Home Blog Page 446

কমলো উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল বা জেট ফুয়েলের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক রুটে লিটারপ্রতি ৭৫ সেন্ট থেকে কমিয়ে ৬০ সেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ রুটে লিটারপ্রতি ১১১ টাকা থেকে কমিয়ে ৯৩ দশমিক ৫৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এত দিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করে আসছিল। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, এখানে জেট ফুয়েলের দাম বেশি, সে কারণে সুযোগ থাকার পরও অনেক বিদেশি উড়োজাহাজ বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে না। ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করলে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি বিশ্বে দেশের ইমেজ শক্তিশালী হয়।

নতুন করে নির্ধারিত এ দর মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে। অন্যান্য কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে এবং আমদানি মূল্যের অংশটুকু প্রতি মাসে সমন্বয় করার ঘোষণা দিয়েছে বিইআরসি। এর অর্থ হলো—আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়লে দেশেও দাম বাড়বে, আর কমলে দেশেও কমবে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দর ঘোষণা দেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—বিইআরসির সদস্য মিজানুর রহমান, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, আব্দুর রাজ্জাক ও বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহিদ সারওয়ার প্রমুখ।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা বাতিল করে দেয়। এরপর গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১–এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির ওপর ন্যস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনের পর গত ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের গণশুনানি করে বিইআরসি। বিপিসি আন্তর্জাতিক রুটের জন্য লিটারে ১ সেন্ট কমানো ও অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য ১ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল।

বিপিসির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জেট ফুয়েল বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ টন। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৩ টনে।

এর আগে ২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও আধা বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইআরসি গঠিত হয়। আইনে সব ধরনের জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার দেয়া হলেও প্রবিধানমালা ঝুলে থাকায় শুধু গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিইআরসি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করে। তারপর থেকে কার্যত বেকার হয়ে পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশের ধারাটি বাতিল করে দিলে গতিশীল হতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আগের মতোই এখনো নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

যে প্রবিধানমালার দোহাই দিয়ে জ্বালানি তেল এত দিন নির্বাহী আদেশে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেগুলো এখনো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ঝুলে থাকা প্রবিধানমালা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম দিকে নাড়াচাড়া শুরু হলেও এখন আবার চাপা পড়ে গেছে।

স্থগিত হওয়া আইপিএল পুনরায় শুরু হচ্ছে

এক সপ্তাহ স্থগিত থাকার পর আবারও মাঠে গড়াচ্ছে ইন্ডয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)। শনিবার থেকে টুর্নামেন্ট শুরুর নতুন সূচি ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

আগামী তিন জুন টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রথম কোয়ালিফায়ার ২৯ মে, এলিমিনেটর ৩০ মে এবং দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার অনুষ্ঠিত হবে এক জুন। গ্রুপ পর্বের ভেন্যু ঠিক করলেও প্লে-অফের মাঠ এখনও চূড়ান্ত করেনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

এর আগে কাশ্মীরের পেহেলগামে সস্ত্রাসী হামলায় ২৬ পর্যটকের নিহতের ঘটনায় ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে শুক্রবার এক সপ্তাহের জন্য আইপিএল স্থগিত করেছিল বিসিসিআই।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের হামলার কারণে পাঞ্জাব-দিল্লি ম্যাচে ব্ল্যাকআউট করে দেয়া হয়েছিল ধর্মশালা স্টেডিয়াম। পরদিন জরুরি সভা ডেকে টুর্নামেন্ট স্থগিত করে বোর্ড। আসর শুরু হলেও বিদেশিদের পাওয়া যাবে কি না, সে নিয়ে রয়েছে সংশয়।

পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান চিত্র: বর্তমানে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে গুজরাট টাইটানস। তবে সমান পয়েন্ট থাকলেও ০.৪৮২ রান রেটে পিছিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দ্বিতীয় স্থানে। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাঞ্জাব কিংস। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১৪, দিল্লি ক্যাপিটালস ১৩, কলকাতা নাইট রাইডার্স ১১ এবং লখনউ সুপার জায়ান্টস ১০ পয়েন্ট নিয়ে এখনও প্লে-অফ দৌড়ে টিকে আছে।

