Home Blog Page 416

আশুলিয়ায় এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী নেতাদের ওপর হামলায় আহত ৮

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় এনসিপির শ্রমিক উইং ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোয়াইলবাড়ি বাজার এলাকায় এ হামলা হয়। আহত ব্যক্তিদের অভিযোগ, একটি অবৈধ সিসা কারখানা বন্ধ করতে বলায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।

হামলায় আটজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠক রিফাত আহমেদ ওরফে ইমন (২৭), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাভার উপজেলার যুগ্ম সদস্যসচিব তাওহিদুল ইসলাম ওরফে সানভি (২৩) ও জ্যেষ্ঠ সহ-মুখ্য সংগঠক হৃদয় হাসান (২৪)। আহত অন্যরা হলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাভার উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল ইসলাম (২৫), মুখপাত্র আল মাসুম ওরফে সজীব (২৬), সদস্য ফাহাদুল ইসলাম ফাহাদ (২৯), সিটি ইউনিভার্সিটির আহ্বায়ক সৈয়দ ইমন (২৪) ও সদস্যসচিব তাওহিদ আহমেদ ওরফে শান্ত (২৪)। তাঁদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত নেতা-কর্মীরা জানান, গতকাল বুধবার রাতে এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের এক নেতাসহ সাভার উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেশ কয়েকজন আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় ঘুরতে যান। সেখানে একজনের বাসায় তাঁদের দাওয়াত ছিল। রান্না চলাকালে তাঁরা শিমুলিয়া এলাকায় চা খেতে যান। রাত ১০টার দিকে সেখানে গিয়ে একটি সেতুর ওপর বসে ছিলেন তাঁরা। একপর্যায়ে ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়ায় স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পারেন, পাশেই অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একটি কারখানায় ব্যাটারি গলিয়ে সিসা তৈরি করা হয়। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানান তাঁরা। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ফুটেজ নিয়ে আসতে বলা হয়। পরে তাওহিদ আহমেদের মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে এক ব্যক্তি কল দিয়ে কারখানায় যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চান এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেন। পরে পথে গোয়াইলবাড়ি বাজার এলাকায় একটি মাইক্রোবাসে করে একদল লোক দেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করেন।

এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠক রিফাত আহমেদ বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া কারখানাটি না চালানোর জন্য বলে সেখান থেকে চলে আসি। এরপর ঘোরাঘুরি শেষে ঘণ্টা দেড়েক পর আবার সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় কারখানাটি চালু দেখতে পাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতে ওই কারখানার লোকজন বলে, মুকুল নামের একজনকে টাকা দিই, আপনারা কেন বাধা দেন?’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলাম ওরফে মুকুল বলেন, ‘মধ্যরাতে এক ব্যক্তি ফোন করে জানান, কিছু সমন্বয়কারী ওই ফ্যাক্টরিতে আক্রমণ করেছেন। রাত একটার দিকে হুট করে আমার বাসার কাছে এমন ঘটনার কথা বলায় আমি ক্লিয়ার করার জন্য তাঁকে বলি, আমাদের কেউ যায়নি। যতটুকু শুনেছি, লোকজন বলেছিল, মুকুলকে তো আমরা চিনি, আপনারা কারা? আপনারা মুকুলকে চেনেন কি না? উত্তরে তাঁরা মুকুলকে চেনেন না বলে জানান। এতে ফ্যাক্টরির লোকজনের সন্দেহ হয়।’

আসাদুল (মুকুল) বলেন, ‘টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। ফ্যাক্টরির সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন বলেন, ‘রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কাকরাইল মোড়ে টানা ৩০ ঘণ্টা অবরোধ, তীব্র যানজটে ভোগান্তি

