Home Blog Page 447

লিবিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাস।

সোমবার রাতে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ত্রিপোলিতে সাম্প্রতিক সশস্ত্র যানবহরের আগমন ও উদ্ভূত অস্থির পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সকল নাগরিককে নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ত্রিপলীতে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশি নাগরিককে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানাচ্ছে।

সীমান্তে সেনা উপস্থিতি কমাতে সম্মত হলো ভারত-পাকিস্তান

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর জম্মু-কাশ্মিরসহ সব সীমান্ত এলাকায় সেনা উপস্থিতি কমাতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ভারত ও পাকিস্তান। সোমবার (১২ মে) দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স বিভাগের প্রধান (ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন্স-ডিজিএমও) পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত হয়েছে এ সিদ্ধান্ত।

বৈঠক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের ডিজিএমও পর্যায়ের বৈঠকের নির্ধারিত সময় ছিল সোমবার দুপুরে। কিন্তু পরে সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়। পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী সোমবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের ডিজিএমও এবং মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লাহ এবং ভারতের ডিজিএমও এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই। সেখানেই সেনা উপস্থিতি হ্রাসের ব্যাপারে একমত হন তারা।

প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয় এ বৈঠক। বৈঠক শেষে এ সম্পর্কে কোনো বিবৃতি দেয়নি ভারত কিংবা পাকিস্তান কেউই। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আপাতত জম্মু-কাশ্মির এবং ভারত-পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী রেঞ্জার্স। সীমান্তে সেনাবাহিনীও থাকবে, কিন্তু সংঘাত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হলে তারা সামনে আসবে না।

আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে দুই দেশের সীমান্তরেখার ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো হেলিকপ্টার ও ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিমান প্রবেশ করবে না।

পেহেলগাম হামলাকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং তার জেরে ৭ মে থেকে ১০মে পর্যন্ত সংঘাত চলার পর যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম ভারত-পাকিস্তানের সামরিক পর্যায়ের বৈঠক হলো।

সর্বকালের সব রেকর্ড ভাঙল প্রবাসী আয়

বাংলাদেশে প্রবাসী আয় অর্থনীতির একটি প্রধান খাত হিসেবে জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এবার আয়ে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন প্রবাসীরা। চলতি অর্থ বছরের সাত মে পর্যন্ত এসেছে ২৫ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে দেশে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে, জুলাই ২০২৩ থেকে ৭ মে ২০২৪ পর্যন্ত এসেছিল ১৯ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। আর ৭ মে ২০২৫ এ প্রবাসী আয় এসেছে ১১০ মিলিয়ন ডলার। এ মাসের প্রথম সাত দিনে এসেছে ৭৩৫ মিলিয়ন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। সে সময়ে এসেছিল ৬০১ মিলিয়ন ডলার।

মাসের হিসাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চে। সেবার দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল রেকর্ড ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। ঈদের পর এপ্রিলে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। মাসের হিসাবে যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। এরপর শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য (ইউকে), মালয়েশিয়া, কুয়েত, ইতালি, ওমান, সিঙ্গাপুর ও কাতার।

বিদায়ী এপ্রিলে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৯ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ কোটি ২১ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। তবে গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ—এই তিন মাসে প্রবাসী আয় পাঠানোয় শীর্ষে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এপ্রিলে দেশটি থেকে ৩৩ কোটি সাত লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে নেমে গেছে তিনে। এ ছাড়া আলোচিত সময়ে যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ইতালি, ওমান, সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে যথাক্রমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, ২১ কোটি ৯ লাখ ডলার, ১৬ কোটি ২৭ লাখ ৩০ হাজার, ১৫ কোটি পাঁচ লাখ ৯০ হাজার ডলার, ১৪ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, ১১ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার ও ১০ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এ ছাড়া বাহরাইন থেকে এসেছে ছয় কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার, ফ্রান্স থেকে তিন কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার, সাউথ আফ্রিকা থেকে দুই কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার, সাউথ কোরিয়া থেকে দুই কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার ডলার, কানাডা থেকে দুই কোটি ৩৭ লাখ ডলার, জার্মানি থেকে এক কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, অস্ট্রেলিয়া থেকে এক কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, গ্রিস থেকে এক কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, জর্ডান থেকে এক কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার, মালদ্বীপ থেকে এক কোটি ২৫ লাখ ১০ হাজার ডলার।

