Home Blog Page 40

তীব্র তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবসের আয়োজন ব্যাহত, রাস্তায় গলে যাচ্ছে জুতার তলা

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা, কনসার্ট ও আতশবাজির মতো বহু অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও এতটাই গরম পড়েছে যে রাস্তায় হাঁটার সময় মানুষের জুতার তলাও নরম হয়ে গলে যাচ্ছে।

রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত গরমের কারণে ডজনখানেক জনসমাগমের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ও শুক্রবার বিকেলে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় তাপমাত্রা ছিল ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ওয়াশিংটনে স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রাও বাতিল করেছে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস। একই কারণে ফিলাডেলফিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘স্যালুট টু ইন্ডিপেনডেন্স প্যারেড’, নিউ জার্সির হ্যাডন টাউনশিপের প্যারেড এবং নিউইয়র্কের ওয়াটারটাউনের কনসার্ট ও আতশবাজির অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে। বোস্টনের নদীতীরের বার্ষিক আতশবাজি উৎসবের প্রবেশ সময়ও চার ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ‘হিট ডোম’ নামে পরিচিত একটি উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে মিডওয়েস্ট থেকে পূর্ব উপকূলজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ১৮ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত সতর্কতার আওতায় ছিলেন। কোথাও কোথাও অনুভূত তাপমাত্রা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কে অতিরিক্ত গরমে ম্যানহাটনের সড়কে হাঁটার সময় অনেকের জুতার তলা নরম হয়ে রাস্তায় আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় চাপ তৈরি হয়েছে। বৃহত্তম বিদ্যুৎ গ্রিড অপারেটর পিজেএম গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে। নিউইয়র্কে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কন এডিসনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন।

আবহাওয়াবিদ ও সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ তাপপ্রবাহ প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই বাইরে অবস্থানকারীদের পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়াযুক্ত স্থানে থাকা এবং হিটস্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে তীব্র গরমও দমাতে পারেনি পপ তারকা টেইলর সুইফট ও ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির ভক্তদের। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা তারকা অতিথিদের একনজর দেখতে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে ভক্তরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে অপেক্ষা করেন।

খামেনির জন্য শোক সমাবেশে ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্য শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশে হাজারো মানুষ তেহরানের মোসাল্লা এলাকায় জড়ো হয়েছেন। খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা আর শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। খবর-বিবিসি

তেহরানে অবস্থানরত এএফপির একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন, খামেনির মরদেহবাহী কফিন মোসাল্লায় পৌঁছানোর আগেই অগণিত মানুষ জড়ো হন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেককে লাল পতাকা ও প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা গেছে। এই রঙটি প্রতিশোধের আহ্বানের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিচ্ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিশাল ওই ধর্মীয় কমপ্লেক্সে কফিন স্থাপনের পর ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং অন্যান্য শোকাহত মানুষ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদনকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ইরাক, আর্মেনিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও শোকযাত্রায় অংশ নিতে সেখানে পৌঁছেছেন। এসব দেশের মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও ওমানও রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন তেহরানকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে দাফন করার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে,‘কারণ আমরা ভালো’। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন জনসাধারণের সামনে আনা হয়। সে সময় কান্নারত সমর্থকদের একটি বড় দল সেখানে উপস্থিত ছিল। শোকগাঁথা গাওয়ার তালে তালে তারা দুলছিলেন এবং মাথায় আঘাত করছিলেন। এ সময় কফিনের ওপর থেকে ফুল ছুড়ে দেওয়া হয় জনতার দিকে। শুক্রবার তার কফিন এবং তার সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিন শায়িত রাখা হয় সেই বৃহৎ নামাজের হলে, যা তার পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সম্মানে নির্মিত হয়েছিল।

