Home Blog Page 481

সিকিমে প্রবেশে পর্যটকদের দিতে হবে এন্ট্রি ফি

সিকিমে প্রবেশ করতে গেলে এখন থেকে পর্যটকদের দিতে হবে ৫০ রুপি। ঘোষণা করেছে ওই রাজ্যের সরকার। মার্চ মাস থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিকিমের পর্যটন ব্যবসা নথিভুক্তকরণ নীতির অধীনে এই রুপি আদায় করা হবে।

প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পর্যটকরা যখন হোটেলে চেক-ইন করবেন, তখন তাদের মাথাপিছু ৫০ রুপি দিতে হবে। পাঁচ বছরের কম বয়সীদের জন্য কোনো টাকা দিতে হবে না। হোটেল কর্তৃপক্ষ ওই টাকা রাজ্যের পর্যটন দফতরে জমা করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের দেয়া ওই টাকা সিকিমে পর্যটনের পরিকাঠামো এবং পরিষেবা উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।

সিকিম প্রশাসন আরো জানিয়েছে, ৫০ রুপির বিনিময়ে একজন পর্যটক ৩০ দিন পর্যন্ত সিকিমে থাকতে পারবেন। ৩০ দিন অতিক্রান্ত হলে বা তার পরে আবার এলে তাকে আবার ৫০ রুপি করে দিতে হবে।

সূত্রের খবর, এই রুপি রাজ্যের সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহার করা হবে, যাতে পর্যটকদের বেড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না হয়।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

এবারো হচ্ছে না স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ : স্বরাষ্ট্র সচিব

এ বছরও স্বাধীনতা দিবসে কোনো কুচকাওয়াজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।

রোববার দুপুরে ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘রমজান চলছে, ঈদের ছুটি পড়ছে এই সময়, ২৬ মার্চ একই সময় পড়েছে। বৈঠকে এই সময়ে ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে আলাপ হয়েছে। গত বছর কুচকাওয়াজ হয়নি, এবারো হবে না। আমরা কোনো আনন্দ করার মেজাজে নেই।’

স্বাধীনতা দিবসে আইনশৃঙ্খলা বা কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কিনা- জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমি কোনো ঝুঁকি দেখছি না।’

সূত্র : বিবিসি

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ শহীদ আবরারের মায়ের, দ্রুত কার্যকরের দাবি

বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বহালের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর ও পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন।

রোববার (১৬ মার্চ) আদালতের রায় ঘোষণার পর কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাসায় আবরারের মা রোকেয়া খাতুন এ কথা জানান।

শহীদ আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, ‘আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্ট আজ যে রায় দিয়েছেন তাতে আমি খুশি। শুধু আমরা না, সারাদেশের মানুষ খুশি। ২০২২ সালের রায় বহাল রয়েছে। প্রথম যখন রায় ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই রায়েও দেশবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছিল।’

তিনি বর্তমান সরকারসহ সব মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘মৃত্যুর ছয় বছর পরও আমার সন্তানকে সকলে ভালোবেসে মনে রেখেছে কেউ ভুলে যায়নি। এটা আমার জন্য বড় পাওয়া।’

তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান র‌্যাগিংমুক্ত থাক। বর্তমানে যেমন জুলুম-অত্যাচার নেই, তেমন সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমসময় যেন নিরাপদ থাকে। ভবিষ্যতে যেন আমার মতো কাউকে সন্তান হারাতে না হয়। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন লক্ষ্য যেন ধ্বংস না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অসম চুক্তি এবং ফারাক্কার পানি আগ্রাসন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জেরে বুয়েট শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নৃশংস কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করে সংগঠনটির ক্যাডাররা। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আবরার ফাহাদ ১৯৯৮ সালে ১২ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের রায়ডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো: বরকত উল্লাহ এবং মায়ের নাম রোকেয়া খাতুন।

আবরার কুষ্টিয়া মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং পরে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। নটরডেম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা শেষে ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ আবরার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন।