স্পেন থেকে এক কোটি ২৫ লাখ ডলার, মরিশাস থেকে এক কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে ৮৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার, জাপান থেকে ৮৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, পর্তুগাল থেকে ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার, ইরাক থেকে ৭৩ লাখ ডলার, লেবানন ৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, পোল্যান্ড ৫৯ লাখ ২০ হাজার ডলার, সুইডেন থেকে ৫৫ লাখ ডলার এবং ফিনল্যান্ড থেকে ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে। অন্যান্য দেশ মিলে প্রবাসী আয় এসেছে চার কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

কেয়ামতের দিন আল্লাহ যাদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না

পরকালে মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন প্রতিটি মুমিনের পরম আকাঙ্ক্ষা। এই পথে চলতে মহান আল্লাহর নির্দেশনার পাশাপাশি রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘হে নবী আপনি তাদের বলে দিন- যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)।

এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী মুমিনের জন্য একটি পরীক্ষাক্ষেত্র। পরকালের অনন্ত জীবনে সফলতা লাভের জন্য এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া জরুরি। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭)।

বিপদ-আপদও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। এমতাবস্থায় ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি আল্লাহর হুকুম ও রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথে অবিচল থাকতে হবে। আনাস (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা যখন তার কোনো বান্দার কল্যাণ করতে চান, তখন তাড়াতাড়ি দুনিয়াতে তাকে বিপদে নিক্ষেপ করেন। আর যখন তিনি তার কোনো বান্দার অকল্যাণ সাধন করতে চান, তখন তাকে তার অপরাধের শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকেন। তারপর কেয়ামতের দিন তিনি তাকে পুরাপুরি শাস্তি দেন।’ (তিরমিজী, হাদিস: ২৩৯৬)।

পরকালে সফলকাম হতে নবীজি (সা.) বিভিন্ন হাদিসে উম্মতদের জন্য নানা আদেশ ও নিষেধের পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথও বাতলে দিয়েছেন। তেমনই এক হাদিসে কেয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর মানুষের প্রতি মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা তিন শ্রেণীর মানুষের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ এই তিন শ্রেণীর মানুষ হলো:

১. কৃপণ: যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে, অথচ সে কোনো মুসাফিরকে তা দিতে অস্বীকার করে। সংকটকালে সাহায্যপ্রার্থীকে সহায়তা না করা আল্লাহর অপছন্দনীয়।

২. দুনিয়ালোভী শাসক: যে ব্যক্তি শুধুমাত্র পার্থিব স্বার্থের জন্য কোনো ইমাম বা নেতার হাতে আনুগত্যের শপথ করে। যদি ইমাম তাকে কোনো জাগতিক সুবিধা দেন, তবে সে সন্তুষ্ট হয়, আর যদি না দেন তবে অসন্তুষ্ট হয়। নেতৃত্ব বা আনুগত্যকে ব্যক্তিগত লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা আল্লাহ তাআলার কাছে ঘৃণ্য।

৩. মিথ্যা শপথকারী বিক্রেতা: যে ব্যক্তি আসরের নামাজের পর তার পণ্য বিক্রির জন্য উপস্থাপন করে এবং মিথ্যা শপথ করে বলে যে, আল্লাহর কসম, এই পণ্যের এত মূল্য প্রস্তাব করা হয়েছিল (কিন্তু সে বিক্রি করেনি)। এরপর সরল বিশ্বাসে কোনো ক্রেতা সেই মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করে পণ্যটি কিনে নেয়।

এই প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত তেলাওয়াত করেন, যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, তারা আখিরাতের কোনো অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না, বস্তুতঃ তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা ইমরান, আয়াত: ৭৭)।

গরমে ভালো ঘুমের জন্য যা করবেন

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে সারাদেশ। কোথাও যেন একটু স্বস্তি নেই। এরই মধ্যে ঘুমাতে গেলে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমানোর মাঝেই যেন শরীর দিয়ে ঝরঝর করে পানি ঝরছে। যতই গরম পড়ুক না কেন, নির্দিষ্ট মাত্রার ঘুম আমাদের লাগবেই। জার্নাল অব স্লিপ রিসার্চ-এ প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ঋতুগত পরিবর্তন আমাদের ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই চলুন জেনে নেয়া যাক এ গরমে একটু স্বস্তিদায়ক ঘুমের জন্য যা করবেন-