ইরানের জন্য খামেনির এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠান এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সমর্থনপুষ্ট ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ থেকে টিকে যাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের বড় শোকযাত্রাগুলোয় লাখো মানুষকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে কর্তৃপক্ষ পরিবহন, খাবার ও থাকার ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছে। সব মিলিয়ে খামেনির প্রতি শোক জানাতে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ইরানি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। খামেনির জানাজার আগে সরকারের দিক থেকে জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা এলেন দেশটির ভেতরে এখনকার মতো বিভাজন এর আগে খুব কম সময়েই এত গভীর ছিল বলে মনে করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থন অত্যন্ত দুর্বল। আর নতুন সর্বোচ্চ নেতা, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে তার বাবার নিহত হওয়ার পর থেকে কোনো নতুন ছবিতে দেখা যায়নি। তিনি ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন। মোজতবা খামেনি তার বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত থাকবেন কি না সে ব্যাপারে এখনো কিছু জানানো হয়নি তার কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে।

ইরানের ওপর বহু বছরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী গণবিক্ষোভের ধারাবাহিকতা ও তীব্রতা বাড়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করেছে। এর পরিণতিতে জানুয়ারিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হন। এই সপ্তাহে সেই গভীর সমস্যাগুলোকে আড়ালে সরিয়ে রেখে কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও ব্যাপক জনসমর্থনের একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

রয়টার্স জানায়, তেহরানের সড়কগুলোয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রধান সড়কজুড়ে মোতায়েন রয়েছে সামরিক ও পুলিশ যানবাহন, আর পুলিশ সদস্য ও কালো পোশাক পরিহিত স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা মোটরসাইকেলে টহল দিচ্ছিলেন। জানাজা চলাকালে কোনো হামলা চালানোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্কও করেছে ইরান। শুক্রবার কফিনগুলো পৌঁছানোর পর, অপেক্ষমাণ জনতার উঁচু করে তোলা হাতের ওপর দিয়ে সেগুলো বহন করে আনা হয়। এরপর জাতীয় পতাকা ও কালো শোকপতাকায় ঘেরা, উঁচু ও সূক্ষ্ম টাইলসের কারুকাজখচিত খিলানাকৃতির একটি অংশের সামনে সাদা ধাপযুক্ত মঞ্চে সেগুলো রাখা হয়।

খামেনির কফিনের ওপর একটি কালো পাগড়ি রাখা ছিল। পাগড়িটি রাখা ছিল ভাঁজ করা একটি চেক নকশার স্কার্ফের ওপর, যা ইরানে বিপ্লবী আদর্শ ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে আসা বিদেশি নেতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের উপপ্রধান হে উই, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি।

ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের ঘনিষ্ঠ লেবানণি মিত্র হেজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ইমাদ মুঘনিয়েহর পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বও—যার মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা শুক্রবার সকালে সেখানে এসে কান্না ও প্রার্থনায় অংশ নেন। একদল জেনারেল কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে সামরিক অভিবাদন জানান। তাদের মধ্যে ছিলেন রেভল্যুশনারি গার্ডের নতুন প্রধান আহমাদ বাহিদি। হত্যাচেষ্টার আশঙ্কায় নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এদিকে, ইরাকের সংবাদ সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে দেশটির রাজধানী বাগদাদে অফিস-আদালত বুধবার বন্ধ থাকবে।

‘ইরান চুক্তি করতে চায়’
এদিকে শুক্রবার রাতে মাউন্ট রাশমোরে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘একটি চুক্তি করতে’ চায়। বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা এক দিনে ভেনেজুয়েলাকে পরাজিত করেছি এবং ইরানকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছি। তারা একটি চুক্তি করতে অত্যন্ত আগ্রহী। এই বিষয়টির সমাধান করতে তারা খুবই মরিয়া। আমরা তাদের দাফনের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি, কারণ আমরা ভালো।

ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ করল মিসর, গাজায় আনন্দের ঢেউ

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেয়েছে মিসর। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাতে টাইব্রেকার রোমাঞ্চে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফারাওরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া ঐতিহাসিক এই জয়টি ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার এমন বার্তার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ধ্বংসস্তূপেও বয়ে গেছে আনন্দের বন্যা।

শনিবার রাতে টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় শেষ হয় অস্ট্রেলিয়া ও মিসরের মধ্যকার খেলা। পরে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অজিদের ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় মিসর। কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার লড়াইয়ে মিসরের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, ‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই জয়কে আমি মিসরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সেই সম্মানিত মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’

