Home Blog Page 48

তারেক রহমান-শি জিনপিং বৈঠক শুক্রবার, যা গুরুত্ব পাবে

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শুক্রবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই নেতার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটায়।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন মালয়েশিয়ায়। সেখানে থেকে চীনে গেছেন। মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করা।

লক্ষ্যের মধ্যে আরও আছে- চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসার, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করা। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। এটিও গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা বিভিন্ন বিষয়ে ১৩টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে বলা হয়েছে, এসব সমঝোতা স্মারক দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার সকালে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুয়িং। সেখানে দুই দেশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং ‘পার্টি-টু-পার্টি’ বৈঠক করেছেন। সেখানে বিএনপির সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

শুধুমাত্র রাজাকারের উত্তরসূরিরা চৈতালির বিপক্ষে থাকবে

।।শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।

চৈতালির পক্ষে যদি দাঁড়াতে না চান, অন্তত: বিরোধিতা করবেন না, তিনি অসাংবিধানিক কিছু বলেননি! চৈতালি সবার মনের কথাটি বলছেন। চৈতালি বলেছেন, ‘আপনারা যদি বেশি বাড়াবাড়ি করেন, আমরা তাহলে বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের থেকে সাহায্য চেয়ে আমরা বাংলাদেশের একটি প্রদেশ করবো শুধুমাত্র সনাতনীদের জন্য। আমরা কিন্তু সেটা চাই না। কিন্তু আপনারা যা করছেন , তাতে একসময় এরকমই হবে।সনাতনীদের জন্য আলাদা একটি প্রদেশ হয়ে যাবে’।

এই প্রদেশ দাবিটি কি নুতন? একদা জাসদ এটি দাবি করেছিলো, এরশাদ বাংলাদেশকে ৮টি প্রদেশে ভাগ করতে চেয়েছিলেন। এমনকি জুলাই-২৪ মৌলবাদী উত্থানের নায়করা ৪টি প্রদেশের কথা বলেছেন। এখনকার বিভাগকে ‘প্রদেশ’ ধরা যেতে পারে। আপনাদের অত্যাচারে হিন্দুদের জীবন ওষ্ঠাগত, তাঁরা দুইটি বিভাগে একত্রে থাকতে চাইলে বা থাকার দাবি জানালে কি খুব অন্যায় হবে? রাষ্ট্র যদি উগ্রবাদকে নিয়ন্ত্রণ না করে, বা সমর্থন যোগায় তাহলে পৃথক প্রদেশ দাবি কি খুব অযৌক্তিক?

এ মুহূর্তে বাংলাদেশে ভগবান শ্রীরামের অবমাননা নিয়ে হিন্দুরা সারাদেশে আন্দোলন করছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামের মুর্ক্তি নির্মাণ বন্ধে তৌহিদী জনতার দাবি মেনে সরকার ঐমুর্ক্তি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। এর প্রতিবাদে হিন্দু সম্প্রদায় মাঠে নেমেছে। খবর হচ্ছে ২১শে জুন ২০২৬ পলাশবাড়ীতে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্ত মন্দিরে হামলা চালিয়ে নির্মাণাধীন কালীমন্দিরের ঢালাই ভেঙ্গে ফেলেছে। হাইকোর্টে মৌলবাদী উকিলরা চৈতালির ওপর হামলা করেছে।

চৈতালি কি বাংলদেশ বিরোধী কিছু বলেছেন? না, তিনি বাংলাদেশ বিরোধী কিছুই বলেছেন। তিনি বলেছেন: ‘হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাঁধবেন না। দাঙ্গা বাঁধালে আপনারাও পার পাবেন না। আপনারা দুইটা মারবেন, আমরা একটা মারবো। কিন্তু আমরাও মারবো’। কি চমৎকার সাহসী উচ্চারণ, এবং এটাই কি হওয়া উচিত না? এতকাল হিন্দুরা তো শুধু মার খেয়েছে, এখন যদি তাঁরা আত্মরক্ষায় উঠে দাঁড়ায়, তাতে ক্ষতি কি? নারীর সন্মান, জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় দাঁড়ানো কি উচিত না?

