Home Blog Page 464

শেষ হলো বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা শেষ হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টায় শুরু হয়ে এটি ১০টা ৩০ মিনিটে চারুকলা অনুষদের সামনেই এসে সমাপ্ত হয়।

শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়। এটি শাহবাগ মোড়, টিএসসি, শহীদ মিনার, শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র ও দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় যোগ দেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানসহ বিশিষ্টিজনেরা। এছাড়া শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী এবং নানা বয়সী মানুষ।

ভোরের আলো ফুটতেই জনস্রোত জমতে শুরু করে চারুকলায়। রমনা, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায়ও ছিল মানুষের ঢল।

শোভাযাত্রায় মুখোশ, পাপেট, বাঁশের তৈরি বাঘ, পাখি, মাছসহ নানা বিশালাকৃতির শিল্পকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতিনির্ভর মানুষের সংগ্রামের রূপ।

শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ এসেছেন এই বর্ণিল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে। হলুদ, লাল, সবুজ ও কমলা রঙের পোশাকে সেজেছেন সবাই। নারীদের মাথায় ফুলের মালা, হাতে রঙিন চুড়ি এবং শিশুদের মুখে উচ্ছ্বাস-সব মিলিয়ে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। ছোট ছোট মুখোশ পরে এবং হাতে পতাকা নিয়ে আনন্দ মিছিলে অংশ নেয় তারা।

বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

এদিকে, পহেলা বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। নিরাপত্তার স্বার্থে এ বছর যেখান-সেখান থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বাংলা বর্ষবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরকে ২১টি সেক্টরে ভাগ করে পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাস্থলগুলো ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হচ্ছে। রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ মোট ২১টি স্থানে ব্যারিকেড রয়েছে।

প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশমুখে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়া ও শোভাযাত্রার রোড সমূহ সিসি ক্যামেরাসহ স্থির ও ভিডিও ক্যামেরা দ্বারা ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের চারপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফুট পেট্রোল রয়েছে। সিটিটিসি, সোয়াত ছাড়াও পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

নববর্ষে জাতির আকাঙ্ক্ষা দ্রুত ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়া : রিজভী

সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘নববর্ষে জাতির আকাঙ্ক্ষা দ্রুত ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়া।’

তিনি বলেছেন, ‘কারণ ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশের মানুষের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে নিজের কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল।’

আজ সোমবার রাজধানীর পরিবাগ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সতীর্থ স্বজন।

জুলাই ছাত্রদলের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ‘তুমুল আন্দোলন চলছে, আমি কারাগারে। সেখান থেকে শুনছি, তারুণ্যের উদ্দীপনা, তেজ। পুলিশ বলছে, “গুলি করি, একটা পড়ে যায়, আবার সেখানে এসে আরেকজন দাঁড়ায়।” এই উদ্দীপনা দিয়েছে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের গান, লেখা, অনেক কবির লেখিনীর মাধ্যমে।’

তিনি মন্তব্য করেন, বিগত ১৫ বছর পরিকল্পিতভাবে একটি দেশের সংস্কৃতি এদেশে ছড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা করা হতো।

তিনি বলেন, ‘এই পহেলা বৈশাখে মুখোশের আড়ালে আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হতো। এমনকি দাড়ি-টুপি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করা হতো, দাড়ি-টুপি পরা সব মানুষ কি খারাপ? না।’

রিজভী বলেন, ‘যার জন্য আমাদের ১৬ বছরের লড়াই, সেটি আমরা নিশ্চিত করি । সেই গণতন্ত্রকে নিশ্চিত করা নিয়ে কোনো টালবাহানা করা যাবে না।’

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকারকে কেন সংস্কারের সাথে এক করে দেখা হচ্ছে? গণতন্ত্র মানেই সংস্কার। গণতন্ত্র হচ্ছে প্রবাহমান খরস্রোত নদীর মতো। এখানে কর্তৃত্ববাদের কোনো জায়গা নেই, আর যেখানে কর্তৃত্ববাদের জায়গা নেই সেখানেই গণতন্ত্র বয়ে যায়। সংস্কার হচ্ছে বয়ে যাওয়া।’

