Home Blog Page 436

বাঘা শরীফ টানা দুই বারের চ্যাম্পিয়ন

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১১৬তম আসরে রাশেদ বলীকে হারিয়ে টানা ২য় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাঘা শরীফ। গতবারের আসরেও তিনি রাশেদকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে নগরীর লালদীঘি ময়দানে এ খেলা শুরু হয়।

আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের বলী খেলার ১১৬তম আসর ১২০ জন বলী অংশ নেন।

বাঘা শরীফের ২য় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবরে হোমনা, বাঞ্ছারামপুর, তিতাস ও মেঘনা উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের বন্যা ও মিষ্টিমুখ করার খবর আসতে শুরু করেছে।

বাঞ্ছারামপুর, আড়াইহাজার উপজেলায় রয়েছে বাঘা শরীফের হাজার হাজার ভক্ত। হোমনা-বাঞ্ছারামপুরে এই বলী খেলাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘ডুগ খেলা’।

জানা গেছে, জব্বারের বলী খেলার চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ এর আগে বিভিন্ন স্তরে বলী খেলে অন্তত ১০০টি পুরস্কার জয় করেছেন।

যা বলী খেলার ইতিহাসে বিরল। তিনি হোমনা উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় একজন মাংস ব্যবসায়ী।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন বলীর হাতে ট্রফি ও নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহদাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বলীখেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব, আবদুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল।

জানা গেছে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে দেশের যুবকদের সংগঠিত করতে ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বকশিরহাটের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর চালু করেছিলেন বলী খেলা। এরপর ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতি ১২ বৈশাখ লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হতো জব্বারের বলী খেলা। এই খেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘির আশপাশের প্রায় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে বৈশাখী মেলা। মেলায় কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।

নারায়ণগঞ্জে কারখানা খুলবে সুইডিশ কোম্পানি নিলোর্ন

নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায় নামতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান খুলতে যাচ্ছে সুইডিশ কোম্পানি নিলোর্ন বাংলাদেশ লিমিটেড। জেলার আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (বিএসইজেড) কারখানা স্থাপন করতে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনীতি অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারো কাওয়াচির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন নিলোর্ন বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম। মূলত, নিলোর্ন পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের লেভেলিং ও ব্র্যান্ডিং সল্যুশন দিয়ে থাকে। নতুন এ কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে কোম্পানিটির বিনিয়োগ আরো সম্প্রসারিত হবে বলে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে এদিন সকালে বিএসইজেড পরিদর্শন করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এ সময় তাদের জাপানের সহায়তায় গড়ে ওঠা এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো, সম্ভাবনা ও চলমান প্রকল্প সম্পর্কে জানানো হয়ে। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিরা সরকারের বিনিয়োগবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মূলত, বিএসইজেড জাপান ইকোনমিক জোন নামেও পরিচিত। যা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সফরের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে সম্ভাবনা পরখ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে সোমবার সম্মেলনের প্রথম দিন ৭০ জন বিনিয়োগকারীর একটি দল চট্টগ্রামের মিরেরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন।

এসডিজি অর্জনে বড় বাধা তামাক, প্রতিদিন মৃত্যু ৪৪২

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর অন্যতম কারণ তামাক। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ মারা যায়। তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত অসংক্রামক রোগে মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনাসহ এসডিজির অন্যান্য লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। অবিলম্বে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণের দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ, চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদসহ বিশেষজ্ঞরা। আইন শক্তিশালীকরণে যত দেরি হবে তামাকজনিত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি ততই বাড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৫ সালে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) গৃহীত হয় যেখানে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত লক্ষ্য ‘৩এ’ অর্জনের জন্য ডব্লিওএইচও ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এর বাস্তবায়ন সরকারসমূহের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ১ম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসি স্বাক্ষর করে।

