Home Blog Page 486

কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির সম্মুখীন হওয়ার পর কানাডার লিবারেল পার্টি রোববার সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকার নবীন রাজনীতিক মার্ক কার্নিকে পরবর্তী নেতা হিসেবে বেছে নিতে প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে।

অটোয়া থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি ইংল্যন্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সফলতার সাথে অর্থনৈতিক নানা সঙ্কট মোকাবিলা করেছেন।

কার্নি রোববার প্রায় চার লাখ দলীয় সদস্যের ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর নতুন লিবারেল নেতা হিসেবে মনোনীত হবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রুডোর সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ২০১৫ সালে প্রথম নির্বাচিত লিবারেল সরকারের বেশ কয়েকটি সিনিয়র মন্ত্রিসভা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

কার্নি ট্রুডোর মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্যের সমর্থনসহ ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। ট্রুডোর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ায় ক্রিস্টিয়া পিছিয়ে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটে যিনি জিতবেন তিনিই ট্রুডোর থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

তবে সেক্ষেত্রে শিগগির একটি সাধারণ নির্বাচনের সম্মুখীন হতে হবে। নির্বাচনে বর্তমান জরিপগুলোয় প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টি জয়ের জন্য পছন্দের তালিকায় কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার কানাডাকে সংযুক্ত করার কথা বলেছেন এবং কানাডিয়ান অর্থনীতির প্রাণশক্তি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন।

কার্নি ও ফ্রিল্যান্ড উভয়ই নিজেদেরকে কানাডাকে রক্ষা করার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছেন।

শপিংমলে আগেভাগেই ঈদের কেনাকাটার ধুম

রমজান শুরুর প্রথম ছুটির দিন থেকেই বিপণি বিতান, শপিংমল ও ফুটপাথে ঈদ কেনাকাটার ধুম পড়েছে। গত শুক্রবার থেকে প্রতিটি শপিংমল, রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাথে ভিড় করছেন ক্রেতারা। নিজেদের স্বাধ্যমতো কেনাকাটা করতে পছন্দের পোশাক খুঁজে বেড়াচ্ছেন। ক্রেতারা বলছেন শুরুতে শপিংয়ে পছন্দের ডিজাইন ও সাইজ পাওয়া যায়। কেনা পোশাক পছন্দ না হলে পরিবর্তনের সময়ও বিড়ম্বনা হয় না। পর্যাপ্ত সংগ্রহ থাকায় ইচ্ছেমতো রদবদলও করা যায়। কিন্তু দেরিতে শপিং করলে ডিজাইন, রঙ আর প্রয়োজনীয় সাইজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ভালো সুযোগ হাতছাড়া না করতেই তারা আগেভাগে কেনাকাটা সারছেন।

রমজান শুরুর প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর একাধিক শপিংমল, বিপণি বিতান ও ফুটপাথ ঘুরে কেনাকাটার এমন চিত্র উঠে আসে।

রাজধানীর নাটকপাড়া বলে খ্যাত বেইলি রোডের নাভানা বেইলি স্টার, সিরাজ শপিং কমপ্লেক্স, ইনফিনিটি, ইয়োলো, সাদাকালো, অঞ্জনস, আর্টিসানসহ অভিজাত বিপণি ও পোশাকের দোকানগুলোতে গিয়ে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়।

ইনফিনিটির এক কর্মী জানান, তাদের এখানে সবধরনের পোশাক ছাড়াও ঘর সংসারের সামগ্রী, বোরকা, কসমেটিকস, জুতা, শোপিস ও শিশুদের নানান সামগ্রী রয়েছে। সকাল থেকে গেট খোলা থেকে বন্ধ হওয়া পর্যন্ত ক্রেতারা আসছেন। নিজেদের পছন্দের পোশাক নিয়েই তারপর ঘরে ফিরছেন। তাতে আশাবাদী যে, গতবারের চেয়ে এবার বিক্রি বাড়বে।

আর্টিসানের এক বিক্রয়কর্মী জানান, মূলত প্রতি বছর রমজানের শুরুতে এমন ক্রেতার দেখা কম মেলে। এবার শুরুতেই বিক্রি জমেছে। সকাল থেকে বন্ধ পর্যন্ত ক্রেতা আসছেন। যারাই আসেন তারা যে একেবারে খালি হাতে ফিরছেন তা নয়। কিছু না কিছু কেনাকাটা করছেন।

