Home Blog Page 419

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট প্রত্যাশা ছিল নিরাপদ জীবন বিধানে কঠোর হবে। কিন্তু কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না অপরাধ, কাটছে না আশঙ্কা। সামাজিক অস্থিরতার কারণে মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। হত্যার তালিকা দীর্ঘ হলেও আইনি ব্যবস্থার তৎপরতা চোখে পড়ছে না। দুঃখজনক হলেও সত্য- বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেশে ক্রমেই বাড়ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। রাজধানীসহ সারা দেশে বাড়ছে খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির মতো ঘটনা। এতে নতুন করে আতঙ্কিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এরই মধ্যে হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাকাতির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজধানীর মগবাজারে দিন-দুপুরে চাপাতি দিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এ ছাড়া ফিল্মি স্টাইলে রাজধানীর বাড্ডায় হত্যা করা হয়েছে বিএনপির এক নেতাকে। ঘটনা দুটির ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর রাজধানীসহ সারা দেশে আতঙ্কের মাত্রা আরেক দফা বাড়ল।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী গত এপ্রিল মাসে শুধু রাজধানীতেই ১৭টি ভয়াবহ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে খুনের ৩০০টি ঘটনা ঘটেছে। গত মার্চ মাসে ৩১৬টি এবং গত এপ্রিল মাসে তা বেড়ে ৩৩৬টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে ডাকাতির ক্ষেত্রে গত ফেব্রুয়ারিতে ৭৪টি, মার্চ মাসে ৬০টি এবং গত এপ্রিল মাসে ৪৬টি ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতির নেপথ্যে ইন্ধন জোগাচ্ছে কারা- এমন প্রশ্নও চলে আসে?

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীতে কর্মরতদের বেশির ভাগই আওয়ামী শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত। এখানেই প্রশ্ন ও আশঙ্কা চলে আসে। ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে দেশে পটপরিবর্তন হলেও তারা ঘাপটি মেরে থেকে নেপথ্যে ইন্ধন জোগাচ্ছে কীভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যায়। সম্প্রতি দেশে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

পুলিশে সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার যে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে এরই মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব কার্যকর হলে পুলিশ বাহিনী অনেকটাই সংশোধন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কিন্তু তার অগ্রগতি কতদূর? মানুষ আশায় বাঁচে, তবে নিরাপত্তা কি মিলবে- এমন প্রশ্ন সবার হৃদয়ে। প্রকাশ্যে না বললেও আলোচনা হচ্ছে এমন সব খবর নিয়ে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, হামলা, ডাকাতি ও প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে। একদিকে সেই রেশ, অন্যদিকে নতুন ঘটনা জনমনে ভয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের। এভাবে কেন মানুষ বারবার আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা যাই বলি না কেন- সরকার দায় এড়াতে পারে না। এ ক্ষেত্রে দ্রুত এসব অপকর্ম নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

দেশজুড়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জানান দিচ্ছে- যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, সামাজিক অসাম্য, রাজনৈতিক উত্তেজনা, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং মিথ্যা তথ্যের প্রসারের কারণেই অপরাধকাণ্ড বাড়ছে- যার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। বাংলাদেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা আগেও দেখা গেছে, কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন।

জনতা দ্বারা নিজ হাতে বিচার, একটি গুরুতর সমস্যা যা অনেক দেশেই দেখা যায়। এটি হলো যখন একটি উত্তেজিত জনতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাউকে শাস্তি দেয়। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, যা জনমনে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাদের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, যা এখনও সম্ভব হয়নি।

দুঃখজনক হলেও সত্য- সরকার জননিরাপত্তার জন্য বিকল্প পথ অবলম্বন করেও সামলাতে পারছে না। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নেয়ার কোনো বিকল্প নেই। জননিরাপত্তায় কঠোর না হলে দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দেশের সুনাম রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে বিচারের প্রতি জনতার আস্থা সৃষ্টি এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সর্বোপরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হয়ে- জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপি ছাড়লেন হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সমন্বয়ক সিফাত

নিজেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অযোগ্য মনে করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সমন্বয়ক মুহাঈমেনুল ইসলাম সিফাত।

শুক্রবার (৩০ মে) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

স্ট্যাটাসে সিফাত লেখেন, ‘বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে কোনো দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে হচ্ছে না। আমি এমতাবস্থায় সকল ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছি। বিগত দিনে কাউকে কোনো আচরণে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী। আল্লাহ হাফেজ!’