গোলটেবিল বৈঠকে আরো জানানো হয়, তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু এবং অসুস্থতা শুধু এসডিজি’র ৩য় লক্ষ্যমাত্রা- সুস্বাস্থ্য অর্জনের ক্ষেত্রেই বাধা নয়, বরং অন্যান্য লক্ষ্য অর্জনেও বাধা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মাসিক খরচের ৫ শতাংশ তামাক ব্যবহারে এবং ১০ শতাংশ তামাক ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয়। তামাক ব্যবহারের স্বাস্থ্য ব্যয় ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তামাকের কারণে দরিদ্র মানুষ, আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে, যা এসডিজি’র দারিদ্র্য নির্মূল সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা-১ অর্জনে বড় বাধা। তামাক চাষে বছরে ব্যবহৃত হয় এক লক্ষ একরের বেশি জমি, যা দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষির (লক্ষ্যমাত্রা-২) জন্য ক্রমশ: হুমকি তৈরি করছে। তামাক পাতা পোড়াতে এবং প্রক্রিয়াজাত করতে উজাড় হচ্ছে দেশের ৩০ শতাংশ বন। বিড়ি এবং জর্দা-গুল তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে নারী ও শিশুশ্রম। প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়া সিগারেটের অবশিষ্টাংশসহ পলিথিনের মোড়ক ও জর্দা-গুলে ব্যবহৃত প্লাস্টিক কৌটা প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করছে। এভাবে তামাকের উৎপাদন এবং ব্যবহার টেকসই উন্নয়নের প্রায় সবকটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, নারী শিশুসহ অধূমপায়ীদের সুরক্ষায় শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে আইন শক্তিশালীকরণের কোন বিকল্প নেই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘তামাক ক্যানসার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। এসডিজির লক্ষ্য পূরণে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।’

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন-এর সদস্য ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘কোম্পানিগুলো আইন শক্তিশালীকরণের সাথে রাজস্ব আয় হারানোর যে যুক্তি দেখায় তার কোনো ভিত্তি নেই। এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের চিত্রে এটি প্রমাণিত। তবে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের চিন্তা করতে হবে কিভাবে তামাক রাজস্বের নির্ভরতা কমিয়ে অন্য খাতগুলো থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানো যায়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করতে হবে। এতে জনগণ ও সরকার উভয়ই লাভবান হবে।’

চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার বলেন, ‘শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থায় মনোযোগ না দিয়ে রোগের কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধ ব্যবস্থার উপর জোর দিতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা উচিত বলে আমি মনে করি।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. অনুপম হোসেন বলেন, ‘তরুণদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ই-সিগারেট ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্য করছি। এটির স্বাস্থ্যক্ষতি তামাকের মতোই। আইন সংশোধনের মাধ্যমে এগুলো নিষিদ্ধ করতে হবে।’

এনটিভির হেড অফ নিউজ জহিরুল আলম বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খুবই শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। খসড়া সংশোধনী দ্রুত পাস করতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’

গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন ও প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড হাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রতি সমর্থন জানায় প্রত্যাশা ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যবৃন্দ। আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহার করেন। তামাকের সার্বিক ক্ষতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০২১ সালে এফসিটিসি-এর আলোকে আইন শক্তিশালীকরণের উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন উপদেষ্টা কমিটি খসড়া সংশোধনীতে প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের কাজ করছে। খসড়াতে সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান বিলুপ্তকরণ, বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য বা প্যাকেট প্রদর্শন নিষিদ্ধ, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধকরণ, খুচরা বা খোলা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ, ই-সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ এধরনের সকল পণ্য উৎপাদন, আমদানি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দুর্নীতিমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চায় জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি এবং চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চায়, যেখানে থাকবে ন্যায়বিচার, সুশাসন, সমঅধিকার, উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) ফটিকছড়ি উপজেলার বিবিরহাট বাজারে থানা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত দাওয়াতি গণসংযোগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল আমিন বলেন, আমরা সৎ ও আল্লাহভীরু শাসক প্রতিষ্ঠা করতে চাই। অতীতে বিভিন্ন দলের শাসন দেখেছি, কিন্তু জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। দুর্নীতি বেড়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, যারা অতীতে ক্ষমতায় ছিল, তারাই বিদেশে সম্পদ পাচার করেছে। তারা জনগণের সেবক নয়, ছিল শোষণকারী। কেউ কেউ তো নাগরিকত্ব ছেড়ে বিদেশে গিয়ে হিন্দু ধর্ম পর্যন্ত গ্রহণ করেছে। তাদের লক্ষ্য শুধুই লুটপাট। গণসংযোগে তিনি স্থানীয় জনগণকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি এজহারুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীন নাজিমুদ্দিন ইমু, সেক্রেটারি মাওলানা ইউসুফ বিন সিরাজ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উপজেলা সভাপতি গাজী বেলাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আবু জাফর, লন্ডন প্রবাসী মাসুদুর রহমান, যুব বিভাগের সভাপতি নবীর হোসেন মাসুদ প্রমুখ।

