Home Blog Page 452

২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন বহাল

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

আজ রোববার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে বি রুমি, জহিরুল ইসলাম সুমন, নূর মোহাম্মদ আজমী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ উপস্থিত ছিলেন।

আসামিপক্ষে আইনজীবী মাসুদ হাসান চৌধুরী, আজিজুর রহমান দুলু উপস্থিত ছিলেন।

আদালতকক্ষে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, আজ বেলা ১১টায় আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের রায় ঘোষণা শুরু হয়। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা শুরু হয়। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান রায় পাঠ করে শোনান।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। গত বছরের অক্টোবর মাসে এ মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয়া হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান এ উদ্যোগ নেন।

২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও মামলার নথি হাইকোর্টে আসে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ৬ হাজার ৬২৭ পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্স ও মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এরপর আসামিরা দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। দণ্ডিত আসামিরা উচ্চ আদালতে ফৌজদারি আপিল এবং জেল আপিল করতে পারেন।

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো: কামরুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং এসএম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি গত ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ভেঙে পালান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরদিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো: ওয়াহিদুজ্জামান।

যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দেয়া উচিত : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যত দ্রুত সম্ভব একটি নির্বাচন দেয়া উচিত। নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব দিয়ে একটি স্থিতিশীলতা রক্ষা করা উচিত।

রোববার (১৬ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।

বিএনপি সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এইটুকু বলতে পার, আমরা সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ৩১ দফা দাবি অনেক আগে দিয়েছি যখন এই সংস্কারের কথা কেউ বলেনি। সেই সংস্কারগুলোর সাথে আজকের যে প্রস্তাব উঠে আসছে সেখানে খুব বেশি পার্থক্য দেখছি না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললেই আমরা আজ বিচলিত হয়ে যাই। হত্যা, খুন, ধর্ষণ এমন একটি জায়গায় চলে যাচ্ছে যে জায়গাটা আমাদের পীড়িত করছে। অন্যদিকে আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ছাত্ররা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। আবার দেখছি, যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, তারাও তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে আসছে। আমাদের সকলেরই এই ব্যাপারে ধৈর্য ধরার ব্যাপার আছে।’

দ্রুত নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা এখন অন্তত আন্তরিকভাবে চাচ্ছি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূস অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাবেন। কারণ, আমরা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে যেটা দেখছি, নির্বাচন যত দেরি হবে তত বেশি বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে পরাজিত করার জন্য ফ্যাসিস্ট শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। যারা উগ্র, জঙ্গি তারাও এই সুযোগগুলো নেয়ার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তাই মনে করি, যত দ্রুত নির্বাচন হবে, যত দ্রুত জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে এসে একদিকে দেশ পরিচালনা করবে, অন্যদিকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে সংস্কারগুলো আছে সেগুলো আমরা সবাই এক সাথে করতে পারব।’

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবি আব্দুল হাই শিকদার, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, সাংবাদিক নেতা কামাল উদ্দিন সবুজ, ইলিয়াস খান প্রমুখ।

ড. ইউনূস সরকারের সাত মাসের গৌরবময় খতিয়ান!

রতন তালুকদার : ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে একদফা আন্দোলনে ৫ই আগস্ট মাথানত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পলায়ন। ৫ থেকে ৭ই আগস্ট পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না। কথিত ছাত্রদের নিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী মহামতি ড. ইউনূস প্যারিস থেকে ঢাকায় এসে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল ইউনূসের মুখ আর দেশের মানুষের উল্লাসে সারাদেশে ‘ইউনূস বসন্ত’। শেখ হাসিনার বিদায়ে মাতোয়ারা ছাত্রসমাজ, জনগণ। হাসতে হাসতে গণভবনে হরিলুট। মানুষ চেয়ে চেয়ে দেখছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি চোখের পলকেই মাটিতে মিশে গেল।
ড. ইউনূস ৮ই আগস্ট শপথ নিলেন, সাক্ষী রইল দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব, জামায়াত সহ ইসলামী দলের হুজুরদ্বয়, সামরিক-বেসামরিক কর্মকতা, সাংবাদিক-বুদ্বিজীবী ও বিজয়ী ছাত্রজনতা। আওয়ামীলীগ নেত্রীর পলায়নের গøানি মাথায় নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা অন্ধকারে পালানোর রাস্তা খুঁজছে।
৮ই আগস্ট ইউনূস অভিষিক্ত হওয়ার পর নিজের ইচ্ছেমতো নিজ বলয়ের মানুষজন ও ছাত্র আন্দোলনের কতিপয় নেতা দিয়ে ঘেরা হলো উপদেষ্টা পরিষদ। অগ্রযাত্রা শুরুর পর তিনমাস হানিমুন বাদ দিলে আরও প্রায় ৫ মাস। সর্বসাকুল্যে ইউনূস সরকারের গৌরব,ঘৃণার আট মাস প্রায়।
তারপর কী হলো? সবিস্তারে ইউনূসনামার খতিয়ান নিয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বলছি, আপনারাও জোরেশোরে বলুন।
“ইউনূস সরকারের ৮ মাস, আ-হা বেশ! বেশ!”
ড. ইউনূস সরকারের ৮ মাসের শাসনামলে খতিয়ানগুলো জেনে নিন, প্রাণ খুলে হাসুন! আর কতদূর যাবো আমরা ?

