Home Blog Page 451

গুজরাটের দাঙ্গায় সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মার্কিন পডকাস্টে যা বললেন মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ২০০২ সালের গোধরা-পরবর্তী গুজরাটে সংঘটিত দাঙ্গা নিয়ে আলোচনা ছিল একটি মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরির প্রচেষ্টা এবং কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা তার রাজনৈতিক বিরোধীরা চেয়েছিলেন যে তাকে শাস্তি দেয়া হোক। কিন্তু আদালত তার নাম খারিজ করে দিয়েছে।

লেক্স ফ্রিডম্যানের সাথে একটি পডকাস্টে মোদি বলেন, ২০০২ সালের দাঙ্গা গুজরাটের সর্বকালের সবচেয়ে বড় দাঙ্গা ছিল এই ধারণাটি ভুল তথ্য প্রচারের প্রচেষ্টা। ‘আপনি যদি ২০০২ সালের আগের তথ্য পর্যালোচনা করেন, তাহলে আপনি দেখতে পাবেন যে গুজরাটে ঘন ঘন দাঙ্গার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কোথাও না কোথাও ক্রমাগত কারফিউ জারি করা হচ্ছিল। ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা বা এমনকি সাইকেল সংঘর্ষের মতো তুচ্ছ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তো।’ রোববার প্রকাশিত পডকাস্টে তিনি এসব দাবি করেন।

সূত্র : দ্য হিন্দু

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন মোড়, সতর্ক নজর রাখছে ভারত

গত বছরের নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই পরিবর্তনের ফলে একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সাথে ঢাকার সম্পর্ক উষ্ণ হতে শুরু করে। দুই দেশের এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের বিশেষ নজরে রয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরাসরি বাণিজ্য শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করেছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিমান ও সামরিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। নয় মাসব্যাপী সেই যুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের পক্ষ নিয়েছিল এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। এরপর ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক উষ্ণ থাকলেও ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসার পর তা আবার শীতল হয়ে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক জটিল ছিল। তবে এখন তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।’ অন্যদিকে, এই পরিবর্তনকে ভারত সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

হাসিনার বিদায়ের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কও টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। তবে ভারত এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের এই কৌশলগত মেলবন্ধন ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি কৌশল হতে পারে। লন্ডনের কিংস কলেজের সিনিয়র ফেলো আয়েশা সিদ্দিকা বলেছেন, ‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একসাথে ভারতের প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা করছে।’

সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাথে বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ করেছেন। সামরিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক গভীর হচ্ছে। জানুয়ারিতে বাংলাদেশি সামরিক প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করে এবং ফেব্রুয়ারিতে করাচিতে পাকিস্তান আয়োজিত বহুজাতিক নৌ মহড়ায় বাংলাদেশি নৌবাহিনী অংশ নেয়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশি কূটনীতিকরা মনে করেন, পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ-সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান জরুরি। বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে যুদ্ধকালীন গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে, তবে ইসলামাবাদ এখনো সেই উদ্যোগ নেয়নি।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকেও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান কাছাকাছি আসছে। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ৭০০ মিলিয়ন ডলারের কম হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে তা বাড়তে পারে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আসন্ন ঢাকা সফরে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন সরকার বৈদেশিক নীতিতে নতুন কোনো দিক নির্ধারণ করতে পারে।

তবে ভারতের জন্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। কারণ দেশটি মনে করে, উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য।

আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি, পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। ষড়যন্ত্রকারীরা এই সুযোগে শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করবে, তাই পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’

সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে এক বিশেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পুলিশ আগে খারাপ মানুষের পাল্লায় পড়েছিল, এখন সেখান থেকে বের হয়ে এসেছে বলে জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে তিনি বলেন, ‘ওই অন্ধকার যুগে পুলিশ অ্যাকটিভ পার্টিসিপেন্ট ছিল- নিজের ইচ্ছায় না, সরকারি কাজ করতে গিয়ে হয়েছে। কাজেই নতুন বাংলাদেশে পুলিশকে দেখিয়ে দিতে হবে- আমরা মানুষ খারাপ না, খারাপ মানুষের পাল্লায় পড়েছিলাম, সেখান থেকে বের হয়ে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘১৬ বছরের কালিমা সারা গায়ে মাখা আছে, রাতারাতি সেটা পাল্টাতে পারবো না। পুলিশ সম্বন্ধে ইমেজ হলো, তারা খারাপটা আগে করে। কিন্তু আমরা ভালোটা আগে দেখব, এখন সম্পূর্ণ নতুন ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ষড়যন্ত্রও ততই তীব্র হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা পুলিশকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