তিনি বলেন, ‘অনেক উপদেষ্টা এখন বিএনপিকে শত্রু ভাবছে, তারা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার বাদ দিয়ে কিভাবে গণতন্ত্রের পরিবর্তে সংস্কারকে ভাবছে, সেটা আমাদের বোধগম্য নয়।’

আলোচনা সভায় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা মুক্ত দেশ, ছাত্রদলের জন্য আজ আরেকটা ঈদের দিন।’

বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, দেশের খ্যাতিমান কবি রেজা স্টালিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুব ইসলাম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির প্রমুখ।।

নিউ ইয়ারের চেয়ে নববর্ষ বেশি আনন্দময়

নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে আয়োজিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের এবারের আনন্দ শোভাযাত্রা। আজ সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের সকালে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা ঢাবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ১০টা ২০ মিনিটে চারুকলা অনুষদের সামনেই এসে শেষ হয়।

এবারে শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, কৃষক, রিকশাচালক, নারী ফুটবলারসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন। এছাড়া শোভাযাত্রায় গণমাধ্যমসহ সবার আগ্রহের জায়গায় ছিল বিদেশি পর্যটক। বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা আসেন এবারের ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ উপভোগ করতে।

রাশিয়া থেকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে বেড়াতে এসে নববর্ষের আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন ‘নিনা’ নামের এক পর্যটক। তিনি বাংলা নববর্ষের এই আনন্দ দারুণভাবে উপভোগ করেন। এই রাশিয়ান পর্যটক বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নববর্ষ উৎসবে এসেছি। আমি দারুণভাবে উপভোগ করছি। খুব ভালো লাগছে এই আয়োজন। এখানকার মানুষগুলো দারুণ। সবাই উজ্জ্বল রঙে রঙিন হয়ে এসেছে। এছাড়া বিভিন্ন সঙ্গীত, যা আমি আগে কখনও শুনিনি। ব্যাপারটা আমার জন্য খুবই ইন্টারেস্টিং।’

জার্মান থেকে বাংলা নববর্ষ দেখতে আসা ক্যাটরিনার কাছে জানতে চাওয়া হয় বাংলা নববর্ষ ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের পার্থক্য নিয়ে। তিনি বলেন, ‘এটা অনেক বেশি সুন্দর, এখানকার মানুষ নববর্ষকে যেভাবে উদযাপন করে তা আর কোথাও নেই। ইংরেজি নতুন বছর উদযাপন এতটা রঙিন হয় না। ওখানকার আয়োজন ভিন্ন। কিন্তু বাংলা নববর্ষের আয়োজন অত্যন্ত রঙিন।’

আরেক রাশিয়ান পর্যটক স্রিথলানা বলেন, ‘এটা খুবই সুন্দর, আমার দারুণ লেগেছে। এটা আমার জন্য একদমই নতুন, আমি খুব উপভোগ করছি, আনন্দ করছি।’

গ্রিস থেকে আসা আগোতো থেনোস বলেন, ‘এখানে আমার দারুণ সময় কাটছে। আমি প্রথমবারের মতো আমার কিছু রাশিয়ান বন্ধুর সঙ্গে এখানে এসেছি। এখানকার সংস্কৃতি ও উৎসব আমি খুব উদযাপন করছি।’

আনা নামে আরেক বিদেশি পর্যটক বলেন, ‘এই বাংলা নববর্ষ খুবই রঙিন, এখানকার র‌্যালিতে প্রচুর মানুষের উপস্থিতি আমায় মুগ্ধ করেছে। আমি নিউ ইয়ার উদযাপন করেছি বেশ কয়েকবার। এবারই প্রথম নববর্ষতে এলাম। আমার কাছে নিউ ইয়ারের চেয়ে নববর্ষ বেশি আনন্দময় লেগেছে।’

আনা আরো বলেন, ‘আমি একটি ট্যুরিস্ট কোম্পানিতে জব করি। এবার পর্যটকদের সাথে এই উৎসব দেখতে বাংলাদেশে এসেছি। এবারই প্রথম বাংলাদেশে এসেছি আমি।’