(১) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম সপ্তাহেই প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আখ্যায়িত করে প্রশাসনে মৌলবাদী ইসলামী মনোভাবাপন্নদের নিয়োগ। সংস্কারের অজুহাতে ৬টি কমিটি গ্রহণ। এইসব কমিটিতে ড. ইউনূস সমর্থিত পেশাজীবীদের নিয়োগ। দেশ ও বিদেশ থেকে ভাড়া করা তথাকথিত পÐিতদের নিয়ে জগাখিচুড়ির সংস্কারমূলক প্রস্তাবনা।
(২) ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী নামে কতিপয় ছাত্রদের লাগামহীন দৌরাত্ম্য, বাচ্চা পোলাপানের অতিমাত্রায় বাচলামির খেসারতে শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম রাজনীতির আখড়ায় পরিণত। সমন্বয়কারী হিসেবে সারাদেশে চাঁদাবাজির উৎসব, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, ছোট ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত।
(৩) আইন-শৃঙ্খলায় গুরুতর অবনতি। দেশে আনসার বিদ্রোহ, পুলিশের মাঝে ভয়, চেইন অব কমান্ড নেই পুলিশে। ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের দ্বারা অপকর্মে ভীত-সন্ত্রস্ত পুলিশের কাজে যোগদানে অনীহা, জানমাল নিরাপত্তার অভাব। সরকার বাধ্য হয় সেনাবাহিনীকে মেজিস্ট্রি পাওয়ার দিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।
(৪) “ডেভিল হান্টার” অপারেশনের নামে হাজার হাজার নাগরিককে গ্রেপ্তার, একেকজনের মাথার উপর মামলার বোঝা। কারণ-অকারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শায়েস্তা করার নামে হয়রানি, আইন-শৃঙ্খলার গুরুতর অবনতির কারণে সারাদেশে চুরি-ডাকাতি,ছিনতাই,মব হামলা, সম্প্রীতির নামে নৈরাজ্য। ৮ মাসে প্রায় দু’শত বিচার বর্হিভূত হত্যাকাÐ, গুম-ধর্ষণসহ অসামাজিক কর্মকাÐ বেড়েছে লাগামহীন!
(৫) ড. ইউনূস ক্ষমতা নেয়ার আগ থেকেই অর্থাৎ সেই ৫ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত জেলের কয়েদিরা জেল ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। ইউনূস ক্ষমতা নেয়ার পর জেল থেকে বেছে বেছে দাগি আসামি, ফাঁসির আদেশে অভিযুক্ত জংগীসহ অনেক আসামিকে ছেড়ে দেয়া হয়।
(৬) বিএনপিকে খুশি করতে খালেদা জিয়াকে সব মামলা থেকে রেহাই দিয়ে পড়ে মুক্তি। লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানের মামলাগুলি পর্যায়ক্রমে বাতিল হলেও কয়েকটি মামলার মূলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তারেক রহমান নিয়ে যাতে ভবিষ্যৎ-এ খেলা যায়। বিএনপি কী আদৌ এই শুভংকরের ফাঁকি বুঝতে পারে?
(৭) প্রতিবেশী ভারতের সাথে অলিখিত যুদ্ধ ঘোষণার ফলে ৫ আগস্টের পর দেশে ভারত-বিদ্বেষ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। ড. ইউনূস ৮ই আগস্ট দেশের মাটিতে পা রাখার আগেই প্যারিস এয়ারপোর্টে ভারতের উত্তর-পূর্বে “চিকেন নেক” নিয়ে সংকেত দেন। তারপর দেশে শুরু হয়ে যায় ভারত বিরোধিতার মহোৎসব আর ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের অত্যাচার, মন্দির ভাংচুর ফলে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগতে থাকে হিন্দুরা। রাস্তায় নামে সনাতন ধর্মের মানুষজন। ঢাকা চট্টগ্রামে হিন্দুদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ, শ্রী চিন্ময় প্রভুর আবির্ভাব, তারপর তাকে গ্রেপ্তার। চট্টগ্রামে জজকোর্টে মারমুখী সংঘাত, সাইফুল নামে একজন তরুণ আইনজীবীর মর্মান্তিক মৃত্যু।
(৮) ভারতের বিপরীত পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে প্রেমে উতলা হওয়া। জাহাজ, আলু-পেঁয়াজ, তেল-চিনি আসা শুরু। পাকিস্তানি হানাদার নতুন পোষাকে আসতে শুরু করে। অজুহাত, সম্পর্ক উন্নয়ন। দীর্ঘদিন পাকিপ্রেম না থাকায় অল্প দিনেই পুুষিয়ে নেয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
(৯) প্রথম দিন থেকেই ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও তার চেতনাকে মুছে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়। দু’ঘণ্টার ব্যবধানে সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর স্টেচ্যু, মোড়াল মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের নিশানাকে মাটি চাপা দেয়ার নিরলস প্রচেষ্টা চলতে থাকে। প্রথমদিকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালানো হলো, তারপর তো একেবারে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। আঘাত আসে মুুক্তিযুদ্ধের যাদুঘরে। এবার একুশের মহান দিনেও ছিল অবহেলা ও অনাদরের ছবি। ৭ই মাচের্র সেই বজ্রকন্ঠের গর্জন? প্রশ্নই উঠে না, নীরবে স্বাধীনতার মার্চ মাস যেন লুকোচুরি খেলছে। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, জয়বাংলা বলাই যেন অপরাধ!
(১) তারপর শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও পরে মর্মান্তিক মৃত্যু। এই পবিত্র রমজান মাসেও এই অমানবিক পৌশাচিক এবং নৈরাজ্যের ছবি দেখতে হয় জাতিকে। একটি আট বছরের শিশুকে জীবন দিতে হয় দেশে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির কারণে। আছিয়ার ধর্ষক ধরেই নিয়েছিলো কিচ্ছু হবে না, দেশে সরকার আছে আইন নেই, বিচার নেই। সেই বিচার বিভাগেও চলছে আগের মতোই পক্ষপাতিত্ব। যে আমার মানুষ সে মুক্ত, যে আমার নয় সে জেলে থাকবে এই নীতিই কোর্টের বারান্দায়।
(১১) অবশেষে কিংস পার্টি! পোলাপানের রাজনৈতিক দল। কোটি কোটি টাকার খেলা, হেলিকপ্টারে চড়ে কম্বল বিতরণ, ফাইভস্টার হোটেলে হাজার লোকের ইফতার! সমন্বয়কারীদের বিলাসবহুল গাড়ি, ব্র্যান্ডের জামাকাপড়, রঙ্গিন জীবনযাপন। অথচ এই পোলাপানগুলি আট মাস আগে বেকার ছিলো, দোকানে বাকিতে চলতো! ওদের এই বিশাল অর্থ-বিত্ত-বৈভব-এর উৎস কী!
শেষ কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আপনি দ্রæত নির্বাচন দিন, নিজে বাঁচুন দেশকে বাঁচান।