কাকরাইল মসজিদ মোড়ে টানা ৩০ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে চার দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ১টা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই সড়কের অবস্থান করে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে আশপাশের রাস্তায় যানজট তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত যমুনা অভিমুখে কাকরাইল মসজিদের সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত রাস্তা ছাড়বেন না বলে জানান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জগন্নাথ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে মৎস্য ভবন থেকে কাকরাইল মোড় এবং মিন্টু রোডে সব যান চলাচল বন্ধ আছে। এই সড়কে চলাচল করা গাড়ি বিকল্প রাস্তায় চলাচল করছে। ফলে মৎস্য ভবন, শাহবাগ, পল্টন, গুলিস্তান, কাকরাইলের সড়কে যানজট দেখা দিয়েছে।

অন্য দিকে একটু পরপর বৃষ্টির কারণে আশপাশের এই রাস্তাগুলোতে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে এতে ভোগান্তিতে পড়ছে জনসাধারণ। তবে কাকরাইল মোড় দিয়ে জরুরি কোনো গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স আসলে সেটি দ্রুত চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এর জন্য নির্ধারিত রয়েছে কয়েকটি ভলেন্টিয়ার টিমও।

ভুল হলে শিক্ষা নিয়ে এগুতে চাই: উপদেষ্টা মাহফুজ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং এ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, ভুল হলে তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে আমরা এগুতে চাই। তিনি বলেন, জবি থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দু’জন শিক্ষার্থী ভাই শহিদ হয়েছেন এবং অনেক ভাই-বোন আহত হয়েছেন। জবি’র ভাইবোনদের বলব, আপনাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই আমি গিয়েছিলাম। জুলাই আমাদের মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের আত্মিক বন্ধন তৈরি করেছে। আশা করি, এ বন্ধন কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ছিন্ন হবে না। আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আপনারা আমাকে সঙ্গে পাবেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে ৯টার পর তথ্য উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে দীর্ঘ পোস্টে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর ন্যায্যতা বিচার করবেন শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়। আরও যুক্ত থাকবে ইউজিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জোরালো ভূমিকা রাখা ও সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া জবি শিক্ষার্থীদের দাবির একটি ফলপ্রসূ সমাধানে আসতে আমি ভিসি স্যার ও অন্যান্যদের সঙ্গে বসেছিলাম। গত পরশু রাতে যখন এসব দাবি নিয়ে জবি থেকে আমাকে জানানো হয়, তখন তাদের আমি গতকাল রাত ৯টায় আমার বাসায় আসার আমন্ত্রণ জানাই। কিন্তু, গতকাল সকালে তারা আন্দোলনে নামেন এবং যমুনার কাছাকাছি পৌঁছে যান। কাল দুপুর থেকেই ভিসি স্যারের সঙ্গে আমি নিয়মিত যোগাযোগ করেছিলাম। শেষপর্যন্ত রাতে এক ঘণ্টা ধরে তিনটা টকিং পয়েন্ট নির্ধারণ করে আমি ভিসি স্যার ও শিক্ষকদের সঙ্গে কাকরাইল মোড়ে যাই।

সেখানে মিডিয়ার লোকজন শিক্ষার্থীদের থেকে ৫০ মিটার দূরে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু, আমি ভিসি স্যারকে বললাম, আমি শিক্ষার্থীদের সামনে গিয়ে কথা বলব। সেখানে যাওয়ার পর একটা গ্রুপ স্লোগান দেয়। আমি বিব্রত না হয়ে, নিজের দায়িত্ব পালনে কথা বলা শুরু করি। পূর্বনির্ধারিত টকিং পয়েন্ট অনুযায়ী পুলিশের বাড়াবাড়ি অথবা স্ব-উদ্যোগে ‘উসকানিমূলক’ কিছু করলে ক্ষমাপ্রার্থনা ও বিভাগীয় তদন্তের কথা বলতে গিয়েছিলাম। তখনই বোতল নিক্ষেপ করেন একজন শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থী কেন এবং কার মদদে এ অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করলেন, তা আশা করি প্রশাসন দ্রুতই খতিয়ে দেখবে। তারপর আমি হতাশা নিয়ে চলে যাচ্ছিলাম। তখন স্যারদের সঙ্গে আমার হতাশা ও ক্ষুব্ধতা ব্যক্ত করি। স্যাররাও এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে হতচকিত হয়ে গিয়েছিলেন। গত এক সপ্তাহব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দলের নিয়মিত আক্রমণ ও হত্যার হুমকির কারণে ন্যায্যভাবেই অনুমান করেছিলাম এটা হুমকিদাতা দলের কাজ হতে পারে। আমার হতাশা ও ক্ষুব্ধতা কাউকে আঘাত করলে আমি আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করছি।