মার খেতে খেতে হিন্দুর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, স্বাধীন বাংলাদেশে হিন্দু শুধু মার খেয়েছে। একটি বিড়ালকে ঘরের সবগুলো দরজা-জানালা বন্ধ করে মারতে চাইলে বিড়ালটি আত্মরক্ষায় পাল্টা আক্রমন করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের হিন্দু জেনে গেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, ভারত কেউ তাদের জন্যে কিচ্ছু করেনি, করবে না, তাই তারা ‘চাচা আপন বাঁচা’ থিওরি ধরেছে। কেউ চাইলেও হিন্দুদের খেদিয়ে দেয়া যাবেনা। সুতরাং, ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ একমাত্র সমাধান।

সরকার বিনা কারণে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আটকিয়ে রেখেছে, এতে হিন্দুরা রাগান্বিত। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস লক্ষ লক্ষ চৈতালি, হরিদাস সৃষ্টি করে গেছেন, কতজনকে ঠেকাবেন? এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ হিন্দু বা সংখ্যালঘু জেন-জি আন্দোলন দেখবে। ভয় নেই, এঁরা বাসে আগুন দেবেনা, পুলিশ হত্যা করবে না, বা গণভবন লুট করতে যাবেনা। তাঁরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে ধর্মান্ধ-মৌলবাদের ভীত কাঁপিয়ে দেবে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস হিন্দুদের বাঁচতে শিখিয়ে গেছে, এদের মারে সাধ্য কার?

ধর্মান্ধ-মৌলবাদীরা রামের ছবিতে ‘জুতা’ মেরেছে। প্রতিটি হিন্দুর প্রাণে এতে আঘাত লেগেছে। সরকার কিচ্ছু করেনি। শুধু চৈতালি এতে রাগেনি, রেগেছে বাংলাদেশের দুইকোটি হিন্দু। রেগেছে বিশ্বের আরো ১৩০ কোটি হিন্দু। এই রাগের বহি:প্রকাশ কিভাবে ঘটবে আমি জানিনা, শুধু জানি, রামের অবমাননা হিন্দুরা মেনে নেবে না। বাংলাদেশে রামের মুর্ক্তি হবে, প্রয়োজনে ৬৪ জেলায় হবে, রাম বাংলার, রাম বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে বিদ্যমান, তাঁকে ঠেকায় সাধ্য কার?

চৈতালির পুরো বক্তব্য আমি শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘মসজিদ থাকার পরও আপনি যখন রাস্তায় নামাজ পড়েন, তখন কি আমরা কখনো বলেছি যে এই রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে না? এই রাস্তাটা তো আমাদেরও। কিন্তু আমরা মানবিকতা দেখাই। আপনাদের মধ্যে কোন মানবিকতা নেই। আমার মন্দিরে, আমার বাড়িতে আমি কীভাবে আমার রাম দেবতাকে স্থাপন করবো, কত উঁচু করবো, এর কৈফিয়ত নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দেব না। আপনি কোথাকার ‘হরিদাস পাল’ যে আপনাকে এই কৈফিয়ত দিতে হবে’?

ব্রাভো, চৈতালি চক্রবর্তী। এমন সত্য কথা বলার জন্যে ধন্যবাদ। এসব তো উদার মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের বলার কথা, তাঁরা বলেনা, কবি এখানে চুপ। তবে সাবধানে থাকবেন, ওঁরা গুপ্ত, অন্ধকারে ছুরি হাতে হয় উন্মুক্ত? কেউ কেউ আপনাকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে, তাঁদের বলি, ‘যেদেশে মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীর পশ্চাতে ডাক্তারের সেলাই দিতে হয়, যে মাদ্রাসায় ৪২জন ছাত্রীর সবার সাথে অধ্যক্ষ ঘুমান, সেদেশে আপনাদের তো লজ্জায় মুখ ঢাকা উচিত, চৈতালি নন, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলুন।

গ্রেফতার তো হওয়া উচিত যাঁরা রামের ছবিতে জুতা মেরেছে? সেটি হবেনা, কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র সাম্প্রদায়িক। এদিকে লতিফা নামে এনসিপি’র এক কর্মী বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশে হিন্দুদের পূজা করতে দেবো না, প্রয়োজনে তাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবো’। এই নেত্রী কি গ্রেফতার হবেন? যারা পুলিশ হত্যা করেছে, ক্যান্টনমেন্ট উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে, রাষ্ট্রপতিকে কুকুরের সাথে তুলনা করেছে, দেশকে বিক্রী করে দিয়েছে তারা কি গ্রেফতার হয়েছে? চৈতালি তো শুধুমাত্র একটি দাবির পক্ষে কথা বলেছেন!

সুস্মিতা সুমি এবং আরো কিছু তরুণ ছেলেমেয়ে অনেক সাহসী কথাবার্তা বলেছেন, এদের সবাইকে ধন্যবাদ। কতিপয় হিন্দু বলতে চাইছেন চৈতালি আওয়ামী লীগ নেত্রী। তাতে কি? চৈতালি কোন দল করেন সেটি বিষয় নয়, বাংলাদেশে মানুষ এখন শেখ হাসিনা’র পক্ষে কথা বলছে, এটি অপরাধ নয়? চৈতালি বা যেকেউ যেকোন দল করতে পারেন, কথা হচ্ছে চৈতালি স্বজাতি ও সত্যের পক্ষে কথা বলেছে। আপনি যখন এরচেয়েও সজোরে কথা বলতে পারবেন, তখন চৈতালির সমালোচনা করবেন।

দেখুন, গয়েশ্বর রায়, নিতাই রায় চৌধুরী বা হিন্দুট্রাস্টের বিজনবাবু’র মুখে কিন্তু কথা নেই? আওয়ামী লীগ আমলেও কিন্তু একই ব্যবস্থা ছিলো, সেক্ষেত্রে চৈতালি ব্যতিক্রম, নিয়ম ভাঙ্গুক। বিএনপি’র কোন নেত্রী এমন কথা বললে আরো খুশি হতাম। কথা হচ্ছে, আপনি যদি চৈতালির পক্ষে দাঁড়াতে সাহস না পান, চুপ থাকুন, তার বিরুদ্ধে মাঠ গরম করবেন না? কারণ শুধুমাত্র জামাত-এনসিপি-রাজাকার-পাকিস্তানীরাই চৈতালির বিপক্ষে যাবেন। শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ চিতালিকে সাহস জোগাবেন।

বিশ্ব ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলাকে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশটিকে সহায়তার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের ওপর আঘাত হানা দুটি বড় ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে এবং এতে বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত, আগ্রহী এবং সক্ষম। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা আমাদের নতুন বন্ধুদের পাশে থাকব।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে অস্বাভাবিক শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। রাজধানী কারাকাসের কাছে প্রথমে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এ ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়াতেও অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলা, আরুবা ও বোনেয়ারের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি গত ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়ায় রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনও নির্দিষ্ট কোনো সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ওয়াশিংটন সম্ভাব্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যে ৭ কারণে চিনাবাদাম খাবেন

পার্কে বসলে কিংবা খোলা কোনো জায়গায় বেড়াতে গেলে অনেকেই বসে বসে চিনাবাদাম খেতে পছন্দ করেন। যদিও বাড়িতে সবার খাওয়া হয় না। কিন্তু অনেকের হয়তো জানা নেই অনেক খাবারের চেয়ে চিনাবাদামের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা বেশি। এটা শুধু স্বাদেই ভালো তা নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও দারুণ উপকারী।

চিনাবাদাম পুষ্টির এক সমৃদ্ধ উৎস। এতে রয়েছে ফাইবার, বি ভিটামিন, ভিটামিন ই এবং আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

রোজ অল্প পরিমাণে চিনাবাম খেলে যেসব উপকারিতা মেলে-

হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী
গবেষণায় দেখা গেছে, হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য দামি বাদামের মতোই চিনাবাদাম  উপকারী। এটি মনোস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, সেইসাথে ফাইবার এবং প্ল্যান্ট স্টেরলের একটি ভালো উৎস। এই স্বাস্থ্যকর উপাদানগুলো অস্বাস্থ্যকর এলডিএল কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এসব উপাদান রক্ত ​​জমাট বাঁধাও প্রতিরোধ করে, যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। এছাড়াও চিনাবাদাম শরীরের প্রদাহ কমায়, যা হৃদরোগের সাথে সম্পর্কিত।

ত্বকের যত্ন নেয়

ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য চিনাবাদাম খুবই উপকারী। এটি ত্বককে গভীর থেকে আর্দ্রতা জোগায়, কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। সেই সঙ্গে ব্রণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের জন্য উপকারী
চিনাবাদামে থাকা নিয়াসিন ও ফোলেট মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়াসিন স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতেও ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়