রতন তালুকদার ঃ সম্পাদক , সাপ্তাহিক জন্মভ‚মি , নিউইর্য়ক

নিউইয়র্কে মুনার ইফতার ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে মসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা) এর ইফতার মাহফিল ও সংবাদ সম্মেলন গত ৪ মার্চ জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় । মুনা কনভেনশনকে কেন্দ্র করে এ সংবাদ সম্মেলন এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মুনার ন্যাশনাল মিডিয়া বিভাগের পরিচালক আনিসুর রহমান গাজীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুনার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, মুনার এক্সিকিউিটিভ ডিরেক্টর আরমান চৌধুরী, ন্যাশনাল এসিটেন্ট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আহমেদ আবু উবায়দা, আব্দুল্লাহ আর আরিফ, ড. রুহুল আমিন, মুনা মজলিশ এ সুরার মেম্বার এস এম মাওলানা সুজন, মুনার নিউইয়র্ক সাউথ জোনের সভাপতি এমদাদ উল্লাহ, মুনা নিউইয়র্ক নর্থ জোনের সেক্রেটারি মমিনুল ইসলাম মজুমদার, মুনা সাউথ জোনের মিডিয়া পরিচালক আমিনুর রসুল জামশেদ। আব্দুল্লাহ আল আরিফের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুনার ন্যাশনাল পরিচালক মাওলানা দেলোয়ার হোসেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আরমান চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে আরমান চৌধুরী বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে মুনা প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৮, ৯ এবং ১০ আগস্ট ২০২৫ ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে মুনা কনভেনশন-২০২৫ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই কনভেনশন মুসলিম জীবনে বিশেষ করে বাংলাদেশী আমেরিকান পরিবারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
মুনা আমেরিকার একটি দাওয়াতি ও সামাজিক সংগঠন। মানুষের ব্যক্তিগত নৈতিক ও সামাজিক মানোন্নয়নের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালানোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত হয় মুনা।
এই সংগঠনটি ১৯৯০ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কর্পোরেশন ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে মুনা আমেরিকার প্রায় সবকটি রাজ্যেই কমবেশি কর্মতৎপরতা পরিচালনা করছে। মুসলমানদের প্রাত্যহিক সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ড এবং জাতীয় নাগরিক জীবনে ভূমিকা পালনের নিমিত্তে সবাইকে সংগঠিত করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে করে এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গ আল্লাহ এবং তাঁর রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের মাধ্যমে মানবতার সেবা করে যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতায়, সর্বোপরি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে, বিগত কয়েক বছর যাবৎ বিশাল আকারের মুনা কনভেনশন বাস্তবায়ন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। তিন দিনব্যাপী ওই কনভেনশন বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ আমেরিকান মুসলিম কমিউনিটির মাঝে ব্যক্তি এবং সমাজ গঠনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আমরা মুনা ন্যাশনাল সংগঠনের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে এবং আপনাদের মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশী কমিউনিটিকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এবারের কনভেনশনের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় এবং থিম নির্ধারণ করা হয়েছে-Torchbearers of Islam: Spreading the Faith Globally..
সারা দুনিয়া ব্যাপী মানবতা আজ মুক্তির জন্য দিশেহারা। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তি তথা সামগ্রিক কল্যাণ ইসলামেই নিহিত রয়েছে। মুনা চায়, প্রত্যেক মুসলিম ভাই-বোনেরা ইসলামের সুমহান আদর্শকে নিজেদের জীবনে যথার্থভাবে ধারন করে, এক একজন দ্বীনের মশাল বাহক হিসাবে দুনিয়াব্যাপী প্রচারে আত্মনিয়োগ করুক। ইসলাম শুধু মুসলিম তথা ইসলামে বিশ্বাসীদের জন্য নয়, এটা গোটা মানবজাতির উন্নতি ও অগ্রগতির সোপান । মুনা এই বিশ্বাসকে ধারণ করেই এবারের কনভেনশনের মূল কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করেছে। এই কাজে আপনাদের এবং আপনাদের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি ।
তিনি বলেন, মুনা চায় বাংলাদেশি আমেরিকানদের আমেরিকার মূলধারার মুসলিম স্কলার ও নেতৃবৃন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে, আর সেই ভূমিকা রাখবে মুনার এবারের কনভেনশন ২০২৫ আমেরিকায় ব্যক্তি পরিবার ও সমাজ গঠনে দিকনির্দেশনা সম্বলিত আলোচনা রাখবেন বিশ্ববিখ্যাত সুপরিচিত অভিজ্ঞ আলোচকবৃন্দ। এবারের ইংরেজি আলোচকদের সাথে সাথে থাকবেন বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশ থেকে আগত বাংলা ভাষার ইসলামিক স্কলারগণ।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও রয়েছে তরুণ ছেলে মেয়েদের জন্য আলাদা ইয়ূথ কনভেনশন। আল-কোরআনের অনুসারে কল্যাণকর জীবন জাপনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগের উপর প্যারালাল প্রোগ্রাম রয়েছে। আলোচনা ছাড়া থাকবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন ইসলামী ও অন্যান্য সামগ্রীর দোকান নিয়ে বিশাল বাজার। ছোট ছেলে মেয়েদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান লার্ন এন্ড ফ্যান। এবং বিভিন্ন খেলাধুলাসহ রাইড-এর ব্যবস্থা। এছাড়াও পরিবার-পরিজন বন্ধু স্বজন আর গোটা আমেরিকা থেকে আসা বাংলা ভাষাভাষীদের এই সর্ববৃহৎ মিলনমেলায় অংশগ্রহণের সুবর্ণ সুযোগ।