তথ্য উপদেষ্টা ফেসবুক পোস্টে বলেন, আমার বক্তব্য ছিল, এ আক্রমণের ফলে ন্যায্য দাবির আন্দোলন বিতর্কিত হল। আমি চেয়েছিলাম, জবির আবাসন সমস্যা যেন দ্রুত সমাধান হয়। পরবর্তীতে ৫০ মিটার দূরত্বে আমি আরেকটা সংবাদ সম্মেলন করি। আমার অফিশিয়াল বক্তব্য, আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা, দাবিপূরণের রোডম্যাপ ও পুলিশি হামলার বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তের আশ্বাস সেখানে আপনারা দেখতে পাবেন। জবির শিক্ষার্থী ও শ্রদ্বেয় শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা আমি আবারও জানাচ্ছি। জবি’র শিক্ষার্থীদের আবাসনের দাবি ন্যায্য। আশা করি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান মিলে দ্রুতই একটি যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ সমাধানে আসবে।

পুনশ্চঃ গতকাল রাতে এসেই আমি ডিএমপি কমিশনারকে বলে দিয়েছিলাম, যাতে জোরপূর্বক জবি শিক্ষার্থীদের সরানো না হয়। তাদের ওপর যেন কোনোরকম আক্রমণ না চালানো হয়। সবার সুমতি হোক। ভুল হলে তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে আমরা এগুতে চাই।

৬ কোটিতে দিল্লি ক্যাপিটালসে ডাক পেলেন মুস্তাফিজ

শেষ মুহূর্তে চলতি আইপিএলে দল পেলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ব্যক্তিগত কারণে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্কের পরিবর্তে মুস্তাফিজকে স্কোয়াডে নিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। ৬ কোটি রুপিতে তাকে দলে টেনেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

নিলামে তার ভিত্তিমূল্য ছিল ২ কোটি রুপি। যদিও নিলাম থেকে টাইগার পেসারের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কেউ। মূলত, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর আইপিএলে নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে আইপিএল কর্তৃপক্ষ মুস্তাফিজের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফলে চলতি ২০২৫ আইপিএলের বাকি অংশে দিল্লির জার্সিতে মাঠে দেখা যাবে ‘দ্য ফিজ’কে। সাময়িক বিকল্প হিসেবে মুস্তাফিজের সঙ্গে চুক্তি করেছে দিল্লি। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, পরের আসরের জন্য তাকে ধরে রাখতে পারবে না এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। অর্থাৎ, শুধুমাত্র চলমান আসরের বাকি অংশে মুস্তাফিজকে খেলাতে পারবে দিল্লি।

৬ কোটি রুপিতে দল পেয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে মুস্তাফিজই এখন সবচেয়ে বেশি টাকায় আইপিএলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটার।

আইসিসি থেকে বড় সুখবর পেল বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের বার্ষিক হালনাগাদে উন্নতি হলো বাংলাদেশ নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের। এক ধাপ এগিয়ে সাত নম্বরে উঠে এলো টাইগ্রেসরা। বুধবার সদস্য দেশগুলোর নারী ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের বার্ষিক হালনাগাদ প্রকাশ করেছে ক্রিকেট সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

