Home Blog Page 418

করিডোর দিয়ে সরকার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চায় কিনা: আমির খসরু

করিডোর দিয়ে সরকার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চায় কিনা মানুষের মনে এমন প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার বিকেলে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সিরডাপ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া তাদের নাগরিক অধিকার। কেন করিডোর দিয়ে রোহিঙ্গা ফেরত পাঠাতে হবে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘করিডোর দিলে দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে পরিণত হবে। বর্তমান সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ বাদ দিয়ে বাকি সব এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করছে।’

করিডর দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না বলেও মন্তব্য করেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেছেন যে চিফ অ্যাডভাইজার (প্রধান উপদেষ্টা) সাহেব বলুক আসলে বিষয়টা কী। এই বিষয়টা শেষ করতে হবে। আমরা কিন্তু এখনো নিশ্চয়তা পাচ্ছি না যে, এই বিষয়টা শেষ হয়ে গেছে।’

প্রধান উপদেষ্টা যমুনায় ডেকেছেন বিএনপিকে

আলোচনার জন্য আগামী ২ জুন (সোমবার) বিএনপিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (৩১ মে) দুপুরে রাজধানীতে কৃষকদলের আলোচনা সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, যারা নির্বাচন চায় না, তারা বিএনপি নেতাদের দেশদ্রোহী ও অন্য দেশের এজেন্ট বলছে। ১৭ বছরের ত্যাগের প্রতিদান দিচ্ছে একটি মহল।

ফ্যাসিবাদের কুটচালে জাতির মধ্যে একটি গোষ্ঠী বিভেদ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ বিএনপির এই নেতার।

আগামী ২ জুন প্রধান উপদেষ্টা আলোচনার জন্য বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিকতার কমতি নেই। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই নেই তাদের।

সংস্কারের নামে কলা ঝুলানো হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন দিতে হবে, এটা জনগণের দাবি। ডিসেম্বরের পর নির্বাচন দেয়ার কোনো কারণ নাই।

ক্ষতি যা হওয়ার বাংলাদেশ ক্রিকেটের হয়ে গেছে, বলছেন হাথুরু

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সদ্য সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদকে যেসব কারণে অপসারণ করা হয়েছে তার মধ্যে একটি, সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহকে চাকরিচুত্য করা। এ ঘটনা অবশ্য চোখ এড়ায়নি হাথুরুর। ফারুকের বিদায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন এই লঙ্কান কোচ।

লিংকডইনে হাথুরু লিখেছেন, ব্যাপারটি শুনেই হাথুরু বললেন, ‘ইন্টারেস্টিং!’ সঙ্গে জুড়ে দিলেন ভ্রু কুঁচকানো একটা ইমোজি। তবে হাথুরু মনে করেন, ক্ষতি যাওয়ার বাংলাদেশ ক্রিকেট ও তার হয়ে গেছে। লিটন-শান্তদের সাবেক কোচ বলেন, ‘ক্ষতি যা হওয়ার বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং আমার হয়ে গেছে…।’

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নাসুম আহমেদকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে হাথুরুর বিরুদ্ধে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সও সন্তোষজনক ছিল না। দেরি হলেও বিসিবি পরিচালক ও বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা কমিটির সদস্য মাহবুব আনাম গতকাল নাসুমের চড় কাণ্ডের ঘটনাটি উড়িয়ে দিয়েছেন। কিছুটা চাপা কষ্ট নিয়েই যেন হাথুরু বললেন, ‘আমরা সবাই বিশ্বাস করি ওপরওয়ালা একজন আছেন, তিনি তার সময়মতো সবকিছু বুঝিয়ে দেবেন। দুর্ভাগ্যবশত ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে!’

সম্প্রতি হাথুরু অস্ট্রেলিয়া এক সংবাদমাধ্যমকে আগের মতোই নাসুমকে আঘাতের ঘটনা অস্বীকার করেন। তিনি জানান, এমন কিছুই হয়নি সেই বিশ্বকাপে। উল্টো হাথুরুসিংহে তাঁর ক্যারিয়ারের ক্ষতি করার অভিযোগ তোলেন বিসিবির বিরুদ্ধে। ওই সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন ‘ক্রিকেট আমার সবকিছু। কারণ এটাই আমার ক্যারিয়ার। তারা আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে উল্টো অভিযোগ এনে আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিয়েছে।’

