Home Blog Page 44

‘প্রায় সকলেই কুচিকুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন’ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা

বিরোধী দলকে দুর্বল করার প্রবণতার সমালোচনা করে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একটা চমৎকার প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করছি। প্রায় সকলেই কুচিকুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন, আমাদের সঙ্গে চলে আসেন। আমরা ওই কুচিকুচি করার জন্য আসি নাই।’

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা এ আহ্বান জানান। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বিরোধী দলের নেতা সমাপনী বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে, সরকারি দল যা চাইবে, বিরোধী দল সেটাই সমর্থন করবে। আবার বিরোধিতার খাতিরে সবকিছুর বিরোধিতাও করা উচিত নয়। সরকারি দলকেও বিরোধী দলকে সম্মান করার মানসিকতা থাকতে হবে, আর বিরোধী দলেরও সংগত সকল বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার মানসিকতা থাকতে হবে।’

জাতীয় সংসদকে সরকারি দল ও বিরোধী দল দুই ‘চাকার’ ওপর চলা একটি যানবাহনের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলকে দুর্বল করার চেষ্টা না করে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের সংসদীয় ‘ব্যাড কালচার’, ব্যক্তিপূজা ও চরিত্রহননের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘এই সংসদেরও দুইটা টায়ার। একটা সরকারি দল, আরেকটা বিরোধী দল। যেকোনো একটা টায়ার অকেজো হয়ে গেলে যান চলবে না। এক টায়ারে আপনি পিন লাগাবেন, পেরেক মারবেন, তাহলে কিন্তু ওই টায়ারটা ফুটো হয়ে যাবে। ওইটা ফুটো হয়ে গেলে ওই টায়ার দ্বিতীয়ট চলবে না।’

অতীতের সংসদীয় চর্চার সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘অতীতের সংসদে দায়িত্বরত ব্যক্তিকে তোষামোদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এটা দেওয়া উচিত না। এটা তোষামোদের জায়গা না, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা।’

স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলের এই নেতা বলেন, ‘অতীতের ব্যাড কালচারকে আমরা না বলি। বিশেষ করে এই সংসদে চরিত্রহননের কোনো কাজ যেন না হয়।’

স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির নেতা বলেন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর জনবল, সরঞ্জাম ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে একই ধরনের তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বেশি হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানে একই মানদণ্ড প্রয়োগ হয় না।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়।

বিরোধী দলের নেতা কওমি মাদ্রাসার জন্য বাজেটে বরাদ্দ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে আনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই তাদেরও রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি কওমি মাদ্রাসাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেই সহায়তার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়েও সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর ঝুলিয়ে না রাখার আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় নেতা।

উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিরোধী দলের নেতা বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি গবেষণাভিত্তিক না হয়, তাহলে চিরজীবন আমরা আমদানি নির্ভরই থেকে যাব। গবেষণার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে অন্তত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ারও প্রস্তাব করেন তিনি।

পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কথা তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এসব মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা গেলে সেখানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।

বাজেটে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন বিরোধী দলের নেতা। তিনি বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছরে যে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, ওই পাচার অর্থের নয় ভাগের এক ভাগও যদি আগামী অর্থবছরে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে আমাদের কোনো বাজেট ঘাটতি থাকবে না।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সম্পদের সঙ্গে অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে হবে। সম্পদ এল, আর অপরাধীরা থেকে গেল—তাহলে সঠিক শিক্ষা হবে না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে দ্রুততম সময়ে অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের ওপর অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায়ের চাপ কমাতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘ট্যাক্স শুধু একটাই হবে, দ্বিতীয়টা আর তৃতীয়টা থাকবে না। তাহলে ব্যবসায়ীরা আরও বেশি ট্যাক্স দিতে আগ্রহী হবে।’

প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা তুলে ধরে বিরোধী দলের নেতা সংসদের অধীনে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, যেখানে ৮৫ হাজার টাকায় যাওয়ার কথা, সেখানে শ্রমিকদের কাছ থেকে ৬-৭ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জামায়াতের আমির অতীতে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ও নির্যাতিতদেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিচার কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সব অপরাধীদের, যত বড়ই হোক, বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

