Home Blog Page 43

দক্ষিণ কোরিয়া ও স্কটল্যান্ড কোচের বিদায়

প্রথম ম্যাচে বিধ্বস্ত হওয়ার পরই বরখাস্ত হয়েছিলেন তিউনিসিয়ার কোচ সাবরি লামৌচি। আর গ্রুপ পর্ব পার হতে না পারায় বিদায় নিয়েছেন স্কটল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ। উরুগুয়ের আর্জেন্টাইন কোচ মার্সেলো বিয়েলসাও বিদায় নিতে যাচ্ছেন। পদত্যাগ করেছেন সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট।

গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়াং বো। রয়টার্স জানিয়েছে, দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘যারা কোরিয়া ফুটবল ভালোবাসেন এবং দেশকে সমর্থন করেন, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আমি দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। এই দায়িত্ব নেওয়া সহজ ছিল না। আমি চেষ্টা করেছি, নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল। দলের ওপরও বিশ্বাস ছিল। কিন্তু সবার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। এই খারাপ ফলের দায় আমার।’

তবে পদত্যাগ করেও স্বস্তিতে নেই তিনি। স্বয়ং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়াং এ ফলাফলে ক্ষুব্ধ। দেশটির ফুটবল প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, অযোগ্য ব্যক্তিদের হাতে ক্ষমতা দেওয়ার ফল এটি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য ক্রীড়ামন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনিও দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

প্রথম ম্যাচে চেক রিপাবলিককে হারালেও মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় দক্ষিণ কোরিয়া।

অন্যদিকে বিদায় নিয়েছেন স্কটল্যান্ডের কোচ স্টিভ ক্লার্ক। শনিবার রাতে খেলোয়াড়দের তিনি জানিয়ে দেন স্কটল্যান্ডের কোচ হিসেবে ৭ বছরের অধ্যায়ের ইতি টানতে যাচ্ছেন তিনি। অথচ মাত্র এক মাস আগে স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ছিলেন ৬২ বছর বয়সী এ কোচ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা জারি খেলাপি কমাতে বিশেষ ‘এক্সিট’ সুবিধা, সুদ মওকুফে বড় ছাড় ঋণ একবার পরিশোধ করলে আয় খাতের সুদও মাফ

ব্যাংক খাতের রেকর্ড খেলাপি ঋণ কমাতে একের পর এক ছাড় দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবারের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো খেলাপি গ্রাহক পুরো ঋণ একবারে পরিশোধ করলে আয় খাতে নেওয়া সুদও মওকুফ করতে পারবে ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের চেয়েও বেশি সুদ মাফ করা যাবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে বিশেষ এক্সিট সংক্রান্ত এক নীতিমালার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ছাড় দিয়েছে।

ব্যাংকাররা জানান, ব্যাংকগুলোর কোনো ঋণ নিয়মিত থাকলে আদায় হোক বা না হোক সুদ আয় খাতে নেওয়া হয়। আর একটি ব্যাংকের আয় থেকে সব ধরনের খরচের পর পরিচালন মুনাফা দেখিয়ে থাকে। একশ টাকা পরিচালন মুনাফা থেকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণের পর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি ব্যাংক সাড়ে ৩৭ শতাংশ সরকারকে কর পরিশোধ করে। তালিকাভুক্ত নয় এ রকম ব্যাংকের পরিশোধ করতে হয় ৪০ শতাংশ।

গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য ২০২৬ সালের ৩০ জুন ভিত্তিক মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ এক্সিট দেওয়া যাবে। তবে এ সুবিধা পেতে এক্সিট সুবিধার আওতায় ঋণগ্রহীতাকে সমুদয় দায় এককালীন পরিশোধ করতে হবে। এ সুবিধার আওতায় ঋণগ্রহীর সব আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে তহবিল ব্যয় আদায় নিশ্চিত করার যে শর্ত ছিল তা শিথিল থাকবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের আয় খাত বিকলন করে সুদ মওকুফ করা যাবে না বলে যে নির্দেশনা রয়েছে তা শিথিল থাকবে।
এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী বিশেষ পুনঃতপশিল পাওয়া ঋণেও এ সুবিধা দেওয়া যাবে। বিশেষ এক্সিটের ক্ষেত্রে স্বল্প মেয়াদি কৃষি ঋণ ও সিএমএসএমই খাতের কটেজ, মাইক্রো ও স্মল ঋণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ সার্কুলারে বর্ণিত বিশেষ এক্সিটের বিষয়ে ঋণগ্রহীতাদের অবহিত করতে ব্যাংক থেকে চিঠি দেওয়াসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ নির্দেশনা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বিরূপভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। যে কারণে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ কমানো অত্যাবশ্যক। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন কারণে আর্থিক সংকটে পড়লেও ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা ও ঋণ পরিশোধের আন্তরিকতা রয়েছে এমন ঋণগ্রহীতাদের এককালীন বিশেষ এক্সিট সুবিধা দিলে একদিকে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমবে। নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে। উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ব্যাংকগুলো রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল করেছে। এরপরও বেশির ভাগ সূচকের অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সাল শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায় ঠেকেছে। মোট ঋণের যা ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছর আগে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ ছিল সাত লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। এক বছরে বেড়েছে তিন লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। গত বছর শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয় পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। পুনঃতপশিলের পর অনাদায়ী স্থিতি চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর অবলোপন করা অনাদায়ী স্থিতি রয়েছে ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্দশাগ্রস্ত এসব ঋণের বড় অংশই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সৃষ্ট। তবে ওই সময় এসব ঋণ কৌশলে নিয়মিত দেখানো হয়। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করে। আবার অনিয়ম জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের অনেকেই পালিয়েছেন। কেউ কেউ জেলে আছেন। সেসব ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন পুরোনো মালিকদের ফেরার ধারা বাতিলের ঘোষণা

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার মুখে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বিলোপ করবে সরকার। সোমবার বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে সরকার এ ধারাটি বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বার্তা স্পষ্ট– যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমানতকারীর স্বার্থ নিশ্চিত করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ–২০২৫ জারি করে। এর অধীনে ভয়াবহ সংকটে পড়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক– ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ধার হিসেবে দিয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এক্সিম ছাড়া বাকি চার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলমের হাতে। একীভূত হওয়া এই ব্যাংকগুলো ঋণের বড় অংশই আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করছে বিভিন্ন সংস্থা। এসব ব্যাংক থেকে পাচার করে বিভিন্ন দেশে গড়া সম্পদ ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ব্যাংকগুলো।
সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা যে ৯৯টি অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এর একটি ছিল ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ। তবে আইনটি সংসদে ওঠার আগে শেষ সময়ে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করে বিএনপি সরকার। বিরোধী দল অভিযোগ করে, সরকার সমঝোতা ভেঙেছে। এই ধারার মাধ্যমে পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ তৈরি হচ্ছে। এস আলম আবারও ফিরবে।

রেজল্যুশন আইনের ১৮ (ক) ধারায় বলা হয়–‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন কিংবা এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ারধারক অথবা শেয়ারধারকরা অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক উপযুক্ত বিবেচিত ব্যক্তি ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনঃধারণ বা ধারণ করিবার জন্য রেজল্যুশন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করিতে পারিবে।’ এই ধারার উপধারা (৩)এ বলা হয়–‘আবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছে তার সাড়ে ৭ শতাংশের পে-অর্ডার দিতে হবে।’