ইয়েলোর এক নারী বিক্রয়কর্মী জানান, ঈদ ঘিরে তারা অনেক ডিজাইন নিয়ে এসেছেন। নারী-পুরুষ ও শিশুদের জন্য নিত্যনতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি, পায়জামা, থ্রিপিস-সহ সবই তারা বিক্রি করছেন। ক্রেতারা যাতে তাদের পছন্দের কাপড়টি কিনতে পারেন তা ধারণায় রেখেই এবার ডিজাইনে নতুনত্ব আনা হয়েছে। এতে করে আগতরা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করছেন। অপর দিকে মগবাজার আড়ংয়ে গিয়েও ক্রেতার ভিড় লক্ষ করা যায়। আড়ংয়ের বিক্রয়কর্মীরা জানান, তাদের মনে হচ্ছে এবার একটু আগেভাগেই বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। তবে এমন ভিড় সাপ্তাহিক বন্ধের কারণ কি না তা অবশ্য পরে বুঝা যাবে। তাদের ভাষ্য, প্রতি বছর শপিং একটু সময় নিয়েই শুরু হয়; কিন্তু এবার একটু এডভান্স মানুষ শপিংয়ে নামছেন ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির বিড়ম্বনা এড়াতে।

বসুন্ধরা শপিংমলে শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রবেশপথে মানুষের দীর্ঘ লাইন। সারিবদ্ধ মানুষকে চেক করিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন। এ সময় একজন নিরাপত্তাকর্মী জানান, শুক্রবার থেকে মার্কেটে অনেক ক্রেতা আসছেন। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার মনে হচ্ছে বেশি মানুষ আসছেন।

মার্কেটের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় প্রতিটি লিফটের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন। চলন্ত সিঁড়িতে মানুষর ভিড়। একজন বিক্রেতা বলেন, এবার বসুন্ধরা মার্কেটে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইটেম অনুযায়ী শপিংমল সাজানো হয়েছে। ক্রেতা যাতে তার পছন্দের সব একসাথে খুজে পান সে জন্য এমন ব্যবস্থা। সে অনুযায়ী সব মোবাইল দোকান গ্রাউন্ড ফ্লোরে, ব্যাগ, জুতাসহ চামড়ার সব সামগ্রী ছয় তলায় আনা হয়েছে। এভাবে করে প্রতিটি ফ্লোরকে পণ্য অনুযায়ী এক করে অনা হয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্য বাড়তি সুবিধা যোগ করেছে।

আগেভাগেই কেনাকাটার কারণ সম্পর্কে একাধিক ক্রেতা জানান, আগে শপিং করলে পছন্দের সব আইটেম পাওয়া যায়। সময় যত ঘনিয়ে আসে তাতেই ডিজাইন পর্যাপ্ত থাকে না। আবার অনেকসময় কাপড় কেনার পর বাসায় নিয়ে কোনো কারণে পরিবর্তন করতে হয়। দেরিতে শপিং কারলে সে সুযোগটি নেয়া গেলেও সাইজ বা ডিজাইন পর্যাপ্ত না থাকায় তখন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সবমিলিয়ে পরবর্তী ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতেই তারা আগেই শপিং সারছেন বলে জানান।

মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্ক কি ভঙ্গুর ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার তার দেশ সম্পর্কে একটি রূঢ় পর্যবেক্ষণ জানিয়েছিলেন। তা হলো- যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু তার বন্ধু হওয়া প্রাণঘাতী বিষয়। তার এই পর্যবেক্ষণ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন তার বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে তার ভূমিকায় অগ্রসর হচ্ছে, তখন তার জোটগুলো, যা একসময় অটল বলে বিবেচিত হতো, ক্রমশ শর্তসাপেক্ষ বলে প্রকাশ পাচ্ছে। এই ভঙ্গুরতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুই মিত্র দেশ ইসরাইল ও ইউক্রেনের ক্ষেত্রে।