ইউক্রেনীয় সেনাদের রাশিয়া ঘেরাও করেনি, দাবি জেলেনস্কির

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্শ শহরে ইউক্রেনীয় সেনাদের ঘিরে ফেলেছে রাশিয়া। তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

তিনি শনিবার এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, কুর্শ শহরে আমাদের সৈন্যরা এখনো অভিযান পরিচালনা করছে। তাদেরকে রুশ বাহিনী ঘেরাও করতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, যারা এখনো কুর্শ অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করছে, তাদেরকে ধন্যবাদ। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রুশ বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব সীমান্তে সৈন্য সংগ্রহ করছে এবং ইউক্রেনের উত্তর-পূর্ব সুমি অঞ্চলে আক্রমণের পরিকল্পনা করছে।

সূত্র : সিনহুয়া

অবসর নয়, এখনো ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি : কোহলি

০

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন না ভারতের বিরাট কোহলি। কারণ এখনো ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসেন তিনি।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ‘ইনোভেশন ল্যাব ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিটের’ অনুষ্ঠানে কোহলি বলেন, খেলাটির প্রতি আনন্দ-ভালোবাসা থেকেই এখন ক্রিকেট থেকে অবসরের পরিকল্পনা নেই।

গত বছর নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরির দেখা পান কোহলি। এরপর অসি সিরিজে সাত ইনিংসে মাত্র ৮৫ রান করেন তিনি। পাশাপাশি ওয়ানডে ফরম্যাটে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ইনিংসে ১১৫ রান করেন কোহলি। তাই গুঞ্জন উঠেছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষেই অবসর নিতে পারেন তিনি।

কিন্তু অবসরের ইঙ্গিত উড়িয়ে দিয়েছেন কোহলি নিজেই। বলেন, ‘আমি অর্জনের জন্য ক্রিকেট খেলি না। আনন্দ, তৃপ্তি ও খেলাটির প্রতি ভালোবাসা থেকেই ক্রিকেট খেলি। যতক্ষণ সেই ভালোবাসা বজায় থাকবে, আমি খেলা চালিয়ে যাব। এই বিষয়ে আমাকে নিজের সাথে সৎ থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঘাবড়াবেন না। আমি কোনো ঘোষণা দিচ্ছি না। এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিক আছে। আমি এখনো খেলাটা খেলতে ভালোবাসি।’

২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস আসর দিয়ে ১২৮ বছর পর ক্রিকেট ফিরতে যাচ্ছে অলিম্পিকে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই হবে অলিম্পিকের ক্রিকেট। ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট থেকে অবসর নেন কোহলি।

অলিম্পিকে খেলার জন্য কোহলি কি আবারো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কোহলি বলেন, ‘অলিম্পিকের জন্য? আমি ঠিক জানি না। যদি আমরা স্বর্ণ পদকের জন্য খেলি, তাহলে আমি হয়ত এক ম্যাচের জন্য ফিরে আসব। পদক জিতে আবার বাড়ি ফিরে আসব।’

তিনি বলেন, ‘সারাবিশ্বে এখন অনেক টি-টোয়েন্টি লিগ হচ্ছে। আমি মনে করি, অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ততিতে আইপিএল বড় ভূমিকা রেখেছে। এটা ক্রিকেটকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, যেখানে তা অলিম্পিকের অংশ। কিছু ছেলের জন্য এটা দারুণ সুযোগ। অলিম্পিকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অসাধারণ অনুভূতি হবে।’

১২৫ টি-২০ ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও ৩৮টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৪১৮৮ রান করেছেন কোহলি। রান সংগ্রহের তালিকায় তৃতীয়স্থানে আছেন তিনি। ১৫৯ ম্যাচে ৪২৩১ রান নিয়ে শীর্ষে আছেন ভারতের রোহিত শর্মা। দ্বিতীয়স্থানে থাকা পাকিস্তানের বাবর আজম ১২৮ ম্যাচে ৪২২৩ রান করেছেন।