তার এই ঘোষণাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করে তার এই সিদ্ধান্তকে ‘ব্যক্তিগত আত্মবিশ্লেষণের সাহসী প্রতিফলন’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

উল্লেখ্য, মুহাঈমেনুল ইসলাম সিফাত শুরু থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি শিক্ষকতা এবং ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

ফেসবুকে ২-৪টা ফেক আইডি খুলতে হবে: সারজিস

ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে চৌকস রাজনৈতিক নেতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

তিনি বলেন, ইয়াং জেনারেশনকে একটা গ্রুপ করতে হবে, দুই থেকে চারটা ফেক আইডি খুলে এলাকার চৌকস নেতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।

গত বুধবার বিকেলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর শহরের পুরাতন শহীদ মিনার মোড়ের বিজয় চত্বরে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস এই মন্তব্য করেন।

অতিথির বক্তব্যে সারজিস বলেন, ‘বড় দুটি রাজনৈতিক দল জনগণের কথা বলে নাকি সিন্ডিকেট চালায়, চাঁদাবাজি করে, দখলদারত্ব করে-তা দেখতে হবে আমাদের।’

বীরগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, দিনাজপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট বীরগঞ্জ উপজেলা, কিন্তু এই উপজেলায় সবচেয়ে কম পাকা রাস্তা রয়েছে। এলজিইডির যে হিসাব, সেখানে ১৭ পারসেন্ট রাস্তা পাকা, বাকি ৮৩ পারসেন্ট রাস্তা হাসিনার উন্নয়নের জোয়ারে কাঁচা হয়ে গেছে।

খারাপকে যদি খারাপ বলার সৎ সাহস দেখাতে না পারেন, তাহলে মানুষটা প্রশ্রয় পেয়ে যাবে। কাউকে আর হাসিনা থেকে খুনি হাসিনা হয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না। আপনাদের কাছে আমাদের জায়গা থেকে এই অনুরোধটুকু জানাই।’

চরম মাত্রায় মাদকাসক্ত ইলন মাস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নিয়মিতভাবে কেটামিন, এক্সট্যাসি এবং সাইকেডেলিক মাশরুম সেবন করতেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস্কের মাদক গ্রহণের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, সেটি তার মূত্রথলির সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জানা যায়, তিনি প্রায় প্রতিদিনই কেটামিন সেবন করতেন এবং প্রায় ২০টি ওষুধের একটি বাক্স সব সময় সঙ্গে রাখতেন। ওই বাক্সে অ্যাডেরলের মতো উত্তেজক ওষুধের অস্তিত্বও ছিল।

নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে থাকা একটি ছবিতে দেখা গেছে, ওষুধের বাক্সটিতে অ্যাডেরল চিহ্নিত বড়ি ছিল। মাস্ক অবশ্য দাবি করেন, তার কেটামিন সেবন চিকিৎসকের পরামর্শে হতাশা দূর করার জন্য, এবং সেটি তিনি প্রতি দুই সপ্তাহে একবার গ্রহণ করতেন।

২০২৩ সালের বসন্ত নাগাদ তার কেটামিন সেবনের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। মাস্ক তখন ট্রাম্পের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নেতৃত্ব দেন এবং প্রচারণায় ২৭৫ মিলিয়ন ডলার দান করেন। একই সময় তিনি ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (ডজ)’ নামে একটি বিশেষ প্রশাসনিক ইউনিট পরিচালনার দায়িত্ব পান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মাস্ক হোয়াইট হাউসে নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। বাজেট ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসে তার ভূমিকা ছিল। তবে হোয়াইট হাউস তার মাদক সেবনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি কিংবা তাকে ড্রাগ টেস্টে অংশ নিতে বলেছে কি না, তাও জানা যায়নি।

মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সেখানে কর্মীদের জন্য মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কর্মীদের ওপর ড্রাগ টেস্ট চালালেও মাস্ক আগেভাগেই সে বিষয়ে সতর্কবার্তা পেয়ে যেতেন বলে দাবি করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে মাস্কের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনও উঠে এসেছে। বলা হয়, তিনি একাধিক নারী সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং সন্তানদের নিয়ে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়েছেন। তার প্রাক্তন সঙ্গিনী গায়িকা গ্রাইমস তাদের সন্তানকে নিয়ে মাস্কের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, শিশুটিকে জনসমক্ষে নিয়ে যাওয়া তাদের চুক্তিভিত্তিক গোপনীয়তা ভঙ্গ করেছে এবং শিশুটির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এতে ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এক নারী লেখক অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারও দাবি করেছেন, মাস্কের সঙ্গে গোপন সম্পর্কে তার একটি সন্তান হয়েছে এবং মাস্ক চাইছিলেন বিষয়টি গোপন রাখতে। পরে মাস্ক তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলা বন্ধ করতে আদালতে গ্যাগ অর্ডার চেয়ে আবেদন করেন।

খোলা স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করছে ফ্রান্স

খোলা স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করছে ফ্রান্স। দেশটির সমুদ্র সৈকত, স্কুলের আশপাশ ও পার্কসহ খোলা জায়গায় ধূমপান নিষিদ্ধ হচ্ছে। শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ফ্রান্স সরকার ঘোষণা করেছে, আগামী ১ জুলাই থেকে পার্ক, সমুদ্র সৈকত, স্কুলের আশপাশ, বাসস্টপ, খেলাধুলার মাঠসহ সব ধরনের খোলা জায়গায় ধূমপান নিষিদ্ধ করা হবে-যেসব স্থানে শিশুদের যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ক্যাথরিন ভাত্রাঁ এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন,  ‘যেখানে শিশু আছে, সেখানে তামাকের কোনো স্থান নেই। ধূমপানের স্বাধীনতা শেষ হওয়া উচিত, যেখানে শিশুরা মুক্তভাবে নিশ্বাস নেওয়ার অধিকার রাখে।’

যেসব স্থানে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে তার মধ্যে সমুদ্র সৈকত, পার্ক ও জনউদ্যান, স্কুলের বাইরের অংশ, বাসস্টপ ও খেলাধুলার মাঠ ও ভেন্যুও রয়েছে। তবে ক্যাফে ও বারের বাইরের বসার জায়গা (ফরাসি ভাষায় যাকে বলে ‘তেরাস’)-এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

কার্যকর হওয়ার পর এই নিয়ম ভাঙলে ১৩৫ ইউরো (প্রায় ১৫৩ ডলার) জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া এই নিয়ম কার্যকর করতে সাধারণ পুলিশ বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তবে মন্ত্রী আশা করছেন, মানুষ নিজেরাও নিয়ম মেনে চলবে।

অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞা ইলেকট্রনিক সিগারেটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে ক্যাথরিন জানান, তিনি ই-সিগারেটে থাকা নিকোটিনের মাত্রা সীমিত করার জন্যও কাজ করছেন।

১ বিলিয়ন ডলারে হেইলির ‘মেকআপ ব্র্যান্ড’ বিক্রি

একটা স্বপ্ন, কিছু ভালোবাসা, আর একটু সাহস থাকলেই জীবন বদলে যেতে পারে। অন্তত হেইলি বিবারের গল্পটা তাই বলে। ২০২২ সালের জুন মাসে নিজের নামের মাঝের অংশ নিয়ে ‘রোড’ নামে একটি স্কিন কেয়ার ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরু করেছিলেন। সেই ‘রোড’ এখন এক বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য। এক সময়ের ফ্যাশন প্রজেক্ট, আজ একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড।