বাড়ছে অজ্ঞাতনামা লাশ, কমছে না গণপিটুনি: এমএসএফ

বাংলাদেশে অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে এবং গণপিটুনির মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও অব্যাহত রয়েছে। শনিবার (৩১ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তাদের মে মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতি মাসের মতো এবারও এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে এমএসএফ।

এমএসএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা বেড়েছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে। পাশাপাশি, গণপিটুনির ঘটনাও বন্ধ হয়নি, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এই দুটি ঘটনাই নাগরিক জীবনে নিরাপত্তার অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির দিকে ইঙ্গিত দেয়।

এমএসএফ-এর পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আটকের ভয়ে পালাতে গিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কম থাকলেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা বেড়েছে। এছাড়া দুষ্কৃতিকারীদের হাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মে মাসে ৫৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৩৫৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জন নিহত এবং ৩৫১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৯ জন গুলিবিদ্ধ। নিহতদের মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১ কিশোরসহ ৬ জন, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১ কিশোর এবং আওয়ামী-জামাত সংঘর্ষে জামাতের ১ জন রয়েছেন।

এমএসএফ জানিয়েছে, সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের পতন সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৪২২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৪১ জন এবং অন্যান্য মামলায় ২৮১ জন। এছাড়াও চলতি মাসে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ ৩২ জন এবং পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্তসহ অন্যান্য মামলায় ২৪ হাজার ৭৩৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এমএসএফ-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসের মতোই মে মাসেও নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা যেমন হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে, তেমনি শিশু ও নারীদের প্রতি শারীরিক নির্যাতনও বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে ৩৬৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা গত মাসের (৩৬২টি) চেয়ে ৬টি বেশি। এই মাসে ৫৯টি ধর্ষণের ঘটনা, ১৬টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ৫টি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

এমএসএফ আরও জানিয়েছে, সীমান্তে হতাহতের ঘটনা বন্ধ হয়নি, বরং বাংলা ভাষাভাষীদের ‘পুশ ইন’ করার ঘটনা ঘটিয়ে সীমান্তকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়েছে। মে মাসে সীমান্তে গুলি করে হত্যা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এমএসএফ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক চর্চা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমমর্যাদা এবং নাগরিক জীবনে নিরাপত্তার বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা বিধানের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।

প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

মিউনিখের এ মাঠে খেলা হলেই না কি নতুন কোনো দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতে। অলিখিত সেই নিয়মই যেন ধরে রাখল ২০২৫।  শনিবার রাতে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন পারি সা জার্মেই।

ইউরোপ সেরা হবার অনুভুতি কেমন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দেখতে হবে পিএসজির উদযাপন। এ যেন অসাধ্যকে সাধন করল লা পারিসিয়ান। এই একটা ট্রফির জন্য কত কিছুইনা করেছে ফরাসি জায়ান্টরা, অবশেষে দিলো ধরা। ডেভিড বেকহ্যাম, রোনালদিনিয়ো থেকে মেসি, নেইমার, এমবাপ্পেরা যা করে দেখাতে পারেনি, সেটাই করে দেখালেন দেম্বেলে, দুয়েরা।

একই ফ্রেমে আনন্দ-বেদনা, দেড় দশকের খরা কাটানো হলো না নেরাজ্জুরিদের। যাদের কিনা দেড় মাস আগে সুযোগ ছিল ট্রেবল জয়ের, তবে মৌসুম শেষে শূন্য হাতে ফিরল সিমোনে ইনজাঘির দল। তিন মৌসুমে দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলেও শিরোপাটা ছোঁয়া হলোনা ইতালিয়ান বসের।

ইতিহাসের পাতায় লুইস এনরিক। ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ একবারের বেশি ট্রেবল জয়ের এলিট ক্লাসে নাম লেখালেন স্প্যানিশ ট্যাকটিশিয়ান। তার আগে এই কীর্তি আছে শুধু পেপ গার্দিওয়ালার।

মিউনিখ দখলে নিয়েছিল পিএসজি সমর্থকরা। তাদেরও হতাশ করেনি পারি সা জার্মেই। প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড। দিজিরে দুয়ের পাস থেকে স্কোরশিটে নাম লেখান আশরাফ হাকিমি। নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে ছিলো না গোল উদযাপন।