দেশের আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে সবাইকে একসাথে কাজ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশ বদলাতে হলে একক নির্দেশে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে এক একটি টিম হয়ে কাজ করতে হবে এবং বাংলাদেশে যত টিম আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিম হলো পুলিশ। সরকার যা কিছুই করতে চায়, শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত দিয়েই করতে হয়।’

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘পুলিশকে অবহেলা করে দেশ গড়তে পারব না। আইনশৃঙ্খলা না থাকলে যত বড় বড় চিন্তাই হোক, যত টাকাই থাকুক, কোনো কাজে আসবে না।’

বিএনপিকে এক-এগারোর মতো মিডিয়া ট্রায়ালের সম্মুখীন করা হচ্ছে : তারেক রহমান

এক-এগারোর মতো বিএনপিকে মিডিয়া ট্রায়ালের সম্মুখীন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে জাতীয়তাবাদী অনলাইন এক্টিভিস্টদের সম্মানে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে লন্ডন থেকে ভার্চুয়্যালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে ৩১ দফার উপর একটি ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আগামীতে যদি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের সমর্থন বিএনপির পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই সম্ভাবনা যত বেশি উজ্জ্বল হচ্ছে, তত বেশি বিএনপিকে মিডিয়া ট্রায়ালের সম্মুখীন করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সোমবার সকালেও বাংলাদেশের কয়েকটি পত্রিকায় কিছু ঘটনা দেখলাম, দেখার পরে কেন্দ্রীয় অফিসে (নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়) যখন আমি খবর নিলাম- তারা আমাকে জানালো, ঘটনা ঘটেছে এমন। আর পত্রিকায় উপস্থাপন করা হয়েছে আরেকরকম।

তারেক রহমান বলেন, একটি মহল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তারা একইসাথে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে। এখন তাদের সাথে যেসব মিডিয়া হাউজের সম্পর্ক আছে, তাদের মাধ্যমে ১/১১-এর সময় যেভাবে বিএনপিকে মিডিয়া ট্রায়ালের সম্মুখীন করা হয়েছিল, একই রকম প্রেক্ষাপট তৈরিও চেষ্টা করছে।

তারেক রহমান বলেন, যে ষড়যন্ত্র ছিল দেশের জনগণ, গণতন্ত্রের ভিত্তি ও দেশের বিরুদ্ধে- একটি ষড়যন্ত্র আবারো শুরু হয়েছে। এটি শুধু কথার কথা না। এই রকম একটি ঘটনা দিনদিন গড়ে উঠছে। বাংলাদেশের অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিসহ সকল কিছুর বিরুদ্ধে এমন একটি ষড়যন্ত্র ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে।

জনগণ যে নির্বাচনের ভোট দিয়ে তার মতামত দিতে পারবে, ওই নির্বাচনের পক্ষে বিএনপি আছে বলেও জানান তারেক রহমান।

স্বৈরাচারের আমল থেকে শুরু করে এই মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার কোনো সরকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এখানে একজন বক্তা নতুন ভোটের কথা বলেছেন, তাদের কী চিন্তা-ভাবনা, এগুলো এখনো আমরা ঠিক জানি না। আমি তো মনে করি, নতুন যারা ভোটার- এদের কাছে যুক্তি-তর্ক সকল কিছু দিয়ে আপনারা (অনলাইন এক্টিভিস্ট) তাদের মোটিভেট করতে সক্ষম বলে আমি বিশ্বাস করি।

অনলাইন এক্টিভিস্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যখন থেকে বাংলাদেশে বাংলাদেশের জনগণ এবং গণতন্ত্রের ঘাড়ে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল, তখন থেকে আপনারা সংগঠিত হয়ে জনগণ ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের কথা তুলে ধরেছেন- যে যুদ্ধ আপনারা করেছেন, যার কারণে আপনাদেরকেও বিভিন্ন অত্যাচার ও নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, ওই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আপনারা এসেছেন, তার জন্য আপনাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে এই আয়োজনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ অনলাইন এক্টিভিস্টরা বক্তব্য রাখেন।