সম্প্রতি বিশ্বের জনপ্রিয় কসমেটিক কোম্পানি ইএলএফ বিউটির কাছে ১ বিলিয়ন ডলারে ‘রোড’কে বিক্রি করে দিয়েছেন পপস্টার জাস্টন বিবারের স্ত্রী হেইলি। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। ইএলএফ বিউটি শুরুতেই তাঁকে দিচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ডলার নগদ ও শেয়ারে, আর ভবিষ্যতে বিক্রির ভিত্তিতে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলারের অঙ্গীকার।

জানা গেছে, হেইলি বিবার চুক্তির পরেও কোম্পানিতে চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার হিসেবে যুক্ত থাকবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেইলি বলেন, ‘এই চুক্তি রোড ব্র্যান্ডের জন্য একটি নতুন অধ্যায় শুরু করছে। অন্য সহপ্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান নির্বাহীরাও বিক্রির পর কোম্পানির নেতৃত্বে থাকবেন।’

হেইলি যখন ব্র্যান্ডটি শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর। নিজের স্কিন কেয়ার অভিজ্ঞতা আর ভালোলাগা থেকে পাঁচটি পণ্যের একটি ছোট লাইন তৈরি করেছিলেন; যার মধ্যে ছিল পেপটাইড লিপ ট্রিটমেন্ট আর পকেট ব্লাশ। দেখতে যতটা সাধারণ, ব্যবহারেও ততটাই কার্যকর আর মার্জিত। কোনো বাড়াবাড়ি নেই, কোনো রংচঙের ফাঁদ নয়। এই ‘পকেট ব্লাশ’ আর ‘পেপটাইড লিপ ট্রিটমেন্ট’ পরে টিকটকে ভাইরাল হয়, ঝড় তোলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। হাজারো তরুণ-তরুণী ভিডিও বানায়, রিভিউ দেয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই, রোড আর পাঁচটা সেলিব্রেটি বিউটি ব্র্যান্ডের মতো হয়নি। এটি ছিল কিছুটা অন্যরকম।

বিষয়টি নিয়ে হেইলি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম এমন কিছু তৈরি করতে, যা সত্যিই মানুষ ব্যবহার করে ভালোবাসবে। ট্রেন্ডের পেছনে ছোটার ইচ্ছা ছিল না; বরং আমি চেয়েছিলাম ছোট পরিসরে সেরা কিছু করতে।

সিকিমে পর্যটকবাহী গাড়ি দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ৮

ভারতের উত্তর সিকিমের চুংথাং-মুনশিথাং সড়কে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পর্যটকবাহী একটি গাড়ি এক হাজার ফুট নিচে তিস্তা নদীতে পড়ে গেছে। গাড়িটিতে ১০ জন পর্যটক ও একজন চালক ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, চালকসহ ১১ জন যাত্রী নিয়ে গাড়িটি গুরুদুম্বার লেক থেকে নিচে নেমে আসছিল। সেই সময় চুংথাংয়ের কাছে পর্যটকবাহী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিস্তা নদীতে পড়ে যায়। ঘটনার পরই সেখানে যায় মঙ্গন থানা পুলিশ।

দুর্ঘটনার খবর দেওয়া হয় সেনাবাহিনীকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনাবাহিনীর বিশেষ দল এবং আইডিবিপি সেনা কর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দু’জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় মঙ্গন জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আটজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সেনাবাহিনীর, সিকিম পুলিশ, দমকল বিভাগের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারাও সহায়তা করছেন। দুর্গম এলাকা ও নদীর স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে অসুবিধা হচ্ছে।

আজ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক দল বিপথগামী সৈনিকের হাতে তিনি প্রাণ হারান। এ উপলক্ষে সারাদেশে ২৫ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মনসুর রহমান কলকাতায় কেমিস্ট হিসেবে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন। শৈশব ও কৈশোরের একটি সময় গ্রামে কাটিয়ে জিয়া তাঁর পিতার সঙ্গে কলকাতায় ছিলেন। দেশ ভাগের পর করাচিতে চলে যান। ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তিনি কমিশন লাভ করেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে তিনি একটি সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে গৌরবময় দায়িত্ব পালন করেন। এর স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বীরউত্তম খেতাব পেয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে জিয়াউর রহমানের অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার মহান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ। জাতীয় জীবনের সব সংকট, সংগ্রাম ও বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

