Home Blog Page 448

আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি

আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এসআরও নম্বর ১৩৭-আইন/২০২৫, তারিখ ১২ মে ২০২৫ মূলে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এর ধারা-১৮(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কর্তৃক যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

সেহেতু, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন (নম্বর-০০৬ তারিখ: ০৩/১১/২০০৮) এতদ্বারা স্থগিত করল।

এরআগে, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন জারির পর দলটির নিবন্ধন ইস্যুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বৈঠকে বসেন।

সাবেক এমপি মমতাজ বেগম গ্রেফতার

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর  ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা রয়েছে।মঙ্গলবার তাকে আদালতের সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোনীত হন শিল্পী মমতাজ বেগম। আর ২০১৪ সালে মানিকগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে জাতীয় সংসদে গান গেয়ে মমতাজ বেগম বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন।

মাকে নিয়ে বলিউডের সেরা পাঁচ সিনেমা

পৃথিবীর আরও অনেক দেশের মতো আমাদের দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ‘মা দিবস’। এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখে, মাভক্ত তরুণদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে মাকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য চলচ্চিত্র। বলিউডও তার ব্যতিক্রম নয়। শেষ দশকে মাকে নিয়ে নির্মিত সেরা পাঁচ সিনেমা নিয়ে এই প্রতিবেদন—

পা : বিরল রোগে আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে এক মায়ের সংগ্রামের গল্প বলেছে ‘পা’ সিনেমা। এর নায়ক অরো প্রোজেরিয়া নামে বিরল রোগে আক্রান্ত। মূলত, এটি জিনগত রোগ। তার বয়স মাত্র ১২ বছর। সে বেশ বুদ্ধিমান এবং দুষ্টু। অন্য যেকোনো শিশুর মতো আচরণ করলেও শারীরিকভাবে দেখতে তার বয়সের পাঁচ গুণ বড়। এই চরিত্র রূপায়ন করেছেন অমিতাভ বচ্চন। অরোর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা বালান। যে পেশায় একজন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ। অরোর বাবা একজন রাজনীতিবিদ। এ চরিত্র রূপায়ন করেছেন অভিষেক বচ্চন। আর বাল্কি পরিচালিত ‘পা’ সিনেমা ২০১৭ সালে মুক্তি পায়।

মম : ‘মম’ সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দেবকি। যে বায়োলজির জনপ্রিয় একজন শিক্ষার্থী। পাশাপাশি একটি স্কুলেও পড়ায়। তার সৎ কন্যা আর্য একই স্কুলে পড়াশোনা করে। দেবকিকে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করে আর্য। এক পর্যায়ে আর্যকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ নিয়ে থানায় মামলা করা হলে সব বানচাল করে দেয় পুলিশ। ফলে আসামিরা জেল থেকে মুক্তি পায়। এরপর দেবকি প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে পড়ে। আসামিদের খুঁজে বের করে। সিনেমাটিতে দেবকি চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রয়াত বলিউড অভিনেত্রী শ্রীদেবী। আর্য চরিত্রে অভিনয় করেছে সজল আলী। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন— নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, অক্ষয় খান্না, অভিমন্যু সিং প্রমুখ। রবি উদ্যাওয়ার পরিচালিত সিনেমাটি ২০১৭ সালে মুক্তি পায়। এ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন শ্রীদেবী।

সিক্রেট সুপারস্টার : ইনসিয়া মালিক নামে এক কিশোরীর গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘সিক্রেট সুপারস্টার’। সাধারণ একটি পরিবারে বেড়ে ওঠা ইনসিয়া বড় বড় স্বপ্ন বুনে চলে। বাবা-মা, ভাই, দাদিকে নিয়ে ভারতের ছোট একটি শহরে তার বসবাস। পড়াশোনার পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের ইনসিয়া তার মাকে ঘরের কাজেও সাহায্য করে। সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও গায়িকা হওয়ার অসাধারণ স্বপ্ন দেখে সে। মাত্র ৬ বছর বয়সে গিটার বাজানো শেখে। একপর্যায়ে ইনসিয়া তার স্বপ্নপূরণ করে। মেয়ের স্বপ্নপূরণে গোপনে এগিয়ে আসে তার মা। এই ইনসিয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইরা ওয়াসিম। সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন মেহের ভিজ, আমির খান, রাজ অর্জুন প্রমুখ। অদ্বৈত চন্দন নির্মিত সিনেমাটি ২০১৭ সালে মুক্তি পায়।