শীতল পরিবেশ তৈরি করা: এ গরমে স্বস্তিদায়ক ঘুমের জন্য ঘর ঠান্ডা বেশ জরুরি। ঘর ঠান্ডা করার বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। তা সে এয়ারকন্ডিশনার হোক বা এয়ার কুলার, অথবা ফ্যান। বিদ্যুৎ খরচের কথা মাথায় রেখে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের ব্যবহার করতে হবে। ঘুমানোর কিছুক্ষণ আগে প্রয়োজন অনুযায়ী ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।

ফ্যানের ব্যবহার: এসি বা এয়ারকুলার সাধ্যের বাইরে হলে ফ্যানের ব্যবহারেই ঘর ঠান্ডা করতে হবে। সিলিং ফ্যানের পাশাপাশি টেবিল বা স্ট্যান্ড ফ্যান রাখলে তাপমাত্রা আরও একটু কমতে পারে। সঙ্গে যদি টেবিল বা স্ট্যান্ড ফ্যানের সামনে ভেজা কাপড় ঝুলিয়ে দেয়া যায়, তা হলে সেটি খানিক কুলারের কাজ করবে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া: ঘর ঠান্ডার পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গরমে প্রবল ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যেতে থাকে। তাই রাতে ঘুমোনোর সময়ে হাতের কাছে পানির বোতল রাখবেন। যাতে বেরিয়ে যাওয়া পানির ঘাটতি পূরণ করতে বেশি খাটতে না হয়। ঘন ঘন পানি না খেলে শরীর শুষ্ক হয়ে গিয়ে অন্য সমস্যা দেখা দেয়।

আরামদায়ক কাপড় বেছে নিন: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় চেষ্টা করুন হালকা কাপড় পরতে। এতে শরীরে অতিরিক্ত গরম অনুভূত হবে না, ফলে ঘামও কম তৈরি হবে। এছাড়াও বিছানার চাদর হিসেবে বেছে নিন হালকা রঙের সুতির চাদর। এ ধরনের চাদরে আলো সহজে প্রতিফলিত হয় বলে তাপ ধরে রাখে না। তাই ঘুমের সময়ও আরাম দেয়।

ঘরের আলো কমিয়ে নেয়া: গ্রীষ্মে ঘরে যত কম সূর্যের আলো প্রবেশ করানো যায়, ততই ভালো। যে কারণে চেষ্টা করবেন দিনের শুরুতেই ঘরের পর্দা টেনে দিতে। এছাড়াও ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ অন্ধকার ঘরে বসে থাকুন, শরীরকে অন্ধকারে রাখলে যে মেলাটোনিন উৎপন্ন হয়, তা দ্রুত ঘুম পারাতে সাহায্য করে।

লিফটের ভেতর যে কারণে আয়না থাকে

কষ্ট আর সময় দুটোই কমাতে লিফটের বিকল্প নেই। অফিসে মিটিং আছে কিংবা সেজেগুজে পার্টিতে যাচ্ছেন, লিফটে উঠে একটু আয়না দেখে নিজেকে আরেকবার ঠিকঠাক করে নিলেন। কিন্তু তাই বলে যদি ভাবেন লিফটে আয়না শুধু ড্রেসিংটেবিলের কাজ সারে তবে সেটি হবে আপনার ভুল ধারণা। লিফটে আয়না রাখার পেছনে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

জাপানের লিফট অ্যাসোসিয়েশন লিফটের ভেতরে আয়না লাগানো বাধ্যতামূলক জানিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। এটি সাজসজ্জার জন্য নয়, বরং যাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। জেনে নিন কারণগুলো-

আয়না কিভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে জেনে নিন তার কারণগুলো-

১) লিফটের ভেতরে অনেকেই ‘ক্লাস্ট্রোফোবিয়া’ অনুভব করেন। ক্লাস্ট্রোফোবিয়া হলো ছোট ও সংকীর্ণ জায়গার ভয়। লিফটে প্রবেশের সময় মানুষ অনেক সময় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং আটকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর ফলে শ্বাসকষ্টের অনুভব হয় এবং দ্রুত শরীরে রক্ত সঞ্চালনের হার বৃদ্ধি পায় ফলে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আয়না অনেক সাহায্য করতে পারে। সাধারণত, আয়না একটি ছোট জায়গাকে প্রশস্ত দেখায় বলে জানা যায়। যা শ্বাসরোধের অনুভূতি কমিয়ে দেয়।

