প্রধান উপদেষ্টার কাছে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা। শেখ হাসিনার পাশাপাশি তারিক সিদ্দিক, জিয়াউল, মনিরুল ও হারুনের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে।
দেশে গত ১৫ বছরে সংঘটিত বিভিন্ন গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন।
গতকাল শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দেওয়া কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুসহ র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে কমিশন।
এ বিষয়ে পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। তাতে বলা হয়, ‘গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এ ছাড়া হাসিনা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গুমের ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং পুলিশ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগ করেন। এর পরপর মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত একাধিক হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের বিশেষ শাখার সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম ও ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁরা বিদেশে চলে গেছেন বলেও প্রচার রয়েছে।
গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গতকাল বিকেল পাঁচটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে ‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ’ শিরোনামে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনটি জমা দেয়। তাতে বলা হয়, গুমের ঘটনায় কমিশনে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৭৫৮ জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিশনের প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা কাজটি এমনভাবে করেছেন, যাতে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। বিভিন্ন বাহিনী নিজেদের মধ্যে ভিকটিম (তুলে নেওয়া ব্যক্তি) বিনিময় করেছে এবং পরিকল্পনা ভিন্ন ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করেছে। তিনি আরও জানান, গুমের শিকার অনেকে এখনো শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না। তাঁদের ওপর এতটাই ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল যে তাঁরা এখনো ট্রমায় ভুগছেন।
‘প্রধান উপদেষ্টা তাঁর সর্বশেষ বক্তব্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সঠিক বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর রিপোর্টের সংখ্যা অনেক বেড়েছে’ উল্লেখ করে কমিশনের সদস্যরা অধ্যাপক ইউনূসকে আয়নাঘর (গোপন বন্দিশালা) পরিদর্শনের অনুরোধ জানান। তাঁরা বলেন, ‘আপনি আয়নাঘর পরিদর্শন করলে ভিকটিমরা (ভুক্তভোগীরা) অভয় পেতে পারেন।’
প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের এ অনুরোধে সম্মতি দিয়ে জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল, যা আয়নাঘর নামে পরিচিতি পেয়েছে, সেগুলো দেখতে যাবেন। তিনি কমিশনের সদস্যদের তাঁদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং কাজটি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
কমিশনের প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তাঁরা তিন মাস পর মার্চে আরও একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেবেন। কাজটি শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে কমপক্ষে আরও এক বছর সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকারকর্মী নূর খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাবিলা ইদ্রিস ও মানবাধিকারকর্মী সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদও উপস্থিত ছিলেন।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৭ আগস্ট এই কমিশন গঠন করে। কমিশনে র্যাব, ডিজিএফআই, ডিবি, সিটিটিসি, সিআইডি, পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কমিশন এখন পর্যন্ত যে ৭৫৮ জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেছে, তার মধ্যে ৭৩ শতাংশ ভুক্তভোগী ফিরে এসেছেন। বাকি ২৭ শতাংশ (অন্তত ২০৪ জন ব্যক্তি) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ৩ অক্টোবর তাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জানায়, শেখ হাসিনা সরকারের সময় জোরপূর্বক মানুষকে তুলে নিয়ে গোপন বন্দিশালায় গুম করে রাখার প্রমাণ মিলেছে। ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পাওয়া এ বন্দিশালার অবস্থান ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরের চৌহদ্দির মধ্যে, যা একসময় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
ওই সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই কমিশন সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্যে সিভিল কোর্ট হিসেবে কাজ করবে। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের তলব করা হবে।
সরকারি সূত্রগুলো জানায়, কমিশন প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা সরকারের সময় দায়িত্ব পালনকারী সামরিক ও বেসামরিক অনেক কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে অনেকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাসহ উল্লিখিত ব্যক্তিদের বাইরে আর কার কার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেটা এখনই প্রকাশ করতে রাজি নয় সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। কারণ, এর সঙ্গে ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যেতে পারেন।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম বলেন, এখন দরকার শেখ হাসিনাসহ গুমের ঘটনায় যাঁদের নাম এসেছে, দ্রæত তাঁদের বিচার নিশ্চিত করা। গুম হওয়া ব্যক্তিদের কারা তুলে নিলÑতাঁদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা। গুমের অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে, আরও অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনে কমিশনের সক্ষমতা বাড়িয়ে যত দ্রæত সম্ভব কার্যক্রম সম্পন্ন করে অপরাধীদের বিচার করতে হবে।