মুসলিম বিশ্বের উপর এখন জিহাদ ফরজ : মুফতি তাকি উসমানী

প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি তাকি উসমানী বলেছেন, জিহাদ এখন আমাদের এবং সকল মুসলিম শাসকদের ওপর ফরজ হয়ে গেছে। এখন শুধু মৌখিক আনুগত্য প্রকাশ করে দায়িত্ব পালন করা যথেষ্ট নয়।

ইসলামাবাদে আয়োজিত জাতীয় ফিলিস্তিন সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘উচিৎ ছিল, আমরা এখানে নয়, গাজায় গিয়ে জড়ো হওয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যে আমরা ফিলিস্তিনি মুজাহিদিনদের জন্য বাস্তবে কিছুই করতে পারছি না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন ফিলিস্তিনি জনগণকে ব্যবহারিক, মানবিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করাও মুসলিম উম্মাহর নৈতিক কর্তব্য হয়ে পড়েছে।

মুফতি উসমানী প্রশ্ন রাখেন, ‘৫৫ হাজারেরও বেশি কালেমা পাঠকারী মুসলমানকে হত্যার ঘটনা দেখার পরেও কি জিহাদ ফরজ হবে না?’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান কখনোই ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতাও এটিকে একটি অবৈধ রাষ্ট্রসন্তান হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। ইসরাইল যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আমাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি ইসরাইলের সাথে আমাদের কোনো চুক্তি না থাকে, তাহলে অজুহাত কোথায়? আর যদি তারা কোনো চুক্তি ভঙ্গ করে থাকে, তাহলে তারা নিজেরাও তো আর কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ থাকে না।’

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘মুসলিম উম্মাহ প্রথম কিবলা রক্ষায় লড়াইরত মুজাহিদিনদের সহায়তা পর্যন্ত করতে পারছে না। আজ মুসলিম বিশ্ব কেবল সংকল্প ও সম্মেলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অথচ এখনই উচিত ছিল উম্মাহর পক্ষ থেকে জিহাদ ঘোষণা করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু তারপরও ইসরাইলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলের না আছে নৈতিকতা, না আছে আন্তর্জাতিক আইন মানার কোনো প্রবণতা।’

জাতীয় ফিলিস্তিনি সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্র

-সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় যে নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে, তার কোনো ঐতিহাসিক নজির নেই।

-এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ২ লাখ মানুষ আহত বা পঙ্গু হয়েছেন।

-নাগরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতাল, স্কুলসহ মানবিক সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইসরাইলি আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

-এটি কেবল একটি যুদ্ধ নয়। বরং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি প্রকাশ্য গণহত্যা।

-বিশ্বব্যাপী বিবেক আজ নিস্তব্ধ। জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনপন্থী প্রস্তাবনাগুলোতে ভেটো প্রদান করেছে।

-আন্তর্জাতিক বিচার আদালতসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও আজ পঙ্গু ও অসহায়।

-ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী “আল-আকবর ফি আল-আকবর” নীতির আলোকে- বর্তমানে সকল মুসলমানের উপর জিহাদ ফরজ হয়ে গেছে।

-জাতিসঙ্ঘ ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে আসছে এবং একাধিক রেজুলেশনের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছে।

-নিজ মাতৃভূমির স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লড়াই করা একটি সর্বজনস্বীকৃত আন্তর্জাতিক অধিকার।

-আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গাজায় সংঘটিত অপরাধসমূহকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে।

-ফিলিস্তিনের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বাধা নয়; তবে ফিলিস্তিনের নামে তাদের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম কিংবা অভ্যন্তরীণ বিরোধ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

-ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে একটি নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত, যারা ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেছে, সেসব মুসলিম রাষ্ট্রের উচিত তাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা।

-জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠকের আহ্বান প্রয়োজন, এবং এই উদ্যোগ গ্রহণে পাকিস্তানকে এগিয়ে আসতে হবে।