সেখানে ২০২৪ সালের মে থেকে এখন পর্যন্ত খেলা ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্সের শতভাগ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আর আগের দুই বছরের (২০২২ সালের মে থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত) পারফরম্যান্সের ৫০ ভাগ হিসাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এখন ৭৯। সবশেষ এক বছরে তারা খেলেছে ১১টি ওয়ানডে। সাফল্যের হার বেশ ভালো। সাতটি জয়ের বিপরীতে চারটিতে হেরেছে দলটি।

বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানেরও উন্নতি হয়েছে এক ধাপ। অষ্টম স্থানে থাকা দলটি নিশ্বাস ফেলছে নিগার সুলতানা জ্যোতিদের ঘাড়ে। তাদের রেটিং পয়েন্ট ৭৮। দুই ধাপ পিছিয়ে নয়ে নেমে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট ৭২। দশ নম্বরে থাকা আয়ারল্যান্ডের অর্জন ৫০ রেটিং পয়েন্ট।

র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ছয়ে আসেনি কোনো পরিবর্তন। ৪০ রেটিং পয়েন্টের বড় ব্যবধানে এগিয়ে এক নম্বরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের রেটিং পয়েন্ট ১৬৭। ইংল্যান্ড ১২৭ রেটিং পয়েন্ট পেয়ে দুইয়ে আছে। পরের স্থানগুলোতে অবস্থান করছে যথাক্রমে ভারত (১২১ রেটিং পয়েন্ট), নিউজিল্যান্ড (৯৬ রেটিং পয়েন্ট), দক্ষিণ আফ্রিকা (৯০ রেটিং পয়েন্ট) ও শ্রীলঙ্কা (৮২ রেটিং পয়েন্ট)।

চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত নারী টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের বার্ষিক হালনাগাদ অবশ্য দুঃসংবাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানে এক ধাপ পিছিয়ে দশে নেমে গিয়েছিল তারা।

৮ বছর পর চিরকুটের নতুন অ্যালবাম

দেশ ও  দেশের বাইরে সমান জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুট। এবার দীর্ঘ আট বছর পর তাঁরা চতুর্থ অ্যালবাম ‘ভালোবাসাসমগ্র’ প্রকাশ করেছে। এ অ্যালবামে থাকছে নতুন দশটি গান। শারমিন সুলতানা সুমির কথা-সুরে গানগুলো তৈরি করেছে চিরকুট। আর এর মাধ্যুমে দেশ বিদেশে চিরকুটের অগনিত শ্রোতাদের নতুন এ্যা লবামের অপেক্ষা শেষ হলো।

ব্যান্ডটি জানায়, স্পটিফাই, এ্যাপল মিউজিক, ইউটিউব, ফেইসবুক মিউজিকসহ সকল স্ট্রিমিং প্ল্যাাটফর্মে গানগুলো গত মঙ্গলবার থেকে শুনতে পাচ্ছেন  শ্রোতোরা। তাঁরা আরও বলেন এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মত না। ব্যা ন্ড হিসেবে এ্যা লবাম আমাদের সবচেয়ে বড় অস্তিত্বের জায়গা। আমাদের আজকে ভাল ঘুম ভাল হবে। এরইমধ্যে  ‘দামী’ নামে প্রথম গানটির ভিডিও প্রকাশের পর থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছে ব্যান্ডটি।আরও দুটি গান মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশ করতে যাচ্ছে তারা।