বাদাম একটি লো-গ্লাইসেমিক খাবার, যার অর্থ হলো এটি খেলে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বাদাম খেলে এই রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে বাঁচায়
চিনাবাদামে পলিফেনল ও ভিটামিনই-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এগুলো কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহের হাত থেকে রক্ষা করে।

পিত্তথলির স্বাস্থ্য

নিয়মিত বাদাম খেলে পিত্তথলি সুরক্ষিত থাকে।  গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারীরা নিয়মিত বাদাম খেতেন,তাদের পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ার ঝুঁকি তাদের চেয়ে কম ছিল যারা বাদাম খেতেন না। গবেষণায় আরও দেখা গেছে , যেসব পুরুষ প্রায়শই বাদাম খান, তাদের পিত্তপাথরের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় কম।

স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস 

চিনাবাদাম পুষ্টিতে ভরপুর একটি খাবার। এতে বেশ স্বাস্থ্যকরও । নিয়মিত এই বাদাম খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সূত্র: এশিয়ান নেট, ওয়েব এমডি

ইস্তানবুল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে যা জানালেন রকস্টারের মিথিলা

ঘুরতে সবারই ভালো লাগে। সেই ভ্রমণে যদি প্রিয় কোনো মানুষ থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। ঈদের ছুটি উপলক্ষে আমার প্রিয় বন্ধু সামিরা খান মাহিকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি দেশের বাইরে। আমাদের দুজনের পছন্দের দেশ তুরস্ক। অনেক দিন ধরেই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। গত ১৮ জুন দেশটির রাজধানী ইস্তানবুলে এসেছি। ইতিহাস, সংস্কৃতি আর অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই শহর যেন এক জীবন্ত গল্পের বই, যার প্রতিটি পাতা নতুন বিস্ময়ে ভরা। শহরের অলিগলি, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, বসফরাসের নীল জলরাশি আর মানুষের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে বারবার। মনে হয়েছে, প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক টুকরো জাদু, যা সহজে ভোলার নয়।

এ ছাড়া ইস্তানবুলের স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়াও ছিল আমাদের সফরের অন্যতম আকর্ষণ। ঐতিহ্যবাহী তুর্কি খাবার, ব্যস্ত রাস্তার প্রাণচাঞ্চল্য আর সন্ধ্যার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ভ্রমণকে আরও রঙিন করে তুলেছে। ভ্রমণের প্রতিটি দিন ছিল নতুন অভিজ্ঞতায় ভরা। কখনও ইতিহাসের স্পর্শ, কখনও প্রকৃতির সৌন্দর্য, আবার কখনও বন্ধুত্বের উষ্ণতায় কাটানো সময়– সব মিলিয়ে এই সফর আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই ভ্রমণকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে মাহি।

২০১৩ সাল থেকে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে, প্রতিটি হাসি, অশ্রু আর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা একে অপরের পাশে থেকেছি। একসময়ের বন্ধুত্ব আজ বোনের মতো এক গভীর সম্পর্কে রূপ নিয়েছে। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও বিশ্বাস, আস্থা, ভালোবাসা আর অসংখ্য স্মৃতির বন্ধনে আমরা একসূত্রে গাঁথা।

ইস্তানবুলের পথে পথে হাঁটতে হাঁটতে আমাদের সেই দীর্ঘ পথচলার কথা বারবার মনে পড়েছে। কত স্মৃতি, কত গল্প, কত স্বপ্ন আর সংগ্রামের সাক্ষী আমরা দুজন। জীবনের ব্যস্ততা আমাদের কখনও কখনও ভিন্ন পথে নিয়ে গেলেও আমাদের বন্ধনের শক্তি কখনও কমেনি; বরং সময়ের সঙ্গে তা আরও দৃঢ় হয়েছে। জীবন আমাদের যেখানেই নিয়ে যাক না কেন, কিছু সম্পর্ক কখনও বদলে যায় না।