ইসরাইল গত কয়েক দশক ধরে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বিশেষ আনুগত্য উপভোগ করে এসেছে, যা একটি শক্তিশালী লবির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হতো। অন্যদিকে, ইউক্রেন সহায়তা নিশ্চিত করতে ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ভর করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির পরিবর্তনের সাথে সাথে ইসরাইলের একসময়ের দুর্ভেদ্য অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এক নতুন প্রজন্মের মূল্যবোধ, মার্কিন ইহুদিদের মধ্যে নৈতিক হতাশা ও ইউক্রেনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ‘লেনদেনভিত্তিক পরিত্যাগের’ আশঙ্কা এই ঐতিহাসিক মিত্রতার অবসান ঘটানোর হুমকি দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রভাব বহুদিন ধরেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। সেখানে ইসরাইলের প্রভাব আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপিএসি) ও গভীরভাবে প্রোথিত একটি ইহুদি রাষ্ট্রপন্থী লবির মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছিল। এই শক্তি প্রতিবছর ইসরাইলের জন্য বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সহায়তা ও জাতিসঙ্ঘে কূটনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। সেখানে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে নৈতিক দায়িত্ব ও কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এই প্রভাব শুধু লবির ক্ষমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি মার্কিন ইহুদিদের সাথে একটি পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তাদের অনেকেই ইসরাইলকে একটি সাংস্কৃতিক আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখে, যা ইউরোপে ইহুদি গণহত্যার ফলে সৃষ্ট মানসিক আঘাত এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তাদের মিত্রদের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির অবস্থার মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

এর বিপরীতে, ইউক্রেনের তেমন প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি নেই। ইসরাইলপন্থী লবির তৈরি করা ভিত্তিও এখন ভীষণভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে তরুণ প্রগতিশীল মার্কিনীদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। যেখানে আগের প্রজন্ম ইসরাইলকে গণতান্ত্রিক মিত্র হিসেবে দেখত, সেখানে তরুণরা ক্রমশ এটিকে একটি ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই পরিবর্তনকে তীব্রতর করেছে। অবরুদ্ধ গাজার ধ্বংসস্তূপের ছবি, বিধ্বস্ত হাসপাতাল, শোকার্ত পরিবার ও বাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা শিশুদের নিথর দেহ- এসব তরুণদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

জিউইশ ভয়েস ফর পিস ও ইফনটনাও-এর মতো সংগঠন হাজার হাজার মানুষকে সংঘবদ্ধ করে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে, ইসরাইলি পণ্য বর্জন করতে এবং ইসরাইল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানাতে উদ্বুদ্ধ করছে।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনমত জরিপ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৪০ বছরের নিচে ৫২ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মনে করেন যে ইসরাইলের সরকার ‘বর্ণবাদী অপরাধে’ দোষী। এটি বরাবরই ইসরাইলকে আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখে আসা সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিশাল পরিবর্তন।

ইসরাইলের নেতৃত্ব যেন এসব বিষয়ে উদাসীন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থী জোট, তার বিচার বিভাগীয় সংস্কার যা গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করেছে। এছাড়াও মার্কিন ইহুদিদের সমালোচনাকে তার অবহেলা- ‘তারা আমাদের নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তা বোঝে না’, এসব বিষয় উদারপন্থী মিত্রদের আরো বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। জাতি-রাষ্ট্র আইন ইহুদি আধিপত্যকে সংবিধানে সুরক্ষিত করেছে এবং ক্রমাগত বসতি সম্প্রসারণ শুধু এই ফাটলকে আরো গভীরতর করছে।

মার্কিন ও ইসরাইলি ইহুদিদের মধ্যকার বিভেদ এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। মার্কিন ইহুদিরা অধিকাংশই ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল, বহুত্ববাদ ও সমতার পক্ষে। অন্যদিকে, বিশেষ করে নেতানিয়াহুর শাসনকালে, ইসরাইলি ইহুদিরা ক্রমশ জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করছে এবং ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকারকে ইসরাইলের নিরাপত্তার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করছে। এই সংঘাত ২০২১ সালের গাজা যুদ্ধের সময় তীব্র আকার ধারণ করে। যখন ইসরাইলি মিডিয়া তাদের বোমা হামলাকে আত্মরক্ষা বলে উপস্থাপন করেছিল, তখন মার্কিন ইহুদিরা সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের প্রমাণ দিয়েছিল।

এর প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা মার্কিন ইহুদিদের ‘অবিশ্বস্ত’ বলে অভিযুক্ত করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন প্রগতিশীল ইহুদিদের ‘ইসরাইলের সবচেয়ে বড় শত্রু’ বলে আখ্যা দেন। ইহুদিবিরোধী ভাবধারায় ভরা এমন ভাষা একটি তিক্ত সত্য প্রকাশ করে- ইসরাইলের সরকারের কাছে দ্বিমত মানেই বিশ্বাসঘাতকতা।

