালয়ের মতে, উত্তরের প্রায় ৯৪ শতাংশ কৃষিজমি বিনষ্ট করা হয়েছে। আটটি বড় শরণার্থী শিবিরের মধ্যে সবচেয়ে বড় জাবালিয়া ক্যাম্পের একের পর এক ব্লক উপগ্রহ চিত্রে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে দেখা গেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের এই বর্বর হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দখলদার দেশটির হামলায় আহত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা বহু মানুষের কোনো হদিস না থাকায় প্রকৃত প্রাণহানি আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই।

ত্রাণ সরবরাহে বাধা 
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা গাজায় প্রচুর ত্রাণ প্রবেশ করতে দিচ্ছে। তবে গাজা প্রশাসন একে বিভ্রান্তিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। চুক্তির অধীনে দুই লাখ ১০ হাজার ৬০০টি ত্রাণের ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও অনুমতি পেয়েছে মাত্র ৭২ হাজার ৮২৬টি (৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ)।
এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর নজিরবিহীন সহিংসতা ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নাবলুসের দক্ষিণে জালুদ গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার শতাধিক ইসরায়েলি দখলদার একযোগে হামলা চালায়।

আদালতের আদেশে প্রায় দুই মাস পর একটি ফিলিস্তিনি পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরে আসার সময়ই এই হামলার শিকার হয়। দখলদাররা সেখানে ঘরবাড়ি ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং এক প্রবীণ নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এই সহিংসতায় বাধা দিতে গিয়ে ইসরায়েলি সীমান্ত পুলিশের তিন সদস্য আহত হন এবং যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গাজার মানচিত্রের এই পরিবর্তন শুধু ভবন ধ্বংস নয়, একটি জাতির ইতিহাস ও স্মৃতি মুছে ফেলার এক নির্মম দলিল।

মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাপ, যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় তেহরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা

০

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথটি পুনরায় চালু করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে দু’পক্ষই। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় তৈরি হওয়া নতুন প্রস্তাব ও ধারণাগুলো কাতারি প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এখন ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

‘পরমাণু প্রশ্নে কিছুটা নমনীয় তেহরান’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। একাধিক পরোক্ষ বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। এসব আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারাও। তারা জানিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে তেহরান কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে। তবে কোন পক্ষ আগে পদক্ষেপ নেবে–তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

শর্ত পূরণ হলে হরমুজ খোলার অঙ্গীকার

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছে তেহরান। শর্ত অনুযায়ী, লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ বন্ধসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সাত দিনের সমন্বিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে। জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ফেরত দিতে হবে এবং তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। এছাড়া ইরানি বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধের অবসান ঘটাতে হবে। পাঁচ দিনের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এরপর সপ্তম দিনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচিসহ দ্বিপক্ষীয় চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হতে পারে।

ছাড় দেওয়ার খবর অস্বীকার ট্রাম্পের

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইরানকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান বিপদে পড়েছে বলেই হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য তাড়াহুড়ো করছে। অন্যদিকে সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না এবং তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে নয়। তবে সার্বভৌমত্বের জন্য লড়তে তারা প্রস্তুত আছে।

সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম তীব্র গতিতে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৭৭ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৯৩ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে।

‘ইরান না পারলে কাউকে তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না’

জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিয়ে ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান যদি তেল বিক্রি করতে না পারে, তবে এই অঞ্চলের অন্য কাউকেই তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। তেহরানের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোও ঝুঁকিতে পড়বে।

‘দুই পক্ষই অনড় থাকলে সংকট কাটার সম্ভাবনা কম’

মধ্যপ্রাচ্যে গত সাত মাসের এই যুদ্ধে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে হুতিরা। সম্প্রতি গোষ্ঠিটি লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজ ও সৌদি অবকাঠামোয় হামলা চালাতে শুরু করেছে। এতে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটন যদি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবিতে অনড় থাকে এবং তেহরান যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে অটল থাকে, তবে সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম।

কানাডা থেকে ৮ মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি বহিষ্কার

কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১৪ হাজার ৮৯৭ জন বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৪০ জন বাংলাদেশি।

কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এসব বহিষ্কার কার্যকর করা হয়।

জাতীয়তা অনুযায়ী বহিষ্কারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটির ৪ হাজার ২২৭ জন নাগরিককে এ সময়ে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর রয়েছে মেক্সিকো-২ হাজার ২৮২ জন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১, কলম্বিয়ার ৫৮০, হাইতির ৫৩৫ এবং রোমানিয়ার ৪৩৩ জন নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩৪০ জন, যা জাতীয়তা অনুযায়ী সপ্তম সর্বোচ্চ।

সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল শরণার্থী আবেদন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানা। এ কারণে আট মাসে ১২ হাজার ৫ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম না মানার কারণে ১ হাজার ৭৯৪ জন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ৮৯৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিবাসন আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে ৮৮ জন এবং অন্যান্য কারণে ১১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারের ধরনেও পার্থক্য রয়েছে। মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার আদেশ, ৩ হাজার ৩০৩ জনের ক্ষেত্রে প্রস্থান আদেশ এবং ৩ হাজার ১৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার-নিষেধাজ্ঞা আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২ হাজার ৬৫৮ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৭০, মার্চে ১ হাজার ৪৩২, এপ্রিলে ১ হাজার ৯১৭, মে মাসে ২ হাজার ৩৬৯, জুনে ১ হাজার ৭৯১, জুলাইয়ে ১ হাজার ৮৩৭ এবং আগস্টে ১ হাজার ৬২৩ জন।

সিবিএসএর পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলমান ছিল। একই সময়ে পুরো কানাডায় বহিষ্কার প্রক্রিয়াধীন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন।

বহিষ্কার প্রক্রিয়াধীন ব্যক্তিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৫ এবং মেক্সিকোর নাগরিক ৬ হাজার ১০২ জন।

সিবিএসএ জানিয়েছে, কানাডায় বৈধভাবে প্রবেশ বা অবস্থানের অধিকার নেই-এমন বিদেশি নাগরিকদের আইন অনুযায়ী দেশ থেকে অপসারণ করা সংস্থাটির দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বহিষ্কার কার্যকর করা হয়।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও বাংলাদেশ ট্রেড ফেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫ম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও চেম্বার বার্ষিক বিজনেস এক্সপো ২০২৬ এবং ৯ম বাংলাদেশ ট্রেড ফেয়ার ২০২৬।

বৃহস্পতিবার  সকাল ৯টায় নিউইয়র্কের বোরো অব ম্যানহ্যাটন কমিউনিটি কলেজে দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হয়।

বাংলাদেশ-ইউএসএ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিইউসিসিআই) এবং গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের যৌথ আয়োজনে মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সহযোগিতা করছে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ার এলএলসি ও ইউএসএ-বাংলাদেশ বিজনেস লিংকস। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘কানেক্টিং গ্লোবাল মার্কেটস, ক্রিয়েটিং অপরচুনিটিজ ফর ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’।

মেলায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীরা অংশ নেবেন। সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্বোধনের পর সকাল সাড়ে ১১টায় গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট, ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স অ্যান্ড রেমিট্যান্সেস ফোরাম এবং বিকেল ৩টায় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করাই মেলার মূল লক্ষ্য। এবারের আয়োজনে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

২০১৬ সালে বাংলাদেশি পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে ট্রেড ফেয়ারের যাত্রা শুরু হয়। ২০২২ সালে এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে যৌথভাবে পঞ্চমবারের মতো এ আয়োজন হচ্ছে।

পূর্ববর্তী আয়োজনে ১৫০টির বেশি কোম্পানি, ৫৪ জন বিশিষ্ট বক্তা ও অতিথি এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ দর্শনার্থী অংশ নেন বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

এবারের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডে ব্যবসা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও কমিউনিটি উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ছয়জন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীকে সম্মাননা দেওয়া হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

টানা দুই দিন কমল সোনার দাম, আজ ভরিতে ২২১৬ টাকা

০

এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম আবার কমানো হয়েছে। আজ সোনার দাম ভরিতে কমেছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা। নতুন দর সকাল ১০টায় কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোনার মূল্যহ্রাসের বিষয়টি জানিয়েছে। তারা বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও মূল বিষয় হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়া। একই সঙ্গে আজ রুপার দাম কমানো হয়েছে।

দাম সমন্বয়ের কারণে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ভালো মানের সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা; ১৮ ক্যারেটের দাম হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা; সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

আজ মূল্যহ্রাসের আগপর্যন্ত সোনার দাম ছিল এ রকম: ২২ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা; ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা; সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।

এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়। গতকাল সোমবার কমানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। আজ কমল ২ হাজার ২১৬ টাকা। ফলে তিন দফায় ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার গয়নার দাম কমল মোট ৬ হাজার ৬৫ টাকা।

সোনার পাশাপাশি আজ রুপার দামও কমেছে। প্রতি ভরিতে দাম কমেছে সর্বোচ্চ ১৭৫ টাকা। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৪ হাজার ৩১৫ টাকা।

দেশের বাজারে সোনার সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন সকালে একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এরপর সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছিল। তারপর আবার বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সোনার বাজার।

