Home Blog Page 465

বদলে গেল পুলিশের লোগো

বাংলাদেশ পুলিশের পুরনো লোগো বদলে নতুন লোগো প্রকাশ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি (লজিস্টিকস) নাছিমা বেগম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। লোগোতে যা আছে : জাতীয় ফুল শাপলা, ধান ও গমের শীষ যুক্ত, পাটপাতার টপে লেখা পুলিশ।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ে প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে বাংলাদেশ পুলিশের বিদ্রমান মনোগ্রাম বা লোগো পরিবর্তনের গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে নতুন মনোগ্রাম বা লোগো চূড়ান্ত করা হয়েছে; যা ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে।

এ অবস্থায় আপনার জেলা বা ইউনিট ব্যবহৃত পতাকা, সাইনবোর্ড, ইউনিফর্মসহ অন্যান্য সামগ্রী পরিবর্তিত মনোগ্রাম বা লোগো ব্যবহারের নিমিত্তে প্রস্তুত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ামাত্রই এটি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।

এর আগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পুলিশের লোগোতে নৌকা আকারে লোগো লাগানো হয়। আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের পোশাক ও লোগো পরিবর্তেন দাবি ওঠে। পরে এ-সংক্রান্ত একটি কমিশন গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার পুলিশের লোগো পরিবর্তনের চিঠি পুলিশের সব ইউনিটে পাঠানো হয়।

আটকাদেশ আইনে কারাগারে বন্দী অভিনেত্রী মেঘনা আলম

আটকাদেশ আইনে এক মাসের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়েছে ‘মিস আর্থ’ বাংলাদেশ বিজয়ী অভিনেত্রী মেঘনা আলমকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ডিবি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আটকাদেশ আইনে সরকার কোনো ব্যক্তিকে আদালতের আনুষ্ঠানিক বিচার ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটক বা বন্দী করতে পারে। এই ধরনের আইন সাধারণত জননিরাপত্তা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োগ করা হয়।

আদেশে বলা হয়, ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২ (এফ) ধারার জননিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী ক্ষতিকর কাজ থেকে নিবৃত্ত করার জন্য এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আবশ্যক অনুভূত হওয়ায় ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩(১) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে মেঘনা আলমকে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই আটকাদেশ স্বাক্ষরের তারিখ থেকে ৩০ দিন কারাগারে আটক রাখার আদেশ প্রদান করা হয়েছে।

সূত্র : বাসস

কলকাতার নায়িকা শ্রাবন্তীর তৃতীয় বিয়েবিচ্ছেদ

আইনিভাবে কলকাতার নায়িকা শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের তৃতীয় বিয়েবিচ্ছেদ হয়েছে।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) তার ও রোশন সিংয়ের বিচ্ছেদের আইনি সিলমোহর দেন আদালত।

অনেক আগে থেকেই আলাদা থাকেন শ্রাবন্তী ও রোশন। তাদের এই বিচ্ছেদ নিয়ে এত দিন ডিভোর্সের মামলা চলছিল।

হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রাবন্তীর সাথে ডিভোর্সের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রোশন সিং নিজেই। তিনি জানান, সবটাই শান্তিপূর্ণভাবে মিটে গেছে। প্রেম ও বিয়ের আগে যেমন অপরিচিত ছিলেন তেমনই ৮ এপ্রিল থেকে তারা আবারো একে অপরের কাছে অপরিচিত হয়ে যাবেন।

এদিকে এর আগেই জানা গিয়েছিল রোশনের সাথে ডিভোর্সের মামলায়, মাসিক সাত লাখ টাকা হাতখরচ চেয়েছিলেন অভিনেত্রী। গত বছর তার সেই আবেদনে স্টে অর্ডার দিয়েছিল আদালত। তবে রোশন সিং-কে কি আদৌ মাসিক সাত লাখ টাকা দিতে হচ্ছে অভিনেত্রীকে? এ বিষয়টি নিয়ে অবশ্য এদিন কিছু জানাননি রোশন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দীর্ঘ দিন ধরেই আইনি বিচ্ছেদ নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। অবশেষে তারা গত সেপ্টেম্বরে পাকাপাকি ভাবে বিচ্ছেদের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যান। শুধু বাকি ছিল দু’জনের স্বাক্ষর-এর। তার জন্যই আদালত ৮ এপ্রিল দিনটি ধার্য করেছিল। তবে এত দিন এই ডিভোর্স নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন শ্রাবন্তী ও রোশন দু’জনেই।

