Home Blog Page 41

টেকনাফ সীমান্তে বিস্ফোরণের শব্দ, কেঁপে উঠল ঘরবাড়ি

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে সীমান্তবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি। এতে টেকনাফ জাদিমুড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত আশপাশের জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর চার দফা ভারী মর্টারশেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে সীমান্তবর্তী এলাকা।

শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. আনিছুর রহমান বলেন, হঠাৎ ভয়াবহ ঝাঁকুনি অনুভব করি। মনে হচ্ছিল, যেন পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠছে। পরপর চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদীর ওপারে আগুনের লেলিহান শিখাও দেখা গেছে। মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, আগুনের ঝলক আমাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। বিস্ফোরণটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আরাকান আর্মির ছোড়া মর্টার শেলের বিস্ফোরণ হতে পারে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, বহুদিন পর মিয়ানমারে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর প্রভাব টেকনাফ সীমান্তেও পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে মানুষের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। অনেকে আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য এমন পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগের।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে মর্টারশেল ও মুহুর্মুহু গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আরাকান আর্মির দখলে থাকা রাখাইন রাজ্যে আবার হামলা শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। একইদিন সকালে জান্তা সরকার রাখাইনে বুথে এলাকায় বিমান হামলা চালায়।

টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মো. ইসলাম বলেন, প্রায় সাত মাস পর আবারও মিয়ানমারের দিক থেকে গোলাবর্ষণের শব্দ শুনলাম। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে চারবার বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রথমে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। পরে বুঝতে পারি, সীমান্তের ওপার থেকেই বিস্ফোরণের শব্দ আসছে।

এ বিষয়ে টেকনাফের সাবরাংয়ের ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, বহু দিন পর মিয়ানমারে আবারও যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যার কারণে টেকনাফের সীমান্ত এলাকা কেঁপে উঠেছে। অনেকে ভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি ২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আজ রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু এলাকার সীমান্তের ওপারে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ওই গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা যাচ্ছে। যার কারণে অনেক স্থানে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে আমি নিজেই সীমান্ত এলাকায় যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। তবে প্রাথমিকভাবে জেনেছি শাহপরীরদ্বীপ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি চলছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

আদাবরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব, বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদশা মিয়া নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতের এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) নামের আরেক বিএনপি নেতা। পুলিশ বলছে, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার রাতে নবোদয় হাউজিংয়ে ব্রাজিল ও জাপানের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মারামারি হয়। নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া একপক্ষ এবং একই এলাকার রিপন ও পারভেজ আরেকপক্ষ।

বুধবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষই মীমাংসার জন্য নবোদয় হাউজিংয়ে সালিশের জন্য বসে। কোনো সমাধান না হওয়ায় সাদ্দাম ও বাদশা রাত ৮টার দিকে সেখান থেকে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় পথের মধ্যে তাদের ওপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে। পরে তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বাদশাহকে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা সমকালকে বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারি হয়। পরবর্তীতে তারা নিজেরায় মিটমাট করে নেওয়ার জন্য সালিশে বসেছিল। কিন্ত সমাধান না হওয়ায় দু’জনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া মারা গেছেন। সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মেসির আমেরিকান রূপকথার শুরু যেখানে

যাত্রী নামিয়ে ফিরে যেতে যেতে উবার চালক যা বলে গেলেন, তা অনেকটা এ রকম– ‘ভাই, ওরা তো সবাই চলে গেছে নতুন বাড়িতে। এখানে আর কেউ থাকে না এখন।’ ঠিক তাই; ইন্টার মায়ামি তার পুরোনো মাঠ চেস স্টেডিয়াম ছেড়ে এখন নতুন ঠিকানা ‘ন্যু স্টেডিয়াম’-এ। তবু কোথাও গিয়ে এই চেজ স্টেডিয়ামেই গন্ধ শোঁকা যায় লিওনেল মেসির। তাঁর পায়ের চিহ্ন খুঁজে নেওয়া যায়। তাই হিউস্টন থেকে এই শহরে পা রেখেই ছুটে আসা মেসির বাড়ির আদি মাঠে! চোখে দেখে উত্তর খুঁজে নেওয়া– প্যারিসের সেই করপোরেট ফুটবলের আকাশ ছেড়ে কেন আটলান্টিক পাড়ের এই নোনা শহরে এসেছিলেন মেসি? কীসের টানে এই চেজ স্টেডিয়ামকেই দ্বিতীয় বাড়ি বলে মেনে নিয়েছিলেন?

