Home Blog Page 488

হিযবুত তাহরীরের অন্যতম সংগঠকসহ ৩৬ সদস্য গ্রেফতার

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের অন্তত ৩৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অন্যতম সংগঠক সাইফুল ইসলামও রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার থেকে আজ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (৮ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং একথা জানিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের বাইরে সমাবেশে অংশ নেয়া নিষিদ্ধঘোষিত দলটির সদস্যদের ধরতে পুলিশ দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে।

এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, ‘আমরা সমাবেশের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। হিজবুত তাহরীরের অনেক সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য তাদের গ্রেফতার করা হবে।’

সংগঠনটির সদস্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

সূত্র : বাসস

বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ শুরু করেছে স্টারলিংক

বাংলাদেশে গ্রাউন্ড আর্থ স্টেশন স্থাপনে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম জায়ান্ট স্টারলিংকের অংশীদার হয়ে কাজ করছে কয়েকটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান।

প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব শনিবার (৮ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে স্টারলিংকের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। এই সফরে বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হয়েছে।

স্টারলিংক প্রতিনিধিদলের সফরের ফলে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আগ্রহী ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিছু ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারে সহায়তা দেবে, আবার কিছু ক্ষেত্রে স্টারলিংক হাইটেক পার্কের জমি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, লোকেশন নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা চলমান রয়েছে।

ফয়েজ আহমদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, স্টারলিংক বাংলাদেশের শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চল, উত্তরাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করবে, যা লোডশেডিং বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাঁধা থেকে মুক্ত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ‘এটি নিরবচ্ছিন্ন এবং উচ্চমানের সেবা নিশ্চিত করবে। যেহেতু বাংলাদেশে টেলিকম-গ্রেড ফাইবার নেটওয়ার্কের কভারেজ সীমিত এবং অনেক দূরবর্তী এলাকায় এখনো লোডশেডিং সমস্যা রয়েছে, স্টারলিংক আমাদের উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, এনজিও এবং এসএমই ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং ডিজিটাল অর্থনৈতিক উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করবে।’

তিনি জানান, ‘আমরা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে স্টারলিংকের সাথে যৌক্তিক একটি মডেল বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১৯ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে মার্কিন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও স্পেসএক্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ককে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং দেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট সেবা চালুর আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে ফয়েজ আহমেদ জানান, বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে তিনি দেশের তরুণ-তরুণীদের সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পাবেন, যারা এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী হবেন।

অধ্যাপক ইউনূস তার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমানকে নির্দেশ দেন যেন তিনি স্পেসএক্স দলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করেন, যাতে আগামী ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে বাংলাদেশে স্টারলিংক চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা যায়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, প্রধান উপদেষ্টা স্পেসএক্স, টেসলা এবং এক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের সাথে দীর্ঘ টেলিফোন আলোচনা করেন, যাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও বাংলাদেশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করা যায়।

সূত্র : বাসস

রোববার ফাইনাল ম্যাচ হলে হারে ভারত

সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল কি রোববার ‘সিনড্রোমে’ ভোগে? ঐতিহাসিকভাবে পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে অত্যন্ত তেমনটাই মনে হবে। কারণ ভারত যখনই আইসিসি আয়োজিত সীমিত ওভারের ক্রিকেটের কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছে এবং সে ম্যাচটি রোববার হয়েছে, সেখানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হেরে গেছে টিম ইন্ডিয়া।

এ ‘ফাঁড়া’ কাটাতে পারেননি সৌরভ গাঙ্গুলি থেকে শুরু করে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাও। শুধু মাহেন্দ্র সিং ধোনি একবার সেই ফাঁড়া কাটাতে পেরেছিলেন। তাছাড়া বাকিরা সেই রোববার ‘ফাঁড়ায়’ ভুগেছেন।

সবমিলিয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে রোববার ছয়টি ফাইনাল (২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ধরা হয়নি) খেলেছে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল। তার মধ্যে পাঁচটিতেই হেরে গেছে। আর এবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালও পড়েছে রোববার। যা ভারতের ক্রিকেট ভক্তদের নিঃসন্দেহে ঘুম কেড়ে নেবে।