ইস্তানবুলের এই দিনগুলো তাই শুধু একটি ভ্রমণের স্মৃতি নয়; বরং বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলোকে নতুন করে উদযাপন করার এক অনন্য উপলক্ষ। কোনো জায়গায় ভ্রমণে গেলে সেখানকার কিছু স্থিরচিত্র সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরি। এবার এর ব্যত্যয় ঘটেনি। পোস্টে অনেকেই ইতিবাচক প্রতিক্রয়া জানিয়েছেন। এই সফরে আমরা শুধু একটি শহর দেখিনি, নতুন করে উপলব্ধি করেছি আমাদের বন্ধুত্বের সৌন্দর্যও। একসঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সামনে আরও অনেক পথচলা, আরও অনেক গল্প আর নতুন নতুন স্মৃতি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

হাওরপাড়ের বিদ্যালয় বর্ষায় কমে উপস্থিতি, দুই পোশাক নিয়ে যেতে হয় স্কুলে

বর্ষা মৌসুম এলেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরপাড়ের অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো শিশুর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। যোগাযোগের দুরবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে কেউ শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে, কেউ আবার গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এতে প্রতিবছরই প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে।

উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নে মোট ২৪৯টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১৩৪টি গ্রামে। বাকি ১১৫টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সদর, বাদাঘাট, বালিজুরী ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ তুলনামূলক ভালো হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পাশের গ্রামে গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পায়। তবে শ্রীপুর দক্ষিণ, উত্তর শ্রীপুরের কিছু অংশ এবং দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন হাওরবেষ্টিত হওয়ায় বর্ষাকালে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষার ছয় মাস বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের শিশুদের বড় একটি অংশ স্কুলমুখী থাকে না। পরে হেমন্ত মৌসুমে তারা কৃষিকাজ বা পারিবারিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। একসময় অনেকেই আর বিদ্যালয়ে ফিরে আসে না।

সম্প্রতি উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা, নতুনহাটি, মুজরাই, পানিয়াখালীসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়সী শিশুরা দলবেঁধে খেলাধুলা করছে। একই চিত্র দেখা গেছে বেতাগড়া, জামালপুর, তেলিগাঁও পশ্চিমপাড়া, কৃষ্ণতলা, গোপালপুর, রাজধরপুর, উজ্জ্বলপুর, জগদীশপুর, সাহসপুর, নিশ্চিন্তপুর, লতিবপুর, গোবিন্দপুর ও টুকেরগাঁওসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামের অভিভাবক হাদিসনূর বলেন, নিজ গ্রামে স্কুল নেই, আবার অন্য গ্রামে যাওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই অনেক পরিবার শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারে না।

শাহগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুবাশ্বির আলম বলেন, বর্ষাকালে যোগাযোগ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যারা আসে, তাদের দুই সেট পোশাক নিয়ে আসতে হয়। গ্রামের প্রায় ২০০ মিটার রাস্তা বর্ষার শুরুতেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে স্কুলে এসে ভেজা পোশাক বদলাতে হয়।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পলি সরকার জানায়, স্কুলে যাওয়ার পথে সব সময় হাঁটুর ওপরে পানি থাকে। তাই বাড়ি থেকে অতিরিক্ত পোশাক নিয়ে আসতে হয়।

হাওরাঞ্চলে কর্মরত উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স সার্ভিস (সিএনআরএস)-এর তাহিরপুর উপজেলা সমন্বয়কারী ইয়াহিয়া সাজ্জাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে নৌকার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ও মোয়াজ্জেমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা দেওয়া হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীদের অনেক উপকার করেছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, বিদ্যালয়ের স্লিপ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে নৌকা তৈরি করা সম্ভব। এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষককে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি গ্রামে একটি করে বিদ্যালয় স্থাপন করা গেলে হাওরাঞ্চলের এ সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের প্রতিটি গ্রামে একটি করে বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের তালিকা চাওয়া হয়েছে।

নেইমারকে পেয়ে ভিনিসিয়াস বললেন, ‘আমাদের আইডল ফিরে এসেছে’

নেইমারের চোটে সম্প্রতি ব্রাজিলের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। সেই ভরসার প্রতিদানও দিয়েছেন মাঠের পারফরম্যান্সে। বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচে তার কাছ থেকে ব্রাজিল পেয়েছে ৪টি গোল, একটি অ্যাসিস্ট। সবশেষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেইমারের ফেরার ম্যাচেও জোড়া গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে ভিনির কাছে নেইমারই সবচেয়ে বড় তারকা।

ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত ভিনিসিয়াস বলেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। আমাদের আইডল ফিরে এসেছে। ও এমন একজন মানুষ যে এখানে আসার জন্য সবসময় কঠোর লড়াই করেছে এবং সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে। ইনজুরি কাটিয়ে ও আবার মাঠে ফিরেছে।’

ব্রাজিলের কাছে ভক্তদের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে নেইমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন ভিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি ও নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করতে থাকবে এবং পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের সাহায্য করবে। দিনশেষে সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

বৃহস্পতিবার সকালে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ দিয়েই চোট কাটিয়ে দীর্ঘ ৩২ মাস পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন নেইমার। ৭৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে নেইমারকে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

নেইমারের প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি ফিরেছে ব্রাজিল শিবিরে। দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে ফিরে পেয়ে কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সতীর্থ- সবাই দারুণ খুশি। তবে সবচেয়ে বেশি খুশি সম্ভবত ভিনিসিয়াস। কারণ, নেইমার ফিরে আসায় আক্রমণভাবে আরও শক্তি খুঁজে পাবেন তিনি।

ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডটি নেইমারের। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা জাতীয় দলের জার্সিতে ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেছেন ৭৯টি। এর মধ্যে দেশের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ৮টি গোল করেন তিনি।

কর্মপরিষদ সভায় জামায়াত আমির সরকার একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে

সরকার রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, সংসদেও চরম বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের এমপিদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এভাবে সরকার ক্রমান্বয়ে একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য চরম হতাশাজনক।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সভায় কথা বলছিলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সরকারের কিছু ভুল ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে ধ্বংসপ্রায় ইসলামী ব্যাংক যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকার ব্যাংকটিকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে তুলে দেওয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা মনে করি, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিকে সমূলে ধ্বংস করে দেবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদের সদস্যরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ২০ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে একগুচ্ছ বড় ক্রয় ও উন্নয়ন প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মোট চার হাজার ১৮ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ের ২০টি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকেও কিছু নীতিগত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতিতে সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয় কমিটি। এ জন্য ব্যয় হবে এক হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই ও গানভর সিঙ্গাপুর পিটিই এলএনজি সরবরাহ করবে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে এক কোটি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৮১২ কোটি ৩১ লাখ টাকার মসুর ডাল ও ভোজ্যতেল কেনার চারটি পৃথক প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলস থেকে প্রতি কেজি ৮১ দশমিক ৪৭ টাকা দরে ১০ হাজার টন মসুর ডাল এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল থেকে পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি কেজি ৭৪ দশমিক ৮৬ টাকা দরে ১২ হাজার ৫০০ টন ডাল কেনা হবে।

এ ছাড়া ঢাকার শবনম ভেজিটেবল অয়েল থেকে প্রতি লিটার ১৮৩ দশমিক ৯৫ টাকা দরে দুই কোটি লিটার পাম অলিন সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনা হবে, যার প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৬৪ দশমিক ৭৭ টাকা।

শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা (এনইইটি) আট লাখ ৫০ হাজার ৫০০ তরুণ-তরুণীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সক্ষমতা বাড়াতে ইকোনমিক অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর এনইইটি প্রকল্প সম্পর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ৯৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় দেশের আট বিভাগে প্রশিক্ষণ ও কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ব্র্যাক জেভি, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ, ঢাকা আহছানিয়া মিশনসহ ১০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ এক লাখ ২০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ব্র্যাক জেভিকে ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। প্রায় ৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালট্যান্সি লিমিটেড, দক্ষিণ কোরিয়ার নিউ ওয়াটার টেক কোম্পানি ও শতাব্দী হাই বাংলাদেশ।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের সাতটি প্যাকেজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে।

কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রায় ৪৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০ হাজার টন সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) জন্য মরক্কো থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার কেনা হবে ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়। অন্যদিকে কাফকো থেকে ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার সংগ্রহ করা হবে।

এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার নিয়োগ এবং বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতায় রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে ১৯৫ কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।

 

দাম কমেছে স্বর্ণের, আজ থেকেই কার্যকর

দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমেছে। এর ফলে পরপর দুই দফা কমল স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে কমেছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৯১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ২৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৭৪১ টাকা।