আমেরিকার এই রৌদ্রকরোজ্জ্বল শহরে যখন বিকেল ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামে, তখন ফোর্ট লাউডারডেলের এই পুরোনো চেস স্টেডিয়ামের চারপাশটা বড্ড বেশি নিঃসঙ্গ লাগে। গা ছমছম করা একটা নীরবতা। দুটি কথা বলার জন্য মানুষ নেই সেখানে। অথচ আড়াই বছর আগের একটা জুলাইয়ের সন্ধ্যায় কী জলসাই না হয়েছিল এখানে! এই মাঠ থেকেই শুরু হয়েছিল মেসির ‘আমেরিকান ড্রিম’। সেদিনের সেই মেসিকে বরণ করে নেওয়ার সন্ধ্যায় আকাশ ভেঙে নেমেছিল বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া; যেন প্রকৃতিও জানত কোনো সাধারণ মানুষ না, মায়ামির এই মাঠে পা রেখেছেন ফুটবলের ঈশ্বর! সেদিন সমস্ত ঝড়-জল উপেক্ষা করে গ্যালারিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। আর যখন সেই চেনা জাদুকর গায়ে গোলাপি জার্সি চাপিয়ে মাঠে ঢুকলেন, পাশে দাঁড়ানো ডেভিড বেকহামের চোখের কোণটা চিকচিক করে উঠেছিল। ‘আপনি তো এখন ভেতরে যেতে পারবেন না’– সম্বিত ফিরে পেছনে তাকাতেই এক নিরাপত্তারক্ষীর গলা। ‘সেটি জানি’– উত্তরের পর বেড়ে যায় কৌতূহল, ‘এখানে কি এখন মেসিরা আর আসেন না খেলতে?’ বাংলাদেশি সাংবাদিক আর ফিফা বিশ্বকাপ কাভার করতে এসেছি শুনে কথা বলতে উৎসাহ পান তিনি। ‘স্টেডিয়ামে খেলা না হলেও এখানে এই অনুশীলন গ্রাউন্ডেই তারা প্রতি সপ্তাহে অনুশীলন করেন।’

চেস স্টেডিয়ামের খাঁ খাঁ করা গ্যালারি আর নিঃসঙ্গতার ঠিক পাশে চোখ ফেরালেই ইন্টার মায়ামির অফিসিয়াল প্র্যাকটিস ডেরা, যার নাম ‘ফ্লোরিডা ব্লু ট্রেনিং সেন্টার’। প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত বিশ্বমানের স্পোর্টস কমপ্লেক্স। বোঝা যায়, গল্পটা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। ইন্টার মায়ামি তাদের অফিসিয়াল ম্যাচের জন্য মায়ামি ফ্রিডম পার্কের সেই ঝাঁ-চকচকে ‘ন্যু স্টেডিয়ামে’ চলে গেছে বটে, কিন্তু লিওনেল মেসির প্রতিদিনের ফুটবল সাধনার আসল মন্দিরটা আজও রয়ে গেছে এই পুরোনো চত্বরেই। রোজ সকালে যখন পামগাছের পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়ে এই ট্রেনিং গ্রাউন্ডের সাত-সাতটি নিখুঁত পিচে, তখনও সেখানে এসে থামে কালো কাচঢাকা বিলাসবহুল গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে আসেন সেই চেনা জাদুকর। ম্যাচের চড়া গ্ল্যামার আজ অন্য স্টেডিয়ামে উধাও হতে পারে; কিন্তু মেসির পায়ের ঘাম, লুই সুয়ারেজের সঙ্গে মেট চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আড্ডা দেওয়া আর ফুটবলের নিত্যদিনের যে জ্যামিতি– তার আসল আঁতুড়ঘর আজও এই পুরোনো মাঠের পাশের সবুজগালিচাটাই। স্টেডিয়ামটা হয়তো আজ একা দাঁড়িয়ে ম্যাচ না হওয়ার আফসোসে ভোগে, কিন্তু তার ঠিক পাশেই প্রতিদিন সকালে পরম তৃপ্তিতে নিজের ঈশ্বরকে ছুঁয়ে দেখার আনন্দটুকু আজও মায়ামির এই পুরোনো মাটি হাতছাড়া করেনি!

