Home Blog Page 480

সেই মন্টু দাসের পরিবারের দায়িত্ব নিলেন জামায়াত আমির

বরগুনায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার ও মামলার বাদী (শিক্ষার্থীর বাবা) খুনের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন সকল খরচের দায়িত্ব নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আজ সোমবার সকাল ১০টায় শহরের টাউন হল মাঠে আয়োজিত এক পথ-সভায় এ ঘোষণা দেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের একটি বন্ধু সংগঠনের নেতা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরাও তাদের সঙ্গে থেকে এ পরিবারটির আইনিসহ সকল প্রকার সহযোগিতা করতে চাই। এ সময় মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম মনিসহ দলের নেতাকর্মীরা নিহত মন্টু দাসের বাড়িতে যান। সেখানে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন বিএনপির এই সাবেক সাংসদ। তার আগে রোববার সন্ধ্যায় নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি মোবাইল ফোনে কথা বলে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারেক রহমান।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ বরগুনায় মেয়ে ধর্ষণ মামলার তারিখের আগের রাতে বাবা (মামলার বাদী) মন্টু চন্দ্র দাসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণ মামলার আসামির আত্মীয়রা হত্যা করেছে মন্টু দাসকে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

কী দেখে ৬০ বছর বয়সি আমিরের প্রেমে পড়েছেন, জানালেন গৌরী

গত ১৪ মার্চ নিজের ৬০ তম জন্মদিনের বিশেষ চমক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন নতুন প্রেমিকার সঙ্গে। যার সঙ্গে বলিউডের অন্দরে ভেসে বেড়াচ্ছে আমির খানের বিয়ের গুঞ্জন। তবে আমিরের নতুন প্রেমিকার নাম গৌরী স্প্র্যাট।

বলিউডের সঙ্গে গৌরীর কোনও যোগ নেই। আমিরের মাত্র দু’টি ছবি দেখেছেন তিনি। তবুও কীভাবে অভিনেতার প্রেমে পড়লেন?

জানা গেছে, এই জুটির প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ২৫ বছর আগে। তারপরে আর যোগাযোগ ছিল না। তবে দুই বছর আগে আবারও দেখা হয় দু’জনের।

আমির বলেছেন, ‘এমন কাউকে খুঁজছিলাম, যার সঙ্গে থেকে একটু শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়। ঠিক সেই সময়েই গৌরীর সঙ্গে দেখা। একজন ভদ্র, নরম মনের যত্নশীল মানুষকে চাইতাম আমি।’

এটা শুনেই পাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে আমির খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘এই গুণগুলো চাইতে। আর শেষে আমাকে খুঁজে পেলে তুমি?’ দুজনেই এরপর হেসে ওঠেন।

মুম্বাইয়ে আমির তার বাড়িতে গৌরীকে তার দুই তারকা বন্ধু শাহরুখ খান ও সালামান খানের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেতা।

সাংবাদিকদের আমির বলেন, ‘এখন আর লুকোচুরির কিছু নেই। কাল যদি গৌরীর সঙ্গে কোথায় কফি খেতে যাই, আপনারাও আমাদের সঙ্গে আসতে পারেন। ’

গৌরীর সঙ্গে বিয়ে নিয়ে আমির খান বলেন, ‘আমি জানি না ৬০ বছর বয়সে বিয়ে করাটা শোভা পায় কী না। তবে গৌরীকে নিয়ে আমার বাচ্চারা খুশি। এবং আমি ভাগ্যবান যে আমার সাবেক স্ত্রীদের সঙ্গে গৌরীর ভালো সম্পর্ক দাঁড়িয়েছে। ’

আমির প্রথম বিয়ে করেছিলেন ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে, তখনো তিনি অভিনয়ে আসেননি। ওই সংসারে আমিরের দুই ছেলে মেয়ে ইরা খান ও জুনাইদ খান। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে আমির-রীনার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৫ সালে চিত্রপরিচালক কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির খান। এই দম্পতির ছেলে আজাদ খান। ২০২১ সালের জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে আমির-কিরণ বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। সূত্র: এনডিটিভি।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প-পুতিন আলোচনা মঙ্গলবার

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে কথা বলতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) তাদের মধ্যে এই আলোচনা হতে যাচ্ছে।

রোববার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন যেতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন তথ্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘দেখি আমরা মঙ্গলবারের মধ্যেই কোনো ঘোষণা দিতে পারি কিনা। এদিন আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে কথা বলব।’

শিগগিরই সংঘাত বন্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে এই সপ্তাহে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। অনেক কাজ করা হয়েছে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দু’নেতার কথোপকথন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিজের মতো ঢেলে সাজাচ্ছেন ট্রাম্প। পুতিনের সাথে আলোচনা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের সেই পদক্ষেপকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