হেলিকপ্টার এলা : সিঙ্গেল মাদার হিসেবে ছেলেকে মানুষ করার গল্প তুলে ধরা হয়েছে ‘হেলিকপ্টার এলা’ সিনেমায়। আনন্দ গান্ধীর বিখ্যাত গুজরাটি নাটক ‘বেটা কাগদো’ অবলম্বনে নির্মিত হয় সিনেমাটি। এটি মাতৃত্ব এবং নারীত্ব উভয়ের কথাই বলেছে। প্রতিটি মায়ের জন্য দুশ্চিন্তা যেন অবধারিত ব্যাপার। মায়েরা এক মুহূর্তও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকেন না। এতে করে কখনো কখনো তারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। যদিও এর পেছনে কারণও থাকে। মায়েরা নিজের জন্য কমই বাঁচে। এটাই মূলত এই সিনেমার বার্তা। সিনেমার গল্পে ইলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজল। যে প্রতিভাবান একজন সংগীতশিল্পী। তার স্বামী টোটা রায় চৌধুরী স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে নিজেকে খুঁজে বেড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে ছেলে মানুষ করার পুরো দায়িত্ব কাজলের উপরে পড়ে। কাজলের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋদ্ধি সেন। প্রদীপ সরকার নির্মিত সিনেমাটি ২০১৮ সালে মুক্তি পায়।

মিমি : স্টেজ ড্যান্সার মিমি রাঠোরের গল্প নিয়ে এগিয়েছে ‘মিমি’ সিনেমার কাহিনি। তার বাড়ি রাজস্থানে। স্বপ্ন দেখেন বলিউডের নায়িকা হওয়ার। রণবীর সিংয়ের অন্ধ ভক্ত। একদিন বানু নামে এক ট্যাক্সি ড্রাইভার মার্কিন এক দম্পতির সঙ্গে মিমিকে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই দম্পতি সারোগেসির (অন্য নারীর গর্ভ ভাড়া করে সন্তানের বাবা-মা হওয়া) মাধ্যমে সন্তান চান। আর এই প্রস্তাব দেওয়া হয় মিমিকে। বিনিময়ে তাকে ২০ লাখ রুপি দেবেন। মিমি রাজি হয়ে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে। বিষয়টি পরিচিতজনদের কাছ থেকে আড়াল করতে শুটিংয়ের কথা বলে ৯ মাসের জন্য অন্যত্র চলে যায়। আইভিএফ’এর মাধ্যমে গর্ভধারণ করে মিমি। কিছুদিন পর চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, এই শিশু ডাউন সিনড্রোম রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে। ফলে মার্কিন দম্পতি মিমিকে গর্ভপাতের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাতে রাজি হন না মিমি। এরপর গল্প মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। এই মিমি চরিত্রে অভিনয় করেছেন কৃতি স্যানন। লক্ষণ উতেকর নির্মিত এ সিনেমা ২০২১ সালে মুক্তি পায়।

যুদ্ধবিরতির বার্তা দিয়ে বিপাকে সালমান, ডিলিট করলেন পোস্ট

জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলার ঘটনা পৌঁছে যায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ভারত-পাকিস্তান। এ যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ খুলেছেন বলিউডের অনেক তারকা। সেই তালিকায় রয়েছেন সালমান খানও।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে এক টুইট করে পরে সেটি মুছে ফেলে তোপের মুখে পড়েছেন বলিউড এই সুপারস্টার।

হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায়, সালমান শনিবার রাতে নিজের এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডলের এক পোস্টে যুদ্ধবিরতির জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান। তিনি সালমান খান লেখেন, “Thank God for the ceasefire…”। কিন্তু পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই একাংশ নেটিজেন তার নীরবতা নিয়ে সমালোচনায় মুখর হন। প্রশ্ন উঠে—পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে কেন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি সালমান?