অন্যদিকে চেন্নাই সুপার কিংস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও রাজস্থান রয়্যালস এরইমধ্যে প্লে-অফের রেস থেকে ছিটকে পড়েছে। টুর্নামেন্টে এখনও ১২টি লিগ এবং ৪টি প্লে-অফ ম্যাচ বাকি রয়েছে।

আট বউ নিয়ে প্রকাশ্যে মোশাররফ করিম

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের জন্য সিরিজ নির্মাণ করছেন দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী। সিরিজের নাম ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’। এতে প্রধান চরিত্রে ট্রাকচালক আব্বাস চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেতা মোশাররফ করিম।

যিনি একজন দুর্দান্ত প্রেমিক হৃদয়ের মানুষ। দেশের সাত জেলায় সাত সংসার তার। করতে চান আটটি বিয়ে। তখনই বাধে ঝামেলা।

এবার জানা গেল এই সিরিজে তার আট বউয়ের চরিত্রে কে কে অভিনয় করছেন।

সিরিজটিতে তার বউয়ের ভূমিকায় অভিনয় করছেন সাদিয়া আয়মান, তানজিকা আমিন, রুনা খান, মৌসুমি হামিদ, ফারহানা হামিদ, জুই করিম ও অদিতি বৃষ্টি। যাদের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে রবিবার। পোস্টারে সাত বউয়ের সঙ্গে আছেন অভিনেতা মোশাররফ করিম।

কমেডির এই গল্পে মোশাররফ করিমের চরিত্রের নাম ‘আব্বাস’। তাকে ঘিরে এগিয়ে যাবে সিরিজের গল্প।

এর আগে অমিতাভ সিরিজ ‘ঢাকা মেট্রো’ বানিয়ে প্রশংসা পেয়েছিলেন এই। এটি ছিল একটি রাস্তার গল্প। এবার আবারও এমনই একটি গল্প নিয়ে আসছেন এ নির্মাতা। ঘোষণাটি আশার পর দর্শকদেরও আগ্রহ বেড়েছে সিরিজটি নিয়ে। তবে এটি মুক্তির তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

কান চলচ্চিত্র উৎসবে যেসব পোশাক নিষিদ্ধ

কান চলচ্চিত্র উৎসবে আসছে বড়সড় পরিবর্তন। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি চোখ থাকে এই রেড কার্পেটের দিকে, যেখানে তারকারা তাদের স্টাইল স্টেটমেন্ট দিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের তাক লাগিয়ে দেন।২০২৫ সালের ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো নগ্নতা এবং অতিরিক্ত বিশাল ও ভলিউমিনাস পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নতুন নিয়মাবলীতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রেড কার্পেট সহ উৎসবের কোনো অংশেই নগ্নতা গ্রহণযোগ্য হবে না।

শালীনতা বজায় রাখা এবং ফরাসি আইন মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, যে সমস্ত পোশাক অতিরিক্ত বড়, বিশেষ করে যেগুলোর সাথে লম্বা ট্রেন বা ঘের থাকে যা চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে অথবা আসন গ্রহণে অসুবিধা তৈরি করে, সেই পোশাকগুলোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, সন্ধ্যার গালা স্ক্রিনিংয়ের সময় বড় আকারের ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক বা টোট ব্যাগ নিয়ে প্রবেশও নিষিদ্ধ। এই নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট অতিথিকে রেড কার্পেটে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই নিয়ম করার মূল উদ্দেশ্য ফ্যাশনকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং উৎসবের পরিবেশ সুষ্ঠু ও সম্মানজনক রাখা এবং নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। বড় পোশাক অনেক সময় ভিড়ের মধ্যে চলাচলকে কঠিন করে তোলে এবং দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়া, ২০২২ সালে রেড কার্পেটে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিবাদে এক নারীর টপলেস হয়ে প্রতিবাদ এবং সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তারকাদের অতিমাত্রায় স্বচ্ছ বা ‘নেকড’ পোশাক পরিধানের প্রবণতা হয়তো কান কর্তৃপক্ষকে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে আমেরিকান গায়ক কানিয়ে ওয়েস্টের স্ত্রী বিয়াঙ্কা সেনসোরির পোশাক নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কও এই নিয়মের পিছনে একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কানের রেড কার্পেটের ড্রেস কোড নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগে মহিলাদের হাই হিল পরা বাধ্যতামূলক করার একটি অলিখিত নিয়ম ছিল, যা নিয়েও বেশ সমালোচনা হয়েছিল। ২০১৫ সালে কিছু মহিলাকে ফ্ল্যাট জুতো পরার কারণে রেড কার্পেটে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা হয়। অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে একবার রেড কার্পেটে দাঁড়িয়ে তার হিল জুতো খুলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর নিয়মে কিছুটা শিথিলতা আসে।

