Home Blog Page 469

খলিল ফুড ফাউন্ডেশন’র আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ডস ২৪ মে

নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আগামী ২৪ মে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ । কুইন্সের ট্যারেস অন দ্য পার্কে অনুষ্ঠিত হবে এ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠান। এই আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা খলিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহ প্রতিষ্ঠান খলিল ফুড ও খলিল ফুড ফাউন্ডেশন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে নিউইয়র্কের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আশা গ্রুপ অব কোম্পানিজ। আশা গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠান আশা মাল্টিমিডিয়া এলএলসি (সাপ্তাহিক সাদাকালো এবং এটিভি ইউএসএ) এই আয়োজনের অংশীদার হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এই চুক্তির অধীনে দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে এবং আয়োজনটির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

সমঝোতা স্মারক সই উপলক্ষ্যে বুধবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার আশা পার্টি হলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন খলিল গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্টিজের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মো. খলিলুর রহমান ও আশা গ্রুপ অব কোম্পানীজের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আকাশ রহমান। এ সময় তারা সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
অনুষ্ঠানে কিং শেফ মো. খলিলুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে খলিল বিরিয়ানি হাউজ যাত্রা শুরু করে। আর অল্পসময়ের মধ্যেই আমাদের খাবার মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে।  যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সুপরিচিত খাবারের ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই নয়, স্থানীয় আমেরিকানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছেও আমাদের খাবারসমূহ সমান জনপ্রিয়। খলিলুর রহমান বলেন, আমরা একটি বিশ্বমানের ইভেন্ট ‘আমেরিকান কারি অ্যাওয়ার্ড’ আয়োজনে কাজ করে যাচ্ছি। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে কারি রন্ধন শিল্প যেমন অন্য একটি উচ্চতায় যাবে, তেমনি বাংলাদেশের নামও হবে উজ্জ্বল। অত্যন্ত জমকালো ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই আয়োজন হবে। এতে অংশ নেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান শেষ ও প্রতিযোগীরা। ’আশা গ্রুপ এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ায় তিনি তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আশা গ্রুপ অব কোম্পানীজের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আকাশ রহমান বলেন, ‘যেখানেই ভালো উদ্যোগ থাকবে, সেখানেই যুক্ত হবে আশা গ্রুপ। তিনি বলেন, ‘তার উদ্দেশ্য ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক নানা দায়িত্ব পালন করা। আশা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আশা মাল্টিমিডিয়া এই আয়োজনে যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক সাদাকালো এবং এটিই ইউএসএ এই আয়োজনে অফিশিয়াল পার্টনার।’
আকাশ রহমান বলেন, ‘অসাধারণ একটি ইভেন্ট আয়োজনে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। যা এটিভি ইউএসএর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষ দেখতে পাবে।’ এই উদ্যোগে অংশিদার করায় তিনি খলিল গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এটিভি ইউএসএর স্টেশন চীফ শামীম আল আমিন ও সাপ্তাহিক সাদাকালোর নির্বাহী সম্পাদক কাশেম মোহাম্মদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এটর্নি রাজু মহাজন, কী/ম্যাক্স রিয়েলটির ফাউন্ডার মোহাম্মদ কবীর, সাপ্তাহিক পরিচয়ের সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক নবযুগের সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর, জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী সঙ্গীত পরিচালক ও শিল্পী তানভীর তারেক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এজাজ খান স্বপন,  আশা গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার বোরহানুস সুলতান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আতোয়ারুল আলম, রুহুল আমিন সরকার, এউচ এম মতিন, আহসান হাবীব, আশরাফুজ্জামান আশরাফ,অভিনেতা তরিকুল ইসলাম মিঠু, সাপ্তাহিক প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল হক প্রমুখ।

নিউইয়র্কে আনন্দধ্বনি’র প্রতিষ্ঠাতা ওয়াহিদুল হক স্মরণে ‘কিছু কথা কিছু গান’

 নিউইয়র্ক : আনন্দধ্বনির প্রতিষ্ঠাতা ও সঙ্গীত সাধক ওয়াহিদুল হকের স্মরণে প্রথম শ্রোতার আসর ‘কিছু কথা কিছু গান’ শীর্ষক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউইয়র্কে।
৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউর কুইন্স সোস্যাল এডাল্ট ডে কেয়ারে মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ওয়াহিদুল হকের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়।