একসময় ‘মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্র’ বলে প্রশংসিত ইসরাইলের বিরুদ্ধে এখন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও বি’তসেলেমের মতো সংস্থা ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ হওয়ার অভিযোগ তোলে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করছে। এদিকে বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা (বিডিএস) আন্দোলন বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

মার্কিন ইহুদিদের জন্য এই বিচ্ছিন্নতা বেদনাদায়ক। ইসরাইলকে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে যে মিথ তৈরি করা হয়েছিল, তা এখন চেকপয়েন্ট, বাড়ি ধ্বংস ও পৃথক সড়কের বাস্তবতার সাথে সংঘর্ষে জর্জরিত। তাদের পূর্বপুরুষদের নিপীড়নের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া তরুণ ইহুদিরা ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুতির সাথে নিজেদের গণহত্যার বেদনাদায়ক ইতিহাস মিলিয়ে দেখছেন। ২০২২ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ বছরের নিচে ২৫ শতাংশ মার্কিন ইহুদি ইসরাইলকে একটি বিশেষভাবে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে সমর্থন করতে রাজি নন, যা একসময় অকল্পনীয় ছিল।

নেতানিয়াহুর অতিরক্ষণশীল দলগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা অরক্ষণশীল ইহুদিদের আরো প্রান্তিক করে তুলেছে। তারা বিয়ে ও ধর্মান্তর সংক্রান্ত আইনে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। গাজায় বন্দীদের মুক্তির আলোচনার চেয়ে সামরিক হামলাকে অগ্রাধিকার দেয়ায় ইসরাইলের মানবিক ভাবমূর্তি আরো কলঙ্কিত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবহেলা একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তা বহন করে। শুরুতে মার্কিন অস্ত্র সহায়তায় সমৃদ্ধ হলেও এখন ইউরোপের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছে ইউক্রেন। কারণ রিপাবলিকানদের সমর্থন কমে গেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একসময় মার্কিন কংগ্রেসে নায়ক ছিলেন। তিনি এখন সেই লেনদেনভিত্তিক মিত্রতার ঝুঁকি তুলে ধরছেন- স্বার্থ পরিবর্তন হলে জোট ভেঙে পড়ে।

ইসরাইলও এর থেকে মুক্ত নয়। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে নেতানিয়াহু জেরুসালেমে দূতাবাস স্থানান্তর ও দখল প্রসারে সহায়তাসহ নানা সুবিধা পেয়েছিলেন। তবে সেই আনুগত্য কেবল কাজে লাগার ওপর নির্ভর করেছিল। দ্বিতীয় দফা ট্রাম্প প্রশাসনে ইসরাইল যদি ’মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের অগ্রাধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে, তবে তাকে সহজেই উপেক্ষা করা হতে পারে।

ফলস্বরূপ, এই দখলদার রাষ্ট্র এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। তাদের লবির শক্তি এখনো প্রবল। কিন্তু নৈতিক অবস্থান একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। মার্কিন ইহুদিরা একসময় ইসরাইলের সবচেয়ে দৃঢ় মিত্র ছিল। ক্রমেই তারা জাতিগত সংহতির পরিবর্তে সার্বজনীন ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। দেশকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদের উত্থান এই সম্পর্ককে আরো দুর্বল করে তুলছে। কারণ তরুণ ইহুদিরা বিদেশী সংঘাতের চেয়ে অসমতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ইস্যুগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইউক্রেনের পরিস্থিতির সাথে এই সাদৃশ্য স্পষ্ট। যেমন ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সহায়তা স্বার্থ পরিবর্তনের কারণে ম্লান হয়ে গেল, তেমনি ইসরাইলও মার্কিন ইহুদিদের সমর্থন ও শেষ পর্যন্ত মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতা হারালে একই পরিণতির শিকার হতে পারে। বর্তমান ইসরাইলি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে কিসিঞ্জারের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হওয়া অসম্ভব নয়। ইসরাইলও সেই পরিত্যক্ত মিত্রদের তালিকায় যুক্ত হতে পারে, যার করুণ উদাহরণ ইউক্রেনের দুর্ভোগ।