ঢাবির ১২৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৮ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হামলাসংক্রান্ত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সোমাবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভা শেষে ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কৃত এসব শিক্ষার্থী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাবির প্রক্টর সাহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ১২৮ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে অনেক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় তাদের একাডেমিক সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

সিকিমে প্রবেশে পর্যটকদের দিতে হবে এন্ট্রি ফি

সিকিমে প্রবেশ করতে গেলে এখন থেকে পর্যটকদের দিতে হবে ৫০ রুপি। ঘোষণা করেছে ওই রাজ্যের সরকার। মার্চ মাস থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিকিমের পর্যটন ব্যবসা নথিভুক্তকরণ নীতির অধীনে এই রুপি আদায় করা হবে।

প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পর্যটকরা যখন হোটেলে চেক-ইন করবেন, তখন তাদের মাথাপিছু ৫০ রুপি দিতে হবে। পাঁচ বছরের কম বয়সীদের জন্য কোনো টাকা দিতে হবে না। হোটেল কর্তৃপক্ষ ওই টাকা রাজ্যের পর্যটন দফতরে জমা করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের দেয়া ওই টাকা সিকিমে পর্যটনের পরিকাঠামো এবং পরিষেবা উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।

সিকিম প্রশাসন আরো জানিয়েছে, ৫০ রুপির বিনিময়ে একজন পর্যটক ৩০ দিন পর্যন্ত সিকিমে থাকতে পারবেন। ৩০ দিন অতিক্রান্ত হলে বা তার পরে আবার এলে তাকে আবার ৫০ রুপি করে দিতে হবে।

সূত্রের খবর, এই রুপি রাজ্যের সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহার করা হবে, যাতে পর্যটকদের বেড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না হয়।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

এবারো হচ্ছে না স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ : স্বরাষ্ট্র সচিব

এ বছরও স্বাধীনতা দিবসে কোনো কুচকাওয়াজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।

রোববার দুপুরে ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘রমজান চলছে, ঈদের ছুটি পড়ছে এই সময়, ২৬ মার্চ একই সময় পড়েছে। বৈঠকে এই সময়ে ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে আলাপ হয়েছে। গত বছর কুচকাওয়াজ হয়নি, এবারো হবে না। আমরা কোনো আনন্দ করার মেজাজে নেই।’

স্বাধীনতা দিবসে আইনশৃঙ্খলা বা কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কিনা- জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমি কোনো ঝুঁকি দেখছি না।’

সূত্র : বিবিসি

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ শহীদ আবরারের মায়ের, দ্রুত কার্যকরের দাবি

বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহালের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর ও পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন।

রোববার (১৬ মার্চ) আদালতের রায় ঘোষণার পর কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাসায় আবরারের মা রোকেয়া খাতুন এ কথা জানান।

শহীদ আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, ‘আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্ট আজ যে রায় দিয়েছেন তাতে আমি খুশি। শুধু আমরা না, সারাদেশের মানুষ খুশি। ২০২২ সালের রায় বহাল রয়েছে। প্রথম যখন রায় ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই রায়েও দেশবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছিল।’

তিনি বর্তমান সরকারসহ সব মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘মৃত্যুর ছয় বছর পরও আমার সন্তানকে সকলে ভালোবেসে মনে রেখেছে কেউ ভুলে যায়নি। এটা আমার জন্য বড় পাওয়া।’

তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান র‌্যাগিংমুক্ত থাক। বর্তমানে যেমন জুলুম-অত্যাচার নেই, তেমন সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমসময় যেন নিরাপদ থাকে। ভবিষ্যতে যেন আমার মতো কাউকে সন্তান হারাতে না হয়। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন লক্ষ্য যেন ধ্বংস না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অসম চুক্তি এবং ফারাক্কার পানি আগ্রাসন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জেরে বুয়েট শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নৃশংস কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করে সংগঠনটির ক্যাডাররা। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আবরার ফাহাদ ১৯৯৮ সালে ১২ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের রায়ডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো: বরকত উল্লাহ এবং মায়ের নাম রোকেয়া খাতুন।