সূত্র : বাসস

২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন বহাল

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

আজ রোববার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে বি রুমি, জহিরুল ইসলাম সুমন, নূর মোহাম্মদ আজমী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ উপস্থিত ছিলেন।

আসামিপক্ষে আইনজীবী মাসুদ হাসান চৌধুরী, আজিজুর রহমান দুলু উপস্থিত ছিলেন।

আদালতকক্ষে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, আজ বেলা ১১টায় আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের রায় ঘোষণা শুরু হয়। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা শুরু হয়। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান রায় পাঠ করে শোনান।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। গত বছরের অক্টোবর মাসে এ মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয়া হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান এ উদ্যোগ নেন।

২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও মামলার নথি হাইকোর্টে আসে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ৬ হাজার ৬২৭ পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্স ও মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এরপর আসামিরা দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। দণ্ডিত আসামিরা উচ্চ আদালতে ফৌজদারি আপিল এবং জেল আপিল করতে পারেন।

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো: কামরুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং এসএম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি গত ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ভেঙে পালান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরদিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো: ওয়াহিদুজ্জামান।

যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দেয়া উচিত : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যত দ্রুত সম্ভব একটি নির্বাচন দেয়া উচিত। নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব দিয়ে একটি স্থিতিশীলতা রক্ষা করা উচিত।

রোববার (১৬ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।

বিএনপি সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এইটুকু বলতে পার, আমরা সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ৩১ দফা দাবি অনেক আগে দিয়েছি যখন এই সংস্কারের কথা কেউ বলেনি। সেই সংস্কারগুলোর সাথে আজকের যে প্রস্তাব উঠে আসছে সেখানে খুব বেশি পার্থক্য দেখছি না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পত্রিকার পাতা খুললেই আমরা আজ বিচলিত হয়ে যাই। হত্যা, খুন, ধর্ষণ এমন একটি জায়গায় চলে যাচ্ছে যে জায়গাটা আমাদের পীড়িত করছে। অন্যদিকে আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ছাত্ররা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। আবার দেখছি, যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, তারাও তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে আসছে। আমাদের সকলেরই এই ব্যাপারে ধৈর্য ধরার ব্যাপার আছে।’

দ্রুত নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা এখন অন্তত আন্তরিকভাবে চাচ্ছি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূস অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাবেন। কারণ, আমরা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে যেটা দেখছি, নির্বাচন যত দেরি হবে তত বেশি বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে পরাজিত করার জন্য ফ্যাসিস্ট শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। যারা উগ্র, জঙ্গি তারাও এই সুযোগগুলো নেয়ার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তাই মনে করি, যত দ্রুত নির্বাচন হবে, যত দ্রুত জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে এসে একদিকে দেশ পরিচালনা করবে, অন্যদিকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে সংস্কারগুলো আছে সেগুলো আমরা সবাই এক সাথে করতে পারব।’

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবি আব্দুল হাই শিকদার, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, সাংবাদিক নেতা কামাল উদ্দিন সবুজ, ইলিয়াস খান প্রমুখ।

ড. ইউনূস সরকারের সাত মাসের গৌরবময় খতিয়ান!

রতন তালুকদার : ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে একদফা আন্দোলনে ৫ই আগস্ট মাথানত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পলায়ন। ৫ থেকে ৭ই আগস্ট পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না। কথিত ছাত্রদের নিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী মহামতি ড. ইউনূস প্যারিস থেকে ঢাকায় এসে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল ইউনূসের মুখ আর দেশের মানুষের উল্লাসে সারাদেশে ‘ইউনূস বসন্ত’। শেখ হাসিনার বিদায়ে মাতোয়ারা ছাত্রসমাজ, জনগণ। হাসতে হাসতে গণভবনে হরিলুট। মানুষ চেয়ে চেয়ে দেখছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি চোখের পলকেই মাটিতে মিশে গেল।
ড. ইউনূস ৮ই আগস্ট শপথ নিলেন, সাক্ষী রইল দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব, জামায়াত সহ ইসলামী দলের হুজুরদ্বয়, সামরিক-বেসামরিক কর্মকতা, সাংবাদিক-বুদ্বিজীবী ও বিজয়ী ছাত্রজনতা। আওয়ামীলীগ নেত্রীর পলায়নের গøানি মাথায় নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা অন্ধকারে পালানোর রাস্তা খুঁজছে।
৮ই আগস্ট ইউনূস অভিষিক্ত হওয়ার পর নিজের ইচ্ছেমতো নিজ বলয়ের মানুষজন ও ছাত্র আন্দোলনের কতিপয় নেতা দিয়ে ঘেরা হলো উপদেষ্টা পরিষদ। অগ্রযাত্রা শুরুর পর তিনমাস হানিমুন বাদ দিলে আরও প্রায় ৫ মাস। সর্বসাকুল্যে ইউনূস সরকারের গৌরব,ঘৃণার আট মাস প্রায়।
তারপর কী হলো? সবিস্তারে ইউনূসনামার খতিয়ান নিয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বলছি, আপনারাও জোরেশোরে বলুন।
“ইউনূস সরকারের ৮ মাস, আ-হা বেশ! বেশ!”
ড. ইউনূস সরকারের ৮ মাসের শাসনামলে খতিয়ানগুলো জেনে নিন, প্রাণ খুলে হাসুন! আর কতদূর যাবো আমরা ?