নৌ ঘাঁটি ও বিমান ঘাঁটিসহ সশস্ত্র বাহিনীর আট স্থাপনার নাম পরিবর্তন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা তার পরিবারের সদস্য বা তার সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা সশস্ত্র বাহিনীর আটটি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

এর মধ্যে নৌবাহিনীর তিনটি, বিমানবাহিনীর তিনটি, সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের একটি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

রোববার এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, যিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী দায়িত্বে রয়েছেন তিনি এই নামগুলো বাতিল করে প্রস্তাবিত নতুন নাম অনুমোদন করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

ওই আট সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নতুন নামের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। সেগুলো হলো-

১. চট্টগ্রাম নিউ মুরিংয়ে বানৌজা বঙ্গবন্ধুর নাম হয়েছে বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ

২. ঢাকার খিলক্ষেত নামাপাড়ায় বানৌজা শেখ মুজিবের নাম হয়েছে বানৌজা ঢাকা

৩. কক্সবাজারের পেকুয়ায় বানৌজা শেখ হাসিনার নাম হয়েছে বানৌজা পেকুয়া

৪. কুর্মিটোলায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুর নাম হয়েছে ঘাঁটি বীর উত্তম একে খন্দকার

৫. কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনীর বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টারের নাম হয়েছে বাংলাদেশ অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার

৬. যশোরে বিএএফ একাডেমিতে বিএএফএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের নাম হয়েছে বিএএফএ কমপ্লেক্স।

৭. ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সের নাম হয়েছে ডিএসসিএসসি কমপ্লেক্স

৮. ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গণভবন কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের নাম হয়েছে প্রতিরক্ষা জাদুঘর।

নতুন দল নিবন্ধনের গণবিজ্ঞপ্তি জারি সোমবার

আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন দলগুলোকে নিবন্ধন দিতে গণবিজ্ঞপ্তি জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা গেছে, সোমবার নতুন দলগুলোর কাছে থেকে নিবন্ধন আবেদন আহ্বানের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। আবেদন করা যাবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে এ টি এম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন। নিবন্ধন চালুর পর এখন পর্যন্ত ৫৪টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেয়া হয়। পরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামিসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন করলেও ২০২৩ সালের অক্টোবরে নতুন দু’টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আদালতের নির্দেশে নতুন করে আরো পাঁচটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন।

ওই পাঁচটি দলকে নিবন্ধন দেয়ার পর বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা রয়েছে ৪৯টি।

জাতীয় ঐক্য ও শান্তির আহ্বান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট শারার

সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জাতীয় ঐক্য ও শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগতদের মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে চলা সংঘর্ষে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর রোববার তিনি এ আহ্বান জানান।

দামেস্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু আলাউইত সম্প্রদায়ভুক্ত।

দামেস্কের একটি মসজিদে দেয়া ভাষণে শারা বলেন, ‘আমাদের যতটা সম্ভব জাতীয় ঐক্য ও নাগরিক শান্তি রক্ষা করতে হবে। আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা এই দেশে একসাথে বসবাস করতে সক্ষম হব।’

কুষ্টিয়ায় হাসানুল হক ইনুকে দু’টি হত্যা চেষ্টা মামলায় কারাগারে প্রেরণ

কুষ্টিয়ায় দু’টি হত্যার চেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি জাসদ সভাপতি ১৪ দলীয় নেতা হাসানুল হক ইনুকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছে সদর আমুলী আদালত-১ এর বিচারক মাহমুদা সুলতানা।

রোববার (৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের হত্যার চেষ্টা ও ৫ আগস্ট শরিফুল ইসলামকে হত্যার চেষ্টায় মামলায় সশরীরে আদালতে হাজির হলে বিচারক এ রায় প্রদান করেন।

এ সময় আদালতের বাইরে থেকে জাসদ জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীমসহ নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। তবে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের কারণে তাদের দূর থেকে হাসানুল হক ইনু শুভেচ্ছা জানান।

