Home Blog Page 469

সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা কমার কোনো লক্ষণ নেই

বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী ভারতের স্থল সীমান্ত সবচেয়ে বেশি। কিন্তু প্রায় সময়েই নানা কারণে বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। যার কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানা প্রশ্নও উঠছে। সীমান্তে অব্যাহত ভয়াবহ সহিংসতায় বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।

গত দুই বছরে হতাহতের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় সীমান্ত এলাকায় চলমান উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়টি উঠে এসেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতরের ২০২৩ সালের একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় ওই বছর সীমান্তে পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন বাংলাদেশী।

এর মধ্যে ১৯ জন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এবং বাকি ছয়জন ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনাগুলো বিএসএফ সদস্যদের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং স্থানীয় ভারতীয় বাসিন্দাদের জড়িত বিক্ষিপ্ত সহিংসতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে অর্থাৎ শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফের মহাপরিচালকের কাছ থেকে বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও, প্রাণঘাতি অস্ত্রের ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে বিএসএফ, যার ফলে বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটছে।

২০২৪ সালে এই প্রবণতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বিজিবি সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গেল বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিএসএফের হাতে আরো ১৯ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। আর এসব নিহত আগের বছরের একই ধরনের সহিংসতার ধারাবাহিকতা।

এ ছাড়া বছরটিতে ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের হাতে আরো পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব হতাহতের কারণে উভয় সরকারের ক্ষোভ ও জবাবদিহিতার দাবিকে আরো বাড়িয়েছে।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো দেশ দুটির সরকার পর্যায় ও বাহিনী পর্যার্য়ে ধারাবাহিক আলোচনা চললেও ২০২৫ সালেও হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি। প্রথম দুই মাসে, ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আরো তিনজন বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। আরো এসব নিহতদের মধ্যে– একজন বিএসএফ সদস্যদের হাতে এবং দুজন ভারতীয় নাগরিকের হাতে প্রাণ হারান।

সর্বশেষ এই প্রাণহানিগুলো অর্থনৈতিক সুযোগ, অভিবাসন বা বাণিজ্যের সন্ধানে সীমান্ত অতিক্রমকারী ব্যক্তিদের চলমান ঝুঁকির কথা তুলে ধরে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার উদ্বেগের জন্য একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অঞ্চলে বসবাসকারীদের জীবনকে প্রভাবিত করছে ঘন ঘন সহিংসতা। এসব অঞ্চলে অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম এবং আঞ্চলিক বিরোধের খবরও পাওয়া যাচ্ছে প্রায়ই।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো উভয় দেশকে উত্তেজনা কমাতে, সীমান্ত সুরক্ষা প্রোটোকল জোরদার করা এবং সহিংসতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে বিস্ময়ের ব্যাপপার হলো সাম্প্রতিক প্রাণহানির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে এর আগের ঘটনাগুলোর ব্যাপক নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। সীমান্তে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ ও চাপ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলো।

নিহতদের পরিবারের জন্য, সহিংসতা একটি স্থায়ী দুঃখের কারণ এবং যার কোনো সমাধান নেই। মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আরো নিরাপদ ও মানবিক সীমান্ত নীতির বাস্তবায়নে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের ওপরই চাপ বাড়ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবি সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান বলেন, গত ১০ বছরে ২২০ জন বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যা করেছে ভারতের বিএসএফ। এছাড়া একই সময়ে ভারতীয় নাগরিকদের হাতে নিহত হয়েছেন আরো ৫৭ জন বাংলাদেশী।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল রহমান জোর দিয়ে বলেন, বিজিবি সদস্যরা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতমালা কঠোরভাবে মেনে কাজ করে। ‘যদি কোনো ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তাহলে আমরা তাদের আটক করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করি অথবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করি। আমরা কখনও গুলি চালাই না, যে কারণে আমাদের সীমান্তে বিজিবির হাতে কোনো ভারতীয় নাগরিকের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যখনই বিএসএফের সাথে বৈঠক করি, কমান্ডার স্তরে হোক বা অন্য কোনো স্তরে, আমরা বারবার তাদের অনুরোধ করি যে, যদি কোনো বাংলাদেশী অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে তাহলে তাদেরদের উপর গুলি না চালাতে। বরং তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

সীমান্তে বিএসএফের প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে কঠোর অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

বিজিবির নজরদারির পরও বাংলাদেশী নাগরিকরা কিভাবে সীমান্ত অতিক্রম করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সীমান্তে ৯৯ শতাংশ ঘটনা চোরাচালান সংক্রান্ত। সীমান্তের দুই পাশেই রয়েছে চোরাচালান সিন্ডিকেট। যারা চোরাচালানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে তারা প্রায়ই ভারতীয় অংশের সিন্ডিকেট সদস্যদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এরপর যখন তারা ফিরে আসতে থাকে তখন তারা বিএসএফের প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়। এসময় সহিংস সংঘর্ষ হয় যেখানে বিএসএফ সদস্যরা বেশিরভাগ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে ভারতীয় নাগরিকরা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে আমরা মানবাধিকার আইন মেনে চলি। গুলি চালানোর পরিবর্তে আমরা তাদের আটক করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করি।’

শফিকুর রহমান আরো উল্লেখ করেন, সীমান্ত ফাঁড়িগুলোর (বিওপি) মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি। প্রতিটি বিওপি ২০ থেকে ৩৫ জন সদস্য নিয়ে পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে বিজিবির প্রায় ৭০০টি দল রয়েছে। যারা সবসময় সীমান্তে টহল দিয়ে থাকে। তবে তা যথেষ্ট নয়। ফলে বিজিবির প্রতিরোধের শতচেষ্টা সত্ত্বেও কিছু বাংলাদেশী নাগরিক অজান্তেই সীমান্ত অতিক্রম করে।’

ভারতে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম রোধে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিজিবি সীমান্ত অতিক্রম নিরুৎসাহিত করতে এবং এর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্নভাবে সীমান্ত এলাকার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকয় সীমান্ত সম্পর্কিত হতাহত রোধের বিষয়টি অগ্রাধিকারে রয়েছে। উভয় দেশকে মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এবং সীমান্তে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সূত্র : ইউএনবি

পরীক্ষায় পাশ সাকিব, বোলিং করতে নেই কোনো বাধা

পাশ করলেন সাকিব আল হাসান, উৎরে গেলেন চ্যালেঞ্জ। বোলিং করতে আর কোনো বাধা রইল না তার। ইংল্যান্ডে তৃতীয় ধাপের বোলিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে বোলিং নিয়ে অভিযোগ ওঠে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে। গত বছর ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতে গিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয় তার বোলিং অ্যাকশন।

এরপর ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম ও ভারতের চেন্নাইয়ে দু’দফায় পরীক্ষা দেন সাকিব। তবে বোলিং ত্রুটিযুক্ত থাকায় পাশ হতে পারেননি। উল্টা সব ধরনের ক্রিকেটে তার বোলিং নিষিদ্ধ করে আইসিসি।

অবশেষে তৃতীয়বারের চেষ্টায় কৃতকার্য হলেন সাকিব। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং করতে তার আর বাধা নেই। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সহসাই দেখা যাবে কিনা, তা নিয়ে আছে সন্দেহ।

সাকিবের এই ফিরে আসার প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘমেয়াদি। কাউন্টিতে যে সারে ক্লাবের হয়ে খেলে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন, সেই দলের প্রধান কোচ গ্যারেথ ব্যাটির সাথেই বোলিং নিয়ে কাজ করতে থাকেন তিনি।

যদিও একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, একবার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির পর ফের যদি কখনো অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন পরবর্তী এক বছরের জন্য তিনি নিষিদ্ধ থাকবেন।

ফলে বোলিংয়ে ফিরতে যাওয়া সাকিবকে বাড়তি সতর্কও থাকতে হচ্ছে। যার প্রভাব তার বোলিংয়ে না পড়লেই হয়।

ইমরুলের ব্যাটে রানের ফোয়ারা, সেরা তিনে অগ্রণী ব্যাংক

ডিপিএলে আবারো হেসেছে ইমরুল কায়েসের ব্যাট। জয় পেয়েছে তার দল অগ্রণী ব্যাংকও। এই জয়ে শিরোপার দৌঁড়ে দারুণ পাঙ্গা দিচ্ছে দলটা, ৬ ম্যাচে ৫ জয়ে উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের তিনে।

বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেএসপিতে শাইনপুকুরের মুখোমুখি হয় অগ্রণী ব্যাংক। যেখানে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৯৪ রান তুলে তারা। জবাবে ৫ উইকেটে ২৪৮ রানে থামে শাইনপুকুর। ৪৬ রানের জয় পেয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।

জয়ের নায়ক ইমরুল কায়েস। ৮৫ বলে ৮৬ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন তিনি। তাছাড়া দারুণ ছন্দে থাকা সাদমান ইসলাম ৫৩, অমিত হাসান ৪১ ও ইমরানুজ্জামান করেন ৩২ রান।

জবাব দিতে নেমে রায়ান রাফসান সেঞ্চুরি হাঁকালেও জয়ের দেখা মেলেনি। ১৩০ বলে ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৬১ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন মিনহাজুল আবেদিন। তবে বাকিদের ব্যর্থতায় সব ম্লান হয়।

দিনের অন্য ম্যাচে আসরে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে রূপগঞ্জ টাইগার্স। পারটেক্সকে হারিয়েছে ৪ উইকেটে। বিকেএসপিতে আগে ব্যাট করে ২২৩ রান করে পারটেক্স। যা ইনিংসের শেষ বলে পেরিয়ে যায় রূপগঞ্জ।

রূপগঞ্জের জয়ের পথে দারুণ এক শতক হাঁকান আব্দুল মজিদ। ১২৩ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আসাদুল্লাহ আল গালিব করেন ৮০ বলে ৫০। অন্যদিকে পারটেক্সের হয়ে জয়রাজ ৫৪ ও রুবেল মিয়া করেন ৫২ রান।

অন্যদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২ উইকেটে হারিয়েছে গুলশান। মিরপুরে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৯০ রান করে ব্রাদার্স। বিশাল চৌধুরী ৭৫ বলে ৮৩, মিজানুর রহমান ৫০ ও আইচ মোল্লা করেন ৫১ বলে ৬৫ রান।

জবাবে ৪৮.৩ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় গুলশান। টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও নাইম ইসলামের ৫০, মোহাম্মদ ইলিয়াসের ৫৩, ফরহাদ রেজার ৩৬ বলে অপরাজিত ৪৭ ও মেহেদীর ১৮ বলে ৩২ রানে নিশ্চিত হয় জয়।

লিটন দাস ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি, আউট হোন ৪০ বলে ৩৩ করে। ১৭ বলে ৩০ রান আসে জাওয়াদ আবরারের ব্যাটে। ব্রাদার্সের হয়ে ৪ উইকেট নেন সোহাগ গাজি।

সব মামলায় খালাস তারেক রহমান, ‘দেশে ফিরতে বাধা নেই’

হত্যা মামলা থেকে দায়মুক্তির উদ্দেশ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে করা মামলা থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আটজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ জজ আদালত-৩ এই রায় ঘোষণা করেন।

বিএনপির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এর ফলে বিচারিক আদালতে তারেক রহমান ও বাবরের বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির হত্যা মামলার আসামি সাফিয়াত সোবাহান সানভীরকে দায়মুক্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে ২১ কোটি টাকা ঘুষ নেয়া হয়। এতে ১/১১-এর সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাদী হয়ে মামলা করে।

বিএনপির আইনজীবী বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, আসামিদের বিপক্ষে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি দুদক। এখন কোনো মামলা না থাকার কারণে তারেক রহমানের দেশে ফিরে রাজনীতি করতে আর কোনো বাধা নেই। সূত্র : বিবিসি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগে দুর্নীতিসহ পুতুলের বিরুদ্ধে ২ মামলা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জীবন বৃত্তান্তে মিথ্যা ও ভুয়া যোগ্যতা দেখানোর অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে এটিসহ দুটি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুদকের উপ-পরিচালক তাহাসিন মুনোবীল হক মামলা দুটি করেন।

অন্য মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে সিএসআর খাত থেকে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ৩৩ কোটি টাকা সহায়তার নামে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই মামলায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও অভিযুক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)ভুক্ত ব্যাংকগুলোর জন্য এই সিএসআর খাত কাজ করে।

