বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান একটা সময় কাজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রীর কাজের সময় সিদ্ধার্থ থাকবে না সেটে, তা না হলে সেই কাজ ছেড়ে দেবেন বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। পরে নির্মাতাদের তরফে অভিনেত্রীকে আশ্বস্ত করা হয় যে, শুটিং সেটে সিদ্ধার্থ থাকবেন না।
আনন্দবাজার প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত জীবন ক্যামেরার আড়ালে রাখতেই বেশি পছন্দ করেন অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরের সঙ্গে দাম্পত্যের এক যুগ কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি। বেশ কয়েক বছর প্রেমপর্বের পর ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সাতপাকে বাঁধা পড়েন দুজনে। পেশাগত দিক থেকে একই ক্ষেত্রে বিচরণ করলেও স্বামীর সঙ্গে কাজ করতে নারাজ অভিনেত্রী। একসময় প্রকাশ্যে এমনই জানিয়েছিলেন বিদ্যা। কিন্তু কেন? এর উত্তরে যে কথা বললেন অভিনেত্রী।
বিদ্যা বালান বলেন, পেশাগত ও ব্যক্তিগত দিক সবসময় পৃথক রাখা উচিত। সম্পর্কে যেমন পেশার প্রভাব পড়া উচিত নয়, ঠিক তেমনই ব্যক্তিগত সমীকরণের জেরে পেশা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মুশকিল। আরও একটি ব্যাখ্যা রয়েছে অভিনেত্রীর। অন্য পরিচালক বা প্রযোজকদের সঙ্গে পেশাদারের মতো করেই মত আদানপ্রদান করতে পারেন বিদ্যা। সে ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসুবিধা হলে সরাসরি বলতে পারেন। কিন্তু সিদ্ধার্থের সঙ্গে সেই সহজ কথোপকথন হবে না বলেই জানান অভিনেত্রী। সেখানে পেশাদারিত্ব ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত সমীকরণ প্রকট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থেকেই যায়। বিশেষত পারিশ্রমিক নিয়ে মধ্যস্থতা করতে পারবেন না নিজের স্বামীর সঙ্গে। বিদ্যা বলেন, সিদ্ধার্থের সঙ্গে যেহেতু আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আমার মনে হবে ওর সঙ্গে লড়াই করতে পারি, যা বলছি তা নিয়ে জোর করতে পারব।
এ অভিনেত্রী বলেন, তার ও সিদ্ধার্থের মধ্যে প্রায়ই তর্কবিতর্ক হয়। পেশার কারণে নিজেদের মধ্যে বাড়তি দ্ব›দ্ব তৈরি করতে চান না তিনি। তিনি বলেন, এমনও হয়েছেÑ বাড়িতে অশান্তি এড়াতে কিছু চিত্রনাট্য ছেড়েও দিতে হয়েছে তাদের। ব্যক্তিগত সম্পর্ক তার কাছে মূল্যবান। তাই সচেতনভাবেই স্বামীর সঙ্গে কাজ করা এড়িয়ে যান অভিনেত্রী।
বিদ্যা বালান বলেন, অতীতে ‘ঘনচক্কর’ ছবিতে সিদ্ধার্থের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছিল, যে অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর ছিল না। সেই সময় কাজ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন বলেও জানান অভিনেত্রী। পরে নির্মাতাদের তরফে অভিনেত্রীকে আশ্বস্ত করা হয় যে, বিদ্যার কাজের সময় সিদ্ধার্থ থাকবেন না সেটে।
শুটিং সেটে স্বামী থাকলে কাজ করব না: বিদ্যা
বদভ্যাস পরিবর্তনে প্রশাসনের কিছু করার থাকে না: কঙ্গনা
সংগীতশিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জের গানে মদ ও মাদকের ব্যবহার নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে উত্তাল গোটা ভারত। তেলেঙ্গানা ও গুজরাটে এ নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন গায়ক। গানের কথা বদলে অনুষ্ঠান করতে হয়েছে তাকে। এবার গানের কথায় মদ, মাদক বা হিংসার উল্লেখ থাকলে কী করা উচিত, তার উদহারণ দিলেন বিজেপির মান্ডির সংসদ সদস্য ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।
পাঞ্জাবি রকস্টার দিলজিতের গানের ভক্ত ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। গত কয়েক মাসে তিনি ভারতের বিভিন্ন শহরে গানের অনুষ্ঠান করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তেলেঙ্গানা আর গুজরাটে তাকে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে। সেই গান খানিক উচ্চকিত বটে। গানের কথায় অনেক সময়ই আবেগের ছোঁয়া ধরা পড়ে। বিশেষত দুটি গান নিয়েই বিতর্কÑ ‘পাঁচ তারা’ আর ‘লেমোনেড’। এই দুটি গানের কথায় মদ ও মদের ঠেকের উল্লেখ রয়েছে। ওই দুটি গানের কথা বদলে গাইতে হয়েছে তাকে। যদিও এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন দিলজিৎ।
মঞ্চে উঠেই তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন তিনি নিজে মদপান করেন না। এমনকি গানের মাধ্যমে তিনি মদপানবিরোধী প্রচার চালাতেও প্রস্তুত; কিন্তু তার আগে প্রশাসনকে উদ্যোগী হয়ে সব মদের দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।