এখানে ঘাসে কান পাতলে এখনও সুয়ারেজের সঙ্গে মেসির সেই চেনা হাসির শব্দ পাওয়া যায়। অনুশীলন শেষে দুই বন্ধুর গোল হয়ে বসে ‘মেট চা’ খাওয়ার আড্ডা কিংবা লকার রুমে রদ্রিগো ডি পলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সেই বিশ্বকাপ জয়ের গল্পগাথা–এই মাঠের ধুলোবালিতে সব মাখামাখি হয়ে আছে। এই মাঠেই ক্রুজ আজুলের বিরুদ্ধে সেই অবিশ্বাস্য ফ্রিকিকে মায়ামি জীবনের খাতা খুলেছিলেন মেসি। তার পর থেকে এই গোলাপি জার্সিতে গোল আর অ্যাসিস্টের যে সুনামি তিনি তুলেছেন, তাতে এই ক্লাবটার আলমারিতে প্রথম ট্রফিটা (লিগস কাপ) এসে জুটেছে।

মায়ামি এখন আর স্রেফ হলিউডি সিনেমার শুটিং স্পট কিংবা ধনকুবেরদের হলিডে ডেস্টিনেশন নয়। এই শহর এখন বিশ্ব ফুটবলের মক্কা। ইউরোপের রাজকীয় সিংহাসন, প্যারিসের সেই বিষাদময় রাতগুলো ছুড়ে ফেলে মেসি যখন এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। কিন্তু সাগরের নোনাজল আর এই রুপালি সৈকতের শহরে পা রেখেই বোঝা যায়, জাদুকর কেন এখানে এসেছিলেন। তিনি একটা আশ্রয় খুঁজছিলেন, যেখানে ফুটবল থাকবে, অথচ প্রতিমুহূর্তে মিডিয়ার কর্কশ আলো তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে খুবলে খাবে না। যে উত্তরের খোঁজে আসা হয়েছিল এখানে, উবার অ্যাপসে হোটেলে ফেরার কল দিতে দিতে মনে হলো সেটি বোধ হয় পেয়ে গিয়েছি।

ইতিহাসের দুয়ারে স্কালোনি

ফুটবল একটি জাতিকে আনন্দ-বেদনার আবেগে ভাসায়। ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করতে হয় অনেকটা ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’-এ বসে। যে দল নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ বেশি, কোচদের টিকে থাকা তত ঝুঁকিপূর্ণ। জাতীয় দল তো বটেই, এমনকি শীর্ষ সারির ক্লাবগুলোতেও দীর্ঘ মেয়াদে কোচের দায়িত্ব পালনে রাজকপালই লাগে বটে। খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে শুরু করে পারফরম্যান্স– কোথাও পান থেকে চুন খসলেই যেন রক্ষা নেই। সবার আগে কোচকে শুনতে হয়, ‘ইউ ফায়ারড।’ সে ক্ষেত্রে ফুটবলে জীবনের সুখ খোঁজা আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে সেঞ্চুরির মাইলফলক লিওনেল স্কালোনির জন্য অসাধারণ এক অর্জন হতে যাচ্ছে।

শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার হার্ডরক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। যে ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়ালেই জাতীয় দলের হয়ে শততম ম্যাচে দায়িত্ব পালনকারী কোচদের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাবেন স্কালোনি। ইতিহাস গড়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে স্কালোনির কেমন অনুভূতি হচ্ছে? শনিবার রাতে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম দিনে যেমনটি ছিলাম, আজও ঠিক তেমনিই আছি।’ দুর্বল প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে নির্ভার কিনা– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ৪৮ বছর বয়সী এই কোচ জানান, (দলের) প্রতিটি ম্যাচ চলাকালেই মনের ভেতর একটা অনুভূতি কাজ করে। পেটের ভেতর সব সময়ই এক ধরনের টান বা উত্তেজনা অনুভব করেন। আর আসলে সহজ ম্যাচ বলেও কিছু নেই।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তে দলের বাজে পারফরম্যান্সে কোচ জর্জ সাম্পাওলি চাকরি হারালে অন্তর্বর্তীকালীন হেড কোচের দায়িত্ব পান সাম্পাওলির সহকারী স্কালোনি। এরপর দলের খোলনলচে বদলে দিয়ে মাত্র চার বছরেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা দলে পরিণত করেন জাতীয় দলের সাবেক এই ডিফেন্ডার। যুগসেরা তারকা লিওনেল মেসিকে সঙ্গী করে দলকে একের পর এক বিজয়ে নেতৃত্ব দেন স্কালোনি। ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে বড় আসরে আলবিসেলেস্তেদের ২৮ বছরের শিরোপা-খরার অবসান ঘটান। পরের বছর কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ব্যাক টু ব্যাক কোপা শিরোপা এনে দেন। একই সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ‘ফিনালিসিমা’ ট্রফিও জেতে আলবিসেলেস্তেরা। তাঁর অধীনে ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নতুন রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা।

পরিসংখ্যান বলছে, স্কালোনির আগে মাত্র একজন কোচ ডাগআউট থেকে আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার সেঞ্চুরি গড়েছেন। তিনি হলেন গিলের্মো স্তেবিলে। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের তোলার নায়ক গিলের্মো। যিনি ফাইনাল ম্যাচে গোল করাসহ ওই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। এই সেন্টার ফরোয়ার্ডই ১৯৩৯ সালে আলবিসেলেস্তে দলের কোচের দায়িত্ব পান। টানা ২১ বছর দায়িত্ব পালনকালে ১২৭টি ম্যাচে ডাগআউটে থেকে আর্জেন্টিনাকে পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে না পারলেও ছয়বার মহাদেশীয় আসর সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতান।

আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে কোচ স্কালোনির দায়িত্বকাল অন্যতম স্বর্ণযুগ হিসেবে এরই মধ্যে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এ পর্যন্ত ৯৯ ম্যাচে ডাগআউটে থেকে দলকে ৭২ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন। এ ছাড়া ১৮ ম্যাচ ড্র করেছেন। আর পরাজয় দেখেছেন হাতের আঙুল গুনে মাত্র ৯ বার।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আজ

দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে আজ বৃহস্পতিবার একযোগে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। শুধু কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নেবে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী।

এবারই প্রথম কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এ ছাড়া নকল প্রতিরোধে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সেল থেকে দেশের যে কোনো প্রান্তের পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৮ আগস্ট। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসির (ভোকেশনাল) তাত্ত্বিক পরীক্ষা ২৫ জুলাই, বিএমটির তাত্ত্বিক পরীক্ষা ১ আগস্ট এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তাত্ত্বিক পরীক্ষা চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত। এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪, যা গত বছরের চেয়ে ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। চার হাজার ৮৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী এক হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও বিএমটি পরীক্ষায় অংশ নেবে এক লাখ সাত হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী। এক হাজার ৮৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে।

জানা যায়, এবার ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। মোট পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা দুই হাজার ৬৯৭ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৩৯টি।

২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের কারণে ২০২৭ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা যাচ্ছে না। নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য এরই মধ্যে একটি কমিটি করা হয়েছে।

দুই সন্তানসহ নিখোঁজ মা, ৯ দিনেও মেলেনি সন্ধান

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দুই সন্তানসহ জুলি বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। ২১ জুন রাতে দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর গত ৯ দিনেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ অপর দুজন হলেন–জুলি বেগমের মেয়ে ফাইজা ও ছেলে আজান।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের পারিবারিক কলহ বা মনোমালিন্য ছাড়াই গত ২১ জুন রাতে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান জুলি বেগম। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও গভীর রাতে সন্তানদের নিয়ে তাঁকে হেঁটে চলে যেতে দেখা গেছে।

জুলি বেগমের স্বামী আজাদ মিয়া জানান, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের ঝগড়াঝাটি ছিল না। ঘটনার পর থেকে আত্মীয়-স্বজন, হাসপাতালসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছেন। কোথাও হদিস মেলেনি।