সৌদির সঙ্গে ট্রাম্পের ১০০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান সৌদি আরব সফরে যেসব চুক্তি হচ্ছে তার মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি রয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ চুক্তির আওতায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র ও অন্য সামরিক উপকরণ কিনবে। এ প্যাকেজের আওতায় রাডার সিস্টেম ও পরিবহন বিমান কেনার বিষয়টিও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের অস্ত্রের বড় সরবরাহকারী দেশ। যদিও দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা ভাটা পড়েছিল জো বাইডেন ক্ষমতায় থাকার সময়। ইয়েমেন যুদ্ধে দেশটির ভূমিকা উদ্বেগ প্রকাশ করে তখন সৌদি আরবকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করেছিল বাইডেন প্রশাসন।

এর আগে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডও দেশ দুটির সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্টে বলা হয়েছিল, যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান ওই হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন দিয়েছিলেন। যদিও সৌদি আরব সবসময় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফর শুরু করেছেন। দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি আগামী চার দিন উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকবেন।

তার এবারের সফরে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে নতুন বিনিয়োগ বিশেষ করে তাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল থেকে বিনিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এটি তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে মনে করেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বৈঠক করবেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমানের সঙ্গে। পরে তিনি রিয়াদের সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ ফোরামে যোগ দেবেন, যাতে নামিদামি কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারাও থাকবেন। ওয়াল স্ট্রিট ও সিলিকন ভ্যালি থেকে সৌদি আরবে বিনিয়োগের বিষয়টিতেও দৃষ্টি দেয়া হবে।

বুধবার ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সম্মেলনে যোগ দেবেন। শুক্রবার আরব আমিরাত সফরের মাধ্যমে তার চারদিনের সফর শেষ হবে।

গাজায় ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যাকায় বর্বর ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যা চলছেই। দখলদার বাহিনীর নৃশংস হামলায় গত ২৪ ঘন্টায় ভূখণ্ডটিতে আরও অন্ততপক্ষে ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে যুদ্ধ বিধ্বস্ত নগরটিতে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হাজার ৯০৮ জনে পৌঁছেছে।

বুধবার এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামলা তীব্রতর করেছে এবং মধ্যরাত থেকে কমপক্ষে ৫১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে চিকিৎসকরা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৫ জন উত্তর গাজায় নিহত হয়েছেন।

আল জাজিরা বলছে, দক্ষিণ গাজার ইউরোপীয় এবং নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনী বোমা হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৩০ জনকে হত্যা করার কয়েক ঘণ্টা পরেই সর্বশেষ হামলাগুলো শুরু হয়েছে। হাসপাতালে হওয়া ওই হামলায় নিহত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসা নিতে আসা একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৫২ হাজার ৯০৮ জনে পৌঁছেছে বলে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৯ হাজার ৭২১ জন।

দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দু’মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৮০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও প্রায় ৭ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এ হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডের অধিকাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে ইসরায়েল।

১৪ দলের নিবন্ধন বাতিল চায় গণঅধিকার পরিষদ

জাতীয় পার্টিসহ (জাপা) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। এ বিষয়ে সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের কাছে চিঠি জমা দিয়েছে গণঅধিকারের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল।

আবেদনে দলটি উল্লেখ করে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছে। জুলাই গণহত্যায় জড়িত থাকার কারণে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একইভাবে তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল বাংলাদেশের নাগরিকের ওপর চালানো গণহত্যাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে গণহত্যাকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ যে একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল, তার অন্যতম সহযোগী ও বৈধতাদানকারী হিসেবে সক্রিয় ছিল জাতীয় পার্টিসহ জোটবদ্ধ বাকি দলগুলো। তাই গণহত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে এই দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি করানোর আহ্বান করছে গণঅধিকার পরিষদ।