আটলান্টিক সিটিতে গৌর পূর্ণিমা উপলক্ষে ধর্মসভা ও হোলি উৎসব

সুব্রত চৌধুরী- নিউ জার্সি রাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে গত ১৩ মার্চ, বৃহস্পতিবার গৌর পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে ধর্মসভা ও হোলি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় আটলান্টিক সিটির ১৪১১, পেনরোজ এভিনিউর প্রার্থনা হলে অনুষ্ঠিত ধর্মসভার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল গৌর পূর্ণিমার মর্মকথা শীর্ষক আলোচনা,পবিত্র গীতা থেকে পাঠ, হরিনাম সংকীর্তন, মালা জপ, সমবেত প্রার্থনা, ভজন, কীর্তন, হোলি খেলা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ধর্মসভার কার্যক্রম সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলে। আটলান্টিক সিটির কৃষ্ণভক্তদের উদ্যোগে এই ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছিল। ধর্মসভায় প্রবাসী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অংশগ্রহন করেন।
কৃষ্ণভক্ত সুমন মজুমদার, তৃপ্তি সরকার, প্রদীপ দে, মেরি দে,গংগা সাহা, মিনু নন্দী, রানা দাশ, রেশমী বসাক,পিকলু দাশ, বিউটি দাশ, সুনীল দাশ, ধীমান পাল,লাকী চৌধুরী,শিখর, বর্ষা রানা প্রমুখ ধর্মসভার বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহন করেন। ধর্মসভা শেষে সবাই হোলি উৎসবে অংশগ্রহন করেন।ধর্মসভায় অংশগ্রহনকারীদের মাঝে প্রসাদ বিতরন করা হয়।
ধর্মসভার আয়োজকদের পক্ষে পুলিশ কর্মকর্তা সুমন মজুমদার ও আটলান্টিক সিটি স্কুল বোর্ড সদস্য সুব্রত চৌধুরী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উক্ত ধর্মসভা ও হোলি উৎসবে অংশগ্রহণ করে তা সফল করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতারের ১ম আসর

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে ধর্মীয় আবহে ভাবগম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবাসের মাদার সংগঠন হিসাবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে প্রবাসে জন্ম নেয়া এবং বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের ক্বেরাত প্রতিযোগিতা এবং সেই সঙ্গে দোয়া ও ইফতার মাহফিল। গত ৯ মার্চ উড হ্যাভেনের জয়া হল অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সোসাইটির ক্বেরাত প্রতিযোগিতা ও ইফতারের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এ আয়োজনে অংশ নিয়ে সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করে। ইফতার ও দোয়া মাহফিলে নারী-পুরুষ, যুবক ও নতুন প্রজন্মের উপস্থিতিতে পুরো অডিটোরিয়াম কানায় কানায় ভরে যায়। চেয়ার টেবিল না থাকায় অনেককে দাঁড়িয়ে থেকে ইফতার করতে দেখা যায়।

বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলীসহ অন্য কর্মকর্তারা অতিথিদের বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানে সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তাসহ বিশেষ অতিথিদের মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সভপতি আতাউর রহমান সেলিম সবার খোঁজ খবর নেন।
ইফতারের পূর্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কন্সাল জেনারেল নাজমুল হুদা, সাবেক সভাপতি ড: মাইনুল ইসলাম মিয়া, ডা. ওয়াদুদ ভুইয়া, নার্গিস আহমদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার, রুহুল আমিন সিদ্দীকী, উপদেষ্টা আজিমুর রহমান বুরহান ও ওয়াসী চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কামরুল, প্রধান সমন্বয়কারী এ বি সিদ্দিক পাটোয়ারি। ইফতার অনুষ্ঠানের পূর্বে কেরাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমাজ কল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিচারক শেখ রফিক আহমদ রেফায়ী, ইব্রাহিম কামারা, হাফীজ আবু তাহের ও মাওলানা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। বিজয়ীরা হলো- তুহিন মোজাহিদুল ইসলাম, ওয়ালী রাহিম, আব্দুর রহমান সালেহ। মেয়েদের মধ্যে ইয়াহিয়া মিজদাদ, মোশরাকী আলম, মেহের মারিয়াম মোনওয়ারা। এ সময় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন গ্র্যান্ড স্পনসর, গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সাপ্তাহিক আজকালের সম্পাদক শাহ নেওয়াজ, কনসাল জেনারেল নজমুল হুদা, সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নুরুল আজিম, ডা. এনামুল হক, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নাঈম টুটুল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নওশাদ হায়দার। ক্বেরাত প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ। জানা যায়, তিন বরো থেকে ১১৫ জনের ওপরে অংশগ্রহণ করে এই প্রতিযোগিতায়। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী বর্তমান কমিটির সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন। শুধু তাই নয় সাবেক কর্মকর্তাদেরও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সাবেক সভাপতি হিসাবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ডা. মইনুল ইসলাম মিয়া, নার্গিস আহমদ, ডা. ওয়াদুদ ভুইয়া, আক্তার হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাব্বী মোহাম্মদ খোকন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা তপন জামান, কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, কাজী তোফায়েল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূইয়া রুমি, শাহ মিজানুর রহমান, নির্বাচন কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ হাকিম মিয়া, ইউনুস সরকার, সৈয়দ এমকে জামান, সাবেক সহ-সভাপতি ফারুক চৌধুরী, সন্দ্বীপ সোসাইটির সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপকি মামুুন মিয়াজি, আতিকুল ইসলাম জাকির, শাহনাজ লিপি, মাইনুল উদ্দীন মাহবুব, সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওশাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের বদরুল হাকিম গ্রুপের সভপতি বদরুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা, ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল, বিয়ানীবাজার সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদত রেজাউল আলম অপু, জসীম ভুইয়া, জেবিবিএর সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, আইন বিশেষজ্ঞ মজিবর রহমান, রুমানা আহমেদ, সাজ্জাদ হোসাইন, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, সফি তালুকদার, সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ফারহানা চৌধুরী, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন লু, অ্যাসেম্বলিওমান জেনিফার রাজকুমার, নূরে আলম জিকো, মাওলানা আবুল কালাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দুলাল বেহেদু, মাওলানা রশীদ আহমদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, চৌধুরী সালেহ, মেয়র অফিসের প্রতিনিধি মীর বাশার, প্রফেসর মুন্না, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক, জাবেদ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর সরোয়ার্দী, সাবেক কর্মকর্তা কাজী আজহারুল হক মিলন, শিল্পী রানো নেওয়াজ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আমিন খান জাকির, সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আব্দুল হাসিম হাসনু, এম এ বাতিন, সাবেক কর্মকর্তা সালামত উল্যাহ, গোলাম এম হায়দার মুকুট, সাবেক কর্মকর্তা সারওয়ার খান বাবু, আক্তার হোসেন, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম প্রমুখ। আয়োজক উপ কমিটি, সোসাইটির কার্যকরী কমিটি ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের সভপতি আতাউর রহমান সেলিম সমাপনী বক্তব্যে সবার উপস্থিতির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপ্ত ঘোষণা করেন এবং ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বক্তারা বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ সোসাইটির এই আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে উৎসাহ এবং সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।
কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা শেষে প্রবাসে এবং দেশে বসবাসরত সকলের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা : হাইকোর্টের রায় রোববার