বিশ্ববাজারে কী পরিস্থিতি

টানা কয়েক দিন ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে। আজ মঙ্গলবার সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১০ ডলার কমেছে। গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুসারে, আজ সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১২৬ ডলার। ফলে সোনার দাম সাত সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৮৯ ডলারে উঠেছিল।

সামগ্রিকভাবে গত ৩০ দিনে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ২৯০ ডলার কমেছে। গত ছয় মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে প্রায় ৩৯১ ডলার।

সাধারণত অনিশ্চয়তার মধ্যে সোনার দাম বেড়ে যায়, কিন্তু এবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সোনার দাম উল্টো কমেছে। আল–জাজিরার সংবাদে বলা হয়েছে, সোনা সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কেননা তখন সুদ পাওয়া যায়—বিনিয়োগকারীরা এমন সম্পদে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হন।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক পোয়েজ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজর্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শরিফ ওথমান আল–জাজিরাকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনে এর অতটা প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে যাঁরা মূল্যস্ফীতি থেকে সুরক্ষা পেতে সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, বিশেষ করে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়।’

শরিফ ওথমান আরও বলেন, ‘সোনা থেকে সুদ পাওয়া যায় না। তাই ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এতে সোনার দামেও প্রভাব পড়ে।’

মিশিগানে মেয়েকে গাড়ী চালানো শিখাতে গিয়ে প্রাণ গেলো বাংলাদেশি বাবার

০

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে নিজের মেয়ের চালানো গাড়ির ধাক্কায় মোহাম্মদ আব্দুর রহিম (৬২) নামে এক বাংলাদেশির করুণ মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে ওয়ারেন শহরের ওয়ার্নার অ্যাভিনিউর ২৪ হাজার ব্লকের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিকঅনডেট্রয়েট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় মেয়েটি গাড়ি পার্ক করার অনুশীলন করছিল। একপর্যায়ে গাড়িটি অসাবধানতাবশত নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবাকে ধাক্কা দেয় এবং কিছু দূর টেনে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আব্দুর রহিমকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ওয়ারেন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর মেয়েটি ঘটনাস্থলেই অবস্থান করে তদন্ত কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। তাঁর দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে প্রাথমিক আলামতের মিল পাওয়া গেছে এবং এই ঘটনায় মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহারের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ঘটনাটি ওয়ারেন পুলিশের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট তদন্ত করছে।

পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় প্রকাশ না করলেও বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংগঠন ‘আমেরিকা বাংলা কমিউনিটি’ সূত্রে নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম ও তাঁর বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কমিউনিটি ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুর রহিমের দেশের বাড়ি ঢাকার ধানমন্ডিতে। প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তাঁর ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

মিশিগানের প্রবাসীদের মধ্যে আব্দুর রহিমের এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বর্তমানে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গাপূজায় মিলবে টানা ৫ দিনের ছুটি

০

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় ২ দিনের ছুটি নির্ধারিত আছে। পূজার ছুটির পর একদিন অফিস খোলা থাকবে, এরপর আবার ২ দিন সাপ্তাহিক ছুটি। এসব বিবেচনায় পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে একদিনের কর্মদিবসও ছুটি ঘোষণা সরকারের বিবেচনায় আছে।

সরকার একদিন ছুটি ঘোষণা করলে পূজা উপলক্ষে টানা ৫ দিনের ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা যায়, ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে এবং ২১ অক্টোবর দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে। এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস খোলা। পরের দুইদিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোঃ মোস্তফা জামান সমকালকে বলেন, দুর্গাপূজায় নির্বাহী আদেশে ২২ অক্টোবর বাড়তি ছুটি দেওয়ার চিন্তা করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে এই ছুটির জন্য পরবর্তীতে কোন শনিবারে অফিস খোলা রাখা হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাঠানো হবে। বৈঠকে এটি অনুমোদিত হলে একদিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানান তিনি।

২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা হলে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন।

এলপিজির দাম নিয়ে ভোগান্তি সরবরাহ কম

০

রান্নার গ্যাসের বাজারে আবারও অস্বস্তি। সরকারি দরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু নগরের খুচরা বাজারে সেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা বেশি পর্যন্ত ।

কোথাও কোথাও দাম উঠেছে ২ হাজার ২০০ টাকায়ও। বেশি দাম দিয়েও অনেক দোকানে মিলছে না সিলিন্ডার। ফলে আবাসিক পর্যায়ে ক্রেতাদের বাড়ছে ভোগান্তি ।