২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল

ভারতের এই ‘রোববার ফাঁড়া’ শুরু হয়েছিল ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল থেকে। ১৫ অক্টোবর (রোববার) ম্যাচ ছিল। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২৬৪ রান তুলেছিল সৌরভের নেতৃত্বাধীন ভারত। জবাবে ২ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে জিতে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। আর এবারো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ সেই কিউইরা।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল

শুরুটা আহামরি না হলেও পরে দুর্দান্ত খেলে বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল ভারতীয় দল। ফাইনাল হয়েছিল ২৩ মার্চ (রোববার)। প্রথমে ব্যাট করে ২ উইকেটে ৩৫৯ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ২৩৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি ভারত। আরেকবার আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে হৃদয় ভেঙেছিল সৌরভের।

২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল

বাংলাদেশের মীরপুরে ফাইনাল হয়েছিল ৬ এপ্রিল। যথারীতি রোববার পড়েছিল। প্রথম ব্যাট করে ৪ উইকেটে মাত্র ১৩৪ রান তুলেছিল ধোনির নেতৃত্বাধীন ভারত। ১৩ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে জিতে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ধোনির অধীন ভারত যে আইসিসি টুর্নামেন্টের চারটি ফাইনাল খেলেছিল ভারত, তার মধ্যে একমাত্র ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই রানার্স-আপ হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া।

২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল

পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলেও ফাইনালে দাঁড়াতেই পারেনি টিম ইন্ডিয়া। ফাইনাল হয়েছিল ১৮ জুন (রোববার)। প্রথমে ব্যাটিং করে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান তুলেছিল পাকিস্তান। জবাবে মাত্র ১৫৮ রানে অল-আউট হয়ে গিয়েছিল বিরাটের নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া। হেরে গিয়েছিল ১৮০ রানে।

২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল

আর সেই ১৯ নভেম্বর, রোববার পড়েছিল সেই স্বপ্নভঙ্গের দিনটি। প্রথমে ব্যাটিং করে মাত্র ২৪০ রান করেছিল ভারত। ৪২টি বল বাকি থাকতে থাকতেই অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে ফাইনাল জিতেছিল। আর তারপর রোহিত, বিরাট, জসপ্রীত বুমরাহ, কে এল রাহুল, মুহাম্মদ সিরাজ, মুহাম্মদ শামিদের ভেঙে পড়ার ছবিগুলো এখনো ভুলতে পারেননি ভারতীয়রা।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের আইসিসি ট্রফি জয়

১. ১৯৮৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল : ২৫ জুন (শনিবার) খেলা হয়েছিল।

২. ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল : ২৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) খেলা হয়েছিল।

৩. ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল : ২ এপ্রিল (শনিবার) খেলা হয়েছিল।

৪. ২০১৩ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল : ২৩ জুন (রোববার) খেলা হয়েছিল।

৫. ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল : ২৯ জুন (শনিবার) খেলা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালও রোববার হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর (রোববার) ম্যাচটি হয়নি। পরদিন খেলা হয়েছিল। তবে সেদিনও বৃষ্টির জন্য খেলা পরিত্যক্ত হয়েছিল। যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। (যেহেতু ম্যাচের ফয়সালা হয়নি। তাই হিসেবের মধ্যে ধরা হয়নি।)

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

স্বাধীনতা পুরস্কার নেবেন না বদরুদ্দীন উমর

স্বাধীনতা পুরস্কার না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লেখক গবেষক ও রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমর।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। আমি সেগুলোর কোনোটি গ্রহণ করিনি। এখন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা করেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু তাদের দেয়া এই পুরস্কারও আমার পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দেয়া হয়।

বায়তুল মোকাররম : এক কাতারে ধনী-গরিবের ইফতার

আসরের পর থেকেই রোজাদারদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারম। সূর্য ডোবার সাথে মাগরিবের আল্লাহু আকবার আজানের ধ্বনির সাথে ভ্রাতৃত্বের আবহে পরিণত হয় গোটা মসজিদ। দিনের বাকি সময়টা কারো কারো মধ্য স্তর বিন্যাস থাকলেও দিন শেষে সবাই এক হয়ে যান। ভেদাভেদ ভুলে ধনী গরিব এক কাতারে শামিল হন ইফতারে।