গণঅধিকার প্রত্যাশা করে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ তাদের দোসরদের নিবন্ধন বাতিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনক্ষোভ দূর করতে আপনার (সিইসি) নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের মুখপাত্র ফারুক হাসান, উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, মাহফুজুর রহমান খান, হাবিবুর রহমান রিজু, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার মতো ফখরুদ্দিন মঈনউদ্দিনেরও বিচার হবে: এম এ মালেক

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক। দীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, স্বপরিবার নিয়ে থাকেন যুক্তরাজ্যে। বর্তমান সময়ে বিএনপিতে বেশ আলোচিত নেতা। গত ৬ মে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সফর সঙ্গেী হিসেবে লন্ডন থেকে দেশে আসেন। উঠেছেন রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশেফরাসহ নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন দৈনিক মানবকণ্ঠের সঙ্গে। রোববার সকালে রাজধানীর গুলশান ওয়েস্টিন হোটেলে তার সাক্ষাতার গ্রহণ করেছেন মানবকণ্ঠের সিনিয়র রির্পোটার ছলিম উল্লাহ মেজবাহ।

 তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন।  
এম এ মালেক: তারেক রহমান বাংলাদেশে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশে আসবেন, উনার তো বাড়ি নেই, বাড়ি ভাড়া করতে হবে, যেদিন বাসা পাবেন বা ঠিক হবে তারপর দেশে আসবেন। যদি বাসা না পাই তাহলে আমার বোনের (ডা. জোবাইদার) বাড়িতে থাকতে হবে। বর্তমানে ঢাকা শহরে তারেক রহমানের কোন ঠিকানা নেই। বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন হলে তিনি আসবেন। এছাড়া আইনের বিষয় আছে, উনার নিরাপত্তার বিষয় আছে, সব কিছু বিবেচনা করে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন। এ ব্যাপারে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

 আওয়ামী লীগের রাজনীতি কার্যক্রম বন্ধে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।  
এম এ মালেক: গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদলসহ সারাদেশে ৫শ’ নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। তাদের হত্যা করেছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট পুলিশ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা।একই সাথে আন্দোলনে যত লোক মারা গেছে প্রত্যেককে ক্ষতিপূরন দেয়ার দাবি জানাই। বর্তমান অন্তবর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। এটি একটি উত্তম কাজ করেছে। আমি সাধুবাদ জানাই।

 প্রায় ন’মাস আড়ালে থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশ ছাড়লেন। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
এম এ মালেক: সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদকে যারা বিদেশে পালানোর সুযোগ করে দিয়েছে, তাদের বিচার ও শাস্তি চাই, এখানে টাকার খেলা হয়েছে। এবিষয়ে ছাড় দেয়া যাবে না।

 নির্বাচন এবং সংষ্কার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়েও সময় ক্ষেপনের কথা তুলছে আপনার দল। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
এম এ মালেক: নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। আমার দল বারবার বলে আসছে দীর্ঘকাল সংস্কার চলতে পারে না। আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার কথা বলে আসছি।

 যুক্তরাজ্যে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবীতে আপনার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে বৈরি পরিস্থিতির মোকাবেলা করলেন কী ভাবে?
এম এ মালেক: যুক্তরাজ্যে শেখ হাসিনার গুম খুন হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহুবার হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছি। আমাকে রাশিয়ান হিটম্যান দিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল। যুক্তরাজ্যের পুলিশ দিয়েও চেষ্টা করা হয়েছে আমাকে হত্যা করার জন্য।