প্রথম গোলের কারিগর এবার অনেকটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় জালের দেখা পেয়েছেন। সবচেয়ে কম ১৯ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল ও অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়লেন দুয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন হাল ছেড়ে দিয়েছে ইন্টার মিলান। ৬৩ থেকে ৮৪ আরও তিন গোল ইতালিয়ান জায়ান্টদের জালে। দুয়ে পূর্ণ করেন জোড়া।

কাভারাৎস্খেলিয়া ও আরেক তরুণ তুর্কি সিনে মায়ুলু জয়ের আনন্দ বড় করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মৌসুমে ১৩ গোলে অবদান ওসমান দেম্বেলের। পিএসজি জার্সিতে ছাড়িয়ে গেছেন এমবাপ্পেকে। ব্যালন ডি অর জয়ের যোগ্য দাবিদার ফরাসি তারকা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মিউনিখের ইতিহাস অক্ষুণ্ন রইলো। পাঁচ ফাইনালে প্রতিবারই নতুন চ্যাম্পিয়ন পেলো ইউরোপ।

শিল্পীদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া ন্যক্কারজনক: আবুল হায়াত

ছোট পর্দার বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত শিল্পীদের হাতকড়া পরিয়ে গ্রেপ্তার করার ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। শনিবার (৩১ মে) রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের ‘অ্যাক্টর’স ফ্যামিলি ডে ও অভিষেক-২০২৫’ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আবুল হায়াত বলেন, “কথা নেই, বার্তা নেই, শিল্পীদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়, এক হাজারজনের মধ্যে সে নাকি আসামি, মানুষ খুন করেছে। তাকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে জেলখানায় ধরে রিমান্ডে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

এই ধরনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিনয় শিল্পী সংঘের লিগ্যাল কমিটির প্রতি আইনি বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

তার মতে, “আইনি বিষয়ে আমাদের আরো শক্ত হতে হবে। এ জিনিসগুলো নিয়েও আমাদের লিগ্যাল কমিটির কাজ করতে হবে, অনেক করণীয় আছে। কারণ, পাবলিকের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়।”

একজন শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হলে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়, সে বিষয়েও আবুল হায়াত আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, একটি সংবাদমাধ্যম থেকে তাকে একজন শিল্পীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, “আমার ফিলিংয়ের কিছু নেই, ওনার যদি অপরাধ থাকে, সেটা তদন্ত হবে, বিচার হবে; কিন্তু অপরাধ যদি না থাকে, তাহলে এভাবে নিয়ে যাওয়া ন্যক্কারজনক, এটা রীতিমতো অন্যায়।”

আবুল হায়াত মনে করেন, রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে। তবে, কে কতটা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকছেন এবং তা দেশের বা সংগঠনের ক্ষতি করছে কিনা, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, “এই সব ব্যাপার এখন ওপরে আসছে, সংগঠনকে এ বিষয়গুলো দেখতে হবে।”

স্বামী রবিনের আবেগঘন বার্তায় ভাসছেন পূর্ণিমা

চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা ও তার জীবনসঙ্গী আশফাকুর রহমান রবিন আজ তাদের ভালোবাসার তিন বছর উদযাপন করছেন! ২০২৩ সালের ২৭ মে তাদের নতুন পথচলা শুরু হয়েছিল, আর দেখতে দেখতেই কেটে গেল তিনটি বছর, যা ভরে উঠেছে ভালোবাসা, বোঝাপড়া আর অসংখ্য সুন্দর স্মৃতিতে।

বিশেষ এই দিনে স্ত্রীর জন্য এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আশফাকুর রহমান রবিন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে পূর্ণিমার সঙ্গে কিছু চমৎকার মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমাদের বৈবাহিক জীবনের তিন বছর পূর্ণ হলো, যা ছিল ভালোবাসা, ধৈর্য আর অগণিত স্মৃতির এক অসাধারণ যাত্রা।”

রবিন তার পোস্টে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন, কীভাবে পূর্ণিমা শুধু একটি দিন নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনের ভাঁজে ভাঁজে তার হৃদয়ের বিশেষ স্থানটি অধিকার করে আছেন। তিনি লিখেছেন, “আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা যে, তিনি আমাকে দিলারা হানিফ পূর্ণিমার মতো একজন জীবনসঙ্গী দিয়েছেন। যে বোঝে, সমর্থন দেয়, আর সবসময় নিঃশব্দে পাশে থাকে। তুমি আমাদের এই পথচলাকে এতটা বিশেষ করে তুলেছো— আমি এর চেয়ে বেশি কিছু কল্পনাও করিনি।”