এবার দিলজিতের পাশেই যেন দাঁড়ালেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। এ মান্ডির সংসদ সদস্য বলেন, শৈল্পিক অভিব্যক্তি কারও ধার ধারে না। হিমাচল লোকসংগীতেও এমন অনেক বিষয় রয়েছে। শিল্পের ক্ষেত্রে আবেগটাই বড় বিষয়। কিন্তু যখন মানুষ সেটিকে বদভ্যাসে পরিণত করে ফেলেন, তখন আর প্রশাসনেরও কিছু করার থাকে না। দায়িত্বটা সাধারণ নাগরিকেরও।
স্মার্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশকে দাপট দেখাতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কতটা আগ্রাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ; সেটা কম বেশি সকলেরই জানা। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলাটায় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্র্যান্ড। যে কারণে গোটা বিশ্বেই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দলটি। সেই দলটির বিপক্ষেই এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টিতে লড়বে বাংলাদেশ। আগামীকাল থেকে শুরু হবে যেই সিরিজ।
তবে ভয়ডরহীন ক্রিকেটে যেমন দাপুটে জয় পাওয়া যায়, তেমনি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার শঙ্কাও থাকে। যেটা ইতোপূর্বে বহুবার ঘটেছে। তাছাড়া সেন্ট ভিনসেন্টের কিংস্টন আর্নেস ভ্যালে গ্রাউন্ডে হতে যাওয়া এই সিরিজের আগে এই মাঠের অতীত পরিসংখ্যান নিয়েও ভাবতে হবে স্বাগতিকদের।
এই মাঠের অতীত পরিসংখ্যান বলছে- এখানে কখনোই খুব বেশি আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার সুযোগ নেই। এই মাঠে এখন পর্যন্ত দলীয় সর্বোচ্চ ১৫৯ রান হয়েছে। আর সেই রানটা বাংলাদেশেরই। সবশেষ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশ যা করে। আর এই মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ পুঁজি ১৫২। যে কারণে এই মাঠে ভয়ডরহীন ক্রিকেটের চেয়ে বরং স্মার্ট ক্রিকেটেই বেশি জোর ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলের।
প্রথম ম্যাচের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘মূল ব্যাপার হলো ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা। যখন আমরা ভয়ডরহীন থাকব, কিছুটা স্মার্টনেসও মেশাতে হবে আমাদের। গত ১৫ মাস বা এই সময়ে আমরা বড় পদক্ষেপ নিয়েছি। সেই ধারা আমরা ধরে রাখতে চাই।’
পাওয়েল আরও বলেন, ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ (বছরটি ভালোভাবে শেষ করা)ৃ। টি-টোয়ন্টি ক্রিকেটে এই বছরটি আমাদের জন্য ছিল মিশ্র। কিছু সিরিজ আমরা জিতেছি, কিছু হেরেছি। এই বাংলাদেশ সিরিজ আমাদেরকে সুযোগ করে দিচ্ছে বছরটি ভালোভাবে শেষ করার।’
বাংলাদেশকে দাপট দেখাতে চায় জানিয়ে পাওয়েল বলেন, ‘কোনো দল যখনই ঘরের মাঠে খেলে, সবসময়ই দাপট দেখাতে চায়। আমরা সেই চেষ্টাই করে যাব। আমাদের জন্য ব্যাপারটি হলো ভালো ক্রিকেট খেলা এবং লম্বা সময় ধরে ভালো খেলে যাওয়া।’
এই মাঠে লো স্কোরিং ম্যাচ হলেও এবার ভিন্ন কিছু হবে বলে আশা করছেন পাওয়েল। তার মতে, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি থেকে উইকেট এবার পুরোপুরি ভিন্ন মনে হচ্ছে। আশা করি, কালকেও উইকেট ভালো থাকবে এবং উইকেট ভালো থাকা মানে ভালো ক্রিকেট খেলার সুযোগ। আশা করি, সেন্ট ভিনসেন্টের মানুষ মাঠে এসে আমাদেরকে সমর্থন করবেন সিরিজজুড়েই।’
লিটনের কণ্ঠে টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে সমতা টানতে পারলেও ওয়ানডেতে বাজেভাবে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজের দল হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে। এমন হারের পর আগামীকাল তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। যেখানে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস।
ওয়ানডেতে হতশ্রী পারফরম্যান্স করলেও দলকে নেতৃত্ব দিতে মুখিয়ে লিটন। হতাশা ভুলে টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক। ম্যাচের আগের দিন বিসিবির প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় সেই প্রত্যয়ের কথায় জানিয়েছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবকটি ম্যাচই হবে সেন্ট ভিনসেন্টে। যেখানে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন লিটন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে খেলার কঠিন সেই সমীকরণ মেলাতে পারেননি তিনি।
ধীর গতির সেই উইকেটকে এবার কেমন দেখছেন লিটন। যা নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘বিশ্বকাপে যে উইকেট ছিলো আর এখন যে উইকেট আছে তারমধ্যে একটু তফাৎ আছে। গতকাল যখন অনুশীলন করেছি মনে হয়েছে উইকেটটা একইরকম না। তারা হয়তো ভিন্নভাবে বানিয়েছে।’