সূত্র : বিবিসি

সীমিত পরিসরে অস্ত্র বিরতিতে সম্মত ইউক্রেন-রাশিয়া

ইউক্রেন ও রাশিয়া নীতিগতভাবে সীমিত পরিসরে অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে এর কার্যকারিতা ও আক্রমণের সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে দেশগুলোর নেতাদের সাথে আলোচনা করার পর এই চুক্তিটি হয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পের ৩০ দিনের পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করার পর এই সীমিত অস্ত্রবিরতির অস্থায়ী চুক্তি গৃহীত হয়েছে। তবে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে সম্মতি না হওয়া যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটানোর ট্রাম্পের প্রচেষ্টার সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার ট্রাম্পের সাথে এক ঘণ্টাব্যাপী কথোপকথনের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে এই সপ্তাহান্তে সৌদি আরবে ‘প্রযুক্তিগত’ আলোচনা হবে, যেখানে চুক্তির আওতায় কোন ধরনের অবকাঠামো সুরক্ষিত থাকবে তা নির্ধারণ করা হবে।

তবে চুক্তির ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্ন মত দেখা গেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে ‘শক্তি ও অবকাঠামো’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ক্রেমলিন বলেছে এটি কেবল ‘শক্তি অবকাঠামো’ পর্যন্ত সীমিত। আর জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে তিনি রেলওয়ে ও বন্দরগুলোকেও সুরক্ষিত রাখতে চান।

জেলেনস্কি বলেন, ‘যুদ্ধ সম্পূর্ণরূপে শেষ করার প্রথম পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে জ্বালানি এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোর উপর হামলা বন্ধ করা। আমি এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছি। ইউক্রেন নিশ্চিত করেছে যে আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।’

ট্রাম্পের সাথে আলোচনার সময় তিনি জেলেনস্কিকে পরামর্শ দেন যে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রকে দিলে সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার বিদ্যুৎ এবং ইউটিলিটি দক্ষতার মাধ্যমে এই প্ল্যান্টগুলির পরিচালনায় সহায়ক হতে পারে।’

ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টার সময়ও এই ধারণাটি সামনে আনে। তবে জেলেনস্কি বলেন, আলোচনা মূলত জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করেই হয়েছে, যা যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি জানান, ট্রাম্প এমন একটি সমঝোতার ধারণা দিয়েছেন, যেখানে ‘যুক্তরাষ্ট্র প্ল্যান্টটি পুনরুদ্ধার করতে পারে’।

এই আলোচনাটি দুই নেতার মধ্যে কয়েক সপ্তাহ আগে ওভাল অফিসে হওয়া একটি অস্বস্তিকর বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ট্রাম্প ইউক্রেনে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি ও সামরিক সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন।

জেলেনস্কি কল চলাকালীন অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অনুরোধ করেন এবং ট্রাম্প ইউরোপে কী উপলব্ধ আছে, তা খুঁজে বের করতে তার সাথে কাজ করতে সম্মত হন।

এদিকে, পুতিন ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে তিনি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করতে রাজি। তবে ট্রাম্পের ৩০ দিনের পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ক্রেমলিন জানিয়েছে যে পুতিন ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো চুক্তির অংশ হিসেবে বিদেশী সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি বন্ধ করতে হবে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বুধবার জোর দিয়ে বলেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি’ অব্যাহত রাখবে।

সূত্র : এপি

৫ বিষয়ের ওপর সংস্কার প্রস্তাব জামায়াতে ইসলামীর

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এতে পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রস্তাবনা পেশ করে দলটি।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় ঐকমত্য কমিশনের কো-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের কাছে সংস্কার প্রস্তাব জমা দেয় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

এ সময় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাথে ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের কাছে জামায়াত নেতারা ১. সংবিধান; ২. নির্বাচন; ৩. বিচার বিভাগ; ৪. জনপ্রশাসন ও ৫. দুর্নীতি দমন কমিশনসহ পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রস্তাবনা পেশ করেন।

উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। আমিরে জামায়াতসহ নেতৃবৃন্দ প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে দ্রুত একটি অর্থবহ নির্বাচন দেয়ার জন্য বারবার বলে আসছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়ের ব্যাপারে একটি ধারণা জাতির সামনে পেশ করা হয়েছে। আমরা তার সাথে দ্বিমত পোষণ করিনি। আজকে আমরা পাঁচটি বিষয়ের ওপর আমাদের মতামত তুলে ধরেছি।

তিনি আরো বলেন, কমিশনের প্রস্তাবের সাথে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা একমত হতে পারিনি; আবার অনেক বিষয়েই একমত হয়েছি। আমরা ব্যাখ্যাসহ আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। আমরা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছি। আমরা আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংস্কার সম্পন্ন করে একটি অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ শুরু করবেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সংখ্যালঘু সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার (১৯ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এ কথা জানান।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের প্রধান তুলসি গ্যাবার্ডের বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে ট্যামি ব্রুসের কাছে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ড বাংলাদেশে ইসলামী চরমপন্থার বাড়তে থাকা হুমকি ও একটি ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তবে তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সরাসরি দায়ী করেননি- ইউনূস সরকারও এসব উদ্বেগকে তীব্রভাবে অস্বীকার করেছে, এগুলোকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে। তবে গতকাল ঢাকায় একটি বড় খিলাফতপন্থী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চলমান উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্র কি ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা নেয়ার চিন্তা করছে?’

এর জবাবে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘যে কোনো দেশেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা নির্যাতনের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।’

তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত পদক্ষেপকে স্বাগত জানান তিনি।

ব্রুস বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, তাকে হোয়াইট হাউস স্বাগত জানায়। আমরা সেটাই নজরে রাখছি, এটাই আশা করি এবং এমনটাই অব্যাহত থাকবে।’

এর আগে গত ১৭ মার্চ তুলসি গ্যাবার্ড বাংলাদেশ নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে এনডিটিভিকে তিনি বলেন, ইসলামি সন্ত্রাসবাদীরা নানা দেশে ‘ইসলামী খেলাফতে’র আদর্শে শাসনক্ষমতা হাতে নিতে চায়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন এই আদর্শকে পরাস্ত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

তার এই বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয় এই ধরনের মন্তব্য ‘বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।’

সূত্র : বিবিসি

মণিপুরে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে নিহত ১, উত্তপ্ত পরিস্থিতি

ভারতের মণিপুরে কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকা চুরাচাঁদপুরে মঙ্গলবার হামার ও জোমি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের দুইদিন পরও সেখানকার পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।

একজন কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, সংঘাতের পর স্কুল ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এলাকায় শান্তি পুনরুদ্ধারে গির্জার নেতারা ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠীগুলো কাজ করছে।

এদিকে, বুধবার রাতে আরো সহিংসতা রোধে নিরাপত্তা কর্মীরা পতাকা মিছিল করে।

মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষে লালরোপুই পাখুয়াংতে (৫১) নামে হামার সম্প্রদায়ের একজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিলমাট খ্রিস্টান হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, রোববার হামার ইনপুইয়ের সাধারণ সম্পাদক রিচার্ড হামারের ওপর জোমি সম্প্রদায়ের আক্রমণের পর থেকে দুই উপজাতির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সহিংসতার জেরে পরদিন জেলায় কারফিউ জারি করা হয়।

ইতোমধ্যে, ত্রাণ শিবিরে থাকা কুকি সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন বাস্তুচ্যুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। চুরাচাঁদপুর শহরটি মূলত জোমি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। তবে কিছু এলাকায় হামার ও কুকি সম্প্রদায়ও বসবাস করে।

বুধবার চুরাচাঁদপুর জেলায় একটি ছাত্র সংগঠন নতুন করে শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। এর কয়েক ঘন্টা পর বিধায়কদের একটি দল ও উপজাতি সংগঠনগুলো পৃথকভাবে শান্তির আবেদন জানিয়েছে।

একটি যৌথ বিবৃতিতে চুরাচাঁদপুর জেলায় অবস্থিত কমপক্ষে ১২টি কুকি-জোমি ও হামার সংগঠন সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তির আহ্বান জানিয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি রোধ করার জন্য একটি যৌথ শান্তি কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে।

চুরাচাঁদপুর ও ফেরজাউল জেলার ছয়জন বিধায়ক শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য একটি যৌথ আবেদন জারি করেছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইটাই ও কুকি-জো গোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত সহিংসতায় ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার গৃহহীন হয়েছে।

সূত্র : নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

যুদ্ধেই জন্ম নিয়ে যুদ্ধেই শহীদ শিশুটি

তেরো মাস আগে যুদ্ধের মধ্যেই প্রথম সন্তানের জন্ম দেন আফনান আল-গানাম। তখন তার পরিবার গাজা উপত্যকায় নিজেদের বাড়িতে বাস করতেন। চলতি বসন্তে তিনি দ্বিতীয়বার সন্তানসম্ভবা হয়েছেন। এই সময়ে তারা একটি দারিদ্র্যপীড়িত তাঁবুর নিচে বাস করতেন। পনেরো মাস যুদ্ধ শেষে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি তাদের মধ্যে কিছুটা প্রশান্তি এনেছিল।

কিন্তু মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) বিমান হামলায় তাদের তাঁবুটি মাটিতে মিশে যায়। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা আফনান আল-গানাম ও তাদের প্রথম সন্তান মোহাম্মদ- দুজনেই নিহত হয়েছেন।

সেদিন সেহরির সময় আকস্মিকভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে যুদ্ধবিমান এসে গাজায় বোমা ফেলতে শুরু করে। এতে চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে। পণবন্দীদের ছেড়ে দিতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে বাধ্য করতে গাজায় হামলা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল।

‘তারা আমাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে,’ বলেন আফনানের স্বামী আলা আবু হেলাল। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে কাপড় দিয়ে ঢাকা ছোট্ট মোহাম্মদের লাশ নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

আবু হেলাল বলেন, ‘যুদ্ধের এক কঠিন সময়ে সে জন্ম নিয়েছে, যুদ্ধেই শহীদ হয়েছে।’

কথা বলার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে কষ্ট হচ্ছিল এই ফিলিস্তিনি তরুণের। তিনি বলেন, ‘তাদের লক্ষ্যবস্তু নিষ্পাপরা। তারা খুব কমই জীবন দেখেছে।’

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় পারিবারিক বসতি দেখতে গিয়েছিলেন আবু হেলাল। ঠিক তখনই মাওসিতে তাদের তাঁবুতে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। খান ইউনিসের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর তাঁবু এই মাউসি এলাকায় অবস্থিত।

যুদ্ধের সময় রাফায় তাদের বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে কোনো কিছু লুট হয়েছে কিনা তা দেখতে যান তিনি। ২০ বছর বয়সী এই তরুণ বলছিলেন, ‘আমাকে একা রেখে তারা সবাই চলে গেছে। অনাগত শিশুটিও নিহত হয়েছে।’

গেল বছরের মে মাসে আবু হেলালের পরিবারকে রাফা ছাড়তে বাধ্য করে ইসরাইলি বাহিনী। তার কিছুদিন আগে জন্ম নেয় তার প্রথম সন্তান মোহাম্মদ। যুদ্ধে রাফাহ অঞ্চলের বেশিভাগ বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

‘পরিবার ও শিশুদের নিরাপদ রাখতে আমরা পালিয়ে গেলাম। কিন্তু তারপরও তারা নিহত হলো,’ বলেন ফিলিস্তিনি এই তরুণ।

এদিকে গাজা উপত্যকার নেতজারিম করিডোরের একটি অংশ ফের দখলে নেয়ার পর ভয়াবহ হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ। গাজায় এমন তীব্র হামলা চালানো হবে যা আগে কেউ কখনো দেখেনি বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

স্থানীয় সময় বুধবার (১৯ মার্চ) উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে বিভক্তকারী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলটিতে সেনা মোতায়নের তথ্য নিশ্চিত করেছে ইসরাইল প্রশাসন। নেতজারিম করিডোর ইসরাইলি সীমান্ত থেকে উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত।

করিডোরটি দখলে নেয়ার পর বুধবার এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ কার্যকর হলে এই অঞ্চলটি থেকে সেনাপ্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু ফের সেখানে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধে প্রায় ৪ মাইল দীর্ঘ এই করিডোরটিকে একটি সামরিক অঞ্চল হিসেবে ব্যবহার করেছে ইসরাইল।

যুদ্ধকালীর উত্তর গাজার অনেকেই পালিয়ে দক্ষিণ গাজায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। পনেরো মাসের সংঘাত শেষে করিডোর থেকে আইডিএফ সেনারা সরে গেলে অনেকেই উত্তর গাজায় ফিরে যান।

নেতজারিম করিডোর দখলের পর অঞ্চলটি থেকে সব ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল কাৎজ। তিনি জানান, মঙ্গলবারের বিমান হামলা তো কেবল শুরু।

কাৎজ বলেন, ‘হামাস যদি পণবন্দীদের মুক্তি না দেয়, তাহলে এমন ভয়াবহ হামলা চালানো হবে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।’

সূত্র : ইউএনবি