মিসরের কোচের সেই বার্তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গাজার অনেক বাসিন্দা মিসরের ঐতিহাসিক জয়ে নিজেদের আনন্দ প্রকাশের পাশাপাশি জয় উৎসর্গ করায় দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এদিকে ধ্বংসস্তূপ আর তাঁবুতে বন্দি হাজারো ফিলিস্তিনি বড় পর্দায় মিসরের খেলা উপভোগ করেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের জয়ের খবর আসতেই গাজাজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের পাশেই অস্থায়ী পর্দায় খেলা দেখছেন গাজার শত শত মানুষ। গাজার ছোট ছোট শিশুদের মুখে আঁকা ছিল মিসরের পতাকা। একেকটি গোলের পর বাঁধভাঙা উল্লাস ফেটে পড়েন তারা।

গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই প্রথম আমি এত আগ্রহ নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। হাজারো মানুষ তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে ম্যাচটি দেখতে জড়ো হয়েছিল। চারপাশের সব কষ্টের মাঝেও কয়েক মুহূর্তের জন্য মানুষ যেন জীবনকে উদযাপন করার সুযোগ পেল।’

এর আগে জয়ের পরই কোচ হোসাম হাসান মাঠে মিসরের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাঠে প্রবেশ করে উল্লাস করেন। এ সময় মিসরের খেলোয়াড়রা মাঠে সিজদায় অবনত হয়ে শুকরিয়া আদায় করেন।

কেপ ভার্দে ম্যাচে যে ১১ রেকর্ড গড়লেন মেসি

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই যেন লিওনেল মেসির নতুন কোনো ইতিহাস। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে সেটারই আরেকটি প্রমাণ মিলল। দলকে শেষ ষোলোয় তুলে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এক ম্যাচেই গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ৩০তম ম্যাচ খেলেন মেসি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার এখন তিনিই।

ম্যাচের ২৯তম মিনিটে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ২০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। একই সঙ্গে চলতি আসরে করেন নিজের সপ্তম গোল।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার নজিরও গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার আগে এই কীর্তি ছিল কেবল হাঙ্গেরির গিওর্গি সারোসি ও ব্রাজিলের ভাভার। একই সঙ্গে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) সাত বা তার বেশি গোল করার রেকর্ডও এখন তার দখলে।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে শুধু গোলই করেননি, অতিরিক্ত সময়ে কর্নার থেকে জয়সূচক আত্মঘাতী গোলের সুযোগও তৈরি করে দেন মেসি। ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান দাঁড়িয়েছে ১২টিতে (৬ গোল, ৬ অ্যাসিস্ট)। এতে পেলে ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে (১১) ছাড়িয়ে এই তালিকার একক শীর্ষে উঠে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

বিশ্বকাপের সর্বশেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচে মেসির সরাসরি গোলে অবদান এখন ১০টি। এই সময়ে তিনি নিজে করেছেন ৬ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি।

আরও একটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন মেসি। ৩৫ বছর বয়সের পর বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৪। এই বয়সের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্য সব ফুটবলার মিলে যেখানে করেছেন ২৫ গোল, সেখানে মেসি একাই করেছেন ১৪টি।

কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার বিপক্ষে গোল করার মধ্য দিয়ে আরেকটি অদ্ভুত রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। গোলদাতা ও গোলরক্ষকের সম্মিলিত বয়স ছিল ৭৯ বছর ৬১ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

একই সঙ্গে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২২টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে খেলেছেন মেসি। কেপ ভার্দেসহ এর মধ্যে ১৪টি দেশের বিপক্ষেই গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

সবশেষে আরেকটি রেকর্ডের খুব কাছেও পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। চলতি বিশ্বকাপে তার গোল এখন ৭টি। আর মাত্র একটি গোল করলেই ১৯৩০ বিশ্বকাপে গুইয়ের্মো স্তাবিলের করা ৮ গোলের এক আসরে কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন মেসি।