এদিকে জুলি বেগমের বাবার বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে। তাঁর এভাবে নিখোঁজ হওয়ার খবরে স্তব্ধ দুই পরিবার। সন্তানদের ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন আজাদ মিয়া। তারা বলছেন, স্বামীর সংসারে সুখেই ছিলেন জুলি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ সুরমা থানার জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মামুনুর রশীদ জানান, ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সব ধরনের প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান ও মাঠ পর্যায়ের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাদ্রাসাছাত্রকে হাত-পা বেঁধে পেটালেন তিন শিক্ষক, ৫ হাজার টাকায় মীমাংসা

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় একটি হেফজ মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে হাত-পা বেঁধে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং শিশুটির চিকিৎসা খরচ হিসেবে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জুলহাস সরদার (১১) জিয়ানগরের পত্তাশী গ্রামের মিরাজ সরদারের ছেলে। সে পত্তাশী দারুল উলুম নেছার উদ্দিন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে প্রায় দুই বছর ধরে অধ্যয়ন করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সহপাঠীদের সঙ্গে ‘খারাপ আচরণ’ করার অভিযোগে এক সপ্তাহ আগে মাদ্রাসার একটি কক্ষে তাকে হাত-পা বেঁধে বেত দিয়ে পেটানো হয়। এতে মাদ্রাসার তিন শিক্ষক নাজিমা তালিম, সাকিব হোসেন ও ওসমান হোসেন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি জানানো হলে শিশুটির চাচা জামাল সরদারকে ডেকে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সাত দিন পর মঙ্গলবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলী হোসেন, পত্তাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কবির হোসেন খান এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বৈঠকে ডাকা হয়নি বলে জানা গেছে। সালিশে শিশুটির চিকিৎসা খরচ বাবদ ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।

শিশুটির চাচা জামাল সরদার বলেন, ‘আমার ভাতিজাকে নির্যাতনের বিষয় জানালে তারা শুধু ওষুধ খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো শিক্ষকের শাস্তি হয়নি। এলাকাবাসীর চাপে আমরা সালিশের রায় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি।’

তবে সালিশকারীদের একজন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আলী হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ‘খারাপ কাজ’ করায় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং পরে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনার পর বিষয়টি জানতে পেরে সভা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

স্পেনে তাপপ্রবাহে মৃত্যু ছাড়াল ১ হাজার

ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে স্পেনে গত এক মাসে ১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। বুধবার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, জুন মাসে অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত কারণে মারা গেছে ১ হাজার ২৮ জন। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল কেবল ২০১৭ সালের জুনে। দেশটি তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা শুরু করে ২০১৫ সাল থেকে।

নিহতদের প্রায় সবাই বয়োবৃদ্ধ। তীব্র গরমে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ২২ জনের বয়স ৬৫ বছর বা এর বেশি। ৭২০ জনের বয়স ছিল ৮৫ বছরের ওপরে। ১৫ বছরের কম বয়সী মাত্র একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ভূমধ্যসাগরীয় ও উত্তরাঞ্চলের এলাকাগুলোতে। দেশটির এই অঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সঙ্গে অভ্যস্ত নন। এলাকাভেদে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু কাতালোনিয়া অঞ্চলে- ২১৮ জন।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুনের দিকে দাবদাহ শুরু হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরের দিনগুলোতে তা অব্যাহত ছিল।

খামেনির একটি শব্দে যেভাবে ইরানজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলো

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বলা একটি শব্দ দেশটির ঐক্যে যতটা ফটল ধরিয়েছে, তা ৪০ দিনের যুদ্ধও করতে পারেনি। বিতর্ক তৈরি করা সেই শব্দটি হলো ‘আলাল-উসুল’। যার অর্থ- ‘নীতিগতভাবে’।

যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক চুক্তি বা সমঝোতাকে অনুমোদন দেওয়ার ফার্সি ভাষার একটি বিবৃতিতে মোজতবা এই শব্দটি ব্যবহার করেন। চুক্তি অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তিনি এই চুক্তি চাননি। বলেন, ‘নীতিগতভাবে, আমার ভিন্ন মত ছিল।’

দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও শব্দটির রেশ এখনো তেহরানের ক্ষমতা চর্চার কেন্দ্র, গণমাধ্যম ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই শব্দটি ইরানকে একটি মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সেটি হলো- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করা আদৌ উচিত কি না?