(১) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম সপ্তাহেই প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আখ্যায়িত করে প্রশাসনে মৌলবাদী ইসলামী মনোভাবাপন্নদের নিয়োগ। সংস্কারের অজুহাতে ৬টি কমিটি গ্রহণ। এইসব কমিটিতে ড. ইউনূস সমর্থিত পেশাজীবীদের নিয়োগ। দেশ ও বিদেশ থেকে ভাড়া করা তথাকথিত পÐিতদের নিয়ে জগাখিচুড়ির সংস্কারমূলক প্রস্তাবনা।
(২) ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী নামে কতিপয় ছাত্রদের লাগামহীন দৌরাত্ম্য, বাচ্চা পোলাপানের অতিমাত্রায় বাচলামির খেসারতে শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম রাজনীতির আখড়ায় পরিণত। সমন্বয়কারী হিসেবে সারাদেশে চাঁদাবাজির উৎসব, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, ছোট ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত।
(৩) আইন-শৃঙ্খলায় গুরুতর অবনতি। দেশে আনসার বিদ্রোহ, পুলিশের মাঝে ভয়, চেইন অব কমান্ড নেই পুলিশে। ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের দ্বারা অপকর্মে ভীত-সন্ত্রস্ত পুলিশের কাজে যোগদানে অনীহা, জানমাল নিরাপত্তার অভাব। সরকার বাধ্য হয় সেনাবাহিনীকে মেজিস্ট্রি পাওয়ার দিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।
(৪) “ডেভিল হান্টার” অপারেশনের নামে হাজার হাজার নাগরিককে গ্রেপ্তার, একেকজনের মাথার উপর মামলার বোঝা। কারণ-অকারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শায়েস্তা করার নামে হয়রানি, আইন-শৃঙ্খলার গুরুতর অবনতির কারণে সারাদেশে চুরি-ডাকাতি,ছিনতাই,মব হামলা, সম্প্রীতির নামে নৈরাজ্য। ৮ মাসে প্রায় দু’শত বিচার বর্হিভূত হত্যাকাÐ, গুম-ধর্ষণসহ অসামাজিক কর্মকাÐ বেড়েছে লাগামহীন!
(৫) ড. ইউনূস ক্ষমতা নেয়ার আগ থেকেই অর্থাৎ সেই ৫ আগস্ট থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত জেলের কয়েদিরা জেল ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। ইউনূস ক্ষমতা নেয়ার পর জেল থেকে বেছে বেছে দাগি আসামি, ফাঁসির আদেশে অভিযুক্ত জংগীসহ অনেক আসামিকে ছেড়ে দেয়া হয়।
(৬) বিএনপিকে খুশি করতে খালেদা জিয়াকে সব মামলা থেকে রেহাই দিয়ে পড়ে মুক্তি। লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানের মামলাগুলি পর্যায়ক্রমে বাতিল হলেও কয়েকটি মামলার মূলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তারেক রহমান নিয়ে যাতে ভবিষ্যৎ-এ খেলা যায়। বিএনপি কী আদৌ এই শুভংকরের ফাঁকি বুঝতে পারে?
(৭) প্রতিবেশী ভারতের সাথে অলিখিত যুদ্ধ ঘোষণার ফলে ৫ আগস্টের পর দেশে ভারত-বিদ্বেষ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। ড. ইউনূস ৮ই আগস্ট দেশের মাটিতে পা রাখার আগেই প্যারিস এয়ারপোর্টে ভারতের উত্তর-পূর্বে “চিকেন নেক” নিয়ে সংকেত দেন। তারপর দেশে শুরু হয়ে যায় ভারত বিরোধিতার মহোৎসব আর ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের অত্যাচার, মন্দির ভাংচুর ফলে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগতে থাকে হিন্দুরা। রাস্তায় নামে সনাতন ধর্মের মানুষজন। ঢাকা চট্টগ্রামে হিন্দুদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ, শ্রী চিন্ময় প্রভুর আবির্ভাব, তারপর তাকে গ্রেপ্তার। চট্টগ্রামে জজকোর্টে মারমুখী সংঘাত, সাইফুল নামে একজন তরুণ আইনজীবীর মর্মান্তিক মৃত্যু।
(৮) ভারতের বিপরীত পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে প্রেমে উতলা হওয়া। জাহাজ, আলু-পেঁয়াজ, তেল-চিনি আসা শুরু। পাকিস্তানি হানাদার নতুন পোষাকে আসতে শুরু করে। অজুহাত, সম্পর্ক উন্নয়ন। দীর্ঘদিন পাকিপ্রেম না থাকায় অল্প দিনেই পুুষিয়ে নেয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
(৯) প্রথম দিন থেকেই ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও তার চেতনাকে মুছে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়। দু’ঘণ্টার ব্যবধানে সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর স্টেচ্যু, মোড়াল মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের নিশানাকে মাটি চাপা দেয়ার নিরলস প্রচেষ্টা চলতে থাকে। প্রথমদিকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালানো হলো, তারপর তো একেবারে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। আঘাত আসে মুুক্তিযুদ্ধের যাদুঘরে। এবার একুশের মহান দিনেও ছিল অবহেলা ও অনাদরের ছবি। ৭ই মাচের্র সেই বজ্রকন্ঠের গর্জন? প্রশ্নই উঠে না, নীরবে স্বাধীনতার মার্চ মাস যেন লুকোচুরি খেলছে। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, জয়বাংলা বলাই যেন অপরাধ!
(১) তারপর শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও পরে মর্মান্তিক মৃত্যু। এই পবিত্র রমজান মাসেও এই অমানবিক পৌশাচিক এবং নৈরাজ্যের ছবি দেখতে হয় জাতিকে। একটি আট বছরের শিশুকে জীবন দিতে হয় দেশে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির কারণে। আছিয়ার ধর্ষক ধরেই নিয়েছিলো কিচ্ছু হবে না, দেশে সরকার আছে আইন নেই, বিচার নেই। সেই বিচার বিভাগেও চলছে আগের মতোই পক্ষপাতিত্ব। যে আমার মানুষ সে মুক্ত, যে আমার নয় সে জেলে থাকবে এই নীতিই কোর্টের বারান্দায়।
(১১) অবশেষে কিংস পার্টি! পোলাপানের রাজনৈতিক দল। কোটি কোটি টাকার খেলা, হেলিকপ্টারে চড়ে কম্বল বিতরণ, ফাইভস্টার হোটেলে হাজার লোকের ইফতার! সমন্বয়কারীদের বিলাসবহুল গাড়ি, ব্র্যান্ডের জামাকাপড়, রঙ্গিন জীবনযাপন। অথচ এই পোলাপানগুলি আট মাস আগে বেকার ছিলো, দোকানে বাকিতে চলতো! ওদের এই বিশাল অর্থ-বিত্ত-বৈভব-এর উৎস কী!
শেষ কথা, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আপনি দ্রæত নির্বাচন দিন, নিজে বাঁচুন দেশকে বাঁচান।