এদিকে শ্রাবন্তীর থেকে আলাদা হওয়ার পরই বর্তমান প্রেমিকা অনামিকার সাথে ঘর বাঁধতে প্রস্তুত রোশন সিং। পেশায় তিনি একজন জিম প্রশিক্ষক। সেই পেশাগত দিকটা একটু গুছিয়ে নিয়েই ফের নতুন করে জীবন সাজাতে প্রস্তুত তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের শুরুর দিকে রোশন-শ্রাবন্তীর প্রেমপর্ব শুরু হয়। ‘গুগলি’ ছবির প্রিমিয়ারে প্রথমবার একসাথে দেখা গিয়েছিল দু’জনকে। মাস কয়েকের মধ্যেই সূদূর পাঞ্জাবে গিয়ে লুকিয়ে বিয়ে সারেন তারা। বিয়ের দিন দশেক পর বিয়ের খবরে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তারপর বিদেশে হানিমুন, একসাথে আদুরে ছবি পোস্ট থেকে রোম্যান্টিক টিকটিক ভিডিও- রীতিমতো কাপল গোলস হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই জুটি।

সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস

২০২৭ সাল পর্যন্ত লিভারপুলে থাকছেন সালাহ

লিভারপুলের সাথে নতুন করে দুই বছরের চুক্তি করেছেন তারকা ফুটবলার মোহামেদ সালাহ। নতুন এ চুক্তির সুবাদে ২০২৭ সাল পর্যন্ত লিভারপুলেই থাকছেন তিনি।

২০১৭ সালে রোমা থেকে অ্যানফিল্ডে পাড়ি দেয়ার পর লিভারপুলের হয়ে ৩৯৪টি ম্যাচে ২৪৩টি গোল করেছেন সালাহ। ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয়স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।

চলতি মৌসুমে দারুণ ছন্দে আছেন সালাহ। প্রিমিয়ার লিগে এ পর্যন্ত ২৭টি গোল করার পাশাপাশি ১৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩২ গোল করেছেন তিনি।

৩১ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে লিভারপুল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে আছে তারা। লিগে এখনো সাত ম্যাচ বাকী আছে।

লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় বড় ট্রফি জিতেছেন সালাহ।

নতুনভাবে লিভারপুলের সাথে চুক্তি নিয়ে ক্লাবের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে সালাহ বলেন, ‘অবশ্যই আমি খুবই খুশি। আমাদের এখন একটি দুর্দান্ত দল আছে। আগেও আমাদের দুর্দান্ত দল ছিল। কিন্তু আমি নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি কারণ আমার মনে হয় আমাদের আরো ট্রফি জয়ের সুযোগ আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটা দারুণ, আমার সেরা বছরগুলো এখানে কেটেছে। আমি এ পর্যন্ত এখানে আট বছর খেলেছি, আশা করি এটি দশ বছর হবে। এখানে আমার জীবন উপভোগ করছি, আমার ফুটবল উপভোগ করছি। আমার ক্যারিয়ারের সেরা বছরগুলো এখানে কেটেছে।’