গতকাল সরেজমিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে গিয়ে দেখা যায়, আসরের পর থেকেই মসজিদে আসতে শুরু করেছেন নানা পেশার মানুষ। যাদের মধ্যে রয়েছেন প্রভাবশালী, বড় ব্যবসায়ী, ক্রেতা, বিক্রেতা, পথচারী, ভিক্ষুক, টোকাইসহ নানান বর্ণ পেশার মানুষ।

আগত রোজাদাররা মসজিদের ভিতরে একদিকে সারিবদ্ধভাবে বসছেন। আরেক দিকে ছোট ছোট গ্রুপ করে বসছেন অনেকে। এরই মধ্যে চলছে ইফতার প্রস্তুতির মহা ব্যস্ততা। একদল বড় থালায় মুড়ি, পেঁয়াজু, জিলাপি, খেজুর, কলা, পেঁপেসহ নানান ইফতার সামগ্রী সাজাচ্ছেন। সময় ঘনিয়ে আসার সাথে বাড়ছে রোজাদারের সংখ্যা। অল্পক্ষণ আগেই মসজিদের প্রধান ফটক থেকেও পথচারীদের ইফতারের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। তাই ইফতারের আগ মুহূর্তে ভেদাভেদ ভুলে একীভূত হন হাজার হাজার লোক। দিনের সূর্য ডুবার সাথে ভেসে আসা মাগরিবের আজানের ধ্বনিতে এক কাতারে সবাই শামিল হন ইফতারে।

মসজিদ কমিটির একজন জানান, বরাবরের মতো এবারো বায়তুল মোকাররমের এ ইফতার আয়োজনে রয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তাবলিগ জামাত ও মুসল্লি কমিটি। এখানে বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ভিক্ষুক, আশপাশের দোকানের কর্মচারী, কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষ, ভবঘুরে, এতিম-মিসকিন সবাই ইফতারে শামিল হন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিদিন দুই হাজার মানুষের ইফতার ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দৈনিক দুই হাজার জনের ইফতার এবং অন্য একটি সংগঠন থেকে এক হাজার মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন পাঁচ হাজারের অধিক মানুষ এক সাথে এই মসজিদ প্রাঙ্গণে ইফতার করেন। এতে করে প্রতিদিন জাতীয় মসজিদ পরিণত হয় ধনী-গরিবের মিলনমেলায়।

অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, এখানে কয়েকটি ভাগে ইফতার আয়োজন করা হয়। মসজিদের পূর্ব সাহানের উত্তর দিকে ইফতারির আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। দক্ষিণ দিকে আয়োজন করে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটি এবং তাবলিগ জামাত (জোবায়েরপন্থী)।

এ বিষয়ে তাবলিগ জামাতের আমির (জোবায়েরপন্থী) আবুল কালাম বলেন, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইফতারির আয়োজন করছি। আপতত প্রতিদিন ৬৫০ জন মানুষের জন্য ইফতারির ব্যবস্থা হচ্ছে। সামনে আরো বেশি করার ব্যবস্থা করবো।

এদিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির সদস্য মনসুর হাওলাদার জানান, এখানে প্রতিদিন একই হারে মানুষ হয় না। একেক দিন একেক রকম হয়। যেমন এরই মধ্যে একদিন দুই হাজার মুসল্লির জন্য ইফতারির আয়োজন করা হয়েছে। একদিন ১২০০ জনের। যদি চাহিদা বেশি থাকে তাহলে সে অনুযায়ী আয়োজন হয়।

অন্যদিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উপপরিচালক আশরাফুজ্জামান বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ইফতার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর সরকারের কাছে আবেদন করেও অনুমতি না পাওয়ার কারণে ইফতারির ব্যবস্থা করা যায়নি। এ বছর অনুমতি পাওয়ায় প্রতিদিন দুই হাজার মুসল্লির জন্য ইফতারি আয়োজন করা হচ্ছে। মানুষ বাড়লে বাড়তি আয়োজনও থাকছে।