রতন তালুকদার ঃ সম্পাদক , সাপ্তাহিক জন্মভ‚মি , নিউইর্য়ক

নিউইয়র্কে মুনার ইফতার ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে মসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা) এর ইফতার মাহফিল ও সংবাদ সম্মেলন গত ৪ মার্চ জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় । মুনা কনভেনশনকে কেন্দ্র করে এ সংবাদ সম্মেলন এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মুনার ন্যাশনাল মিডিয়া বিভাগের পরিচালক আনিসুর রহমান গাজীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুনার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, মুনার এক্সিকিউিটিভ ডিরেক্টর আরমান চৌধুরী, ন্যাশনাল এসিটেন্ট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আহমেদ আবু উবায়দা, আব্দুল্লাহ আর আরিফ, ড. রুহুল আমিন, মুনা মজলিশ এ সুরার মেম্বার এস এম মাওলানা সুজন, মুনার নিউইয়র্ক সাউথ জোনের সভাপতি এমদাদ উল্লাহ, মুনা নিউইয়র্ক নর্থ জোনের সেক্রেটারি মমিনুল ইসলাম মজুমদার, মুনা সাউথ জোনের মিডিয়া পরিচালক আমিনুর রসুল জামশেদ। আব্দুল্লাহ আল আরিফের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুনার ন্যাশনাল পরিচালক মাওলানা দেলোয়ার হোসেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করে আরমান চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে আরমান চৌধুরী বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে মুনা প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৮, ৯ এবং ১০ আগস্ট ২০২৫ ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে মুনা কনভেনশন-২০২৫ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই কনভেনশন মুসলিম জীবনে বিশেষ করে বাংলাদেশী আমেরিকান পরিবারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
মুনা আমেরিকার একটি দাওয়াতি ও সামাজিক সংগঠন। মানুষের ব্যক্তিগত নৈতিক ও সামাজিক মানোন্নয়নের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালানোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত হয় মুনা।
এই সংগঠনটি ১৯৯০ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কর্পোরেশন ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে মুনা আমেরিকার প্রায় সবকটি রাজ্যেই কমবেশি কর্মতৎপরতা পরিচালনা করছে। মুসলমানদের প্রাত্যহিক সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ড এবং জাতীয় নাগরিক জীবনে ভূমিকা পালনের নিমিত্তে সবাইকে সংগঠিত করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে করে এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গ আল্লাহ এবং তাঁর রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের মাধ্যমে মানবতার সেবা করে যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতায়, সর্বোপরি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে, বিগত কয়েক বছর যাবৎ বিশাল আকারের মুনা কনভেনশন বাস্তবায়ন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। তিন দিনব্যাপী ওই কনভেনশন বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ আমেরিকান মুসলিম কমিউনিটির মাঝে ব্যক্তি এবং সমাজ গঠনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আমরা মুনা ন্যাশনাল সংগঠনের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে এবং আপনাদের মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশী কমিউনিটিকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এবারের কনভেনশনের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় এবং থিম নির্ধারণ করা হয়েছে-Torchbearers of Islam: Spreading the Faith Globally..
সারা দুনিয়া ব্যাপী মানবতা আজ মুক্তির জন্য দিশেহারা। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তি তথা সামগ্রিক কল্যাণ ইসলামেই নিহিত রয়েছে। মুনা চায়, প্রত্যেক মুসলিম ভাই-বোনেরা ইসলামের সুমহান আদর্শকে নিজেদের জীবনে যথার্থভাবে ধারন করে, এক একজন দ্বীনের মশাল বাহক হিসাবে দুনিয়াব্যাপী প্রচারে আত্মনিয়োগ করুক। ইসলাম শুধু মুসলিম তথা ইসলামে বিশ্বাসীদের জন্য নয়, এটা গোটা মানবজাতির উন্নতি ও অগ্রগতির সোপান । মুনা এই বিশ্বাসকে ধারণ করেই এবারের কনভেনশনের মূল কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করেছে। এই কাজে আপনাদের এবং আপনাদের মাধ্যমে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি ।
তিনি বলেন, মুনা চায় বাংলাদেশি আমেরিকানদের আমেরিকার মূলধারার মুসলিম স্কলার ও নেতৃবৃন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে, আর সেই ভূমিকা রাখবে মুনার এবারের কনভেনশন ২০২৫ আমেরিকায় ব্যক্তি পরিবার ও সমাজ গঠনে দিকনির্দেশনা সম্বলিত আলোচনা রাখবেন বিশ্ববিখ্যাত সুপরিচিত অভিজ্ঞ আলোচকবৃন্দ। এবারের ইংরেজি আলোচকদের সাথে সাথে থাকবেন বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশ থেকে আগত বাংলা ভাষার ইসলামিক স্কলারগণ।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও রয়েছে তরুণ ছেলে মেয়েদের জন্য আলাদা ইয়ূথ কনভেনশন। আল-কোরআনের অনুসারে কল্যাণকর জীবন জাপনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগের উপর প্যারালাল প্রোগ্রাম রয়েছে। আলোচনা ছাড়া থাকবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন ইসলামী ও অন্যান্য সামগ্রীর দোকান নিয়ে বিশাল বাজার। ছোট ছেলে মেয়েদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান লার্ন এন্ড ফ্যান। এবং বিভিন্ন খেলাধুলাসহ রাইড-এর ব্যবস্থা। এছাড়াও পরিবার-পরিজন বন্ধু স্বজন আর গোটা আমেরিকা থেকে আসা বাংলা ভাষাভাষীদের এই সর্ববৃহৎ মিলনমেলায় অংশগ্রহণের সুবর্ণ সুযোগ।