জনগণ নির্বাচন আদায় করে নেবে: মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সরকারই চায় না নির্বাচন হোক। তিনি বলেন, নির্বাচন দিতে চাইলে ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে হবে। নইলে জনগণ নির্বাচন আদায় করে নেবে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে দোষারোপ করা হচ্ছে।

জিয়াউর রহমান অনেক সংস্কার করেছেন উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সংস্কার করার জন্য কখনই বিদেশ থেকে কাউকে আমদানি করেন নাই। কিন্তু এই সরকার কিছু বিদেশি লোককে আমদানি করেছে সংস্কার করার জন্য। সংস্কার সংস্কার করতে করতে তারা এমন জায়গায় চলে গেছে যে, তারা আর নির্বাচন দিতে চায় না।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘খুব দুঃখের সঙ্গে একটি কথা বলি, দেখলাম ইউনূস সাহেব জাপানে বসে বিএনপি সম্পর্কে বদনাম করছেন। একটু লজ্জাও লাগল না। দেশের সম্পর্কে বিদেশে বসে বদনাম করতে। তিনি (ড. ইউনূস) বললেন, একটি দল নির্বাচন চায়। আমরা বলতে চাই, একটি লোক নির্বাচন চায় না, সে হলেন ড. ইউনূস। উনি নির্বাচন চায় না।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ডিসেম্বরে নির্বাচনের কথা ইউনূস সাহেব স্বয়ং বলেছেন। আমরা বলিনি। পরে তিনি (ড. ইউনূস) আবার নির্বাচন জুনের কথা বলেছেন। নির্বাচন যদি করতে হয়, ডিসেম্বরের মধ্যেই করতে হবে। আর যদি নির্বাচন করতে না চান, সেই দায়দায়িত্ব ইউনূস সাহেবের। বাংলাদেশের জনগণ এই নির্বাচন আদায় করবে। নইলে এই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ঠিক থাকবে না।’

মুসলিম উম্মাহর বিশ্ব সম্মেলন হজ

মুসলিম উম্মাহর বিশ্ব সম্মেলন হজহজ আদায় করা মুমিনদের জীবনের এক বড় সৌভাগ্য। আল্লাহ আল কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের ওপর অবশ্য কর্তব্য হলো ওই পবিত্র ঘর বায়তুল্লাহর হজ করা। পবিত্র হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ইসলাম ধর্ম পাঁচটি খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

এগুলো হলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও রসুল এ সাক্ষ্য দেওয়া, সালাত কায়েম, জাকাত আদায়, হজ করা ও রমজানে সিয়াম পালন (বুখারি, মুসলিম)।’

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, ‘হে আমার উম্মত! আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন। সুতরাং সামর্থ্য হলে তোমরা হজ আদায় কর (মুসলিম) হজ সবার ওপর ফরজ নয়।’ হজ মূলত মুসলমানদের বিশ্ব সম্মিলন।

হজ ফরজ হতে হলে এ শর্তগুলো থাকা জরুরি- ১. মুসলমান হওয়া। কোনো অমুসলিমের জন্য হজ আদায় করার অনুমতি নেই। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র। তারা যেন মসজিদে হারামের কাছেও না আসে (সুরা তাওবাহ, আয়াত ২৮)।’ ২. প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া।

অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পাগলের ওপর হজ ফরজ নয়। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তি থেকে আমলনামার কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে। তারা হলো- পাগল, যতক্ষণ না তার মস্তিষ্ক সুস্থ হয়। ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জেগে ওঠে। শিশু, যতক্ষণ পর্যন্ত সে প্রাপ্তবয়স্ক না হয় (মুসতাদরাক)।’ আজাদ বা স্বাধীন হওয়া। দাস-দাসীর ওপর হজ ফরজ নয়।