বিএনপি চেয়ারপার্সন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ থেকে রাজনীতি করছেন, খুব কাছ থেকে দেখেছেন দীর্ঘদিন। দলনেতা হিসেবে তাদের কীভাবে মূল্যায়ন করবেন।  
এম এ মালেক: বেগম খালেদা জিয়া আমার মা, উনি কথায় কাজে মিল রেখেছেন, তিনি বলছেন বাংলাদেশের বাইরে আমার কোন ঠিকানা নেই, এদেশের মাটি ও মানুষ হচ্ছে আমার আসল ঠিকানা। তাই তিনি দেশের বাইরে থাকেননি। দেশেই ফিরে এসেছেন। বারবার তিনি তার কাজে প্রমাণ করেছেন তিনি আপোসহীন। ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে একই বিমানে আমি ও আমার পরিবারসহ দেশে এসেছি তার সফরসঙ্গী হিসেবে। জীবন স্বার্থক মনে হয়। এর থেকে আর বড় পাওয়া কি হতে পারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের দুর্নীতি খোঁজ নিতে সারাবিশ্বে চিরুনি অভিযান করেছে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পলাতক অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে কিছুই পায়নি। এছাড়া তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হাওয়া ভবন নিয়ে মিথ্যাচার করছে শেখ হাসিনাসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। একটা প্রমাণও করতে পারেনি। যারা অপপ্রচার করছে তাদের ট্রাইব্যুনাল করে অবশ্য বিচার করতে হবে।

 লীগ নেতারা দুর্নীতি করেছে, বিদেশে টাকা পাচার করেছে….
এম এ মালেক :  হ্যাঁ, বিদেশে ১শ ৬২ বিলিয়ন ডলার মাফিয়া হাসিনাসহ তার নেতারা পাচার করেছে। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে ফেলেছে। এ টাকাগুলো উদ্ধারে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
 আপনার দল সরকার গঠন করলে ১/১১ এর মুল নায়ক মঈন ইউ আহমেদ ও ফখরুদ্দিনের কি বিচার করবে?
এম এ মালেক : ১/১১ এর সময় মঈন ও ফখররুদ্দিনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ আমেরিকার তৎকালীন আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে সাক্ষাত করে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছি। জেনেভা কনভেনশনে অংশ গ্রহণ করছি। ইউকেতে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন জোরদার করেছি। আমি মনে করি বিএনপি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার যেইভাবে হবে ঠিক সেইভাবে মঈন উদ্দিন  ও ফখরুদ্দিনের বিচার করতে হবে।

 তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, আপনি সেখানে যাননি। 
এম এ মালেক : শেখ হাসিনা ক্ষমতা থাকাকালীন লন্ডনে যখন গেলেন তখন আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন। সেই দাওয়াতে আমি অংশ নিতে যাইনি। আমি শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম আগে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে রিলিজ দিতে হবে চিকিৎসার জন্য। খালেদা জিয়াকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করেছেন শেখ হাসিনা। সেøা পয়জন দিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। এই জন্য হাসিনা যখন যুক্তরাজ্য যায়, তখন লন্ডনে হাসিনাকে অবরোধ করছি। গত ১৬ বছর ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে আমি আন্দোলন করেছি। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করেছি হাসিনাকে রিজাইন করার জন্য। বৃটিশ পার্লামেন্ট, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বলেছি বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিস্ট হটাও। বিগত দিনে লন্ডনে লক্ষ লক্ষ মানুষকে জড়ো করে সেই দেশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। এখন আবার শেখ হাসিনা ভারতে বসে দেশে বিশৃঙ্খলা করার চেস্টা করছে।  এ ব্যাপারে দেশের সকল রাজনীতি দলগুলোকে সর্তক থাকতে হবে। সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে।

 কি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিবেন?
এম এ মালেক : হ্যাঁ, আমি সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং বালাগঞ্জ উপজেলা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবো। সেজন্য কাজ করছি। আপনারা দোয়া করবেন। সোমবার (গতকাল) এলাকায় যাচ্ছি। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ থাকবো। তারপর ঢাকায় ফিরবো।

 রহমানের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কীভাবে ?
এম এ মালেক : আমি আর মহিদুর রহমান সাহেব নামের এক ভদ্রলোক একসঙ্গে কারওয়ান বাজারে তারেক রহমানের কাছে যেতাম, তখন উনি কারওয়ান বাজারে বসতেন, তখন আমার সঙ্গে সম্পর্ক হয়। লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই সম্পর্ক রয়েছে। লন্ডনে বর্তমানে বিএনপির প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছি। এর আগে সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সেইসাথে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে রয়েছি।