আইনি নোটিশ নিয়ে মুখ খুললেন তাসনিম জারা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউবসহ সব অনলাইন মাধ্যমে অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক ভিডিও, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বন্ধ করতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও ডা. তাসনিম জারাসহ অশ্লীলতা ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি বিবৃতি দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা।

এতে তিনি লিখেছেন, গত কয়েকদিন ধরে আমার ছবিসহ একটি আইনি নোটিশ গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, যেখানে একটি ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক অভিযোগ করা হয়েছে যে আমি ‘পর্নোগ্রাফিক সংস্কৃতি’ প্রচার করছি। এত ভিত্তিহীন কিছুর প্রতিবাদ করার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি কথা বলতে চাই কারণ চুপ থাকলে মানুষ ভুল বুঝতে পারে।

তিনি আরও লেখেন, যখন আপনি পরিষ্কার হাত ও খোলা মন নিয়ে জনজীবনে প্রবেশ করেন, তখন আপনি মনে করেন যে সংগ্রাম হবে চিন্তা নিয়ে, নীতি নিয়ে, স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু তারা আপনার চিন্তার সঙ্গে সঙ্গে বিতর্ক করার আগেই আপনার নাম কলুষিত করার চেষ্টা করে। এটি একটি পুরোনো কৌশল, যা লজ্জা দেওয়া, মনোযোগ সরানো এবং বিকৃত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি বিভ্রান্ত হব না এবং যে লজ্জা আমার নয়, তা বহনও করব না।

তাসনিম জারা লিখেছেন, বহু বছর ধরে আমি জনস্বাস্থ্য সেবায় কাজ করেছি, মানুষের সাহায্য করার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে অতিরিক্ত সময় দিয়েছি। আমার নাম ব্যবহার করে ভুয়া পেজ এবং ভেজাল ওষুধ সম্পর্কে আমি বারবার জনসাধারণকে সতর্ক করেছি। যারা এখন সেই বাস্তবতাকে একটি শিরোনামে বিকৃত করার চেষ্টা করছে তারা একটি বিষয় ভুলে গেছে তবে মানুষ মনে রেখেছে।

‌‘তারা মনে রেখেছে কারা তাদের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়িয়েছিল। তারা সেই কণ্ঠস্বর মনে রেখেছে যা শান্তভাবে চরম অস্থিরতার মধ্যেও কথা বলেছিল। তারা মনে রেখেছে কারা ভাঙা সিস্টেমকে কাজে লাগানোর চেষ্টা না করে মেরামত করার চেষ্টা করেছিল। এবং রাজনীতিতে উচ্চবাচ্যের চেয়ে মনে রাখা বেশি শক্তিশালী।’

তাসনিম জারা লেখেন, আমি আরামের জন্য এখানে আসিনি। আমি জেনেই এসেছি যে এটি কঠিন হবে। জেনেই এসেছি যে এটি নোংরা হবে। কিন্তু আমি এই বিশ্বাস নিয়েও এসেছি যে আমরা ভিন্নভাবে – সততার সাথে, শালীনতার সাথে, সাহসের সাথে – রাজনীতি করতে পারব। সুতরাং, যারা আশা করছেন এ ঘটনা আমার গতি মন্থর করে দেবে তাদের বলছি– না, আমি পিছপা হব না। না, আমি লুকাব না। না, আমি আপনাদের ফাঁদে পা দেব না।

‘বরং, এই অবস্থান আমার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে। কারণ যখন মিথ্যাই অবশিষ্ট থাকে, এর মানে হলো আপনার সত্য ইতোমধ্যে যুক্তিতে জিতেছে। তাদের কথা বলতে দিন। আমি কাজ চালিয়ে যাব।’

চীনের কৃষিতে বসন্তের ব্যস্ততা

বসন্তের মৃদু উষ্ণতায় ধীরে ধীরে যখন প্রকৃতি জেগে ওঠে, তখন চীনের প্রধান শস্য উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে জোর কদমে শুরু হয় বসন্তকালীন কৃষিকাজ। জমি চাষ, বীজ রোপণ, চারা প্রতিস্থাপন ও সেচের মাধ্যমে গ্রীষ্ম ও শরৎকালের ফসল ঘরে তোলার শক্তপোক্ত আয়োজনটা চোখে পড়ার মতো।