A 1

আনন্দধনির সভাপতি অর্ঘ্য সারথী সিকদারের সভাপতিত্বে এবং সংগঠক মোশাররফ হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুইন্স সোশ্যাল এডাল্ট ডে কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হকলেখক সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস, ওবায়েদ উল্লাহ মামুন, মিথুন আহমেদ প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কের বরেণ্য ব্যক্তিরা।

A 2

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও আলোচনায় ওয়াহিদুল হককে স্মরণ করা হয়। আলোচনায় ওয়াহিদুল হকের জীবনী ও কর্মযজ্ঞ তুলে ধরেন বক্তারা।
বিপুল সংখ্যক দর্শক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। বিশেষ করে শিল্পীদের অনবদ্য পরিবেশনা সবাই প্রাণভরে উপভোগ করেন। সমবেত কণ্ঠে অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশনাও ছিল। অন্যদের মধ্যে একক সংগীত পরিবেশন করেন উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শাহ মাহবুব।

A 3

বক্তারা বলেন, ‘ওয়াহিদুল হক একজন কিংবদন্তী ছিলেন। তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা আমাদের আলোকবর্তিকা হতে পারে।’
অর্ঘ্য সারথী সিকদার বলেন, ‘আনন্দধ্বনি প্রথম নিউইয়র্কে পহেলা বৈশাখ শুরু করেন। আমার এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিত করতে চাই।’

A 5

ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক বলেন, ‘আমরা ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশী কমিউনিটিকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আনন্দধ্বনি আমাদের সাথে আছে।’ তাদের এ আয়োজনের সাথে থাকতে পেরে গর্ববোধ করছি।
কুইন্স সোস্যাল এডাল্ট ডে কেয়ারের স্পন্সরে এ আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কুইন্স সোস্যাল এডাল্ট ডে কেয়ার সবার জন্য খাবারের আয়োজন করে।

নিউইয়র্কে চতুর্থ বাংলাদেশ রেমিট্যান্স ফেয়ার ১৯-২০ এপ্রিল

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে দুই দিনব্যাপী ‘চতুর্থ রেমিট্যান্স ফেয়ার ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ও ২০ এপ্রিল। এ মেলা আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করছে আয়োজক কমিটি। বাংলাদেশ-ইউএসএ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিইউসিসিআই) এবং ইউএসএ-বাংলা বিজনিস লিংক যৌথভাবে এ মেলার আয়োজক। এবারের মেলা নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশীদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটে অনুষ্ঠিত হবে। সঙ্গে অর্থনীতিবিষয় বাংলাদেশের দুটি দৈনিক, বণিক বার্তা (বাংলা), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (ইংরেজি),-র সঙ্গে টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর এবং নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টিবিএন২৪ ও সাপ্তাহিক ‘ঠিকানা’ মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

এবারের মেলার প্রতিপাদ্য হলো- ‘লিগ্যাল রেমিট্যান্স, বেটার বাংলাদেশ’। বৈধ পথে আসা প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে যেমন দেশের রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকবে, তেমনি উন্নয়েনযাত্রা থাকবে অব্যাহত।
চতুর্থ রেমিট্যান্স ফেয়ার ২০২৫ উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড. আহসান এইচ মনসুর।
উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন সরকারী ও বেসরকারী খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং, অ্যাপ ডেভলোপার, মানি একচেঞ্জ ও বিভিন্ন চ্যানেল পার্টনার। মেলায় এসব প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবার প্রদর্শনীর পাশাপাশি এ নিয়ে বিভিন্ন সেমিনাল সিম্ফজিয়াম, কিউ অ্যন্ড এ সেশন এবং নেটওয়ার্কিং ডিনার অনুষ্ঠিত হবে। মেলা আয়োজক কমিটির রেমিট্যান্স ফেয়ার এবং অফশোর ব্যাংকিং নিয়ে একটি বিশেষ প্রকাশনাও রাখছে। যেখানে লিখছেন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক, ব্যাংকার।
নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশ নিবেন নিউ ইয়র্ক ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট এবং প্রধান প্রধান মানি একচেঞ্জ কোম্পানিসমূহ। যার মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন এবং রেমিট্যান্স খাতের সর্বশেষ উদ্ভাবনসমূহ এখানে প্রদর্শিত হবে।
এখানে উল্লেখ্য যে, আগের আয়োজনগুলোতে দেশের বৃহৎ ব্যাংক, মানি একচেঞ্জ কোম্পানি, রেমিট্যান্স চ্যানেল পার্টনার অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড পিএলসি, উত্তরা ব্যাংক পিএলসি ইত্যাদি।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত মেলায় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স সরবরাহকারী হিসেবে পুরস্কার পায় ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসি। এছাড়া সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পার্টনাল চ্যানেল হিসেবে পুরস্কার লাভ করে বিএ এক্সপ্রেস, সানম্যান এক্সপ্রেস এবং স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস।
২০২৫ সালে অনুষ্ঠিতব্য রেমিট্যান্স ফেয়ারে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে দৈনিক ‘বণিক বার্তা’। অর্থনীতি নিয়ে বিশেষায়িত এ পত্রিকাটি রেমিট্যান্স ফেয়ার উপলক্ষ্যে বিশেষ ক্রোড়পত্র পকাশ করবে। অর্থনীতি বিষয়ক ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডও ও সাপ্তাহিক ‘ঠিকানা’ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এছাড়া একাত্তর টিভি ও নিউ ই্য়র্ক ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টিবিএন২৪ রেমিট্যান্স ফেয়ারের উপর বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

কমিউনিটির কল্যাণের অঙ্গিকার নিউইয়র্ক সিটির মেয়র প্রার্থীদের

নিউইয়র্ক : ‘রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটির ব্যানারে ৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জ্যাকসন হাইটসের গুলশান টেরেস মিলনায়তনে নিউইয়র্ক সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের এজেন্ডা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ের পথ সুগমের সমাবেশ হয়েছে। এটি ছিল এ ধরনের দ্বিতীয় সম্মেলন। মূলধারায় জোরালো সম্পর্কের মধ্য দিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা আদায়ে এ ধরনের সমাবেশের গুরুত্ব অপরিসীম বলে সিটি মেয়র, সিটি কম্পট্রোলার, পাবলিক এডভোকেট ও কাউন্সিলম্যান প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মো. শামসুল হকের উপস্থাপনায় মার্কিন রাজনীতিতে প্রবাসীদের অন্যতম পথিকৃত গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘২০ বছর আগে আমি নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। তাই, আমি জানি মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা কতটা জরুরী। কারণ, রাজনীতি ও প্রশাসনের পরতে পরতে অভিবাসন আর মুসলিম বিদ্বেষীরা দিন-রাত আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এ জন্যই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; যাতে রাজনীতি ও প্রশাসনের সকলের বোধোদয় ঘটে যে আমরাও একটি অবস্থানে আছি। সব নির্বাচনে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে আরো যত্নসহকারে।’
গিয়াস আহমেদ উল্লেখ করেন, ২০ বছর আগে কোথাও কোন প্রবাসী ছিলেন না। এমনকি কমিউনিটি বোর্ডেও দেখিনি।
‘আর এখন অনেক সিটির মেয়র, কাউন্সিলম্যান, স্টেট সিনেটর, স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ রয়েছে আমাদের কমিউনিটির। অন্তত: ৫০ জন কমিউনিটি বোর্ডের মেম্বার ছাড়াও জজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিতরা আছেন। অর্থাৎ দিন বদলের সাথে সাথে মার্কিন রাজনীতিতে সম্পৃক্ততাও বেড়ে চলছে।’

সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-২৫ থেকে রিপাবলিকান পার্টির নমিনেশনের লড়াইয়ে অবতীর্ণ শাহ শহীদুল হক সাঈদ বলেছেন, ‘আমরা অন্য কমিউনিটি ও ভাষার মানুষের জন্যে নির্বাচনী তহবিল গঠন করি। ওদেরকে ভোট দিয়ে সিনেট-কংগ্রেস-সিটি কাউন্সিলে পাঠাচিছ। এভাবে আর চলতে পারে না। এখোন নিজেদেরকেই ঐসব আসনে জিততে হবে। এ জন্য দরকার ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং সংগঠিত হলেই জ্যাকসন হাইটসের মত বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকার নিরাপত্তা সুসংহত করা সম্ভব হবে। তার ফলে কমিউনিটি এগিয়ে চলার পথও বিস্তৃত হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিক গাজা ইস্যুতে কেউ সেভাবে কথা বলেননি। আমাদের কমিউনিটির গিয়াস আহমেদ সর্বপ্রথম স্লোগান উঠিয়েছেন ‘মুসলিম ভোটার্স ম্যাটার’। তিনি সোচ্চার রয়েছেন গাজায় যুদ্ধ-বিরতি দাবিতে। অন্য যাদের জন্যে আমরা তহবিল গঠন করেছি তারা ভোট শেষে কোন উচ্চবাচ্য করেননি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে।’
‘প্রবাস-বন্ধু’ ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যদি আলোচনার টেবিলে বসতে না পারি তাহলে কেউই আমাদের সমস্যা নিয়ে সরব হবেন না। আমি ২০১৬ সাল থেকে ডিস্ট্রিক্ট লিডারশিপে আছি, আমি সব সময় চেষ্টা করি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুসমূহ রাজনীতি ও প্রশাসনের সামনে উপস্থাপনের জন্য। যারা সুপ্রিম কোর্টে জজ হিসেবে প্রার্থী হোন তাদের মনোনয়ন আমাকে দিতে হয়। এভাবেই আমরা কম্যুনিটির গুরুত্ব মার্কিন ধারায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশনের পরিচালক মঈন চৌধুরী আরো বলেন, ‘আমরা শুধু সিটি কাউন্সিলের মেম্বার অথবা স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান কিংবা সিনেটর-মেয়র হলেই বুঝি যে লিডার হয়েছি। অথচ বহুাজাতিক এ সমাজে সব ক্ষেত্রেই লিডার হবার সুযোগ রয়েছে এবং সে সবের গুরুত্বও আছে। আমি সব সময় ভালো কাজের সাথে আছি। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবো।’
কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার শাহনেওয়াজ বলেন এই সিটির স্বল্প ও মাঝারি আয়ের কর্মচারিদের নিদারুন কষ্টের কথা। ‘বাসা ভাড়াসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতি রেখে বেতন-ভাতা বাড়ানো হচ্ছে না। একই অবস্থা অন্য পেশার লোকজনেরও। সিটি প্রশাসনকে এ ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাকে আরো গুরুত্ব দেয়াও জরুরি।’
বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং কেন্দ্রে যেতে হবে। তাহলেই কমিউনিটির গুরুত্ব বাড়বে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হবে না।’

সিটি মেয়র পদে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে অবতীর্ণ একমাত্র মুসলিম প্রার্থী যোহরান মামদানি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে এই সিটিতে বাস করছি। আমি জানি, অভিবাসীদের স্বপ্নের পরিধি কত বিস্তৃত। এই সিটির ৫ বরোর অভিবাসীদের একই স্বপ্ন। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, সেই স্বপ্নগুলোর কথা স্মরণ করতেও কষ্ট হচ্ছে। কীভাবে এই সিটিতে নিরাপদে বসবাসের উপযোগী একটি পরিবেশ তৈরী করা যাবে-সেটিও অসম্ভব হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ থেকে ডেমক্র্যাটিক পার্টির এ্যাসেম্বলীম্যান যোহরান ইতিমধ্যেই খেটে খাওয়া অভিবাসীদের সব আন্দোলনে সরব রয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন শুরু থেকেই। ট্যাক্সি ড্রাইভারদের দাবি আদায়ের আন্দোলনের সময় অনশন করেছেন। গ্রেফতারও হয়েছিলেন অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষার আন্দোলনের সময়। এভাবেই নিজেকে বাংলাদেশীদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিগণিত করতেও সক্ষম হয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই সিটির অধিবাসিরা প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় থাকেন কীভাবে বাসা ভাড়া কিংবা মর্টগেজ পরিশোধ করবেন, কোত্থেকে সংগৃহিত হবে কনএডিসন অথবা পানির বিল। এমনকি সাবওয়ে/বাসের টিকিটের অর্থ নিয়েও অনেকে দুশ্চিন্তায় থাকেন। কারণ, যা আয় হচ্ছে তার পুরোটাই ব্যয় হয় খাদ্য-সামগ্রি ক্রয়ে। কেন হয়েছে এমন অসহনীয় পরিস্থিতি? কে দায়ী এ জন্য? এসবের জবাব খুঁজতে হবে এব্ং সে অনুযায়ী সামনের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’
যোহরান বলেন, ‘এই সিটিতে কারোরই নিরাপত্তা নেই। সকলেই সন্ত্রস্ত। নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে সকলের সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে।’
মেয়র প্রার্থী ব্র্যাড লেন্ডার নিজেকে বাংলাদেশী লিডার হিসেবে দাবি করে বলেন, ‘ব্রুকলীনের চাচ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকা থেকে ২০১০ সালে সর্বপ্রথম আমি সিটির কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হয়েছি সেখানকার বাংলাদেশীদের অকুন্ঠ সমর্থনে। এরপর আমি ২০২১ সাল পর্যন্ত একই আসনে বিজয়ী হয়েছি। এরপর আমার আসনটি ছেড়ে দিয়েছি বাংলাদেশী আমেরিকন শাহানা হানিফের সমর্থনে। শাহানা হয়েছেন এই সিটির প্রথম বাংলাশেী এবং প্রথম নারী কাউন্সিলম্যান। ২০২১ সালের নির্বাচনে আমি বিজয়ী হয়েছি সিটি কম্পট্রোলার পদে। চার বছরের দায়িত্ব শেষে লড়ছে মেয়র পদে। ডেমক্র্যাটিক পার্র্টির মেয়র হিসেবে বিজয়ী হতে পারলে এই সিটির অভিবাসী সমাজের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কাউকে টানাটানি করতে দেব না। ব্র্যাড লেন্ডার বলেন, আমি হচ্ছি নিউইয়র্ক সিটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে জুইশ কম্যুনিটির একজন। সে আলোকে সকল কম্যুনিটির স্বার্থকে আমি বরাবরই প্রাধান্য দিয়ে আসছি। শুধু তাই নয় নিউইয়র্ক স্টেটে আমিই প্রথম জুইশ লিডার, যিনি গাজায় যুদ্ধ বিরতির আন্দোলনে সরব ছিলাম।’
প্রধান শামসুল হক স্বাগত বক্তব্যে তথ্য-উপাত্তের আলোকে উল্লেখ করেন যে, আমেরিকায় বাঙালিদের আগমণ শুরু হয়েছে ১৮৮৭ সালে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর আগমণের হার ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে এখোন বিশেষ একটি পরিচিতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশীরা।তবে সংখ্যার অনুপাতে মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনে যেভাবে ঠাঁই পাওয়া উচিত ছিল তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। সেই সংকট কাটিয়ে উঠার অভিপ্রায়ে ‘রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটি’ কাজ করছে। আজকের এ আয়োজনে অনেক ভাল লাগছে। নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রার্থীর সমাগম ঘটায় আশা করছি কম্যুনিটি আরো উজ্জীবিত হবে।
এতে প্রার্থীগণের মধ্যে আরো ছিলেন হায়রাম মনসেরাত, জেনিফার রাজকুমার, ইসমাইল মালাভি, মাইকেল ব্ল্যাক, জাস্টিন ব্র্যানন, মার্ক লেভিন, জুমানি উইলিয়ামস, স্টেট সিনেটর জন ল্যু প্রমুখ।
কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, প্রচার সম্পাদক অনিক রাজ, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার মিতা, হোমকেয়ার ব্যবসায়ী আকাশ রহমান, খোরশেদ খন্দকার, অজিৎ ভৌমিক, এনওয়াইপিডির কর্মকর্তা জামিল সরোয়ার জনি, ডিটেকটিভ মাসুদ প্রমুখ।

রেকর্ড রান তাড়া করে ফাইনালে পাকিস্তান

ফাইনালের টিকিট আগেই কেটেছিল নিউজিল্যান্ড। অপেক্ষা ছিল তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা জানার। সেই উত্তর মিলেছে গতরাতে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপার শেষ লড়াইয়ে পাকিস্তান।

অলিখিত সেমিফাইনালে পরিণত হওয়া ম্যাচে বুধবার পাকিস্তানের জয় ৬ উইকেটে। করাচিতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ৩৫২ রান তুলে প্রোটিয়ারা। স্বাগতিকরা যা পেরিয়ে যায় অনেক রেকর্ডের জন্ম দিয়ে ৬ বল বাকি থাকতে।

যা ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয়। এর আগে ২০২২ সালে লাহোরে তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল সর্বোচ্চ ৩৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে। যদিও পরে ব্যাট করে ৩৬১ রান করার নজির আছে তাদের। তবে জয় আসেনি সেই ম্যাচে।

রেকর্ড ভাঙা-গড়ার এই ম্যাচে রেকর্ড হয়েছে বেশ কয়েকটি। পাকিস্তানকে জেতাতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আগা সালমান মিলে যোগ করেন ২৬০ রান। যা চতুর্থ উইকেট জুটিতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান।

দু’জনেই সেঞ্চুরির দেখা পান। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে ১০৩ বলে ১৩৪ রান করেন আগা সালমান। অপরাজিত থাকা রিজওয়ানের ব্যাটে আসে ১২৮ বলে ১২২ রান।

পাকিস্তানকে জয়ের পথটা দেখিয়ে গিয়েছিলেন দুই ওপেনার ফখর জামান ও বাবর আজম। প্রথম ৩৭ বলেই তারা তুলেছিলেন ৫৭ রান। জুটি ভেঙে বাবর ফেরেন ১৯ বলে ২৩ করে। তবে তিনে নামা সৌদ শাকিল সুবিধা করতে পারেননি (১৫)।

পরের ওভারে ফখর ফেরেন ২৮ বলে ৪১ রান করে। ১০.৪ ওভারে ৯১ রানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবে পরের উইকেট পেতে প্রোটিয়াদের অপেক্ষা করতে হয় ৪৮.৫ ওভার পর্যন্ত। সালমান ফেরেন জয় থেকে ২ রান দূরে থাকতে।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররাও রানের দেখা পান। যদিও কোনো সেঞ্চুরি আসেনি, তবে বড় ইনিংস খেলেন তিনজন। টেম্বা বাভুমা ৯৬ বলে ৮২, ৮৪ বলে ম্যাথু ব্রিটজকে ৮৩ ও ৫৬ বলে হেইনরিখ ক্লাসেন ৮৭ রান করেন।

শেষ দিকে ঝড় তোলেন কাইল ভেরাইনেও। ৩২ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। পাকিস্তানের হয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন ২ উইকেট, নাসিম শাহ ও খুশদিল শাহর শিকার ১টি করে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার এই ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুই ম্যাচ জিতে আগেই ফাইনালে পৌঁছে যায় কিউইরা। শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা।

সাবিনাদের কি গতি হবে

সাবিনা খাতুনের সাথে দুই দফা আলোচনা বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়ালের। সর্বশেষ গত পরশুও বাংলাদেশ মহিলা দলের অধিনায়ক সাবিনাকে ডেকে তার সাথে কথা বলেন তাবিথ। এরপরও মন গলেনি বাংলাদেশ ক্যাপ্টেনের। অনঢ় অবস্থানে তার নেতৃত্বে ১৮ ফুটবলার।

বাফুফে অবশ্য আপাতত এই বিদ্রোহী ফুটবলারদের চুক্তির বাইরে রেখেছে। চুক্তিতে নতুন ফুটবলাররা। সাবিনাদের দাবিকে আমলে না নেয়া, কোচ হিসেবে পিটার বাটলারকে বহাল রেখেই অন্যদের নিয়ে অনুশীলন চালানো এবং বিদ্রোহীদের চুক্তির বাইরে রাখা সবই কিন্তু সাবিনাদের বিষয়ে বাফুফের কঠোর মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

এরপরও নড়চড় নেই সাবিনাদের অবস্থানের। তারা পিটাল বাটলার থাকলে অনুশীলনই করবে না। ১৮ ফুটবলার নিজ উদ্যোগে জিম সেশন করছে। তবে এভাবে চলতে থাকলে ফিটনেসে একেবারেই পিছিয়ে পড়বেন সাবিনারা। তখন ফের অবস্থানের বদল হলেও ফিটনেস ঘাটতির জন্য দলে জায়গা পাওয়া কঠিনই হয়ে যাবে তাদের। এতে জাতীয় দল সাময়িক ভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

এই গ্যাপ হয়তো বাংলাদেশ কিছু দিন পরেই পুষিয়ে নেবে, কিন্তু এই বিদ্রোহীরা বাতিলের খাতায় চলে গেলে তাদের ফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে লাল-সবুজ জার্সিতে। এতে ক্রমশই হারিয়ে যাবেন এই তারকা ফুটবলাররা।

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে প্রতিভার অভাব নেই। একজন চলে গেলে অন্যজন সেই জায়গা পূরন করে নিচ্ছেন দ্রুতই। ২০২২ মহিলা সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দল থেকে পরে সরে যান ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন ও সিরাত জাহান স্বপ্না। এই দুই গুরুত্বপূর্ন ফুটবলারকে ছাড়াই গত বছর সাফ শিরোপা ধরে রাখে বাংলাদেশ।

২০২২ এর চ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম এবং ফাইনালে জোড়া গোল করা কৃষ্ণা রানী সরকার গত সাফের দলে থাকলেও নিয়মিত খেলতে পারেননি। তার অভাবও বুঝতে দেননি অন্যরা। এর আগে ডিফেন্ডার নার্গিস, মিডফিল্ডার মৌসুমী, স্ট্রাইকার আনু চিংরা বাদ গেলেও দলের কোনো সমস্যা হয়নি। এতেই বুঝা যাচ্ছে এক জনের গ্যাপ পূরনে অন্যজন বেশ ভালো ভাবেই সক্ষম।

এমনিতেই সিনিয়রদের জায়গা টালমাটাল হয়ে গেছে উঠতিদের পারফরম্যান্সের কারনে। বাফুফের সুদৃঢ় পাইপ লাইনের কারণেই একের পর এক প্রতিভা উঠে আসছে এবং প্রমানও দিচ্ছে মাঠে। এখন এই বিদ্রোহ আরো বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে সাবিনাদের।