আবরার কুষ্টিয়া মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং পরে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। নটরডেম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা শেষে ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ আবরার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন।

ইউক্রেনীয় সেনাদের রাশিয়া ঘেরাও করেনি, দাবি জেলেনস্কির

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্শ শহরে ইউক্রেনীয় সেনাদের ঘিরে ফেলেছে রাশিয়া। তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

তিনি শনিবার এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, কুর্শ শহরে আমাদের সৈন্যরা এখনো অভিযান পরিচালনা করছে। তাদেরকে রুশ বাহিনী ঘেরাও করতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, যারা এখনো কুর্শ অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করছে, তাদেরকে ধন্যবাদ। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রুশ বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তে সৈন্য সংগ্রহ করছে এবং ইউক্রেনের উত্তর-পূর্ব সুমি অঞ্চলে আক্রমণের পরিকল্পনা করছে।

সূত্র : সিনহুয়া

অবসর নয়, এখনো ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি : কোহলি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন না ভারতের বিরাট কোহলি। কারণ এখনো ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসেন তিনি।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ‘ইনোভেশন ল্যাব ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিটের’ অনুষ্ঠানে কোহলি বলেন, খেলাটির প্রতি আনন্দ-ভালোবাসা থেকেই এখন ক্রিকেট থেকে অবসরের পরিকল্পনা নেই।

গত বছর নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরির দেখা পান কোহলি। এরপর অসি সিরিজে সাত ইনিংসে মাত্র ৮৫ রান করেন তিনি। পাশাপাশি ওয়ানডে ফরম্যাটে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ইনিংসে ১১৫ রান করেন কোহলি। তাই গুঞ্জন উঠেছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষেই অবসর নিতে পারেন তিনি।

কিন্তু অবসরের ইঙ্গিত উড়িয়ে দিয়েছেন কোহলি নিজেই। বলেন, ‘আমি অর্জনের জন্য ক্রিকেট খেলি না। আনন্দ, তৃপ্তি ও খেলাটির প্রতি ভালোবাসা থেকেই ক্রিকেট খেলি। যতক্ষণ সেই ভালোবাসা বজায় থাকবে, আমি খেলা চালিয়ে যাব। এই বিষয়ে আমাকে নিজের সাথে সৎ থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঘাবড়াবেন না। আমি কোনো ঘোষণা দিচ্ছি না। এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিক আছে। আমি এখনো খেলাটা খেলতে ভালোবাসি।’

২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস আসর দিয়ে ১২৮ বছর পর ক্রিকেট ফিরতে যাচ্ছে অলিম্পিকে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই হবে অলিম্পিকের ক্রিকেট। ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট থেকে অবসর নেন কোহলি।

অলিম্পিকে খেলার জন্য কোহলি কি আবারো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কোহলি বলেন, ‘অলিম্পিকের জন্য? আমি ঠিক জানি না। যদি আমরা স্বর্ণ পদকের জন্য খেলি, তাহলে আমি হয়ত এক ম্যাচের জন্য ফিরে আসব। পদক জিতে আবার বাড়ি ফিরে আসব।’

তিনি বলেন, ‘সারাবিশ্বে এখন অনেক টি-টোয়েন্টি লিগ হচ্ছে। আমি মনে করি, অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ততিতে আইপিএল বড় ভূমিকা রেখেছে। এটা ক্রিকেটকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, যেখানে তা অলিম্পিকের অংশ। কিছু ছেলের জন্য এটা দারুণ সুযোগ। অলিম্পিকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অসাধারণ অনুভূতি হবে।’

১২৫ টি-২০ ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও ৩৮টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৪১৮৮ রান করেছেন কোহলি। রান সংগ্রহের তালিকায় তৃতীয়স্থানে আছেন তিনি। ১৫৯ ম্যাচে ৪২৩১ রান নিয়ে শীর্ষে আছেন ভারতের রোহিত শর্মা। দ্বিতীয়স্থানে থাকা পাকিস্তানের বাবর আজম ১২৮ ম্যাচে ৪২২৩ রান করেছেন।

সূত্র : বাসস