বাজেট বাস্তবায়নে নিয়মিত মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন বিরোধী দলের নেতা। তিনি বলেন, প্রতি তিন বা চার মাস অন্তর বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। পাশাপাশি অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করারও প্রস্তাব দেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চার লেন প্রকল্প দ্রুত শেষ করা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, ভোলা সেতু নির্মাণ এবং প্রধান নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সহযোগিতায় নেওয়া মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা নামের কাঙাল নই, আমরা কাজের কাঙাল। কাজটাই দেখতে চাই।’

সবশেষে বিরোধী দলীয় নেতা স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই বলে বক্তব্য শেষ করেন, ‘ধন্যবাদ, মাননীয় স্পিকার কোনো ভুল হলে আমাকে ক্ষমা করবেন। প্রিয় দেশ এগিয়ে যাক। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাই। যুবকদের স্বপ্নের বাংলাদেশ উপহার দিই এবং আমরা অতীতের গ্লানি থেকে বের হয়ে আসি।’

ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাট বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অপহৃত পাঁচ মাঝিমাল্লাই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।

অপহৃতরা হলেন— মাঝি সালাম নুর (৩১), মো. আইয়ুব (৩৭), মো. আজিজুল্লাহ (৩০), সৈয়দ হোসেন (২৫) এবং মো. আইয়ুব (২৪)।

বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় উপকূলের জেলেপল্লিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, রোববার সকালে টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট থেকে সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদের মালিকানাধীন একটি ট্রলার মাছ ধরতে সাগরে যায়। পরে ছেড়া দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আরাকান আর্মির সদস্যরা ট্রলারটিকে ধাওয়া করে আটক করে এবং ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে নিয়ে যায়। এ সময় আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার দ্রুত এলাকা ছেড়ে নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তারা সবাই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।

নিরিবিলি একটা জীবন উপভোগ করতে পারছি: সারিকা

অভিনেত্রী সারিকা সাবরিন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘হেডলাইন’। সাংবাদিকতা, সত্য অনুসন্ধানে লড়াইয়ের গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিরিজে দোলন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সত্য খুঁজে বের করার পথে একজন সাংবাদিককে কত ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়—এই সিরিজে সে বিষয়টি দেখানো হয়েছে। তবে এটি শুধু সাংবাদিকতা বা অনুসন্ধানের গল্প নয়। এর আড়ালে রয়েছে সুন্দর পারিবারিক গল্পও।

সিরিজটি নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি অনেক বছর ধরেই সামাজিক মাধ্যমে নেই। তাই ফেসবুক বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া সরাসরি দেখার সুযোগ হয় না। তবে হেডলাইন মুক্তির পর সহকর্মী, বন্ধু এবং পরিচিত অনেকেই ফোন করে তাদের ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। তারা গল্প, নির্মাণ এবং চরিত্র নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে দর্শকদের এই ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

নিজের চরিত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দোলন আত্মবিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল একজন নারী। হেডলাইন সিরিজে সে একজন সাংবাদিকের স্ত্রী। ঘটনাচক্রে এমন একটি বড় রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, যা তার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দেয়। এরপর একের পর এক ঘটনার মধ্য দিয়ে তাকে কঠিন সব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে। আমি মনে করি, বর্তমান সময়ের অনেক নারী দোলনের সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন। কারণ, জীবনের নানা সংকটের মধ্যেও কীভাবে শক্ত থেকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়, দোলন সেই গল্পই বলে।

এই যুগে এসেও সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে আছেন তিনি। সিদ্ধান্তটি তাকে ব্যক্তিগত জীবনে স্বস্তি দিয়েছে বলেন জানান সারিকা। অভিনেত্রী বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই বরং বেশ স্বস্তিতে আছি। সামাজিক মাধ্যমে না থাকায় নিজের জন্য অনেক বেশি সময় পাই; পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারি এবং নিরিবিলি একটা জীবন উপভোগ করতে পারছি। অবশ্যই সামাজিক মাধ্যমের কিছু ইতিবাচক দিক আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি মনে করি, মানসিক শান্তিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই মুহূর্তে আমি আমার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে কী হবে জানি না, তবে এখন যেমন আছি, তাতে ভালো আছি।’

নতুন কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। এখনই খুব বেশি কিছু বলতে চাই না। কারণ কোনো কাজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার আগে সেটি নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। সবকিছু চূড়ান্ত হলে অবশ্যই দর্শকদের জানাব। আমি সব সময় চেষ্টা করি সংখ্যার চেয়ে ভালো গল্প এবং চরিত্রকে গুরুত্ব দিতে।’