দেশের ৫০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন

সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে অনেক জেলা। ঝড়ে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কমপক্ষে ৫০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক স্থানে বন্ধ রাখা হয় সংযোগ। ‍বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য (বিতরণ) আব্দুর রহিম মল্লিক গতকাল শুক্রবার জানান, দু’দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে তাদের কমপক্ষে ৫০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে সন্ধ্যার মধ্যে একটা বড় অংশের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। যেসব মোবাইল ফোন টাওয়ার বিদ্যুতের অভাবে অচল হয়ে পড়েছিল, সেগুলো সচল হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওই লাইনগুলো মেরামতের কাজ চলছে।

এদিকে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত তিন অপারেটরের অচল হওয়া সাইটের সংখ্যা (টাওয়ার) প্রায় ১৩ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৪ হাজার ৪৭৪টি, বাংলালিংকের ৩ হাজার ২০টি এবং রবির ৫ হাজার ৫০০টি টাওয়ার রয়েছে। তবে গতকাল সন্ধ্যার মধ্যে এসব টাওয়ার ৮০ শতাংশ সচল হয়েছে।

সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধই সেনাবাহিনীর চেতনার উৎস: সেনাবাহিনী প্রধান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর চেতনার মূল উৎস হলো সংবিধানের নির্দেশনা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির অসীম আত্মত্যাগ থেকে পাওয়া শিক্ষা। এই চেতনায় বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আহত শান্তিরক্ষীদের সংবর্ধনার জন্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাণ উৎসর্গ করা দেশের বীর সৈনিক ও পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, ১৬৮ জন বীর সৈনিক ও পুলিশ সদস্যদের, যারা বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।’

জেনারেল ওয়াকার বলেন, বাংলাদেশ ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৮৮০ জন, নৌবাহিনীর ৩৪৩ জন, বিমান বাহিনীর ৩৯৬ জন এবং পুলিশ বাহিনীর ১৯৯ জনসহ মোট ৫৫১৮ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নয়টি শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের শান্তিরক্ষীরা নিজেদের জীবন ঝুঁকি নিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ, নৈতিক মূল্যবোধ ও দক্ষতার প্রমাণ রেখে নিরপেক্ষতার সঙ্গে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যাচ্ছে। পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি ৩৬৪৫ জন নারী শান্তিরক্ষী সফলভাবে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ৪৪৪ জন নারী শান্তিরক্ষী সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।’

এই পর্যায়ে কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথিদের উদ্দেশ্যে ইংরেজিতে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমি আপনাদের অবহিত করতে চাই, বাংলাদেশ বৈশ্বিক শান্তির প্রতি তার সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে, যা প্রতিনিয়ত জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের চেতনার উৎস হলো সংবিধানের নির্দেশনা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অসীম আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা। আমরা ভবিষ্যতেও বৈশ্বিক শান্তির পক্ষে অবিচলভাবে অটল থাকব।’

এতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর একটি বিশেষ উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস ও ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব মো . রুহুল আলম সিদ্দিকী বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড . সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি শেষভাগে বক্তব্য দেন এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত বাংলাদেশি সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ‘গুগল পে’, মিলবে যেসব সুবিধা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, এক মাসের মধ্যে  বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ‘গুগল পে’। শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ‘গুগল পে’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে।’ আগামী এক মাসের মধ্যেই এই সেবা দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। এই সেবা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা তাদের হাতে থাকা ডিভাইসকেই একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ওয়ালেট হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।’ এর ফলে আলাদা করে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড বহন করার প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে যাবে।

প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং অবকাঠামোর সাথে গুগল ওয়ালেটের সমন্বয় না থাকায় বাংলাদেশে এই সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রযুক্তি-প্রেমী শহুরে ব্যবহারকারীদের মধ্যে এনএফসি পেমেন্টের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই উদ্যোগ দেশের আর্থিক লেনদেনের খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

সিটি ব্যাংক ও গুগল একসাথে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে। চালু হলে ব্যবহারকারীরা কনট্যাক্টলেস পয়েন্ট অফ সেল (পিওএস) টার্মিনালে সহজেই ‘ট্যাপ অ্যান্ড গো’ পেমেন্ট করতে পারবেন, যা তাদের কেনাকাটাকে করবে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক।