Home Blog Page 47

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির এক টেলিগ্রাম বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ‘যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক ও কঠোর হবে।’

এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই জাহাজে হামলার জন্য তেহরান দায়ী।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা কমার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে হামলা এবং এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই আশাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়। ফলে এ অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে হামলার ঘটনাকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন।

ওই সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং তেহরানের পাল্টা হামলা স্থগিত করার ভিত্তি তৈরি হয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকটি কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি ছিল না; বরং পরবর্তী আলোচনার পথ সুগম করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

বাজেটের বড় দুর্বলতা উচ্চ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা: ড. মোস্তাফিজুর

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে অনেক ভালো দিক রয়েছে। তবে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চলতি অর্থবছরের প্রকৃত অর্জনের তুলনায় তা ৪০ শতাংশের মতো বেশি। এই বাজেটের একটি বড় দুর্বলতা উচ্চ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা। বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে বাজেট নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় মূল প্রবন্ধে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম নওশের আলী লেকচার গ্যালারিতে ‘জাতীয় বাজেট বিষয়ক আলোচনা সভা’ শীর্ষক আলোচনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. একে এনামুল হক। আলোচনার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থী বাজেট ভাবনার ওপর সংক্ষিপ্ত তিনটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা; আগের অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যা ১৮ শতাংশ বেশি। ৯ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতি এবং ৫ শতাংশের মতো জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় এ হারে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়তো বাস্তবসম্মত। তবে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে যে আয় হয়েছে সেটা হিসেব করলে প্রকৃত অর্জনের তুলনায় ৪০ শতাংশের মতো বেশি আয় করতে হবে। এটা এই বাজেটের একটি বড় দূর্বলতা।

তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারকে বেশি ঋণ নিতে হবে। আর এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎসে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে বেসরকারি খাত বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে অভ্যন্তরীণ উৎসে ঋণের বিকল্প গড়ে তুলতে হবে।

বিশ্বের অনেক দেশে ব্যাংক থেকে মেয়াদি ঋণ নেওয়া হয় না উল্লেখ করে তিনি বন্ড ও পুঁজিবাজার থেকে ঋণে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিদেশি ঋণ পরিশোধে সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সুদসহ বিদেশি দায় পরিশোধে সরকারের যে ব্যয় হয়েছে তাতে পুরো অর্থবছরে সাড়ে ৪ বিলিয়ন মতো খরচ হবে। ফলে বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতার ওপর জোর দিতে হবে।

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানিয়ে সামান্থা বললেন, ফের দর্শকদের কাছে ফিরব

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সুখবর দিলেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। মা হতে চলেছেন তিনি। বেশ কয়েক মাস ধরে তাঁর গর্ভধারণ নিয়ে নানা গুঞ্জন চললেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী। এবার নিজেই সেই খবর নিশ্চিত করলেন।

সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ ছবির সাফল্য উদযাপন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সামান্থা জানান, জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন তিনি। অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, হাতে থাকা কাজগুলো শেষ করার পর কিছুদিনের জন্য অভিনয় থেকে বিরতি নেবেন। কারণ, তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাচ্ছেন।

সামান্থার কথায়, ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম ছবির পর আমাকে কিছুদিনের জন্য বিরতি নিতে হবে। আমার বর্তমান অবস্থার কারণেই এই সিদ্ধান্ত। আমি মাতৃত্বকালীন ছুটি নিচ্ছি। এটি বিদায় নয়। বিরতির পর নতুন কাজ নিয়ে আবারও দর্শকদের কাছে ফিরব।’

রাজ নিদিমোরু ও সামান্থা রুথ প্রভু

রাজ নিদিমোরু ও সামান্থা রুথ প্রভু

অভিনেত্রীর এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। ভক্ত, সহশিল্পী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন। অনেকেই মনে করছেন, ব্যক্তিগত জীবনের এই নতুন অধ্যায় সামান্থার জীবনে আরও আনন্দ ও পরিপূর্ণতা নিয়ে আসবে। গত কয়েক মাস ধরেই সামান্থাকে ঘিরে গর্ভধারণের গুঞ্জন ছিল তুঙ্গে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতির কিছু ছবি এবং ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

সেসব দেখে অনেকেই দাবি করেছিলেন, অভিনেত্রীর বেবি বাম্প দৃশ্যমান। যদিও তখন বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। পরে পরিচালক বিভি নন্দিনী রেড্ডিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সামান্থা খুব শিগগিরই জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। সেই মন্তব্যের পর থেকেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। অবশেষে নিজের মুখেই সেই সুখবর জানালেন সামান্থা। ফলে এতদিনের গুঞ্জন সত্যি প্রমাণিত হলো। এটি হবে সামান্থা ও তাঁর স্বামী রাজ নিদিমোরুর প্রথম সন্তান।

ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি ক্যারিয়ারেও বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন সামান্থা। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ ছবিটি দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর তাঁর এই সুখবর যেন অনুরাগীদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজ নিদিমোরু ও সামান্থা রুথ প্রভু

রাজ নিদিমোরু ও সামান্থা রুথ প্রভু

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন সামান্থা রুথ প্রভু ও নির্মাতা রাজ নিদিমোরু। নতুন সংসার শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের পরিবারে নতুন সদস্য আগমনের খবর সামনে এলো। এর আগে অভিনেতা নাগা চৈতন্যের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সামান্থা।

২০১৭ সালে বিয়ে করলেও ২০২১ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। রাজ নিদিমোরুরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। অতীতের অধ্যায় পেছনে ফেলে দুজনেই নতুন জীবন শুরু করেন এবং এবার সেই জীবনে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। ক্যারিয়ারের নানা উত্থান-পতন, ব্যক্তিগত জীবনের চ্যালেঞ্জ এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়েও বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সামান্থা। তাই তাঁর জীবনের এই সুখবর ভক্তদের কাছেও বিশেষ আনন্দের।

বছরজুড়ে মাঠে থাকে কাদাপানি নিজেদের মাঠে খেলতে পারে না জাতীয় পর্যায়ে রানার্সআপ দল

বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাব। দুই শিফটে তিন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুটি কক্ষে বসিয়ে পাঠদান করতে হয়। ছোট মাঠে বছরজুড়ে থাকে কাদাপানি। প্রতিদিন অন্য মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতে হয় খুদে ফুটবলারদের। এভাবেই জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। বলছিলাম নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা।

জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে নান্দাইল পৌর শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ডে ৪০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে ওঠে আচারগাঁও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাঠের পূর্বপাশে পশ্চিমমুখী করে শুরুতে নির্মিত ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলে ২০১৪ সালে উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে তিন কক্ষের আরেকটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। তিন কক্ষের দুটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে এবং অন্যটি অফিসকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২০৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ছয় শিক্ষক রয়েছেন। দুই শিফটে দুটি কক্ষে তিন শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। তাই একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসাতে হয়। এতে অনেকাংশে স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

গত সোমবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, চারপাশ বাসাবাড়িতে ঘেরা বিদ্যালয়ের মাঠটি কিছুটা নিচু। আশপাশের বৃষ্টির পানি মাঠে জমা হয়ে সংকীর্ণ নালা দিয়ে নেমে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা কখনোই বিদ্যালয়ের মাঠটি ব্যবহার করতে পারে না। তাই বিকেল হলেই বিদ্যালয়ের বালিকা ফুটবল দলের সদস্য পরশমনি, পৌষি, রওনক, সুমাইয়া, জান্নাতুল, পূর্ণিমা, মাবিয়া, ঝুমাসহ অন্যরা কোচ দেলোয়ার হোসেন উজ্জলকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ভালো মাঠের খোঁজে। কোনোদিন পৌর শহরের নান্দাইল পাইলট বালিকা বিদ্যালয়, কোনোদিন চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে অনুশীলন করে। এভাবেই ফুটবল দলটি ইউনিয়ন, উপজেলা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলা হয়। খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওইদিন বিকেল ৪টায় বালক ও বালিকা মিলে চারটি দলের খেলা হয়। নান্দাইলের আচারগাঁও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বালিকা ফুটবল দলের সঙ্গে খেলায় অংশ নেয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোড়গাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বালিকা দল। খেলায় আচারগাঁও বিদ্যালয় ৪-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। রানার্সআপ দলের ‘স্টপার ব্যাক’ পরশমনি টুর্নামেন্টে ম্যান অব দা ম্যাচ এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার গৌরব অর্জন করে গোল্ডেন বুট ও ৩০ হাজার টাকা পুরস্কার পেয়েছে। এ ছাড়া দল পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ট্রফি মেডেল এবং দুই লাখ টাকা। শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

পরশমনি আক্তার জানায়, খেলায় চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে আরও ভালো লাগত। তবে দুঃখের কথা হচ্ছে তাদের বিদ্যালয়ের ছোট মাঠটি সব সময় কাদাপানিতে একাকার হয়ে থাকায় সেখানে খেলাধুলা বা অনুশীলন করা যায় না। তাই মাঠটি সংস্কার করা জরুরি।
দলের আরেক সদস্য পূর্ণিমা বলে, বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে তিনটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস করা খুবই কষ্টকর হচ্ছে। তাই বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ জরুরি।
প্রধান শিক্ষক সজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার ভাষ্য, দলের সাফল্যে তারা খুশি। আগামীতে আরও ভালো করার জন্য এখন থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কর্দমাক্ত মাঠে মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর এবং নতুন একটি ভবনের জন্য নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর অনেক আবেদন করেছেন, কিন্তু কাজ হচ্ছে না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুননেছা বেগম জানান, ওই বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং মাঠে মাটি ভরাটের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
গত বুধবার যোগাযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, আগামীতে মাঠে মাটি ভরাটের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ভবন নির্মাণের বিষয় নিয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

বাদাম চাষে বদলে গেছে হাজারো জীবন

পাবনার বেড়া উপজেলার দক্ষিণ চরপেঁচাকোলা গ্রামের আশকার প্রামাণিক ছয়বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। হারিয়েছেন বসতভিটা, জমিজমা। এক সময় নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। এখন যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরে ১০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এক সময় যে যমুনা কেড়ে নিয়েছিল সবকিছু; আজ সেই যমুনাই ফিরিয়ে দিচ্ছে স্বপ্ন।
আশকার প্রামাণিক বলেন, ‘নদীভাঙনে সব হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখন বাদাম চাষই আমার পরিবারের প্রধান ভরসা। ফলন ভালো হলে সংসারও ভালো চলে।’

যে যমুনা একদিন কেড়ে নিয়েছিল আশকার প্রামাণিকদের সবকিছু, সেই যমুনার বুকেই আজ জন্ম নিচ্ছে নতুন স্বপ্ন। ভাঙনের কান্না পেরিয়ে চরজুড়ে এখন বাদামের সুবাস, আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। বেড়ার যমুনা চরাঞ্চলের অসংখ্য ভাঙনদুর্গত পরিবার এখন বাদাম চাষে নতুন আশার আলো দেখছেন। যমুনার চরে উৎপাদিত বাদাম এবার প্রায় ৫৫ কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলের ১১ হাজার ৭০০ বিঘা জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯৩ হাজার ৬০০ মণ। বর্তমান বাজারে যার দাম প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে প্রতি মণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায়; যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছর একই সময়ে প্রতি মণ বাদামের দাম ছিল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা।

নাকালিয়া বাজারের আড়তদার আব্দুল বাতেন প্রামাণিক বলেন, ‘আমার জীবনে এত দামে বাদাম বিক্রি হতে দেখিনি। ফলনও ভালো, দামও ভালো। কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।’ চরনাকালিয়ার কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন, ‘এত দামে বাদাম বিক্রি হবে ভাবিনি। এবার বাদাম আমাদের ঘরে আনন্দ নিয়ে এসেছে।’
এক সময় যেসব বালুময় জমি অনাবাদি মনে করা হতো, এখন সেগুলোই বাদাম চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। কম খরচ, কম পরিচর্যা এবং ভালো দামের কারণে বাদাম এখন চরাঞ্চলের অন্যতম লাভজনক ফসল।

বাদামকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় অর্থনৈতিক চক্র। জমি থেকে বাদাম উত্তোলন, শুকানো, বস্তাবন্দি করা, পরিবহন, আড়তদারি, খোসা ছাড়ানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণ–সব মিলিয়ে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
নাকালিয়া বাজারের খোসা ছাড়ানো কারখানায় কাজ করেন বিলকিস বেগম ও চম্পা খাতুন। নদীভাঙনে নিঃস্ব এই দুই নারী বলেন, ‘চরের বাদাম আমাদের জীবিকা দিয়েছে। এই কাজ না থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যেত।’
নাকালিয়া বাজার বণিক সমিতির সহসভাপতি আব্দুল হক বলেন, ‘যমুনার চর এখন শুধু ফসলের ক্ষেত নয়, এটি হাজারো মানুষের জীবিকার ভিত্তি। বাদামকে ঘিরে এখানে বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে উঠেছে।’
বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত কবীর বলেন, ‘বেড়ার চরাঞ্চলের মাটি বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার বাদামের মানও ভালো। বাদাম এখন উপজেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।’

নকআউটে ব্রাজিলকে পেল জাপান

ডালাসে ‘এফ’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান। এই ড্রয়ে ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্লু সামুরাইরা। শেষ বত্রিশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আগামী ২৯ জুন হিউস্টনে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে জাপান।

ডালাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় তারা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলায় দ্রুত। ৫৬ মিনিটে দাইজেন মায়েদার গোলে লিড নেয় জাপান। অবশ্য জাপানের সেই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি সুইডিশরা। গোল হজমের ঠিক ৬ মিনিট পর ৬২ মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গার চোখধাঁধানো গোলে সমতায় ফেরে সুইডেন। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুদল।

এই ড্রয়ে সুইডেনেরও শেষ বত্রিশ নিশ্চিত হয়ে গেছে। ৩ ম্যাচে জাপানের ড্র ২টি। জয় ১টি। পয়েন্ট ৫। অন্যদিকে তৃতীয় দল হিসেবে সুইডেন গেল বত্রিশে। ৩ ম্যাচে ১টি করে জয়, হার ও ড্র আছে তাদের।

তিউনিসিয়াকে হারিয়ে গ্রুপসেরা নেদারল্যান্ডস, নকআউটে প্রতিপক্ষ মরক্কো

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে শুক্রবার তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। একই সময়ে অন্য ম্যাচে জাপান ও সুইডেন ১-১ গোলে ড্র করায় ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করল ডাচরা। শেষ বত্রিশের হাইভোল্টেজ ম্যাচে রোনাল্ড কোম্যানের দল মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ মরক্কোর।

ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিসিয়াকে চেপে ধরে ডাচরা। খেলার ৩য় মিনিটেই তিউনিসিয়ার এলিয়েস স্কিরির আত্মঘাতী গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এটি ১৯৭৪ সালের ফাইনালের পর বিশ্বকাপে ডাচদের ইতিহাসে দ্রুততম গোল। এর ঠিক চার মিনিট পর ৭ম মিনিটে অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের পাস থেকে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবি। এটি চলতি টুর্নামেন্টে তার তৃতীয় গোল। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নেদারল্যান্ডস।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তিউনিসিয়া। ৫৪তম মিনিটে হ্যানিবাল মেজব্রির কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন হাজেম মাস্তুরি। তবে তিউনিসিয়ার সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি তিনবারের রানার্সআপরা। ৬২তম মিনিটে তিজানি রেইন্ডার্সের কর্নার কিক থেকে হেডে গোল করে নেদারল্যান্ডসের ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন ডিফেন্ডার জান-পল ফন হেকে।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প ‘এখন আমাদের কিছুই নেই’

‘এখন আমাদের কাছে কিছুই নেই। এমনকি ওখানে ফিরে যাওয়ার মতো শক্তি ও সাহসও নেই। একবার কল্পনা করুন।’ ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় শহর কাটিয়া লা মারেতে এক ভবনের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ৪৯ বছর বছর বয়সী ল্যারি রোজাস। ওই ধ্বংসস্তূপে তাঁর পরিবারের সদস্যরা চাপা পড়েছেন।

জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা থেকে ধীরে ধীরে খবর বাইরে আসতে শুরু করেছে। দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরা লোকজন এখনও রয়েছেন আতঙ্কের মধ্যে। অনেকে আবার নিজে প্রাণে বাঁচলেও পড়েছেন তীব্র অসহায় পরিস্থিতির মুখে। এ রকমই এক নারীকে ভূমিকম্পের পর দেখা যায় এক ১২ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে।

তাঁর কাছে জানা যায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে তাঁর মেয়ে রয়েছে। তিনি সন্তানকে উদ্ধারের ও খবর পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে অসহায় কণ্ঠে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ভেতরে মানুষ বেঁচে আছে, কিন্তু তাদের বাঁচাতে কেউ আসছে না।

দেশটির বহু স্থানেই ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যেই স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বহু ব্যক্তি। পাশাপাশি দেশটিতে অনেক জায়গায় ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছেন না মানুষ।

ভূমিকম্পের পর কারাকাসে রাস্তায় রাস্তায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গত বুধবার যখন ভূমিকম্প শুরু হয়, তখন কারাকাসের বাসিন্দা ভেরোনিকা ভেবেছিলেন, তিনি আর বাঁচবেন না। এদিন রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন থাকায় বহু মানুষই ছিলেন বাড়িতে। কারাকাসের আরেক বাসিন্দা মারিয়া আলেহান্দ্রা জানান, তিনি যখন বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখনই দেয়ালে ফাটল ধরতে শুরু করে। কোনোরকমে দরজা খোলার পর তিনি দেখেন চারদিকে ধুলা; কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আলেহান্দ্রা বলেন, ‘আমরা যখন নিচতলায় গেলাম, তখন মনে হচ্ছিল ভৌতিক সিনেমার মতো দৃশ্য দেখছি। ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে ভবন থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। আমরা শুধু আর একটি পরিবারকে বের হতে দেখেছি।’

পূর্ব কারাকাসের কোরো মার্টিনেজ (৫৬) বলেন, ‘আমি কখনও এ রকম কিছু দেখিনি।’ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে ভূমিকম্পে তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলো থেকে খবর সেভাবে বাইরে আসতে শুরু করেনি।

মাইকেল জ্যাকসন: রাজনীতির বাইরে থেকেও এক রাজনৈতিক কণ্ঠ

২৫ জুন। পৃথিবীর কোটি মানুষের কাছে দিনটি শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যুদিন নয়। এটি এমন এক কণ্ঠস্বরকে স্মরণ করার দিন, যিনি বিনোদনের মঞ্চকে মানবতা, প্রতিবাদ ও বিশ্ববিবেকের মঞ্চে পরিণত করেছিলেন। ২০০৯ সালের এই দিনে পৃথিবী হারিয়েছিল মাইকেল জ্যাকসনকে। কিন্তু তার কণ্ঠ, বার্তা ও প্রশ্ন আজও প্রতিধ্বনিত হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডে, ক্ষুধার্ত শিশুর চোখে, বন উজাড়ের বেদনায় এবং বৈষম্যে আক্রান্ত পৃথিবীর নানা প্রান্তে।

মাইকেল জ্যাকসনকে সাধারণত ‘কিং অব পপ’ হিসেবে স্মরণ করা হয়। কিন্তু তার শিল্পীসত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। তিনি ছিলেন মানবতার পক্ষে এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক কণ্ঠস্বর। রাজনৈতিক নেতা না হয়েও তিনি রাজনীতি, যুদ্ধ, বর্ণবাদ, দারিদ্র্য, পরিবেশ ধ্বংস এবং সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে এমনভাবে কথা বলেছেন, যা বহু রাষ্ট্রনেতার ভাষণের চেয়েও গভীরভাবে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছেছে।