-আগামী শুক্রবারকে নির্যাতিত ও অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

-আমরা ট্রাম্পের অভিবাসন ও জন্মভূমি ত্যাগ সংক্রান্ত মন্তব্যকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

-ইসরাইলসহ সমগ্র ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ ও স্বাভাবিক অধিকারভুক্ত অঞ্চল।

-যদি আমেরিকা ইসরাইলকে বাস্তবায়ন করতে চায়, তবে তাদের উচিত অন্য কোথাও তাদের জন্য উপযুক্ত বসতি গড়ে তোলা।

সূত্র : ডেইলি জং

ভারতে তরুণীকে আটকে রেখে এক সপ্তাহ ধরে ধর্ষণ ২৩ জনের!

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্রে সাত দিন ধরে আটকে রেখে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ২৩ জনের বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।

এদিকে, এ গণধর্ষণকাণ্ডে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ৫০তম বার নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এখানে পা রাখা মাত্রই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সাম্প্রতিক গণধর্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। তিনি বারাণসী বিমানবন্দরে নামার সাথে সাথেই পুলিশ কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার এবং বারাণসীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে শহরে সাম্প্রতিক অপরাধমূলক ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত শোনেন। এই গণধর্ষণকাণ্ডে কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বারাণসীতে আর না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেন তিনি।

নির্যাতিতার মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৯ মার্চ বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিল ওই তরুণী। নির্যাতিতা তার বন্ধুর সাথে একটি জায়গায় যান। সেখানে আর বেশ কয়েকজন যুবক উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, সেসময় তার ঠান্ডা পানীয়ের মধ্যে মাদক মিশিয়ে তাকে অচেতন করে ফেলে ওই যুবকদের মধ্যে একজন। এরপর সাত দিন ধরে সিগ্রা এলাকার বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে অন্তত ২৩ জন।

এরপর ৪ এপ্রিল খোঁজ মেলে ওই তরুণীর। ৬ এপ্রিল লালপুর থানায় অভিযোগ করেন নির্যাতিতা। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তে নেমে ইতোমধ্যেই নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

অভিযুক্ত ২৩ জনের মধ্যে অনেকেই নির্যাতিতার পূর্বপরিচিত ছিল বলেও জানা গেছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

বিহারে বজ্রপাতে ৬১ জনের মৃত্যু

গত ৪৮ ঘণ্টায় বিহারে কমপক্ষে ৬১ জনের মৃত্যু। নালন্দায় মৃত্যুর সংখ্যা সব থেকে বেশি। বৃহস্পতিবার মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২। শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১।

এর মধ্যে পাটনা, ভোজপুর, সিওয়ান এবং গয়াতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গোপালগঞ্জ এবং জামুইতে তিনজন, মুজাফফরপুর, জেহানাবাদ, সরণ এবং আরওয়ালে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বেগুসরাই, দারভাঙ্গা, সহরসা, কাটিহার, মুঙ্গের, মাধেপুরা, আরারিয়া এবং ভাগলপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।

নালন্দার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শশাঙ্ক ভুবনকর জানিয়েছেন, বজ্রপাতের কারণে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের পর লাশগুলো পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে। ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসনের তরফে তা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মানপুর থানা সীমানার অন্তর্গত নাগমা গ্রামে বৃহস্পতিবার একটি মন্দিরের উপর গাছ পড়ে ছয়জন মারা গেছেন। শিলাবৃষ্টির সময় গ্রামবাসীরা একটি মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দেয়াল ধসে তাঁদের মৃত্যু হয়।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবার পিছু চার লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঘরের ভিতরে থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোতে বারণ করা হয়েছে। গত দুই দিনে ভারী বৃষ্টিপাত এবং শিলাবৃষ্টিতে বিহারের ৩৮টি জেলার কমপক্ষে ২৫টি জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের ফলে ঘরবাড়ি, গবাদি পশু এবং কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র : পুবের কলম

ওয়াকফ বিলের প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভে অবরুদ্ধ কলকাতা শহর