গুমের নির্দেশদাতা হাসিনা, প্রমাণ পেয়েছে কমিশন
শিগগিরই জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাচন হবে: ফখরুল
শিগগিরই জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সবসময় আশাবাদী। ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আমরা সহযোগিতা করছি। আশা করি, খুব দ্রæত জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, আজকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এই দিনে ১৯৭১ সালে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে পাক-হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, বৈজ্ঞানিক এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। ১৯৭১ সালে আমরা জাতির বরেণ্য ব্যক্তিদের হারিয়েছি। আমরা জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আজ সবাই মিলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মাগফিরাত কামনা করছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্যদিয়ে দেশ গড়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে আমরা বাংলাদেশকে একটি সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
এ সময় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহŸায়ক আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণের আহŸায়ক রফিকুল আলম মজনুসহ দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পর্ক ভালো রাখতে চাইলে হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে: সারজিস আলম
জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী হবে সেটি তাদের কাজের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। সম্পর্ক ভালো রাখতে চাইলে ভারতকে খুনি শেখ হাসিনাকে আশ্রয় না দিয়ে ফেরত দিতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ তার বিচার করবে।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘শহিদ পরিবারের পাশে বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও ছেড়ে কথা বলবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, আমরা শুধু বাংলাদেশ পুলিশ নয়; সেনাবাহিনী, অন্তর্বর্তী সরকার সবাইকে একটি জিনিস আমাদের জায়গা থেকে অনুরোধ করতে চাই। আমরা কারও অন্ধ দালাল নই। আমরা ক্ষমতাপিপাসু নই। বিবেকবোধের জায়গায় যদি আমাদের মনে হয় যে, কেউ এই অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন, এমনকি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসও যদি হন, আমরা তাকেও ছেড়ে কথা বলব না। তিনি বলেন, আমরা বিবেকবোধ বেচে দেওয়া ওই প্রজন্ম নয়। তাহলে আমরা আমাদের প্রতিবেশী বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ভারতের দালালি করতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি, করব না।
সারজিস বলেন, যারা গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ছিল তাদের আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ পরিচয় যা-ই হোক, এই পরিচয়গুলো মুখ্য নয়। তার বিরুদ্ধে যদি ডকুমেন্ট থাকে তাহলে আমাদের কাছে তার একমাত্র পরিচয় একজন খুনি, হত্যাকারী। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এখনো আওয়ামী লীগের অনেক নেতা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সারজিস বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের চার মাস পেরিয়েছে। খুনি হাসিনার অন্যতম দোসর নাটোরের খুনি এমপি শিমুল আজও আমাদের সামনে রয়েছে। আজও পাবনার সাঈদ চেয়ারম্যান, এই বাংলাদেশে তার অস্তিত্ব রয়েছে। অথচ এই খুনিরা প্রকাশ্যে আমার ভাইদের পুড়িয়ে মেরেছে, গুলি করে হত্যা করেছে। তাহলে বাংলাদেশের ওই বিচারব্যবস্থা, পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যারা আছেন; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-বিচারব্যবস্থার উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন যে শহিদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে; আজকে আপনারা উপদেষ্টা, পুলিশ সুপার, আইজিপি, ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনার-তাদের রক্তের সঙ্গে এই বেইমানি কীভাবে সম্ভব?
শহিদদের লাশ তুলে ময়নাতদন্ত নয় : সারজিস আলম বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানে যারা শহিদ হয়েছে তাদের হত্যা মামলার জন্য কারও লাশ উত্তোলন করা যাবে না। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিচারিক যে মন্ত্রণালয় রয়েছে, সংশ্লিষ্ট সবাইকে একটি কথা বলে দিতে চাই-যে ভাইয়ের জীবনের রক্তের ওপরে ওই চেয়ারে আপনারা বসে রয়েছেন, আপনারা চার মাস পর তাদের লাশ উত্তোলন করতে পারেন না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারকে হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের বিচারের জন্য যদি ডেডবডি কবর থেকে তোলা না হয়, তাহলে এই চব্বিশের অভ্যুত্থানে নতুন বাংলাদেশ আনতে গিয়ে যারা শহিদ হয়েছেন কেন তাদের লাশ উত্তোলন করতে হবে?