রাজনীতিতে যাত্রা শুরুর সময়টা কখন? 
এম এ মালেক : আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও ইয়াং মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। চাচার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছি। চাচা আবু মিয়া চেয়ারম্যান, তিনি আওয়ামী লীগ করতেন। উনারা লন্ডনে থাকতেন, আমাকে দেখাশোনা করেছেন। রাজনীতিতে আসতে উৎসাহ দিতেন। ছোটবেলা থেকে এলাকা আমাদের দাপট ছিল। সে জায়গায় থেকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের পর জাসদ সমর্থক ছিলাম। তারপর ১৯৭৬ সালে জাতীয় তরুণ সংঘের মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বি. চৌধুরী দল গঠন করলেন। ১৯৭৭ সালে ধানমন্ডিতে তখন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করি। জিয়াউর রহমান একটি সম্মেলনে ভাষন দেন। সেই অনুষ্ঠানে আমিও বক্তব্য রাখি, এক মিনিট। কিন্তু বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল তিন মিনিট। আমি নার্ভাস হয়ে বক্তব্য শেষ করি। পরে তৎকালীন যুব রাজনীতির নেতা মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর রায় ও হারিছ আহমদ এর মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হই।

 প্রায় চারদশক কাটিয়ে দিলেন প্রবাসে, লন্ডনে। কৈশোর, তারুণ্যর সময় কতটা উপভোগ্য ছিল?
এম এ মালেক : ১৯৮১ সালে লন্ডনে বাবা-চাচাদের সঙ্গে পার্টটাইম ব্যবসা করেছি। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলের মার্শাল ল’ এর সময় সিলেটে তখন দায়িত্বশীল সেনা কর্মকর্তা আমিন আহমেদ চৌধুরী, কর্নেল দেওয়ান লন্ডনে যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করেন। আমার বাবা লন্ডনে একজন ফ্যাক্টারির ওয়ার্কার ছিল। আমার বড় ভাই ব্যবসা করত। আমি রেস্টেুরেন্টে কাজ করেছি। এরপর লন্ডনে এলাকার দূর সর্ম্পকের চাচাতো বোনের সঙ্গে বিয়ে হয়। স্ত্রী ছিলেন তরুণ শিক্ষক। তখন এরশাদের বির’দ্ধে লন্ডনে সভা সেমিনার করেন টনবি হলে। ৭ দলের নেতৃত্বে এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করা হয়। ধানমন্ডি বিএনপির অফিস থাকাকালীন তৎকালীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন জোরদার করার জন্য তখন ম্যাডাম দিক নির্দেশনা দেন। লন্ডনে সেটেল্ডে হওয়ার পর একাধিক মামলা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। রাজনীতির পাশাপাশি সংস্কৃতি মনা ছিলাম। ছবি প্রডিউস করেছি। ছবির নাম যেই প্রেম কথা কয়, ছবির নায়ক ছিলেন প্রবীর মিত্র ও নায়িকা ছিলেন শাবানা। এছাড়া নাটকেও অভিনয় করেছি মাঝেমধ্যে। একটা নাটকের নাম মনে করতে পারছি, বিলাতে বিলাস। আমার দুই ছেলে এক মেয়ে।

আন্দালিব পার্থের স্ত্রীকে বিদেশ যাত্রায় বাধা

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থের স্ত্রী শেখ শাইরা শারমিনকে বিদেশ যাত্রায় বাধা দেয়া হয়েছে মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ শারমিনকে থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে উঠতে দেননি।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ শাইরা শারমিন দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে যাত্রার জন্য থাই এয়ারলাইনসের টিজি৩২২ ফ্লাইটে চেক-ইন করলেও ইমিগ্রেশন থেকে তাকে থামিয়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, তার স্ত্রী ও ছোট কন্যা মেডিকেল চেক আপের জন্য ব্যাংকক যাচ্ছিলেন। এসবি তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর পর তারা বাড়িতে চলে এসেছে। তবে তাদের সাথে কোনো খারাপ ব্যবহার করা হয়নি।

এখন কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আইনের মানুষ। আইন আমার পেশা। যথাযথ অনুমতি নিয়ে আমার পরিবারের সদস্যরা ব্যাংকক যাবে।