একদিকে চাকরিহারা শিক্ষকদের যোগ্য তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ, অন্যদিকে ওয়াকফ অ্যাক্ট নিয়ে সমাবেশ। দু’টি পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে কলকাতা শহর। বিশেষ করে শিয়ালদহ, মৌলালি, ধর্মতলা। কার্যত অবরুদ্ধ পুরো শহরতোলি। সামান্য পাঁচ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগছে আধা ঘণ্টারও অধিক। রাস্তায়-রাস্তায় ব্যাপক যানজট। রাস্তার দু’পাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে গাড়ি। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মধ্য কলকাতায়।

ঘটনাস্থলে থাকা পুবের কলমের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, একদিকে সকাল ১১টা থেকে শিয়ালদহে জমায়েত করেছেন এসএসসির চাকরিহারারা।

অন্যদিকে রামলীলা ময়দানে জমায়েত-এ-উলেমা-এ হিন্দের ডাকে মহা সমাবেশ। মূলত নয়া ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় হাজার হাজার মানুষ (সর্ব ধর্মের) এসেছে সংশ্লিষ্ট ময়দানে।

ইতোমধ্যেই বহু বাস এসে পৌঁছেছে কলকাতায়। এখনো অনেকে রাস্তায় রয়েছে। যার প্রভাবে কার্যত স্তব্ধ একাধিক রাস্তা। যানজট তৈরি হয়েছে পার্ক সার্কাস, মৌলালি, লেনিন সরণি, এজেসি বোস রোড ফ্লাইওভারে।

মল্লিকবাজারমুখী সমস্ত রাস্তা এবং মা ফ্লাইওভারে ধীরে ধীরে চলছে গাড়ি। কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে সিআইটি রোড।

সূত্র : পুবের কলম

ভারতের চেয়ে বেশি বাংলাদেশের ভালো কেউ ভাবে না : জয়শঙ্কর

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক সরকার প্রধান শেখ হাসিনার বিদায়ের পর বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ ইউনুসে সরকার। এরপর থেকে ভারতের সাথে দেশটির সম্পর্ক তলানিতে। যদিও ‘বাংলাদেশের ভালো ভারতের থেকে বেশি কোনো দেশ ভাবে না এবং এটা ভারতের ডিএনএ-তে আছে।’

বুধবার (১০ এপ্রিল) এমনই মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর।

চিন ও পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের ‘নৈকট্য’, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য দিল্লির উপর চাপ, এমন অস্থির আবহে বিমস্টেক সম্মেলনের মাঝে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গত সপ্তাহে মুখোমুখি বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস।

বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করার প্রস্তাব দেন তিনি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও বার্তা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি জানান ইউনুস।’

বুধবার দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে মোদি-ইউনুস বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জয়শংকর জানান, ‘ঐতিহাসিক দিক থেকেই ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মানুষের সংযোগের কারণে এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।’ এরপরেই জয়শংকর মন্তব্য করেন, ‘অন্য কোনো দেশ আমাদের থেকে বেশি বাংলাদেশের ভালো চাইতে পারে না। এটা আমাদের ডিএনএ-তে রয়েছে। একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ও বন্ধু হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, ওরা (বাংলাদেশ) সঠিক পথে হাঁটবে এবং সঠিক কাজ করবে।’

এ সময় বাংলাদেশে গণতন্ত্রে ফিরবে, নির্বাচন হবে বলেও আশাবাদী বলে জানান জয়শংকর।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

ওয়াকফ আইন সংশোধন নিয়ে ক্ষোভ, যা বললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদের মাঝেই সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বললেন, ‘দিদি আছেন, সম্পত্তি রক্ষা হবে।’

ওয়াকফ সংশোধনী আইন সংসদের দুই কক্ষে পাশ হওয়ার পর থেকেই তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক ও প্রতিবাদ। গত শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কলকাতার পার্ক সার্কাস সাতমাথা মোড় ঘিরে বিক্ষোভে শামিল হয় একাধিক মুসলিম সংগঠন। সেই আঁচ ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের আরো কিছু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায়। ঠিক এই আবহেই বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন, ভয় নয়, ‘দিদি’ পাশে আছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

জৈন সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নবকার মহামন্ত্র দিবস’-এর মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি জানি ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে সংখ্যালঘুদের মনে একটা দুঃখ আছে। আপানারা ভরসা রাখুন, বাংলায় এমন কিছু হবে না যাতে বিভাজন হয়। সবাইকে একসাথে থেকে বাঁচতে হবে। জিও, জিনে দো।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা সবাই একসাথে বাঁচার কথা বলুন। কেউ কেউ রাজনৈতিক প্ররোচনা দেয়। আমি বলছি, দিদি আছে, দিদি আপনাদের রক্ষা করবে। আপনাদের সম্পত্তি রক্ষা করবে। কেউ উস্কানিতে পা দেবেন না।’

ওয়াকফ আইন ও কেন্দ্রীয় প্রতিক্রিয়া

ওয়াকফ সংশোধনী বিল সংসদের দুই কক্ষে পাশ হয়ে যাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাতে সই করেছেন। ইতোমধ্যেই গেজেটেও প্রকাশিত হয়েছে নতুন আইনটি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই আইনকে ‘সমগ্র সমাজ ও মুসলিমদের স্বার্থে প্রণীত চমৎকার আইন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার কথায়, ‘এখন ওয়াকফের পবিত্র চেতনা ও মুসলিমদের অধিকার সুরক্ষিত হবে।’

তবে একইসাথে তিনি কংগ্রেসকে বিঁধে বলেন, ‘তোষণের রাজনীতির মাধ্যমে কিছু মৌলবাদী নেতা সম্পদ পেয়েছেন, কিন্তু সাধারণ মুসলিমরা কী পেয়েছেন?’

বিরোধীদের অবস্থান

ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে অসাংবিধানিক বলে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসও শুরু থেকেই সংসদে এই বিলের বিরোধিতা করে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু ভোটের আস্থা অর্জনে এই ইস্যুকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চাইছে রাজ্যের শাসক দল।

মমতার বার্তা ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাধীনতার সময়কার বিভাজনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বিভাজন তো আমরা করিনি। সেই স্বাধীনতার সময় হয়েছে। কেউ কেউ আপনাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উস্কানি দিচ্ছে। তাতে পা দেবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলায় ৩৩ শতাংশ সংখ্যালঘু রয়েছেন। আমরা কী করব, তাঁদের বের করে দেব? এটা কখনো হবে না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার এই মন্তব্য তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সংখ্যালঘুভিত্তিক সমর্থনকে ধরে রাখার কৌশল হিসেবেই উঠে এসেছে। পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভ, কেন্দ্রের ওয়াকফ আইন এবং বাংলায় সংখ্যালঘুদের মনোভাব- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে বেশ উত্তপ্ত, তা স্পষ্ট। আর সেই আবহেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি সর্বদা পাশে থাকবেন।

সূত্র : আনন্দবাজার, হিন্দুস্তান টাইমস ও অন্যান্য

মঙ্গল র‌্যালি’ নয়, এবার হবে ‘বর্ষবরণ আনন্দ র‌্যালি’

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এতদিন ‘মঙ্গল র‌্যালি’ নামে আয়োজিত র‌্যালির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ র‌্যালি’।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ঢাবির চারুকলা অনুষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, পো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ।

এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষে ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। গত ২৪ মার্চ সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ভিসি’র সভাপতিত্বে এটি চূড়ান্ত হয়।

আয়োজকরা জানান, সংস্কৃতির মুক্তির বার্তা নিয়ে চারুকলা অনুষদের এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সব ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।

তারা বলেন, এবারের বর্ষবরণ আনন্দ র‌্যালি দেশীয় বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদার সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটাবে। নববর্ষ উদযাপন বাক-স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশে অগ্রসর একটি পদক্ষেপ।