আটলান্টিক সিটিতে গৌর পূর্ণিমা উপলক্ষে ধর্মসভা ও হোলি উৎসব

সুব্রত চৌধুরী- নিউ জার্সি রাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে গত ১৩ মার্চ, বৃহস্পতিবার গৌর পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে ধর্মসভা ও হোলি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় আটলান্টিক সিটির ১৪১১, পেনরোজ এভিনিউর প্রার্থনা হলে অনুষ্ঠিত ধর্মসভার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল গৌর পূর্ণিমার মর্মকথা শীর্ষক আলোচনা,পবিত্র গীতা থেকে পাঠ, হরিনাম সংকীর্তন, মালা জপ, সমবেত প্রার্থনা, ভজন, কীর্তন, হোলি খেলা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ধর্মসভার কার্যক্রম সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলে। আটলান্টিক সিটির কৃষ্ণভক্তদের উদ্যোগে এই ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছিল। ধর্মসভায় প্রবাসী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অংশগ্রহন করেন।
কৃষ্ণভক্ত সুমন মজুমদার, তৃপ্তি সরকার, প্রদীপ দে, মেরি দে,গংগা সাহা, মিনু নন্দী, রানা দাশ, রেশমী বসাক,পিকলু দাশ, বিউটি দাশ, সুনীল দাশ, ধীমান পাল,লাকী চৌধুরী,শিখর, বর্ষা রানা প্রমুখ ধর্মসভার বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহন করেন। ধর্মসভা শেষে সবাই হোলি উৎসবে অংশগ্রহন করেন।ধর্মসভায় অংশগ্রহনকারীদের মাঝে প্রসাদ বিতরন করা হয়।
ধর্মসভার আয়োজকদের পক্ষে পুলিশ কর্মকর্তা সুমন মজুমদার ও আটলান্টিক সিটি স্কুল বোর্ড সদস্য সুব্রত চৌধুরী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উক্ত ধর্মসভা ও হোলি উৎসবে অংশগ্রহণ করে তা সফল করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।