বাগদান নাকি প্রেম, নিজের অবস্থান জানালেন অভিনেত্রী নীহা

ছোটপর্দার অভিনেত্রী নাজনীন নীহাকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে ব্যক্তিজীবনের আলোচনা। তবে এবার আলোচনার সূত্রপাত করেছেন তিনি নিজেই। ফেসবুকে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস পরিবর্তনের পর অনেকেই ধরে নেন, চুপিসারে বাগদান সেরে ফেলেছেন এই অভিনেত্রী। তবে সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন নীহা।

সোমবার (২৯ জুন) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ‘এঙ্গেজড’ হিসেবে হালনাগাদ করেন তিনি। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা জল্পনা। শুভেচ্ছা জানিয়ে অনেকেই তাঁর হবু জীবনসঙ্গীর পরিচয় জানতে চান, কেউ আবার মিষ্টি খাওয়ার দাবিও তোলেন। যদিও শুরুতে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী।

পরে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে নাজনীন নীহা বলেন, “আমি কিন্তু কোথাও বাগদানের কথা উল্লেখ করিনি। শুধু লিখেছি ‘এনগেজড’। তার মানে আমি এখন আর সিঙ্গেল নই। কারও না কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছি। বাকিটা সময় হলে জানতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আমার জায়গা থেকে সৎ থাকতে পছন্দ করি। ফেসবুকে ‘এনগেজড’ স্ট্যাটাস দেওয়ার অর্থ হলো আমি এখন আর সিঙ্গেল নই। এই তথ্যটা কাউকে খুঁজে বের করতে হয়নি, আমি নিজেই জানিয়েছি। ঠিক তেমনি উপযুক্ত সময় এলে সেই মানুষটির পরিচয়ও জানাব।”

অর্থাৎ, নীহার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসকে আনুষ্ঠানিক বাগদান হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। তিনি শুধু নিশ্চিত করেছেন যে বর্তমানে তিনি একটি সম্পর্কে রয়েছেন।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ক্যাপশন দিয়ে হলুদ মাখানো দুটি হাতের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন নীহা। সেই পোস্ট ঘিরেও তাঁর বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিনেত্রী জানান, সেটি ছিল একটি নাটকের প্রচারণার অংশ, বাস্তব জীবনের কোনো ঘটনা নয়।

এবার সম্পর্কের বিষয়টি নিজেই স্বীকার করলেও, নিজের সঙ্গীর পরিচয় এখনই প্রকাশ করতে নারাজ নাজনীন নীহা। তাঁর ভাষ্য, উপযুক্ত সময় এলে তিনি নিজেই সব জানিয়ে দেবেন।

২০২৩ সালে তিনি ‘লাভ সেমিস্টার’ নাটক দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন। এরপর অল্প কিছু নাটক করে জনপ্রিয়তা পান তিনি। তার জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে ‘একটা তুমি লাগবে’, ‘মেঘবালিকা’, ‘চুপকথা’, ‘উইশ কার্ড’, ‘মিথ্যা প্রেমের গল্প’ অন্যতম। সবশেষ গত ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পেয়েছে ‘মায়াপাখি’ নাটক।

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে নেইমার

ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। লাতিন আমেরিকার প্রতিবেশী দেশটির মানবিক বিপর্যয়ে জরুরি উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ সহায়তার জন্য তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি টাকা) অনুদান দিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘এল সুমারিও’র বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, নেইমারের দেওয়া এই বড় অঙ্কের অর্থ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীন মানুষের জন্য জরুরি খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানীয় পানি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজে ব্যয় করা হবে। দুর্যোগ-পরবর্তী এই কঠিন সময়ে দ্রুততম উপায়ে মানবিক সাহায্য নিশ্চিত করতে এই তহবিল সরাসরি মাঠপর্যায়ে ব্যবহার করা হবে।

ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নিয়ে আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন নেইমার। তিনি বলেন ‘ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে। আমি আশা করি, এই ছোট্ট সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা হলেও শক্তি ও স্বস্তি বয়ে আনবে।’

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সাম্প্রতিক স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে দেশি-বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে স্ত্রী ও সন্তান হারালেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার

ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পে আর্জেন্টিনার ফুটবলার লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ও তাদের দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ ৭৪ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

লুকাস ত্রেহো ভেনেজুয়েলার ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো দে লা গুয়াইরার হয়ে খেলছেন। সেই সুবাদে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা প্রদেশে বসবাস করতেন।