আ’লীগ নিষিদ্ধকরণের দাবি জোরালো হচ্ছে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার সাথে জড়িত থাকার দায় নিয়ে দিন যতই যাচ্ছে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি ততই জোরাল হচ্ছে। এনসিপি, গণ-অধিকার পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ দেশের নতুন-পুরনো ছোট ছোট বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এবং সুশীলসমাজের তরফ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার আওয়াজ উঠছে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও এসব দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে দাবি তুলছেন। যদিও বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এ বিষয়ে এখনো নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। বিএনপিসহ অন্যান্য বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছলে অন্তর্বর্তী সরকারও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের নজিরবিহীন পতন ঘটে। ছাত্র-জনতার রোষানল থেকে বাঁচতে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে নিরাপদ আশ্রয় নেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই সরকারের সব মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতারা আত্মগোপনে চলে যান। কেউ কেউ দেশ ছেড়ে বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানের ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে গণহত্যার বিষয়ে ন্যূনতম অনুশোচনাবোধ সৃষ্টি হয়নি। উল্টো অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের জন্য জুডিশিয়াল ক্যু, আনসার, পুলিশ, আমলা, পোশাক শ্রমিক, বেসরকারি শিক্ষক ও সাত কলেজসহ অন্তত দেড় শতাধিক বড় বড় আন্দোলনে ইন্ধন যুগিয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। দেশের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব উসকে দেয়ার মিশনে এখনো নেতৃত্ব দিচ্ছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যা চালানোর দায়, পরে গুপ্ত হামলা চালানোসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার কারণে গণ-অধিকার পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন এবং সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা গত ৫ আগস্টের পর থেকেই মাঠে সরব ভূমিকা পালন করছেন। এসব দল ও সংগঠনের নেতারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সভা-সমাবেশ করার মাধ্যমে জনমত গঠন করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চব্বিশের গণ-আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘের রিপোর্টে আমরা দেখেছি পুলিশ শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল। ভারতে থাকুক আর যেখানেই থাকুক, শেখ হাসিনাকে দেশে এনে বিচার করতে হবে। আখতার হোসেন বলেন, আর কোনো নয়-ছয় নয়, আইনি প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দলটির রাজনীতি বাংলাদেশে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে।

শনিবার সকালে ঝিনাইদহের একটি রেস্টুরেন্টে জেলার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় গণ-অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান জাতীয় সংলাপ ডেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ইকতেদার আহমেদ গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, এর আগেও ১৯৭৫ সালে একবার আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত হয়। ওই সময় যখন শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠন করেন তখন আওয়ামী লীগসহ সব দলই বিলুপ্ত হয়। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান যখন বহু দলীয় গণতন্ত্র চালু করেন তখন আওয়ামী লীগ আবার পুনরুজ্জীবিত হয়। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর আওয়ামী লীগ এবং তার দোসররা একটা গণহত্যা চালিয়েছে- এটা সত্য। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী একটি দল। গণহত্যার জন্য আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের জন্য দাবি উঠছে; তবে চাইলেতো হবে না, আইনি একটা বিষয় আছে। তারপরও বলব, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা বা না করার দায়িত্ব সরকারের। অন্তর্বর্তী সরকার যদি মনে করে আওয়ামী লীগ গণহত্যার সাথে জড়িত তাদের বিচার হওয়া দরকার, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন তাহলে সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে। আর দলের নিবন্ধনের একটা বিষয় আছে। এটা নির্বাচন কমিশনের হাতে। নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে আওয়ামী লীগ নিবন্ধন বাতিল করার মতো অপরাধ করেছে তাহলে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ড. আবদুল লতিফ মাসুম নয়া দিগন্তকে বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। শেখ হাসিনা এখনো অন্যায়ভাবে, অগণতান্ত্রিকভাবে বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের বিন্দুমাত্র অনুশোচনাবোধ নাই। এজন্য দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তবে এ বিষয়ে ভারত ও পশ্চিমা বিশ্বের অবস্থান স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সতর্কতার সাথে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে। এটা ন্যায়ানুগভাবে নিষ্পন্ন হতে হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু আইনগতভাবে হলে হবে না, দেশের জনগণের মাঝে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তুলে ধরে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। আওয়ামী লীগ যে সব সময় রাষ্ট্রবিরোধী, দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করে সেটা জনগণকে জানাতে হবে। তাহলে দেশের মানুষও আওয়ামী লীগের অপকর্ম সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারণা পাবে।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সম্প্রতি তিনি বলেন, প্রথমত এটা অত্যন্ত ইতিবাচক যে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এক ধরনের ‘ঐকমত্য’ সৃষ্টি হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন ঐকমত্য সৃষ্টি হলে সরকারের জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

সোমবার দেশে ফিরবেন মির্জা ফখরুল

সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমসহ নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সমাপ্ত হওয়ায় আগামী সোমবার (১৪ এপ্রিল) দেশে ফিরবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমকে একথা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের দু’জনেরই সবগুলো রিপোর্টের রেজাল্ট গুড। আপনার ভাবির অবস্থা ভালো। উনি সুস্থ ও ভালো আছেন। ইনশাআল্লাহ ১৪ এপ্রিল বিকেলে আমরা দু’জনই দেশে ফিরবো।’