আমদানিকারকদের ভাষ্য মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্তিতিতে দেশীয় পর্যায়ে আমদানি কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো পাওয়া কঠিন হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরকেন্দ্রিক নৌপথে অস্থিরতায় বেড়েছে জাহাজভাড়া ও কার্গো প্রিমিয়াম । এর সঙ্গে পাইপলাইনের গ্যাস সংকটে এলপিজির চাহিদা বাড়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন চাপ।

 

বাড়তি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা

নগরের বাকলিয়া, কোতোয়ালি, চকবাজার, চান্দগাঁও এর বিভিন্নস্থানে ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে এলপিজির সরবরাহে কিছুটা টান রয়েছে। অনেক ডিলার সরবরাহ করছে না। যার ফলে একই ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। কোথাও দোকানে সিলিন্ডার আছে, কিন্তু দাম বেশি। আবার কোথাও দোকান খোলা থাকলেও বিক্রির মতো সিলিন্ডার নেই ।

বাকলিয়ার কালামিয়া বাজার এলাকার সিলিন্ডার ব্যবসায়ী মো. নাঈম উদ্দীন বলেন, ‘গত কয়েক দিনের মধ্যেই এলপিজির সরবরাহের পরিস্থিতি বদলে গেছে। ডিলারদের কাছ থেকে আগের মতো নিয়মিত সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দোকানে খালি সিলিন্ডার জমছে। যদিওবা নানা লবিংয়ে কোন কোম্পানির সরবরাহ পাওয়া যায়, আমাদেরকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত দরে ডিলাররা আমাদের এলপিজি সিলিন্ডার দিচ্ছে না। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে ক্রেতার ওপর।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮০০ টাকার ওপরে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দরে কোথাও নেই, আমরা কিভাবে বিক্রি করবো?’

একই থানাধীন চাক্তাই এলাকার মদিনা এন্টারপ্রাইজ এর মালিক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘ওমেরা, টোটাল, বিএম, আইগ্যাস ও ফ্রেশসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি । ব্র্যান্ডভেদে দামের পার্থক্যও রয়েছে। সরকারি দরে খুচরা বিক্রেতার কাছে পণ্য না এলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছি না।’
এভাবে নগরের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার বাড়তি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিজেন্সি গ্যাস হাউসের ডিলার মো. মহসিন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহের মতো সময় ধরে নিয়মিত সিলিন্ডার সরবরাহ হচ্ছে না । ডিলার পর্যায়ে পণ্য না আসায় খুচরা পর্যায়ে প্রভাব পড়ছে । ফলে বাজারে শুধু দাম বাড়ছে না, কোথাও কোথাও পণ্যের উপস্থিতিই কমে যাচ্ছে।’

সরকারি দর কমেছে, বাজারে বেড়েছে

সিলিন্ডারের বাজার তদারকি করে জানা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটর কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম বাড়ায়নি। বরং কমিয়েছে। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আগস্টের ১ হাজার ৫৯৮ টাকা থেকে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রতি কেজি দাম ধরা হয়েছে ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। নতুন দর চলতি মাসের ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয় । কিন্তু সেই দরে নগরের কোথাও মিলছে না কোন সিলিন্ডার।

জানা যায়, বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস, পরিবহন ব্যয়, ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম ও ডলার বিনিময় হার বিবেচনা করে মাসিক মূল্য নির্ধারণ করে। সেপ্টেম্বরের জন্য সৌদি সিপির গড় মূল্য ছিল প্রতি টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। কিন্তু সরকারি দর আর বাজারদরের মধ্যে এখন ব্যবধান ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে প্রশ্ন উঠেছে – এই অতিরিক্ত টাকা কোথায় বাড়ছে?
–
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, সেপ্টেম্বরের বাজারে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে আমদানি করা পণ্য না পাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। অক্টোবরেও পর্যাপ্ত কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে বাজারের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

আমদানি কমেছে ২৫ শতাংশ

তবে সংকটের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর মধ্যে আমদানি কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন আমদানিকারকরা। আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত এসেছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন। অর্থাৎ গত এক মাসের তুলনায় আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন বা ২৫ শতাংশ ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে আগস্টে ১৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছিল। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানিকারকের সংখ্যা ৯টিতে নেমেছে। ওই সময় পর্যন্ত আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন।

এছাড়া দেশে এলপিজি খাতে ৫২টি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৩২টির নিজস্ব বোতলজাতকরণ কারখানা আছে । ২৩টি প্রতিষ্ঠানের আমদানির সক্ষমতা থাকলেও নিয়মিত আমদানি করে মূলত ৮ থেকে ৯টি প্রতিষ্ঠান। ফলে কয়েকটি বড় আমদানিকারকের আমদানির ওপর বাজারের সরবরাহ অনেকটাই নির্ভরশীল।

কার্গো আছে, গ্যাস নেই

তবে সিলিন্ডারের সংকটের মূল কারণ হিসেবে একেক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য একক রকম। মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সায়েদ রাজা বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো পাওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য থাকলেও সেটি বাংলাদেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় জাহাজ ও নিরাপদ রুট নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে এলপিজি আনার ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ রুট। সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই রুটগুলোতে বাধা তৈরি হওয়ায় বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে । এতে পথ দীর্ঘ হচ্ছে, পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ওমান, মালয়েশিয়া ও নরওয়ের মতো বিকল্প উৎস থেকে সীমিত পরিমাণে পণ্য আসছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আবু সায়েদ রাজার ভাষ্যমতে, আরেকটি বড় সমস্যা চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ। কিছু সরবরাহকারী চুক্তিতে থাকা পুরো পরিমাণ এলপিজি দিতে পারছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাসিক পরিমাণের প্রায় ২০ শতাংশ কম সরবরাহের কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ আমদানিকারক বেশি দাম দিতে রাজি থাকলেও সবসময় পণ্য নিশ্চিত করতে পারছেন না বলে জানান তিনি ।

প্রিমিয়াম ১৬০ থেকে ৪০০ ডলার

এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি, জাহাজ, বিমা, পরিবহন এবং কার্গো প্রিমিয়ামও বড় ব্যয় বেড়েছে বলে জানান এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এলওএবি) এর সদস্যরা। সংগঠনটির সদস্যদের দেয়া তথ্য মতে, আগে আমদানির হিসাবের মধ্যে প্রতি টনে প্রায় ১৬০ ডলারের প্রিমিয়াম ধরা হলেও এখন বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে।

কিছু আমদানিকারক চুক্তির তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম পণ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন । বিইআরসির নির্ধারিত খুচরা মূল্য যদি আন্তর্জাতিক ব্যয়ের দ্রুত পরিবর্তনকে প্রতিফলিত না করে, তাহলে আমদানিকারকের সামনে দুটি পথ থাকে, বেশি দামে পণ্য এনে লোকসান দেওয়া, অথবা আমদানি কমিয়ে দেওয়া। আমদানি কমলে আবার বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়। সেই ঘাটতি খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ার চাপ তৈরি করে বলে জানান সংগঠনটির সদস্যরা।

বিএম এনার্জির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন মঈনুল আহসান খান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ফ্রেইট ব্যয় বিইআরসির হিসাবের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বেসরকারি এলপিজি আমদানিকারকদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ থাকলেও সরকারি পর্যায়ে এলএনজি আমদানির মতো এলপিজিতে সরাসরি ভর্তুকির সুযোগ নেই। অক্টোবরের জন্য কিছু এলপিজি সংগ্রহ করা গেলেও এতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।’

ওমেরা আনল ৩০ হাজার টন

বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওমেরা পেট্রোলিয়াম সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজীম চৌধুরী জানান, ‘উৎপাদক পর্যায় থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্য রাখার চেষ্টা করছে ওমেরা। সব প্রতিষ্ঠান একই হারে সরবরাহ সংকটে পড়েনি। কারও কাছে আমদানির পণ্য এসেছে, কারও ক্ষেত্রে চুক্তির পুরো পণ্য আসেনি। ফলে ডিলার পর্যায়ে ব্র্যান্ডভেদে সরবরাহের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।’

গ্যাস সংকট বাড়াচ্ছে এলপিজির চাহিদা

আগস্টেও শুরু থেকে নগরে কমেছে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ। যার ফলে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, কারখানা ও আবাসিক পর্যায়ে সংকটের প্রভাব দেখা গিয়েছিল। যা সরবরাহ সংকট সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেও পুরোপুরি কেটে উঠেনি। এদিকে গ্যাসের চাপ কমলে রান্না, শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে বিকল্প জ্বালানির প্রয়োজন বাড়ে। এর একটি বড় অংশ পূরণ করছে এলপিজি।

তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। প্রায় ১ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। মোট ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ যায় রান্নার কাজে। ফলে সরবরাহে সংকট দেখা দিলে সরাসরি প্রভাব পড়ে।

বিইআরসি সদস্য মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘চলতি মাসে বেসরকারি উৎপাদকদের সরবরাহ প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টনে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার টন । অর্থাৎ উৎপাদন ও সরবরাহ একেবারে কমে গেছে, এমন নয়। কিন্তু পাইপলাইনের গ্যাস সংকটের কারণে এলপিজির অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ায় বাজারে চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদকদের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে।’