গণহত্যায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই গণহত্যার সঙ্গে আমরা পুরো বাংলাদেশ পুলিশকে জড়িয়ে দেব না। কিন্তু দায়সারা কথাও আমরা মেনে নেব না যে, ‘খুনি হাসিনা বলেছিল বলে গুলি করেছি।’ কতিপয় পুলিশ সদস্য সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাদের কেন এখনো বিচার হচ্ছে না? আজকে আমরা দেখছি ওইসব পুলিশ নতুন করে পোস্টিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। খুনের শাস্তি কি শুধু বদলি?
সারজিস বলেন, পুলিশ সেই মামলাগুলো নিচ্ছে না, যে মামলাগুলোতে তাদের পুলিশ সদস্যদের নাম রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সমঝোতা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ওই খুনি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগকে টাকার বিনিময়ে বাঁচানোর জন্য ব্যাকডোরে নেগোসিয়েশন করছে। এই যে মামলা বাণিজ্য, এতে রাজনৈতিক দল যেমন জড়িত রয়েছে, তেমনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও জড়িত রয়েছে। নতুন বাংলাদেশেও পুলিশ সদস্য বিভিন্ন জায়গায় মামলা-বাণিজ্য করছে। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের দালালি আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি না। আপনারা এটা করবেন না। পুলিশ দায়িত্বশীল হলে আগামী ৬ মাসেই বাংলাদেশ ঠিক হয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের ৬৩টি শহিদ পরিবারের মধ্যে ৪৬ পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে চেক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কয়েকজন সমন্বয়ক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলাকে ‘পাগলামি’ বললেন ট্রাম্প
মার্কিন অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলাকে ঘটনাকে পাগলামি বললেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের হামলা চালানো পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। ধার করা অস্ত্র-অর্থ দিয়ে আরেকটি পরমাণু শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোই বোকামি।
বিশ্ব খ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের-২০২৪ সালের বর্ষ সেরা ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হওয়ার পর টাইমের সাথে এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। টাইম ম্যাগাজিনের ২০২৪ সালের বর্সসেরা ব্যডক্ত নির্বাচিত হওয়ার পর এই সাক্ষাতকার ছাপা হয়।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘যা ঘটেছে বা এখনো ঘটছে, তা পাগলামি। রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা নিয়ে আমার ঘোর আপত্তি আছে। আমরা কেন এটা করছি? আমরা কেবল এই যুদ্ধে উস্কানি দিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছি। পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এটা আর চলতে দেওয়া যায় না।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তার সময়ে ইউক্রেন নিয়ে মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও এই ইঙ্গিত তিনি আগে থেকেই দিয়ে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত মাসে ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার গভীরে হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধের প্রেক্ষিতে এবং উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সহায়তা করতে ১৫ হাজার সেনা মোতায়েনের পর বাইডেন এ সিদ্ধান্ত নেন।
ট্রাম্প জানান, প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের দ্রুত অবসান চান। তিনি টাইমকে বলেছেন, সাহায্য করার তার একটি দারুণ পরিকল্পনা আছে। কিন্তু তিনি যদি সেটা এখন ফাঁস করেন, তবে সে পরিকল্পনা প্রায় অর্থহীন হয়ে যাবে।
ইউক্রেন যুদ্ধে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার সঙ্গে অংশ নিলেন উ. কোরিয়ার সেনারা
ইউক্রেনে বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়া প্রথমবারের মতো মিত্রদেশ উত্তর কোরিয়ার সেনাদের ব্যবহার করা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এক ভাষণে এসব কথা বলেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল দখলে রাখতে লড়াইরত ইউক্রেনীয় সেনাদের ওপর হামলায় রুশ বাহিনীর সঙ্গে প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার সেনারা অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর হামলায় রুশ বাহিনীর সঙ্গে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উত্তর কোরিয় সেনা অংশ নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জেনেছেন তারা।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আরও জানান, উত্তর কোরিয় সেনারা রুশ বাহিনীর সম্মিলিত ইউনিটের সঙ্গে কাজ করছেন। এ মুহূর্তে শুধু কুরস্কের যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে এ ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে উত্তর কোরিয় সেনাদের অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হতে পারে।’
ইউক্রেনীয় সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনারা অংশ নিলেও এ পর্যন্ত ইউক্রেনের ভূখণ্ডে তারা প্রবেশ করেননি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, এ যুদ্ধে উত্তর কোরিয় সেনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। এ অবস্থায় কিয়েভের প্রতি পশ্চিমা মিত্রদেশগুলোর নতুন করে জোরাল সমর্থন কামনা করেন তিনি। বলেন, এ নিয়ে আগামী সপ্তাহে তিনি ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রুশ বাহিনীর সঙ্গে উত্তর কোরিয় সেনাদের অংশগ্রহণ করার এ খবর স্বীকার বা অস্বীকার, কোনোটিই করেনি রাশিয়া।
সিরিয়ায় আসাদের পতন নিয়ে প্রথম মুখ খুললেন হিজবুল্লাহপ্রধান
বিদ্রোহীদের দামেস্ক দখলের হুমকির মুখে গত রোববার (৮ ডিসেম্বর) দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়েছেন সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করা লেবাননের সশস্ত্র আন্দোলন হিজবুল্লাহ।
কারণ ইরান থেকে সিরিয়া হয়ে অস্ত্রের চালান আসতো হিজবুল্লাহর কাছে। আসাদের পতনে ইসরাইল সিরিয়া ব্যাপক হামলা চালিয়ে বহু অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে।
সিরিয়ার সরকার পতনের পর প্রথমবার মুখ খুলেছে আসাদের মিত্র হিজবুল্লাহ। অথচ আসাদের পতনের ঠিক কয়েকদিন আগেও সিরিয়াতে বিদ্রোহীরা পরাজিত হবে বলেছিল গোষ্ঠীটি। কিন্তু নাটকীয় পরিস্থিতিতে উৎখাত হয়েছেন বাশার আল-আসাদ। আসাদের ২৪ বছরের শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ঘটে এবং তার পরিবারের পাঁচ দশকের ক্ষমতার চক্র ভেঙে যায়।
হিজবুল্লাহর নতুন প্রধান শেখ নাঈম কাশেম শনিবার স্বীকার করেছেন বিদ্রোহী আক্রমণের মাধ্যমে বাশার আল-আসাদের শাসনের পতনের পর সিরিয়ার মধ্য দিয়ে অস্ত্র সরবরাহের পথ তারা হারিয়েছে।
কাসেম তার টেলিভিশন ভাষণে আসাদের নাম উল্লেখ না করে বলেন, এই নতুন বাহিনী (সিরিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী) স্থিতিশীল এবং সুস্পষ্ট অবস্থান না নেওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ কোনো বিচার করবে না। তিনি আশা করেন, লেবানিজ এবং সিরিয়ার জনগণ এবং সরকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে পারে।
তিনি বলেন, হ্যাঁ, এই পর্যায়ে হিজবুল্লাহ সিরিয়ার মধ্য দিয়ে সামরিক সরবরাহের পথ হারিয়েছে, তবে এটি প্রতিরোধ অক্ষের জন্য বিশদ ক্ষতি।
হিজবুল্লাহপ্রধান বলেন, একটি নতুন রেজিম সিরিয়া শাসনে আসতে পারে এবং এই রুটটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে এবং আমরা অন্য উপায় খুঁজতে পারি।
সিরিয়া হিজবুল্লাহর পৃষ্ঠপোষক ইরানকে লেবাননে অস্ত্রের চালান পাঠানোর জন্য একটি স্থল পথ দিয়েছিল। এই ধরনের চালান প্রায়শই ইসরাইলি বিমান হামলার দ্বারা লক্ষ্যবস্তু হয়। কিন্তু হিজবুল্লাহ এরপরও গোপনে ভারী সামরিক সরঞ্জাম আদান প্রদানে সক্ষম হয়েছিল।
হিজবুল্লাহ ২০১৩ সালে সিরিয়ায় আসাদের ক্ষমতাচ্যুত ঠেকাতে বিদ্রোহীদের দমন করতে সহায়তা করে। আর গত সপ্তাহে, বিদ্রোহীরা দামেস্কের কাছে আসার সাথে সাথে গ্রæপটি সেখানে তার যোদ্ধাদের প্রত্যাহারের তদারকি করার জন্য তত্ত¡াবধায়ক কর্মকর্তাদের পাঠায়।
নতুন সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে নাঈম কাসেম বলেন, আমরা আশা করি ক্ষমতায় থাকা এই নতুন দলটি ইসরাইলকে শত্রু দেশ হিসাবে দেখবে এবং তার সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।
সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলা নিয়ে জবাব দিয়েছেন বাশার আল-আসাদ সরকারকে উৎখাতের নেতৃত্ব দেওয়া ইসলামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি। শনিবার ক্ষমতাগ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ইসরাইল সম্পর্কে কথা বলেছেন তিনি।
সিরিয়ার টিভি নিউজ চ্যানেলের সাথে একটি সাক্ষাত্কারে আল-জোলানি বলেন, সিরিয়ায় বিমান হামলা চালানোর জন্য ইসরাইলের অজুহাত থাকতে পারে না এবং সা¤প্রতিক সময়ে আইডিএফ সিরিয়ার মাটিতে হামলা লাল রেখা অতিক্রম করেছে এবং এই অঞ্চলে একটি অযৌক্তিক উত্তেজনা বৃদ্ধির হুমকি দিয়েছে।
আসাদকে হটানো বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে যুক্তরাষ্ট্র
সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে নেওয়া হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি বিøঙ্কেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
জর্ডানে সিরিয়া নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক ও পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে সংলাপে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অ্যান্থনি বিøঙ্কেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এইচটিএস এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’ তবে তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কীভাবে হলো, তা সুনির্দিষ্ট করেননি তিনি।
সিরিয়ায় ক্ষমতা দখলকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বিøঙ্কেন এমন সময় জানালেন, যখন প্রায় ১২ বছর পর দামেস্কে দূতাবাস চালু করেছে তুরস্ক।
সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তুরস্ক। দেশটি সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে এবং সেখানে স্বাধীনতাপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করে। পাশাপাশি এইচটিএসের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি বাশার আল-আসাদকে উৎখাতের অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিল।
‘মার্কিন সাংবাদিককে’ ১০ বছরের কারাদণ্ড দিল ইরান
ইরানি-আমেরিকান এক সাংবাদিককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ইরান। তার নাম রেজা ওয়ালিজাদেহ। মার্কিন সরকারকে সহযোগিতা করার দায়ে তাকে এই দণ্ড ইরানের এক আদালত।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের একটি আদালত ইরানি-আমেরিকান সাংবাদিক রেজা ওয়ালিজাদেহকে শত্রু দেশ তথা মার্কিন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করার পর ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বলে তার আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন।
ওয়ালিজাদেহের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন আগাসি বার্তা সংস্থা এপি নিউজকে বলেন, তেহরানের বিপ্লবী আদালত এক সপ্তাহ আগে এই রায় দিয়েছে এবং পরবর্তী ২০ দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি ওয়ালিজাদেহের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন আগাসি বলেন, রেডিও ফারদাতে কাজ করার অপরাধে ওয়ালিজাদেহের ১০ বছরের কারাদণ্ড, তেহরান প্রদেশ এবং প্রতিবেশী প্রদেশে বসবাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা, দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক দলগুলোতে দুই বছরের জন্য সদস্যপদ স্থগিতের মতো শাস্তি হয়েছে।
রেজা ওয়ালিজাদেহ মার্কিন-সরকারের-অর্থায়নকৃত ভয়েস অব আমেরিকার ফার্সি ভাষা পরিষেবার সাবেক একজন সাংবাদিক। এছাড়াও তিনি রেডিও ফারদাতে কাজ করেছেন। রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টির অধীনস্ত এই আউটলেটটি ইউএস এজেন্সি ফর গেøাবাল মিডিয়ার তত্ত¡াবধান পরিচালিত হয়।
গত আগস্টে ওয়ালিজাদেহ দৃশ্যত দুটি বার্তা পোস্ট করেন, যা থেকে বোঝা যায় যে তিনি ইরানে ফিরে এসেছেন, যদিও রেডিও ফারদাকে ইরানের সরকার শত্রু চর হিসেবে দেখে থাকে। বার্তাটিতে আংশিকভাবে লেখা ছিল, আমি ২০২৪ সালের ৬ মার্চ তেহরানে পৌঁছেছি। এর আগে, (বিপ্লবী গার্ডের) গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে আমার আলোচনা অসমাপ্ত ছিল। অবশেষে আমি ১৩ বছর পর কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়াই আমার দেশে ফিরে এসেছি, এমনকি মৌখিক নিশ্চয়তাও নেই।
আগাসি জানান, আসার পর প্রথম ছয় মাস তিনি মুক্ত ছিলেন এবং পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অমিতাভের নাতিকে জড়িয়ে ধরলেন রেখা
মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত বলিউড কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কাপুরের শতবর্ষ উদযাপনে গিয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রেখা। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের নাতি অগস্ত্য নন্দাকে জড়িয়ে ধরেন অভিনেত্রী রেখা। এরপরই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
বিগ বি অমিতাভ বচ্চন ও রেখার সম্পর্ক একসময় বলিউডে আলোড়ন তুলেছিল। বিয়ের পরও অমিতাভের সঙ্গে রেখার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। যে কারণে অনুষ্ঠানে অগস্ত্য নন্দাকে জড়িয়ে ধরার সেই মুহূর্তের ভিডিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনরাও নানা রকম মন্তব্য করেছেন। যাদের অধিকাংশেরই প্রশ্নÑ তাহলে কি এখনো অমিতাভকে ভুলতে পারেননি রেখা?