যদিও ট্রাম্প-পুতিনের সম্প্রীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগের শেষ নেই। শুরু থেকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন তারা।

বছরতিনেক আগে অভিযানের শুরুতে ইউক্রেনকে পরাস্ত করতে রাশিয়ার প্রাথমিক লক্ষ্য ব্যর্থ হলেও প্রতিবেশী দেশটির বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছে মস্কো। যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় এসব ভূমি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রও থাকবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এই সম্পদগুলো ভাগাভাগি হতে পারে।’

ইউরোপের এই যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে বেশ ঘটনাবহুল কয়েকটি দিন পার হয়েছে। শপথ নেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ৫৭তম দিনে এসে তিনি কেবল আশার কথা শোনাচ্ছেন।

নির্বাচনী প্রচারের সময় বেশ কয়েকবার তাকে এই ঘোষণা দিতে শোনা গেলেও রসিকতা করেই এমনটা বলেছিলেন বলে এখন দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার (১৪ মার্চ) এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, তিনি রসিকতা করে এটা বলেছিলেন।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সৌদি আরবের জেদ্দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বৈঠকে ওয়াশিংটনের দেয়া এক মাসের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মত হয় ইউক্রেন। একই প্রস্তাব রাশিয়াকেও দেয়া হবে বলে বৈঠক শেষে জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, জেদ্দার বৈঠকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, তার নানা দিক তুলে ধরতে গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

তিনি বলেন, ‘পুতিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন। তবে বেশ কিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠায় এসব জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পুতিন।’

ইসলাম গ্রহণ করে আমি যে শান্তি পেয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না

জার্মান নওমুসলিম আবদুল মালেক সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আমি যে শান্তি পেয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।’

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) আল আরাবিয়্যা নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আবদুল মালেক বলেন, ‘তিন সপ্তাহ আগে আমি বিয়ে করেছি। নিয়ত করেছিলাম, বৈবাহিক জীবনের শুরুটা হারামাইন শরিফাইন তথা মক্কা-মদিনায় কাটাবো। যাতে এর বরকত বাকি জীবন পেতে থাকি।’

যেভাবে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন

কীভাবে মুসলমান হলেন সেই গল্প বলতে গিয়ে নওমুসলিম আবদুল মালেক বলেন, ‘আমার মা-বাবা জার্মান এবং অমুসলিম। আমাদের বাড়ির পাশেই মসজিদের একজন ইমাম থাকতেন। যখনই তার সাথে আমার দেখা হতো তিনি আমাকে ইসলামিক বিভিন্ন বই উপহার দিতেন এবং ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন কথাবার্তা বলতেন। একদিন আমার মনে হলো ওই ইমামের কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত শুনবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর পরে মসজিদের ইমাম ইসলাম সম্পর্কে যেসব কথা বললেন, সেগুলো শুনে আমার মন পরিবর্তন হয়ে গেল। এমন মনে হলো, আমি এতদিন যে পথের সন্ধান করছিলাম সেটা ইসলামই। এরপরে আমি মুসলমান হয়ে যাই।’

আবদুল মালেক বলেন, ‘এখন আমি দুআ করছি আমার মা-বাবাও যেন মুসলমান হতে পারেন। আমার খালাও ইতোমধ্যে মুসলমান হয়ে গেছেন।’

অভিষেকেই ভারতকে হারাতে চান হামজা

০

দেশের ফুটবলে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন। লাল সবুজের জার্সি গায়ে চাপাতে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন হামজা চৌধুরী। সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হবে তার।

ইংলিশ ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম তারকা হামজা দেওয়ান চৌধুরী। লেস্টার সিটির এই ফুটবলার এই মুহূর্তে ধারে খেলছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে। এছাড়া ইংল্যান্ডের হয়ে বয়সভিত্তিক দলেও খেলেছেন হামজা।

তবে হামজার মা-বাবার জন্ম নিবাস বাংলাদেশের সিলেটে। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট গ্রামেই তাদের বেড়ে উঠা। সেই সুবাদে হামজা পা রেখেছেন বাংলাদেশে, আপন করে নিয়েছেন লাল-সবুজ জার্সিকে।

যদিও এর জন্য পাড়ি দিতে হয়েছে লম্বা পথ। সহসাই হয়ে যায়নি সব। অনেক অনিশ্চিয়তা আর শঙ্কা কাটিয়েই বাংলাদেশের জার্সি গায়ে চাপাতে হামজা এখন মাতৃভূমিতে।

আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে অবতারণ করেন তিনি।

শিলংয়ে আগামী ২৫ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে অভিষেক হবে হামজার। এই ম্যাচ নিয়ে বড় স্বপ্নই দেখছেন হামজা।

বিমানবন্দরে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হামজা জানান, ‘চমৎকার, এখানে আসতে পেরে রোমাঞ্চ অনুভব করছি। আমি জিততে চাই। আমার বড় স্বপ্ন আছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা জিতে পরবর্তী পর্বে যেতে পারব।’

উল্লেখ্য, বিমানবন্দরে হামজাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন বাফুফের এক্সকিউটিভ কমিটির একটা দল। বিমানবন্দর থেকে নিজের শেকড় হবিগঞ্জের বাড়িতে যাচ্ছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী এই ফুটবলার। সেখানে তাকে ঘিরে চলছে নানা আয়োজন। তবে সবকিছু নির্বিঘ্ন রাখতে ও নিরাপত্তার জন্য হামজার সাথে সার্বক্ষণিক একটা বিশেষ টিম থাকবে বাফুফের পক্ষ থেকে।

গুজরাটের দাঙ্গায় সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মার্কিন পডকাস্টে যা বললেন মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ২০০২ সালের গোধরা-পরবর্তী গুজরাটে সংঘটিত দাঙ্গা নিয়ে আলোচনা ছিল একটি মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরির প্রচেষ্টা এবং কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা তার রাজনৈতিক বিরোধীরা চেয়েছিলেন যে তাকে শাস্তি দেয়া হোক। কিন্তু আদালত তার নাম খারিজ করে দিয়েছে।

লেক্স ফ্রিডম্যানের সাথে একটি পডকাস্টে মোদি বলেন, ২০০২ সালের দাঙ্গা গুজরাটের সর্বকালের সবচেয়ে বড় দাঙ্গা ছিল এই ধারণাটি ভুল তথ্য প্রচারের প্রচেষ্টা। ‘আপনি যদি ২০০২ সালের আগের তথ্য পর্যালোচনা করেন, তাহলে আপনি দেখতে পাবেন যে গুজরাটে ঘন ঘন দাঙ্গার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কোথাও না কোথাও ক্রমাগত কারফিউ জারি করা হচ্ছিল। ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা বা এমনকি সাইকেল সংঘর্ষের মতো তুচ্ছ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তো।’ রোববার প্রকাশিত পডকাস্টে তিনি এসব দাবি করেন।

সূত্র : দ্য হিন্দু

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন মোড়, সতর্ক নজর রাখছে ভারত

গত বছরের নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই পরিবর্তনের ফলে একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সাথে ঢাকার সম্পর্ক উষ্ণ হতে শুরু করে। দুই দেশের এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের বিশেষ নজরে রয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরাসরি বাণিজ্য শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করেছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিমান ও সামরিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। নয় মাসব্যাপী সেই যুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের পক্ষ নিয়েছিল এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। এরপর ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক উষ্ণ থাকলেও ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসার পর তা আবার শীতল হয়ে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক জটিল ছিল। তবে এখন তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।’ অন্যদিকে, এই পরিবর্তনকে ভারত সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

হাসিনার বিদায়ের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কও টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। তবে ভারত এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের এই কৌশলগত মেলবন্ধন ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি কৌশল হতে পারে। লন্ডনের কিংস কলেজের সিনিয়র ফেলো আয়েশা সিদ্দিকা বলেছেন, ‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একসাথে ভারতের প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা করছে।’

সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাথে বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ করেছেন। সামরিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক গভীর হচ্ছে। জানুয়ারিতে বাংলাদেশি সামরিক প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করে এবং ফেব্রুয়ারিতে করাচিতে পাকিস্তান আয়োজিত বহুজাতিক নৌ মহড়ায় বাংলাদেশি নৌবাহিনী অংশ নেয়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশি কূটনীতিকরা মনে করেন, পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ-সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান জরুরি। বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে যুদ্ধকালীন গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে, তবে ইসলামাবাদ এখনো সেই উদ্যোগ নেয়নি।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকেও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান কাছাকাছি আসছে। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ৭০০ মিলিয়ন ডলারের কম হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে তা বাড়তে পারে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আসন্ন ঢাকা সফরে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন সরকার বৈদেশিক নীতিতে নতুন কোনো দিক নির্ধারণ করতে পারে।

তবে ভারতের জন্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। কারণ দেশটি মনে করে, উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য।

আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি, পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। ষড়যন্ত্রকারীরা এই সুযোগে শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করবে, তাই পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’

সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে এক বিশেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পুলিশ আগে খারাপ মানুষের পাল্লায় পড়েছিল, এখন সেখান থেকে বের হয়ে এসেছে বলে জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে তিনি বলেন, ‘ওই অন্ধকার যুগে পুলিশ অ্যাকটিভ পার্টিসিপেন্ট ছিল- নিজের ইচ্ছায় না, সরকারি কাজ করতে গিয়ে হয়েছে। কাজেই নতুন বাংলাদেশে পুলিশকে দেখিয়ে দিতে হবে- আমরা মানুষ খারাপ না, খারাপ মানুষের পাল্লায় পড়েছিলাম, সেখান থেকে বের হয়ে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘১৬ বছরের কালিমা সারা গায়ে মাখা আছে, রাতারাতি সেটা পাল্টাতে পারবো না। পুলিশ সম্বন্ধে ইমেজ হলো, তারা খারাপটা আগে করে। কিন্তু আমরা ভালোটা আগে দেখব, এখন সম্পূর্ণ নতুন ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ষড়যন্ত্রও ততই তীব্র হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা পুলিশকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