রোববার ক্লাব কর্তৃপক্ষ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভূমিকম্পে ত্রেহোর স্ত্রী ও সন্তানদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গভীর শোক জানিয়েছে।

গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে। ভূমিকম্পের সময় ৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন ফুটবলার দলের সঙ্গে রাজধানী কারাকাসে অবস্থান করছিলেন।

ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ পরই ত্রেহো জানতে পারেন, লা গুয়াইরার প্লায়া গ্রান্দেতে অবস্থিত তাদের আবাসিক ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। খবর পেয়েই তিনি দুর্গত এলাকায় ছুটে যান এবং উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের খোঁজে যোগ দেন। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা থেকে তার বাবা ও ভাইও ভেনেজুয়েলায় ছুটে আসেন। দীর্ঘ ৭৪ ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় ভেনেজুয়েলা ও আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ফুটবলার, ক্লাব ও সমর্থক লুকাস ত্রেহোর প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

এর আগে পরিবারের সন্ধান না পাওয়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় ত্রেহো লিখেছিলেন, ‘আমাদের প্লায়া গ্রান্দের ভবনটি ধসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। তাদের জন্য প্রার্থনা করুন। যদি কেউ তাদের দেখে থাকেন, দয়া করে জানাবেন। আমি এখনো বিশ্বাস করতে চাই, তারা হয়তো তখন ভবনের বাইরে ছিল।’

আফগানিস্তানে ফের পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ৩৬

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নিহত ও আহত হয়েছেন ১৬৩ জন। সোমবার তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, গত রাতে চালানো এই হামলায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু আছে। তবে ইসলামাবাদের দাবি, হামলায় ২৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের শেষ দিকে করাচিতে একটি সশস্ত্রগোষ্ঠী হামলা করেছিল। তাদের দমন করতে আফগানিস্তানে ওই অভিযান চালানো হয়। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ডে কোনো সশস্ত্রগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়ায় সেনারা। সোমবারের ঘটনা নিয়ে তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, এটি ‘কাপুরুষোচিত’ আগ্রাসন।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি, বিমান হামলার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় স্থল অভিযানও চালানো হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল, জায়শ-উল-আহরার। এটি টিটিপির একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী। বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে।

 

ভেনেজুয়েলা একদিকে ‘অলৌকিক উদ্ধারের’ ঘটনা, অন্যদিকে চলছে লুটপাট

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের চারদিন পর একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা ও ছেলেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের একটি এলাকায় ওই অভিযান চালায় ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকারী দল।

বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় সময় রোববার কারাবালেদা এলাকা থেকে এক কিশোর ও তার বাবাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বা গোল্ডেন উইন্ডো ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। এরপরও অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪৫০ পার হয়ে গেছে। স্থানীয় সময় গত বুধবার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাবালেদা এলাকায় ধসে গেছে অন্তত ২০০টি ভবন। সেখান থেকে এখনও জীবিতদের উদ্ধার করায় উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করেছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

রোববার রদ্রিগেজ বলেন, ‘আজকেও আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধার করতে পেরেছি। তাই এই উদ্ধার অভিযান এখনই স্থগিত করা হবে না।’

লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর কয়েক লাখ মানুষ স্যানিটেশন এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার তীব্র সংকটে পড়েছেন। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে প্রায় ৭৭৪টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান পুরোদমে চললেও দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত বন্দর নগরী লা গুয়াইরাতে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবারের বিপর্যয়ের পর এই শহরের একটি বড় অংশ এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ ত্রাণ সামগ্রী দিতে অনেক বেশি সময় নিচ্ছে। যা দিচ্ছে সেটিও পর্যাপ্ত নয়। এই ক্ষোভ থেকে অনেকে ফার্মেসি, সুপারমার্কেট এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে।

কারাগারে অসুস্থ দীপু মনি, নেওয়া হলো ঢামেকে

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি। সোমবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত দেড়টার দিকে তিনি অসুস্থতা অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীপু মনির কিডনি, থাইরয়েড ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে। এসব কারণে তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়। অসুস্থ বোধ করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, দীপু মনির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। তবে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দীপু মনিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ফজলু জানান, সোমবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরে নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