জানা গেছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের আগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ১ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজিম উদ্দিন বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ ছাড়াই নতুনভাবে যুক্ত করা হয় ১৮(ক) ধারা। আগের অধ্যাদেশে ব্যাংকের খারাপ অবস্থার পেছনে দায়ীদের আর কখনও মালিকানায় ফেরার সুযোগ ছিল না। এরকম ধারা যুক্ত করার পর আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা সরাসরি আপত্তি জানায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকেও এরকম ধারা বাতিলের অনুরোধ করা হয়। আবার ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি, এমডিদের সংগঠন এবিবি এরকম ধারা যুক্ত করায় ব্যাংক খাতের আতঙ্কের বিষয়টি তুলে ধরে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ঋণ ছিল এক লাখ ৯৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা, যা ৮৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। পুরো ব্যাংক খাতে যেখানে খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর ব্যাংকগুলোর মোট মূলধন ঘাটতির অর্ধেকের বেশি এই পাঁচ ব্যাংকে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে পাঁচ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি এক লাখ ৫০ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।

জুলাইয়ে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কবর জিয়ারত, পদযাত্রা, আলোচনা সভা, সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কফিন মিছিল, ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে এ আয়োজনে।

সোমবার রাজধানীতে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকরাম হুসাইনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হবে। একই দিন ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি সভা এবং উপজেলা পর্যায়ে ‘বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নে’ মাসব্যাপী পদযাত্রার রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।

২ থেকে ৮ জুলাই দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন এবং ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি পালন করা হবে। ৫ থেকে ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’।

এ ছাড়া মাসজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারী, কৃষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং যুব কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছে।

১৬ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদের কবর জিয়ারত, দেশব্যাপী দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি রয়েছে। ১৭ জুলাই ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল এবং ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালন করা হবে।

আগস্টের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ‘দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম’, ‘সংবাদে গণ-অভ্যুত্থান’, ‘জুলাইয়ের দ্রোহযাত্রা’, গণ-অভ্যুত্থান স্মরণিকা প্রকাশ, ‘জনতার এক দফা’, আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৫ আগস্ট ‘বিজয়ের উল্লাস’ কর্মসূচি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ‘জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে। কমিটিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠকেরা দায়িত্ব পালন করবেন।

এনসিপি জানায়, দেশের পাশাপাশি এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রবাসীদের অংশগ্রহণে মাসব্যাপী পৃথক কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জুলাই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে করা হয়েছিল। আমরা চেয়েছিলাম সমাজের সব পুরোনো অর্ডার পরিবর্তন হয়ে নতুন একটি অর্ডার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এই নির্বাচিত সরকার গণভোট বাস্তবায়নের ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। তারা সেটি বাস্তবায়ন করবে না। জুলাই শুরু হওয়ার মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করতে দেখিনি।’

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি চাহিদার তুলনায় কোথাও কোথাও ৪২% পর্যন্ত ঘাটতি

জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আগের দিনের তুলনায় গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের অন্তত ১৪ জেলায় লোডশেডিংয়ে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

সমকালের ১৪ জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য বলছে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও লোডশেডিং চলছেই। চাহিদার তুলনায় কোথাও কোথাও ৩০ থেকে ৪২ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়ে গেছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

গত রোববার সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কমে যায়। গতকাল সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বন্ধ কেন্দ্র দুটি চালু হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য মতে, গতকাল লোডশেডিং নেমে এসেছিল ৩৩৯ মেগাওয়াটে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, এটা দুপুর ১২টা ও ১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের পরিমাণ। গতকাল সারাদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ভোর ৬টায়, এক হাজার ৬০ মেগাওয়াট। আগের দিন ঘাটতি ছিল তিন হাজার মেগাওয়াট। গতকাল দেশের প্রায় সব বিভাগে কম-বেশি বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসে। এতে লোডশেডিং কম হয়। রাজধানীবাসী এর পূর্ণ সুফল পেলেও ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে কম-বেশি লোডশেডিং হয়েছে।

পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় রোববার রাত ৯টা থেকে গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ ছিল না।