মোটামুটি নিশ্চিত কোচ বাটলারকে কোনোভাবেই বাদ দেবে না বাফুফে। আবার সাবিনাদের কোচ বয়কটের আন্দোলনের পরও বাফুফে এখনো তাদের নিয়েই আগামী জাতীয় দল গঠনেরই পক্ষে। যে কারণে এতো বড় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কাজ করলেও এখনো তাদের বহিস্কার করা হয়নি। ক্যাম্পে রেখে খাওয়ানো হচ্ছে।

সভাপতি তাবিথ আওয়াল চাচ্ছেন, কোচ বাটলার আর সাবিনাদের মধ্যে সুসম্পর্ক রেখেই জাতীয় দলের সাফল্যকে এগিয়ে নিতে। তাই ফের সাবিনাকে আলোচনার টেবিলে ডাকা বাফুফে সভাপতির। তবে এরপরও যদি ১৮ ফুটবলার তাদের আন্দোলন চালিয়ে যান তাহলে বাফুফেকে কঠোর হতেই হবে। তখন এই বিদ্রোহের অপরাধে বাদ পড়ার মতো শাস্তি পেতে হবে ১৮ ফুটবলারকে।

বাদ পড়লে যে এরা নিজ পারফরম্যান্সের গুনে ফিরে আসবে জাতীয় দলে সেটাও বেশ কঠিন। ফেরার মাধ্যম লিগ বা ফ্রাঞ্চাইজি লিগ। এই লিগ গুলো কবে হবে সেটারও ঠিক নেই। তাই নিজেদের অপরাধের জন্য ১৮ ফুটবলার যদি বাদ পড়েন জাতীয় দল থেকে তাহলে তারা অস্তিত্বের সংকটেই ভুগবে। তখন হয়তো বিভিন্ন জেলার অনুপযুক্ত মাঠে খ্যাপেই হবে ভরসা। কেউ কেই খেলায় ছেড়ে দেবেন। বিষয়টিকে নিয়ে কেউ কেউ ইস্যু বানানোর চেস্টা করছেন। তবে এই ফুটবলাররা বাদ পড়লে তখন আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এদিকে গতকালও বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার সাবিনাদের ডেকে বুঝিয়েছেন। বলেছেন, তোমাদের চুক্তিপত্র প্রস্তুত। অনুশীলনে যোগ দিয়ে চুক্তিপত্রে সই করো। তবে প্র্যাকটিসে না গেলে চুক্তিতে সই করা যাবে। সেখানেও অনঢ় অবস্থান ১৮ ফুটবলারের।

সূত্র মতে, নারী উইং থেকে যা যা করনীয় তা করা হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত বাফুফের হায়ার অথরিটির।

ভারতের আগে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ

অবশেষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে প্রস্তুতির একটা উপলক্ষ পেল বাংলাদেশ। আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার ও আসর শুরুর আগে পাকিস্তান শাহিনসের বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন আগেই উঠেছিল। ওয়ানডে তো বটেই, দু’মাসের বেশি সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নেই টাইগাররা। মুশফিক-তাসকিনরা ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন বিপিএলে।

তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আড়মোড়া ভাঙার সুযোগ পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। সরাসরিই খেলতে হতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে, ভারতের বিপক্ষে। তবে এমতাবস্থায় টাইগারদের গুছিয়ে ওঠার একটা সুযোগ দিলো আইসিসি।

একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আনুষ্ঠানিক আসর শুরুর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের আইসিসি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি মাঠে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান শাহিনস। যে দলটির নেতৃত্ব দেবেন মোহাম্মদ হারিস।

আছেন পাকিস্তান দলের আরো বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাদের মাঝে আছেন আমের জামাল, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, উসামা মির, সাহিবজাদা ফারহানরা।

আজ বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অফিশিয়াল ওয়ার্মআপ ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছে আইসিসি। যেখানে সবমিলিয়ে চারটি ওয়ার্মআপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়বে শাহিনস নামে পাকিস্তানের আলাদা তিনটি দল।

শাদাব খানের নেতৃত্বে একটি দল লড়বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। আর মোহাম্মদ হুরাইরার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান শাহিনস খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

গাজায় ‘জাহান্নামের সব দরজা’ খুলে দেয়ার হুমকি ইসরাইলের

দু’দিনের মধ্যে পণবন্দীদের মুক্তি দেয়া না হলে গাজাবাসীর জন্য ‘জাহান্নামের সব দরজা’ খুলে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এমন হুমকি দিয়েছেন।