এর আগে গত ৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম সিঙ্গাপুরে যান।

ফেসবুকে নিজের সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমকে নিয়ে ভাইরাল হওয়া স্ট্যাটাসটি নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ফেসবুকে কোনো স্ট্যাটাস দেয়নি।’

এদিকে ফেসবুকে ২০২২ সালে কারাবন্দী থাকা অবস্থায় স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের অসুস্থতা এবং অস্ত্রোপচার নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস প্রকাশিত হয়েছে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

জুনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স

ফ্রান্স আগামী জুনেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, এ উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে পারে। ফ্রান্স ফাইভ টেলিভিশনে বুধবার দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ম্যাক্রোঁ। সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার পথে অগ্রসর হতে হবে। আমি কাউকে খুশি করতে এটি করব না, স্বীকৃতি দেবো কারণ কোনো একসময় এটিই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।’

রয়টার্স লিখেছে, বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশ ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানসহ শক্তিধর পশ্চিমা দেশগুলো এখনো এই স্বীকৃতি দেয়নি। অন্য দিকে সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ এখনো ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো জুন মাসের মধ্যে সৌদি আরবের সাথে যৌথভাবে একটি সম্মেলন আয়োজন করা, যেখানে আমরা বেশ কয়েকটি দেশের পারস্পারিক স্বীকৃতির দিকে অগ্রসর হওয়ার পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে পারি।’

স্বাধীনতার ‘আওয়ামী বয়ান’ বিলুপ্তিতে একমত বিএনপি জামায়াত এনসিপি

মহান স্বাধীনতা সম্পর্কে সংবিধানে সন্নিবেশিত ‘আওয়ামী বয়ান’ বিলুপ্তে সম্পূর্ণ একমত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের দেয়া প্রস্তাবনাগুলোর ওপর এই তিন দলের মতামত পর্যালোচনা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

কমিশনের স্প্রেডশিটের সর্বশেষ ‘বিবিধ’ কলামে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত জানতে চেয়ে বলা হয়েছে- ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০(২) বিলুপ্ত, এবং এ সংশ্লিষ্ট ৫ম, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম তফসিল সংবিধানে না রাখা।’ এর উত্তরে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি ‘একমত’ পোষণ করেছে।

বর্তমান সংবিধানের ১৫০ (২) এ বলা হয়েছে- ‘১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখ হইতে ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তন হইবার অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ, ষষ্ঠ তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাম এবং সপ্তম তফসিলে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল তারিখে মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হইল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ঐতিহাসিক ভাষণ ও দলিল।’ বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি এই অনুচ্ছেদের বিলুপ্তিতে একমত জানিয়েছে।

সংবিধান সংস্কারে এই তিনটি দলের দেয়া মতামত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোট ৭০টি প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধানের ১৫০ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল করাসহ মাত্র চারটি প্রস্তাবে তিনটি দলের দেয়া মতামতে মিল রয়েছে।

এর মধ্যে ‘‘বর্তমান অনুচ্ছেদ ৬ (২) নিম্নোক্তভাবে ‘বাংলাদেশের নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচিত হবেন হিসেবে ‘প্রতিপ্রস্থাপন করা’, এ বিষয়ে তিনটি দলই ‘একমত’ অপশনে টিক চিহ্ন দিয়েছে। স্প্রেডশিটে দেয়া ‘সংবিধান সংশোধনী’ ও ‘নির্বাহী বিভাগ’ এই দুইটি বিষয় সংক্রান্ত কলামে দুইটি একই ধরনের প্রস্তাবে- ‘রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচারণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে। নিম্নকক্ষ অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস করার পর তা উচ্চকক্ষে যাবে এবং সেখানে শুনানির মাধ্যমে অভিসংশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে’ তিনটি দল ‘একমত’ অপশনে টিক দিয়েছে।

কমিশনের ৭০টি প্রস্তাবের মধ্যে তিনটি দলের দেয়া মতামত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিএনপি ১২টি প্রস্তাবে, জামায়াতে ইসলামী ৩১টি প্রস্তাবে এবং এনসিপি ৪৫টি প্রস্তাবে ‘একমত’ হয়েছে।