স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানিয়েছে, সাড়ে ১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৭ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যায়। এতে ৩০ শতাংশ ঘাটতি রয়ে যায়। এতে হোটেল-মোটেল, বরফকল ও মৎস্য ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবশ্য কুয়াকাটা জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম মোস্তফা আমিনুর রাশেদ দাবি করেন, কয়েক দিন আগের তুলনায় বর্তমানে লোডশেডিং কমেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গতকাল মিলেছে মাত্র ৯৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রায় ৩৩ শতাংশ ঘাটতির কারণে শহরে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হয়। গ্রামে আরও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে। নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বরগুনায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ওজোপাডিকোর আওতায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলেছে মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। পল্লী বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও ১৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলেছে মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। ফলে অর্ধেকেরও বেশি সময় লোডশেডিং করতে হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে; বরফ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জেলেদের বাড়তি দামে বরফ কিনতে হচ্ছে, কোথাও কোথাও মাছ নষ্ট হচ্ছে।

খুলনায় রোববার রাত থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত কোনো কোনো এলাকায় সাতবার লোডশেডিং দেওয়া হয়। ওজোপাডিকো জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৭৭৩ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৬৭৩ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া গেছে। এতে ঘাটতি থাকছে ১০০ মেগাওয়াট।

রাজবাড়ীতে দিনে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট ও রাতে ৯৫ থেকে ৯৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৩০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শহর ও গ্রামে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন অর রশীদ।

বগুড়ায় শহরে প্রায় ১০ শতাংশ ও গ্রামে প্রায় ২০ শতাংশ লোডশেডিং হয়েছে। পিডিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, ৯৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে তারা ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম স্বীকার করেন, গ্রামে গড়ে ২০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
শরীয়তপুরে ১২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সোমবার পাওয়া গেছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। প্রায় ৪২ শতাংশ ঘাটতির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওজোপাডিকোর সহকারী প্রকৌশলী ইশতিয়াক জহুর।

পিরোজপুরেও ৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে অনেক সময় মাত্র ৩ থেকে সাড়ে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী তুহিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, গ্রিড থেকে বরাদ্দ কম পাওয়ায় ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চার ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

কুমিল্লায় আগের দিন পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ থাকলেও গতকাল কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এলাকায় রোববার ১৩ শতাংশ এবং সমিতি-২ এলাকায় প্রায় ২৫ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, গতকাল বিকেলের পর পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসে।
মৌলভীবাজারে রোববার ৪৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ায় ব্যাপক লোডশেডিং করা হয়। গতকাল ভোর থেকে তিনটি গ্রিডেই চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় লোডশেডিং প্রায় ছিল না।

সিলেটে পিডিবির আওতায় ২৩০ থেকে ২৪৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে ১৪০ থেকে ১৫৫ মেগাওয়াট। ফলে নগর ও গ্রাম– উভয় এলাকাতেই কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকেই পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, সিরাজগঞ্জ ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায়ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। জগন্নাথপুরে পরিস্থিতির প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সিরাজগঞ্জ শহরে সোমবার নেসকোর আওতায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় লোডশেডিং ছিল না, যদিও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট আছে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে

যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একে জাতীয় অগ্রাধিকার আখ্যা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেছেন, দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যে কোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারেক রহমান বলেন, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।

সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও এর আগে বক্তৃতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারকে সমর্থন করার কথা জানান। আওয়ামী লীগ আমলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীন আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে ভারত যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখালে প্রকল্পটি ঝুলে যায়। চীন সমীক্ষাও করেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রকল্পটিতে জলাধার যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত ১৯ মে এই সিদ্ধান্ত হয়। চলতি সপ্তাহে সরকারপ্রধানের চীন সফরে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে তিস্তা প্রকল্পের যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত শুরু করতে একমত হয়েছে। গত রোববার সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, চলতি বছরেই এই কাজ শুরু হবে।
গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্য হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে। এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না। এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পানিপ্রবাহ, সেচব্যবস্থা এবং বন্যাব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।

কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন। কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।

যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে। বিদেশে তাদের ভোগান্তি কমাতে প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তবে আগের শাসনামলে শিক্ষাব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

পাচারের টাকা ফিরিয়ে আনা হবে
অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার লাঘব, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারে একাধিক সংশোধনী প্রস্তাব আনেন।
করমুক্ত ব্যক্তি আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।