একজন লিখেছেন, “অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন আপনার ঘুম ভাঙেনি?” কেউ মন্তব্য করেছেন, “সুযোগ বুঝে আবেগ দেখাচ্ছেন।” সমালোচনার তীব্রতা বাড়তে থাকায় কিছু সময় পর পোস্টটি মুছে ফেলেন ভাইজান।

উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পাহালগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন  ২৬ জন নিরীহ মানুষ। ওই ঘটনার পর ভারত ৭ মে পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালায়। এ অভিযান ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও সালমান খান তখন ছিলেন নীরব।

তবে এর আগেও পাহালগাম হামলার পরে এক পোস্টে সালমান খান লিখেছিলেন, “কাশ্মীর—পৃথিবীর বুকে স্বর্গ, আজ যেন নরকে পরিণত হয়েছে। নিরীহ মানুষের মৃত্যু আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। একজন নিরীহ মানুষের মৃত্যু মানে গোটা পৃথিবীর মৃত্যুর সমান।”

এই টুইট মুছে দেয়ার পেছনে সমর্থন করে কেউ কেউ বলেছেন—সালমানের পোস্টের কিছু সময় পরই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, সে কারণেই হয়তো তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেছেন। তবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সালমান খান এখনো মুখ খোলেননি।

যুদ্ধবিরতির খবরে বলিউডের আরও অনেক তারকা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কারিনা কাপুর ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “রব রাখা” ও “জয় হিন্দ।” করণ জোহর এবং রাভিনা ট্যান্ডনও শান্তির পক্ষে বার্তা দিয়েছেন।

ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে ফের ড্রোন

ভারত পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী রাজস্থানের বার্মারের আকাশে আজ রোববার (১১ মে) ড্রোন দেখা গেছে। এরপর সেখানে ব্ল্যাকআউট শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির চুক্তি করে। এর একদিন পরই দেশটির আকাশে আবার ড্রোনের দেখা মিলল।

বার্মার বিভাগীয় কালেক্টর এবং ম্যাজিস্ট্রেটের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “ড্রোনের আগমন পরিলক্ষিত হয়েছে। দয়া করে বাড়িতে থাকুন এবং ব্ল্যাকআউট পালন করুন।

এরআগে রাজস্থানের জয়সালমারে পূর্বসতর্কতার অংশ হিসেবে ব্ল্যাকআউট পালন করা হয়। জয়সালমারে ব্ল্যাকআউট শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। অপরদিকে বার্মারে ব্ল্যাকআউট শুরু হয় রাত ৮টা থেকে।

গতকাল শনিবারও সীমান্তবর্তী এলাকায় একই দৃশ্য দেখা যায়। তখন সেখানে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে রোববার সকাল থেকে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মানুষ বাইরে বের হন এবং আজ সেখানে বাজারও খুলেছিল।

এদিকে ভারতের সেনাবাহিনী আজ এক সতর্কবার্তায় বলেছে, পাকিস্তান যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাহলে সেনাপ্রধান স্থানীয় কমান্ডারদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

ভারতে এক নিমিষেই প্রাণ গেল ১৩ জনের

ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি কার্গোবাহী ট্রাক ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্য ৯ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রায়পুর জেলার রায়পুর-বালোদাবাজার সড়কের সারাগাঁওয়ের কাছে রোববার গভীর রাতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাতৌদ গ্রামের একটি পরিবার পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বানসারি গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার সময় খারোরা থানা এলাকার সারাগাঁওয়ের কাছে তাদের ট্রাকটির সঙ্গে একটি ট্রেলারের (কার্গোবাহী ট্রাক) সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। পরে আহতদের রায়পুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রায়পুরের জেলা কালেক্টর গৌরব সিং জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পোশাকের বিশ্ববাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের আধিপত্য

পোশাকের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আধিপত্য বাড়ছে ঈর্ষান্বিত হারে। জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ইউরোপের দেশগুলোতে রপ্তানিতে দারুণ সাফল্য এসেছে। এসব দেশে পোশাক রপ্তানিতে ইউরোপে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও পোশাক রপ্তানিতে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আবারও দারুণ গতি পেয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি যতটা না দামে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণনির্ভর।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের কারখানাগুলো এখন বিশ্বমানের। ক্রেতারা এখানে নির্ভরতার জায়গা খুঁজে পান। তিনি বলেন, মূল্য সংযোজিত পোশাক উৎপাদন, ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং শ্রমিক-উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আবারও শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে।

তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছর এই অঙ্ক ছিল মাত্র ২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে ইইউ’র বাজারে মোট পোশাক আমদানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮১ শতাংশ (মূল্য অনুযায়ী), এবং পরিমাণে বেড়েছে ২৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ইউরোস্টাটের বরাতে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিজিএমইএ বলছে, আমদানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি যা বাংলাদেশের বাজার দখলের সক্ষমতা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের বাজার শেয়ার কমার ফলে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান দখলে বাংলাদেশ সফল হয়েছে।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র, দুই বাজারেই বাংলাদেশের অগ্রগতি: একদিকে ইউরোপে রপ্তানিতে দারুণ সাফল্য এসেছে, অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ২৩ শতাংশ, রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

বিজিএমইএ’র তথ্যমতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। মোট রপ্তানির ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশই সেখানে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মন্দা ও কিছু সুরক্ষাবাদী-নীতির মধ্যেও এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশি পোশাকশিল্পের টেকসই প্রতিযোগিতাশক্তির প্রমাণ দিচ্ছে।

ইউরোপে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান: সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ১৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেক (৪৯ দশমিক ৮২ শতাংশ)। এই অঞ্চলের শীর্ষ আমদানিকারক হচ্ছে জার্মানি (৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার), এরপর রয়েছে স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও পোল্যান্ড। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্য।

যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য বাজার: বিজিএমইএ’র তথ্য বলছে, যুক্তরাজ্যেও রপ্তানি বেড়েছে, যদিও হার তুলনামূলকভাবে কম মাত্র ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যান্য বাজার যেমন- জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

চীন পিছিয়েছে, বাংলাদেশ এগিয়েছে: ইইউ’র বাজারে চলতি সময়ে চীনের রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে নির্দেশ করে। তুরস্কের রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ভারত, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া ২১-২২ শতাংশ হারে বাড়লেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য কমছে। ২০১৮ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি ছিল বাংলাদেশের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি, সেই ব্যবধান কমে এসেছে মাত্র দুই গুণে। বাংলাদেশের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে এবং চীনের কমে ১৬ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে।

দামে সামান্য হ্রাস, পরিমাণে বড় অগ্রগতি: এই প্রবৃদ্ধি যতটা না দামে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণনির্ভর। ইইউ বাজারে ইউনিট দামে গড়ে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, অথচ পরিমাণগত প্রবৃদ্ধি ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ ক্রেতাদের চাহিদামতো সাশ্রয়ী দামে পণ্য সরবরাহ করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

সাফল্যের পেছনে রয়েছে একাধিক শক্ত ভিত: বিশ্লেষক ও উদ্যোক্তারা বলছেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একাধিক শক্ত ভিত। এগুলো হলো- উচ্চমানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন। পরিবেশবান্ধব কারখানা (গ্রিন ফ্যাক্টরি)। সামাজিক ও শ্রমিক নিরাপত্তায় অগ্রগতি। দ্রুত ডেলিভারি সক্ষমতা। ইইউতে জিএসপি সুবিধা তথা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার।

সামনের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: উদ্যোক্তারা বলছেন, চলতি বছরের বাকি সময়েও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকার আশা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে ক্রেতারা বিকল্প বাজার হিসেবে বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে নতুন কার্যাদেশ আসার সম্ভাবনাও বাড়ছে।

তবে প্রতিযোগিতা, শুল্কনীতি পরিবর্তন এবং ইউরোপের বাজারে চাহিদা কমার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকারের নীতি সহায়তা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি টেকসই করা সম্ভব। এজন্য নতুন বাজারে প্রবেশ ও পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি জরুরি। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এখন প্রয়োজন মান বজায় রেখে বহুমুখী বাজারে প্রবেশ এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কৌশলী হওয়া।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশের ৯০০টির বেশি কারখানা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে, এরমধ্যে ২৫টির প্রধান বাজার আমেরিকা। চীন ও ভিয়েতনামের পর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়, বাজার শেয়ার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পোশাকের আমদানিকারক যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল বাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।

শেয়ারবাজার নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার পাঁচ নির্দেশনা

সরকারের অংশীদারত্ব থাকা বহুজাতিক কোম্পানি ও বড় বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজার নিয়ে পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় শেয়ারবাজার নিয়ে অনুষ্ঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়।