হাসানুল হক ইনুকে আজ আদালতে আনা হবে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক জাসদের নেতাকর্মী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চত্বরে ভিড় করে। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে ইনুকে বহন করা পিজন ভ্যান আদালতে পৌঁছায়। পুলিশ সেখান থেকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্বিতীয় তলায় কুষ্টিয়া সদর-১ আমুলি আদালতের এজলাসে দাঁড়ায়। মাত্র ৭ মিনিট এজলাসে থাকা অবস্থায় বিচারক তাকে দু’টি হত্যা চেষ্টা মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। পরে এজলাস থেকে নামিয়ে তাকে পিজন ভ্যানে করে কুষ্টিয়া কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

কুষ্টিয়া আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কুষ্টিয়া আদালত চত্বর থেকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। মাহমুদুর রহমান নিজেই কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে উপস্থিত থেকে মামলাটি দায়ের করেন। এছাড়া ৫ আগস্ট শরিফুল ইসলাম ফ্যাসিস্ট সরকারের গুলিতে মারাত্মক আহত হন। পরবর্তীতে শরিফুল নিজে বাদী হয়ে হাসানুল হক ইনুকে আসামি করে কুষ্টিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, আজ রোববার কুষ্টিয়া আদালতে হাজির হওয়ার জন্য হাসানুল হক ইনুকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গতকাল শনিবার কুষ্টিয়া কারাগারে আনা হয়।

ক্ষমতায় গেলে প্রথম শিক্ষা সংস্কার করবে জামায়াত

ক্ষমতায় গেলে প্রথম শিক্ষা সংস্কার করবে জামায়াত মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আল্লাহ যদি আমাদেরকে কোনো দিন এ দেশ পরিচালনা করার দায়িত্ব দেয়, জনগণের ভালোবাসা নিয়ে আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, তাহলে প্রথম দায়িত্ব হবে শিক্ষার সংস্কার করা।’

রোববার (৯ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে শিক্ষক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘শিক্ষকদের অনুরোধ করবো আপনারা মানুষ গড়ার কারিগর তাই এটাকে সৎভাবে পালন করেন। তাহলে সমাজের চাকাও সৎ পথে চলবে। তবে এখন বলতে পারেন পেটে ক্ষুধা থাকলে কিভাবে এটা করব। আমি বলব, এই ক্ষুধা মেটানো জাতির দায়িত্ব। কারণ শিক্ষকদের যদি ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে থাকতে হয় তাহলে এটি জাতির জন্য দুঃখজনক। সমাজে আজ আদর্শ শিক্ষকের বড়ই প্রয়োজন। তবেই আমরা একটি সুন্দর সমাজ পাবো।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা ছাত্রদের সামনে তাদের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছেন। কারণ শিক্ষকরা যাদের কাছে দাবি আদায়ের জন্য অনুরোধ করছেন, তারাই একদিন এই শিক্ষকদের ছাত্র ছিলেন। তাহলে আজকে কেন শিক্ষকদের তাদের ছাত্রদের সামনে অসহায়ের মতো আন্দোলন করতে হচ্ছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনি আজকে যত বড় সচিব, সেনা কর্মকর্তাসহ যেই হন না কেন, একদিন কিন্তু আপনারা এই শিক্ষকদের ছাত্র ছিলেন। আজকে মানুষের মতো মানুষ না হয়ে এ দশার কারণ কি? কারণ একটাই শিক্ষাটা ভালো ছিল না। তাই সামনে এ শিক্ষাকে ঠিক করতে হবে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যে শিক্ষা নৈতিক শিক্ষা আমরা সেটিকে সমর্থন করব। ৯১ শতাংশ মুসলমানের দেশে শিক্ষা হতে হবে ইসলামী চেতনার শিক্ষা। এটি ছাড়া সমাজ ভালোভাবে চলবে না, যেটি প্রমাণিত। সমাজে নৈতিক শিক্ষা নেই বলেই আজকে মাগুরায় নিজ স্বজনের কাছে শিশুর এমন অবস্থা হয়েছে। এই স্বজনরা বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। তাই বলতে চাই, ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে সুন্দর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার জন্য এগিয়ে যেতে চাই। আর মহান শিক্ষকদের দুর্দশা যেন এই জাতিকে আর দেখতে না হয়। এজন্য শিক্ষকদের সাথে জামায়াতে ইসলামী সব সময় পাশে থাকবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, সেখানে ছাত্ররা অংশ নিলেও শিক্ষকরা তাদের পেছন থেকে সাহস যুগিয়েছেন। তাই বলতে চাই শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয় তাহলে শিক্ষকদের অবস্থা আমাদের দেশে এমন কেন? বিগত সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। এমনকি তারা পাঠ্য পুস্তকে সমকামীতার মতো বিষয়ও সংযোজন করেছিল। বিগত সময়ে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বহু চেতনার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। তবে আমাদের কথা এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা হবে ইসলামি চেতনার ভিত্তিতে।’