Arif Hazra 1782787622

এ সময় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবকে অভিনন্দন জানান। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাইকেলের ওপর সকল শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাত্র বিরোধী দলের নেতা তাদের অবস্থান থেকে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছেন। প্রস্তাবটির সকল কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যতটুকু বিবেচনা করা যায়, তা করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

অতীত নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা প্রয়োজন
প্রস্তাবিত বাজেটকে জীবনবান্ধব বলে আখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে ভালোমন্দ কী হয়েছে আমি সে বিতর্কে আর যাব না। আমাদের অবশ্যই সামনে চলতে হবে। দুঃখজনকভাবে একটি চিত্র বারবার দেখেছি, যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে যাই, তখন অনেক বেশি অতীত নিয়ে কথা বলি। অথচ দেশের প্রত্যেক মানুষ চায়, আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।
তারেক রহমান বলেন, বাস্তবতা অনেক কঠিন। তারপরেও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে যে বাজেটটি আমরা উপস্থাপন করেছি, অবশ্যই আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের সর্বোচ্চ বুদ্ধি, বিবেক ও জ্ঞান দিয়ে এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করতে; যাতে শ্রেণি-পেশা ও সমাজের সকল মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির শ্বাস ফেলতে পারে। আমরা অতীতে লক্ষ্য করেছি যে বাজেট উপস্থাপনের আগে ও পরে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই বেড়ে যেত। তবে এ বছর আমরা সেরকম কোনো দৃশ্য দেখিনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় বলতে সাধারণত যা বুঝে থাকি, এরকম ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব যখন গ্রহণ করেছিলাম তখন একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিলাম। তার ভেতরে দুর্নীতি, লোপাট, অব্যবস্থাপনা এবং ভুলনীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক খাত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপ হয়ে গিয়েছিল। এই অবস্থা থেকে আমরা অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি।

সরকারপ্রধান বলেন, বিরোধী দলের নেতাও বলেছেন, আগে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছিল, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবেও যেটি স্বীকৃত। দেশের উৎপাদন এবং বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। মূল্যস্ফীতি কী অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল আজ থেকে দুই আড়াই বছর আগে সেটি বোধহয় আমরা সকলেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার অর্থনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই খাত এমন অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছিল মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে আত্মহত্যাও করেছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও অপচয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কী ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছিল সেটি নিশ্চয়ই কারও অজানা নয়। টাকার যে এক্সচেঞ্জ এটি ৪০ শতাংশ নেমে গিয়েছিল।

এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী আপিল বিভাগের রায়

ঋণ খেলাপি হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী বিএনপির আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আজ মঙ্গলবার এ রায় দেন।

এর ফলে তাঁর নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ। আজ আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি।

ঋণ খেলাপির অভিযোগ থাকা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি চলতি বছর ১৮ জানুয়ারি বৈধ ঘোষণা করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ব্যাংকের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দেন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করার সুযোগ পান। কিন্তু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল ঘোষণা স্থগিত থাকবে এবং তা প্রকাশ যাবে না বলে আদেশ দেওয়া হয়।

এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ  নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

‘প্রায় সকলেই কুচিকুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন’ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা

বিরোধী দলকে দুর্বল করার প্রবণতার সমালোচনা করে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একটা চমৎকার প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করছি। প্রায় সকলেই কুচিকুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন, আমাদের সঙ্গে চলে আসেন। আমরা ওই কুচিকুচি করার জন্য আসি নাই।’

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা এ আহ্বান জানান। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বিরোধী দলের নেতা সমাপনী বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে, সরকারি দল যা চাইবে, বিরোধী দল সেটাই সমর্থন করবে। আবার বিরোধিতার খাতিরে সবকিছুর বিরোধিতাও করা উচিত নয়। সরকারি দলকেও বিরোধী দলকে সম্মান করার মানসিকতা থাকতে হবে, আর বিরোধী দলেরও সংগত সকল বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার মানসিকতা থাকতে হবে।’