বহুল আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় আগামীকাল রোববার ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন।

আজ শনিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, আলোচিত আবরার হত্যা মামলাটি রোববার রায় ঘোষণার জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

এর আগে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান ও ডেপুটি অ‍্যাটর্নি জেনারেল কে বি রুমি। তাদের সাথে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ ও জামিউল হক ফয়সাল। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী শিশির মনির।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি বহুল আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো: ওয়াহিদুজ্জামান।

পরে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো: কামরুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং এসএম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলো বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪ তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

এরপর ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও মামলার নথি হাইকোর্টে আসে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ছয় হাজার ৬২৭ পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্স ও মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি কারা

শিরোপার লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর লড়াই শেষ হয়েছে। সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদ টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে।

এর আগে আর্সেনাল, অ্যাস্টন ভিলা বড় ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। এই রেসে টিকে থাকতে সহজেই পার পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ কিংবা বার্সেলোনা। জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ৩-২ গোলে জিতে জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে।

কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সূচি

শিরোপার লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম আর্সেনালের খেলার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমিরা। এই ম্যাচটি ইউরোপীয় ফুটবলের দুই জায়ান্টের মধ্যে দারুণ মহারণ। আর্সেনাল তরুণদের নিয়ে রিয়ালের সামনে নামবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে। মাঠের পারফম্যান্সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে রিয়াল।

অন্যদিকে বার্সেলোনা বনাম বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের খেলাও দারুণ জমে উঠবে। বার্সেলোনা তাদের চেনা রূপে খেলবে। শিরোপার হাতে পেতে ছাড় দিবে না ডর্টমুন্ডের উদীয়মান দল।

এদিকে বায়ার্ন মিউনিখ বনাম ইন্টার মিলান দুই দলের লড়াইয়ে নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমিদের। শক্তিশালী এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াইটা দারুণ জমে উঠবে। বায়ার্নের ও মিলান দুই দলেরই রক্ষণভাগ দুর্দান্ত।

পিএসজি বনাম অ্যাস্টন ভিলা কেউ কাউকে ছাড় দিবে না। দুই দলই নিজেদের শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে চেষ্টা করবে। অ্যাস্টন ভিলা খেলেও দারুণ। ফলে খেলা জমে উঠবে জম্পেশ।

আইপিএলে ২ বছর নিষিদ্ধ ব্রুক

নিলামে দল পাওয়ার পরও নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় ইংল্যান্ড ব্যাটার হ্যারি ব্রুককে দুই বছরের জন্য ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

ব্রুকের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে বিসিসিআই।

২০২৪ সালে আইপিএলের নিলামে ব্রুককে ৪ কোটি রুপিতে কিনেছিল দিল্লি। দাদির মৃত্যুর কারণে আইপিএলে খেলেননি ব্রুক।

আসন্ন আসরের জন্য অনুষ্ঠিত নিলাম থেকে ব্রুককে সোয়া ৬ কোটি রুপিতে দলে ভেড়ায় দিল্লি। এবার জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে আইপিএলে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রুক।