জানা গেছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনবে। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল যেসব প্রস্তাবে একমত হয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার দেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যেসব প্রস্তাবে নীতিগতভাবে একমত কিংবা আংশিক একমত হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। যদি আলোচনার মাধ্যমে মতৈক্যে পৌঁছা সম্ভব হয়, সে ক্ষেত্রে কমিশন প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

কমিশন থেকে মোট ১৬৬টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত সুপারিশ ৭০টি, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার বিষয়ে সুপারিশ ২৭টি, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সুপারিশ ২৩টি, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত সুপারিশ ২৬টি এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ ২০টি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এর মধ্যে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং পুলিশ সংস্কারের জন্য গঠিত ছয়টি কমিশন গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদনগুলো সরকারের কাছে জমা দেয়।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এই ছয়টি কমিশনের সুপারিশ বিবেচনা ও গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলোর সাথে আলোচনা এবং পদক্ষেপ সুপারিশের উদ্দেশ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি এবং আলী রীয়াজকে সহসভাপতি করে সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।

কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন- বদিউল আলম মজুমদার, আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক এবং ইফতেখারুজ্জামান। এই কমিশনের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ছয় মাস।

জানা গেছে, রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতৈক্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এসব নিয়ে প্রতিটি দলের সাথে একাধিকবার আলোচনায় বসতে পারে কমিশন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ কিছু দিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন সম্ভব। বাংলাদেশে এর আগেও অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। নির্বাচিত সংসদ পরবর্তীতে সেটির অনুমোদন দিয়েছে।’ তবে বিএনপি সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবনাগুলোর বেশ কিছু মতামতে জাতীয় সংসদ কর্তৃক সংবিধান সংশোধনের কথা উল্লেখ করেছে ।

শিবপুরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র গ্রেফতার

নরসিংদীর শিবপুরে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণে দায়ে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র পালকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১১-এর নরসিংদী ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নারায়ণ চন্দ্র পাল (৫০) শিবপুর থানার কুন্দারপাড়া এলাকার কুমার বাড়ির পরলোকগত সুভাষ চন্দ্র পালের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, শিবপুরের কুন্দারপাড়া এলাকায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর থেকে আসামি নারায়ণ চন্দ্র পাল পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার কংশনগর পশ্চিম বাজার এলাকার স্বজনের বাড়ি থেকে নারায়ণ চন্দ্র পালকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে শিবপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে শিবপুরের কুন্দারপাড়া গ্রামে মহিলা মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাড়ির পাশে গাছ থেকে আম পাড়তে যান। ওই সময় একই এলাকার নারায়ণ চন্দ্র পাল (৫০) ওই শিশুটির মুখ চেপে ধরে পাশের ধান ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটির চাচি ঘটনা দেখে ফেললে নারায়ণ চন্দ্র পাল দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়রা নারায়ণ পালের বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন।

এবার যুক্তরাষ্ট্রে উপর ১২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করল চীন

চীন শুক্রবার মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ৮৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির এ পাল্টাপাল্টি অবস্থান বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে ভাঙন ধরাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বেইজিং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অস্বাভাবিক শুল্ক নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি, মৌলিক অর্থনৈতিক নীতিমালা এবং সাধারণ বাণিজ্যিক বাস্তবতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে অস্বাভাবিক উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক বাণিজ্যনীতির গুরুতর লঙ্ঘন। এটি মৌলিক অর্থনৈতিক আইন ও সাধারণ জ্ঞানেরও পরিপন্থী। এটি এক ধরনের হুমকি ও জবরদস্তি।’

এদিকে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার বলেছিলেন যে ‘চীন পণ্যের ওপর এখন থেকে ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।’ তবে এতে ফেন্টানাইল সম্পর্কিত ২০ শতাংশ শুল্ক অন্তর্ভুক্ত ছিল না। চলতি বছরের শুরুতে তিনি পৃথকভাবে ওই শুল্ক আরোপ করেছিলেন। ফলে চীনের উপর আরোপিত শুল্ক ১৪৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি- যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই সিদ্ধান্তের ফলে আরো একবার তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে।

সূত্র : রয়টার্স