চীনের বিভিন্ন শস্য উৎপাদন এলাকায় বসন্তকালীন চাষাবাদ পুরোদমে চলছে। চিয়াংশি প্রদেশের নানচাং শহরে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাথমিক ধান রোপণ ও সেচ কাজ দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে। এ শহরে ২৫টি চারা উৎপাদন কেন্দ্র ও ৬৯টি কৃষিসেবা প্রতিষ্ঠান কৃষকদের সহায়তা দিচ্ছে। শানতোং প্রদেশেও ৪০ লাখ হেক্টর গমক্ষেতে নতুন সেচ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। যন্ত্রচালিত এসব চাষাবাদে কমছে খরচ, বেঁচে যাচ্ছে সময় এবং বাড়ছে ফলনের মান ও পরিমাণ।
দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় চিয়াংসি প্রদেশের নানছাং শহরে ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আগাম ধান চাষ চলছে পুরোদমে। এ বছর বসন্তকালীন চাষে শহরজুড়ে ৩৭ হাজার ৮০০ সেট আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

এখানকার ছাংইয়ি টাউনশিপের ধানচাষিরা আধুনিক রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার চালিয়ে সমতল ধানক্ষেতে পার করছেন ব্যস্ত সময়।
নানছাংয়ের কৃষি কর্তৃপক্ষ নতুন প্রযুক্তি, উন্নত বীজ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে। চাষিদের জন্য আরও উন্নত পরামর্শ ও সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন।

নানছাং কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কেন্দ্রের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বিভাগের উপপ্রধান সুয়ে ছিয়াং জানালেন, ‘এ বছর বসন্তকালীন চাষে আমরা ২৫টি মানসম্পন্ন চারা উৎপাদন কেন্দ্র ও ৬৯টি কৃষিসেবা সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করেছি। চাষিদের জন্য বীজতলা তৈরি, চাষ, রোপণ, সার প্রয়োগ ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক সেবা নিশ্চিত করেছি।’

চীনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল শানতোং প্রদেশে ৪০ লাখ হেক্টরের বেশি গমক্ষেত এখন জয়েন্টিং পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রদেশের সব শস্য উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতেও নতুন সেচ প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

শানতোংয়ের ১৫৫টি এলাকায় বসন্তকালীন সেচ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ২১২ কোটি ঘন মিটার পানি সরবরাহ করা হয়েছে, যা ২০ লাখ হেক্টর জমি সেচে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এতে করে গত বছরের চেয়েও বেশি ফলনের আশা করছেন চাষিরা। সেইসঙ্গে এই বছর ড্রোনসহ আরও আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার গতি এনেছে সেচের কাজে।

কাশ্মীর হামলা ঘিরে উত্তপ্ত ভারত ও পাকিস্তান সম্পর্ক

কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় অন্তত ২৬ নিরীহ পর্যটকের মৃত্যুতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক। ২০১৯ সালের পর এটি কাশ্মীর উপত্যকায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা, যা অঞ্চলজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

হামলার পরপরই ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে একাধিক প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়, যার মধ্যে রয়েছে প্রধান সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ, কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ‘কঠোর প্রতিশোধ’-এর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ হামলার পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সামরিক ইতিহাসবিদ শ্রীনাথ রাঘবন বিবিসি’কে বলেন, ‘আমরা হয়তো আরেকটি ভয়াবহ সংঘাতের মুখোমুখি হতে চলেছি।’ তিনি ২০১৬ সালের উরি হামলা ও ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের প্রতিক্রিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যখন সীমান্ত পেরিয়ে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ এবং বালাকোটে বিমান হামলার মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। ইসলামাবাদ ভারতের পানিচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং ভারতের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দিয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ করে হামলার কারণে রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া অনিবার্য হয়ে উঠেছে। ‘যদি ভারত পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ দেয়, তাহলে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে,’ বলেন কুগেলম্যান।

হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফোন করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মঙ্গলবার কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার বৈসরান এলাকায় বন্দুকধারীরা অতর্কিতভাবে পর্যটকদের ওপর গুলি চালায়, যেখানে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুও ছিলেন। এই হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কিছুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বিশ্বব্যাপী এই হামলার নিন্দা জানানো হচ্ছে এবং কাশ্মীর অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে প্রাণঘাতী হামলার পর পাকিস্তান ও ভারতকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ দেখাতে বলেছে জাতিসংঘ। মূলত হামলার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
হামলার ঘটনাটি ঘটেছে ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে, যেটি গ্রীষ্মকালে হাজার হাজার পর্যটকের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। বন্দুকধারীদের গুলিতে সেখানে কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হন, যাদের প্রায় সবাই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দা এবং একজন নেপালের নাগরিক। আহত হন আরও অন্তত ১৭ জন।