তার মৃত্যুর প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেছে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে তার কিছু গান যেন আজকের পৃথিবীর জন্যই লেখা। গাজায় বোমা পড়ে, সুদানে মানুষ পালায়, ইউক্রেনে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, সমুদ্রের পানি বাড়ে, বনভূমি উধাও হয়, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ মানুষকে ঘৃণা করতে শেখে। এমন এক সময়ে মাইকেল জ্যাকসনের গান শুনলে মনে হয়, তিনি যেন দূর ভবিষ্যতের জন্যই সতর্কবার্তা রেখে গিয়েছিলেন।

কারণ মাইকেল জ্যাকসন কেবল পপসংগীতের রাজা ছিলেন না। তিনি ছিলেন পৃথিবীর পক্ষে গাওয়া এক নিঃসঙ্গ কণ্ঠ।

বিশ্বসংস্কৃতির ইতিহাসে খুব কম মানুষই মাইকেল জ্যাকসনের মতো জনপ্রিয়তা পেয়েছেন শৈশব থেকে মৃত্যুর পর অব্দি। ১৯৮২ সালে প্রকাশিত তার ‘থ্রিলার’ আজও ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত অ্যালবাম। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে তার শ্রোতা ছিল। যখন পৃথিবী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রযুক্তির দ্রুত গতির অনেক পেছনেই ছিলো। তার নাচ, পোশাক, মিউজিক ভিডিও, কনসার্টের কোরিওগ্রাফি – সবই ছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অংশ।

কিন্তু এই বিপুল সাফল্যের মাঝেও তিনি বারবার মানুষ ও প্রকৃতির দুর্ভোগের দিকে ফিরে গেছেন। যে সময়ে অধিকাংশ পপ তারকা প্রেম, বিনোদন কিংবা ব্যক্তিগত অনুভূতির গান গাইছিলেন, সে সময়ে মাইকেল লিখছিলেন ক্ষুধা, যুদ্ধ, বৈষম্য, পরিবেশ ধ্বংস এবং মানবিক সংকট নিয়ে। সম্ভবত এখানেই তিনি অন্যদের থেকে আলাদা।

তিনি জনপ্রিয়তার সুবিধাভোগী ছিলেন, কিন্তু বিবেকের দায় থেকে মুক্ত ছিলেন না মৃত্যুর আগ অব্দি। ১৯৮৪ সালে ইথিওপিয়াসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। টেলিভিশনের পর্দায় কঙ্কালসার শিশুদের ছবি দেখে বিশ্ব বিবেক নড়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে মাইকেল জ্যাকসন ও লিওনেল রিচি ১৯৮৫ সালে লিখেছিলেন ‘উই আর দ্যা ওয়ার্ল্ড’ গানটি। এটি ছিল কেবল একটি গান নয়। এটি ছিল একটি নৈতিক ঘোষণা। সেখানে বলা হয়েছিল-আমরা একই পৃথিবীর মানুষ, তাই অন্যের দুর্ভোগ আমাদেরও দায়। গানটি মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং এর মাধ্যমে দুর্ভিক্ষপীড়িতদের জন্য ৬ কোটি ডলারেরও বেশি তহবিল সংগৃহীত হয়েছিল। আজকের বিশ্বে যখন শরণার্থী, জলবায়ু উদ্বাস্তু এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে, তখন সেই গান নতুন অর্থে ফিরে আসে। রাষ্ট্রের সীমানা যেখানে মানুষকে ভাগ করে, মাইকেলের গান সেখানে মানুষকে একত্রিত করে।

মাইকেল জ্যাকসন নিজেকে কখনও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেননি। কিন্তু তার শিল্পে এমন এক রাজনৈতিক চেতনা ছিল, যা ক্ষমতার ভাষায় নয়, বিবেকের ভাষায় কথা বলে।১৯৮৭ সালের ‘ম্যান ইন দ্যা মিরর’ তার সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ। গানটির মূল কথা হলো- পৃথিবী বদলাতে চাইলে প্রথমে নিজেকে বদলাও। শুনতে এটি ব্যক্তিগত নৈতিকতার কথা মনে হয়। কিন্তু গভীরে গেলে বোঝা যায়, এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও দর্শন।