আগত একাধিক রোজাদারদের ভাষ্য, সারা দিন রোজা শেষে সবার সাথে ইফতার আনন্দটাই আলাদা। তারা বলেন, এখানে বসে হাজারো মানুষের সাথে বসে ইফতার করলে যে প্রশান্তি তা আর কোথাও নেই। তাই তাদের অনেকেই প্রতি রমজানে এখানে ইফতার করতে আসেন। তা ছাড়া একসাথে বসে ইফতার করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। এমন সুযোগ তারা হাতছাড়া করতে চান না।

জাতিসঙ্ঘ টিমের সাথে শেখ হাসিনার বৈঠকের ভিডিও সম্পর্কে যা জানা গেল

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে জাতিসঙ্ঘ টিমের বৈঠকের দাবি ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর অধীনে ফ্যাক্ট চেক এবং মিডিয়া গবেষণা ইউনিট ‘বাংলা ফ্যাক্ট’-এর অনুসন্ধানে এই তথ্য বেরিয়ে আসে।

প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধান দেখা গেছে, ২০২৩ সালে লন্ডনে শেখ হাসিনাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়ার ভিডিও আপলোড করে দিল্লিতে জাতিসঙ্ঘ টিমের সাথে বৈঠক দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হয়।

বাংলা ফ্যাক্ট-এর অনুসন্ধানে শেখ হাসিনার সাথে জাতিসঙ্ঘ টিমের বৈঠক দাবি ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হয়েছে এই সত্য ফ্যাক্ট চেকে বেরিয়ে আসে।

শেখ হাসিনার যে ছবিটি দিল্লিতে জাতিসঙ্ঘ টিমের বৈঠক দাবি করে প্রচার করা হয়, একই ছবি দিয়ে লন্ডনে তাকে ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের দেয়া সংবর্ধনা বিভিন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুঁজে পায় বাংলাফ্যাক্ট।

ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ভিন্ন ঘটনায় পুরনো ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। সূত্র : বাসস

এ বছর নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এখনো জননিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি এবং এ বছর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো: নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সবাই আশা করেছিলাম স্বল্পমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে গত সাত মাসে পুলিশি ব্যবস্থা, আইন ও শৃঙ্খলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে। এটা একটা মাত্রায় ঘটলেও আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের যে অবস্থা তাতে আমি মনে করি না একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কথিত ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো জরুরি।’

এনসিপি’র আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা যদি এক মাসের মধ্যে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারি তাহলে আমরা শিগগিরই নির্বাচনের আহ্বান জানাতে পারব। কিন্তু এর জন্য যদি আরো সময় লাগে তাহলে নির্বাচন বিলম্বিত হবে।’

সূত্র : বিবিসি

সিরিয়ায় আসাদ অনুগতদের সাথে সরকারি বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ৭০

সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসনের নিরাপত্তা বাহিনী সাথে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি উপকূলীয় এলাকায় ক্ষমতাচ্যুত আসাদ সরকারের অনুগত যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে ৭০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সেখানে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সিরিয়া-ভিত্তিক বার্তাসংস্থা স্টেপ জানিয়েছে, সরকার-সমর্থিত বাহিনী প্রায় ৭০ জন আসাদ অনুগত যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং জাবলেহ ও এর আশপাশের এলাকায় ২৫ জনেরও বেশি যোদ্ধাকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সংঘর্ষে মোট ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন সরকারি নিরাপত্তা কর্মী, ২৮ জন আসাদপন্থী যোদ্ধা এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সানা জানিয়েছে, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে সৈন্যরা জাবলেহ শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে সিরিয়ার সরকারের সাথে যুক্ত বাহিনীর ওপর এটি সবচেয়ে সহিংস হামলার মধ্যে একটি। আলাউই সম্প্রদায়ের প্রাণকেন্দ্র ও আসাদ পরিবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়াও হোমস ও আলেপ্পো শহরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল হাসান আব্দুল গনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে লাতাকিয়ায় লড়াইরত আসাদের অনুগতদের প্রতি একটি সতর্কবার্তা জারি করেন।

তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ অস্ত্র সমর্পণ করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার কেউ কেউ খুনি ও অপরাধীদের রক্ষায় পালিয়ে যেতে ও মৃত্যুর মুখোমুখি হতে জোর দিচ্ছে। আপনাদের দু’টি পথ রয়েছে। হয় অস্ত্র রেখে দিন, নয়তো অনিবার্য পরিণতির মুখোমুখি হন।’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আহমেদ আল-শারার জন্য এই অঞ্চলটি একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দক্ষিণেও প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছেন। সেখানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ড্রুজ বাহিনীর সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি

মেইড ইন জিনজিরা’ ট্যাং-জুস-গ্লুকোজে সয়লাব রমজানের বাজার

জিনজিরা ঢাকার উপকণ্ঠে কেরানীগঞ্জের এই স্থানটির খ্যাতি এক বিশেষ কারণে-নকল পণ্য উৎপাদনে এই জায়গার জুড়ি মেলা ভার। মেশিনারি, গাড়ির যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে প্রসাধনী, নকল খাদ্যসামগ্রী-কী উৎপাদন হয় না সেখানে! স্থানটির এতই খ্যাতি যে, দেশে নকল কোনো পণ্য বোঝাতে ‘মেইড ইন জিনজিরা’ ট্যাগ লাগিয়ে দেন অনেকে।

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পবিত্রে রমজান মাসে জিনজিরায় তৈরি নকল ট্যাং, জুস ও গ্লুকোজে ইতোমধ্যে সয়লাব হয়ে গেছে বাজার। অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফার আশায় নকল ও ভেজাল খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সেসব সরবরাহ করছে। মফস্বল পর্যায়ের গ্রাহকরা এসব নকল খাদ্যসামগ্রী কিনে প্রতারিত হচ্ছেন, পড়ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

চিকিৎসকদের মতে, এসব ভেজাল পণ্য পাকস্থলি ও ফুসফুসে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি জেনেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না।

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, মান্দাইল, আমিরাবাগ, বোরহানিবাগ, শুভঢ্যা, আগানগর, কালীগঞ্জ ও কাজিরগাঁও এলাকায় রমজান মাসে সৃষ্ট চাহিদার কথা মাথায় রেখে নকল ও ভেজাল অরেঞ্জ ও ম্যাংগো ড্রিঙ্কস পাউডার (ট্যাং) এবং বিভিন্ন নামীদামী কোম্পানির মোড়ক নকল করে কিটক্যাট, মিমিসহ বিভিন্ন ধরনের চকলেট তৈরি ও বিক্রি চলছে দেদারসে।

বিগত সময়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বারবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করায় এই সমস্ত ভেজাল খাদ্য উৎপাদন কারখানা প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

তবে গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর র‌্যাবের পক্ষ থেকে ভেজালবিরোধী তৎপরতা একেবারেই নেই। এই সুযোগে আসাধু ব্যবসায়ীরা আবার জেগে উঠেছে নতুন রূপে।

সরজমিনে উপজেলার গদাবাগ, মুক্তির বাগ, আমিরাবাগ, নেকরোজ বাগ, খোলামোড়া, জিয়ানগর ও তেঘরিয়া, শুভঢ্যা, আগানগর কালীগঞ্জ, কাজিরগাঁও ও আব্দুল্লাহপুর এলাকা দেখা গেছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল ও নকল শিশুখাদ্য তৈরি করে অতি চতুরতার সাথে ওই সব বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়া চলছে।

মুক্তিরবাগ এলাকায় একটি কারখানায় দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন নারী শ্রমিক হাত দিয়েই বোতলে ভরছেন ভেজাল জুস। এই কাজে হাতে গ্লাভস পরার প্রয়োজনীয়তাও মনে আসেনি তাদের। মাথায় চুলের জাল (হেয়ারনেট) না পরেই অরেঞ্জ ড্রিংকস বোতলজাত করছেন তারা। আবার অরেঞ্জ ড্রিংকস পাউডার মোড়কজাত করার সময় বাতাসে তা যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না যায়, সেজন্য ফ্যান বন্ধ করে কাজ করছেন শ্রমিকরা। এতে করে তারা ঘেমে একেবারে কর্দমাক্ত হয়ে যাচ্ছেন।