ঐতিহাসিক এ অনুষ্ঠানে রেখাকে রাজ কাপুরের একটি পোস্টারের দিকে আবেগভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে। পোস্টারটি দেখে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এ সময় অভিনেত্রীর চোখে জলে ভিজে ওঠে।
পিভিআর ইনক্স ও ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যালে রাজ কাপুরের জনপ্রিয় সিনেমাগুলো প্রদর্শিত হয়েছে, যার মধ্যে আওয়ারা, শ্রী ৪২০ এবং মেরা নাম জোকার উল্লেখযোগ্য। তিন দিনের এ আয়োজন ভারতের ৪০টি শহরের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে বলিউডের বড় বড় তারকারাও অংশ নিচ্ছেন।
কুম্ভমেলায় কেউ পদপিষ্ট হলে কি ঈশ্বরের দায়: রামগোপাল
কুম্ভমেলাতেও উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। সেখানে কেউ পদপিষ্ট হয়ে কারও মৃত্যু হলে কি ঈশ্বরকে গ্রেফতার করা হবে? এমন প্রশ্ন তুললেন বলিউড পরিচালক রামগোপাল ভার্মা। এক রাত কারাবাস করে শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে বাড়ি ফেরেন দক্ষিণী সুপারস্টার আল্লু অর্জুন। সেই গ্রেফতার ঘটনা নিয়ে এ প্রতিক্রিয়া জানান রামগোপাল। আল্লুকে সমর্থন করে তিনি কয়েকটি প্রশ্ন তোলেন।
রামগোপালের প্রশ্ন কুম্ভমেলা বা ব্রাহ্মোৎসবে যদি কেউ পদপিষ্ট হন, তাহলে কি ঈশ্বরকে গ্রেফতার করা হবে? দ্বিতীয়ত রাজনৈতিক জমায়েতে পদপিষ্ট হয়ে কারও মৃত্যু হলে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করা হবে তো? চলচ্চিত্র সংক্রান্ত কোনো অনুষ্ঠানে কেউ পদপিষ্ট হলে কি নায়ক-নায়িকা দুজনকেই গ্রেফতার করা হবে? পুলিশ ও আয়োজক ছাড়া আর কে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে!
এর আগে গত শুক্রবার অভিনেতা আল্লু অর্জুনের গ্রেফতার নিয়ে কথা বলেছিলেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতও। তার দাবি, কেউ-ই এ ঘটনার দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। মান্ডির লোকসভার সংসদ সদস্য বলেছেন, খুব দুঃখজনক ঘটনা। আমি নিজে আল্লু অর্জুনের বড় সমর্থক। কিন্তু এটিও বলবÑ কিছু ক্ষেত্রে আপনার দৃষ্টান্ত তৈরি করা উচিত। তিনি জামিন পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু উচ্চ স্তরের মানুষ বলেই কোনো ফল ভোগ করতে হবে নাÑ এমন যেন না হয়। মানুষের জীবনের কিন্তু দাম দেওয়া যায় না।
গতকাল শনিবার আল্লু বাড়ি ফিরতেই তার সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছে গিয়েছিলেন রানা দগ্গুবতী, নাগা চৈতন্যরা।
উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর হায়দরাবাদের সন্ধ্যা প্রেক্ষাগৃহে ছিল ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’-এর বিশেষ প্রদর্শন। আল্লু অর্জুন উপস্থিত থাকায় উপচে পড়েছিল ভিড়। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক নারীর। ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয় আল্লুর বিরুদ্ধে এবং গ্রেফতার করা হয় দক্ষিণী অভিনেতাকে। যদিও অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে তাকে।