বাঁচতে হয় হাতির মত

।।শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।

চৈতালি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী আল ইমরান। মামলার নাম্বার সিআর ২৬৭/২৬. ফৌজদারি মিসকেস/নালিশি মামলা, ঢাকা বা সংশ্লিষ্ট আদালত। অভিযোগ রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। জানা যায় পুলিশ চৈতালিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, গ্রেফতার করেছে কিনা জানা যায়নি। চৈতালির বিরুদ্ধে তোহিদি জনতা বেজায় খ্যাপা।

এরআগে ইউনুস আমলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ৮-দফা আন্দোলন করে জেলে আছেন। বাংলাদেশের পতাকার ওপর হিন্দু ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হলেও এখন আলিফ হত্যা মামলায় জামিন পাচ্ছেন না। পুরো দেশ জানে জামাতিরা এডভোকেট আলিফকে হত্যা করেছে, অথচ ফেঁসে গেছে ঐসময় পুলিশ হেফাজতে থাকা চিন্ময় প্রভু।

আরো আগে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে নালিশ করেছিলেন যে, বাংলাদেশ থেকে ৩৮মিলিয়ন হিন্দু বিতাড়িত। ট্রাম্প জানতে চান কারা এটি করছে? প্রিয়া সাহা উত্তর দেন্, মৌলবাদী মুসলমানরা। ব্যস, পুরো জাতি প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। ব্যারিষ্টার সুমন রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হস্তক্ষেপে প্রিয়া সাহা রেহাই পান, কিন্তু আর দেশে ফিরতে পারেন না?

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা কানাডায় থাকেন। তাঁকে জোরপূর্বক দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি কি আর দেশে ফিরতে পারবেন? প্রিয়া সাহাও নয়! সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে কি অপমানটা-ই না করা হয়েছে। অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিককে অযথা নায়িকা মনীষা কৈরালার সাথে জড়িয়ে রাষ্ট্রদূত পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়, অথচ মনীষা জানতোই না নিম ভৌমিক কে?

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা ও প্রফেসর নিম ভৌমিকের ঘটনায় ডিজিএফআই ও সরকারের একাংশ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলো। চৈতালি ও প্রিয়া সাহার ক্ষেত্রে ঘটনার পরে সরকার জড়িত হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার মৌলবাদীদের পক্ষ নেয়, যদিও বৈশ্বিক কারণে কখনো কখনো কিছুটা নমনীয় থাকতে হয়? প্রিয়া সাহা তখন দেশে থাকলে উন্মত্ত জনতা কি করতো সবাই জানে।

চৈতালি কোন অপরাধ করেনি। ভিডিওতে দেখলাম একজন বলছেন, ছেলে হলে দেখিয়ে দিতাম। অর্থাৎ মেয়ে হওয়ায় চৈতালি বেঁচে গেছেন, তাঁকে ভালুকার দিপু দাসের ভাগ্য বরন করতে হয়নি? পলাশবাড়ীর রবিদাস চন্দ্র তরণীদাস সেক্ষেত্রে কিছুটা ভাগ্যবান। মূলতঃ রামমুর্ক্তি বানিয়ে তিনি ভাল কাজ করেছেন। তবু একথা ভাবার কোন কারণ নেই যে তিনি বিপদ মুক্ত! বাংলাদেশে হিন্দু হওয়াই অপরাধ!

বাংলাদেশের দুই কোটি হিন্দুর কেউই বিপদ মুক্ত নন, যেকোন অজুহাতে যেকেউ যখন তখন বিপদে পড়তে পারেন। এটাই বিধর্মীদের ক্ষেত্রে ইসলামী সুশাসন। একবিংশ শতাব্দীর শেষে দাঁড়িয়ে এই সভ্য দুনিয়ায় আপনি যে বর্বরতা দেখছেন তাহলে ভাবুন মোগল-পাঠান শাসনামল কতটা নিষ্ঠূর ছিলো, কেন আমাদের পূর্ব-পুরুষ কেউ কেউ ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছিল?