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষকদের দাবি আদায়ের জন্য কেন আজকে তাদের রাজপথে থাকতে হচ্ছে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো শিক্ষকদের সমস্যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষকদের চরিত্র হরণ করেছিল। শিক্ষকরা ভোটের সময় ডিউটি করেছিল, তাদের দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকার মিথ্যা ভোট গণনা করতে বাধ্য করেছিল।’

বালাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি প্রফেসর ড. এম কোরবান আলীর সভাপতিত্বে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জামায়াত ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া নয়টি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি জি এম আলাউদ্দীন, অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসাইন, অধ্যাপক মনজুরুল হক, অধ্যক্ষ আবদুল আজিজ, অধ্যাপক নুর নবী মানিক, অধ্যাপক ড. মাওলানা শাহজাহান মাদানি, অধ্যাপক ড. আবুল কালাম পাটওয়ারী, অধ্যাপক ড. উমার আলী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক আবদুল মালেক, মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন, কামরুল হাসান মিলন, অধ্যাপক জাহিদ, আজিজুর রহমান সরকার, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ড. আলমগীর , বিশ্বাস, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক নজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট আজমল হোসাইন, আবুর রহিম, অধ্যাপক আহসান উল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ধর্ষণের বিচার ৯০ দিনের মধ্যে করতে হবে

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ধর্ষণের মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আইন পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ধর্ষণের মামলা ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৯০ দিনে শেষ করতে হবে।

আজ রোববার আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার তদন্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে এবং ধর্ষণ মামলা নিষ্পত্তির আগে আসামিকে জামিন দেয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ডে লাইট সেইভিং টাইম : নিউইয়র্ক সহ অধিকাংশ এলাকায় ঘড়ির কাটা এক ঘন্টা এগুবে রোববার

নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় আগামী ৯ মার্চ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ডে লাইট সেইভিং টাইম। এদিন ঘড়ির কাটা এগিয়ে নিতে হবে এক ঘণ্টা। ৮ মার্চ শনিবার দিবাগত রাত (৯ মার্চ রোববার) ২টায় ঘড়ির কাটা এগিয়ে যাবে তিনটার ঘরে। আইফোন বা অন্য কোনো ধরনের স্মার্ট ফোন, কম্পিউটারে সময় বদলে যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। তবে কোন কোনো ঘড়ির ক্ষেত্রে পরবর্তিত সময় মিলিয়ে নিতে হবে। নতুন এই সময়সূচি চালুর ফলে দিন হবে দীর্ঘ্যায়িত। সন্ধ্যা হবে দেরিতে। নতুন এই সময়সূচি অনুযায়ী নিউইয়র্কে যখন রাত ২টা বাজবে বাংলাদেশে হবে তখন দুপুর ১২টা।

এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে ২ নভেম্বর রোববার ভোর রাত ২টা পর্যন্ত। সে ক্ষেত্রে ১ নভেম্বর দিবাগত রাত দুইটায় ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে রাত একটা করতে হবে। তবে অ্যারিজোনা, হাওয়াই, আমেরিকান সামুয়া গুয়াম, পুয়ের্তোরিকো ও ভার্জিন আইল্যান্ডের ঘড়ির কাঁটা একই স্থানে থাকে। অর্থাৎ এই স্টেটগুলোতে ডে লাইট সেভিংয়ের কোনো প্রভাব পড়ে না।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় দু’দফা ঘড়ির কাটা এক ঘণ্টা এগোনো-পিছানো হয়। দিনের আলোকে কাজে লাগানোর জন্য এই উদ্যোগকে বলা হয় ডে লাইট সেইভিং টাইম। একে স্প্রিং ফরোয়ার্ড, সামার টাইমও অভিহিত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০৬ বছর আগে ১৯১৮ সালে এই নীতি চালু করা হয়। গ্রীষ্মকালে দিন বড় হয়। এজন্যে ঘড়ির কাটা এক ঘন্টা এগিয়ে নিলে আমেরিকানদের কর্মপরিধি কিছুটা বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।