দেশের আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে সবাইকে একসাথে কাজ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশ বদলাতে হলে একক নির্দেশে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে এক একটি টিম হয়ে কাজ করতে হবে এবং বাংলাদেশে যত টিম আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিম হলো পুলিশ। সরকার যা কিছুই করতে চায়, শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত দিয়েই করতে হয়।’

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘পুলিশকে অবহেলা করে দেশ গড়তে পারব না। আইনশৃঙ্খলা না থাকলে যত বড় বড় চিন্তাই হোক, যত টাকাই থাকুক, কোনো কাজে আসবে না।’

বিএনপিকে এক-এগারোর মতো মিডিয়া ট্রায়ালের সম্মুখীন করা হচ্ছে : তারেক রহমান

এক-এগারোর মতো বিএনপিকে মিডিয়া ট্রায়ালের সম্মুখীন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে জাতীয়তাবাদী অনলাইন এক্টিভিস্টদের সম্মানে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে লন্ডন থেকে ভার্চুয়্যালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে ৩১ দফার উপর একটি ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আগামীতে যদি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের সমর্থন বিএনপির পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই সম্ভাবনা যত বেশি উজ্জ্বল হচ্ছে, তত বেশি বিএনপিকে মিডিয়া ট্রায়ালের সম্মুখীন করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সোমবার সকালেও বাংলাদেশের কয়েকটি পত্রিকায় কিছু ঘটনা দেখলাম, দেখার পরে কেন্দ্রীয় অফিসে (নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়) যখন আমি খবর নিলাম- তারা আমাকে জানালো, ঘটনা ঘটেছে এমন। আর পত্রিকায় উপস্থাপন করা হয়েছে আরেকরকম।

তারেক রহমান বলেন, একটি মহল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তারা একইসাথে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে। এখন তাদের সাথে যেসব মিডিয়া হাউজের সম্পর্ক আছে, তাদের মাধ্যমে ১/১১-এর সময় যেভাবে বিএনপিকে মিডিয়া ট্রায়ালের সম্মুখীন করা হয়েছিল, একই রকম প্রেক্ষাপট তৈরিও চেষ্টা করছে।

তারেক রহমান বলেন, যে ষড়যন্ত্র ছিল দেশের জনগণ, গণতন্ত্রের ভিত্তি ও দেশের বিরুদ্ধে- একটি ষড়যন্ত্র আবারো শুরু হয়েছে। এটি শুধু কথার কথা না। এই রকম একটি ঘটনা দিনদিন গড়ে উঠছে। বাংলাদেশের অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিসহ সকল কিছুর বিরুদ্ধে এমন একটি ষড়যন্ত্র ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে।

জনগণ যে নির্বাচনের ভোট দিয়ে তার মতামত দিতে পারবে, ওই নির্বাচনের পক্ষে বিএনপি আছে বলেও জানান তারেক রহমান।

স্বৈরাচারের আমল থেকে শুরু করে এই মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার কোনো সরকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এখানে একজন বক্তা নতুন ভোটের কথা বলেছেন, তাদের কী চিন্তা-ভাবনা, এগুলো এখনো আমরা ঠিক জানি না। আমি তো মনে করি, নতুন যারা ভোটার- এদের কাছে যুক্তি-তর্ক সকল কিছু দিয়ে আপনারা (অনলাইন এক্টিভিস্ট) তাদের মোটিভেট করতে সক্ষম বলে আমি বিশ্বাস করি।

অনলাইন এক্টিভিস্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যখন থেকে বাংলাদেশে বাংলাদেশের জনগণ এবং গণতন্ত্রের ঘাড়ে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল, তখন থেকে আপনারা সংগঠিত হয়ে জনগণ ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের কথা তুলে ধরেছেন- যে যুদ্ধ আপনারা করেছেন, যার কারণে আপনাদেরকেও বিভিন্ন অত্যাচার ও নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, ওই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আপনারা এসেছেন, তার জন্য আপনাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে এই আয়োজনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ অনলাইন এক্টিভিস্টরা বক্তব্য রাখেন।

ঢাবির ১২৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৮ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হামলাসংক্রান্ত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সোমাবার (১৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভা শেষে ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কৃত এসব শিক্ষার্থী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাবির প্রক্টর সাহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ১২৮ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে অনেক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় তাদের একাডেমিক সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।