বৈঠকে দেয়া প্রধান উপদেষ্টার ৫ নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে—

১. বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী যেসব বিদেশি বা বহুজাতিক কোম্পানিতে সরকারের মালিকানা রয়েছে, সেসব কোম্পানিকে দ্রুত বাজারে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

২. বেসরকারি খাতের ভালো ও বড় বড় কোম্পানিকে প্রণোদনা দিয়ে বাজারে আনার উদ্যোগ নেয়া।

৩. শেয়ারবাজার সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া।

৪. শেয়ারবাজার–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মকর্তা–কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ।

৫. বড় বড় কোম্পানি যাতে ব্যাংকঋণের বদলে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বন্ড বা শেয়ার ছেড়ে পুঁজি সংগ্রহে আগ্রহী হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

গত আগস্টে অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর শেয়ারবাজার নিয়ে এটি প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রধান উপদেষ্টার দেয়া ৫টি নির্দেশনার কথা সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

রোববারদুপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (অর্থ মন্ত্রণালয়) আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।

জুলাইকে অস্বীকার করে শান্তিতে থাকার সুযোগ নেই: আসিফ মাহমুদ

আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীলদের সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, সতর্ক হয়ে যান। একটু অসতর্কতা পরের বার আপনাদের পতনের কারণ হতে পারে। জুলাইকে মেনে না নিয়ে বাংলাদেশে শান্তিতে থাকার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া ‘জুলাই জনতার’

রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘স্বাধীনতা অর্জনের থেকে রক্ষা করা কঠিন। এর চেয়ে কঠিন সত্য আর নেই। লড়াই যেন থামছেই না। রাজপথের লড়াইটা সামষ্টিক, জুলাইয়ের যোদ্ধাদের মিলনস্থলে পরিণত হওয়ায় একধরনের ভালো লাগার জায়গাও তৈরি করে। মাঝে মাঝে মনে হয় ছেড়ে দিয়ে চলে যাই রাজপথে। সেটাই আমার জায়গা, যা করতে অভ্যস্ত এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা মাথায় এলেও থেকে যেতে হয় গণ-অভ্যুত্থানের পাহারাদার হওয়ার জন্য, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আওয়াজটা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। আমাদের এই লড়াইটা হয়তো দেখা যায় না, শোনা যায় না।’

তিনি লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় জুলাই জনতার আরেকটি বিজয় হলো। এ এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যে যাঁরা আওয়ামী সিম্প্যাথাইজার আছেন, সতর্ক হয়ে যান। একটু অসতর্কতা পরের বার আপনাদের পতনের কারণ হতে পারে। জুলাইকে মেনে না নিয়ে বাংলাদেশে শান্তিতে থাকার সুযোগ নেই।’

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু উপলব্ধির কথা তুলে ধরে বলেছেন, ‘সরকারে থাকাটা দুধারি তলোয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকার মতো হয়ে গেছে। সরকার কোনো ভুল করলে, সেটা আমাদের এখতিয়ারভুক্ত না হলেও জনতার কাঠগড়ায় আমাদের দুজনকে (মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ) দাঁড় করানো হয়। আবার ছাত্র-জনতা মাঠে নামলে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভরকেন্দ্রগুলো আমাদের সন্দেহের চোখে দেখে, টার্গেট করে। এস্টাবলিশমেন্ট মনে করে, এটা আমরা করাচ্ছি। এ ছাড়া ক্ষমতার বিভিন্ন ভরকেন্দ্রের সঙ্গে জুলাই প্রশ্নে আপস না করতে পারায় তাদের চক্ষুশূলে পরিণত হওয়াটা বোনাস।’

আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ‘রাষ্ট্র অনেক বড় এবং জটিল জায়গা। এখানে কোনো কিছু বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো এই উপদেষ্টা পরিষদ অনেক বাধা এলেও দিন শেষে ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, জনরায়ের বাস্তবায়ন করতে পারছে; যত দিন পারবে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকবে, গণ-অভ্যুত্থানের ভয়েসের (কণ্ঠ) যথাযথ গুরুত্ব এই উপদেষ্টা পরিষদ দেবে, তত দিনই আছি। গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের পক্ষ থেকে সরে গেলে আমার আর এখানে কাজ নেই।’