হজ আদায় করার সামর্থ্য থাকা। এ সামর্থ্য তিন দিক থেকে থাকা শর্ত যথা- ক. দৈহিক সামর্থ্য। অর্থাৎ কাবা শরিফ পর্যন্ত সফর করার শারীরিক যোগ্যতা থাকা। শারীরিকভাবে অক্ষম, অন্ধ, খোঁড়া, পক্ষাঘাতগ্রস্ত, জরাজীর্ণ বৃদ্ধ স্বয়ং চলাফেরায় অক্ষম এরূপ লোকের ওপর হজ ফরজ নয়। এমন ব্যক্তির যদি আর্থিক সামর্থ্য থাকে তাহলে বদলি হজ করানো ওয়াজিব। খ. আর্থিক সামর্থ্য। অর্থাৎ পরিবারপরিজন, চাকরবাকরদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করে কোনো ব্যক্তির কাছে হজে যাওয়া-আসা ও পাথেয় খরচ থাকলে তার ওপর হজ ফরজ হবে। গ. নিরাপত্তা। যাতায়াতের পথ নিরাপদ থাকা। ৫. রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা না থাকা। ৬. হজের সময় বা মৌসুম হওয়া। হজের মৌসুম বলতে শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম ১০ দিনকে বোঝায় অথবা এমন সময়কে বোঝায় যখন থেকে রাষ্ট্রে হজের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

কোনো ব্যক্তির জীবনের কোনো একটি বছরে উপরিউক্ত শর্তগুলোর সমন্বয় ঘটলে তার ওপর হজ ফরজ হয়ে যায়। সে যদি ওই বছর হজ আদায় না করে এবং পরে যদি সামর্থ্য হারিয়েও ফেলে তবু সে হজ আদায়ের দায় থেকে মুক্ত হবে না। মহিলাদের হজ ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আরও দুটি শর্ত রয়েছে। ১. মহিলাদের সঙ্গে স্বামী অথবা এমন কোনো মুহরিম পুরুষ থাকা। মুহরিম তারা যাদের সঙ্গে চিরস্থায়ীভাবে বিয়ে নিষিদ্ধ। কোনো নারী যদি মুহরিম সঙ্গী ছাড়া হজ করে তার হজ আদায় হবে, কিন্তু মুহরিম ছাড়া সফরের কারণে গুনাহ হবে। এ ক্ষেত্রে বদলি হজ করানোই উত্তম। ২. স্বামীর মৃত্যু বা তালাকের কারণে ইদ্দত পালনকালে নারীরা হজে গমন করবে না (ফাতহুল বারি)।

হজ কখন আদায় করতে হয় এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে দুটি মত আছে। একদল আলেম মনে করেন কোনো ব্যক্তি যখন হজ করার সামর্থ্য লাভ করে তখন ওই বছরই হজ আদায় করা কর্তব্য। অন্যথায় বিলম্বের কারণে গুনাহগার হবে। বিলম্ব করে পরবর্তী কোনো বছরে আদায় করলেও হজ হয়ে যাবে। কিন্তু অহেতুক বিলম্ব করা অনুচিত। কেননা হজ অনাদায়ী রেখে মৃত্যুবরণ করলে মারাত্মক গুনাহ হবে। হজ আদায়ের আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তার জীবদ্দশায়ই বদলি হজ করানো উচিত। আর এ সুযোগও না পেলে ওয়ারিশদের উচিত ওই ব্যক্তির বদলি হজ আদায় করে তাকে দায়মুক্ত করা।

কেননা হজ সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর মহান আল্লাহর হক। আরেক দল আলেম বলেন, হজ ফরজ হওয়ার পর বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে বিলম্ব করলে দোষ নেই। কারণ হজ ফরজ হয়েছে ষষ্ঠ হিজরিতে, রসুল (সা.) হজ আদায় করেছেন দশম হিজরিতে। তাই দেরি করে হজ করলে তাতে অসুবিধা নেই। তবে সব আলেম একমত, হজ ফরজ হলে বিনা কারণে দেরি করা উচিত নয় (তাফসিরে ইবনে কাসির)। আল্লাহতায়ালা আমাদের হজ-ওমরাহ জিয়ারতে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবুল করুন। আমিন।