নিলামে দল পেয়েও অংশ না নেয়া বিদেশী ক্রিকেটারদের জন্য আইপিএল কর্তৃপক্ষ নতুন নিয়ম করে। নিয়মটি হলো- উপযুক্ত কারণ ছাড়া বা শুধু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কোনো বিদেশি না খেলার সিদ্ধান্ত নিলে দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে তাকে। তাই নিষিদ্ধ হলেন ব্রুক।

বোর্ডের এক কর্তা ‘ইন্ডিয়া টুডে’কে বলেন, ‘এবারের আইপিএল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ব্রুক। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ক্রিকেটার নিলামে দল পাওয়ার পর নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলে দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ হবেন।’

আইপিএলে এখন পর্যন্ত এক মৌসুম খেলেছেন ব্রুক। ২০২৩ সালে সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে খেলেন তিনি। আসরে কোলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৫৫ বলে সেঞ্চুরি চমক দেখিয়েছিলেন ব্রুক।

আগামী ২২ মার্চ থেকে শুরু হবে আইপিএলের ১৮তম আসর।

হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার হবেই, কোনো সন্দেহ নেই

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শেখ হাসিনার বিচার হবেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু হাসিনাই নয়, তার সহযোগীদেরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বুধবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্কাই নিউজের এশিয়া অঞ্চলের সংবাদদাতা কর্ডেলিয়া লিঞ্চ।

ড. ইউনূস বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনা ও তার সহযোগীদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কারণ সব তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। যদিও সে এখন বাংলাদেশে নেই, প্রশ্ন হচ্ছে আমরা তাকে বাংলাদেশে আনতে পারব কি না। সেটি নির্ভর করছে ভারত ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর। আমরা ইতোমধ্যে ভারতকে বলেছি তাকে ফেরত দিতে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশরীরে উপস্থিত থাকুক বা ভারতে লুকিয়ে থাকুক তার বিচার হবেই।

‘আউসটেড পিএম শেখ হাসিনা উইল স্ট্যান্ড ট্রায়াল ফর ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি, বাংলাদেশ’স ইন্টেরিম লিডার সেইজ’- শিরোনামে স্কাই নিউজের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। কেননা হাসিনার বিরুদ্ধে তার শাসনামলে জোরপূর্বক গুমে জড়িত থাকার এবং জুলাই-আগস্টে বিক্ষোভকারীদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তার বিচার হবে কি না এমন প্রশ্নের অবকাশই নেই। তার বিচার হবেই, সেটি তার উপস্থিতিতেই হোক কিংবা অনুপস্থিতিতে। শুধু হাসিনাই নয়, তার সাথে জড়িত সবারই বিচার হবে। তার পরিবারের সদস্য, ক্লায়েন্ট, তার সহযোগী, অলিগার্ক যারা তাকে সহায়তা করেছে তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

হাসিনাকে প্রত্যপর্ণের বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতের জবাবের অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে দু’টি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে নয়াদিল্লির কাছে হাসিনাকে ফেরত দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তাতে এখনো সাড়া দেয়নি ভারত। প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সশরীরে উপস্থিত থাকুক বা ভারতে লুকিয়ে থাকুক, তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবেই।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে জানানো হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আশা করব তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। এটা একটি আইনি বিষয়। আইনগতভাবে তাকে যদি ফিরিয়ে দেয়ার প্রয়োজন হয়, আন্তর্জাতিক আইন তাদের (ভারত) নির্দেশনা দেবে। আমরা এ ব্যাপারে আশাবাদী। ভারতের কাছে আমরা হাসিনাকে ফেরত পাঠিয়ে দিতে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছি।

ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনাকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই শেখ হাসিনার বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব কি না এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেননি তিনি। বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ হওয়ায় সময় লাগছে।

ইউনূস জানান, হাসিনার ১৫ বছরের শাসনে বিরোধী কণ্ঠ দমনে বন্দিশালা আয়নাঘরে চলে অমানবিক নির্যাতন। এর বীভৎসতা সবাইকে শুধু হতবাকই করেনি নৃশংসতার চরম পর্যায়কে তুলে ধরেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কোনো মানুষ আরেকজন মানুষের ওপর এমন নির্যাতন করতে পারে তা কল্পনার বাইরে। এসব বিষয় দেখে হতবাক বললে তা বলতে হয় খুবই নরম শব্দ। যাদের নির্যাতন করা হয়েছে তাদের কাছে আমি তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। এগুলো হচ্ছে সবচয়ে নোংরাতম জঘন্য কাজ, যা আপনি সেখানে দেখতে পাবেন তা সবচেয়ে বীভৎস কোনো বিষয়।