২) আয়না লাগানোর আরো একটি কারণ হলো ভেতরে থাকা লোকজনকে বিভ্রান্ত করা। সাধারণত বহুতল ভবনে লিফট স্থাপন করা হয়। যার অর্থ হলো লিফটে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছতে অনেক বেশি সময় ব্যয় হবে। আয়না লাগানোর ফলে লিফটের যাত্রীরা নিজেদের দেখবেন, পোশাক ঠিক করবেন এবং নানা কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখতে পারবেন।  ফলে লিফটের ছোট জায়গায় মনকে ব্যস্ত রাখা সহজ হয়।

৩) লিফটে আয়না থাকা অপরিহার্য হওয়ার আরো একটি কারণ হলো নিরাপত্তা। ইন্টারনেটে অনেক ভিডিও আছে, যেখানে লিফটের ভেতরে অপরাধ ঘটতে দেখা গেছে। আয়না থাকলে যে কেউ লিফটের ভেতরে থাকা সবার ওপর নজর রাখতে পারেন। এর ফলে যেকোনো দুর্ঘটনা রোধ করা যেতে পারে।

৪) আয়না থাকলে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদেরও খুব সাহায্য হয়। লিফটের ভেতরে এগিয়ে আসতে বা পিছিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে, আয়না দেখে খুব সহজেই তারা পিছনে কতটা জায়গা আছে তা বুঝতে পারেন। যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের দিকে নজর রাখাও সম্ভব হয়।

৫) যাদের অফিস বহুতলের উপরে, অনেকটা সময় তাদের লিফটে কাটাতে হয়। সেই সময়টা যদিও এমন বেশি কিছু নয়। তা সত্ত্বেও ওই সময়টুকুই তাদের কাছে লিফটে থাকাটা বিরক্তির হয়ে দাড়ায়। কারণ ভিতরে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর করার কিছুই থাকে না। আর এই একঘেয়েমি কাটাতে আয়নার তুলনা হয় না। নিজেকে দেখতে দেখতেই কখন যে গন্তব্য ফ্লোরে পৌঁছে যাবেন বুঝতেই পারবেন না।

ব্রাজিলের কোচ হলেন কার্লো আনচেলত্তি

পাঁচবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কোচ হয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো পূর্ণকালীন বিদেশি কোচ নিয়োগ দিল ব্রাজিল।

৬৫ বছর বয়সী এই ইতালিয়ানকে হেড কোচের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। আগামী ২৬ মে থেকে আনচেলত্তির আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হবে।

আজ এক বিবৃতিতে আনচেলত্তিকে কিংবদন্তি আখ্যা দিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন তাদের নয়া এই কোচের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে সিবিএফ লিখেছে, ‘আনচেলত্তিকে সিবিএফ পরিবার উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় এবং তাঁর নেতৃত্বে সাফল্যের নতুন যুগের প্রত্যাশা করে।’

ব্রাজিলের সঙ্গে চুক্তি চলতি মাসেই শুরু হলেও রিয়ালের সঙ্গে আনচেলত্তির চুক্তি ছিল ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। তবে দুই পক্ষ সমঝোতা করে সেই চুক্তি থেকে বের হয়ে এসেছে।

ভুটানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ে শুরু করেছিল যুবারা। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানকে হ্যাট্রিক গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।

কাঙিক্ষত এ জয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠল কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের দল।

রোববার ভারতের অরুনাচলের গোল্ডেন জুবিলি স্টেডিয়ামে ভুটানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকে ভুটানকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। যার সুবাদে প্রথমার্ধে জোড়া গোলের লিড নেয় দল।

মুর্শেদ আলির দৃষ্টিনন্দন গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুমন সরেন। আর ভুটানের জালে শেষ পেরেক ঠুকে দেন নাজমুল হুদা ফয়সাল।

‘এ’ গ্রুপে একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। তবে গ্রুপ সেরার সমীকরণ এখনও নিশ্চিত হয়নি। মঙ্গলবার মালদ্বীপ-ভুটান ম্যাচের ফলের ওপর হিসাবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ নির্ধারণ হবে।