শব্দটির নানা ব্যাখ্যা
ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এমন এক শাসনব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যেখানে সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকে একজন সর্বোচ্চ নেতার হাতে। তবে সমঝোতা স্মারকের অনুমোদনে মোজতবার ওই শব্দের ব্যবহার অস্পষ্টতা তৈরি করেছে। ফলে বিভিন্ন গোষ্ঠী এর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে।

এক পক্ষের মতে, এই শব্দটি ইঙ্গিত দেয়- মোজতবা অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্মতি দিয়েছেন। তাঁর মতো সংশয়বাদী নেতা ভেঙে পড়া অর্থনীতি, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং নতুন করে যুদ্ধের হুমকি এড়ানোর পথ হিসেবে কূটনীতিকে বেছে নিয়েছেন।

অন্য পক্ষের মতে, সর্বোচ্চ নেতার বিবৃতিতে ‘ভিন্ন মত’ উল্লেখ থাকাটা চুক্তি প্রতিহতের সবুজ সংকেতকে ইঙ্গিত করে। এই পক্ষের সমর্থকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা একটি ফাঁদ। আলী খামেনিকে হত্যাকারী শত্রুদের কখনোই বিশ্বাস করা যায় না। নতুন কোনো ছাড় দেওয়ার ফাঁদে না পড়ে ইরানের উচিত এই আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসা।

বিবৃতিতে উল্লেখ থাকা মোজতবা খামেনির বার্তা। ইলাস্ট্রেশন: দ্য টেলিগ্রাফের সৌজন্যে

বিবৃতিতে উল্লেখ থাকা মোজতবা খামেনির বার্তা। ইলাস্ট্রেশন: দ্য টেলিগ্রাফের সৌজন্যে

তেহরান থেকে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, বিবৃতির ওই একটি শব্দ বর্তমানে শাসনব্যবস্থার ভেতরে সংকট তৈরি করেছে। এটি কমান্ডারদের, বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ তৈরি করেছে। তারা ভাবছেন মোজতবা এই আলোচনায় খুশি নন। ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কিছু তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সন্দেহ বেড়েছে
পার্লামেন্টে কট্টরপন্থীদের আধিক্যের কারণে এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তেহরানের ওই কর্মকর্তা সন্দেহের উদাহরণ হিসেবে কট্টরপন্থী আলেম ও এমপি মাহমুদ নাবাবিয়ানের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেছেন।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে খামেনির কিছু গোপন চিঠি পড়ে শোনান নবাবিয়ান। তিনি দাবি করেন, চিঠিগুলো প্রমাণ করে চুক্তির আলোচনাকারীরা সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অমান্য করে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছেন।

নাবাবিয়ান এমন দাবি করার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন পরিচালক পদত্যাগ করেন। তেহরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, সাক্ষাৎকারে নবাবিয়ান যা বলেছেন তা সন্দেহের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত সবকিছুকেই বড় ধরনের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।

এই সন্দেহের দোলাচল রণক্ষেত্রেও পৌঁছে গেছে। সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে দায়িত্বরত আইআরজিসির এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এই প্রণালি দিয়ে কারা পার হবে তা আমরা ঠিক করব। এ দায়িত্ব তেহরানের এসি রুমে বসে থাকা কেউ কিংবা ওয়াশিংটনের কোনো কর্মকর্তার নয়। আমরা এখানে আছি এবং আমরাই ঠিক করব কে আসবে আর কে যাবে।’

তেহরান থেকে দ্বিতীয় আরেক কর্মকর্তা টেলিগ্রাফকে বলেছেন, শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পুরো বিষয়কে প্রশ্নবোধক চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি নীরবে যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে আছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তোলা।

এদিকে মোজতবার বিবৃতির একটি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁর শ্বশুর ও সাবেক স্পিকার গোলাম-আলি হাদ্দাদ-আদেল। গত সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, মোজতবা দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই ঐক্যের কথা বলে আসছেন। তাই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশকে বিভক্ত করবেন- এটা ভাবা যায় না।