তারা আরো বলেন, সংস্কৃতির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে মানবিক ও উদার একটি সমাজ বা রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা। এবারের বৈশাখ হবে সকলের। পাহাড় থেকে সমতল- সকল জাতিগোষ্ঠী এতে অংশগ্রহণ করবে। একপেশে সংস্কৃতির সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে আমরা শুদ্ধ ও উদার চর্চার দিকে এগিয়ে যাব- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এবারের বৈশাখ ফ্যাসিবাদ ও নিপীড়নের কালপর্ব শেষে নতুন এক সাংস্কৃতিক মুক্তির সূচনা আনবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তারা।

র‌্যালির নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে চারুকলা অনুষদের ডিন বলেন, ‘আপনারা জানেন, ১৯৮৯ সালে আমরা এই বর্ষবরণ প্রথা শুরু করেছিলাম ‘আনন্দ র‌্যালি’ নামে। পরে তা ‘মঙ্গল র‌্যালি’ নাম নেয়। এবার আমরা মূল নামকে পুনরুদ্ধার করেছি।’

আগামী ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় শোভাযাত্রা শুরু হবে। এটি চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্য, শহিদ মিনার, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হবে বলে জানান তিনি।

র‌্যালির সময় বাংলামোটর, বারডেম, পলাশী ও মৎস ভবন থেকে শাহবাগের দিকে আসার রাস্তা বন্ধ থাকবে। সাধারণ মানুষের জন্য প্রবেশ উন্মুক্ত থাকবে নীলক্ষেত ও পলাশীর দিক থেকে।

র‍্যালির সময় রমনা উদ্যানের তিনটি গেট- ছবির হাট, রাজু ভাস্কর্যের পেছনের গেট ও কালীমন্দির গেট বন্ধ থাকবে।

র‌্যালির সামনে থাকবে ২০টি সজ্জিত ঘোড়া এবং পেছনে থাকবে রিকশার বহর। সাধারণ মানুষ পেছনের দিক থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন।

নিরাপত্তার স্বার্থে সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত শাহবাগ ও টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ থাকবে। এ সময় এই স্টেশনগুলোতে যাত্রী ওঠা-নামা বন্ধ থাকবে এবং র‌্যালি শেষে স্টেশনগুলো চালু হবে।

ক্যাম্পাসে অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নিতে পলাশী ও নীলক্ষেত সড়ক দিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ আইডি কার্ড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

এবারের র‌্যালিতে অংশ নেবে ২৮টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোর ব্যান্ড, পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্পীগোষ্ঠী, বামবা ব্যান্ড শিল্পীগোষ্ঠী, বাউল-সাধুশিল্পী দল, কৃষকদল, মূলধারার শিল্পীগোষ্ঠী, সাধনা নৃত্যসংগঠন, রংধনু পোশাকশ্রমিক শিল্পী দল, নারী ফুটবল দল, অ্যাক্রোব্যাটিক শিল্পীগোষ্ঠী, রিকশার বহর ও ঘোড়ার গাড়ির বহর।

এবার বড় মোটিফ থাকবে ৭টি- ফ্যাসিবাদের মুখ, কাঠের বাঘ, ইলিশ মাছ, তরমুজের ফালি (যা ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের প্রতি সহমর্মিতার প্রতীক এবং তাদের পতাকার মোটিফ), শান্তির পায়রা, পালকি, ও ‘মুগ্ধ’ পানির বোতল।

মাঝারি মোটিফগুলোতে থাকবে ১০টি সুলতানি ও মুঘল আমলের মুখোশ, ২০টি রঙিন চরকি, ৮টি তালপাতার সেপাই, ৫টি পাখি, ৪টি পাখা, ২০টি ঘোড়া এবং ১০০টি লোকজ চিত্রাবলি।

ছোট মোটিফগুলোর মধ্যে থাকবে ৮০টি ফ্যাসিবাদের মুখ, ২০০টি বাঘের মুখ, ১০টি পলো, ৬টি মাছ ধরার চাই, ২০টি মাথাল, ৫টি লাঙল ও ৫টি মাছের ডোলা।

নববর্ষ ১৪৩২-কে সফল করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীলতা ও আবেগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানানো হয়।

সূত্র : ইউএনবি