এ থেকে কি মুক্তি নাই? বাংলাদেশের হিন্দু কি দেশে শান্তিতে থাকতে পারবে না? মুক্তি আছে যদি একসাথে সবাই মরতে শিখেন। একসাথে সবাই বাংলাদেশের জেলাখানাগুলো ভরিয়ে দিন্, শান্তিতে থাকবেন। একসাথে সবাই ঘোষণা দিয়ে ভারত যাত্রা শুরু করেন, শান্তি আসবে। ‘সারভাইভাল অফ দি ফিটেষ্ট’-সংগ্রাম ছাড়া মুক্তি নাই! তেলাপোকার মত বেঁচে থেকে লাভ কি, বাঁচতে হয় হাতির মত।

৬/২৯/২৬

হরমুজ এখন তেহরানের ক্ষমতার সর্ববৃহৎ হাতিয়ার

ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ক্ষমতার সর্ববৃহৎ হাতিয়ার হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান। দোহায় মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো পরোক্ষ বৈঠক হবে না বলে তেহরান জানিয়ে দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ফি আরোপ করা নিয়ে ওমান ও ইরানের যৌথ পরিকল্পনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আলজাজিরার খবর অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর ইরানের তেল রপ্তানি বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখনও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান তার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এই জলপথে সামুদ্রিক পরিষেবার জন্য ফি মওকুফের সুবিধাটি কেবল সাময়িক ৬০ দিনের জন্য প্রযোজ্য।

গালিবাফ বলেন, ‘এগুলো আমাদের আঞ্চলিক জলসীমা। যুক্তরাষ্ট্র এখানে অযথা বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে যে ইরান হরমুজকে সামরিকীকরণ করেছে। কিন্তু আমরা কোনো অবস্থাতেই এই অবস্থান থেকে পিছু হটব না।’ তিনি এই জলপথকে যুদ্ধের সময়ে আল্লাহর দেওয়া একটি ঐশ্বরিক উপহার এবং ইরানের ক্ষমতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ওমান-ইরানের যৌথ ফি আরোপের পরিকল্পনা 

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য একটি পরিষেবা ফি বা টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকে বাণিজ্যিক জাহাজের বিনামূল্যে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও তা কেবল ৬০ দিনের জন্যই প্রযোজ্য।

দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে এই রুটটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইরান ও ওমান এখন যুদ্ধ-পরবর্তী একটি বিজনেস মডেল দাঁড় করাতে চাইছে। ওমান চায়, এই ফি যেন স্বেচ্ছামূলক হয়। কিন্তু ইরান এটিকে বাধ্যতামূলক করার পক্ষে। তবে ওমান যদি রাজি না হয়, তবে তেহরান একাই এই ফি আরোপ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এই পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে একপ্রকার উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কেউ এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা। ওমানকে সবার মতো আচরণ করতে হবে। অন্যথায় আমরা তাদের উড়িয়ে দেব।

যদিও ওমান পরে মার্কিন প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছে, তাদের টোল আদায়ের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।

আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা

হরমুজ প্রণালিতে ওমান ঘোষিত একটি নৌরুটের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। সম্প্রতি ইরানি কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত রুট অমান্য করায় একটি বিদেশি কনটেইনার জাহাজ হরমুজে আটকা পড়েছে। মেরিটাইম এআই কোম্পানি উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। অনেক নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাঙ্কার ভুয়া ইউরোপীয় পতাকা ব্যবহার করে যাতায়াত করছে।

এই অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলার ২৮ সেন্ট এবং মার্কিন ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬৯ ডলার ৮৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে এশিয়ার পুঁজিবাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।

দোহায় কারিগরি আলোচনা ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

কাতারের রাজধানী দোহায় পরমাণু ইস্যু, কূটনীতি ও অবরুদ্ধ তহবিল ফেরত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ নিয়ে দুই পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো সরাসরি বৈঠক হচ্ছে না। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। কারণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক শক্তি ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে।

অন্যদিকে চীন এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট থেকে বেইজিং সবচেয়ে বেশি ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা লাভ করেছে। আর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎস মধ্যপ্রাচ্যের পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যখনই এই অঞ্চলের ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রসঙ্গ আসবে, তখন আমরা সবকিছু নিয়ে আলোচনা করতে পারি। তবে সবার আগে যুদ্ধ অবশ্যই থামতে হবে।’

ভূমিকম্পের পর স্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন ভেনেজুয়েলার ত্রাণকর্মীরা

ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুনের ধ্বংসাত্মক জোড়া ভূমিকম্পের পর দেশটিতে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২ হাজার ২৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পরিষ্কার পানির অভাব, শোচনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং আগে থেকেই ধসে পড়া স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

কারাকাসের হাসপাতাল জোসে গ্রেগোরিও হার্নান্দেজের ট্রমা ইউনিটের প্রধান ইউজেনিও কোভা বলেন, খুব শিগগিরই আমরা যে সমস্যাটির সম্মুখীন হতে যাচ্ছি তা হলো সংক্রামক রোগ, যা দীর্ঘ সময় ধরে এই বিপর্যয়ের শিকার রোগীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কোভা বলেন, আমরা এরই মধ্যে জটিল ট্রমা বা আঘাতের একটি পর্ব পার করেছি। কিন্তু এখন এটি সংক্রমণের কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ত্রাণকর্মীরাও সতর্ক করে বলেছেন, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে রোগের প্রাদুর্ভাবকে উসকে দিতে পারে।

লা গুয়াইরা অঞ্চলের একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তেরেসা বো জানান, এখানকার মানুষদের মধ্যে ডায়রিয়া এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার অনেক খবর পাওয়া গেছে।

বো বলেন, উদাহরণস্বরূপ তারা পোর্টেবল (বহনযোগ্য) টয়লেট চাচ্ছেন এবং সেইসাথে অতিরিক্ত ভিড় ও রোগের বিস্তার রোধে এই জায়গাটিকে পুনর্গঠন করতে সরকারের কাছে সাহায্য চাইছেন।

এদিকে সাউথকমের মুখপাত্র স্টিভেন ম্যাকলাউড জানিয়েছেন, উদ্ধারকার্যে সহায়তায় প্রায় ৯০০ মার্কিন সেনা এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের আরও ১০০ জন কর্মীকে পাঠানো হয়েছে। কারাকাস বিমানবন্দরের রানওয়ে মেরামত ও উপকূলে নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সাহায্যকারী গোষ্ঠী ও জাতিসংঘের মাধ্যমে ৩০ কোটি ডলারের সহায়তা প্রস্তাব দিয়েছে।

মার্কিন সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। ইউএনডিপি-এর স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ৬৭০ কোটি ডলারেরও বেশি বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর (যাকে এ বছরের শুরুতে মার্কিন বাহিনী স্ত্রীসহ অপহরণ করে) আমল থেকে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংকটে ৭৭ লাখের বেশি মানুষ দেশত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে দেশের ৬০ হাজার নিবন্ধিত চিকিৎসকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই রয়েছেন। সমীক্ষা অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি সরবরাহের ৩০ শতাংশ এবং অপারেশন থিয়েটারগুলোতে ৭০ শতাংশেরও বেশি ঘাটতি রয়েছে।

ফের সিনেমার গানে কণ্ঠ দিলেন ইমরান-ন্যান্সি

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও একসঙ্গে প্লেব্যাক করছেন দুই তারকা সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি ও ইমরান মাহমুদুল। কামরুজ্জামান রোমানের পরিচালনায় নির্মিতব্য চলচ্চিত্র ‘শিকার’-এর জন্য তারা নতুন একটি দ্বৈত গান গেয়েছেন। গানটির শিরোনাম ‘দুজন মিলে বাঁচব এক জীবন’। রোমান্টিক ঘরানার এই গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল, আর সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইমরান নিজেই।

গত রোববার গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পর ন্যান্সি ও ইমরানের এই গানকে ঘিরে সংগীতাঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।
গানটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ন্যান্সি বলেন, ‘ইমরানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা সবসময়ই আনন্দদায়ক। গানটির কথা ও সুর অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর, যা শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। দীর্ঘ বিরতির পর এমন একটি মানসম্মত চলচ্চিত্রের গান গাইতে পেরে ভালো লাগছে।’

অন্যদিকে ইমরান মাহমুদুল বলেন, ‘ন্যান্সি বাংলা সংগীতের অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠশিল্পী। তাঁর সঙ্গে দ্বৈত গান করা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। নতুন গানটি নিয়েও তিনি বেশ আশাবাদী।