ম্যাচের আগেরদিন বৃষ্টির কারণে ক্রিকেটাররা মাঠেই নামতে পারেননি। তবে অধিনায়ক লিটনের আশা ক্রিকেটাররা যেহেতু খেলার মধ্যে রয়েছেন কাজেই খুব একটা সমস্যা দেখছেন না তিনি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটা যে কঠিন হবে সেটা মানছেন তিনি।
লিটন বলেন, ‘সাধারণত টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো আমাদের জন্য কঠিনই হয়। যেহেতু এটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হোম গ্রাউন্ডে খেলা হবে, একটু কঠিনই হবে। চেষ্টা করব এখান থেকে কীভাবে বের হয়ে আসা যায় এবং ভালো একটা সিরিজ খেলার জন্য।’
আগামীকাল সেন্ট ভিনসেন্টের কিংস্টন আর্নেস ভ্যালে গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি শুরু হবে ভোর ৬টায়। এরপর ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ। সেই ম্যাচ দুটিও হবে একই ভেন্যুতে একই সময়ে।
পাকিস্তানের ‘টাওয়ার অব ক্রিকেট’ এর অবসর
আনপ্রেডিক্টেবল শব্দটা পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে জুড়ে আছে লম্বা সময় ধরেই। মাঠের ক্রিকেটে যেমন এর মিল পাওয়া যায় তেমনি মাঠের বাইরেও এমনটি দেখা যায় হরহামেশায়। কে কখন বোর্ড প্রধান হচ্ছে, কোচ, নির্বাচক, অধিনায়ক, কিংবা অবসর বলছে বা ভাঙছে তা আগে থেকেই অনুমান করা কঠিন।
এবার পাকিস্তানে লেগেছে অবসর বলার হিড়িক। গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তৃতীয় ক্রিকেটারের অবসরের ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানে। মোহাম্মদ ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমিরের পর এবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ‘টাওয়ার অব ক্রিকেট’ খ্যাত দেশটির সবচেয়ে লম্বা ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইরফান।
শুক্রবার বিকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দ্বিতীয়বারের মতো অবসরের ঘোষণা দেন পাকিস্তানের স্পিন অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম। গতকাল শনিবার সকালে ইমাদের পথ অনুসরণ করেছেন তারকা ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমির। তিনিও জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দ্বিতীয়বারের মতো। আর আজ অবসর ঘোষণা দিলেন ৪২ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার ইরফান। তিনি অবশ্য এবারই প্রথমবার অবসরের ঘোষণা দিলেন।
পেস বোলার হিসেবে নিজের উচ্চতার কারণে আলাদাভাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন ইরফান। ৭ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার এই বোলারই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা খেলোয়াড়। যে কারণে তাকে ‘টাওয়ার অব ক্রিকেট’ নামেও ডাকা হতো। সেই তিনি ক্যারিয়ারে শেষবার খেলেছিলেন ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
নিজের অবসর বার্তায় দীর্ঘদেহী এই পেসার লিখেছেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আমার সতীর্থ ও কোচদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, উৎসাহিত করেছেন এবং অবিস্মরণীয় স্মৃতি তৈরি করেছেন, সে জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। যে খেলাটি আমাকে সবকিছু দিয়েছে, আমি তাকে সমর্থন করে যাব এবং উদযাপন করব।’
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৮৬ ম্যাচ খেলেছেন ইরফান। উইকেট নিয়েছেন ১০৯টি।
শ্রীলংকাকে উড়িয়ে নবম বাংলাদেশ
ওমানের মাস্কাটে অনুষ্ঠিত স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার শ্রীলংকাকে ৮-০ গোলে হারিয়ে নারী হকি জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশ নারী হকি দল নবম স্থান অর্জন করেছে।
মেয়েদের জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে টানা চার ম্যাচে হারার পর বাংলাদেশ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায়। রিয়া আরলিনের হ্যাটট্রিকসহ চার গোলের সুবাদে শ্রীলংকাকে ৮-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নবম হয়েছে বাংলাদেশ।
একচেটিয়া খেলায় লংকানরা উড়ে যায়। রিয়া আরলিনের চার গোল ছাড়াও ফাতেমাতুজ্জোহরা, অর্পিতা পাল, নাদিরা ইমা ও সোনিয়া খাতুন একটি করে গোল করেন। এই জয়ে নবম হয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ।