সেখানে কথা হয় কারখানাটির ম্যানেজার শাকিল আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, তাদের বিএসটিআই ও পরিবেশ ছাড়পত্র আছে। তবে দেখতে চাইলে সেগুলো দেখাতে পারেননি তিনি।

ল্যাব আছে কি না জানতে চাইলে তিনি অকপটে ল্যাব না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের কাছে রেসিপি আছে। সেই অনুযায়ী, আমরা ড্রিংকস পাউডার প্রস্তুত করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠাই। পরে আমাদের বিক্রয়-প্রতিনিধি পণ্যগুলো বিভিন্ন দোকানে দোকানে বিক্রি করেন।’

এ সমস্ত ভেজাল ও কৃত্রিম রঙ মিশ্রিত অরেঞ্জ ড্রিংকস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়া খুবই ভালো। এখানে সবকিছুই হজম হয়ে যায়। কয়েক বছর যাবত তো এই প্রোডাক্ট মার্কেটে বিক্রি করছি, কোথাও থেকে কখনো কোনো দুঃসংবাদ এখনো পাইনি।’

তবে এসব ভেজাল খাদ্যসামগ্রী স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রোজিনা আমিন।

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম রঙ মিশ্রিত ভেজাল ড্রিংকস স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব ড্রিংকস সবচাইতে বেশি লিভার ও কিডনিকে আক্রান্ত করে এবং শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।’

এই চিকিৎসকের মতে, ‘ছোট শিশুদের জন্য এগুলো আরো বেশি ভয়াবহ, কারণ এতে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।’

তবে রমজান মাসে রোজাদারদের পানির চাহিদা পূরণ করতে জুস অপরিহার্য হলেও তা ঘরে বিভিন্ন দেশীয় ফল দিয়ে তৈরি করে পান করা উত্তম বলে পরামর্শ দেন তিনি।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহিনুর রহমান বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অবৈধ অরেঞ্জ ড্রিংকস পাউডার প্রস্তুত কারখানা তৈরি করেছে-খবর পেয়েছি। এসব কারখানায় অভিযানের জন্য আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে কথা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই আমরা অভিযানে নামব।

কেরানীগঞ্জের ইউএনও রিনাত ফৌজিয়া বলেন, ‘ভেজাল খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করা বড় ধরনের অপরাধ। আমরা দ্রুতই ভেজাল ও নকল সামগ্রী তৈরির প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করব।’ সূত্র : ইউএনবি

২৬ মার্চ দ্বিপক্ষীয় সফরে চীন যাবেন ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার (২৬ মার্চ) দু’দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সফরে দেশটিতে যাবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধান উপদেষ্টার আগামী ২৭ ও ২৮ মার্চ চীন সফর করার কথা রয়েছে। তার চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হাইনানে বাও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সফরে বেইজিং যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

ঢাকা-বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধান উপদেষ্টার ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন ২৭ মার্চ ড. ইউনূস বাও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেবেন।

পরদিন তিনি বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। একইদিন প্রধান উপদেষ্টা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগামী ২৬ মার্চ চীনা প্রেসিডেন্টর পাঠানো বিশেষ ফ্লাইটে দেশটিতে যাবেন ড. ইউনূস। সফরের সময় সংক্ষিপ্ত হওয়ায় হাইনানে বাও ফোরামে যোগ দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টর পাঠানো বিশেষ ফ্লাইটে ফের বেইজিং আসতে পারেন তিনি।

গত বছরের ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সরকার প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে যোগ দেন। এরপর নভেম্বরে আজারবাইজানে কপ-২৯ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা। গত ডিসেম্বরে ড. ইউনূস ডি-৮ সম্মেলনে যোগ দিতে মিসর সফর করেন।

সবশেষ চলতি বছরের জানুয়ারিতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রথম সফর বেইজিংয়ে হলে শেখ হাসিনাকে দিল্লির আগে সফর না করাতে পারার আক্ষেপ হয়ত ঘুচবে চীনের। আর এটি হয়ত কূটনৈতিক প্রতিশোধ হবে বেইজিংয়ের।