‘শিকার’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন অপু বিশ্বাস ও মুরতজা পলাশ। থ্রিলার ঘরানার এই সিনেমার শুটিংয়ের জন্য শিগগিরই পুরো টিম নেপালে যাবে বলে জানা গেছে। সেখানে ছবিটির সম্পূর্ণ শুটিং সম্পন্ন হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে আরও অভিনয় করবেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, রাশেদ মামুন অপুসহ অনেকে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নথিবিনিময় হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করতে ও স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিজিটাল ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ করার পরীক্ষামূলক একটি কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো ঋণপত্র এবং ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় আমদানি-রপ্তানি দলিল ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে পারবে। গতকাল বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআর) নিরাপদ ও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য উপায়ে আদান-প্রদান নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর না করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে নথি আদান-প্রদান করা যাবে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ন্যূনতম নিরাপত্তা মান বজায় রাখার বিষয়টি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে। সংবেদনশীল বাণিজ্যিক তথ্য মূল মালিকের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে হবে; যা শেয়ার্ড বা পাবলিক অবকাঠামোতে বাধ্যতামূলকভাবে জমা রাখা হবে না। প্রযোজ্য মানদণ্ড অনুসরণ সাপেক্ষে এগুলো কাগজভিত্তিক দলিলের আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা, তথ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে বিকেন্দ্রীভূত যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক কর্মসূচি অংশগ্রহণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনুমোদিত ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে। অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট বাণিজ্য করিডোর, সংশ্লিষ্ট পক্ষ, লেনদেনের ধরন এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার বিবরণ দিতে হবে। এই ব্যবস্থায় ইনভয়েস, পরিবহন দলিল, ড্রাফটসহ বিভিন্ন ট্রেড ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে পরিচালিত হবে। তবে যেসব বিধিব্যবস্থায় ডিজিটাল দলিল আইনগত স্বীকৃতি পায় না, সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজভিত্তিক দলিলও সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি এ কর্মসূচির এনক্রিপশন, প্রমাণীকরণ এবং অডিট ট্রেইলসহ শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুদহার অপরিবর্তিত থাকছে

সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগামী ছয় মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। শিগগির এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। গত জানুয়ারিতে সরকার সুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আগের সুদহারই বহাল রাখা হয়।

এক সময় সঞ্চয়পত্রের সুদহার দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকত। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সুদহার কমানো হলে সরকারের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। তবে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভর করে সংসার চালান। এ কারণে সরকার বর্তমান সুদহারই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছেন সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারী এবং দ্বিতীয় ধাপে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারী। সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার বেশি। বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।
আয়কর আইনে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম কর কেটে রাখার বিধান রয়েছে। এবারের বাজেটে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কেটে রাখা কর চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য হবে না। বছর শেষে তা সমন্বয় করা যাবে। যদি কোনো করদাতার প্রযোজ্য করের চেয়ে বেশি কর কেটে রাখা হয়, তাহলে সেই অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) প্রয়োজন। ফলে যেসব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর করযোগ্য আয় নেই, তাদেরও টিআইএন নিয়ে বছর শেষে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে রাখা অগ্রিম কর ফেরত নিতে হবে।

কোন সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কত
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়ন করলে প্রথম বছরে ৯.৭৪ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.২১ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৭২ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.২৬ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৮৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা একই সঞ্চয়পত্র মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়ন করলে প্রথম বছরে ৯.৭২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.১৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৭০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.২৩ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৮০ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ১০.৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.২২ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১.৮২ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ১০.৬০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.১৬ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১.৭৭ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়ন করলে প্রথম বছরে ৯.৮৪ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.৩২ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৮৪ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.৩৯ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৯৮ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৯.৭২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.১৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৮৪ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.৩৯ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৯৮ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। পরিবার সঞ্চয়পত্রে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৯.৮১ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.২৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৮০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.৩৫ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৯৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৯.৭২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১০.১৯ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১০.৭০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ১১.২৩ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ১১.৮০ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিটে প্রথম ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ১০.৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.২২ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১.৮২ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপের বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ১০.৬০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.১৬ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ১১.৭৭ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।