নতুন অ্যালবাম প্রকাশ সম্পর্কে চিরকুট জানায়, ২৩ বছর এর পথচলায় চিরকুটের মূল শক্তি ছিল শ্রোতাদের ভালোবাসা। তার সাথে ছিল সকল প্রতিকূলতাকে পিছে ফেলে এগিয়ে চলা, নিজেদের, ক্রমাগত সৃষ্টিতে নিয়মিত নতুন গান, পরিশ্রম ও একাগ্রতা। আর এ সবের মুলে  ছিল  ব্যান্ডের   প্রতি আমাদের  নিষ্ঠা আর নি:স্বার্থ ভালবাসা। আর তাই আমরা মনে করি ভালোবাসার চেয়ে বড় শক্তি আর কিছু নেই। এমনিতে জীবন খুবই ছোট আর এই জীবনটাও ভালবাসার  জন্য যথেষ্ট না।  তাই এই অসীম স্পিরিটের  সাথে থাকতে;  নানা আঙ্গিকের ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে দশটি গান নিয়ে শ্রোতাদের জন্য চিরকুটের উপহার ‘ভালোবাসাসমগ্র’।

শারমিন সুলতানা সুমি বলেন, এ্যালবাম মানে একদম আমাদের ভাবনা এবং কাজ- এর প্রতিফলন থাকা। চিরকুট আমাদের ধ্যা নের মত। আশা  করছি আমাদের যারা ভালবাসেন, সেই জায়গাটা বুঝতে পারেন; আমাদের  এ  স্বতঃস্ফত  নতুন  বাংলা গানগুলো  তাঁদের  হৃদয়ে  পৌঁছাবে।  এছাড়া চিরকুট নিয়ে  গত  ২৩ বছরে  আমাদের একান্ত  যাত্রায়   নিজস্ব  একটা ভ্রমণ তৈরি  হয়েছে। এই পথ পরিক্রমায়  এত মানুষের দোয়া,  ভালবাসা পেয়েছি  যে ভালবাসার  ভাষায়; গানে গানেই প্রতি নিয়ত  তার প্রতিদান দেয়ার  চেষ্টা করে যাচ্ছি মাত্র। আমরা অতি ক্ষুদ্র মানুষ। পৃথিবীতে ভাল কিছু করে যাওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র।

অ্যালবামটির মিউজিক প্রডিউস করেছে চিরকুট। কো-প্রডিউসার হিসেবে কাজ করেছে তরুণ প্রতিভাবান শিল্পী, প্রডিউসার জাকির আহমেদ। গানগুলোর মিক্স মাস্টার করেছেন  ইফতি  খাইরুল আলম শুভ এবং  তার সহযোগী  ছিলেন  জাকির এবং ইয়ার হোসেন।  অ্যালবামের ৩টি গানের মিউজিক ভিডিও তৈরি হয়েছে। যেগুলো  তৈরি  করেছে  লাইভটুওয়েব এবং  আফফান আজিজ  প্রিতুল। এ্যালবাম আর্ট ওয়ার্ক করেছেন  রাকিব রহমান। গানগুলো  রেকর্ড করা হয়েছে  স্টুডিও কোকিল  এবং  বাটার  রেকর্ডস-এ। পোস্ট  প্রডাকশন এর  কাজ হয়েছে  বাটার  রেকর্ডস-এ।   বাকি গানগুলোর লিরিক্যাল ভিডিও দিয়ে ঘটছে অ্যালবামের দশটি গানেরই শুভমুক্তি।

গানের ডিস্ট্রিবউশন পার্টনার হিসেবে থাকছে বন ফায়ার। চিরকুট জানায়,  গান রিলিজের পাশাপাশি, এ্যালবাম ‘ভালোবাসাসমগ্র’  উপলক্ষে খুব শিগগিরই বিশেষ একক  কনসার্ট-এর ও  পরিকল্পনা  করছে  ব্যান্ডটি।

অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ডের যমজ সন্তানের বাবা কে?