বর্তমান পৃথিবীতে আমরা প্রায়ই রাষ্ট্র, সরকার, প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য মানুষকে দায়ী করি। মাইকেল প্রশ্ন তুলেছিলেন গানের মাধ্যমে – ‘আমাদের নিজেদের ভূমিকা কী?’ একজন শিল্পীর মুখে এই প্রশ্নই তাকে সময়ের চেয়ে এগিয়ে রাখে।

১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘দে ডোন্ট কেয়ার এবাউট আস’ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সাহসী গান ও মিউজিক ভিডিও হিসেবে বিবেচিত। এটি অনেক বেশি বিতর্কিত ছিল এই  কারণে যে,  এতে কু ক্লাক্স ক্ল্যান, লস অ্যাঞ্জেলেসের দাঙ্গা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকৃত ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছিল। গানটি প্রকাশের পর সমালোচিত হলেও পরবর্তীতে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনে এটি প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে নতুন মাত্রা লাভ করে।

কিন্তু গানটি প্রকাশের আগে যখন সংবাদমাধ্যমে এর লিরিক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, তখন মাইকেল জ্যাকসন ১৯৯৫ সালের ১৫ জুন দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ একটি বিবৃতি পাঠান। সেখানে তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করে জানান যে, এই গানটি মূলত পক্ষপাতিত্ব, ঘৃণা ও সামাজিক অবিচারের ব্যথার কথা বলে। তিনি নিজেকে সব অত্যাচারিত ও অভিযুক্ত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

তার এই বক্তব্যটিই অবিনশ্বর। কারণ তিনি কোনো দল বা মতাদর্শের পক্ষে কথা বলেননি। তিনি কথা বলেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। বর্তমান পৃথিবীতে জলবায়ু ও মানব সভ্যতা যখন টিকে থাকার প্রচেষ্টায় হিমশিম খাচ্ছে, তখন নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মাইকেল জ্যাকসন লিখলেন ‘আর্থ সং’।

এই গান শুনলে মনে হয়, পৃথিবী নিজেই যেন মানুষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে। মানুষ বনভূমি ধ্বংস করছে, প্রাণী হত্যা করছে, যুদ্ধের আগুনে প্রকৃতি পুড়ে যাচ্ছে। সর্বোপরি মানুষ উন্নয়নের নামে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখছে।

গানের কথাগুলো আজ ২০২৬ সালে আরও ভয়ংকরভাবে সত্য হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূল থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপাঞ্চল পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত যে বাস্তবতা তৈরি করেছে, তার পূর্বাভাস যেন অনেক আগেই শুনতে পেয়েছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।

এক টাকার দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে ইস্তফা দেব: সংসদে হাসনাত

এক টাকার দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ ছাড়ার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার সংসদে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিতে ফ্লোর নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা সরকারি দলকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘এখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ, মিলিটারি সবাই আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। আমি অনুরোধ করব, আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে অভিযোগের জন্য অভিযোগ না দিয়ে, তদন্ত করে যদি এক টাকার দুর্নীতি বা অসদুপায়ের কিছু প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমি এই সংসদ থেকে ইস্তফা দেব।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপিদলীয় এমপি আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘যারা জুলাই চেতনা বিক্রি করেন, তাদের অনেকেই আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডোতে চড়েন।’ মাগরিবের বিরতির আগে হাসনাত আবদুল্লাহ এর জবাব দিয়ে পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ দেন।

এর আগে বাজেট আলোচনায় কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘তিনি সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনা করায়, বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে যেন বঞ্চিত করা না হয়।’

চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপির এমপি সাঈদ আল নোমান এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি হাসনাতের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাকে তো টাকা দেওয়া হবে না, টাকা দেওয়া হবে এলাকার মানুষের জন্য।’ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে হাসনাতের নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলেও ইঙ্গিত করেন বিএনপির এই এমপি।

কৈফিয়তে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যেহেতু আমার নাম ধরে বলা হয়েছে, আমি আমার বক্তব্যে কোথাও বলিনি আমাকে যেন বরাদ্দবঞ্চিত করা হয়। আমি এটি বলেছি—আমার বক্তব্যের কারণে আমার এলাকার মানুষকে যেন বঞ্চিত করা না হয়।