যারা এসব নির্যাতনের সাথে জড়িত তাদের অনেকে দেশ থেকে পালিয়েছে; কিন্তু নির্যাতনের সাথে জড়িতদের অনেকে এখনো তৎপর, তাদের সবাইকে কেন এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, প্রত্যেকে এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত ছিল। পুরো সরকার এ ধরনের গুম, হত্যা, নির্যাতনের সাথে জড়িত ছিল। ক্যান্টনমেন্টের মতো একটি রেস্ট্রিকটেড এলাকায় এসব আয়নাঘরে নির্যাতন চলত। পুলিশ, সেনাবাহিনী এতে জড়িত ছিল। কেউ ভয়ে এসব বলতে চাইত না। আপনি চাইলেও পার্থক্য করতে পারবেন না কে অতি উৎসাহী হয়ে ওই কাজ করেছে বা কে আদেশ পালন করেছে। জুলাই-আগস্ট মাসের বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার জন্য শেখ হাসিনার সাথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরাও অভিযুক্ত। জাতিসঙ্ঘের অনুমান হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এসব আয়নাঘর উন্মোচন করেছি এবং জাদুঘরে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারা নির্যাতনের সাথে জড়িত তাদের পার্থক্য করে বিচারের মুখোমুখি করতে সময় লাগছে।

যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন দিয়েছে তাদের স্বজনরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনের কাছ থেকে এ হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনের বিচার পাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। আমরা গ্যারান্টি দিতে পারছি না। কারণ আমরা স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্বে এসেছি। বিচারে আইনগত প্রক্রিয়া খুবই ধীরগতির। আমরা খুব দ্রুত এটা করতে পারছি না; কিন্তু আমরা কারা জড়িত তা চিহ্নিত করছি। তাদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। যারা গুম, খুন ও নির্যাতনের সাথে জড়িত তাদের অনেককে এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। আমরা আমাদের চেষ্টার সর্বোচ্চটাই করার চেষ্টা করছি। আমাদের মেয়াদের সময় যতটা সম্ভব আমরা করব, বাকিটা একটা প্রক্রিয়ার ভেতরে রেখে যাওয়ার চেষ্টা করছি যাদের পরবর্তী সময়ে যাতে বিচার করা সম্ভব হয় এবং এভাবে তাদের বিচারের কাজ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। অভিযুক্তদের সংখ্যা এবং পরিসর বিবেচনায় নিয়ে বিচারে সময় নেয়া হচ্ছে বলে জানান ইউনূস। তিনি বলেন, হাসিনার পুরো সরকারই এই অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।

অধ্যাপক ইউনূস ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দোষীদের বিচারের প্রক্রিয়া তার আমলে শেষ হবে কি না তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া স্কাই নিউজকে ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হতে পারে বলে জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, কোনো কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেয়া হবে, কারও বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে, কিছু থাকবে পলাতক।

প্রশ্ন করা হয়- শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও যুক্তরাজ্যের সাবেক অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা উচিত কি না? জবাবে ইউনূস বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তাকে বিচারের জন্য দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে কি না আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত নই। বিষয়টি আইনগত। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হওয়ার পাশাপাশি সে ব্রিটিশ নাগরিক।

টিউলিপের দুর্নীতির অভিযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রাখা উচিত কি না এ প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, হ্যাঁ অবশ্যই তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে। দুর্নীতি দমন কমিশন যথেষ্ট গুরুত্বের সাথেই কাজটি করছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টি তদন্তে ধরা পড়ছে। তার বিরুদ্ধে যে মামলাটি রয়েছে তা গুরুতর। দেশে তার নামে প্রচুর সম্পদের হদিস পাওয়া গেছে। যার সবকিছুই ক্ষতিয়ে দেখা হবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সীমান্ত সেনাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এখনো প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যে ঢুকে পড়ছে। সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতন অব্যাহত থাকায় তারা বাধ্য হয়ে অনেকটা পদ্ধতিগতভাবেই বাংলাদেশে ছুটে আসছে। তাদের সংখ্যা নির্ধারণের জন্যে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে, মাদক চোরাচালান ছাড়াও প্যারামিলিটারি ধরনের তৎপরতা বাড়ছে। এগুলো সহজ বিষয় নয়। এ জন্য আমরা চাই একটা সেফজোন নিশ্চিত করতে। মানবিক একটা করিডোরের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা যাতে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে আমরা তা চাই। আমাদের ভূখণ্ডে যেমন আমরা তাদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করছি, তারা যাতে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে সে জন্য সেখানেও তাদের জন্য একটা সেফজোন তৈরি করা প্রয়োজন।

ইউনূস বলেন, মিয়ানমারের বিদ্রেহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে দেয়া যায়। রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চল যে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে তা স্বীকার করে ইউনূস বলেন, কক্সবাজার বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থীশিবিরের একটি। যেখানে আনুমানিক ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণাথী আশ্রয় নিয়েছেন।