জাতীয় সংসদকে সরকারি দল ও বিরোধী দল দুই ‘চাকার’ ওপর চলা একটি যানবাহনের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলকে দুর্বল করার চেষ্টা না করে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের সংসদীয় ‘ব্যাড কালচার’, ব্যক্তিপূজা ও চরিত্রহননের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘এই সংসদেরও দুইটা টায়ার। একটা সরকারি দল, আরেকটা বিরোধী দল। যেকোনো একটা টায়ার অকেজো হয়ে গেলে যান চলবে না। এক টায়ারে আপনি পিন লাগাবেন, পেরেক মারবেন, তাহলে কিন্তু ওই টায়ারটা ফুটো হয়ে যাবে। ওইটা ফুটো হয়ে গেলে ওই টায়ার দ্বিতীয়ট চলবে না।’

অতীতের সংসদীয় চর্চার সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘অতীতের সংসদে দায়িত্বরত ব্যক্তিকে তোষামোদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এটা দেওয়া উচিত না। এটা তোষামোদের জায়গা না, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা।’

স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলের এই নেতা বলেন, ‘অতীতের ব্যাড কালচারকে আমরা না বলি। বিশেষ করে এই সংসদে চরিত্রহননের কোনো কাজ যেন না হয়।’

স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির নেতা বলেন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর জনবল, সরঞ্জাম ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে একই ধরনের তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বেশি হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানে একই মানদণ্ড প্রয়োগ হয় না।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়।

বিরোধী দলের নেতা কওমি মাদ্রাসার জন্য বাজেটে বরাদ্দ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে আনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই তাদেরও রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি কওমি মাদ্রাসাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেই সহায়তার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়েও সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর ঝুলিয়ে না রাখার আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় নেতা।

উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিরোধী দলের নেতা বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি গবেষণাভিত্তিক না হয়, তাহলে চিরজীবন আমরা আমদানি নির্ভরই থেকে যাব। গবেষণার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে অন্তত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ারও প্রস্তাব করেন তিনি।

পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কথা তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এসব মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা গেলে সেখানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।

বাজেটে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন বিরোধী দলের নেতা। তিনি বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছরে যে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, ওই পাচার অর্থের নয় ভাগের এক ভাগও যদি আগামী অর্থবছরে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে আমাদের কোনো বাজেট ঘাটতি থাকবে না।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সম্পদের সঙ্গে অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে হবে। সম্পদ এল, আর অপরাধীরা থেকে গেল—তাহলে সঠিক শিক্ষা হবে না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে দ্রুততম সময়ে অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের ওপর অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায়ের চাপ কমাতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘ট্যাক্স শুধু একটাই হবে, দ্বিতীয়টা আর তৃতীয়টা থাকবে না। তাহলে ব্যবসায়ীরা আরও বেশি ট্যাক্স দিতে আগ্রহী হবে।’

প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা তুলে ধরে বিরোধী দলের নেতা সংসদের অধীনে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, যেখানে ৮৫ হাজার টাকায় যাওয়ার কথা, সেখানে শ্রমিকদের কাছ থেকে ৬-৭ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জামায়াতের আমির অতীতে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ও নির্যাতিতদেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিচার কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সব অপরাধীদের, যত বড়ই হোক, বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

বাজেট বাস্তবায়নে নিয়মিত মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন বিরোধী দলের নেতা। তিনি বলেন, প্রতি তিন বা চার মাস অন্তর বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। পাশাপাশি অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করারও প্রস্তাব দেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চার লেন প্রকল্প দ্রুত শেষ করা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, ভোলা সেতু নির্মাণ এবং প্রধান নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সহযোগিতায় নেওয়া মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা নামের কাঙাল নই, আমরা কাজের কাঙাল। কাজটাই দেখতে চাই।’