এখন ১ পয়েন্ট থাকা মালদ্বীপ সেই ম্যাচে ৪-০ ব্যবধানে জিতলে গ্রুপ সেরা হবে। তবে কোনো পয়েন্ট না পাওয়া ভুটান জিতলে রানার্সআপ হয়ে সেমিতে উঠবে।

মালদ্বীপের বিপক্ষে হারের হতাশা ঝেড়ে ফেলতে ভুটানের বিপক্ষে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ মিনিটে একক প্রচেষ্টার গোলে দলকে এগিয়ে নেন মুর্শেদ খান। ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে জায়গা বানিয়ে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

গোছালো ফুটবলে ২৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। এই গোলে অবশ্য কিছুটা দায় আছে ভুটানের রক্ষণের। ডান দিক থেকে মুর্শেদের ক্রস এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে চলে যায় অন্য প্রান্তে সুমন সরেনের কাছে। তার শট ঝাঁপিয়েও আটকাতে পারেননি গোলকিপার। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণের চেয়ে বলের নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী ছিল বাংলাদেশ। ৭৩তম মিনিটে মুর্শেদের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হয়। কর্নার ফিস্ট করে ফেরান ভুটান গোলকিপার। একটু পর গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিনের দৃঢ়তায় ব্যবধান ধরে রাখে বাংলাদেশ। বক্সের ভেতরে ফাঁকায় থাকা টেনডিং টিসেরাংয়ের শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান তিনি।

শেষ দিকে কিছুটা গতি ফেরে বাংলাদেশের খেলায়। ৭৯তম মিনিটে সতীর্থের পাসের নাগাল অল্পের জন্য পাননি বক্সে ভালো জায়গায় থাকা নাজমুল হুদা ফয়সাল। তবে যোগ করা সময়ে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন ফয়সাল। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা মুর্শেদের ক্রস নিখুঁত ট্যাপে জালে জড়িয়ে দেন অধিনায়ক।

‘মা মারা গেছে, কাল মেজবান, আমাকে এখন ধইরেন না ভাই’

পুলিশ দেখেই দৌড় দিয়েছিলেন ইউপি সদস্য আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে বাবুল (৪২)। গ্রেপ্তার এড়াতে সামনে পুকুর দেখে সেখানেই ঝাঁপ দেন তিনি। এরপর পুকুরে থাকা অবস্থায় পুলিশকে হাতজোড় করে বলেন, ‘দুই দিন আগে আমার মা মারা গেছে, কাল মেজবান আছে, আমাকে এখন ধরেন না ভাই।’ কিন্তু পুলিশ তার কথা শোনেনি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুর থেকে উঠিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।

সোমবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযানে অংশ নেওয়া কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুল খুরুশকুল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় মৃত আমির হামজার ছেলে। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।’

স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য বাবুলর মা ৮ মে মারা যান। মঙ্গলবার তার মায়ের কুলখানি হওয়ার কথা রয়েছে। তাই পুলিশকে এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার না করতে তিনি অনুরোধ করেছিলেন।

জানা গেছে, আজ দুপুরে পুলিশ আসার খবর পেয়ে বাবুল একটি পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

তাতে দেখা যায়, পুকুরে থাকা অবস্থায় ইউপি সদস্য আবু বক্কর ছিদ্দিক পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামীকাল (মঙ্গলবার) আমার মায়ের ফাতেহা (কুলখানি)। আমাকে গ্রেপ্তার না করে ছেড়ে দেন। আমার মা মারা গেছেন।’ এ সময় পুলিশের কাছে বারবার একদিন সময় চান ইউপি সদস্য। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার হতে হয়।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মিছিলে হামলা ও ভাঙচুরের একটি মামলায় বাবুল আসামি ছিলেন। বিকেলে পুলিশ কাওয়ার পাড়ায় অভিযানে যায়। পুলিশকে দেখে ইউপি সদস্য দৌড় দেন। একপর্যায়ে তিনি একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন।

চিকিৎসা নিতে ব্যাংকক গেলেন মির্জা ফখরুল

চোখের চিকিৎসা নিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ৪৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়েছেন। সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ব্যাংককের রুটনিন আই হাসপাতালে মির্জা ফখরুলের চোখের রেটিনায় অস্ত্রোপচার করা হবে। গতকাল চোখের সমস্যার কারণে গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে ফখরুলকে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি ব্যাংককের ওই হাসপাতালে যাচ্ছেন।

এর আগে, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।