আদেলের মতে, এই বার্তাটিকে একটি লাইনে সীমাবদ্ধ না রেখে সম্পূর্ণভাবে পড়তে হবে। ‘আলাল-উসুল’ শব্দের ভুল ব্যাখ্যাই বিভেদের কারণ হয়েছে। মোজতবা চুক্তিকে নস্যাৎ করা তো দূরের কথা, তিনি বরং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ইরানি আলোচকদের হাত শক্তিশালী করছেন।

রাজনৈতিক কৌশল
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিবৃতিতে এমন শব্দের ব্যবহার এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশলকে ইঙ্গিত করে। মোজতবার বাবা আলি খামেনিও এমন কৌশল অবলম্বন করতেন। মোজতবা সম্ভবত চুক্তির দায় নিজের কাঁধে নিতে চাননি। তাই তিনি বিবৃতিতে নিজের অবস্থান এমনভাবে তুলে ধরেছেন যা সব অবস্থাতেই তাঁর জয় নিশ্চিত করে।

চুক্তিটি সফল হলে অনুমোদনকারী হিসেবে মোজতবা নিজেও কৃতিত্ব পাবেন। আর যদি ভেস্তে যায়, তবে তিনি নিজের ‘ভিন্ন মত’ থাকার দোহাই দিতে পারবেন। তখন সব ব্যর্থতার দায় বর্তাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ওপর।

আলী খামেনি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময়ও ঠিক এমন কাজ করেছিলেন। তিনি প্রথমে একটি রেড লাইন বা সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সরকারের করা চুক্তিটি যখন ব্যর্থ হয়, তখন আলী খামেনি সেটির দায় নিতে চাননি।

তেহরানের একজন বিশ্লেষক টেলিগ্রাফকে বলেন, অন্তত সাতটি গোষ্ঠী মোজতবার বিবৃতির মূল বক্তব্য থেকে সরে গিয়ে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা তৈরি করছেন। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আছে কট্টরপন্থীরা। তারা চুক্তির আলোচনাকারীদের দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। অপরদিকে আছে সরকারপন্থী গণমাধ্যম। তারা সমঝোতাকে প্রচার করছে জাতীয় বিজয় হিসেবে।

সাতটি গোষ্ঠীর মধ্যে একাংশ আবার মনে করছে, মোজতবার উল্লেখ করা ওই শব্দের হয়তো বিশেষ বা গভীর কোনো অর্থই নেই।

কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাবে, বিশ্বাস প্রেসিডেন্টের

প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপপর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো দলকে রুখে দিয়ে নকআউটের টিকিট পেয়েছে দলটি। সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। রাউন্ড অব ৩২-এ আফ্রিকার দেশটির প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসের কথাই শুনিয়েছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোস মারিয়া নেভেস। তার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারানোর সামর্থ্য রয়েছে তার দেশের।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারবে।’

কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে তাদের অভিষেক আসরেই সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়েছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করে চমক দেখায় তারা। এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষেও ড্র করে নবাগত দলটি। একই সময়ে স্পেনের কাছে উরুগুয়ের পরাজয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা।

অন্যদিকে বিশ্বকাপের শুরু থেকে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপপর্বের সব ম্যাচে জয় নিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

শক্তির বিচারে আর্জেন্টাইনদের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমরা জয়ের জন্যই খেলতে নামবো। যখন কোনো দলের প্রতি প্রত্যাশা কম থাকে, কিন্তু সেই দলের জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকে, তখন অনেক কিছুই সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেপ ভার্দের মতো ছোট একটি দেশের সবসময় মানুষকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমাদের জয়ের শতভাগ সম্ভাবনা আছে।’

নেভেস জানান, কেপ ভার্দের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল সেরা দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করা। নকআউটে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি সেই যাত্রার স্বাভাবিক পরিণতি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিশ্বকাপে এসেছি নিজেদের ভাগ্য নিজেরা লেখার জন্য, আর সেই পথেই এখন আমাদের সামনে চ্যাম্পিয়নদের মোকাবিলা করার সুযোগ এসেছে। তাই একই দৃঢ়তা, একই মানসিকতা এবং জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা আর্জেন্টিনা ও মেসিদের বিপক্ষে মাঠে নামবো। আমাদের লক্ষ্য একটাই, পরের রাউন্ডে ওঠা।’