সবশেষে বিরোধী দলীয় নেতা স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই বলে বক্তব্য শেষ করেন, ‘ধন্যবাদ, মাননীয় স্পিকার কোনো ভুল হলে আমাকে ক্ষমা করবেন। প্রিয় দেশ এগিয়ে যাক। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাই। যুবকদের স্বপ্নের বাংলাদেশ উপহার দিই এবং আমরা অতীতের গ্লানি থেকে বের হয়ে আসি।’

ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাট বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অপহৃত পাঁচ মাঝিমাল্লাই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।

অপহৃতরা হলেন— মাঝি সালাম নুর (৩১), মো. আইয়ুব (৩৭), মো. আজিজুল্লাহ (৩০), সৈয়দ হোসেন (২৫) এবং মো. আইয়ুব (২৪)।

বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় উপকূলের জেলেপল্লিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, রোববার সকালে টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট থেকে সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদের মালিকানাধীন একটি ট্রলার মাছ ধরতে সাগরে যায়। পরে ছেড়া দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আরাকান আর্মির সদস্যরা ট্রলারটিকে ধাওয়া করে আটক করে এবং ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে নিয়ে যায়। এ সময় আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার দ্রুত এলাকা ছেড়ে নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তারা সবাই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।

নিরিবিলি একটা জীবন উপভোগ করতে পারছি: সারিকা

অভিনেত্রী সারিকা সাবরিন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘হেডলাইন’। সাংবাদিকতা, সত্য অনুসন্ধানে লড়াইয়ের গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিরিজে দোলন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সত্য খুঁজে বের করার পথে একজন সাংবাদিককে কত ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়—এই সিরিজে সে বিষয়টি দেখানো হয়েছে। তবে এটি শুধু সাংবাদিকতা বা অনুসন্ধানের গল্প নয়। এর আড়ালে রয়েছে সুন্দর পারিবারিক গল্পও।

সিরিজটি নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি অনেক বছর ধরেই সামাজিক মাধ্যমে নেই। তাই ফেসবুক বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া সরাসরি দেখার সুযোগ হয় না। তবে হেডলাইন মুক্তির পর সহকর্মী, বন্ধু এবং পরিচিত অনেকেই ফোন করে তাদের ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। তারা গল্প, নির্মাণ এবং চরিত্র নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে দর্শকদের এই ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

নিজের চরিত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দোলন আত্মবিশ্বাসী এবং দায়িত্বশীল একজন নারী। হেডলাইন সিরিজে সে একজন সাংবাদিকের স্ত্রী। ঘটনাচক্রে এমন একটি বড় রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, যা তার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দেয়। এরপর একের পর এক ঘটনার মধ্য দিয়ে তাকে কঠিন সব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে। আমি মনে করি, বর্তমান সময়ের অনেক নারী দোলনের সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন। কারণ, জীবনের নানা সংকটের মধ্যেও কীভাবে শক্ত থেকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়, দোলন সেই গল্পই বলে।

এই যুগে এসেও সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে আছেন তিনি। সিদ্ধান্তটি তাকে ব্যক্তিগত জীবনে স্বস্তি দিয়েছে বলেন জানান সারিকা। অভিনেত্রী বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই বরং বেশ স্বস্তিতে আছি। সামাজিক মাধ্যমে না থাকায় নিজের জন্য অনেক বেশি সময় পাই; পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারি এবং নিরিবিলি একটা জীবন উপভোগ করতে পারছি। অবশ্যই সামাজিক মাধ্যমের কিছু ইতিবাচক দিক আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি মনে করি, মানসিক শান্তিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই মুহূর্তে আমি আমার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে কী হবে জানি না, তবে এখন যেমন আছি, তাতে ভালো আছি।’

নতুন কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। এখনই খুব বেশি কিছু বলতে চাই না। কারণ কোনো কাজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার আগে সেটি নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। সবকিছু চূড়ান্ত হলে অবশ্যই দর্শকদের জানাব। আমি সব সময় চেষ্টা করি সংখ্যার চেয়ে ভালো গল্প এবং চরিত্রকে গুরুত্ব দিতে।’