তার এই হুমকিকে পরোয়া করছে না বলে পাল্টা জবাব দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসও। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও চুক্তিটি টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও মিসর।

গত ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় আগামী শনিবারে (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিন ইসরাইলি পণবন্দীকে মুক্ত করে দেয়ার কথা রয়েছে।

তবে স্থানীয় সময় সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত আর কোনো ইসরাইলি পণবন্দীকে মুক্তি দেয়া হবে না বলে জানান হামাসের সামরিক শাখা কাশেম ব্রিগেডের এক মুখপাত্র।

হামাসের এই সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির পুরোপুরি লঙ্ঘন’ বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।

হামাসকে হুমকি দিয়ে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “হামাস যদি জিম্মি মুক্তির সময়সীমা মেনে না চলে তাহলে ‘তীব্র লড়াই’ শুরু করবে ইসরাইল।”

নেতানিয়াহু আরো বলেন, তিনি গাজার ভেতরে ও আশপাশে ইসরাইলি বাহিনীকে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরই গাজা সীমান্তবর্তী ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো ও রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয় ইসরাইলের সামরিক বাহিনী।

এ ছাড়াও হামাসের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শনিবারের মধ্যে বন্দীবিনিময় সম্পন্ন না করা হলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল হওয়া উচিত।’

তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর হুমকিকে উড়িয়ে দিয়েছে হামাস। মঙ্গলবার হামাসের এক নেতা সব ধরনের হুমকি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘কেবল যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চললেই গাজা থেকে পণবন্দীদের ফেরত নিতে পারবে ইসরাইল।’

এ পরিস্থিতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো চুক্তি বজায় রাখতে তৎপরতা শুরু করেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য হামাসের একটি প্রতিনিধি দল মিসরে অবস্থান করছে।

এই আলোচনায় সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিসরীয় কর্মকর্তা বলেন, ইসরাইল ও গাজা একটি সমঝোতায় আসতে চলেছে। গাজায় আরো বেশি তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র ও ভারী সরঞ্জাম পাঠানোতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল।

হামাসের কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাওই বলেন, শনিবার তিন ইসরাইলি বন্দীর মুক্তির ক্ষেত্রে ‘ইতিবাচক ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে ইসরাইলের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা তারা পাননি।

অপরদিকে, চুক্তি বজায় রাখার এই চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলের কর্মকর্তারা।

সূত্র : এপি/ইউএনবি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সম্মত ট্রাম্প ও পুতিন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘দীর্ঘ ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ ফোনালাপ হয়েছে। ফোনালাপে তারা ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন।

ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় জানান, তিনি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তাদের নিজ নিজ দলগুলোর অবিলম্বে আলোচনা শুরু করার বিষয়ে সম্মত হন এবং একে অপরকে তাদের নিজ নিজ রাজধানী পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু প্রথমেই আমরা দুজনে একমত হয়েছি যে আমরা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি বন্ধ করতে চাই। এমনকি প্রেসিডেন্ট পুতিন আমার প্রচারণার নীতিবাক্য ‘কমন সেন্স’ ব্যবহার করেছেন। আমরা দুজনেই এটি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের দেশ পরিদর্শনসহ খুব ঘনিষ্ঠভাবে একসাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছি। আমরা আমাদের নিজ নিজ দলগুলোর অবিলম্বে আলোচনা শুরু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছি এবং আমরা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ফোন করে আলোচনার বিষয়ে অবহিত করব।’

ট্রাম্প আরো জানান, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সিআইএ’র পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ওয়াল্টজ এবং তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে আলোচনার নেতৃত্ব দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে এ আলোচনা সফল হবে বলে তিনি মনে করেন।

সূত্র : বিবিসি ও আনাদোলু অ্যাজেন্সি

পাকিস্তান সফরে এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান দু’দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে তিনি এই সফরে এসেছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেসে অবতরণের পর পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

এরদোগানের আগমনের পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ফার্স্ট লেডি আসিফ ভুট্টো, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ, তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি ব্যক্তিত্বরা তাকে স্বাগত জানান।

এ সফরে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। সফরের মূল অংশ হিসেবে পাকিস্তান-তুরস্ক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত সহযোগিতা পরিষদের (এইচএলএসসিসি) সপ্তম বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ।

এই বৈঠকের পর একটি যৌথ ঘোষণা দেয়া হবে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। দুই নেতা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও বক্তব্য রাখবেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।