ডা. দীপু মনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের অনেক নেতা আত্মগোপনে চলে যান। সাবেক মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী অনেক ব্যক্তিকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ডা. দীপু মনিও রয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে কর কমানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার লাঘব, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারে একাধিক জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি বর্তমান সরকারের এই বাজেটকে একটি জাতি পুনর্গঠনের বাজেট হিসেবে অভিহিত করে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক অবস্থার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অতীতের দুঃশাসনের কারণে বিশেষ করে পুঁজিবাজার এবং ব্যাংকিং খাতে জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। স্বৈরাচারের সময়ে পুঁজিবাজারে অসহায় মানুষ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও ঘটেনি। বর্তমান সরকার এই পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং যোগ্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্রুতই এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, ব্যাংকিং সেক্টরে যেকোনো মূল্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

দেশের মানুষের পাচার হওয়া লক্ষ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংসদকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টির বেশি ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টিরও বেশি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইনের মাধ্যমে এই পাচারকৃত সম্পদ যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী করের বোঝা না বাড়িয়ে, হয়রানি কমিয়ে এবং করের ভিত্তি বাড়িয়ে শাসন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোর নীতি গ্রহণের কথা বলেন। তিনি এমন একটি রাজস্ব ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যেখানে করদাতারা কর প্রদান করে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে গর্ববোধ করবেন। কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও আধুনিক করার অংশ হিসেবে তিনি ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার অনুরোধ জানান। একইভাবে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য তা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন। এছাড়া জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের জটিলতা দূর করতে বাজেটে যে বিশেষ বিধান আনা হয়েছিল, তা নিয়ে জনমনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেই প্রস্তাবিত বিধানটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। তবে একই সঙ্গে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদার করা, শিক্ষার্থীদের বহু ভাষায় পারদর্শী করতে ল্যাংগুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রেশন এবং সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে ‘টিন’ দাখিলের প্রস্তাবিত বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় তাদের পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি পাহাড়ি ও সমতল উভয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তিদের বেতনভোগী আয়কেও করমুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

তরুণ প্রজন্ম ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাজেটে প্রথমবারের মতো রাখা ৫০০ কোটি টাকার স্টার্ট-আপ ফান্ডিংয়ের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে দেশে এক বিশাল কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে। পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন, যাতে ব্যবসায়ীরা হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম পরিহার করে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পরিশোধে উৎসাহিত হন এবং সরকার রাজস্ব পায়।

দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও আমদানি শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। দেশের চিংড়ি চাষের প্রসার ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একিউফিড, ফিড এডিটিভস, প্রোবায়োটিক্স, ভিটামিন ও মিনারেলস আমদানিতে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এছাড়া স্থানীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান, ওষুধ ও স্থানীয় শিল্পে ব্যবহৃত মধু আমদানির ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং পিভিসি ও পেট রেজিন আমদানির প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। ফায়ার ডোর উৎপাদনের কাঁচামাল কোল্ড রোল্ড শিট আমদানির ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক এবং ফ্ল্যাট রোল্ড প্রোডাক্ট আমদানির ১০ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রীকে। বৈদ্যুতিক তার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের রিফাইন কপার আমদানির ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার এবং ক্যাশনাট প্রসেসিং শিল্পের কাঁচামাল অপ্রক্রিয়াজাত বাদাম আমদানির কাস্টমস শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলেন।

স্থানীয়ভাবে এলইডি ল্যাম্প এবং প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বিল্ডিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানির রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বর্ধিত করার আহ্বান জানান তিনি। ব্যবসায়ীবান্ধব ভ্যাট ব্যবস্থা প্রণয়নের লক্ষ্যে স্বর্ণ, ডায়মন্ড ও রৌপ্য অলংকারের ভ্যাটের হার পুনর্নির্ধারণ, বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায়ের ১০ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রচারণায় বহুল ব্যবহৃত ডাবল কেবিন পিকআপ এবং মাইক্রোবাস স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি সম্পদে নয়, বরং জনগণের আস্থায় নিহিত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এর সার্বিক উন্নয়নে সুপ্রিম কোর্টকে অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকা এবং আইন মন্ত্রণালয়কে আরও ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

একই সঙ্গে দক্ষ, সৎ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত জনপ্রশাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতার একটি জনবান্ধব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশবান্ধব ও গরিবের বাহন হিসেবে পরিচিত সাইকেলের ওপর থেকে সব প্রকার শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সর্বোচ্চ বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জুলাই সনদকে সামনে রেখে সংবিধান সংশোধনসহ দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখায় দেশের সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।