এই ঘটনায় পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে ভারত। তবে ভারতের দাবি প্রত্যাখ্যান করে কাশ্মীরের এই হামলাকে সাজানো ঘটনা বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটি বলেছে, এটি ছিল একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’, অর্থাৎ নিজেরাই ঘটিয়ে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা।

হামলার এই ঘটনার পর উভয় দেশই উভয়ের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে এবং এতে করে উভয় দেশের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ

‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। দলটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, মহাসচিব হলেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ। আজ শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর শাহবাগস্থ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক অনুষ্ঠানে নতুন দলের নাম ঘোষণা করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জনমত গঠনে সক্রিয় ইলিয়াস কাঞ্চন ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৩ সালে স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে নির্বাচন করার আহ্বান জানানো হলেও এবারই প্রথম সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এ পর্যন্ত সাড়ে দেশে প্রায় ২ ডজন নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে।

ইউনূসের সফরের মধ্যেই কাতারের সব বকেয়া পরিশোধ

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কাতার থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার পরেও বকেয়া রেখে যাওয়া ২৫৪ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এই অর্থপূর্ণ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাতার সফরের সময়কালেই।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার এলএনজি কিনে কাতারের কাছে ২৫৪ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রেখে যায়। আমাদের সরকার দায়িত্ব নিয়ে সেই বকেয়া ধাপে ধাপে পরিশোধ করেছে। সর্বশেষ বুধবার (২৩ এপ্রিল) সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এখন কাতারের কোনো পাওনা আমাদের কাছে নেই।”

প্রেস সচিব আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিভিন্ন বিদেশি জ্বালানি কোম্পানির কাছে বাংলাদেশের মোট বকেয়া ছিল প্রায় ৩.২ বিলিয়ন ডলার। ইতোমধ্যে এই দায় কমিয়ে ৬০০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। জ্বালানি উপদেষ্টার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “এই অবশিষ্ট বকেয়াও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই পরিশোধ করা হবে।”

জ্বালানি খাতে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, দেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কাতারের সহায়তায় এক্সটেন্ডেড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনাও চলছে।

এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে কাতার সফরকালে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা নতুন মাত্রায় উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই সফর এবং বকেয়া পরিশোধ একই সময়ে হওয়ায় তা কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা নিবাসকে গনপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপার্দ

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আবু বকরকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে দায়েরকরা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা নিবাসকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার চন্দ্রনগর গ্রামে এক কিশোরীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় তাকে স্থানীয়রা আটক করে গণপিটুনি দিয়ে থানা পুলিশের নিকট সোপার্দ করে।
স্থানীয়রা জানান, আটক নিবাস চন্দ্র লট্ট(২৫) দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মালিবাড়ির মৃত: অমূল্য লট্টের পুত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ দেবিদ্বার পৌরসভার  ৯ নং ওয়ার্ড কমিটির সাধারন সম্পাদক। সে গত বছরের ৪ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর হামলা ও পোনরা গ্রামের আবুল খায়েরের পুত্র আবু বকরকে কুপিয়ে জখম করেছে।
আ’লীগ ক্ষমতায় থাকাকালিন, কিশোর গ্যাং লিডার, ইয়াবা সিন্ডিকেট পরিচালনা, মাদক ব্যবসা ও মাদক বিক্রি, অপহরণ, ছিনতাই, নারী কেলেঙ্কারী, ইভটিজিং, অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযুগে অভিযুক্ত ছিল। প্রকাশ্যে স্কুল ছাত্রীদের উত্তক্ত করলেও কেই বাঁধা দেয়া বা প্রতিবাদ করার সাহস পেতনা।
এ ব্যপারে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, জনগন তাকে আটক করে পুলিশে সোপার্দ করেছে। সে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছর ৪ আগস্ট আবুবকরকে কুপিয়ে যখম করা মামলার অজ্ঞাতনামা তালিকার আসামী, তাকে ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে সনাক্ত করা হয়।