এর আগে, হকি জুনিয়র এশিয়া কাপ অভিযানে গ্রুপ এ ম্যাচে শক্তিশালী চীনের কাছে বাংলাদেশ হারে ১৯-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। এরপর দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে ভারতের কাছে ১৩-১ গোলে হারে বাংলাদেশ। এরপর থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর মালয়েশিয়ার কাছে হারে ৬-১ ব্যবধানে।
ফ্রাঁসোয়া বায়রুকে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা
দেশজুড়ে কয়েকদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর অবশেষে নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মধ্যপন্থী রাজনীতিক ফ্রাঁসোয়া বায়রুর নাম ঘোষণা করেছেন তিনি।
ফ্রান্সের পার্লামেন্টে ঐতিহাসিক অনাস্থা ভোটে গত ৪ ডিসেম্বর ক্ষমতাচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী মিশেল বার্নিয়ার। পরের দিন জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মাক্রোঁ নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সেদিন তিনি তা করেননি। এরপর মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দলের নেতাদের বৈঠকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করতে তাকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়া হয়।
তবে সেই সময়সীমাও অতিক্রান্ত হলে আজ (শুক্রবার) নতুন প্রধানমন্ত্রীর নামের ঘোষণা আসতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। অবশেষে সেই খবর সত্যি করে ফ্রাঁসোয়া বায়রুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।
মাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ৭৩ বছর বয়সী বায়রু মধ্যপন্থী জোটের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। গত কয়েক দশক ধরে ফরাসি রাজনীতিতে তিনি সুপরিচিত নাম। তিনি দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একজন মেয়র এবং মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (মোডেম) দলের শীর্ষ নেতা। ২০০৭ সালে তিনি নিজেই দলটি প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে রক্ষণশীল সরকারের শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে ফরাসি জনগণের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন এই রাজনীতিক। এরপর ২০০২, ২০০৭ ও ২০১২ সালে তিনবার দেশটির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ছিলেন তিনি।
পরে ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় মাক্রোঁকে সমর্থকন দেন বায়রু। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে মাক্রোঁ তাকে ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলেও পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তহবিল তছরুপের অভিযোগে মোডেমের বিরুদ্ধে তদন্তের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন।
চলতি বছর প্যারিসের একটি আদালত ওই মামলায় মোডেমের ৮ কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত ও দলটিকে জরিমানা করলেও বায়রুকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে অব্যাহতি দেয়।
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন মাক্রোঁ। বাইরু হতে যাচ্ছেন তার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী।
চলতি গ্রীষ্মে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। তারপর থেকেই দেশটির রাজনৈকিক অঙ্গনে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বায়রুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বায়রুর কাজ হবে একটি নতুন সরকার গঠন করা। নতুন মন্ত্রী নির্বাচনে আগামী দিনগুলোতে তিনি বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই কাজ বায়রুর জন্য মোটেও সহজ হবে না। কারণ, ফ্রান্সে সর্বশেষ সংসদীয় নির্বাচনে কোনো দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় একটি ঝুলন্ত সংসদ গঠিত হয়। সেখানে মাক্রোঁর মধ্যপন্থী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে সরকার গঠনে বাম ও ডান উভয় পক্ষের মধ্যপন্থী নেতাদের ওপর তার নির্ভর করতে হবে। এমনকি, রক্ষণশীল নেতাদের কেউ কেউ নতুন সরকারের অংশ হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : ইউএনবি
ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় রাশিয়ার ৯৩টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে শুক্রবার ভোরে ৯৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উদ্ধৃতি দিয়ে শুক্রবার কিয়েভ থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
ইউক্রেনের নেতা সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরেকটি রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ৯৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তিনি পশ্চিমা বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার ও মস্কোর উপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র : এএফপি
সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় আরো ৪৫ জন নিহত
সুদানের পশ্চিমাঞ্চলের আবাসিক এলাকা ও শরণার্থী শিবিরে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) গোলাবর্ষণে অন্তত ৪৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর (এসএএফ) ষষ্ঠ পদাতিক ডিভিশনের কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্রোহী মিলিশিয়াদের ইচ্ছাকৃত গোলাবর্ষণের ফলে গতকাল (বৃহস্পতিবার) এল ফাশের শহরের আশপাশের এলাকা ও শরণার্থী শিবিরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গণহত্যা প্রত্যক্ষ করা হয়েছে। এতে শিশু ও নারীসহ ৪৫ জন নিহত এবং আরো ২৮ জনকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এল ফাশেরের দক্ষিণাঞ্চলের আবাসিক এলাকা, শহরের দক্ষিণে অবস্থিত জমজম শরণার্থী শিবির ও উত্তরের আবু শৌক শিবির লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়।
হামলার বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি।
২০২৩ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে পশ্চিম সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী এল ফাশেরে এসএএফ ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। গত ১০ মে থেকে এই সঙ্ঘাত আরো তীব্র হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, সুদানের ভেতরে বা বাইরে প্রাণঘাতী এই সঙ্ঘাতে এ পর্যন্ত ২৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সূত্র : এএফপি
আবারো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের
পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বহু মত ও পথের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি একথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজ পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। হারিয়ে যাওয়া আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বহু মত ও পথের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে শাহাদৎ বরণকারী দেশের প্রথম শ্রেণীর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অম্লান স্মৃতির প্রতি আমি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করি।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস জাতির ইতিহাসে এক মর্মস্পর্শী ও শোকাবহ দিন। অমর বুদ্ধিজীবীরা দেশের ক্ষণজন্মা শ্রেষ্ঠ সন্তান, যারা একটি সমৃদ্ধ এবং মাথা উঁচু করা জাতি দেখতে চেয়েছিলেন। তারা ন্যায়বিচারভিত্তিক শোষণমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু হানাদার বাহিনীর দোসররা চূড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই অগণতান্ত্রিক শক্তি তাদের মুখোশ খুলে ফেলে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ন্যায় দেশের মানুষের সর্বজনীন গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো একের পর এক হরণ করতে থাকে। এক নদী রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দিনে দিনে দুর্বল করে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশা ধূলিসাৎ করে। সেই দুঃশাসনের ঐতিহ্য ধারণ করে তাদের উত্তরসূরী আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা বিভেদ, অনৈক্য, সংকীর্ণতা, গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের দ্বারা ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়া ও জাতীয় অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল এবং গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। সুতরাং আমাদের রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ এবং দেশকে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার বদলে একদলীয় দুঃশাসনের বাতাবরণ তৈরি করে। সুতরাং আজ পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। হারিয়ে যাওয়া আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বহু মত ও পথের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা আমাদের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে যাবেন।’
‘আজকের এ শোকাবহ দিনে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই- আসুন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা একসাথে কাজ করি,’ বলেন তিনি।
আমি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারেক রহমান।