ফেসবুকে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে নিয়ে আজ দিনভর কিছু ভুয়া ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, মাহফুজ আলম উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এই ফটোকার্ডগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি লিখেছেন, ‘এমন মিথ্যাচার বন্ধ করুন। আপনার সঙ্গে কারও চিন্তাগত পার্থক্য থাকতেই পারে, সেটাকে নোংরা মিথ্যাচারের মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত নয়।’ তিনি বলেন, মাহফুজ আলম প্রথম থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা এবং এর সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা কী হতে পারে, তা নিয়ে আর্গুমেন্ট (তর্ক) করেছেন। বিস্তারিত বলতে গেলে গোপনীয়তার শপথ ভঙ্গ হতে পারে বলে এর বেশি আর কিছু লিখতে চাননি বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন এই উপদেষ্টা।

তিন মিনিটের মাথায় উধাও উপদেষ্টা মাহফুজের পোস্ট, কী লিখেছিলেন?

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন রোববার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে। তবে পোস্টের মাত্র তিন মিনিটের মাথায় সেটি উধাও হয়ে যায়। তবে পোস্টটি উধাও হয়ে গে্লেও তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একজন দায়িত্বশীল উপদেষ্টা কী এমন লিখলেন যে পরে তা মুছে দিতে হলো? জানতে আগ্রহ দেখা দিয়েছে অনেকেরই—তার পোস্টে কী ছিল?

তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে করা ওই পোস্টে লিখেছিলেন—

“আমাকে নিয়ে নোংরামি করতেসো, ঝামেলা নাই। ফ্যামিলি টাইনো না, যুদ্ধাপরাধের সহযোগী রাজাকারেরা। এটা লাস্ট ওয়ার্নিং। আর, যে চুপা শিবিররা এ সরকারে পদ বাগাইসো আর বিভিন্ন সুশীল ব্যানার খুলে পাকিস্তানপন্থা জারি রাখসো, তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষ রাজাকার আর দালালদের তুলনায় আরো অধিক ভুগবা।
যারা বিতর্কের এবং গালাগালির লিমিট জানে না, তাদের আমি সহনাগরিক মনে করিনা।

পাকিস্তানপন্থীরা যেখানেই থাকবে, সেখানেই আঘাত করা হবে। আমৃত্যু!

ঢাবিতে এ রাজাকারদের আগে ঠেকানো হবে, যারা এদের স্পেস দিসে তাদের জন্য গত পঞ্চাশ বছরের তুলনায় অধিক জিল্লতি অপেক্ষা করসে!”

ধারণা করা হচ্ছে, আগের একটি পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিতর্কিত পোস্টটি দেন মাহফুজ আলম। ওই পোস্টে তিনি যুদ্ধাপরাধের সহযোগীদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।

সেখানে তিনি লেখেন—

“১. ’৭১ এর প্রশ্ন মীমাংসা করতেই হবে। যুদ্ধাপরাধের সহযোগীদের ক্ষমা চাইতে হবে।
বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে পাকিস্তানপন্থা বাদ দিতে হবে। পাকিস্তান এদেশে গণহত্যা চালিয়েছে।
(পাকিস্তান অফিশিয়ালি ক্ষমা চাইলেও, তদুপরি আবারও ক্ষমা চাইতে রাজি হলেও, যুদ্ধাপরাধের সহযোগীরা এখনো ক্ষমা চায়নি।)
ইনিয়ে বিনিয়ে গণহত্যার পক্ষে বয়ান উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।
জুলাইয়ের শক্তির মধ্যে ঢুকে স্যাবোট্যাজ করা বন্ধ করতে হবে।
সাফ দিলে আসতে হবে…………………………………….”

পোস্টে তার বক্তব্যে ধারণা করা হচ্ছে, আগের পোস্টের পর তিনি কোনো এক পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়েছেন, এমনকি তার পরিবার নিয়েও কথা উঠেছে। সেই প্রতিক্রিয়ায় উধাও হওয়া পোস্টে তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন।

তবে একজন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টার এমন বক্তব্য কেউই স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই পোস্টটির স্ক্রিনশট নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, শেয়ার করছেন নানান ব্যঙ্গাত্মক ও সমালোচনামূলক ক্যাপশনসহ- যার অধিকাংশ প্রতিক্রিয়াই নেতিবাচক।