মা দিবসের দিনে জোড়া পায়ের ছবি প্রকাশ্যে এনে ভক্তদের তাক লাগিয়ে দেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড। আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, এবার মা দিবসটি তার কাছে বিশেষ; কারণ, এদিন যমজ সন্তানের মা হয়েছেন এই নায়িকা।

সারা বিশ্বে সকল সন্তানেরা যখন মা দিবস উদযাপন করছিল, তখন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড যমজ সন্তানের মা হওয়ার খবরটি জানানোর প্রতীক্ষায় ছিলেন। সঙ্গে জানান, ২০২৫ সালের মা দিবস কখনো ভুলতে পারবেন না তিনি। প্রথম সন্তান ওনাঘ এর জন্মের সময় যেমন খুশি হয়েছিলেন, আরও দুই সন্তান হওয়ার পর এখন তিনগুণ খুশি অভিনেত্রী।

কিন্তু তার যমজ সন্তানের খবর প্রকাশ্যে আসতেই নতুন আলোচনা অভিনেত্রীর সন্তানের বাবার পরিচয় নিয়ে। অ্যাম্বারের প্রথম সন্তান ওনাঘ এর জন্ম হয়েছিল সারোগেসির মাধ্যমে। কিন্তু তার যমজ সন্তানের বাবা কে, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

বলে রাখা ভালো, সন্তান জন্মদানের চেয়ে এই হলিউড অভিনেত্রীর প্রেমজীবন ছিল সর্বোচ্চ চর্চায়। কারণ তার ছিল একাধিক প্রেম। হলিউড অভিনেতা জনি ডেপের সঙ্গে অ্যাম্বারের সংসারে ভাঙন ধরতেই বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরে ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন অভিনেত্রী। এরপর তাদের ডেট করার দৃশ্যও প্রকাশ্যে আসে। যদিও মাস্ক দাবি করেছিলেন, তারা শুধু একটি বন্ধুত্বের সম্পর্কের মাঝেই ছিলেন।

মেক্সিকোতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ২১

মেক্সিকোর ওসাকা এবং পিউবলা রাজ্যে একাধিক যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। বুধবার এক হাইওয়েতে এ ঘটনা ঘটে। খবর রয়টার্স

পিউবলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল আগুইলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, তিনটি যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এতে কতজন আহত হয়েছেন তা জানা যায়নি।

মেক্সিকান সংবাদমাধ্যম লা জর্নাদার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক অন্য যানবাহন ক্রসিং করার সময় একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, এরপর আরও একটি ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংঘর্ষের পরই ট্রাকটি বিস্ফোরিত হয়ে ধোয়া উড়তে দেখা গেছে।

মেক্সিকোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। এদিকে গত মার্চে ওসাকাতে একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ১১ জন নিহত হয়। এছাড়া ২০২৩ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যে একটি যাত্রীবাহী বাস সংঘর্ষের মুখে পড়লে এতে ২৯ জন নিহত হয়।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ২০ ফিলিস্তিনি

গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। এতে করে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার ৯৩০ জনে পৌঁছেছে।

এছাড়া গত ১৮ মার্চ গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে আরও ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে ভূখণ্ডটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হাজার ৯২৮ জনে পৌঁছেছে বলে বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আক্রমণে আরও ১২৫ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৪৬ জনে পৌঁছেছে। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।

দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৭ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের অধিকাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চাঁদাবাজি আর অপকর্মের আখড়া: সারজিস

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন চাঁদাবাজি, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মের আখড়া হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।  বুধবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সারজিস লিখেছেন, ‘সময়ের সাথে সাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজি, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মের আখড়া। অথচ এই উদ্যান সংলগ্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট এবং অফিস থাকা সত্ত্বেও তারা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন না নিয়ে এসবের ভাগীদার হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আমরা আমাদের অনেক ভাই বোনকে বিপথে যেতে দেখেছি, একাধিক প্রাণনাশের ঘটনা ঘটেছে।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঙ্গলবার রাতে ছুরিকাঘাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলমের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘গতকাল সাম্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখেছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা লিখেছেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক আর বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান চালানো হোক, উদ্যান এলাকা সম্পূর্ণ নজরদারিতে আনা হোক, অপ্রয়োজনীয় ইট পাথরের অবকাঠামোগুলোকে ভেঙে প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।’