উল্লেখ্য, শেখ শাইরা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাতিজা শেখ হেলাল উদ্দীনের মেয়ে এবং সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের বোন। শেখ হেলাল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বাগেরহাট-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার ছেলে শেখ তন্ময়ও বাগেরহাট-২ আসন থেকে একই প্রতীকে নির্বাচিত হন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দুই ভাগ করার কারণ জানাল সরকার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ সৃষ্টি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে কেন এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা মঙ্গলবার বিকেলে সে ব্যাপারে ব্যাখ্যাসহ বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, কর নীতিনির্ধারণ ও কর প্রশাসনকে আলাদা করে দক্ষতা বাড়ানো, স্বার্থের সংঘাত কমানো ও দেশের করভিত্তি বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, প্রায় পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠিত এনবিআর কখনোই তাদের রাজস্ব লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা এশিয়ায় সর্বনিম্নের মধ্যে পড়ে। তুলনার জন্য বলা যায়, বৈশ্বিক গড় ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার অনুপাত ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণে এই অনুপাত কমপক্ষে ১০ শতাংশে উন্নীত করা জরুরি।

এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্রতিষ্ঠানকে একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিলে স্বার্থের সংঘাত ও অদক্ষতা তৈরি হয়। এটি একটি প্রতিষ্ঠিত মত।

দীর্ঘদিনের সমস্যা: স্বার্থের সংঘাত নীতিনির্ধারণ ও কর আদায় একই ছাতার নিচে থাকায় নীতিগুলো অনেক সময় দুর্বল হয়েছে এবং অনিয়ম ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে যারা কর আদায় করছেন, তাদের জন্য কোনো কার্যকর জবাবদিহি নেই। কর ফাঁকি দেয়া করদাতাদের সঙ্গে তারা অনেক সময় ব্যক্তিগত স্বার্থে সমঝোতায় যান। কর কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা পরিমাপের কোনো নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেই এবং তাদের পদোন্নতি বা মূল্যায়নও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে হয় না।

অদক্ষ রাজস্ব আদায়: একই সংস্থার নীতি ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকায় দুই ক্ষেত্রেই মনোযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে করের আওতা সংকীর্ণ রয়ে গেছে এবং সম্ভাবনা মতো রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি।

দুর্বল শাসনব্যবস্থা: এনবিআরের এনফোর্সমেন্ট ছিল খামখেয়ালি, বিনিয়োগ সহায়তায় ছিল ঘাটতি এবং পুরো ব্যবস্থায় ছিল শাসনসংক্রান্ত ত্রুটি। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে এবং আইনের শাসন দুর্বল হয়েছে।

বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রধান, একই সঙ্গে এনবিআরের প্রধান হওয়ায় দায়িত্ব বিভাজন পরিষ্কার ছিল না। এতে করনীতি তৈরিতে ও বাস্তবায়নে কার্যকারিতা ব্যাহত হয়েছে।

মনোবলহীনতা ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা এ সংস্কারের কারণে অভিজ্ঞ কর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তারা হয়তো উপেক্ষিত হবেন।

সংস্কারে কী ধরনের উন্নয়ন হবে: দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন রাজস্ব নীতি বিভাগ কর আইন প্রণয়ন, হারে নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে কাজ করবে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ কর আদায়, অডিট ও অনুগততা নিশ্চিত করবে। এতে যারা করের নীতি ঠিক করবেন, তারা আর তা আদায় করবেন না। ফলে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতির সুযোগ কমবে।

দক্ষতা ও শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন: প্রতিটি বিভাগ নিজের দায়িত্বে মনোযোগ দিতে পারবে ফলে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

করভিত্তি প্রসারণ ও প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ জোরদার: এ সংস্কার প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহে দক্ষ পেশাজীবীদের নিযুক্ত করার মাধ্যমে করের আওতা বাড়াবে এবং পরোক্ষ কর নির্ভরতা কমাবে।

উন্নয়নমুখী নীতি: একটি বিশেষায়িত নীতিনির্ধারণ বিভাগ প্রমাণভিত্তিক, দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নয়নবান্ধব কর নীতি প্রণয়ন করতে পারবে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি: স্বচ্ছ, পূর্বানুমেয় করনীতি ও পেশাদার প্রশাসন ব্যবসার পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

সবশেষে শফিকুল আলম বলেন, এ সংস্কার কেবল একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নয়, এটি বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করার একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। উন্নত নীতিনির্ধারণ ও পরিচ্ছন্ন কর প্রশাসন দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে।